টিকা উৎপাদনের অনুমতি পায়নি ইনসেপ্টা

করোনা প্রতিরোধী টিকা উৎপাদনে দেশের কোনো ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিকে এখনও অনুমতি দেয়া দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

টিকা উৎপাদনের অনুমতি পায়নি ইনসেপ্টা

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একটি সূত্র নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাইতে গঠিত কমিটির ২৫ নম্বরের মধ্যে ২১ নম্বর পেয়েছে ইনসেপ্টা। পাঁচটি পর্যায়ে এই সক্ষমতার বিচারে এই নম্বর দিয়েছে কমিটি। সোমবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করার কথা রয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের।

ওষুধ উৎপাদনকারী দেশীয় কোম্পানি ইনসেপ্টাকে চীনের সিনোফার্মের করোনা প্রতিরোধী টিকা উৎপাদনের অনুমতি দেয়ার সংবাদটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

রোববার রাত আটটার দিকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশের কোনো ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে এখনও পর্যন্ত করোনা টিকা উৎপাদনের অনুমতি দেয়া হয়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একটি সূত্র নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাইতে গঠিত কমিটির ২৫ নম্বরের মধ্যে ২১ নম্বর পেয়েছে ইনসেপ্টা।

পাঁচটি পর্যায়ে এই সক্ষমতার বিচারে এই নম্বর দিয়েছে কমিটি। সোমবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করার কথা রয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের।

সেখানে চীনের সিনোফার্মের করোনা ভ্যাকসিন দেশে উৎপাদনের জন্য ইনসেপ্টাকে অনুমতি দেয়ার বিষয়টি জানানো হতে পারে।

এর আগে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে টিকা উৎপাদনে অনুমতি দেয়া যায় কিনা তার প্রাথমিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ বিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি।

এ ছাড়া, রেনেটা এবং ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার টিকা উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ঔষধ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে।

গত ২ মে রাশিয়াকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে ওরিয়ন ফার্মা। এর দুই দিন পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেই বিষয়টি জানায় তারা।

চীনের টিকার পাশাপাশি রাশিয়ার টিকাও উৎপাদন করতে আগ্রহী পপুলার, হেলথকেয়ার, ইনসেপটা ও রেনাটা। এ জন্য রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগও করেছে কোম্পানিগুলো।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির করোনা টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সরকার বর্তমানে তিন কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করবে। এটা আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।’

করোনা প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রমের শুরু থেকেই ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকার ওপর নির্ভর করে আসছিল বাংলাদেশ।

ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা আনতে গত বছরের ৫ নভেম্বর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে ঢাকা। চুক্তি অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীও।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ছয় ধাপে দেশে ৩ কোটি ডোজ টিকা পৌঁছানোর কথা থাকলেও সিরাম তা পারছে না। দুই ধাপে ৭০ লাখ ডোজ টিকা দিতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি টিকা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।

সিরাম থেকে ৫০ লাখ ডোজের প্রথম চালানটি আসে গত জানুয়ারিতে। ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় চালানে টিকা আসে ২০ লাখ ডোজ। তবে কেনা টিকার বাইরে ভারত সরকার তিন ধাপে বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা। সব মিলিয়ে দেশে টিকার মজুত দাঁড়ায় ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ।

এর মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ টিকা মজুত নিয়ে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় করোনা প্রতিরোধী গণটিকা কার্যক্রম।

গণটিকাদান শুরুর ৭৮ দিনের মাথায় ২৫ এপ্রিল প্রথম ডোজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তত দিনে প্রথম ডোজ প্রয়োগ করা হয় ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৬ জনকে। এদের সবার দ্বিতীয় ডোজ লাগবেই। প্রথম ডোজে যাদের সিরামের টিকা দেয়া হয়েছে, তাদের সবার টিকা নিশ্চিত করতে হলে আরও অন্তত ১৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৯২ ডোজ লাগবে। সরকারের মজুতে সে পরিমাণ টিকা নেই।

ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় টিকার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। সংকট নিরসনে সরকার বিকল্প উৎস থেকে টিকা পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে গত ২৭ এপ্রিল রাশিয়ার মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুৎনিক-ভি ও ২৯ এপ্রিল চীনের সিনোফার্মের টিকাকে জরুরি প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এই দুটি দেশ থেকে টিকা কেনার পাশাপাশি তাদের টিকা দেশে উৎপাদনের প্রযুক্তি নিতে চায়।

সেসব দেশ থেকে টিকা কিনে আনার পাশাপাশি ফর্মুলা গোপন রাখার শর্তে চীন ও রাশিয়ার টিকা দেশেই উৎপাদন করতে চায় সরকার। সরকারের এই কাজে সহযোগিতা করবে দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এক্ষেত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন:
টিকা চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ
ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ ডোজে ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ: গবেষণা
সংকটেও প্রতিবেশীদের টিকা দিতে চায় ভারত
‘২ ডোজ টিকার পরও মাস্ক জরুরি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় মানবাধিকারকর্মীর মৃত্যু

করোনায় মানবাধিকারকর্মীর মৃত্যু

মনিরুজ্জামান। ফাইল ছবি

গত ১৭ জুন মনিরুজ্জামানের করোনা শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ১৮ জুন শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, ১৯ জুন তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় । সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়।’

শেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে মনিরুজ্জামান নামের এক মানবাধিকার কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বুধবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মোবারক হোসেন।

মৃত মনিরুজ্জামান শেরপুর শহরের উত্তর নওহাটা মহল্লার বাসিন্দা। ৪৩ বছরের মনিরুজ্জামান মজিবুর রহমানের ছেলে। গার্মেন্টস কাপড়ের ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মানবাধিকার সংগঠন ‘আমাদের আইনের শেরপুর’ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন।

গত ১৭ জুন মনিরুজ্জামানের করোনা শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ১৮ জুন শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৯ জুন তাকে ময়মনিসংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়।’

জেলা সিভিল সার্জন এ কে এম আনোয়ারুর রউফ জানান, গত বছরের ৫ এপ্রিল জেলায় প্রথম দুই ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এ বছরের ২২ জুন পর্যন্ত সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ১৩৫ জনে। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।

আরও পড়ুন:
টিকা চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ
ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ ডোজে ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ: গবেষণা
সংকটেও প্রতিবেশীদের টিকা দিতে চায় ভারত
‘২ ডোজ টিকার পরও মাস্ক জরুরি’

শেয়ার করুন

সপ্তাহে ৩ দিন ছুটির প্রস্তাব জাপানে

সপ্তাহে ৩ দিন ছুটির প্রস্তাব জাপানে

বার্ষিক অর্থনৈতিক নীতিমালা নির্দেশিকা প্রকাশের সময় এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাপান সরকার। এতে সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি দেয়ার সুপারিশ করা হয়, যা আগে ছিল ২ দিন।

জাপানে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় সাপ্তাহিক কর্মদিবস পাঁচ দিন থেকে কমিয়ে ৪ দিনে আনার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির সরকার।

এটি কার্যকর হলে টানা ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটির সুবিধা পাবেন জাপানের মানুষ।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বার্ষিক অর্থনৈতিক নীতিমালা নির্দেশিকা প্রকাশের সময় এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাপান সরকার। এতে সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি দেয়ার সুপারিশ করা হয়, যা আগে ছিল ২ দিন।

জাপানে বেতনভুক্ত নারী ও পুরুষ কর্মীরা ভীষণ পরিশ্রমী হিসেবে সারা বিশ্বে সুপরিচিত। এ অবস্থায় জাতীয় জীবনে ভারসাম্য আনতে কাজের সময় কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে দেশটির সরকার।

পরিকল্পনায় বলা হয়, কর্মঘণ্টা কমলে একই সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের বাড়তি সময় দিতে পারেন কর্মীরা। এতে মানসিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন তারা।

এতে আরও বলা হয়, বাড়তি অবসর সময় পাওয়ায় শিক্ষা ও অন্যান্য দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন তারা। সব মিলিয়ে সপ্তাহে ৪ দিনের কর্মদিবসের ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।

বাড়তি ছুটির ফলে প্রতি সপ্তাহে লোকজন বাইরে বেড়াতে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহ পেলে সরকারের পর্যটনকেন্দ্রিক আয় বাড়বে বলেও আশাবাদী টোকিও।

