ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছাড়াল

ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছাড়াল

করোনায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে ভারতে। ছবি: এএফপি

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ৪ হাজার ৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ জনে।

করোনাভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে ৮ মে শিখরে পৌঁছায় ভারত। এরপর থেকে শনাক্তের সংখ্যা কমতে শুরু করে দেশটিতে। তবে মৃত্যুর দৈনিক হার সে হিসাবে কমেনি।

পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যের বরাতে সোমবার বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসে ভারতে ৪ হাজার ৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ জনে।

দেশটিতে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয় গত ২৪ ঘণ্টায়। দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৮১ জনের দেহে।

ভারতে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে করোনার তৃতীয় ধাক্কা আসতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশটিতে টিকাদান কার্যক্রম এখনও নিম্নমুখী।

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়। ওই সময় রাজ্যটিতে ৩৫ হাজার ৪৮৩ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।

তামিলনাড়ুর পর সংক্রমণের উচ্চ হার দেখা যায় মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কেরালা ও অন্ধ্র প্রদেশে।

মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ হাজার ৬৭২, কর্ণাটকে ২৫ হাজার ৯৭৯, কেরালায় ২৫ হাজার ৮২০ ও অন্ধ্র প্রদেশে ১৮ হাজার ৭৬৭ জনের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গত বছরের শুরুর দিক থেকে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাস পর্যন্ত মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভারতের ছয়টি রাজ্য। এগুলো হলো মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ ও অন্ধ্র প্রদেশ।

মহারাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৫৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯৭, কর্ণাটকে ২৪ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪, তামিলনাড়ুতে ১৮ লাখ ৬ হাজার ৮৬১, উত্তর প্রদেশে ১৬ লাখ ৭০ হাজার ২০ ও অন্ধ্র প্রদেশে ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৮২৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। ভাইরাসে মৃত্যু হয় ৬ লাখ ৪ হাজার ৮৭ জনের।

করোনা শনাক্তে ব্রাজিলকে ডিঙিয়ে দ্বিতীয় অবস্থান নেয়া ভারত এ মুহূর্তে ভাইরাসটির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশটিতে শনাক্ত হয়েছে করোনার অতি সংক্রামক ধরনও।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছুঁইছুঁই
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

সিলেটে দ্রুত বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সঙ্কট। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) পাশপাশি সাধারণ শয্যাও খালি মিলছে না। ফলে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। রোগী নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে স্বজনদের।

এ অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৭০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে যুক্ত হয়েছে আরও ১০টি আইসিইউ।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার সকাল থেকে এসব শয্যায় রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে।

ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

এসব শয্যা ও আইসিইউ বাড়ানোর ফলে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ওসমানীর সক্ষমতা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

নতুন করে ১০টি যুক্ত হওয়ার আগে করোনা রোগীদের জন্য সিলেটের সরকারি দুটি হাসপাতালে ২৩টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা ছিল। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় জেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে আরও ৮০-৯০টি।

নগরের সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৬০টি সাধারণ শয্যা ছিলো। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে আরও প্রায় ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে ধর্না দিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। সবগুলো হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ ইউনিট রোগীতে পূর্ণ রয়েছে। এ অবস্থায় ওসমানীতে শয্যা ও আইসিইউ দুটিই বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি, সিলেটের সভাপতি এবং নুরজাহান হাসপাতালের চেয়ারম্যান নাসিম আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি আমরা করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু রোগীর চাপ প্রতিদিন এত বেশি বাড়ছে যে আমরা উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় সরকারি চিকিৎসাসেবা আরও অনেক বাড়ানো প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছুঁইছুঁই
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

শেয়ার করুন

জাপান থেকে ঢাকার পথে টিকার আরেক চালান

জাপান থেকে ঢাকার পথে টিকার আরেক চালান

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে জাপানের নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় উড়াল দেয়ার অপেক্ষায় কার্গো বিমান। ছবি: ফেসবুক

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, জাপান থেকে অ্যাস্ট্রেজেনেকা টিকার তৃতীয় চালান ঢাকায় রওনা দিয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে (এএনএ) আসছে চালানটি। এই চালানে আছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ টিকা। আর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার টিকাগুলো ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

জাপান থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তৃতীয় চালান দেশের পথে। ছয় লাখের বেশি ডোজের টিকার চালানটি মঙ্গলবার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

সোমবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি লিখেছেন, আজকে জাপান থেকে আরও ৬ লাখ ১৬ হাজার অক্সফোর্ডের টিকা একটু আগে ঢাকার পথে রওনা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সবাইকে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করুন এবং পরীক্ষা করাতে সহযোগিতা করুন। টিকা নিতে উৎসাহিত করুন। টিকার মজুদ এখন যথেষ্ট আছে।’

জাপান থেকে টিকার তৃতীয় চালান পাঠানোর বিষয়টি টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসও নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাপান থেকে অ্যাস্ট্রেজেনেকার তৃতীয় চালান ঢাকায় রওনা দিয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে (এএনএ) আসছে চালানটি। এই চালানে আছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা।

দূতাবাস জানায়, জাপানের স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে টিকার চালান নিয়ে বিমানটি নারিতা বিমান বিন্দরের এক নম্বর টার্মিনাল ত্যাগ করে। ৩ আগস্ট চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে পৌঁছবে।

কোভেক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান। দেশটি থেকে এর মধ্যে দুই চালানে ১০ লাখের বেশি টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে।

বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান।

এ টিকার ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কিনেছিল বাংলাদেশ। দুই দফায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাকি টিকা দিতে পারেনি সিরাম।

সরবরাহ সংকটের কারণে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি। জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় অপেক্ষমানদেরকে রোববার থেকে আবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান। সেখান থেকে দফায় দফায় ৩০ লাখ আ্যস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশকে দেবে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

মাঝে দিয়ে দেশে টিকা সংকট তৈরি হলেও সে অবস্থা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। দফায় দফায় টিকা আসছে চীনের সিনোফার্ম থেকে। এ ছাড়া, কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে মডার্না ও ফাইজারের টিকা।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছুঁইছুঁই
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

শেয়ার করুন

রাজশাহী মেডিক্যালে জুলাইয়ে করোনায় রেকর্ড মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে জুলাইয়ে করোনায় রেকর্ড মৃত্যু

গত জুলাই মাসে করোনায় ৫৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। ফাইল ছবি

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জুলাই মাসে এখানে মোট ১ হাজার ৮৭৮ জন করোনা রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়ে মারা যান ১৮০ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৩২০ জনের।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত জুলাই মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। ওই মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৩১ জন।

করোনা মহামারি শুরুর পর এক মাসে রাজশাহী মেডিক্যালে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। মে ও জুন মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা জুলাইয়ের চেয়ে কম।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে মে মাসের মাঝামাঝি থেকে। জুনে ব্যাপক বেড়ে যায়।

করোনা সংক্রমণের অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী শহরে ১১ জুন বিকেল থেকে শুরু হয় কঠোর লকডাউন।

১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন শুরুর পরও কমেনে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল জানায়, জুলাইয়ে এখানে মোট ১ হাজার ৮৭৮ জন করোন রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়ে মারা যান ১৮০ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৩২০ জনের।

এ ছাড়া করোনা মুক্তির পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়।

জুনে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন ১ হাজার ৩৯১ জন। এর মধ্যে মারা যান ৩৬৯ জন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিল ১৬৮ জনের, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা চলছিল ১৯৪ জনের। আর করোনা-পরবর্তী জটিলতা নিয়ে মারা যান ৭ জন।

মে মাসে রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন ৮০৮ রোগী। এর মধ্যে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৩ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যান ৭১ জন।

এপ্রিলে ভর্তি হন ৬৫৪ জন। ওই মাসে মৃত ৭৯ জনের মধ্যে ৩৬ জন মারা যান করোনা আক্রান্ত হয়ে। বাকি ৪৩ জন মারা যান করোনা উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে এসেছিলেন। এমনকি কারও কারও চিকিৎসা শুরু করার আগেই মৃত্যু হয়েছে। এখন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে করোনা রোগীরা যাচ্ছেন। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর যদি অবস্থা বেগতিক হয়, তখনই তাদের রেফার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের বড় একটি অংশকে আমারা সুস্থ করতে সক্ষম হয়েছি।

‘ভারত থেকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আসার পর মৃত্যুর সংখ্যাটা বেড়েছে। যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই বয়স্ক। ৬১ বছরের বেশি বয়সী। তারা এমনিতেই অন্য অসুখে আক্রান্ত। এ কারণে করোনার ধাক্কাটা তাদের একটু বেশিই লাগে।’

