প্রাণঘাতী ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: সংক্রমণ বুঝবেন কীভাবে

ভারতের মধ্য প্রদেশের জবলপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কালো ছত্রাকে আক্রান্ত এক রোগী। ছবি: এএফপি

প্রাণঘাতী ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: সংক্রমণ বুঝবেন কীভাবে

বিরল এ রোগটিতে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৫০ শতাংশের বেশি। যারা প্রাণে বেঁচে যান, তাদেরও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক বা দুই চোখ, এমনকি চোয়ালও ফেলে দিয়ে বাঁচতে হয় বাকি জীবন।

করোনাভাইরাস মহামারিতে প্রাণহানি তিন লাখ ছাড়ানো ভারতে নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাণঘাতী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের (কালো ছত্রাক) সংক্রমণ। করোনা মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন রাজ্য।

বিরল এ রোগটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুহার ৫০ শতাংশের বেশি। যারা প্রাণে বেঁচে যান, তাদেরও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক বা দুই চোখ, এমনকি চোয়ালও ফেলে দিয়ে বাঁচতে হয় বাকি জীবন।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে নয়াদিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পালমোনোলজিস্ট উজ্জ্বল পারেখের বরাত দিয়ে বলা হয়, পোকার মতো ছড়ায় এই ছত্রাক। একটি একটি করে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে দেয়।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মিউকরমাইকোসিস।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস মহামারির আগে বিশ্বে প্রতি ১০ লাখ মানুষে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ দশমিক ৭ ছিল।

অথচ শুধু ভারতে গত এক মাসে কমপক্ষে ৯ হাজার মানুষের দেহে রোগটি শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রত্যেকেই করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠেছিলেন।

বাংলাদেশেও কমপক্ষে দুইজনের দেহে রোগটি শনাক্ত হয়েছে।

প্রাণঘাতী এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে শুরুতেই জানা দরকার মিউকরমাইকোসিস সম্বন্ধে।

মিউকরমাইকোসিস

মিউকরমাইকোসিস খুবই বিরল একটি রোগ। সাধারণত ‘মিউকর মোল্ড’ জাতীয় এক ধরনের শ্লেষ্মার সংস্পর্শে এলে রোগটি হয়।

এই শ্লেষ্মার দেখা মেলে মূলত মাটি, গাছ, সার, পচে যাওয়া ফল-সবজিতে, যা সবকিছুতেই ছড়াতে পারে। মাটি ও বাতাসের মাধ্যমে নাক হয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষকেও আক্রান্ত করতে পারে এটি।

শীত ও বসন্তের তুলনায় গ্রীষ্ম ও শরৎকালে এ ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি হয়ে থাকে।

শ্বাসতন্ত্র অথবা ত্বকের মাধ্যমে একবার এটি মানবদেহে প্রবেশ করলে এরপর এই ছত্রাক মুখমণ্ডলজুড়ে ছড়াতে শুরু করে। প্রথমে নাক, কপাল ও গালের পেছন আর দুই চোখের মাঝখানে অবস্থিত সাইনাস বা ‘এয়ার পকেট’, তারপর ত্বক, মস্তিষ্ক, ফুসফুস আর কিডনিতেও ছড়ায় এই ছত্রাক।

একেক করে সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে থাকে এর সংক্রমণে।

ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও এইডসে আক্রান্ত বা দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা খুব দুর্বল, এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রাণঘাতীও হতে পারে এই মিউকরমাইকোসিস।

মিউকরমাইকোসিসের উপসর্গ

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ছত্রাক কোথায় ছড়াচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে এ রোগের উপসর্গ।

সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে সর্দি, নাক বন্ধ থাকা ও নাক থেকে রক্ত পড়া।

ধীরে ধীরে চোখ ফুলে ওঠে, চোখে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, চোখের পাতা ঝুলে পড়ে। দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে হতে শেষ পর্যন্ত চলেই যায়।

অনেক সময় নাকের আশপাশের ত্বকে আর মুখের ভেতরের উপরিভাগে কালো দাগও দেখা যায়।

এ ছাড়াও এ রোগে মুখ ফুলে ওঠা, মাথাব্যথা, তলপেটে ব্যথা, বমিভাব ও বমি, পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি হতে পারে।

