ভারতে এবার কালো ছত্রাক মহামারি

মধ্য প্রদেশে জবলপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে মিউকরমাইকোসিস বা কালো ছত্রাকে আক্রান্ত এই রোগীর চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ছবি: এএফপি

ভারতে এবার কালো ছত্রাক মহামারি

মহারাষ্ট্রে এ পর্যন্ত মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি রোগী, যাদের ৯০ জনই মারা গেছেন। বাকিদের বেশিরভাগই বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন এক বা দুটি চোখই। জীবন বাঁচাতে অনেকের চোয়ালও অস্ত্রোপচার করে ফেলে দিতে হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কার মধ্যেই নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভারত। ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীদের মধ্যে বাড়ছে প্রাণঘাতী কালো ছত্রাকের সংক্রমণ। অবস্থার ভয়াবহতায় বিভিন্ন রাজ্যে নেয়া হচ্ছে জরুরি ব্যবস্থা।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ু, গুজরাট, ওড়িশা ও চন্ডিগড়ে মিউকরমাইকোসিস মহামারি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকারগুলো।

এর আগে মহামারি রোগ আইন ১৮৯৭ অনুযায়ী সতর্কতামূলক রোগ বিবেচনায় সব রাজ্য ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে কালো ছত্রাক মহামারি পরিস্থিতি জারির আহ্বান জানায় কেন্দ্রীয় সরকার।

একই সঙ্গে রাজ্য ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোর সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে কালো ছত্রাকের সব সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগীর তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

ভারতে করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীদের মধ্যে কালো ছত্রাক সংক্রমণের প্রবণতা সম্প্রতি প্রথম জানায় মহারাষ্ট্র। এরপর গত এক মাসে কর্ণাটক, উত্তরাখণ্ড, তেলেঙ্গানা, মধ্য প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে একই খবর আসতে থাকে কেন্দ্রের কাছে।

মহারাষ্ট্রে এ পর্যন্ত মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি রোগী, যাদের ৯০ জনই মারা গেছেন। বাকিদের বেশিরভাগই বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন এক বা দুটি চোখই। জীবন বাঁচাতে অনেকের চোয়ালও অস্ত্রোপচার করে ফেলে দিতে হয়েছে। এদের সবাই করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠেছিলেন।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হরিয়ানা এ ধরনের ২২৬ রোগী এবং তেলেঙ্গানা ৯০ জনের মিউকরমাইকোসিসের তথ্য নিশ্চিত করেছে। গুজরাট আর মধ্য প্রদেশেও বাড়ছে এ সংখ্যা।

রোগের ব্যাপকতায় চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে অনেক জায়গায়।

মিউকরমাইকোসিস বা কালো ছত্রাকের সংক্রমণ কী

মিউকরমাইকোসিস খুবই বিরল একটি রোগ। সাধারণত ‘মিউকর মোল্ড’ জাতীয় এক ধরনের শ্লেষ্মার সংস্পর্শে এলে রোগটি হয়।

এই শ্লেষ্মার দেখা মেলে মূলত মাটি, গাছ, সার, পচে যাওয়া ফল-সবজিতে, যা সবকিছুতেই ছড়াতে পারে। মাটি ও বাতাসের মাধ্যমে নাক হয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষকেও আক্রান্ত করতে পারে এটি।

নাক, কপাল ও গালের পেছন আর দুই চোখের মাঝখানে অবস্থিত সাইনাস বা ‘এয়ার পকেট’, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে ছড়ায় এটি। ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও এইডসে আক্রান্ত বা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল, এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রাণঘাতীও হতে পারে এই মিউকরমাইকোসিস।

বিরল এ রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৫০ শতাংশের বেশি।

ভারতে মিউকরমাইকোসিসের ব্যাপকতা

গত ৯ মে বিবিসিতে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখান থেকে জানা যায়, ভারতে করোনাভাইরাসের অন্যতম কেন্দ্রস্থল মুম্বাইয়ের তিনটি হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন ড. নায়ার। তিনি এপ্রিল থেকে মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত কমপক্ষে ৪০ জন রোগী পেয়েছেন, যাদের ১১ জনের চোখই ফেলে দিতে হয়েছে অস্ত্রোপচার করে।

এর আগে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, দিল্লি ও পুনেতে তার ছয় সহকর্মী মিউকরমাইকোসিসের ৫৮ জন রোগী পেয়েছেন। এদের বেশিরভাগই করোনা নেগেটিভ হওয়ার ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন।

