× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
চীনের উপহারের টিকা ঢাকায়
google_news print-icon

চীনের উপহারের টিকা ঢাকায়

চীনের-উপহারের-টিকা-ঢাকায়
চীনের টিকা নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করেছে বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সি-১৩০জে পরিবহন বিমান বুধবার ভোরে সিনোফার্ম উদ্ভাবিত টিকা ও এডি সিরিঞ্জ নিয়ে ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর বঙ্গবন্ধু ঘাঁটিতে অবতরণ করে।

চীন থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বিবিআইবিপি-করভির ৫ লাখ ডোজ বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সি-১৩০জে পরিবহন বিমান বুধবার ভোরে সিনোফার্ম উদ্ভাবিত টিকা ও এডি সিরিঞ্জ নিয়ে ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর বঙ্গবন্ধু ঘাঁটিতে অবতরণ করে।

চীন থেকে টিকা আনতে মঙ্গলবার ১৩ জন এয়ার ক্রু চীনের উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়েছিলেন। বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান দলনেতা হিসেবে এই গুডউইল মিশনের দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সিনোফার্মের উপহারের টিকা আসছে বুধবার।

তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী চীনের টিকার ৪ থেকে ৫ কোটি ডোজ কিনতে চায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের ৮০ শতাংশ জনগণের টিকা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। টিকা পেতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী চীন থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি ডোজ টিকা কেনা হবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রয়োগ করা হচ্ছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে যত টিকা আসার কথা ছিল, ততগুলো আসেনি।

৩ কোটি ৪০ লাখ কেনা টিকার মধ্যে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পেয়েছে ৭০ লাখ। বাকি টিকা আসা অনিশ্চিত পুরোপুরি। এর বাইরে আছে ভারত সরকারের উপহারের ৩৩ লাখ টিকা।

এমন বাস্তবতায় দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না অনেককে। টিকার এ ঘাটতি মেটাতে চীন, রাশিয়ার টিকা কিনছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২ কোটি ডোজ টিকা চাওয়া হয়েছে।

চীনের কেনা টিকা ডিসেম্বরের আগে আনার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেনার বিষয়ে চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যা কিনতে পারলে ডিসেম্বরের আগে আসবে।’

আরও পড়ুন:
টিকা সরবরাহ: অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে ইইউর মামলা
চীনের ৪-৫ কোটি টিকা কিনতে চায় বাংলাদেশ
টিকা আনতে চীনে গেল বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ
জেলায় জেলায় ফুরিয়ে আসছে টিকা
চীনের টিকা বাংলাদেশের পথে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
Four people including children were killed and injured in Khulna lightning

খুলনায় বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের প্রাণহানি, আহত ১

খুলনায় বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের প্রাণহানি, আহত ১
বজ্রপাতে খুলনার পাইকগাছায় শ্রীকান্ত মণ্ডল, বটিয়াঘাটায় আল মামুন এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এনায়েত আলী ও শিশু নাজমুল মারা যান। গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির নানা মুছা গাজী।

খুলনায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

বিকেলে খুলনার পাইকগাছায় বজ্রপাতে শ্রীকান্ত মণ্ডল নামে এক যুবক মারা যান। তিনি উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের পতিত মণ্ডলের ছেলে।

পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিপন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শ্রীকান্ত মাছের ঘেরের কর্মচারী ছিলেন। বিকেলে বৃষ্টিপাতের সময় ঘেরের একটি ঝুপড়ি ঘরে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যাযন। তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে।’

দুপুরের দিকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় খারাবাদ এলাকায় বজ্রপাতে আল মামুন নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় মনি চৌকিদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে আকাশে মেঘ দেখে আল মামুন খারাবাদ এলাকার কড়িয়া ভিটায় গরু আনতে যায়। এ সময় বৃষ্টি শুরু হয়। ফাঁকা বিলে কোনো নিরাপদ স্থান না পেয়ে সে দ্রুত বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে মারা যায়। তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এছাড়া বজ্রপাতে খুলনার কয়রার অধিবাসী এক শিশুসহ দুজন মারা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এই ঘটনা ঘটে।

তারা হলেন- কয়রা উপজেলার ঘড়িলাল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে এনায়েত আলী ও মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের আল আমিনের ছেলে আট বছর বয়সী নাজমুল। এ সময় গুরুতর আহত হন নাজমুলের নানা মুছা গাজী।

শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, ঈদ উপলক্ষে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়পদ্মপুকুর এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন তারা। সেখান থেকে চারজন মোটরসাইকেলযোগে গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী খেয়াঘাট হয়ে কয়রার উদ্দেশে রওনা হন তারা। দুপুর ১টার দিকে গাবুরার গাগড়ামারী ও নেবুবুনিয়া এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় তারা একটি মৎস্য ঘেরের বাসায় আশ্রয় নিলে বজ্রপাতে এনায়েত ও নাজমুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ছাড়া শিশুটির নানা মুছা গাজীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।

খুলনার কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছের আলি মোড়ল বলেন, ‘খবর পেয়ে স্বজনরা এসে তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।’

আরও পড়ুন:
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু
বজ্রপাতে এক দিনে তিন জেলায় গেল ৮ প্রাণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু
ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে শিশুসহ দুজনের প্রাণহানি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Sadarghat is bustling with people returning to Dhaka after Eid

ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ, সরগরম সদরঘাট

ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ, সরগরম সদরঘাট পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবী মানুষেরা। বৃহস্পতিবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকার চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বরিশালগামী লঞ্চগুলোতে যাত্রী কমায় ঢাকার সদরঘাটের চেনা রূপ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল। ঈদের ছুটির সঙ্গে ফিরেছে চেনা সেই ভিড়। তবে ঈদের পর ঢাকার সদরঘাটে ভিড় বাড়লেও আগের মতো যাত্রী নেই বলে জানিয়েছেন লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরুর প্রথম দিন বুধবার থেকেই রাজধানী ঢাকার প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নগরমুখী মানুষের ভিড় শুরু হয়। বৃহস্পতিবারও ছিল একই চিত্র।

গ্রামে যাওয়া মানুষেরা ক্রমে ক্রমে ঢাকা ফিরতে থাকায় চাপ কম লক্ষ্য করা গেছে সদরঘাটে। শুক্র-শনিসহ ঈদের তিন দিন মিলে পাঁচদিনের লম্বা ছুটি শেষে কর্মমুখী মানুষ ঢাকায় ফিরতে থাকায় বৃহস্পতিবারও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীর চাপ ছিল সদরঘাটে। তবে যাত্রীর উপচেপড়া ভিড় বলতে যা বুঝায় তেমনটা দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের লঞ্চগুলো ডেকে পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে সদরঘাটের পন্টুনে ভিড়তে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

দুপুরের পর থেকে গ্রিন লাইন-৩ ও সন্ধ্যার পর পারাবত-৯, ১০, ১২ ও ১৮; মানামী, কুয়াকাটা-২, কীর্তনখোলা-২ ও ১০, সুরভী-৮ ও ৯, অ্যাডভেঞ্চার-১ ও ৯, সুন্দরবন-১২ লঞ্চসহ মোট ১৫টি লঞ্চ বরিশাল নদীবন্দর থেকে সদরঘাটে এসে পৌঁছায়।

ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়েও কিছু লঞ্চ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। এছাড়াও নিকটবর্তী জেলা চাঁদপুর, ভোলা, ইলিশা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোও ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সদরঘাট টার্মিনাল থেকে দেশের ৩১টি নৌপথে নিয়মিত ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তা দ্বিগুণের বেশি করা হয়েছে। ঈদের আগে-পরের প্রায় ১৫ দিন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭৫টিরও বেশি লঞ্চ যাতায়াত করেছে। আগে ঢাকা থেকে ৪১টি নৌপথে লঞ্চসহ পণ্যবাহী বিভিন্ন নৌযান চলত। নদী খনন ও ড্রেজিংয়ে অনিয়মের কারণে ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলগামী ১০টি নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে লঞ্চে মানুষের ঢল নেমেছে বলে জানিয়েছেন জাহাজ মালিক, স্টাফ ও কর্মকর্তারা।

মানামি লঞ্চের চালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এবার ঈদের আগে যেমন যাত্রী চাপ ছিলো পরে তেমন হচ্ছে না। সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় অনেকেই এখন ঢাকা ফিরছে। তবে অনেকে বুধ ও বৃহস্পতি ছুটি নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সামনের সাপ্তাহিক ছুটির দুদিন বিশেষ করে শনিবার যাত্রীর চাপ অনেকটা বাড়বে।’

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী থেকে ফিরেছেন ঢাকায়। তিনি বলেন, ‘এমভি টিপু-৭ লঞ্চের টিকিট পেয়েছিলাম। তবে লঞ্চে অনেক মানুষের ভিড় ছিলো। ঠিকভাবে ঢাকায় আসতে পেরেছি এটাই অনেক।’

মনপুরা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় এসেছে এমভি তাসরিফ-৮। লঞ্চটির কর্মী আসাদ মুন্সি বলেন, ‘এই ট্রিপে পাঁচ-ছয়শ’ মানুষ এসেছে। ছুটি শেষ হওয়ায় মানুষ ঢাকায় ফিরছে। আরামের যাত্রা লঞ্চ। এজন্য অনেকেই লঞ্চে যাতায়াত করেন।’

ভোলার চরফ্যাশন ও বেতুয়া থেকে ছেড়ে সন্ধ্যায় সদরঘাটে ভিড়েছে এমভি টিপু-১৩। লঞ্চটিতে ঘাটে ভিড়তেই দেখা যায়, ডেকভর্তি মানুষ। অনেকে দাঁড়িয়েও এসেছেন।

ভোলা থেকে আসা যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কাপড়ের দোকানে কাজ করি। ঈদের আগের দিনও খোলা ছিল। চাঁদ রাতে ঈদ করতে ঢাকা থেকে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ, মার্কেট খুলবে। এজন্য আবার চলে আসলাম।’

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বরিশালগামী লঞ্চগুলোতে যাত্রী কমায় ঢাকার সদরঘাটের চেনা রূপ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল। ঈদের ছুটির সঙ্গে ফিরেছে চেনা সেই ভিড়। তবে ঈদের পর ঢাকার সদরঘাটে ভিড় বাড়লেও আগের মতো যাত্রী নেই বলে জানিয়েছেন লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় থাকলেও লঞ্চে ফিরতি পথের যাত্রী ভিড় অনেকটাই কম। বরিশাল ও ভোলার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা লঞ্চগুলোর কর্মীরা যাত্রীদের ডাকাডাকি করছেন। অল্পসংখ্যক মানুষ লঞ্চে উঠেছেন। বেশ কয়েকটি লঞ্চের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ডেকের সিট অধিকাংশই ফাঁকা। ভেততে কিছু মানুষ বসে আছে। কেউ আবার কেবিন নিয়ে দরদাম করছেন।

নৌপথেই স্বস্তি খুঁজবে যাত্রীরা- এবারের ঈদযাত্রায় এমনটা প্রত্যাশা ছিলো লঞ্চ মালিকদের। তবে ঈদের পর তা আবার কমে যাওয়ায় হতাশ তারা।

ডলার কোম্পানির ২৪টি লঞ্চের মালিক ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের লঞ্চ আছে অনেক। কিন্তু সে অনুযায়ী যাত্রী নেই। তাই লঞ্চ কম ছাড়ছে। যেগুলো ছাড়ছে সেগুলো যাত্রী ভরেই যাচ্ছে। ঈদের পরও আমরা যাত্রীর চাপ আশা করেছিলাম। কিন্তু পাইনি।’

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘ঈদের আগে যাত্রীর চাপ বাড়ায় আশা পেয়েছিলাম। এখন সে আশা আর দেখছি না। সামনের দিনগুলোতে কী হয় দেখা যাক।’

সার্বিক বিষয়ে ঢাকার প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন জানান, ‘ঈদের পর যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক রয়েছে। আমাদের নিয়মিত লঞ্চগুলোই চলাচল করছে। অতিরিক্ত কোনো লঞ্চের প্রয়োজন পড়ছে না। আর ভাড়া বেশি নেয়ার অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

টার্মিনাল এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) যাত্রীর চাপ আগের থেকে বেড়েছে। পুলিশ, র‍্যাবসহ আনসার সদস্যরা যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। যাত্রীর চাপ বাড়লে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ঘরে ফেরা মানুষের পদচারণায় মুখর সদরঘাট
ছুটি শুরুর দিনেই সদরঘাটে যাত্রীর চাপ
ঈদযাত্রার প্রভাব নেই সদরঘাটে, গার্মেন্টস ছুটির অপেক্ষা
সদরঘাট থেকে সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Teesta boat capsizing Four members of a family still missing

তিস্তায় নৌকাডুবি: এখনও নিখোঁজ এক পরিবারের চারজন

তিস্তায় নৌকাডুবি: এখনও নিখোঁজ এক পরিবারের চারজন নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পর থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার সন্ধ‌্যায় প‌শ্চিম বজরা এলাকার তিস্তার সাদুয়া দামার হাট এলাকায় ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তারা সকলেই বিয়ের দাওয়াত ‌খে‌তে যা‌চ্ছি‌লেন। এর মধ্যে ১৯ জন নদী সাঁত‌রিয়ে তী‌রে উঠ‌তে পার‌লেও সাতজন নি‌খোঁজ হয়। প‌রে তল্লা‌শি চা‌লি‌য়ে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদী‌তে নৌকাডু‌বির ঘটনায় চার শিশুসহ ছয় যাত্রী নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে। তারা সবাই উলিপুর উপ‌জেলার প‌শ্চিম বজরার বা‌সিন্দা। এদের মধ্যে এক পরিবারেরই রয়েছে চারজন।

নি‌খোঁজদের উদ্ধা‌রে তল্লা‌শি চালা‌চ্ছে ফায়ার সা‌র্ভি‌সের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত অ‌ভিযান চা‌লি‌য়ে তাদের কা‌রও সন্ধান পা‌য়নি ডুবু‌বিরা।

নৌকাডু‌বির ঘটনায় ওই এলাকার আজিজুর রহমা‌নের মেয়ে আয়েশা সি‌দ্দিকা না‌মের এক শিশুর মর‌দেহ উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ন কু‌ড়িগ্রাম ফায়ার সা‌র্ভি‌সের সি‌নিয়র স্টেশন অ‌ফিসার শ‌রিফুল ইসলাম।

স্থানীয় ও নিখোঁজদের স্বজন‌দের দা‌বি, নৌকার যা‌ত্রী ৩০ বছর বয়সী আনিছুর রহমান, তার স্ত্রী রুপা‌লি বেগম, তাদের বছরের মেয়ে আইরিন, ভা‌গ্নী ৯ বছরের হিরা ম‌নি; কয়জন আলীর আড়াই বছ‌রের মেয়ে কুলসুম এবং আজিজু‌র রহমানের ৫ বছরের ছে‌লে শা‌মিম হো‌সেন নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে।

বেঁচে ফেরা নৌকার যা‌ত্রী আমিনা বেগম জানান, তার মা ও ভাতি‌জাসহ প‌রিবা‌রের চার সদসদ‌্য দাওয়া খেতে যা‌চ্ছি‌লেন। প‌থে তিস্তার খরস্রোতে তা‌দের বহনকারী নৌকা‌টি ডু‌বে যায়। তা‌রা কোনোমতে সাতঁ‌রিয়ে তীরে উঠতে পারলেও তার ভা‌তি‌জা শামিম হোসেন ডুবে যায়।

শ‌রিফা বেগম নামের আরেক যাত্রী জানান, নৌকাডু‌বির সময় তার আড়াই বছ‌রের শিশু কুলসুম খাতুন নদী‌তে পড়ে নি‌খোঁজ রয়েছে। তিনি বর্তমানে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

কু‌ড়িগ্রাম ফায়ার সা‌র্ভি‌সের সি‌নিয়র স্টেশন অ‌ফিসার শ‌রিফুল ইসলাম ব‌লেন, ‘একই প‌রিবা‌রের চারজনসহ মোট ছয়জন নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে এমন শোনা যাচ্ছে। তা‌দের ম‌ধ্যে চারজনই শিশু, যা‌দের বয়স ১০ বছ‌রের কম। আমা‌দের ডুবুরির দল কাজ ক‌র‌ছে। বৈরী আবহাওয়া এবং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় কাজ কর‌তে বেগ পে‌তে হ‌চ্ছে।’

এর আগে, বুধবার সন্ধ‌্যায় প‌শ্চিম বজরা এলাকার তিস্তার সাদুয়া দামার হাট এলাকায় ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তারা সকলেই বিয়ের দাওয়াত ‌খে‌তে যা‌চ্ছি‌লেন। এর মধ্যে ১৯ জন নদী সাঁত‌রিয়ে তী‌রে উঠ‌তে পার‌লেও সাতজন নি‌খোঁজ হয়। প‌রে তল্লা‌শি চা‌লি‌য়ে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:
তিস্তায় নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু, ৮ জন নিখোঁজের দাবি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Eight lakh people are stuck in water in Sunamganj

সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি

সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ ইউনিয়নের অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমেছে। বর্তমানে পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাতি হচ্ছে।

বুধবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ ইউনিয়নের অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদী পাড়ের পৌর কিচেন মার্কেট থেকে পানি নেমেছে, তবে সবজি বাজারে কিছুটা পানি রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন পাড়া, শান্তিব্গা, ধোপাখালী, বাঁধনপাড়া, বলাকা, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর, পশ্চিম হাজীপাড়া, তেঘরিয়া, নবীনগর, কাজীর পয়েন্ট মল্লিকপু সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এখনও পানিবন্দি জীপবযাপন করছেন।

শহরের সবকটি হোটেলের কক্ষ বুকিং দিয়ে সামর্থবান একতলার বাসিন্দারা সেখানে উঠেছেন। কেউ কেউ ক্লিনিকের কক্ষেও পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তবে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। বাজারে দুয়েকটা দোকান খোলা পাওয়া গেলেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দোকানীরা।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, গ্রামীণ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পানি উঠেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুরে ১০-১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলায় বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া দিরাই উপজেলায় বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৫৫ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৬২ মিলিমিটার, ছাতকে ৬৫ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

তবে সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কম হওয়ায় রক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ
ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Asaduzzaman Mias corruption allegations are speculative
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুমাননির্ভর

আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুমাননির্ভর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। ফাইল ছবি
ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এখনও তার বিরুদ্ধে সঠিকভাবে কোনো অভিযোগ উত্থাপন হয়নি। যেগুলো শুনেছি, তার অবৈধ সম্পত্তির কথা। তাকে তো ডাকা হয়নি; তাকে ডাকা হলে বুঝতে পারব। নিশ্চয়ই তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা আছে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুমাননির্ভর বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, ‘আমি যতটুকু জানি, ‘বিষয়টি নিয়ে অনুমানভিত্তিক কথাবার্তা চলছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সাবেক আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এড়াতে পারেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর আমাদের কাছে আসেনি। আমি যতটুকু জানি, অনুমানভিত্তিক কথাবার্তা চলছে।

‘এখনও তার বিরুদ্ধে সঠিকভাবে কোনো অভিযোগ উত্থাপন হয়নি। যেগুলো শুনেছি, তার অবৈধ সম্পত্তির কথা। তাকে তো ডাকা হয়নি; তাকে ডাকা হলে বুঝতে পারব। নিশ্চয়ই তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা আছে। তার আয়ের উৎস আছে। সেটি দেখতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আর বেনজীর আহমেদ অনেকদিন মিশনে ছিলেন। তার ব্যাখ্যা থাকতে পারে। যদি ব্যাখ্যা দিতে না পারেন তখন দুর্নীতির প্রশ্ন আসবে।’

এমপি আনার হত্যা বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত শেষ হলে সব বলতে পারব। বিষয়টি নিয়ে ডিবি সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Erosion started in Yamuna spreading panic

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ছবিটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পাটিতাপাড়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনরোধে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয় না।

উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে নদীর পাড় ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল, সেটিও ভাঙনের আশঙ্কায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙন কবলিত মানুষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিতুলিয়াপাড়া, ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া ও নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা, পাটিতাপাড়া, কোনাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষেরা।

সেখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনরোধে খানুরবাড়ী, চিতুলিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয় না।

গত বছর ভাঙনের শিকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, শুকনো মৌসুমে বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে নদীতে জেগে ওঠা চর কেটে ট্রাকযোগে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না। যার কারণে নদীতে পানি এলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়।

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু

গত বছর বন্যায় ভাঙনরোধে পাউবার ফেলা গাইড বাঁধের জিও ব্যাগ আনলোড ড্রেজারগুলোর কারণে ধসে যাচ্ছে। যার ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ও আধপাকা সড়ক, গাইড বাঁধ বসতবাড়ি, মসজিদ-মন্দির, ছোটবড় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

পাটিতাপাড়ার ওমেছা, সুফিয়া ও কোরবান আলী বলেন, যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে, কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

তারা বলেন, গত বছর বসতভিটা ভেঙে যেটুকু থাকার জায়গা ছিল, সেটি এবারও চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘কিছু দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়া শুরু হয়েছে, কিন্তু ভাঙনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভাঙনরোধে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অবগত করাসহ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

টাঙ্গাইল জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ভূঞাপুরে ভাঙনের বিষয়টি ইউএনওর মাধ্যমে জেনেছি। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গোবিন্দাসী ও নিকরাইলের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার ইকোনোমিক জোনের কাজ শুরু হলে স্থায়ী বাঁধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
জামালপুরে যমুনায় তীব্র ভাঙন শুরু, নির্ঘুমে এলাকাবাসী
ভাঙন রোধে ফুলছড়িতে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
অসময়ে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা কুড়িগ্রামবাসী
ভাঙনের কবলে কুশিয়ারার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
ভাঙনে যমুনায় মিশছে শাহজাদপুরের একের পর এক গ্রাম

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Myanmar has been told to retaliate Home Minister

মিয়ানমারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে পাল্টা গুলি চালাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে পাল্টা গুলি চালাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘নাফ নদ মোহনা কিছু নাব্য হারিয়েছে। কাজেই সেখানে আমাদের নৌযান মিয়ানমারের অংশ দিয়ে যেতে হয়। কখনও মিয়ানমার আর্মি, কখনও আরাকান আর্মি ফায়ার ওপেন করে। আমরা উভয়কেই বলে দিয়েছি- তারা যদি আর গুলি করে, আমরাও পাল্টা গুলি ছুড়ব।’

মিয়ানমার থেকে আর কোনো গুলি বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এলে পাল্টা গুলি চালানো হবে- সেদেশে বিবাদমান দুপক্ষকে এমনটা হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আমরা যতদূর শুনেছি আরাকান রাজ্যে আরাকান আর্মি অনেক এলাকা দখল করে নিয়েছে। সেজন্য মিয়ানমারের যে বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) তারা আত্মরক্ষার্থে আমাদের এলাকায় পালিয়ে আসছে। কাজেই সেখানকার অবস্থা কী, সেটা আমরা বলতে পারব না।

‘তবে এটুকু বলতে পারি, তারা মাঝে মাঝে ভুল করে আমাদের বিজিবির দলের ওপর গুলি ছুড়েছে। বিষয়টি তাদেরকে জানিয়েছি। তারা বলছে যে, সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের পতাকা যেন উড়িয়ে যায়, তাহলে আর কেউ গুলি করবে না।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যেতে হলে আমাদের এলাকায় নাফ নদ মোহনা কিছু নাব্য হারিয়েছে। কাজেই সেখান দিয়ে আমাদের নৌযান চলাচল করতে পারে না। মিয়ানমারের অংশ দিয়ে যেতে হয়। আর সে কারণে এই বিপত্তিটা ঘটেছে।

‘কখনও মিয়ানমার আর্মি, কখনও আরাকান আর্মি ফায়ার ওপেন করে। আমরা উভয়কেই বলে দিয়েছি, তারা যদি আর গুলি করে, আমরাও পাল্টা গুলি ছুড়ব। ওখান থেকে আর কোনো গোলাগুলি হচ্ছে না। এখানে মিয়ানমারের যে দুটি জাহাজ ছিল সেগুলো ফেরত নিয়ে গেছে।

‘আমরা আশা করছি, সেখানে আর গুলি হবে না। তারপরও আমাদের যারা ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন, তারা সাবধানতা অবলম্বন করবেন।’

আরও পড়ুন:
সার্বভৌমত্ব চলে গেলে আমাদেরই বেশি ব্যথা লাগবে: কাদের
সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের গুলির ঘটনায় প্রয়োজনে জবাব: কাদের
মিয়ানমার থেকে আসা গুলির শব্দে টেকনাফে নির্ঘুম রাত
রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের
ফিরলেন ৪৫ বাংলাদেশি, মিয়ানমারে ফেরত গেলেন ১৩৪ বিজিপি-সেনা

মন্তব্য

p
উপরে