৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা

৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা

ডিসি বলেন, সংক্রমণ বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার থেকে সাত দিনের লকডাউন চলবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মঙ্গলবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

নিজ কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঞ্জুরুল হাফিজ।

তিনি বলেন, সম্প্রতি এই জেলায় করোনার সংক্রমণে ঊর্ধমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে সংক্রমণের হার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এখানে শনাক্ত রোগী ৫০ শতাংশের বেশি।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে লকডাউন দেয়া হয়েছে বলে জানান ডিসি।

তিনি জানান, লকডাউনে সব দোকানপাট ও যানচলাচল বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ও অন্যান্য সেবাদানকারী যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যান চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশ ও জেলা থেকে বের হবে না।

কলকারখানা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে, শ্রমিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া করতে হবে বলেও জানান ডিসি।

৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা

আরও পড়ুন:
৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা
এহন গাড়ি চললে কয়ডা টেহা আইব
লকডাউন এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে
সীমান্ত কঠোর: কমেছে অবৈধ অস্ত্র কারবার
লকডাউন: টেকনাফ স্থলবন্দরে মালামাল খালাস বন্ধ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লায় এক দিনে করোনা শনাক্ত ৭০৭, মৃত্যু ৭

কুমিল্লায় এক দিনে করোনা শনাক্ত ৭০৭, মৃত্যু ৭

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৩৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৫৭ জন।

কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন।

পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বুধবার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ২ হাজার ১৭১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

শনাক্তদের মধ্যে ১১৪ জনই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা।

বাকিদের মধ্যে আদর্শ সদরের ১২, সদর দক্ষিণের ১৯, বুড়িচংয়ের ৪০, ব্রাহ্মণপাড়ার ২৪, চান্দিনার ২৬, চৌদ্দগ্রামের ৫৬, দেবিদ্বারের ২৯, দাউদকান্দির ৩৯, লাকসামের ৬৭, লালমাইয়ের ২৯, নাঙ্গলকোটের ৬৮, বরুড়ার ৬৪, মনোহরগঞ্জের ৩৩, মুরাদনগরের ৩৯, মেঘনার ২০, তিতাসের ১৮ এবং হোমনা উপজেলার ১০ জন।

যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিন জন রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে সদর দক্ষিণ, চান্দিনা, দেবিদ্বার ও বরুড়ার একজন করে মারা গেছেন।

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৩৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৫৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৩৪ জন।

গত বছরের ৭ এপ্রিল কুমিল্লা জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, হাসপাতালে করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অন্তত ৩০-৩৫ জন বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। যদি এ রকম চলতে থাকে তাহলে রোগীর চাপ সামলানো কষ্টকর হয়ে যাবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নিয়মিত ত্রাণও বিতরণ করা হচ্ছে।’

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি জনসচেতনতা বাড়িয়ে কীভাবে সংক্রমণ কমানো যায়। সে লক্ষ্যে প্রতিদিনই কাজ চলছে। পাশাপাশি শতভাগ টিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এখন প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস।’

আরও পড়ুন:
৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা
এহন গাড়ি চললে কয়ডা টেহা আইব
লকডাউন এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে
সীমান্ত কঠোর: কমেছে অবৈধ অস্ত্র কারবার
লকডাউন: টেকনাফ স্থলবন্দরে মালামাল খালাস বন্ধ

শেয়ার করুন

চিকিৎসক সংকটে বরিশাল মেডিক্যাল

চিকিৎসক সংকটে বরিশাল মেডিক্যাল

মতবিনিময় সভায় বরিশালের চিকিৎসক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের ৩ শ’ শয্যার করোনা ইউনিটে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। আর এই ইউনিটের জন্য চিকিৎসক মাত্র ২ জন।

করোনা পরিস্থিতিতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা। জনবল সংকটে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে জটিল। সেখানে কমপক্ষে আরও ৫শ’ চিকিৎসক প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বরিশালের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

বরিশাল সার্কিট হাউসে বুধবার দুপুরে হয় বরিশাল জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নানা তথ্য জানান।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, ১ হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে করোনা সংক্রমণের কারণে বাড়ানো হয়েছে ৩শ’ শয্যা। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় জনবল নেই।