এর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের একে অপরকে জানার সময় পাওয়ার পাশাপাশি বিয়ে, সন্তান নিয়েও আগ্রহ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের ফলে অসুস্থতা ও মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যার খবর প্রায় নিয়মিত।

অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে দেখা যায়, বেশিরভাগ কর্মীই মাসের পর মাস নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে অফিসে কাজ করেছেন।

এ ধরনের ঘটনাও কমিয়ে আনতে চায় টোকিও।

আরও পড়ুন:
টিকা চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ
ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ ডোজে ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ: গবেষণা
সংকটেও প্রতিবেশীদের টিকা দিতে চায় ভারত
‘২ ডোজ টিকার পরও মাস্ক জরুরি’

শেয়ার করুন

করোনা টিকার তিন ডোজ দিতে চায় চিলি

করোনা টিকার তিন ডোজ দিতে চায় চিলি

চিলিতে করোনার টিকাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি বাস থেকে বেরিয়ে আসছেন এক ব্যক্তি। ছবি: এএফপি

বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে শতভাগ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকা অন্যতম দেশ চিলি। টিকাদানে চিলি সরকারের লক্ষ্যের ৭৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী কমপক্ষে এক ডোজ নিয়েছে। দুই ডোজ নিয়েছে ৬১ শতাংশ মানুষ।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি তিনটি ডোজ দেয়া নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে।

একমাত্র জনসন অ্যান্ড জনসন বাদ দিয়ে বিশ্বের সব দেশে করোনা প্রতিরোধী টিকার সবই দুই ডোজের।

এগুলোর মধ্যে আছে ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের সিনোভ্যাক, রাশিয়ার স্পুৎনিকসহ সব টিকা। এক ডোজের টিকা প্রস্তুত করেছে শুধু জনসন অ্যান্ড জনসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, করোনার টিকার শেষ ডোজ হিসেবে তৃতীয় ইনজেকশনের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করছে চিলি।

দেশটির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা মঙ্গলবার জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও ভালোভাবে রোধে তৃতীয় ডোজের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখছেন গবেষকরা।

তিনি বলেন, ‘চলমান সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে কী ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা ও প্রস্তুতির দরকার আছে আমাদের।’

চিলিতে সম্প্রতি নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রূপ পরিবর্তিত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের করোনার ওপর টিকার ডোজ বাড়ানো কার্যকর কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এমন সময়ে দেশটিতে কিশোর বয়সীদেরও করোনার টিকা দিতে শুরু করেছে সরকার।

বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে শতভাগ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকা অন্যতম দেশ চিলি।

টিকাদানে চিলি সরকারের লক্ষ্যের ৭৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী কমপক্ষে এক ডোজ নিয়েছে। দুই ডোজ নিয়েছে ৬১ শতাংশ মানুষ।

চিলিতে করোনা প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচির প্রায় পুরোটাই চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের গবেষণালব্ধ টিকা করোনাভ্যাকের ওপর নির্ভরশীল।

দেশটিতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই চীনের করোনাভ্যাক।

৩৯ লাখ ডোজ ফাইজার-বায়োএনটেকের। আর খুব সামান্য অংশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকসের টিকা।

করোনা প্রতিরোধের বিষয়ে সিনোভ্যাকনির্ভর চিলিতে সম্প্রতি রূপ পরিবর্তিত অধিক সংক্রামক ভাইরাসের ওপর চীনা টিকার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশটির সরকার।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়া থেকে। সম্প্রতি করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে দেশটিতে। এর মধ্যে আগে সিনোভ্যাকের টিকা নেয়া ৩৫০ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী রোগাক্রান্ত হন।

এরপরই ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের করোনার ওপর সিনোভ্যাকের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ শুরু হয় চিলিতে।

ভারতে প্রথম শনাক্ত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টটি এখন পর্যন্ত চিলিতে শনাক্ত হয়নি। তবে প্রতিবেশী পেরু ও আর্জেন্টিনায় পৌঁছে গেছে সেটি।