হাসপাতালের পরিচালক জানান, হাসপাতালে রোগীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে অক্সিজেন সরবরাহ। এ হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেনের মাধ্যমে ৫১৩ জন রোগীকে এক সঙ্গে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছুঁইছুঁই
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

শেয়ার করুন

টিকা ছাড়াই শুধু সুঁই পুশ: টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যকর্মী শাস্তির মুখে 

টিকা ছাড়াই শুধু সুঁই পুশ: টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যকর্মী শাস্তির মুখে 

দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ নম্বর বুথে রোববার অন্তত ২০ জনের দেহে করোনার টিকা না দিয়েই কেবল সিরিঞ্জের সুঁই পুশ করার অভিযোগ ওঠে। সেখানে টিকাদানের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে করোনাভাইরাসের টিকা না দিয়ে কেবল সুঁই পুশ করার ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর ভাষ্য, বেশি মানুষের চাপে তাড়াহুড়োর মাঝে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ঘটনাটি ঘটেছে।

দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ নম্বর বুথে রোববার অন্তত ২০ জনের দেহে করোনার টিকা না দিয়েই কেবল সিরিঞ্জের সুঁই পুশ করার অভিযোগ ওঠে। সেখানে টিকাদানের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন।

স্থানীয় এক যুবক দাবি করেন, টিকাগ্রহীতাদের শরীরে শুধু সুঁই পুশ করে সিরিঞ্জ ফেলে দিতে দেখেছেন তিনি। ঘটনাটি আবাসিক চিকিৎসক শামিমকে জানানো হলে তিনি পরিত্যক্ত সিরিঞ্জগুলো সংবাদকর্মীদের সামনে বাছাই করে ২০টিতে টিকার সম্পূর্ণ ডোজের উপস্থিতি দেখতে পান।

ডা. শামিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ব্যাপারে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে সাজেদা আফরিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তদন্ত কমিটির প্রধান জেলার সহকারী সিভিল সার্জন শামিম হুসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।’

টিকা ছাড়াই শুধু সুঁই পুশ: টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যকর্মী শাস্তির মুখে

বিষয়টি জানতে জেলা সিভিল সার্জন আবু ফজল মোহম্মদ শাহাবুদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেটি ঢাকায় স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন। তিনি বলেন, ‘অনেক লোকের চাপ ছিল। অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে।’

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছুঁইছুঁই
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

শেয়ার করুন

দেশে টিকা উৎপাদন নিয়ে চুক্তির খসড়া পাঠাল চীন

দেশে টিকা উৎপাদন নিয়ে চুক্তির খসড়া পাঠাল চীন

প্রতীকী ছবি

এ বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টিকার যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে চীন এমওইউ পাঠিয়েছে। আমরা পেয়েছি। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আছে। তাদের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) এ বিষয়ে কাজ শুরু করার কথা। তিনটা প্রতিষ্ঠান শুরু করবে- ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিনোফার্ম।’

বাংলাদেশে সিনোফার্মের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা উৎপাদনে আরও এক ধাপ এগিয়ে আসল চীন। এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি খসড়া পাঠিয়েছে বেইজিং।

এ খসড়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি বা স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশ সরকার, চীনা কোম্পানি সিনোফার্ম ও দেশীয় ওষুধ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টার ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে। এসব প্রক্রিয়া যত দ্রুত শেষ হবে, তত দ্রুতই দেশে উৎপাদন করা যাবে সিনোফার্মের টিকা।

এ বিষয়ে সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

পরে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তাদের রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন। তারা আমাকে জানিয়েছেন, তাদের টিকার বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। তাই আগাম চাহিদা না জানালে সরবরাহ বিঘ্নিত হবে। তারা সাপ্লাই লাইন মসৃণ রাখতে চান। আমি তাদের এই মতামত এক্সসেপ্ট করেছি। যেহেতু আগে আমাদের একটা বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে।

‘এরপরই টিকার যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে চীন এমওইউ পাঠিয়েছে। আমরা পেয়েছি। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আছে। তাদের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) এ বিষয়ে কাজ শুরু করার কথা। তিনটা প্রতিষ্ঠান শুরু করবে- ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিনোফার্ম। ইনসেপ্টা বাল্ক আনবে। বোটলিং লেভেলিং ও ফিনিশিং এসব কাজ করবে।’

