× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
জেলায় জেলায় ফুরিয়ে আসছে টিকা
google_news print-icon

জেলায় জেলায় ফুরিয়ে আসছে টিকা

জেলায়-জেলায়-ফুরিয়ে-আসছে-টিকা
গণটিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর টিকা নেন এই নারী। ফাইল ছবি
কোনো কোনো জায়গায় এরই মধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে টিকার দ্বিতীয় ডোজ। কোথাও চলবে এক দিন, দুই দিন বা তিন দিন। কোনো কোনো জেলার চিত্র অবশ্য কিছুটা ভালো। তবে কোথাও কোথাও প্রথম ডোজ যাদের দেয়া হয়েছে, তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার অবস্থা নেই।

চট্টগ্রাম জেলায় দিনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ডোজ লাগে পাঁচ থেকে সাত হাজারের মতো। সেখানে যে পরিমাণ মজুত আছে, তাতে চলবে বড়জোর পাঁচ দিন।

জেলার সিভিল সার্জন ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, তাদের হাতে টিকা আছে ২৭ হাজারের মতো। যা আছে তা দিয়ে বড়জোর ঈদ পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যাবে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকা শুরু হওয়ার আগে-পরে বন্দর নগরীর জন্য টিকা পাঠানো হয় আট লাখের মতো।

জেলায় প্রথম ডোজের টিকা দেয়া হয়েছে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭০৭টি। টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৩০১ জন। আরও ২৭ হাজার দ্বিতীয় ডোজ পাবেন। এরপরও টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকবে এক লাখের বেশি মানুষ।

এদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

একই চিত্র মোটামুটি সারা দেশেরই। কোনো কোনো জায়গায় এরই মধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে টিকার দ্বিতীয় ডোজ। কোথাও চলবে এক দিন, দুই দিন বা তিন দিন।

কোনো কোনো জেলার চিত্র অবশ্য কিছুটা ভালো। তবে কোথাও প্রথম ডোজ যাদের দেয়া হয়েছে, তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে না।

যে কারণে সংকট

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত টিকা পেয়েছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে। তবে যত টিকা পাওয়ার কথা ছিল, ততগুলো আসেনি।

৩ কোটি ৪০ লাখ কেনা টিকার মধ্যে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পেয়েছে ৭০ লাখ। বাকি টিকা আসা অনিশ্চিত পুরোপুরি। এর বাইরে আছে ভারত সরকারের উপহারের ৩৩ লাখ টিকা।

জেলায় জেলায় ফুরিয়ে আসছে টিকা
ভারত থেকে প্রথম উপহারের টিকা আসে ২১ জানুয়ারি। ছবি: নিউজবাংলা

সিরাম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের জন্য আরও ৫০ লাখ টিকা প্রস্তুত রাখালেও সেটি পাঠাতে পারছে না ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে।

সেখানে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা এখন চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সে দেশই নিজেদের চাহিদামতো টিকা দিতে পারছে না।

সিরাম তার সক্ষমতা অনুযায়ী টিকা উৎপাদন করতে পারছে না কাঁচামালের অভাবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার কাঁচামাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গণটিকাদান শুরুর ৭৮ দিনের মাথায় প্রথম ডোজ বন্ধ হয়ে গেলেও তত দিনে প্রয়োগ করা হয় ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৬ টিকা। এদের সবার দ্বিতীয় ডোজ লাগবেই।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বলছে, প্রথম ডোজ যে কোম্পানির টিকা দেয়া হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজের সেই পরিমাণ টিকাই লাগবে। ফলে প্রথম ডোজে যাদের সিরামের টিকা দেয়া হয়েছে, তাদের সবার টিকা নিশ্চিত করতে হলে আরও অন্তত ১৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৯২ ডোজ লাগবে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারত থেকে আরও ২০ লাখ টিকা আসবে বলে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু সেটি আসেনি।

বিকল্প হিসেবে ইউরোপ ও আমেরিকায় অব্যবহৃত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ।

