দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রংপুরের ২ লাখ মানুষ

দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রংপুরের ২ লাখ মানুষ

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আব্দুল আহাদ নিউজবাংলাকে জানান, বিভাগের আট জেলায় টিকা কার্যক্রম বন্ধের পথে। নতুন করে টিকা না আসলে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব হবে না। সেটা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রংপুর বিভাগে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে ২ লাখের বেশি মানুষ। বিভাগের আট জেলায় আনা টিকার মজুদ শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। নতুন করে টিকা আসা পর্যন্ত প্রথম ডোজ প্রাপ্তরা দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস জানায়, বিভাগের আট জেলায় দুই দফায় ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয় ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৩ জনকে । শনিবার পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১১৭ জনকে।

১৮ মে জরুরিভিত্তিতে আরও ৬ হাজার ডোজ আনা হয় । এখন সবমিলে মজুদ আছে ৩২ হাজার ৪৪০ ডোজ টিকা।

সে অনুযায়ী রংপুর বিভাগে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৩৮৬ জন।

এখন প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৭ হাজার মানুষ টিকা নিচ্ছেন। এ ধারায় মঙ্গলবার মজুদ শেষ হয়ে যাবে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস জানায়, শনিবার রংপুর বিভাগে করোনার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১১৭ জনকে।

এর মধ্যে রংপুরে ৭৮ হাজার ৩১৭, দিনাজপুরে ৭৫ হাজার ৩৯৫, পঞ্চগড়ে ৩০ হাজার ৯৬, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩৬হাজার ৬৯৯, নীলফামারীতে ৪৮ হাজার ১৫৩, লালমনিরহাটে ২৬ হাজার ৭২৫, কুড়িগ্রামে ৩১ হাজার ৩৩৫ ও গাইবান্ধায় ৩৬ হাজার ১১৭ জন।

রংপুরের সিভিল সার্জন হিড়ম্ব কুমার বলেন, ‘আমাদের টিকা প্রায় শেষের দিকে। যা আছে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

দিনাজপুরের সিভিল সার্জন আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের টিকার মজুদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা আনতে না পারলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি। ’

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আব্দুল আহাদ নিউজবাংলাকে জানান, বিভাগের আট জেলায় টিকা কার্যক্রম বন্ধের পথে। নতুন করে টিকা না আসলে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব হবে না। সেটা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ১ ঘণ্টায় শেষ বাকি টিকা
বাংলাদেশ টিকা পেতে ‘মরিয়া’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
নড়াইলে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ৭ হাজার মানুষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’

বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’

নিজের তৈরি ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ যন্ত্রের পাশে তাহের মাহমুদ তারিফ। ছবি: নিউজবাংলা

সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘তারিফ অত্যন্ত মেধাবী। এই শিক্ষার্থীর মেধা দেখে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর পরেও সে দমে যায়নি। কম খরচে অক্সিজেন তৈরির মিনি প্ল্যান্টটিই তার অধ্যবসায়ের বড় প্রমাণ।’

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে বাবা আব্দুস সালামের মৃত্যুর সময় অক্সিজেন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তাহের মাহমুদ তারিফকে। অক্সিজেনসংকটেই মারা যান তার বাবা। এর কিছুদিন পর দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়; বাড়তে থাকে অক্সিজেনের চাহিদাও। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য গবেষণা শুরু করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাহের মাহমুদ তারিফ।

গবেষণায় সফলও হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী তারিফ। করোনা মোকাবিলায় স্বল্প খরচে অক্সিজেন তৈরির জন্য ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ যন্ত্র তৈরি করেছে সে।

বৃহস্পতিবার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ওই যন্ত্রের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে দেখায় তারিফ। টানা এক বছরের চেষ্টায় যন্ত্রটি তৈরি করতে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে সে।

তারিফ বলে, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবার আগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। আহত ফুসফুস বাতাস থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহের সামর্থ্য হারাতে থাকে। ফলে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এ কারণে করোনা আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু হয়।’

অক্সিজেন তৈরির যন্ত্রের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তারিফ জানায়, ডায়নামো দিয়ে বাতাসকে প্রথমে একটি সিলিন্ডারে ঢোকানো হয়। বাতাসে অক্সিজেন ছাড়া অন্যান্য উপাদান থাকায় সেগুলো পৃথক করতে জিওলাইট ব্যবহার করা হয়েছে। জিওলাইটের মাধ্যম বাতাস থেকে অক্সিজেনকে এক দিক দিয়ে এবং অন্যান্য উপাদানকে আরেক দিক দিয়ে বের করা হয়।