মিউকরমাইকোসিসের ঝুঁকিতে কারা

বেশির ভাগ মানুষ এই ছত্রাকের সংস্পর্শে এলেও তাদের আক্রান্ত করতে পারে না এটি; বরং অত্যধিক দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিরল এ রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ।

ভারতে করোনা রোগীদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত কিংবা স্টেরয়েড প্রয়োগে শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে, হাসপাতাল বা আইসিইউতে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন কিংবা ছত্রাকের গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসা হিসেবে ভোরিকোনাজল থেরাপি নিয়েছেন, তারাই আক্রান্ত হচ্ছেন মিউকরমাইকোসিসে।

সাধারণ অবস্থাতেও ডায়াবেটিস, ক্যানসার, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, কোষ প্রতিস্থাপন, রক্তে অতিরিক্ত আয়রন, ত্বকে পুড়ে যাওয়া বা কোনো আঘাত বা অস্ত্রোপচার থেকে সৃষ্ট ক্ষত ইত্যাদিতে ভুগছেন, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি বেশি।

সাধারণত সব বয়সী মানুষের এই ছত্রাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি না থাকলেও ভারতে মহামারিকালীন রোগটিতে ২৫ বছর বয়সের তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

আরও পড়ুন:
কালো ছত্রাক: সারা দেশে সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কী এই কালো ছত্রাক রোগ
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ আরও ১৪ জেলা

করোনায় ঝুঁকিপূর্ণ আরও ১৪ জেলা

উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট ও সাতাক্ষীরায়। গত দুই সপ্তাহ ধরে এসব জেলায় প্রতিদিন শতাধিক রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর সীমান্তের জেলাগুলোতে এক মাস ধরে বাড়ছে করেনাভাইরাসের প্রকোপ। সীমান্তবর্তী নয়, এমন অঞ্চলেও উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ।

গত দুই সপ্তাহে আরও ১৪টি জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে আটটি জেলা সীমান্তবর্তী নয়। এগুলো হলো: নড়াইল, পিরোজপুর, নোয়াখালী, নাটোর, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ৩ জুন ৩৬টি জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গত দুই সপ্তাহে এটি বেড়ে ৫০ জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ করা হয়েছে। এসব জেলায় এই দুই সপ্তাহে মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটিই বেড়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ১০ শতাংশের বেশি সংক্রমণের হার থাকা জেলাগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর ৫-৯ শতাংশ সংক্রমণের হার থাকা জেলাগুলোকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫ শতাংশের নিচের জেলাকে স্বল্প ঝুঁকির অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্তের হার ৫৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। মৃত্যুর হার বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে নমুনা পরীক্ষা হার। গত এক সপ্তাহে এ হার বেড়েছে ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বিভাগ অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। গত ৫ জুন এই বিভাগে রোগী হয়েছিল ২৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এটি দাঁড়িয়েছে ৬২৫ জনে। অর্থাৎ ১৪ দিনে সনাক্ত তিন গুণ বাড়ল। এই বিভাগে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট ও সাতাক্ষীরায়। গত দুই সপ্তাহ ধরে এসব জেলায় প্রতিদিন শতাধিক রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

শনাক্ত ও মৃত্যু দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম। এই বিভাগে গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। এই সময়ের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৪০১ জন রোগী। এই বিভাগে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি চট্টগ্রাম সদর, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা ও চাঁদপুরে।

মৃত্যুর দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজশাহী। এ বিভাগে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে শনাক্ত হয়েছে ৩৪৫ জন। গত ৫ জুন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২৮৮। রাজশাহী সদর হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ৬৭ জন মারা গেছেন, যা গত দেড় মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২ মে এর চেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল, ৬৯ জন।