সিরাম উৎপাদন করছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাই। ইউরোপের বেশ কিছু দেশে প্রয়োগের পর রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সেসব দেশে এই টিকা আর দেয়া হয়নি।

টিকা প্রয়োগ বন্ধ দুই জেলায়

চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় রোববার টিকা বন্ধ হয়ে গেছে খাগড়াছড়িতে।

এ জেলায় প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছেন ৩০ হাজার ২৩২ জন। এদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়ে গেছে ১৭ হাজার ৮১৭ জনকে। বাকিদের কী হবে, তা জানা নেই স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

জেলায় জেলায় ফুরিয়ে আসছে টিকা

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের বন্ধ করে দেয়া টিকাদান কেন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা

টিকার মজুত তলানিতে নামার পর প্রয়োগ বন্ধ রেখেছে সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রশাসনও।

আরও বেশ কিছু জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোথাও টিকার মজুতে চলবে দুই দিন, কোথাও চলবে চার থেকে পাঁচ দিন।

বরিশাল বিভাগে মজুত চট্টগ্রাম জেলার সমান

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান শুরুর জন্য বরিশাল বিভাগে পাঠানো হয় ৪ লাখ ২৯ হাজার ৮২৩ ডোজ। বর্তমান মজুত রয়েছে ২৭ হাজার ৯২০ ডোজ।

এর মধ্যে প্রথম ডোজের জন্য পাঠানো হয় ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০০টি। এর সব টিকাই প্রয়োগ হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় ডোজের জন্য পাঠানো হয় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫২০টি। দ্বিতীয় ডোজের টিকা বাকি আছে আর ২৭ হাজার ৯২০টি।

বিভাগে দিনে গড়ে তিন হাজার টিকা লাগে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল। এই হিসাবে এ বিভাগে ৯ দিন পর আর কোনো টিকা থাকবে না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে টিকা সংকটের মধ্যে পড়তে হবে না। যা মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বেশ কিছুদিন কভার করা যাবে।

‘তবে কত দিন যাবে, সেটা অ্যাগজ্যাক্ট বলতে পারছি না। সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলছে। শিগগিরই আরও টিকা আসবে বলে আশা আমাদের।’

সিলেটে চলবে আর দুই দিন

সিলেট মহানগরে দুই হাজার ও গোটা জেলায় আরও প্রায় সাত হাজার ডোজ টিকা মজুত রয়েছে। এই মজুত চলবে দুই দিন।

রোববার পর্যন্ত সিলেট নগরে প্রথম ও দ্বিতীয় মিলিয়ে ৫৯ হাজার ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।

জেলায় জেলায় ফুরিয়ে আসছে টিকা
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনার টিকা নিচ্ছেন এক সংবাদকর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

যাদের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ দিতে লাগবে আরও ১৫ হাজার।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, রোববার নগরে টিকা দেয়া হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জনকে। এ হারে চললে দুই দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে মজুত।

তিনি বলেন, ‘রোববার টিকা কেন্দ্রে উপস্থিত সকল গ্রহীতাকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়নি। তাই দেশে নতুন করে টিকা না আসা পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের জন্য নিবন্ধিতদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।’

জেলার সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, ‘জেলায় আরও সাত হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের মজুত রয়েছে। তা দিয়ে ঈদের আগে পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া যাবে।’

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন জানান, জেলায় ৭০০ ভায়াল টিকা মজুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় এই মজুত সামান্য হওয়ায় টিকা দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এক ভায়ালে টিকা থাকে ১০টি। সে হিসাবে জেলায় টিকার মজুত আছে ৭ হাজার।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও ৪৯২ ভায়াল টিকা জমা আছে। আরও ৫ দিনের মতো টিকা দেয়া যাবে। যদি এরই মধ্যে নতুন টিকা না আসে তবে টিকাদান বন্ধ থাকবে।’

খুলনায় চলবে চার দিন

খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ফেরদৌসী আক্তার জানান, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় রোববার পর্যন্ত ৩৭ হাজার ১৩০টি টিকার মজুত আছে। আর এক দিনেই সেখানে লাগে ২০ থেকে ২৬ হাজার টিকা।