তিনি জানান, ৫শ’ শয্যার জন্যই প্রয়োজন ২২৪ জন চিকিৎসক, সেখানে এই হাসপাতালে রয়েছে মোট ১৯৭ জন। বর্তমানে করোনা ইউনিটের জন্য ৩শ’ বেড চালু হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘করোনা ইউনিট চালু করায় জনবল সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আমাদের কমপক্ষে আরও ৫শ’ চিকিৎসক দরকার।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বরিশালের ৬ জেলার পাশাপাশি মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে রোগী আসে। এমনিতেই এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট। এর মধ্যে বিভাগের সব করোনা রোগী যদি এখানেই আসে তাহলে তো বিপাকে পড়তে হবে।’

চিকিৎসক ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাপ কমাতে এরইমধ্যে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালকে ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৯টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যা করে করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের জন্য বরিশাল নগরীর শিশু ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২০ শয্যার করোনা ইউনিট করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরিশালের আম্বিয়া মেমোরিয়াল হসপিটাল এবং সাউথ অ্যাপোলো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার জন্য আলোচনা চলছে।

সভায় বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন জানান, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৮টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা অনুদান দিয়েছে সমাজের বিত্তবানরা। যা এখানে জরুরি নয়। এখানে দরকার সিপ্যাপ, এপ্যাপ মেশিন। যেসব মেশিনের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে। তা ছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। সংকট কাটাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা ইউনিটে ৬১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯৩টি ছোট সিলিন্ডার, ৫০টি বড় সিলিন্ডার। আরও ৭শ’ সিলিন্ডার চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।’

আরও পড়ুন:
৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা
এহন গাড়ি চললে কয়ডা টেহা আইব
লকডাউন এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে
সীমান্ত কঠোর: কমেছে অবৈধ অস্ত্র কারবার
লকডাউন: টেকনাফ স্থলবন্দরে মালামাল খালাস বন্ধ

শেয়ার করুন

করোনা মোকাবিলায় ব্র্যাকের সঙ্গে ৯ ব্যাংক

করোনা মোকাবিলায় ব্র্যাকের সঙ্গে ৯ ব্যাংক

‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্র্যাকের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ৯টি ব্যাংক হলো ব্র্যাক, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ডাচ বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘অনুদানের অর্থ ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া দুটি উদ্যোগ- ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এবং ‘ডাকছে আবার দেশ’ এর কাজে ব্যয় হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তা দিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের ৯টি ব্যাংক।

বেসরকারি ৯টি ব্যাংক এ বাবদ ১৫ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৮ টাকা অনুদান দিয়েছে। অনুদানের এ টাকা ব্যয় হবে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলায়।

৯টি ব্যাংক হলো ব্র্যাক, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ডাচ বাংলা ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। ৯টি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকের সাথে চুক্তি সই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘অনুদানের অর্থ ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া দুটি উদ্যোগ- ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এবং ‘ডাকছে আবার দেশ’ এর কাজে লাগানো হবে।

উদ্যোগ দুটির মূল কার্যক্রম হলো- মাস্ক বিতরণ এবং মেডিক্যাল সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে রিসিলিয়েন্স গঠন এবং লকডাউনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা পরিবারগুলোতে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেয়া’।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এই মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের উদ্দেশে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ‘করপোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটি’ (সিএসআর) কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকগুলো ব্র্যাকের ‘ডাকছে আবার দেশ’ এবং ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ দুইটি কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছে।

এ ৯টি ব্যাংকের প্রতিশ্রুত টাকা থেকে ‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগের অধীনে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। যা দিয়ে ৭২ হাজার ১৬০টি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

বাকি অর্থ দিয়ে ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং অন্যান্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি এই রোগের উপসর্গযুক্ত ১০ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে।

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি জেলায় কমিউনিটিকে সংযুক্তিকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় যথাযথ সতর্কতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রচারণা এবং ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ভুল তথ্য ও গুজব নিরসনেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ।

‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগটির মাধ্যমে প্রথম দফায় করোনার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৯টি জেলায় ৫০ হাজার পরিবারে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তার এই তহবিল গঠিত হয়েছে ব্র্যাকের কর্মীদের একদিনের বেতন এবং এর সঙ্গে ব্র্যাকের সমপরিমাণ অর্থের অনুদান মিলিয়ে।

আরও পড়ুন:
৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা
এহন গাড়ি চললে কয়ডা টেহা আইব
লকডাউন এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে
সীমান্ত কঠোর: কমেছে অবৈধ অস্ত্র কারবার
লকডাউন: টেকনাফ স্থলবন্দরে মালামাল খালাস বন্ধ

শেয়ার করুন

করোনা মোকাবিলায় সারা দেশে ৩০ অক্সিজেন প্ল্যান্ট  

করোনা মোকাবিলায় সারা দেশে ৩০ অক্সিজেন প্ল্যান্ট  

দেশে এখন দিনে ২০০ টন অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করার জন্য। বৈঠকে এ সংক্রান্ত  প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এডিবি প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসাবে সরকার। বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এদিন বৈঠক শেষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আহ ম মুস্তফা কামাল ।

তবে এতে কত টাকা ব্যয় হবে, কবে কাজ শুরু হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি অর্থমন্ত্রী। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে কথা বলে পরের বৈঠকে এর ব্যাখ্যা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার সব হাসপাতালেই অক্সিজেন সংকট চলছে। জেলা পর্যায়েও একই পরিস্থিতি।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখন দিনে ২০০ টন অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই চাহিদা ৩০০ টনে পৌঁছাবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করার জন্য। বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।‘

তিনি জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনার প্রস্তাব নাকচ অর্থমন্ত্রীর

বৈধ পথ বা ব্যাকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে এর ওপর বর্তমানে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পেছনে এটি অন্যতম কারণ বলে বিবেচনা করা হয়।

এ খাতে অতিরিক্ত আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হতে পারে এমন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

ইতোমধ্যে যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে সেটি যথেষ্ঠ বলেও দাবি করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

চলতি অর্থ বছরের প্রথম মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শাটডাউনের কারণে এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গণটিকা দান কর্মসূচি আবার শুরু হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়বে। এর ফলে আগামীতে রেমিট্যান্সের তেজি ভাব অব্যাহত থাকবে।’

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দশটি দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি অর্থনেতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটিতে, বাকি নয়টি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা
এহন গাড়ি চললে কয়ডা টেহা আইব
লকডাউন এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে
সীমান্ত কঠোর: কমেছে অবৈধ অস্ত্র কারবার
লকডাউন: টেকনাফ স্থলবন্দরে মালামাল খালাস বন্ধ

শেয়ার করুন

আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

আগস্ট মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আগস্ট মাসে গত তিন দিনে আমরা ৭৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করেছি। কাজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, জুলাই মাসের চেয়ে আগস্টে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।’ এ অবস্থায় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এই আশঙ্কার কথা জানান অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসে গত তিন দিনে আমরা ৭৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করেছি। কাজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, জুলাই মাসের চেয়ে আগস্টে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।’

এ অবস্থায় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৯ সালে আমরা দেখেছি ডেঙ্গু মহামারি আমাদের কীভাবে আক্রান্ত করেছিল। ২০২১ সালে এসেও একই রকম একটি পরিস্থিতির মুখে আমরা দাঁড়িয়েছি। এ জন্য আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এর মোকাবিলা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দিনে-রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে শরীর ঢেকে রাখে এমন কাপড় পরতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবারই করণীয় আছে। প্রত্যেকেই নিজেদের বাসায় ফুলের টবসহ ঘরের ভেতর-বাইরে জমে থাকা পানি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। তিন দিনের বেশি সময় বাসার বাইরে যদি কেউ অবস্থান করে তাহলে বাথরুমের কমোড, প্যান ইত্যাদি ঢেকে রাখতে হবে। অবশ্যই পানির পাত্র পরিষ্কার করে উল্টিয়ে রাখতে হবে।’