ভারতে এবার কালো ছত্রাক মহামারি
জবলপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে কালো ছত্রাকে আক্রান্ত এক রোগী। ছবি: এএফপি

গত দুই মাসে মুম্বাইয়ের সিয়ন হাসপাতালে এ ধরনের ২৪ জন রোগী এসেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান ড. রেনুকা ব্রাদু। এদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন এবং ১১ জনের চোখ ফেলে দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই রোগীদের বেশিরভাগই মধ্যবয়স্ক এবং করোনা থেকে সেরে ওঠার দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে এমন দুই-তিনজন করে রোগী পাচ্ছি আমরা। মহামারির এই দুঃসময়ে নতুন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রোগ।’

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেঙ্গালুরুর চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. রঘুরাজ হেগড়ে জানান, গত দুই সপ্তাহে মিউকরমাইকোসিসের ১৯ জন রোগী দেখেছেন তিনি। সবাই বয়সে তরুণ। অনেকে এতই অসুস্থ ছিলেন যে তাদের অস্ত্রোপচার করাও সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘গত মাসে মিউকরমাইকোসিসের সবচেয়ে কম বয়সী রোগী পেয়েছি আমি। মাত্র ২৭ বছর বয়স তার। ডায়াবেটিসও ছিল না। পরের সপ্তাহেই তার চোখ ফেলে দিতে হয়েছে। পুরো বিষয়টি ভীষণ হতাশাজনক।’

মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কা চলমান থাকার মধ্যেই ছত্রাক সংক্রমণের ভয়াবহতায় বিস্মিত চিকিৎসকরা। গত বছর প্রথম ধাক্কাতেও মিউকরমাইকোসিসের এমন ব্যাপকতা ছিল না।

ড. নায়ার জানান, এর আগে গত দুই বছরে মিউকরমাইকোসিসের ১০ জন রোগীও পাননি।

তিনি বলেন, ‘এ বছরটি সত্যিই অন্যরকম।’

১০ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা ড. হেগড়ে জানান, এর আগে বছরে গড়ে সর্বোচ্চ এক বা দুইজন মিউকরমাইকোসিসের রোগী পেতেন তিনি।

করোনার সঙ্গে মিউকরমাইকোসিসের সম্পর্ক কী

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের প্রাণ বাঁচাতে স্টেরয়েডের ব্যবহারের ফলে মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে যেসব হরমোন নিঃসরণ হয়, সেগুলোর মানবসৃষ্ট সংস্করণ হলো স্টেরয়েড।

করোনাভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ওষুধ এখন পর্যন্ত উদ্ভাবন হয়নি। এতে গুরুতর অসুস্থ হচ্ছে যারা, তাদের ফুসফুসে প্রদাহ কমাতে নানা ধরনের রাসায়নিকের সমন্বয়ে তৈরি স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের ফলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ক্ষতিও কমাতে সহায়ক স্টেরয়েড। কিন্তু একই সঙ্গে এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে এবং ডায়াবেটিস আছে বা নেই এমন সব রোগীর রক্তেই শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

ধারণা করা হচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যধিক দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে মিউকরমাইকোসিসের রোগী বাড়ছে। ডায়াবেটিসের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে, করোনাভাইরাস যা আরও বাড়িয়ে তোলে।

এর ওপর করোনার চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার করা তা অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে।

মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হচ্ছেন কারা

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, মূলত করোনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন নিয়েছেন যেসব রোগী, তারাই মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ভারতে এবার কালো ছত্রাক মহামারি
ভারতের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এক করোনা রোগী। ছবি: এএফপি

কারণ অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে বাতাসে আর্দ্রতা রক্ষায় হিউমিডিফায়ার যন্ত্রের ব্যবহার আবশ্যক। আর অতি আর্দ্রতা ছত্রাক জন্মাতে সাহায্য করে।

করোনা রোগীদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত কিংবা স্টেরয়েড প্রয়োগে শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে, হাসপাতাল বা আইসিইউতে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন কিংবা ছত্রাকের গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসা হিসেবে ভোরিকোনাজল থেরাপি নিয়েছেন, তারাই আক্রান্ত হচ্ছেন মিউকরমাইকোসিসে।

মিউকরমাইকোসিসের লক্ষণ

কালো ছত্রাকে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক উপসর্গ হলো সর্দি, নাক বন্ধ থাকা ও নাক থেকে রক্ত পড়া। ধীরে ধীরে চোখ ফুলে ওঠে, চোখে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, চোখের পাতা ঝুলে পড়ে। দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে হতে শেষ পর্যন্ত চলেই যায়। অনেক সময় নাকের আশপাশের ত্বকে কালো দাগও দেখা যায়।