এর মধ্যে খুলনা জেলায় আছে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৯৭০টি। এই জেলায় দিনে টিকা লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার। এই হিসাবে চার থেকে বড়জোর পাঁচ দিন চলবে টিকা।

বাগেরহাটে ২ হাজার ৭৫০টি, যশোরে ২ হাজার ৯০টি, কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ১৩০টি, মাগুরায় ২ হাজার ১৩০টি, নড়াইলে ২ হাজার ২৯০টি, সাতক্ষীরায় ২ হাজার ২৫০টি, ঝিনাইদহে ৩ হাজার ৩০টি, চুয়াডাঙ্গায় ৫ হাজার ৭৭০টি আর মেহেরপুরে ৭২০টি টিকা মজুত আছে।

এ পরিমাণ টিকায় কোনো জেলায় চলবে এক দিন, কোনো জেলায় ‍দুই দিন বা কোনো জেলায় তিন দিন।

তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ময়মনসিংহ

জেলায় জেলায় ফুরিয়ে আসছে টিকা
ময়মনসিংহে ২০ মে পর্যন্ত টিকা দেয়া যাবে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, তাদের হাতে ১৯ হাজার টিকা রয়েছে। প্রতিদিন যে হারে টিকা লাগে, তা দিয়ে ২০ মে পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চালানো সম্ভব হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগের আরেক জেলা জামালপুরের সিভিল সার্জন প্রণয় কান্তি দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে পাঁচ হাজার ডোজের কাছাকাছি টিকা এখন মজুত আছে। ঈদ পর্যন্ত আমরা এই টিকা প্রদান করতে পারব। তারপর শেষ হয়ে যাবে।’

এ জেলাতেও যে টিকা আছে, তা নিয়ে সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব হবে না।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে সেভাবেই আমরা কাজ করব।’

ঠাকুরগাঁওয়ে চলবে তিন দিন

ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন মাহফুজুর রহমান জানান, গোটা জেলায় এখন টিকা আছে দুই হাজারের মতো। দিনে গড়ে ছয় থেকে সাত শ টিকা লাগে। এই হিসাবে এই জেলায় টিকা দেয়া সম্ভব আর বড়জোর তিন দিন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
8 more children died of measles

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।

এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
 Modernization of armed and police forces PM
শান্তিরক্ষা মিশন

 আধুনিকায়ন হচ্ছে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর: প্রধানমন্ত্রী

 আধুনিকায়ন হচ্ছে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।

এদিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় গতকাল বুধবার দিবসটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ সৈন্যদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।’

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা–ও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
City inspector is entering the field to build good habits of citizens

নাগরিকদের সুঅভ্যাস গড়তে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’

নাগরিকদের সুঅভ্যাস গড়তে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ ছবি: সংগৃহীত

নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরি করতে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় (৯নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।

নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই বিশেষ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে মোট ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। মতিঝিল ৯নং ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সফল হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকার সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

তিনি আরও জানান, এই সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলোবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমসমূহ ১০টি জোনে বিভক্ত: পুরো মতিঝিল এলাকাকে ১০টি ভাগে ভাগ করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠে নিয়োজিত থাকবেন।

সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ: ইন্সপেক্টররা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার: নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিকদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি, সিটি ইন্সপেক্টর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Special arrangement for prisoners to watch World Cup football match in Tangail

টাঙ্গাইলে কারাবন্দিদের ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন

টাঙ্গাইলে কারাবন্দিদের ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।

জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Sight is the greatest blessing in human life KCC Admin

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি: কেসিসি প্রশাসক

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি: কেসিসি প্রশাসক

দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।

খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Allegation of contractual recruitment withholding of promotion in state owned industrial enterprise Keru

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরুতে পদোন্নতি আটকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরুতে পদোন্নতি আটকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।

এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
140 families in Lalmohan are afraid of the embankment of Tentulia river

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১৪০ পরিবার

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১৪০ পরিবার ছবি: সংগৃহীত

ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।

উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।

করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।

ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’

লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য

p
উপরে