উদ্বেগজনকভাবে দেশব্যাপী দৈনিক করোনা শনাক্তের হার দুই সপ্তাহ আগের ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে গতকাল ১৮ দশমিক ০২ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের দিন এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি জন্য সরকারি, বেসরকারি এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চাপ সামলানো সঠিক হবে বলে মত তাদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, সম্প্রতি আইডিডিআরবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার করোনাভাইরাসের ৬৮ শতাংশ নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এটা ঢাকার জন্য খুবই উদ্বেগের। ভ্যারিয়েন্ট ছাড়াও জনগণের স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগের ব্যাপারে শৈথিল্যও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। গত দুই সপ্তাহ ঢাকা বাইরে জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়েছে। এমন পরিস্থিত কিছু দিনের মধ্যে ঢাকাতেও আসতে পারে।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে খুলনা বা রাজশাহীর মতোই খারাপ অবস্থা দেখা দিতে পারে রাজধানীতে। তাই এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিলেন এই বিশেষজ্ঞ। স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো ও করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসার ব্যক্তিদের আলাদা করে আইসোলেশনে রাখার পরামর্শ তার।

এ বিষয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোভিডের ডেলটা (ভারতীয়) ভ্যারিয়েন্টটি ইতোমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণের যে ধরন, তা দেখে মনে হচ্ছে, এটার সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে।’

তৃতীয় ঢেউ ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে খুলনা রাজশাহী ও চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে সংক্রমণ। এটি প্রতিরোধে পরীক্ষা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সীমান্ত এলাকার মানুষ করোনা পরীক্ষায় তেমন আগ্রহী নয়। বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও তারা আগ্রহী নয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত জেলাগুলোতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন জুমে বৈঠক হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যে অনেক জেলায় লকডাউনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিছু জেলায় সংক্রমণ কমে আসছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট কিছুটা হলেও উদ্বেগ ছড়িয়েছিল। তবে যে ধরনই আসুক না কেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
কালো ছত্রাক: সারা দেশে সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কী এই কালো ছত্রাক রোগ
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

ফরিদপুরে করোনায় আরও ৬ মৃত্যু

ফরিদপুরে করোনায় আরও ৬  মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে ১০২ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে ১০ জন আইসিইউতে এবং ৯২ জন করোনা ওয়ার্ডে রয়েছেন।’

ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জন মারা গেছেন।

হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অনন্ত কুমার বিশ্বাস শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তাদের মধ্যে পাঁচজন ফরিদপুরের এবং একজন রাজবাড়ীর বাসিন্দা। ফরিদপুরের পাঁচজনের মধ্যে দুজন নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন।

মৃতরা হলেন ফরিদপুর শহরের ওয়ারলেসপাড়া মহল্লার ফজলুর রহমান, শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লার আজিজুর শেখ, নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের জ্যোৎসা বেগম, ওই উপজেলার পুরাপাড়া গ্রামের শিরিয়া বেগম, বোয়ালমারী উপজেলার আবুল হোসেন এবং রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মো. আক্তার।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে ১০২ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে ১০ জন আইসিইউতে এবং ৯২ জন করোনা ওয়ার্ডে রয়েছেন।’

ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৪০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৯৯ জন।

জেলার সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘ফরিদপুরে করোনা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। শনাক্তের হার কোনো দিন বাড়ছে, আবার কোনো দিন কমছে। তবে শনাক্তের হার স্পমপ্রতি ২২ শতাংশের নিচে নামেনি।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদপুরকে লকডাউনের আওতায় আনা উচিত। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

এদিকে ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুরে মোট শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪০৭ জনের।

শুক্রবার ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৬৮ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার এ হার ছিল ৪২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এক দিনের শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে।

আরও পড়ুন:
কালো ছত্রাক: সারা দেশে সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কী এই কালো ছত্রাক রোগ
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

সিনোফার্মের টিকা পেলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যালের ১৯৬ শিক্ষার্থী

সিনোফার্মের টিকা পেলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যালের ১৯৬ শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচির ফোকাল পার্সন অজয় কুমার ঘোষ ‘আমরা আপাতত ৩০ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রামের পাবলিক ও প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার তালিকা প্রস্তুত করেছি। তাছাড়া চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা টিকা দেয়ার নির্ধারিত বুথে টিকা না দিয়ে আমরা আপাতত মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিউটোরিয়াল কক্ষে শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দিচ্ছি।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের পাঠানো টিকাদানের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ১৯৬ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিউটোরিয়াল কক্ষে চলে টিকাদান কার্যক্রম। নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচির ফোকাল পার্সন ও কলেজের চর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অজয় কুমার ঘোষ।