জ্বর এলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কারো শরীরে জ্বর এলেই কেবল করোনা মনে করতে হবে তা নয়। এর পাশাপাশি ডেঙ্গু জ্বরের যে পরীক্ষাটি আছে (এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন পরীক্ষা), সেটিও করাতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনা খরচে করা হচ্ছে এই পরীক্ষা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকার সরবরাহব্যবস্থা ঠিক থাকলে সপ্তাহে ১ কোটি ডোজ প্রয়োগ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এসএমএস পেয়েই টিকাকেন্দ্রে যাওয়া উচিত। এতে টিকাকেন্দ্রে ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, টিকাকেন্দ্রে অবশ্যই এনআইডির মূল কপি নিয়ে যাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:
৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা
এহন গাড়ি চললে কয়ডা টেহা আইব
লকডাউন এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে
সীমান্ত কঠোর: কমেছে অবৈধ অস্ত্র কারবার
লকডাউন: টেকনাফ স্থলবন্দরে মালামাল খালাস বন্ধ

শেয়ার করুন

আগস্টের ৪ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার

আগস্টের ৪ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার

রাজধানী ও অন্য জেলায় এক দিনে আরও ২৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে বুধবার বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হন ২২১ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ১৬ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আগস্টের প্রথম চার দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

চলতি মাসের চার দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন ছাড়িয়েছে দুই শর ঘর। গত এক দিনে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৩৭ জন।

আক্রান্তের সংখ্যা মঙ্গলবার ছিল ২৬৪ জন, সোমবার ২৮৭ জন ও আগস্টের প্রথম দিন রোববার ছিল ২৩১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে বুধবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হন ২২১ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ১৬ জন।

চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬৮৩ জনের দেহে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৮৬ জন ছিলেন জুলাই মাসে।

এসব রোগীর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ৬১৭ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৫৮ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ৪ জন ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ বছর জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭২ জন, তবে জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৮৬ জনে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছেন, আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর এই বিস্তার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র এডিস মশা নির্মূলে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন ভবনে অভিযান চালিয়ে এডিস বিস্তারের পরিবেশ থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে চলছে প্রচার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে। আর অন্য মশার সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী এডিস মশার পার্থক্য আছে। মূলত এই মশার জন্ম হয় আবদ্ধ পরিবেশে। ফলে নাগরিকরা সচেতন না হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর সতর্ক অবস্থানে ছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তারপরও ২০২০ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৪০৫ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মারা যান।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে আক্রান্ত হয় ১ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের। গত বছর সংক্রমণের মাত্রা অনেকটা কম থাকলেও এ বছর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা
এহন গাড়ি চললে কয়ডা টেহা আইব
লকডাউন এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে
সীমান্ত কঠোর: কমেছে অবৈধ অস্ত্র কারবার
লকডাউন: টেকনাফ স্থলবন্দরে মালামাল খালাস বন্ধ

শেয়ার করুন

আইসিইউ শয্যা দখলে রাখতে ‘মাস্তানি’

আইসিইউ শয্যা দখলে রাখতে ‘মাস্তানি’

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী। ছবি: নিউজবাংলা

আইসিইউতে রাখার পর যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো হয়ে যায়, অর্থাৎ ৯০-এর ওপরে চলে যায়, তাদের পরে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু পুরো বিষয়টি তাদের বোঝানো হলেও তারা বুঝতে চান না। জোর করে আটকে রাখেন শয্যা, আর এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই মারতে পর্যন্ত আসেন রোগীরা। জেলা প্রশাসক বলছেন, করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে কোনো মাস্তানি চলবে না।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউ ওয়ার্ডে রোগীদের শয্যা দখল নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার জন্য যখন রোগীর লাইন, তখন সুস্থ হওয়া রোগীরা আইসিইউ ছাড়তে চান না। তাদের সাধারণ ওয়ার্ডে নিতে চাইলে চিকিৎসক, নার্সদের মারধরের হুমকি দেয়া হয়, ভাঙচুরও করা হয়।