টিকার যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে আর দেরি করা ঠিক হবে না বলেও মত দেন মোমেন। বলেন, ‘এটা নিয়ে ডিলে করা ঠিক হবে না। কারণ সই করার পরও মাস দুয়েক লাগবে। সুতরাং এক দিন মানে বেশ সময় নষ্ট।’

রাশিয়ার সঙ্গেও টিকার যৌথ উৎপাদনের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু পাঠিয়েছি। তাদের ওখানেও করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক লোকজন অফিসে আসে না। আমরা যে ডকুমেন্ট পাঠিয়েছি সেই লোকই আসে না অফিসে। এ জন্য একটু ডিলে হচ্ছে। তবে এটা আমাদের গরজ। আমরা পেছনে লেগে আছি।’

রাশিয়া থেকে কেনা টিকা দেশে কবে আসবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মোমেন জানান, ‘এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।’

জনসনের টিকা প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, ‘আমরা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে টিকা আনছি। জনসনও তাদের মাধ্যমে আসবে। যতটুকু শুনেছি জনসনের প্রতি ডোজ টিকার দাম ৮২ ডলার। এত দামি টিকা কেউ কিনে দান করতে চাইছে না। তবে আসবে। কারণ, কোম্পানিগুলোকেও তো তারা টিকিয়ে রাখবে।’

মডার্নার টিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখনও আমাদের হাতে ৫৫ লাখ মডার্নার টিকা আছে। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া। এই টিকা আমেরিকা আমাদের ফ্রি দিয়েছে। এটাও দামি টিকা।’

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছুঁইছুঁই
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

শেয়ার করুন

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছিল প্রাভা হেলথ!

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছিল প্রাভা হেলথ!

বেশ কিছু দিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

করোনা পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান প্রাভা হেলথকেয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের কার্যক্রম সময়িকভাবে স্থাগিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা ফরিদ উদ্দিন মিয়া নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহফুজা খানমের ছেলে মাহফুজ শফিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আর আগে ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. জাহিদুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরই মধ্যে অভিযোগকারী মাহফুজ শফিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে তদন্ত কমিটির কাছে তার বক্তব্য জানিয়েছেন।

মাহফুজ শফিক কমিটিকে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রাভা হেলথ এর অতি উৎসাহী মার্কেটিং আমাদের আকৃষ্ট করেছে। প্রাভা নামটি ইন্টারন্যাশনাল হেলথ চেইন অব ইন্ডিয়া। তাদের ওয়েবসাইটে (প্রাভা) বলা হয়েছে, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পার্টনার।

‘আমার বড় মেয়ে বায়ান শফিকের প্রাভা হেলথের পজিটিভ রিপোর্ট (করোনা) পেয়ে মেডিনোভাতে সিটিস্ক্যান ও রক্তের অন্যান্য পরীক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানো হয়। প্রাভার পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর আইইডিসিআরের পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়ার আগে পর্যন্ত পুরো পরিবার অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে। করোনা পজিটিভ না হয়েও ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস ওয়েবসাইটে পজিটিভ রিপোর্ট আপলোড করা হয়। যা সারা পৃথিবীর সব ইমিগ্রেশন দেখতে পাবে। এটা মানহানিকর। টিকেট, হোটেল ও অন্যান্য খরচসহ আর্থিক ক্ষতিসাধন।’ তদন্ত কমিটির কাছে মাহফুজ শফিক সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন।

এর আগে গত ৭ জুলাই বিকাল ৫টায় সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের ছেলে মাহফুজ শফিক তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বনানীর প্রাভা হেলথ কেয়ারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করান। সেই দিনই রাত ১২টায় মোবাইলে এসএমএস আসে তাদের তিনজনই করোনা পজিটিভ। এমন দুঃসংবাদে দিশেহারা হয়ে ওঠে পুরো পরিবার। ২২ ঘণ্টা পর তারা আবারও রাজধানীর আইইডিসিআরবিতে করোনা পরীক্ষা জন্য নমুনা দিয়ে আসেন। কিন্তু আইইডিসিআরবি থেকে তিনজনেরই ফল আসে নেগেটিভ। যার ফলে প্রাভা হেলথ কেয়ারের বিরুদ্ধে ভুয়া করোনা সনদ দেয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের পরিবার।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যেভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাহফুজ শফিকের ছোট মেয়ে। মেয়ের সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল পরিবারের তিন সদস্যের। ভিসা পাওয়ার পর শুক্রবার (৯ জুলাই) কাতার এয়ারওয়েজের টিকেট কেনেন তারা। বিদেশ ভ্রমণের জন্য এখন করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক থাকায় তারা বনানীর প্রাভা হেলথ কেয়ারে পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন।