তিনি জানান, এদিন এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষ, বিডিএস তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ১৯৬ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।

অজয় কুমার ঘোষ বলেন, ‘সিনোফার্মের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর দিন শনিবার আমাদের কলেজের ১৯৬ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপাতত ৩০ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রামের পাবলিক ও প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার তালিকা প্রস্তুত করেছি। তাছাড়া চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা টিকা দেয়ার নির্ধারিত বুথে টিকা না দিয়ে আমরা আপাতত মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিউটোরিয়াল কক্ষে শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দিচ্ছি।’

প্রথমদিন টিকা গ্রহণকারী মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়নি, আমাদের সমস্ত তথ্য যেহেতু জমা দেয়া আছে তাই আমরা সহজেই টিকা পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে (পঞ্চম বর্ষ) যারা আগে টিকা নেয়নি, তাদের সবাইকে টিকা দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর আমাদের ফাইন্যাল (চূড়ান্ত) পরীক্ষা, পরীক্ষা শেষে ইন্টার্ন। এখন টিকা নেয়ায় তখন কাজ করার সময় আর খুব একটা ভয় থাকবে না। চার সপ্তাহ পর টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কথাও রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কালো ছত্রাক: সারা দেশে সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কী এই কালো ছত্রাক রোগ
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে শনাক্ত ১৩

২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে শনাক্ত ১৩

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, ৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক দিনে ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে দুই দিনে করোনো আক্রান্ত হন ১০ জন।

খাগড়াছড়িতে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বেড়েছে গেছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, ৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক দিনে ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে দুই দিনে আক্রান্ত হন ১০ জন।

জেলায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, এখন পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলায় ছয় হাজার ৭২০ জন করোনা পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে পজিটিভ হয়েছেন ৯৩১ জন। আক্রান্তের হার ৯ শতাংশ। এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে আট জনের।

খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন মিটন চাকমা বলেন, জেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কিছুটা অবহেলা দেখা যাচ্ছে। সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এতে সংক্রমণ কমানো সম্ভব হবে।

সিভিল সার্জন নুপূর কান্তি দাশ বলেন, মাঝে কম থাকলেও নতুন করে শনাক্তের হার বেড়েছে। সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া কোন উপায় নেই।

আরও পড়ুন:
কালো ছত্রাক: সারা দেশে সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কী এই কালো ছত্রাক রোগ
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

জামালপুরে করোনায় আরও ৩ মৃত্যু

জামালপুরে করোনায় আরও ৩ মৃত্যু

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস জানান, তিন জনের দুজন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং একজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

জামালপুর শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যু ৪২ জনে দাঁড়ালো।

এরা হলেন আয়কর আইনজীবী আতাউর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য রকিবুল ইসলাম এবং পিডিবি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস।

তিনি জানান, তিন জনের দুজন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং একজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জামালপুর পৌরসভার কাচারিপাড়া এলাকার আয়কর আইনজীবী আতাউর রহমান ১৭ জুন করোনায় আক্রান্ত হন। তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার সকালে তিনি মারা যান।

পৌর এলাকার পাথালিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য রকিবুল ইসলাম করোনার উপসর্গ নিয়ে দুদিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার তার নমুনা পরীক্ষার পর করোনা শনাক্ত হয়। রাতেই তিনি মারা যান।

একই এলাকার পিডিবির কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন হৃদরোগে অসুস্থ হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জুন তিনি পজিটিভ হন। শনিবার বিকালে মারা যান তিনি।

আরও পড়ুন:
কালো ছত্রাক: সারা দেশে সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কী এই কালো ছত্রাক রোগ
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শুরু

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শুরু

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল জানান, সিরাজগঞ্জের তিনটি মেডিক্যাল কলেজের ৮৬৮ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হবে। প্রথমদিনেই তিন মেডিক্যালের ১৯২ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে।

সদর উপজেলার শিয়ালকোলস্থ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বর্হিবিভাগে শনিবার দুপুরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক হাবিবে মিল্লাত মুন্না।