আরও পড়ুন:
টিকা চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ
ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ ডোজে ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ: গবেষণা
সংকটেও প্রতিবেশীদের টিকা দিতে চায় ভারত
‘২ ডোজ টিকার পরও মাস্ক জরুরি’

শেয়ার করুন

খুলনা বিভাগে এক দিনে রেকর্ড ৩২ মৃত্যু

খুলনা বিভাগে এক দিনে রেকর্ড ৩২ মৃত্যু

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক রাশেদা সুলতানা। তিনি জানান, খুলনায় ৮, ঝিনেইদহে ৭, চুয়াডাঙ্গায় ৫, কুষ্টিয়ায় ৪, বাগেরহাটে ৩, মেহেরপুরে ২, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইলে ১ জন করে মারা গেছেন।

করোনাভাইরাসে খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগের ১০ জেলায় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক রাশেদা সুলতানা। তিনি জানান, খুলনায় ৮, ঝিনাইদহে ৭, চুয়াডাঙ্গায় ৫, কুষ্টিয়ায় ৪, বাগেরহাটে ৩, মেহেরপুরে ২, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইলে ১ জন করে মারা গেছেন।

এই সময়ে বিভাগে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯০৩ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৪৭ হাজার ৮৭৮ জন।

আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৬-এ। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ হাজার ১৭৫ জন।

জেলাভিত্তিক করোনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৮ জন; শনাক্ত হয়েছেন ৩০৫ জন।

জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। মৃত্যু ২২৮, সুস্থ ১০ হাজার ২২৭।

বাগেরহাটে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৬০ জন। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৫২ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৩ জন।

সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬০ জন। এ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬২ জন। মারা গেছেন ৬৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ১২৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১২১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ১৫৯ জন। মোট মারা গেছেন ১১৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৭৮৯ জন।

নড়াইলে নতুন শনাক্ত হয়েছেন ১৯ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৭১ জন। মোট মৃত্যু ৩৬; সুস্থ ১ হাজার ৮৯৪।

মাগুরায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এ জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪২১ জন। মোট মারা গেছেন ২৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২২৩ জন।

ঝিনাইদহে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১৭ জনের। জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৩৮ জন। মোট মৃত্যু ৭৫; সুস্থ ২ হাজার ৯০২ জন।

২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১২২ জন। মোট শনাক্ত ৬ হাজার ৬৬২, মৃত্যু ১৬৬ ও সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ১৪৭ জন।

চুয়াডাঙ্গায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৬৪ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৯৬ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৯। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২০ জন।

মেহেরপুরে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৫ জনের। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত হলেন ১ হাজার ৪৪৮ জন। আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছেন ৩৭ জন; সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১৩ জন।

আরও পড়ুন:
টিকা চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ
ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ ডোজে ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ: গবেষণা
সংকটেও প্রতিবেশীদের টিকা দিতে চায় ভারত
‘২ ডোজ টিকার পরও মাস্ক জরুরি’

শেয়ার করুন

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা করছেন গবেষকরা। ছবি: এএফপি

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় জীবাণুবিরোধী ওষুধ আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছেন ব্রিটিশ গবেষকরা।

করোনার সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে আইভারমেকটিনের উপযোগিতা নিয়ে এ গবেষণার কথা বুধবার জানায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

যুক্তরাজ্যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে এ গবেষণা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়াই করোনা রোগীদের সুস্থ করে তোলার পথ খুঁজতে ওষুধটি নিয়ে গবেষণা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আইভারমেকটিনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের বিস্তারের গতি কমানো সম্ভব হয়েছে।

ছোট একটি দলের ওপর পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই এ ওষুধটি প্রয়োগ করা হলে মানবদেহে এটি ভাইরাস বাড়তে এবং মৃদু উপসর্গ বেশি দিন স্থায়ী হতে দেয় না।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিচালিত এ গবেষণার নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রিন্সিপ্যাল’।

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিরোধী।

করোনায় আক্রান্তদের ওপর শুধু পরীক্ষামূলকভাবে ওষুধটি প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে ভারত, কলম্বিয়াসহ অনেক দেশেই করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে ওষুধটি ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা।