তারিফ জানায়, এই যন্ত্রের মাধ্যমে ২৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সংরক্ষণ করা যাবে। এটি দিয়ে একজন মানুষকে টানা সাত ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া যাবে। এরপর ৫-১০ মিনিট বিরতির নিয়ে আরও সাত ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া যায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ‘তারিফের এ কাজে আমরা সবাই উৎসাহ দিয়েছি। প্রাথমিক সাফল্য এসেছে। এখন ল্যাব টেস্ট করা হবে। ল্যাব টেস্টে দেখতে হবে, তারিফের আবিষ্কৃত যন্ত্রে উৎপাদিত অক্সিজেনের মধ্যে বাতাসের অন্য কোনো উপাদান আছে কি না।’

সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘তারিফ অত্যন্ত মেধাবী। এই শিক্ষার্থীর মেধা দেখে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর পরেও সে দমে যায়নি। কম খরচে অক্সিজেন তৈরির মিনি প্ল্যান্টটিই তার অধ্যবসায়ের বড় প্রমাণ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘অক্সিজেন ঘাটতি ও এর জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে অল্প খরচে প্ল্যান্ট তৈরি করেছে তারিফ। বাতাস থেকে অক্সিজেন আলাদা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে।’

তিনি বলেন, ‘তারিফের অক্সিজেন তৈরির যন্ত্রটি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ল্যাব টেস্টে সাফল্য এলে বড় পরিসরে বড় প্ল্যান্ট করে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন কম খরচে দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) পাবনার সাধারণ সম্পাদক আকসাদ আল মাসুর আনন জানান, একজন সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ৯৫-১০০ শতাংশ। এই মাত্রা ৯৩ শতাংশের কম হলে সতর্ক হতে হয় এবং ৯২ শতাংশের কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অক্সিজেন দেয়া হয়। যাদের অক্সিজেন লেভেল ৯০-৯১ শতাংশে এসেছিল, এ রকম কয়েকজনকে তারিফের অক্সিজেন প্ল্যান্টে উৎপাদিত অক্সিজেন দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৮-৯৯ শতাংশে ওঠানো সম্ভব হয়েছে বলে তারিফ জানিয়েছে।

তারিফের এই যন্ত্রের সফলতা বিশ্ববিদ্যালগুলোর ল্যাব টেস্টেও আসবে বলে আশা করছেন আকসাদ আল মাসুর।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হলো যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন গ্যাস সংগ্রহ করা। গ্যাস সংগ্রহের পরে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গ্যাসের বিশুদ্ধতা এবং শতকরা পরিমাণ বের করা। এ জন্য সংগ্রহ করা গ্যাসের শতকরা বিশুদ্ধতা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা জরুরি। পরীক্ষার ফলের পরে বলা যাবে এটি রোগীর জন্য ব্যবহার উপযোগী কি না।

এ ব্যাপারে কথা হয়েছে পাবনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি জানান, পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের নির্দেশে বৃহস্পতিবার পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তারিফের অক্সিজেন কনসেনট্রেটরটি পরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

কিছুটা সংযোজন-বিয়োজন করে এবং ল্যাব টেস্ট করার পর যন্ত্রটির সফলতা আসবে বলে মনে করছেন পাবনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ১ ঘণ্টায় শেষ বাকি টিকা
বাংলাদেশ টিকা পেতে ‘মরিয়া’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
নড়াইলে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ৭ হাজার মানুষ

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যাচার করেছে টিআইবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যাচার করেছে টিআইবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে টিআইবি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে। এটা খুবই দুঃখজনক। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের সব দেশ বা সংস্থা প্রশংসা করেছে বাংলাদেশকে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বাংলাদেশকে প্রশংসা করেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যাচার করেছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

করোনাযুদ্ধে প্রাণ হারানো জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দুপুরে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

টিআইবির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রমে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, লকডাউন, টিকা ক্রয় ও বিতরণে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। গত মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে করোনা মোকাবিলায় ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে টিআইবি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে। এটা খুবই দুঃখজনক। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের সব দেশ বা সংস্থা প্রশংসা করেছে বাংলাদেশকে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বাংলাদেশকে প্রশংসা করেছেন।

