কী এই কালো ছত্রাক রোগ

ছবি: এএফপি

কী এই কালো ছত্রাক রোগ

দুর্বল শরীরে সাধারণত বাসা বাঁধে এই ছত্রাক। করোনা রোগীরা বেশি দিন আইসিইউতে থাকলে, কিংবা তাদের উপর স্টেরয়েডের ব্যবহার বেশি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আর এই সুযোগে শরীরে ঢুকে পড়ছে কালো ছত্রাক।

করোনার মধ্যে নতুন আতঙ্কের নাম কালো ছত্রাক বা ব্ল্যাক ফাংগাস। করোনায় নাজেহাল ভারতে ব্যাপকহারে দেখা দিয়েছে এই রোগ। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, তেলেঙ্গানায় এই ছত্রাকের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে হাজারও মানুষের।

সাধারণত করোনা থেকে সেরে ওঠার সময় কিছু রোগীকে এই ছত্রাকে সংক্রমিত হতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা থেকে একে ছয় রাজ্যে মহামারি হিসেবে ঘষোণা করেছে ভারতের কেন্দ্র সরকার। করোনা রোগীদের মধ্যে এমন সংক্রমণের প্রবণতা বেশি দেখা দেয়ায় তাদের চিকিৎসায় স্টেরয়েডের ব্যবহারে কমিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)।

কালো ছত্রাক আগেও ছিল

করোনা থেকে সেরে ওঠার সময় অথবা কিছুদিন পর দেখা দিচ্ছে বিরল ও বিপজ্জনক এ স্বাস্থ্য জটিলতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে যার নাম ‘মিউকরমাইকোসিস’।

দুর্বল শরীরে সাধারণত বাসা বাঁধে এই ছত্রাক

করোনা রোগীরা বেশি দিন আইসিইউতে থাকলে কিংবা তাদের ওপর স্টেরয়েডের ব্যবহার বেশি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আর এই সুযোগে শরীরে ঢুকে পড়ছে কালো ছত্রাক।

শুধু যে করোনা রোগীদের মধ্যেই এই ছত্রাক ছড়ায়, তা কিন্তু নয়। কোনো মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে এই সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।

মানুষে কালো ছত্রাকের সংক্রমণ অনেক আগেই ছিল। তবে করোনায় মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কালো ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ছে। আগে লাখে একজনের শরীরে সংক্রমণ ঘটতো কালো ছত্রাক।

যাদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে

যাদের শরীর নিজ থেকে ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না অর্থাৎ ডায়েবেটিস রোগীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। সংক্রমিত হচ্ছে ক্যান্সার আক্রান্তরাও।

মূলত সেসব রোগ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তারাই কালো ছত্রাকে আক্রান্ত হওয়ায় ঝুঁকিতে আছে। এছাড়া যাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি তারাও এই ছত্রাকে সংক্রমিত হতে পারেন।

শরীরের যেসব অঙ্গে সংক্রমণ ছড়ায়

সাইনাস, মস্তিষ্ক আর ফুসফুসে মূলত কালো ছত্রাক সংক্রমণ ঘটায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যনালী, চামড়া এবং অন্যান্য অঙ্গও সংক্রমিত হতে দেখা গেছে।

সংক্রমণের উপসর্গ

নাকে কালো ছোপ, চোখে ঝাপসা দেখা, নাক বন্ধ, সর্দি এই ছত্রাকে সংক্রমিত হওয়ায় লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নাক দিয়ে কালচে কফ বের হয়, নাকের ভেতরের অংশ কালো হয়ে যাওয়া, মুখ ও গালে ব্যথা থাকতে পারে। সংক্রমণ বেশি ছড়ালে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে।

কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে

ডায়েবেটিস ছাড়াও যে সকল কোভিড আক্রান্তের ক্যান্সার, কিডনি কিংবা লিভারে জটিলতা আছে, তাদের করোনা থেকে সুস্থ হয়েও সাবধান থাকতে হবে। কারণ ভারতে অনেক রোগীরকে দেখা গেছে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কিছু দিন পর তারা কালো ছত্রাকের সংক্রমণে পড়েছে।

চিকিৎসা না করালে এই রোগে মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ। চিকিৎসা করালেও খুব একটা ভালো ফল আসে না। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মত সেবা পেলেও ৫০-৪০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় কালো ছত্রাকে।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ

সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বুধবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ফরিদ হোসেন মোল্লা স্বাক্ষরিত এক  চিঠিতে বিষয়টি সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত ই খুদাকে অবহিত করা হয়।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন আরোপিত দ্বিতীয় দফা লকডাউনের শেষ দিনে আরও এক দফা এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বৃহষ্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসেনর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তৃতীয় দফায় লক ডাউন বলবৎ থাকবে ২৪ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।

জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অংশ নেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাংসদ সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী ডা. আ.ফ. ম রুহুল হক, তালা-কলারোয়া আসনের সাংসদ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, বিজিবির সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আল মাহমুদ, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

এদিকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বুধবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ফরিদ হোসেন মোল্লা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত ই খুদাকে অবহিত করা হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহষ্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এ নিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৫৬ জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২৫৪ জন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ৮৮ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। যার আনুপাতিক হার প্রায় ৪৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৬১১ জন। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন, সদর হাসপাতালে পাঁচজন ও বিভিন্ন ক্লিনিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৩ জন। করোানা আক্রান্ত হয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮২২ জন রোগী।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

শেরপুরে একদিনে ৪৯ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১

শেরপুরে একদিনে ৪৯ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল

বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রচার সেল জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাব ও ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ২১৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৯ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৮৯ ভাগ।

স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও অসচেতনতার কারণে শেরপুর জেলায় বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে গত সোয়া এক বছরে একদিনে এটাই সর্বোচ্চ শনাক্ত। বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে একজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রচার সেল জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাব ও ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ২১৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৯ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৮৯ ভাগ। ৪৯ জনের মধ্যে শেরপুর পৌর এলাকায় ৪৭ জন, একজন পাকুড়িয়া ইউনিয়নের ও একজন নকলা উপজেলার।

এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ২ জনে দাঁড়াল। এর আগে বুধবার এক দিনে সর্বোচ্চ ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

শনাক্ত ১ হাজার ২ জনের মধ্যে শেরপুর সদরে ৫৯৩ জন, নকলায় ১৫৩, নালিতাবাড়ীতে ১২২, ঝিনাইগাতীতে ৫৮ ও শ্রীবরদী উপজেলায় ৭৬ জন আছেন। এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৭৫২ জন। মারা গেছেন ১৯ জন।

বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে মারা যাওয়া করোনা রোগী একজন নারী। ফারজানা নামে ৩১ বছর বয়সী ওই নারী ১৫ জুন করোনা শনাক্ত হন। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং রাতে মারা যান। তার বাড়ি শেরপুর পৌর এলাকায়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১ জুন থেকে ১৪ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলেও জনগণের মধ্যে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। অন্যান্যবারের মতো এবার প্রশাসনিক কঠোর অবস্থান না থাকায় জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মাস্ক ছাড়া কারো ঘরের বাইরে বের হওয়ার ওপর বিধি-নিষেধ থাকলেও অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করছে না।

শেরপুরের সিভিল সার্জন এ কে এম আনওয়ারুর রউফ বলেন, ১ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত জেলায় ২৪১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই শেরপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। এই সময়ে মারা গেছেন চারজন। জনগণ যদি সচেতন না হন, মাস্ক ব্যবহার না করেন, তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। করোনা রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা দেয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

ঢাকায় করোনার ৬৮ শতাংশই ভারতীয় ধরন

ঢাকায় করোনার ৬৮ শতাংশই ভারতীয় ধরন

আইসিডিডিআরবির সাম্প্রতিক গবেষণায় ২২ শতাংশ দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে নাইজেরিয়া ভ্যারিয়েন্টও পাওয়া গেছে।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সীমান্তের পর এখন ঢাকায়। ঢাকার করোনা আক্রান্তদের ৬৮ শতাংশ নমুনায় ভারতীয় ধরন পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের সীমান্ত এলাকায় করোনার ঢেউ রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন ‘(করোনা ঢেউ) ঢাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। এ জন্য আমাদের সকলকে সজাগ হতে হবে।’

এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উচ্চ হারের অস্তিত্ব জানান দিল আইসিডিডিআরবির গবেষণা।

আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি গবেষণায় ৬০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ৬৮ শতাংশ নমুনায় ভারতীয় ধরন পাওয়া গেছে। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ ও জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এই দুই মাসে ৬০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২২ শতাংশ দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে নাইজেরিয়া ভ্যারিয়েন্টও পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন সময় করোনার নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিং করে থাকেন। সবশেষ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন পাওয়া গেছে।

সংক্রমণের হার হ্রাস করার লক্ষ্যে এবং দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টসহ করোনার অন্যান্য ধরনের বিস্তার রোধে জনসাধারণকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর।

এর আগে ৪ জুন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৫০ রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ৪০ জনের (৮০ শতাংশ) ক্ষেত্রে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়ে।

এই নমুনাগুলো ছিল সারা দেশ থেকে সংগ্রহ করা।

সেই গবেষণায় ৮টি (১৬ শতাংশ) নমুনায় সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহীত ১৬টি নমুনার ১৫টিতে, গোপালগঞ্জে সাতটি নমুনার সবগুলোতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এ ছাড়া, খুলনা শহর থেকে সংগৃহীত তিনটি নমুনার সবগুলোয়, ঢাকা শহরের চারটি নমুনার দুটিতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল।

দেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ‘কমিউনিটি সংক্রমণ’ ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি কার দ্বারা কীভাবে সংক্রমিত হলেন, সেটি যখন আর বোঝা যায় না, তখন সেটিকে সামাজিক সংক্রমণ বলে।

এ বিষয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন নিউজবাংলাকে জানান, করোনার সবগুলো নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করা সম্ভব হয় না। সংক্রমণের যে ধরন, তা দেখে মনে হচ্ছে এটার সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। এই ভ্যারিয়েন্টের মধ্য দিয়ে হঠাৎ করে করোনার তৃতীয় ঢেউ ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশে ভ্যারিয়েন্টটির প্রবেশ ঠেকাতে ২৬ এপ্রিল থেকে ভারতের সঙ্গে যাত্রী চলাচলে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় সরকার। দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে এর মেয়াদ। ১২ মে ভারতে করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের জন্য দায়ী ভ্যারিয়েন্টটি ৪৪ দেশে পাওয়ার কথা জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ভারত ভ্যারিয়েন্টের আগে করোনার যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও সাউথ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়।

করোনার ভ্যারিয়েন্টগুলোকে আদি রূপের চেয়ে বেশি ভয়াবহ মনে করা হয়। কারণ ভ্যারিয়েন্টগুলো হয় বেশি সংক্রামক, প্রাণঘাতী অথবা টিকার বিরুদ্ধে কম কার্যকর।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু মিউটেশনের কারণে ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন ঘটে। মানবদেহের কোষের সঙ্গে নিজেকে আটকে ফেলতে এবং ভেতরে ঢুকতে ভাইরাসটি এই স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার করে। ভাইরাসের মধ্যে যখন এ ধরনের মিউটেশন ঘটে, তখন এর সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা সম্ভবত বেড়ে যায়। এ ধরনের ভাইরাসে মানুষ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এটি প্রতিরোধে টিকা আর কাজ করে না।

ভারত ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত রোগীকে কাবু করে ফেলে। কোনো ধরনের উপসর্গ প্রকাশের ১০ ঘণ্টার মধ্যেই অক্সিজেনের চাহিদা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচাতে দিতে হয় আইসিইউ সাপোর্ট।

গত বছর সেপ্টেম্বরে করোনাভাইরাস মহামারির বড় ধাক্কা লাগে ভারতে। নভেম্বর থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই নিম্নমুখী হয় এবং চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত তা বজায় থাকে। এরপরই আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে সংক্রমণ।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে

মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে

সোমবার থেকে লকডাউন শুরুর পর বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে। এই ১৯ জন নতুন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলায়।

মাগুরায় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ জন। বৃহস্পতিবার ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল লকডাউনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত বলছে মাগুরা স্বাস্থ্যবিভাগ।

সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতি থাকায় মাগুরা সদর ও মহম্মদপুর উপজেলায় সোমবার থেকে লকডাউন দেয় জেলা প্রশাসন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার থেকে লকডাউন শুরুর পর বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে। এই ১৯ জন নতুন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলায়।

এদিকে, সংক্রমণের না কমায় লকডাউন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ বাসিন্দারা বলছেন, লকডাউনের আওতায় আনা হোক পুরো জেলা।

শহর এলাকায় হাসিবুর রহমান পেশায় কলেজ শিক্ষক। তিনি জানান, শহরের বাইরে লোকজনের মধ্যে সচেতনতা কম। তাই প্রশাসনকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চৌরঙ্গী মোড়ের বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, বাঁশ দিয়ে কিছু রাস্তা বন্ধ করলেই কি সংক্রমণ কমে যাবে? ভেতরে তো মানুষ কোনো না কোনোভাবে ঢুকছে। কর্মস্থল খোলা, তা হলে লকডাউন কীভাবে কার্যকর হবে?

মাগুরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যশোরে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। সীমান্তবর্তী যশোরের সঙ্গে মাগুরার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকায় সংক্রমণ বাড়ছে।

মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় মোট এক হাজার ৪৬৪ জন শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ২৪ জন।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

হাসপাতালে অভিযান, ৬ দালালের কারাদণ্ড

হাসপাতালে অভিযান, ৬ দালালের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্য জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা দোষ স্বীকার করায় প্রত্যেককে সাতদিন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। এ সময় দালাল চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সাত দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাশের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুরে ১২টা পর্যন্ত সদর হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চলে। পুলিশের পাশাপাশি এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে প্রশান্ত বৈদ্য।

আটক ব্যক্তিরা হলেন পৌরসভার কান্দিপাড়া এলাকার রাসেল, পশ্চিম মেড্ডা শরিফপুর এলাকার শিপন, হালদার পড়া এলাকার মামুন, সদর উপজেলা সুহিলপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ বকশি, কসবা উপজেলার মূলগ্রাম এলাকার ছোটন মিয়া ও নবীনগর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের শাহ পরান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্য জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা দোষ স্বীকার করায় প্রত্যেককে সাতদিন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্ররোচনা ও প্রলোভন দেখিয়ে অন্য হাসপাতাল কিংবা আশেপাশের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়। দালালচক্ররে সদস্যরা অন্য হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশনও পেয়ে থাকে।

এ ধরনের প্রতারনামূলক কার্যক্রম যেন আর না হয় সেজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানজনিত কারণে বছরে (১২ মাস) এক লাখ ৬১ হাজার মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন। তবে দেশে এক বছরের করোনায় মৃত্যুর সরকারি হিসাব বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ধূমপানে করোনার চেয়ে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১৯ গুণ (১৮.৬৭) বেশি।

ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ। তার দাবি, ধূমপানজনিত কারণে বছরে মৃত্যুর এই সংখ্যা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ১৩ গুণেরও বেশি।

মুজিববর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনলাইন আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে এ তথ্য দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি পারেননি। তবে স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম ছিলেন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানের কারণে করোনাভাইরাসের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি মৃত্যুর তথ্য দিলেও পরিসংখ্যানের তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। আর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ওই বছরের ১৮ মার্চ। এরপর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ৮ হাজার ৬২৪ জন। আর প্রায় ১৫ মাস, অর্থাৎ ১৬ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ হাজার ২৮২ জন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানজনিত কারণে বছরে (১২ মাস) এক লাখ ৬১ হাজার মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন। তবে দেশে এক বছরের করোনায় মৃত্যুর সরকারি হিসাব বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ধূমপানে করোনার চেয়ে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১৯ গুণ (১৮.৬৭) বেশি।

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?
মুজিববর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভা

অনলাইন আলোচনায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক বলেন, প্রতিবছর গড়ে ১২ লাখ লোক ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ।

মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘সবাই যখন তামাকমুক্ত দেশ গড়তে চাইছে, তখন একটি শ্রেণি রয়েছে তারা বলেন, সরকার এই খাত থেকে অনেক বেশি রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে ২০১৭ সালে সরকার তামাক থেকে রাজস্ব পেয়েছে ২২ হাজার ২৬৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, কিন্তু একই বছর ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির পেছনে। শুধু তামাকজনিত অসুখের কারণে ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি চিকিৎসাব্যয় হচ্ছে।’

তামাকশ্রমিকের ওপর গবেষণার তাগিদ দিয়ে শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘তামাক চাষে জড়িতদের অন্যান্য মানুষের চেয়ে অনেক কম আয়ু। গবেষণা করলে দেখা যাবে তামাক উৎপাদন ও চাষে যারা জড়িত, তারা অন্য শ্রমিকদের চেয়ে অনেক আগেই মারা যান।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন প্রতিটি ক্ষেত্রই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষতি করে। তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে বছরে পৃথিবীতে ৮০ লক্ষাধিক ও বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চাইতে অনেক বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় করতে হয়। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