সুস্থ রোগীকে আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করতে না পেরে পুলিশ এবং পরে বরিশাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও নিতে হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক বলছেন, যার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো রয়েছে, সেই রোগীও আইসিইউ শয্যা দখল করে বসে রয়েছেন। কোনোভাবেই তাদের বুঝিয়ে নামানো যাচ্ছে না।

অপরদিকে জেলা প্রশাসক বলছেন, আইসিইউ শয্যা দখল নিয়ে ‘মাস্তানি’ চলে। নেতার লোকজন পরিচয় দিয়ে দখল করে রাখা হয় বেড।

হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে ২৬টি আইসিইউ শয্যা এখন চালু রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ জন রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০-এর ওপরে থাকলেও তারা আইসিইউ ছাড়তে চাইছেন না। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত করোনা ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে।

নগরীর কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন ২৫ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসিইউ ওয়ার্ডের ৫নং শয্যায় এবং মো. অপু ৪নং শয্যায় ভর্তি হয়েছেন। তবে তারা সুস্থ। একইভাবে ৩নং ও ৭নং শয্যার রোগী সুস্থ হয়েও ছাড়ছেন না।

একজন নার্স জানান, আইসিইউতে রাখার পর যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো হয়ে যায়, অর্থাৎ ৯০-এর ওপরে চলে যায়, তাদের পরে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু পুরো বিষয়টি তাদের বোঝানো হলেও তারা বুঝতে চান না। জোর করে আটকে রাখেন শয্যা, আর এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই মারতে পর্যন্ত আসেন রোগীরা।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে হাসপাতালের পরিচালক বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ আসার খবরে অনেকে সরে পড়েছেন।

‘আমাদের শুধু বিরক্ত করে চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাত ঘটায় কিছু লোক। যাদের চিকিৎসা দরকার, তাদের আমরা সবটুকু দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। যে রোগীর আইসিইউ শয্যা দরকার তাকে তো আর আমরা সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠাই না। এটাই কেউ বুঝতে চায় না।’

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাব, সেটাই চিন্তার বিষয়। এর মধ্যে করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে ঝামেলা লেগেই রয়েছে। আমার কাছে ফোন আসতেই থাকে। মানুষের তো বোঝা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে একটি আইসিইউ শয্যার জন্য ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী অপেক্ষায় থাকেন, সেখানে এমনভাবে দখল করে রাখলে অন্য রোগীরা সমস্যার মধ্যে পড়েন।

‘মাস্তানি করা হয় সেখানে। ডাক্তার-নার্সদের হুমকি-ধমকিও দেয়া হয়। এর মধ্যে আমাদের একটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলাও ভাঙচুর করা হয়েছে এই দ্বন্দ্বে। শিগগির আমরা কঠোর কোনো অবস্থানে যাব।’

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘করোনা ইউনিটে যারা চিকিৎসার জন্য যান, তারা প্রায় সবাই মুমূর্ষু অবস্থায় থাকেন। এই হাসপাতালে শুধু বরিশালের ৬ জেলা নয়, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ থেকেও প্রচুর রোগী এসে ভর্তি হন। কতটা হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে, সেটা বুঝতে পারছি। এর মধ্যে করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে বিড়ম্বনার কথা শুনেছি।

‘গভীর রাতেও এমন খবর পেয়েছি। ডাক্তারদের হুমকি দেয়া হচ্ছে, বাইরে বের হলে মারা হবে। এমন কেন হবে? ডাক্তাররা তো চেষ্টা করছেন তাদের সাধ্যমতো এই সংকটের মধ্যেও।’

তিনি বলেন, ‘করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে কোনো মাস্তানি চলবে না। যার লোকই হোক না কেন, এমন মহামারিতে এমন যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, যা করা দরকার তাই করা হবে।’

আরও পড়ুন:
৭ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকতে মানা
এহন গাড়ি চললে কয়ডা টেহা আইব
লকডাউন এখন শুধু শিক্ষাঙ্গনে
সীমান্ত কঠোর: কমেছে অবৈধ অস্ত্র কারবার
লকডাউন: টেকনাফ স্থলবন্দরে মালামাল খালাস বন্ধ

শেয়ার করুন