চিকিৎসকরা জানান, বেশিরভাগ রোগীই দেরিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ততদিনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন তারা। তখন মস্তিষ্ক বাঁচাতে চোখ ফেলে দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

ভারতের চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর দুই চোখই ফেলে দিতে হচ্ছে। এমনকি রোগ ছড়ানো বন্ধে কয়েকজন রোগীর চোয়ালের হাড়ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফেলে দিতে হয়েছে।

ব্যয়বহুল চিকিৎসা

কালো ছত্রাকের বিরুদ্ধে কার্যকর একমাত্র ওষুধ শিরায় প্রদেয় একটি ইনজেকশন। এর একেকটির দাম প্রায় ৪৮ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে তিন হাজার রুপি।

রোগীকে টানা আট সপ্তাহ প্রতিদিন নিতে হয় এ ইনজেকশন।

বিরল এ রোগ হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে ওষুধের ঘাটতি। সংকট নিরসনে ভারতে নতুন অনেক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানকে ওষুধটির অনুমোদন দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো এসব ওষুধের উৎপাদন এর মধ্যেই বাড়িয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ১ দিনে সাড়ে ২০ লাখ নমুনা পরীক্ষা
বাতাসে ভাসা করোনা রুখতে ভারত সরকারের নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকার মজুত নিয়ে সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

টিকার মজুত নিয়ে সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

কোভ্যাক্স কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাদাগাস্কারে পৌঁছানো করোনা প্রতিরোধী টিকার চালান। ছবি: এএফপি

কোভ্যাক্সের তালিকাভুক্ত স্বল্প আয়ের ৮০টি দেশের অর্ধেকেই টিকা কার্যক্রম সচল রাখার মতো পর্যাপ্ত টিকা নেই। গত কয়েক দিনে টিকার মজুত শেষের দিকে বলে জানানো দেশগুলোর অন্যতম উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ-টোবাগো।

বেশির ভাগ দরিদ্র দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার মজুত শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, টিকা কার্যক্রম চালু রাখার মতো পর্যাপ্ত ডোজ নেই দেশগুলোর।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ তালিকায় আছে বাংলাদেশও।

করোনার বিস্তার রোধে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে কোভ্যাক্স কর্মসূচি পরিচালনা করছে জাতিসংঘ। এর আওতায় মোট জনসংখ্যার তুলনায় স্বল্প পরিমাণে কিছু ডোজ পৌঁছেছে বিশ্বের শতাধিক দেশে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড. ব্রুস আইলওয়ার্ড জানান, কোভ্যাক্স থেকে এ পর্যন্ত ১৩১টি দেশে ৯ কোটি ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যে পরিমাণ জনগোষ্ঠীর জন্য অবিলম্বে টিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার, তার ধারেকাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

কোভ্যাক্সের তালিকাভুক্ত স্বল্প আয়ের ৮০টি দেশের অর্ধেকেই টিকা কার্যক্রম সচল রাখার মতো পর্যাপ্ত ডোজ নেই।

গত কয়েক দিনে টিকার মজুত শেষের দিকে বলে জানানো দেশগুলোর অন্যতম উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ-টোবাগো।

ড. আইলওয়ার্ড বলেন, ‘এসব দেশ থেকে প্রতিদিনের পাওয়া তথ্যের দিকে তাকালে আমরা দেখছি, অর্ধেকের বেশি দেশে মজুত শেষ। তারা বারবার আরও টিকার জন্য আকুতি জানাচ্ছে। বাস্তবতা হলো এই যে, অতিরিক্ত কিছু টিকা নিশ্চিত করা গেলেও তাতেও সংকট মিটবে না।’

টিকার ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হয়ে কিছু দেশ বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডোজ কেনার মতো বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ড. আইলওয়ার্ড।

তিনি জানান, এমন পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হতে পারে দেশগুলোর জন্য।

গত বছর চালু হওয়া কোভ্যাক্স কর্মসূচির অধীনে ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে ভর্তুকি আদায়ের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা সহজলভ্য করার চেষ্টা চলছে। জাতিসংঘ, ডব্লিউএইচওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃত্বে চলমান এ কর্মসূচি।

কোভ্যাক্সের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দরিদ্র দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ ২০০ কোটি ডোজ টিকা পাঠানো। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এসব দেশের কমপক্ষে ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা সুরক্ষা দেয়ার আশা করা হচ্ছিল।