‘তবে টিআইবির ঘরে বসে একটি সুন্দর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা করোনা শনাক্ত করতে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি- এমন মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে। অথচ করোনা শনাক্তে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা (টিআইবি) বলছে, আমরা কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করিনি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য। অথচ সারা দেশে ১৫ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে শুধু করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য।

‘যে কারণে ভারতের মতো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এখনো অনেক দেশ যথাযথভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও লকডাউন চলমান।’

টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা টিকা নিয়ে স্পষ্ট চুক্তি করে ভ্যাকসিন ক্রয় করেছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে আইসিইউ বাড়াতে পারিনি বলে টিআইবি যে দাবি করছে, এটা সঠিক নয়। গত বছর যেখানে ৩০০-৪০০ আইসিইউ ছিল, এখন সেখানে এক হাজারের বেশি আইসিইউর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

জনগণের কাছে ভুল তথ্য দিতেই টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে অভিযোগ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার জন্য যে সরঞ্জাম কেনা হয়েছে তা ব্যবহার করা হয়নি, এমন তথ্যও সঠিক নয়। আমরা সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছি। এমন মিথ্যাচার আমরা গ্রহণ করি না।’

টিকা ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতার অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের টিকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ছিল। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করোনার সামনের সারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ মোটেও গ্রহণযোগ্য না।’

বসুন্ধরার আইসোলেশন সেন্টার নিয়ে মিথ্যাচার হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওটা চালু হলেও ছয় মাসে ছয়টা রোগী হয়েছে। এর পেছনে লাখ লাখ টাকা ভাড়া গেছে। এ কারণে সবার সঙ্গে আলোচনা করে আইসোলেশন সেন্টার থেকে সরঞ্জাম বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তরের ড্রাইভার থেকে শুরু করে যারা অন্যায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এমনকি ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার জন্য সাবরিনা ও সাহেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে দেয়া হয়েছে। ভুয়া সনদ দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ সময় টিআইবির প্রতি প্রশ্ন রেখে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কোন জায়গায় এক হাজার কোটি টাকা, পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে বা দুর্নীতি হয়েছে- এ রকম কোনো তথ্য কি তারা দেখাতে পারবে?

‘এমন তথ্য দিতে পারবে না। অন্যান্য জায়গায় কি দুর্নীতি হয়নি? কেউ কেউ কোটি টাকা নিয়ে কানাডায় চলে গেছে। পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরনের কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি।’

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ১ ঘণ্টায় শেষ বাকি টিকা
বাংলাদেশ টিকা পেতে ‘মরিয়া’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
নড়াইলে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ৭ হাজার মানুষ

শেয়ার করুন

যশোরে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু ৩

যশোরে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু ৩

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, রোগী ভর্তির চাপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে রেকর্ড সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছে। যা নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার দ্বিগুণ। বর্তমানে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ৬৪ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছে ৪২ জন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনজন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন যশোর শার্শা উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার রফিউদ্দিন, যশোর সদরের ঝুমঝুমপুর এলাকার সুমি (১৪) ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পুরন্দরপুর এলাকার মকছেদুল ইসলাম।

রফিউদ্দিন ও সুমি গত ১০ জুন যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে রফিউদ্দিন শনিবার ভোররাতে ও সুমি সকাল ৮টার দিকে মারা যান।

অপরদিকে, মকছেদুল ইসলাম করোনা উপসর্গ নিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ বলেন, ‘রফিউদ্দিন হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের রেড জোনে ও সুমি ইয়েলো জোনে ভর্তি ছিলেন। ভোর ও সকালে তারা দুজন মারা যান। এছাড়া জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরেক রোগী আজ সকালে ইয়েলো জোনে ভর্তির পর মারা যান।’

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


শনাক্তের হার উদ্বেগজনক

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৭ শতাংশ। এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৬৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে, করোনা সংক্রমণ রোধে যশোর পৌরসভা ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় ঘোষিত লকডাউন কার্যকর করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।

গত ১৬দিন ধরে যশোরের করোনা শনাক্তের হার উদ্বেগজনক।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, রোগী ভর্তির চাপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে রেকর্ড সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছে। যা নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার দ্বিগুণ। বর্তমানে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ৬৪ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছে ৪২ জন।


যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, নমুনা সংগ্রহের হার কম থাকায় শনাক্তের হার কম। তবে শনাক্তের হার এখনও উদ্বেগজনক। যে কারণে করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে প্রশাসন।

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮টি মামলা দিয়ে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ১ ঘণ্টায় শেষ বাকি টিকা
বাংলাদেশ টিকা পেতে ‘মরিয়া’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
নড়াইলে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ৭ হাজার মানুষ

শেয়ার করুন

ভারতে ৭০ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত

ভারতে ৭০ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত

দেশটিতে সংক্রমণ কমে আসাকে স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৫ জনে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১ জনের।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ ভারতে অনেকটা কমতির দিকে। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে দুই মাসের বেশি সময় পর ৯০ হাজারের কম মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমণ দেখল দেশটি।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গত এক দিনে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে ৮৪ হাজার ৩৩২ জনের দেহে, যা গত ৭০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন।

তবে মৃত্যুর সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৪ হাজার ২ জনের।

সংক্রমণ কমে আসাকে স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটিতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৫ জনে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১ জনের।

গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ১ লাখ ২১ হাজার ৩১১ জন। মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৯ লাখ ১১ হাজার ৩৮৪ জন। করোনার প্রকোপ কমে আসায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

দেশটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন করোনারোগী রয়েছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৬৭০ জন, যা মোট আক্রান্ত রোগীর ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসার পথে থাকলেও জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুগ্ম সচিব লাভ আগারওয়াল বলেন, ‘কোভিড থেকে সুরক্ষায় আমাদের দৈনন্দিন চলাফেরায় যথাযথ আচরণ অব্যাহত রাখতে হবে। যদিও সংক্রমণ পরিস্থিতি নিম্নগামী হয়ে এসেছে, করোনা আর ছড়াচ্ছে না, আমাদের এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ১ ঘণ্টায় শেষ বাকি টিকা
বাংলাদেশ টিকা পেতে ‘মরিয়া’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
নড়াইলে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ৭ হাজার মানুষ

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে এক দিনে ৩০৩ জনের করোনা পজিটিভ

রাজশাহীতে এক দিনে ৩০৩ জনের করোনা পজিটিভ

রাজশাহীতে একদিনে ৩০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জিন এক্সপার্ট ও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অ্যান্টিজেন টেস্টে ৩০৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে এক দিনে ৩০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জিন এক্সপার্ট ও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অ্যান্টিজেন টেস্টে এসব করোনা রোগী শনাক্ত হন।

রাজশাহীর দুই ল্যাবে ৫৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে এই ফল প্রকাশ করা হয়।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ৩৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৯ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।

এর মধ্যে রাজশাহীর ১৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৫ জনের। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন ১৪ জন। নওগাঁর ১০৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৯ জনের পজিটিভ এসেছে। নাটোরের ১ জনের নমুনা করে তারই করোনা ধরা পড়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, শুক্রবার হাসপাতাল ল্যাবে ১৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৫৮ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।

রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে জিন এক্সপার্ট মেশিনে ২৮ জনের করোনা পরীক্ষা করে ১২ জনের পজিটিভ এসেছে।

সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে শুক্রবার এক হাজার ৮৮৭ জনের অ্যান্টিজেন টেস্টের মধ্যে ৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে, করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন ঘোষণা করে। লকডাউনের কারণে বিকেল থেকে শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহন চলছে না। রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ১ ঘণ্টায় শেষ বাকি টিকা
বাংলাদেশ টিকা পেতে ‘মরিয়া’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
নড়াইলে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ৭ হাজার মানুষ

শেয়ার করুন

দৈবচয়নে ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্ট, বাড়ছে শনাক্ত

দৈবচয়নে ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্ট, বাড়ছে শনাক্ত

জনসাধারণকে করোনার নমুনা পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে নওগাঁয় বিনামূল্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

‘গরিব মানুষ টাকার অভাবে করোনা টেস্ট করতে পারে না। এ কারণে গত ৬ জুন থেকে জেলায় ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা হয়েছে। গরিবদের জন্যই মূলত এ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। আমরা যত বেশি স্যাম্পল টেস্ট করব তত বেশি ফল পাব। কম পরিমাণ নমুনা টেস্টে তেমন ফল মেলে না।’

জনসাধারণকে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে নওগাঁয় বিনামূল্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

শহরে রাস্তার পাশে উন্মুক্ত স্থানে টেবিল-চেয়ার পেতে স্বাস্থ্যকর্মীরা দৈবচয়নের ভিত্তিতে মানুষকে ডেকে ডেকে টেস্ট করাচ্ছেন।

সিভিল সার্জন অফিস জানায়, গত রোববার নওগাঁ জিলা স্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে করোনা টেস্ট শুরু হয়। সেদিন জেলায় র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ১ হাজার ১০৮ জনের নমুনার মধ্যে ৯৫টি পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

ফ্রি টেস্টের ফলে পাওয়া করোনা শনাক্তের হার উদ্বেগজনক। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই করোনা উপসর্গবিহীন বলে জানান স্বাস্থ্যকর্মীরা।

যত বেশি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হবে মানুষের মাঝে সচেতনতা তত বাড়বে বলে জানায় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ৩০ মিনিটের মধ্যে ফল পাওয়া যায়।

নওগাঁ শহরে জিলা স্কুল ও এটিএম মাঠে বসানো হয়েছে ফ্রি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কেন্দ্র। পাশাপাশি জেলার অন্য সব উপজেলায়ও চলছে ফ্রি টেস্ট ক্যাম্পের কার্যক্রম।

রোবরার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলায় ২ হাজার ২৭১ জনের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। এতে ২৫০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, নানা কারণে অনেকেই করোনা পরীক্ষা করান না। স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা খরচে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হচ্ছে। উপসর্গহীন অনেকের শরীরে করোনা পজিটিভ এসেছে। এ কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ফ্রি টেস্ট করতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

শহরের তাজের মোড়ের বাসিন্দা ভ্যান চালক আহাদ আলী বলেন, ‘হামি ভ্যান চালা তিনজনের সংসার চালায় ম্যালা কষ্টে। হামার রোদ আর গরোমের জন্নি এ্যানা সর্দি লাগাই থাকে। করোনার যে অবস্থা ভয় হচ্ছিল করোনা হলো নাকি। যদি করোনা পরীক্ষা করায় তালে ১০০ ট্যাকা লাগবে। এই ভয়ে করোনা পরীক্ষা করনি এতদিন।

‘বৃহস্পতিবার বিকালে তাজের মোড়োত ট্যাকা ছাড়াই টেস্ট করানি। আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হয়নি। হামি সুস্থ আছি করোনা নাই হামার শরীলোত।’

শহরের মাস্টারপাড়া মহল্লার দিনমজুর আকবর আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘সারাদিন মজুরের কাম করা যা পাই সেডা দিয়া চার জনের সংসার কোন রকমে চলে। এতদিন করোনার পরীক্ষা হামি করনি। শহরোত মাইকিং হচ্ছে। যারকে ট্যাকা দিয়া করোনার পরীক্ষা করার মত অবস্থা নাই তারা ফ্রিতে পরীক্ষা করবার পারবে। তাই ভাবনু পরিক্ষা করাই ফেলি।

‘এর পর আজ সকালে শহরের এটিম মাঠোত স্বাস্থ্যকর্মী ভাইকেরে মাধ্যমে পরীক্ষা করাই ফেলনু। ৩০ মিনিট পর জানবার পারনু হামার দেহোত কোন করনা নাই। শুনা শান্তি পানু। ফ্রি পরীক্ষা করার নিয়ম করা হামাকে মত গরিব মানুষের জন্নি ভালোই হচে। এর জন্নি সরকারোক ধন্যবাদ জানাই।’

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, ‘গরিব মানুষ টাকার অভাবে করোনা টেস্ট করতে পারে না। এ কারণে গত ৬ জুন থেকে জেলায় ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা হয়েছে। গরিবদের জন্যই মূলত এ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। আমরা যত বেশি স্যাম্পল টেস্ট করব তত বেশি ফল পাব। কম পরিমাণ নমুনা টেস্টে তেমন ফল মেলে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে জানান দিতে উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষকে নমুনা দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রথমে কেউ নমুনা দিতে চাচ্ছিল না। তাদের বুঝিয়ে নমুনা নেয়া হয়েছে এবং উপসর্গবিহীন অনেকেরই করোনা পজেটিভ এসেছে। জেলাজুড়ে ফ্রিতে নমুনা টেস্টের মাইকিং করা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফ্রি টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে।’

দুই-এক দিনের মধ্যে একটি ফরম করা হবে। দরিদ্ররা ফরম পূরণ করে ফ্রি টেস্ট করাবেন বলে জানান ডেপুটি সিভিল সার্জন।

নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার (ডিজিজ কন্ট্রোল) আশীষ কুমার সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৩ ব্যক্তির সদর হাসপাতালে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং ১৭৯ ব্যক্তির রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনা পজিটিভ এসেছে ৪৯ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের হার ২৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ২৬৪ জনকে। নওগাঁয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৯ জন।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ১ ঘণ্টায় শেষ বাকি টিকা
বাংলাদেশ টিকা পেতে ‘মরিয়া’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
নড়াইলে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ৭ হাজার মানুষ

শেয়ার করুন

সংক্রমণ এখন বেশি ঢাকার বাইরে

সংক্রমণ এখন বেশি ঢাকার বাইরে

রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে করোনা রোগীদের চাপ বাড়ছে। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগী ও এতে মৃত্যুর সংখ্যা। শনাক্তের দিক থেকে এখন ঢাকা বিভাগ তৃতীয় স্থানে। সবচেয়ে বেশি শনাক্ত রাজশাহীতে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিক থেকে এ পর্যন্ত শনাক্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষে স্থানে ছিল ঢাকা বিভাগ। তবে সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’ শনাক্ত হওয়ার পর ঢাকার বাইরে সীমান্তের জেলাগুলোতে গত এক সপ্তাহে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ।

দেশের পশ্চিম সীমান্তের শহরগুলোয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোরের অবস্থা উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক সপ্তাহে একক জেলা হিসেবে রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ জুন এক দিনে ২৮৮ করোনা রোগী শনাক্ত হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮২ জন রোগী দাঁড়িয়েছে সেখানে। এ সময়ের মধ্যে (২৪ ঘণ্টায়) সেখানে মারা গেছে ১১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে খুলনা। সেখানে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৯৯ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। এই বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৪৮০ জন। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিভাগে রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৫১৩ জন।

এ ছাড়া অন্য বিভাগগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০০-এর কম ছিল।

হঠাৎ করে রোগী বাড়ায় সীমান্তের হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়েছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এসব হাসপাতালে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য রোগীদের সেবা বন্ধ রাখার। এমনকি রোগী আরও বাড়লে সীমান্তের জেলা-উপজেলার সব হাসপাতালে করোনা ইউনিট করা হবে।

সংক্রমণ বাড়ার কারণে সীমান্তের আট জেলায় গত মে মাসে লকডাউনের সুপারিশ করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিটি। সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আগেই লকডাউন দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে করোনাবিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু লকডাউন দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সীমান্তের জেলাগুলোতে টেস্ট বাড়াতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। সংক্রমণ কমাতে লকডাউন করা জেলাগুলোকে বাকি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। লকডাউন হওয়া জেলা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন বাইরে আসতে দেয়া যাবে না।

সংক্রমণ এখন বেশি ঢাকার বাইরে


সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ১০ শতাংশের বেশি সংক্রমণের হার থাকা জেলাগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আর ৫-৯ শতাংশ সংক্রমণের হার থাকা জেলাগুলোকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫ শতাংশের নিচের জেলাকে স্বল্প ঝুঁকির অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁসহ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় সংক্রমণের হার অনেক বেশি। তাই এ অঞ্চলগুলোতে অ্যান্টিজেন টেস্ট বাড়ানো হয়েছে। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়েও টেস্ট করানো হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ভারতীয় ধরন দেশে আসার পর থেকেই সীমান্তের জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়েছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষণে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম সীমান্ত পরিদর্শন করেছে। দেয়া হয়েছে সুরক্ষা সামগ্রী ও ওষুধ। হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার পরিকল্পনাও করেছে সরকারি এই সংস্থাটি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ার পর সীমান্তের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল সেখানে পাঠানো হয়েছে। সীমান্তে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য কোভ্যাক্সের কাছে দেশীয় আবহাওয়া উপযোগী টিকা চাওয়া হয়েছে। কারণ ফাইজারের তাপমাত্রা-জটিলতার কারণে এ টিকা শুধু ঢাকায় দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় ১ ঘণ্টায় শেষ বাকি টিকা
বাংলাদেশ টিকা পেতে ‘মরিয়া’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে চীন
নড়াইলে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ৭ হাজার মানুষ

শেয়ার করুন