পরে ওই দিন রাতে প্রতিষ্ঠানটি এসএমএস এর মাধ্যে করোনার ভুয়া পজিটিভ রিপোর্ট পাঠান তাদেরকে। ফলে আমেরিকা যাবার টিকেট কেটে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন পরিবারটির সদস্যরা। কারণ আইসিডিডিআরবি থেকে নেগেটিভ রিপোর্ট আসার আগেই তাদের যাত্রার টিকেট নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছুঁইছুঁই
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

শেয়ার করুন

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা।

এ বছর শনাক্ত রোগীর বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। দুই বছর আগেও এ ধরনের ভ্যারিয়েন্টে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সেরোটাইপ থ্রি বেশি সংক্রমিত করতে সক্ষম।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গুর যে ভ্যারিয়েন্টটি বেশি ছড়াচ্ছে, সেই একই ভ্যারিয়েন্ট ২০১৯ সালে বিপর্যয় ঘটিয়েছিল।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত (রোববার) সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৮২। এর মধ্যে জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৯৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন করোনাতেও আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এর আগে গত বছর সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জনের, যাদের মধ্যে ছয় জন মারা যান। এর আগের বছর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার ঘটে। সেবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখের বেশি, যাদের মধ্যে মারা যান ১৭৯ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ বছর শনাক্ত রোগীর বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। দুই বছর আগেও এ ধরনের ভ্যারিয়েন্টে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সেরোটাইপ থ্রি বেশি সংক্রমিত করতে সক্ষম।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবারও ডেঙ্গুর টাইপ থ্রি বেশি মানুষকে আক্রান্ত করছে। এবার করোনা সংক্রমণের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে একটু বেশি সতর্ক হতে হবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোতলেবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এবার ডেঙ্গুর টাইপ সি-তে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এখনকার রোগীদের যে লক্ষণ দেখা দিচ্ছে তা হল দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। তবে অন্য উপসর্গের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই মাথা ব্যথা, চোখ জ্বলা, বমি, পাতলা পায়খানা এগুলো হচ্ছে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আরেক সহযোগী অধ্যাপক পার্থ প্রতিম দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যেসব রোগী দেখেছি তাদের হাই ফিভার রয়েছে। কিছু কিছু রোগীর বমি ও ডায়রিয়া রয়েছে। যদিও এটা গতবারও ছিল।’

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাসের আসলে চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। টাইপ ওয়ান, টাইপ টু, টাইপ থ্রি, টাইপ ফোর। এবার ডেঙ্গু টাইপ থ্রি দিয়ে জ্বরটা বেশি হচ্ছে।

এ বছর কেনো সেরোপাইট থ্রি বেশি সক্রিয়, সেই প্রশ্নে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘এই চারটার মধ্যে কোনো একটা ভাইরাসের বিস্তার কোনো বছর বেশি হয়। ২০১৯ সালে টাইপ থ্রি বেশি হয়েছিল। গত বছরেও এই টাইপ থাকলেও তখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল।’

ডেঙ্গুর চারটি ধরনের মধ্যে কোনটি বেশি প্রাণঘাতী, সে বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় সবগুলোই এক রকমের। তবে কিছু টাইপ বেশি সংক্রামক, যেমন করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বেশি সংক্রমিত করে। ২০১৯ সালে টাইপ থ্রি বেশি ছড়িয়েছিল, তাই বলা যায় এটার সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।’

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘ঢাকা থেকে আক্রান্ত অনেক রোগী গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ফলে সেখানেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। কারণ অন্যান্য জেলাতেও এডিস মশা আছে। আক্রান্তকে কামড়ানোর পর ভাইরাস মশা থেকে আবার সুস্থ মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস ইজিপটাই মশার মাধ্যমে সাধারণত ছড়ায়। আরেকটি আছে এডিস এলবোপিকটাস, তবে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে এডিস ইজিপটাই ডেঙ্গুর বাহক।’

আরও পড়ুন:
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছুঁইছুঁই
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ৮১% কার্যকর

শেয়ার করুন