এ কার্যক্রম আগামী ১৯, ২২, ২৬, ২৯ জুন ও ১ জুলাই চলবে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক কৃষ্ণ কুমার পাল, পরিচালক আবুল কাশেম, সিভিল সার্জন রামপদ পাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম হীরা।

আরও উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক আব্দুল্লাহেল কাফী, টিকাদান কেন্দ্রের ভোকালপারসন সহকারী অধ্যাপক লায়লা রাজ্জাক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক।

এ সময় সাংসদ হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে টিকা নেয়ার পরও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সুরক্ষা নীতি মেনে মাস্ক ব্যবহার ও হাত পরিষ্কার করুন। পাশাপাশি নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন ও অন্যকেও সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিন।’

মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রমে প্রথম টিকা নেন শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী তানভীরুল ইসলাম। প্রথম দিনে ১৯২ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

এর মধ্যে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৫৩ জন, নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৫৬ জন ও খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৮৩ জন টিকা পান।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সিরাজগঞ্জের তিনটি মেডিক্যাল কলেজের ৮৬৮ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে এই টিকা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
কালো ছত্রাক: সারা দেশে সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কী এই কালো ছত্রাক রোগ
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

করোনার টিকা, ৩২ বুথের মধ্যে চালু ২টি

করোনার টিকা, ৩২ বুথের মধ্যে চালু ২টি

পটুয়াখালিতে শনিবার ১২০ জনকে করোনার টিকা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘চীনের তৈরি ‘সাইনোফার্ম কোভিড-১৯ নামের এই টিকা পটুয়াখালী জেলার জন্য ৮ হাজার ৪০০ ডোজ পাওয়া গেছে। চার বিভাগে টিকা দেয়া হচ্ছে। এই চার বিভাগে আছেন নার্স, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, বিদেশগামী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।’

পূর্ব ঘোষণা ছাড়া টিকা দেয়া বন্ধের ২০ দিনের মাথায় পটুয়াখালীতে আবারও শুরু হয়েছে টিকাদান।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শনিবার বেলা ১০টার দিকে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

তবে আগের মত ৩২টি বুথে নয় এবার শুধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেতর দুটি বুথে এ টিকাদান চলবে। আগেরবার কেবল পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮টি বুথে টিকাদান দেয়া হয়েছিল।

সীমিত আকারে স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টদের এই টিকা দেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম শিপন।

তিনি বলেন, ‘চীনের তৈরি ‘সাইনোফার্ম কোভিড-১৯ নামের এই টিকা পটুয়াখালী জেলার জন্য ৮ হাজার ৪০০ ডোজ পাওয়া গেছে। চার বিভাগে টিকা দেয়া হচ্ছে। এই চার বিভাগে আছেন নার্স, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, বিদেশগামী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

‘ইতোমধ্যে নিবন্ধন করা ১২০ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে।’

২৮ মে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া পটুয়াখালীতে করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্যবিভাগ।

চলতি বছরের গত ৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮টি বুথসহ জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট ৩২টি বুথে একযোগে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, জেলায় এ পর্যন্ত টিকা গ্রহনের জন্য ৫৮ হাজার ৫৮২জন আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে ২৮ মে পর্যন্ত ১ম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৩৭ জন।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম শিপন জানান, ‘পটুয়াখালীতে যে পরিমাণ করোনা টিকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা শেষ হওয়ার কারণে টিকা দান কর্মসূচী বন্ধ ছিল।

‘প্রথমবার ৪৬ হাজার ডোজ থেকে ৪৫ হাজার ৫৩৭ ডোজ দেয়া হয়েছে। ৪৬৩ ডোজ সিস্টেম লস বা অপচয়। একটা ভায়াল থেকে ১০বার ইনজেকশন নিলে কিছু অপচয় হয়।

‘এরপর ২য় দফায় ৩১ হাজার ডোজ থেকে ৩০ হাজার ৮২৪ জন নিবন্ধনকারীকে দেয়া হয়। দুই ডোজ মিলিয়ে আমাদের সিস্টেম লস বা অপচয় ০.৮%।’

আরও পড়ুন:
কালো ছত্রাক: সারা দেশে সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
কী এই কালো ছত্রাক রোগ
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন