করোনার ভারতীয় ধরন নিয়ে সীমান্তে শঙ্কা

করোনার ভারতীয় ধরন নিয়ে সীমান্তে শঙ্কা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা। এ জেলা থেকেই বেশি রোগী আসছে। সীমান্ত এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি। এ কারণে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ভারতীয় ধরন ঢুকে পড়ল কিনা তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।’

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরনে আক্রান্ত রোগী অবাধে ঢুকে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ঢুকে পড়েছে কিনা, এমন প্রশ্ন এখন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের। ঈদের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বেশ কিছু করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে অনেকাংশে।

ভারতীয় ধরনের অস্তিত্ব নিশ্চিত হতে ৪২ জনের নমুনা ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বাড়তি তৎপরতা শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

চলতি মাসের শুরুর দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা রোগী তেমন একটা শনাক্ত হয়নি। তবে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কয়েকদিনে আক্রান্তের হার।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর জানিয়েছে, জেলায় চলতি মাসে ২২ দিনে ২৫৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মে মাসের প্রথম তিন দিনে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে ৪ মে ৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ৬ মে কেউ শনাক্ত না হলেও ৭ মে ১৫ জনের করোনা ধরা পড়ে। ৮ মে এক জন, ৯ মে পাঁচ জন, ১০ মে এক জন, ১১ মে ১০ জন, ১২ মে ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ১৩ মে কেউ আক্রান্ত হননি। ১৪ মে ১১ জন, ১৫ মে দুই জন, ১৬ মে ১৬ জন, ১৭ মে ১০ জন, ১৯ মে ২৯ জন, ২০ মে ছয় জনের করোনা শনাক্ত হয়। ২১ মে ৭৩ জনের করোনা ধরা পড়ে। ২২ মে আক্রান্ত হন চার জন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে যেসব করোনা রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের অর্ধেকই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা। আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগীদের একটি বড় অংশই সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তাদের কেউ কেউ সম্প্রতি ভারত থেকে এসেছেন কিনা বা করোনার ভারতীয় ধরন বহন করছেন কিনা, তা নির্ণয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।

সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে সম্প্রতি ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত আনা শুরু হয়। এদের মধ্যে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ২১ মে হাসপাতালে ১৩৬ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে ৬৬ জনের বাড়িই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আইসিইউতে ভর্তি ১২ রোগীর মধ্যে আট জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের। হঠাৎ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগী বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা। এ জেলা থেকেই বেশি রোগী আসছে। সীমান্ত এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি। এ কারণে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ভারতীয় ধরন ঢুকে পড়ল কিনা তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের করোনা রোগীর চাপ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এসব রোগীর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুরোপুরি লকডাউনের প্রস্তাব দিয়েছি। সীমান্তে কঠোর কড়াকড়িরও দরকার।’

হঠাৎ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ায় কারণ সম্পর্কে জেলার সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, ঈদে ঢাকা থেকে আসা মানুষই ছড়িয়েছে করোনা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে অনিহার কারণে এমনটা হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জে রোগী বেশি বলা হলেও আসলে সদর উপজেলায় রোগী বেশি, এরপর শিবগঞ্জে। সদর উপজেলায় ৮৪ জন, শিবগঞ্জে ৫০ জন, নাচোলে ৪১, গোমস্তাপুরে ২০ ও ভোলাহাটে ৩ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৯৮ জন।

সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন পর্যন্ত ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি। আর ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের সীমান্ত বন্ধই ছিল। গত তিন দিনে ভারত থেকে ৩৭ বাংলাদেশি ফিরে এসেছেন। তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এন্টিজেন টেস্ট করার পর তাদের করোনা নেগেটিভ এসেছে।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আছে কিনা জানতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতফেরতসহ ৪২ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠিয়েছি। রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। মূলত রোগী বেড়েছে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য, সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে আসার খুব বেশি সুযোগ নেই।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আমীর হোসেন মোল্লা বলেন, ‘চাষাবাদসহ বিভিন্ন কাজে এ দেশের মানুষের সীমান্তবর্তী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বা আত্মীয়তা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করি, তারা যেন বাংলাদেশে না আসে। আমরা সাধারণত চোরাচালান রোধেই চেষ্টা করি। এখন করোনার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সীমান্তের অধিবাসীদের করোনা ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে কাজ চলছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা আমীর হোসেন।