‘বাংলাদেশ সরকার এসডিজি অর্জনের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান স্পিকার সামিটে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনাকালে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, করোনায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ তারা ধূমপান করতেন বা তামাকের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে চা-বাগানের শ্রমিকরা এক ধরনের তামাক গ্রহণ করেন। তামাক ও চুন মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এটি মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখেন তারা। আমাদের ট্রাক ড্রাইভারেরা গুল ব্যবহার করেন। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন

জুলাইয়ে শুরু হতে পারে গণটিকা

জুলাইয়ে শুরু হতে পারে গণটিকা

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, টিকার জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। টিকা পেতে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশ এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা চলছে।

আগামী জুলাই মাসে আবারও গণটিকা কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকার জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। টিকা পেতে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশ এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা চলছে। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।

‘আমরা টিকা কিনে নিতে চাই। কারও দয়া চাই না। আশা করছি জুলাই থেকে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে টিকার যে বাজার, সেখানে কিন্তু কেউ সরাসরি বিক্রি করছে না। আমরা প্রথম দিন থেকেই পৃথিবীর সব জায়গায় চেষ্টা করেছি। তখন আমাদের কাছে যে অপশনটা ছিলো সেটা আমরা গ্রহন করেছি। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কম দামেই কিন্তু সেটা আমরা পেয়েছিলাম।

‘অরটারনেটিভ সোর্সের জন্য আমরা দিনরাত খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, চীন সহ সব দেশে আমাদের রাষ্ট্রদূতেরা যোগাযোগ করে চলেছে। আমরাও যোগাযোগ করছি। এখন কয়েকটা দেশের সাথে আমাদের কথাও হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করছি দ্রুত আমরা টিকা পাবো।’

মুখ্যসচিব বলেন, ‘আমরা প্রথমে যে তালিকাটা করেছিলাম, সেখানে যারা ক্রিটিক্যাল ছিলেন তাদের কিন্তু টিকা দেয়া হয়ে গেছে। প্রায়ই শোনা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টিকা দিয়েছে বা দিচ্ছে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি।

‘আমরা সব ভাবেই চেষ্টা করছি। কিন্তু যার কাছে আছে, সে যদি বিক্রি না করেন তাহলে কি করার আছে?’

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। করোনা শনাক্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর ঘটনা ওঠানামা করছে প্রতিদিনই। এরই মাঝে টিকাস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেছে গণটিকা। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শনিবার থেকে গণটিকা ফের চালু করার ব্যাপারে আশাবাদ জানিয়েছিলেন।

এদিকে টিকার সংকটকালে চীন উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে চলতি সপ্তাহেই দিয়েছে সিনোফার্মের করোনা প্রতিরোধী ৬ লাখ ডোজ টিকা। এর এক মাস আগে ৫ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছিল চীন, যা ১২ মে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। সব ডোজই চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত বিবিআইবিপি-করভি টিকার।

বাংলাদেশ প্রথমে করোনার অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহারের পক্ষে ছিল। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে।

প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। কেনা টিকার বাইরে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকেও আসার কথা ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টিকা। পরে জানানো হয় আরও বেশি আসবে। কিন্তু সেখান থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

চলতি মাসের প্রথম দিন কোভ্যাক্স থেকে মাত্র ১ লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা এসেছে দেশে। এই পরিস্থিতিতে টিকাস্বল্পতায় বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিই বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে।

এমন অবস্থায় টিকার বিকল্প উৎস হিসেবে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চীন থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি টিকা কেনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুটি দেশের টিকা দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

দেশে করোনার উর্ধ্বমুখীতার মধ্যে আবারও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে কী-না- জানতে চাইলে মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘সারা দেশে একসঙ্গে আর লকডাউনের পরিকল্পনা আপাতত নেই। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে প্রশাসন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরও পড়ুন:
কলকাতায় কালো ছত্রাকে এক নারীর মৃত্যু
কালো ছত্রাক মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: মোদি
ভারতে ‘কালো ছত্রাক’ মহামারি

শেয়ার করুন