ব্রিটিশ গবেষক দলের সহ-প্রধান ক্রিস বাটলার বলেন, ‘প্রিন্সিপ্যালের মতো বড় পরিসরের পরীক্ষায় আইভারমেকটিন অন্তুর্ভুক্ত করার মাধ্যমে করোনার চিকিৎসায় এটির কার্যকারিতা প্রমাণের চেষ্টা করেছি আমরা। একই সঙ্গে এটি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাও খতিয়ে দেখেছি।’

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিভারের অসুখে ভুগছেন এবং রক্তের ঘনত্ব কমানো ওষুধ নিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর এ পরীক্ষা করা হয়নি। আইভারমেকটিনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অন্যান্য চিকিৎসা নেয়া ব্যক্তিদেরও এ পরীক্ষার বাইরে রাখা হয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের দেড় বছর পার হলেও ভাইরাসটির নতুন ধরন থেকে রেহাই পেত সুনির্দিষ্ট ওষুধ উদ্ভাবন হয়নি।

করোনার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত সপ্তম ওষুধ আইভারমেকটিন।

এর আগে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির বা রিটোনাভির, কর্টিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিকোয়াগুলেন্টস, ফ্যাভিপিরেভির জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ডব্লিউএইচও।

বর্তমানে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরেভিরের সঙ্গে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা তুলনা করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
টিকা চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ
ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ ডোজে ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ: গবেষণা
সংকটেও প্রতিবেশীদের টিকা দিতে চায় ভারত
‘২ ডোজ টিকার পরও মাস্ক জরুরি’

শেয়ার করুন

ভারতে রেকর্ড টিকাদানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

ভারতে রেকর্ড টিকাদানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

ভারতে রেকর্ড টিকাদানের পরিকল্পনা সামনে রেখে বেশ কিছু রাজ্য আগের দিনগুলোতে ডোজ মজুত করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: এনডিটিভি

টিকা সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি থাকায় সোমবার সামনে রেখে বেশ কিছু রাজ্য আগের দিনগুলোতে টিকা মজুত করছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মধ্য প্রদেশে সোমবার টিকা নিয়েছে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ মানুষ। এক দিন পরই মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টিকা পাননি পাঁচ হাজার মানুষও, যা সর্বনিম্ন।

রেকর্ড টিকাদানের এক দিনের মাথায় দৈনিক টিকাগ্রহীতার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে ভারতে। ফলে বড় পরিসরে টিকাদান শুধুই কৃতিত্ব নেয়ার কৌশল কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভারতজুড়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন মাত্র ৫৪ লাখ ২২ হাজার মানুষ। অথচ এক দিন আগেই সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল রেকর্ড ৮৮ লাখ।

অভিযোগ উঠেছে, মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে চলা বিজেপি সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল ছিল ‘ম্যাজিক মানডে’। ২১ জুনের দিনটিতে ২৪ ঘণ্টার হিসাবে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দিতে কয়েক দিন ধরেই মজুত করা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ ডোজ।

টিকা সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি থাকায় সোমবার সামনে রেখে বেশ কিছু রাজ্য আগের দিনগুলোতে টিকা মজুত করছিল।

মধ্য প্রদেশে সোমবার টিকা নিয়েছে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ মানুষ। একদিন পরই স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টিকা পাননি পাঁচ হাজার মানুষও, যা সর্বনিম্ন।

রাজ্যটির দৈনিক টিকাদানের তথ্যে দেখা যায়, গত ১৫ জুন টিকা নিয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ। ২০ জুন এ সংখ্যা নেমে আসে ৪ হাজার ৯৮ জনে। ঠিক তার পরদিন ২১ জুন টিকা নিয়েছেন ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯২ জন। ২২ জুনই আবার এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৪ হাজারে।

টিকাদানে দৈনিক রেকর্ড করার লক্ষ্যে ডোজ মজুতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্য সরকার।

মধ্য প্রদেশের চিকিৎসা শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বাস সংরং বলেন, ‘টিকা জমানোর কোনো বিষয়ই নেই এখানে। হয়তো তথ্য নথিভুক্ত করায় কিছু ভুল হয়েছে, যে কারণে আগে টিকাদানের সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে।

‘সোমবার যা টিকা দেয়া হয়েছে, সবটা আমাদের চোখের সামনেই হয়েছে। এখানে লুকানোর কিছু নেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নে বরং আমি হতবাক হয়ে যাচ্ছি।’

অবশ্য দুয়েকটি রাজ্যে আবার মঙ্গলবার টিকা নিয়েছেন সোমবারের চেয়েও বেশিসংখ্যক মানুষ।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উত্তর প্রদেশে সোমবার রেকর্ড ৬ লাখ মানুষ টিকা নেন। এক দিন পরই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ৭ লাখ ডোজ দিয়ে দৈনিক টিকাদানের নতুন রেকর্ড করে রাজ্যটি।

রেকর্ডসংখ্যক মানুষকে টিকাদানের দিনটিতে যে ১০টি রাজ্যে সর্বাধিক টিকা নিয়েছে মানুষ, তার মধ্যে সাতটিই বিজেপিশাসিত।

ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর শতভাগকে চলতি বছরের মধ্যে দুই ডোজ টিকাদান সম্পন্নের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৩৩ কোটি মানুষের দেশটিতে এ লক্ষ্য পূরণে বছরের এ পর্যায়ে প্রতিদিন টিকা দিতে হবে কমপক্ষে ৯৭ লাখ মানুষকে। কিন্তু টিকার বর্তমান জোগানে তা আদৌ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেকে।

যদিও প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা প্রয়োগ ও মজুতের সক্ষমতা আছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের।

ভারতের টিকাবিষয়ক কেন্দ্রীয় পরামর্শক সংস্থা এনটিএজিআইয়ের চেয়ারম্যান ড. এনকে অরোরা বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য দিনে এক কোটি করে ডোজ দেয়া। আর আমাদের সক্ষমতা আছে প্রতিদিন সোয়া কোটি ডোজ মজুত করার।’

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ বলেন, ‘এ বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে কেন্দ্র। পরবর্তী ১৫ দিনে কতগুলো ডোজ পাঠানো হবে, তা আগেই জানিয়ে দেব আমরা। এতে রাজ্যগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে পারবে।’

ভারতের অনেক রাজ্যে টিকাদানের লক্ষ্য অজর্নের পথে বড় বাধা ব্যাপক ঘাটতি।

আরও পড়ুন:
টিকা চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ
ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ ডোজে ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ: গবেষণা
সংকটেও প্রতিবেশীদের টিকা দিতে চায় ভারত
‘২ ডোজ টিকার পরও মাস্ক জরুরি’

শেয়ার করুন

খুলনায় তিন হাসপাতালে ১৩ মৃত্যু

খুলনায় তিন হাসপাতালে ১৩ মৃত্যু

খুলনায় তিন হাসপাতালে করোনাভাইরাসে এক দিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনায় তিনটি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন খুলনা, ২ জন যশোর, ২ জন বাগেরহাট ও ১ জন নড়াইলের বাসিন্দা।

খুলনায় তিন হাসপাতালে করোনাভাইরাসে এক দিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

মৃতদের মধ্যে ৮ জন খুলনা, ২ জন যশোর, ২ জন বাগেরহাট ও ১ জন নড়াইলের বাসিন্দা।

বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ।

খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১৩০ শয্যার এ হাসপাতালে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রেড জোনে ৯৮ জন, ইয়ালো জোনে ১৯জন, এইচডিইউতে ১৬ জন ও আইসিইউতে ২০ জন চিকিৎসাধীন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ জন।

গাজী মেডিক্যালের স্বত্বাধিকারী গাজী মিজানুর রহমান জানান, এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ৮১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এর মধ্যে আইসিইউতে ৬ ও এইচডিইউতে ৩ জন চিকিৎসাধীন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন। এ ছাড়া হাসপাতালের আরটি পিসিআর মেশিনে ৩২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।

খুলনা ২৫০ জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, এই হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৮৯ জন।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিস জানায় ২৪ ঘণ্টায় খুলনা পিসিআর মেশিনে ৭৭১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩০৫ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।

আরও পড়ুন:
টিকা চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ
ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ ডোজে ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ: গবেষণা
সংকটেও প্রতিবেশীদের টিকা দিতে চায় ভারত
‘২ ডোজ টিকার পরও মাস্ক জরুরি’

শেয়ার করুন