রাজশাহীতে বিজিবি-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সাব্বির আহমেদ জানান, সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে। যেসব এলাকায় কাঁটাতার নেই সেখান দিয়ে কেউ যেন সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সেটি কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮, শনাক্ত হাজার
ভারতে সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে শনাক্ত আড়াই লাখ
আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা
করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫০৪
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬ চীনা শ্রমিকের করোনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার মজুত নিয়ে সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার মজুত নিয়ে সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

কোভ্যাক্স কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাদাগাস্কারে পৌঁছানো করোনা প্রতিরোধী টিকার চালান। ছবি: এএফপি

কোভ্যাক্সের তালিকাভুক্ত স্বল্প আয়ের ৮০টি দেশের অর্ধেকেই টিকা কার্যক্রম সচল রাখার মতো পর্যাপ্ত টিকা নেই। গত কয়েক দিনে টিকার মজুত শেষের দিকে বলে জানানো দেশগুলোর অন্যতম উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ-টোবাগো।

বেশিরভাগ দরিদ্র দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার মজুত শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, টিকা কার্যক্রম চালু রাখার মতো পর্যাপ্ত ডোজ নেই দেশগুলোর।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ তালিকায় আছে বাংলাদেশও।

করোনার বিস্তার রোধে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে কোভ্যাক্স কর্মসূচি পরিচালনা করছে জাতিসংঘ। এর আওতায় মোট জনসংখ্যার তুলনায় স্বল্প পরিমাণে কিছু ডোজ পৌঁছেছে বিশ্বের শতাধিক দেশে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড. ব্রুস আইলওয়ার্ড জানান, কোভ্যাক্স থেকে এ পর্যন্ত ১৩১টি দেশে ৯ কোটি ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যে পরিমাণ জনগোষ্ঠীর জন্য অবিলম্বে টিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার, তার ধারেকাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

কোভ্যাক্সের তালিকাভুক্ত স্বল্প আয়ের ৮০টি দেশের অর্ধেকেই টিকা কার্যক্রম সচল রাখার মতো পর্যাপ্ত ডোজ নেই।

গত কয়েক দিনে টিকার মজুত শেষের দিকে বলে জানানো দেশগুলোর অন্যতম উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ-টোবাগো।

ড. আইলওয়ার্ড বলেন, ‘এসব দেশ থেকে প্রতিদিনের পাওয়া তথ্যের দিকে তাকালে আমরা দেখছি, অর্ধেকের বেশি দেশে মজুত শেষ। তারা বারবার আরও টিকার জন্য আকুতি জানাচ্ছে। বাস্তবতা হলো এই যে, অতিরিক্ত কিছু টিকা নিশ্চিত করা গেলেও তাতেও সংকট মিটবে না।’

টিকার ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হয়ে কিছু দেশ বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডোজ কেনার মতো বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ড. আইলওয়ার্ড।

তিনি জানান, এমন পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হতে পারে দেশগুলোর জন্য।

গত বছর চালু হওয়া কোভ্যাক্স কর্মসূচির অধীনে ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে ভর্তুকি আদায়ের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা সহজলভ্য করার চেষ্টা চলছে। জাতিসংঘ, ডব্লিউএইচওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃত্বে চলমান এ কর্মসূচি।

কোভ্যাক্সের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দরিদ্র দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ ২০০ কোটি ডোজ টিকা পাঠানো। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এসব দেশের কমপক্ষে ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা সুরক্ষা দেয়ার আশা করা হচ্ছিল।

কিন্তু উৎপাদনে বিলম্ব, সরবরাহে বিঘ্নের মতো কারণে টিকার বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে টিকা কর্মসূচির জন্য পুরোপুরি কোভ্যাক্সনির্ভর দেশগুলোতে ডোজের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আফ্রিকা মহাদেশে মহামারির তৃতীয় ধাক্কা শুরুর মধ্যেই নতুন করে টিকার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এলো।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সোমবার ধনী দেশগুলোকে টিকা মজুতের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। দেশটিতে সম্প্রতি ব্যাপক হারে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ।

রামাফোসা বলেন, পুরো আফ্রিকায় মাত্র ৪ কোটি মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন, যা মহাদেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ২ শতাংশও নয়। এ অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি আঞ্চলিক টিকা উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে কোভ্যাক্সের সঙ্গে কাজ করছে তার সরকার।

টিকার ঘাটতি কমাতে কোভ্যাক্সসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের উদ্বৃত্ত টিকা বিনা মূল্যে দরিদ্র দেশগুলোকে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ।

সাড়ে ৫ কোটি ডোজ বণ্টনের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। দেশটি জানিয়েছে, ৪ কোটি ১০ লাখ ডোজ বণ্টন করা হবে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। বাকি ১০ কোটি ৪০ লাখ ডোজ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির সাত দেশের জোট জি সেভেন চলতি বছর দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর মধ্যে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আরও ৫০ কোটি ডোজ দেয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮, শনাক্ত হাজার
ভারতে সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে শনাক্ত আড়াই লাখ
আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা
করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫০৪
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬ চীনা শ্রমিকের করোনা

শেয়ার করুন

করোনায় আরেক ডাক্তারের মৃত্যু

করোনায় আরেক ডাক্তারের মৃত্যু

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা.কে এম সাইফুল ইসলাম ডেভিড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিএমএ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. কে এম সাইফুল ইসলাম ডেভিড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

সোমবার ভোররাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে বা ভাইরাসপরবর্তী জটিলতায় মারা যাওয়া চিকিৎসকদের তালিকায় নতুন করে নাম উঠল ডা. ডেভিডের।

ডা. ডেভিড জয়পুরহাট পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দেবীপুর-কাজীপাড়া এলাকার মৃত সোলায়মান আলীর ছেলে।

তার ভাতিজা ইমরুল কায়েস জানান, ডা. ডেভিড গত ১০ জুন করেনায় আক্রান্ত হয়ে তার বর্তমান কর্মস্থল বগুড়া টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছিলেন।

অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ডা. ডেভিডের অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে অক্সিজেন ছাড়াই ছিলেন তিনি। গত রাত থেকে আবারও তার অবস্থার অবনতি হয়। ভোররাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

করোনায় মৃত এ চিকিৎসক স্ত্রী ও ২ ছেলে রেখে গেছেন।

তার সহকর্মী ডা. আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করে জানান, তিনি জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহণের পর বগুড়ার বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কাজ করেছেন।

বিএমএ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮, শনাক্ত হাজার
ভারতে সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে শনাক্ত আড়াই লাখ
আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা
করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫০৪
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬ চীনা শ্রমিকের করোনা

শেয়ার করুন

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, শনাক্ত ৪৬৩৬, মৃত্যু ৭৮

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, শনাক্ত ৪৬৩৬, মৃত্যু ৭৮

দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৬ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ হাজার।

সোমবার সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জনের, আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ হাজার ৬৪১ জন।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫২৮ ল্যাবে ২৪ হাজার ৫৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে আক্রান্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। রোববার এই হার ছিল ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এক দিনের হিসাবে এর চেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছিল গত ১৪ এপ্রিল, ৫১৮৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এই সময়ে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। আগের দিন মৃতের সংখ্যা ছিল ৮২।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৬ জনের।