কিন্তু উৎপাদনে বিলম্ব, সরবরাহে বিঘ্নের মতো কারণে টিকার বণ্টন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে টিকা কর্মসূচির জন্য পুরোপুরি কোভ্যাক্সনির্ভর দেশগুলোতে ডোজের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আফ্রিকা মহাদেশে মহামারির তৃতীয় ধাক্কা শুরুর মধ্যেই নতুন করে টিকার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এলো।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সোমবার ধনী দেশগুলোকে টিকা মজুতের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। দেশটিতে সম্প্রতি ব্যাপক হারে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ।

রামাফোসা বলেন, পুরো আফ্রিকায় মাত্র ৪ কোটি মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন, যা মহাদেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ২ শতাংশও নয়। এ অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি আঞ্চলিক টিকা উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে কোভ্যাক্সের সঙ্গে কাজ করছে তার সরকার।

টিকার ঘাটতি কমাতে কোভ্যাক্সসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের উদ্বৃত্ত টিকা বিনা মূল্যে দরিদ্র দেশগুলোকে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ।

সাড়ে ৫ কোটি ডোজ বণ্টনের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। দেশটি জানিয়েছে, ৪ কোটি ১০ লাখ ডোজ বণ্টন করা হবে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। বাকি ১০ কোটি ৪০ লাখ ডোজ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির সাত দেশের জোট জি সেভেন চলতি বছর দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর মধ্যে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আরও ৫০ কোটি ডোজ দেয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের।

আরও পড়ুন:
ভারতে ১ দিনে সাড়ে ২০ লাখ নমুনা পরীক্ষা
বাতাসে ভাসা করোনা রুখতে ভারত সরকারের নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

রামেকে ১৩ মৃত্যু, রাজশাহীরই ১২

রামেকে ১৩ মৃত্যু, রাজশাহীরই ১২

ফাইল ছবি

রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, মৃত ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) করোনা ইউনিটে একদিনে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, মৃত ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তিনি আরও জানান, মৃতদের মধ্যে ১২ জনের বাড়িই রাজশাহীতে আর ১ জন নাটোরের। অধিকাংশরই বয়স ৬১ বছরের উপরে।

সোমবারও হাসপাতালটিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১১৭ জন। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃত ১৩ জনের মধ্যে ৯ জনের বয়সই ৬১ বছরের উপরে। এর মধ্যে ৭ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী। এ ছাড়া ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে একজন মারা গেছেন।

এদিকে হাসপাতালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি সামান্য কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ৬২ জন। সোমবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬১ জন।

সোমবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৪৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ১ দিনে সাড়ে ২০ লাখ নমুনা পরীক্ষা
বাতাসে ভাসা করোনা রুখতে ভারত সরকারের নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

করোনায় আরেক ডাক্তারের মৃত্যু

করোনায় আরেক ডাক্তারের মৃত্যু

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা.কে এম সাইফুল ইসলাম ডেভিড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিএমএ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. কে এম সাইফুল ইসলাম ডেভিড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

সোমবার ভোররাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে বা ভাইরাসপরবর্তী জটিলতায় মারা যাওয়া চিকিৎসকদের তালিকায় নতুন করে নাম উঠল ডা. ডেভিডের।

ডা. ডেভিড জয়পুরহাট পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দেবীপুর-কাজীপাড়া এলাকার মৃত সোলায়মান আলীর ছেলে।

তার ভাতিজা ইমরুল কায়েস জানান, ডা. ডেভিড গত ১০ জুন করেনায় আক্রান্ত হয়ে তার বর্তমান কর্মস্থল বগুড়া টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছিলেন।

অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ডা. ডেভিডের অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে অক্সিজেন ছাড়াই ছিলেন তিনি। গত রাত থেকে আবারও তার অবস্থার অবনতি হয়। ভোররাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

করোনায় মৃত এ চিকিৎসক স্ত্রী ও ২ ছেলে রেখে গেছেন।

তার সহকর্মী ডা. আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করে জানান, তিনি জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহণের পর বগুড়ার বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কাজ করেছেন।

বিএমএ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ১ দিনে সাড়ে ২০ লাখ নমুনা পরীক্ষা
বাতাসে ভাসা করোনা রুখতে ভারত সরকারের নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, শনাক্ত ৪৬৩৬, মৃত্যু ৭৮

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, শনাক্ত ৪৬৩৬, মৃত্যু ৭৮

দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৬ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ হাজার।