করোনা থেকে গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৮২৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮২ জন। সুস্থতার হার ৯১.৭৩ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৫৬ জন পুরুষ, ২২ জন নারী। তাদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ৭, চল্লিশোর্ধ্ব ৮, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২৩ ও ষাটোর্ধ্ব ৩৯ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, ১৫ জন। এ ছাড়া, খুলনা বিভাগে ১৪, বরিশালে ৩, সিলেটে ২, রংপুরে ৯ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮, শনাক্ত হাজার
ভারতে সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে শনাক্ত আড়াই লাখ
আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা
করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫০৪
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬ চীনা শ্রমিকের করোনা

শেয়ার করুন

বাবা হারালেন স্বাস্থ্যসচিব

বাবা হারালেন স্বাস্থ্যসচিব

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়ার বাবা আলহাজ মোজাম্মেল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়ার বাবা আলহাজ মোজাম্মেল হোসেন সোমবার ভোররাতে ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান জানান, মোজাম্মেল হোসেন সোমবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে মারা গেছেন। তিনি ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮, শনাক্ত হাজার
ভারতে সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে শনাক্ত আড়াই লাখ
আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা
করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫০৪
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬ চীনা শ্রমিকের করোনা

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে এক দিনে ১৩ মৃত্যু, ৯ জনই নারী

রাজশাহীতে এক দিনে ১৩ মৃত্যু, ৯ জনই নারী

রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে সোমবার ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকি ৭ জন মারা যান উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক দিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৯ জন নারী; ৪ জন পুরুষ।

রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকি ৭ জন মারা যান উপসর্গ নিয়ে। তবে এদের মধ্যে ১ জন করোনা নেগেটিভও হয়েছিলেন।

এ নিয়ে চলতি মাসে ২১ দিনে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২১৬ জন।

এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১১২ জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন।

রামেক হাসপাতালের প্রতিবেদনে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন, রাজশাহী ও নাটোরের ৩ জন করে এবং নওগাঁর ১ জন।

এদিকে, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তিও বেড়েছে।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টা এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬২ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ৫৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৪ জন। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৩৮ জন। রোববার সকালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৩৭৭ জন। সোমবার সকালে সেটি বেড়ে হয়েছে ৪০২ জন।

রোববার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৫৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ২৪৫ জনের।

রাজশাহীর ৪৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২০৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৮ জনের পজিটিভ এসেছে। এ ছাড়াও নাটোরে ১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ এসেছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮, শনাক্ত হাজার
ভারতে সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে শনাক্ত আড়াই লাখ
আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা
করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫০৪
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬ চীনা শ্রমিকের করোনা

শেয়ার করুন

খুলনায় ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু

খুলনায় ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু

খুলনায় করোনায় এক দিনে ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু। ছবি: নিউজবাংলা

বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাজী মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে করোনায় ৪ জন মারা গেছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৭৪ জন। যার মধ্যে আইসিইউতে ৪, এইচডিইউতে ৫ জন রয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন।

খুলনায় তিন হাসপাতালে এক দিনে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এর মধ্যে করোনায় ৯ জন ও উপসর্গে ১ জন মারা যান।

মৃত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনেরই বাড়ি খুলনা। বাকি ৩ জন যশোর ও ১ জন বাগেরহাটের।

সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, ১৩০ শয্যার করোনা হাসপাতালে সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৬১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। যার মধ্যে রেড জোনে ১০২ জন, ইয়ালো জোনে ২০ জন, এইচডিইউতে ১৯ জন ও আইসিইউতে ২০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। মারা গেছেন ৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন।

২৫০ জেনারেল হাসপাতালে মুখপাত্র ডা. রাশেদ জানান, ৭০ শয্যার করোনা হাসপাতালে করোনায় ১ জন মারা গেছেন। ভর্তি রয়েছেন ১৪ জন।

বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাজী মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে করোনায় ৪ জন মারা গেছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৭৪ জন।

যার মধ্যে আইসিইউতে ৪, এইচডিইউতে ৫ জন রয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন।

খুলনা করোনা হাসপাতালের সমন্বয়ক মেহেদি নেওয়াজ জানান, ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৬৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮, শনাক্ত হাজার
ভারতে সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে শনাক্ত আড়াই লাখ
আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা
করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫০৪
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬ চীনা শ্রমিকের করোনা

শেয়ার করুন

দেশে ফাইজারের টিকা প্রথম নিলেন মুন্না

দেশে ফাইজারের টিকা প্রথম নিলেন মুন্না

দেশে ফাইজারের টিকার প্রথম গ্রহীতা রাহাত চৌধুরী মুন্না। ছবি: নিউজবাংলা

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেয়ার পর রাহাত চৌধুরী মুন্নার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি জানান, এপ্রিলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা পেতে নিবন্ধন করেছিলেন তিনি। সিরামের টিকা শেষ হওয়ার কারণে এত দিন অপেক্ষায় ছিলেন। পরে গত রাতে এসএমএস আসে টিকা নেয়ার জন্য।

দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা প্রথম নিয়েছেন রাহাত চৌধুরী মুন্না। তার বয়স ৪৬ বছর।

তিনি একজন ব্যবসায়ী। থাকেন রাজধানীর মালিবাগে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে সোমবার সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে মুন্নাকে টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

দেশে প্রয়োগ করা হবে ফাইজারের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান শুরু হওয়ার সময় বাংলাদেশে প্রথম টিকা নেন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা। এরপর দেশে ব্যবহার হওয়া দ্বিতীয় টিকা চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-করভি দেয়া শুরু হয় ২৫ মে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতা প্রথম এই টিকা নেন।

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেয়ার পর রাহাত চৌধুরী মুন্নার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

তিনি জানান, এপ্রিলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা পেতে নিবন্ধন করেছিলেন তিনি। সিরামের টিকা শেষ হওয়ার কারণে এত দিন অপেক্ষায় ছিলেন। পরে গত রাতে এসএমএস আসে টিকা নেয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় যেভাবে টিকা নিয়েছেন, সেভাবেই টিকা দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব হয়নি।’

মুন্না বলেন, ‘ফাইজারের টিকা প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নিতে পেরে আনন্দ অনুভব করছি। টিকা নেয়ার পর এখন কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।

‘টিকা দেওয়া স্থানে এখনও ব্যথা অনুভব করছি না। ভালো লাগছে; শরীরেও কোনো ব্যথা অনুভূত করছি না।’

টিকা নেয়ার পর ৩০ মিনিট বিশ্রাম নেন মুন্না। পরে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর তিন হাসপাতালে সকাল সাড়ে ৯টার পর শুরু হওয়া টিকাদান কার্যক্রম চলবে বেলা ৩টা পর্যন্ত। তিন হাসপাতলের প্রতি কেন্দ্রে ১২০ জন করে মোট ৩৬০ জনকে সোমবার টিকা দেয়া হবে।

বাংলাদেশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকা শুরু করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা টিকা দিয়ে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা কেনার চুক্তি হয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ।

তবে রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৭০ লাখ দেয়ার পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি। এ অবস্থায় অন্য দেশ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আর ফাইজারের কিছু টিকা পাওয়া গেছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, কার্যকারিতার দিক থেকে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড, সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি, রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির মতো ফাইজারের টিকাও নিতে হয় দুই ডোজ করে।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশে করোনার টিকা নিশ্চিতের প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের এই টিকা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এই টিকার দাম তুলনামূলক বেশি। আর এর কার্যকারিতাও বেশি। এ কারণে এই টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে।

ফাইজারের টিকা সারা দেশে পরিবহন করার মতো কোল্ড চেইন সিস্টেম না থাকায় এগুলো মূলত রাজধানীতেই দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফাইজারের টিকা অবশ্যই মাইনাস ৬০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৩৮, শনাক্ত হাজার
ভারতে সর্বোচ্চ পরীক্ষার দিনে শনাক্ত আড়াই লাখ
আরও ২ ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ: গবেষণা
করোনায় আরও ২৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১৫০৪
খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬ চীনা শ্রমিকের করোনা

শেয়ার করুন