সোমবার সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জনের, আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ হাজার ৬৪১ জন।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫২৮ ল্যাবে ২৪ হাজার ৫৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে আক্রান্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। রোববার এই হার ছিল ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এক দিনের হিসাবে এর চেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছিল গত ১৪ এপ্রিল, ৫১৮৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এই সময়ে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। আগের দিন মৃতের সংখ্যা ছিল ৮২।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৬ জনের।

করোনা থেকে গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৮২৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮২ জন। সুস্থতার হার ৯১.৭৩ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৫৬ জন পুরুষ, ২২ জন নারী। তাদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ৭, চল্লিশোর্ধ্ব ৮, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২৩ ও ষাটোর্ধ্ব ৩৯ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, ১৫ জন। এ ছাড়া, খুলনা বিভাগে ১৪, বরিশালে ৩, সিলেটে ২, রংপুরে ৯ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
ভারতে ১ দিনে সাড়ে ২০ লাখ নমুনা পরীক্ষা
বাতাসে ভাসা করোনা রুখতে ভারত সরকারের নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

বাবা হারালেন স্বাস্থ্যসচিব

বাবা হারালেন স্বাস্থ্যসচিব

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়ার বাবা আলহাজ মোজাম্মেল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়ার বাবা আলহাজ মোজাম্মেল হোসেন সোমবার ভোররাতে ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান জানান, মোজাম্মেল হোসেন সোমবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে মারা গেছেন। তিনি ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

আরও পড়ুন:
ভারতে ১ দিনে সাড়ে ২০ লাখ নমুনা পরীক্ষা
বাতাসে ভাসা করোনা রুখতে ভারত সরকারের নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে এক দিনে ১৩ মৃত্যু, ৯ জনই নারী

রাজশাহীতে এক দিনে ১৩ মৃত্যু, ৯ জনই নারী

রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে সোমবার ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকি ৭ জন মারা যান উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক দিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৯ জন নারী; ৪ জন পুরুষ।

রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকি ৭ জন মারা যান উপসর্গ নিয়ে। তবে এদের মধ্যে ১ জন করোনা নেগেটিভও হয়েছিলেন।

এ নিয়ে চলতি মাসে ২১ দিনে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২১৬ জন।

এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১১২ জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন।

রামেক হাসপাতালের প্রতিবেদনে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন, রাজশাহী ও নাটোরের ৩ জন করে এবং নওগাঁর ১ জন।

এদিকে, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তিও বেড়েছে।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টা এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬২ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ৫৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৪ জন। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৩৮ জন। রোববার সকালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৩৭৭ জন। সোমবার সকালে সেটি বেড়ে হয়েছে ৪০২ জন।

রোববার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৫৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ২৪৫ জনের।

রাজশাহীর ৪৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২০৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৮ জনের পজিটিভ এসেছে। এ ছাড়াও নাটোরে ১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ এসেছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ১ দিনে সাড়ে ২০ লাখ নমুনা পরীক্ষা
বাতাসে ভাসা করোনা রুখতে ভারত সরকারের নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

খুলনায় ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু

খুলনায় ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু

খুলনায় করোনায় এক দিনে ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু। ছবি: নিউজবাংলা

বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাজী মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে করোনায় ৪ জন মারা গেছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৭৪ জন। যার মধ্যে আইসিইউতে ৪, এইচডিইউতে ৫ জন রয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন।

খুলনায় তিন হাসপাতালে এক দিনে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এর মধ্যে করোনায় ৯ জন ও উপসর্গে ১ জন মারা যান।

মৃত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনেরই বাড়ি খুলনা। বাকি ৩ জন যশোর ও ১ জন বাগেরহাটের।

সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, ১৩০ শয্যার করোনা হাসপাতালে সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৬১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। যার মধ্যে রেড জোনে ১০২ জন, ইয়ালো জোনে ২০ জন, এইচডিইউতে ১৯ জন ও আইসিইউতে ২০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। মারা গেছেন ৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন।

২৫০ জেনারেল হাসপাতালে মুখপাত্র ডা. রাশেদ জানান, ৭০ শয্যার করোনা হাসপাতালে করোনায় ১ জন মারা গেছেন। ভর্তি রয়েছেন ১৪ জন।

বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাজী মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে করোনায় ৪ জন মারা গেছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৭৪ জন।

যার মধ্যে আইসিইউতে ৪, এইচডিইউতে ৫ জন রয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন।

খুলনা করোনা হাসপাতালের সমন্বয়ক মেহেদি নেওয়াজ জানান, ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৬৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ১ দিনে সাড়ে ২০ লাখ নমুনা পরীক্ষা
বাতাসে ভাসা করোনা রুখতে ভারত সরকারের নির্দেশিকা

শেয়ার করুন