করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫০

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫০

গত টানা ১০ দিন তিন হাজারের বেশি করোনাজনিত মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এই সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১০ জন, যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে খেই হারা ভারত। কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে শনাক্ত-মৃত্যুর রেকর্ড। দেশটিতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গত ১০ দিন ধরে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বৃহস্পতিবার ভারত করোনা শনাক্তে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ হাজার ৯২৭ জনের।

টানা ১০ দিন তিন হাজারের বেশি করোনাজনিত মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এই সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১০ জন, যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি।

করোনায় ১০ দিনের হিসাবে এতবেশি মৃত্যু দেখেনি আর কোনো দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে ১০ দিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুতে ভারতের ঠিক পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ৩৪ হাজার ৭৯৮ জন। এরপর ব্রাজিল, ৩২ হাজার ৬৯২ জন। এই তালিকায় থাকা পরের দুই দেশ মেক্সিকো, ১৩ হাজার ৮৯৭ জন এবং যুক্তরাজ্য ১৩ হাজার ২৬৬ জন।

করোনা সম্পরর্কীত সরকারি হিসাব তুলে ধরে টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারত চার লাখের বেশি শনাক্ত দেখেছে টানা দুই দিন। বৃহস্পতিবার সংক্রমণ ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৪ জনের শরীরে; বুধবার সংক্রমণ ধরা পড়ে ৪ লাখ ১২ হাজার ৭৮৪ জনের শরীরে।

করোনাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ১০০ এর বেশি মৃত্যু দেখেছে ১৩টি রাজ্য। এর মধ্যে ছয়টি রাজ্যে হয়েছে মৃত্যুর রেকর্ড। জনসংখ্যার হিসাবে ১৩ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রাজ্য উত্তরাখন্ড।

করোনার মধ্যেই এই রাজ্যে হয়েছে কুম্ব মেলা। বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় দশম।

করোনায় মৃত্যুতে রেকর্ড গড়েই যাচ্ছে মহারাষ্ট্র। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫৩ জনে। এ ছাড়া, ৩০০ এর বেশি মৃত্যুর খবর দেয় উক্তর প্রদেশ, দিল্লি ও কর্ণাটক। আর ২০০ এর বেশি মৃত্যু হয়েছে চত্তিশগরে।

এ ছাড়া একশোর বেশি মৃত্যু হওয়া রাজ্যগুলো হলো- তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড, ঝাড়খন্ড, গুজরাট ও পশ্চিমবঙ্গ। একদিনের হিসাবে রেকর্ড মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তামিলনাডু (১৯৫), রাজস্থান (১৬১), পশ্চিমবঙ্গ (১১৭), কেরালা (৬৩) ও জম্মু-কাশ্মীরে (৫২)।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান
ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ
ভারতে করোনা: তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পরিকল্পনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ভারতে রেকর্ড ৪ লাখ ১২ হাজার শনাক্ত
ভারতে মহামারির ‘থার্ড ওয়েভ’ অবধারিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কোরবানি ঈদযাত্রাতেও বিধিনিষেধ

কোরবানি ঈদযাত্রাতেও বিধিনিষেধ

গত ঈদুল ফিতরেও চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সরকার। তা উপেক্ষা করেই ঘরমুখী হয় মানুষ। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখী মানুষের ঢেউ ঠেকাতে আমরা গত বছরও পরিকল্পনা দিয়েছিলাম। এবারও আমরা ঘরমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করছি। নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে ঈদ উদযাপন করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তির দিকে থাকায় রোজার ঈদের মতো কোরবানি ঈদেও সরকারের নানা বিধিনিষেধ আরোপ থাকবে। ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ে আগেভাগেই নিরুৎসাহিত করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কোরবানির পশুর হাটের সংখ্যাও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে রোববার এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম।

গত বছর কোরবানি ঈদের পশুর হাট ও ঈদে ঘরমুখী মানুষের কারণে করোনা সংক্রমণ বেড়েছিল। এ বিষয়ে এবার করণীয় কী?

এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখী মানুষের ঢেউ ঠেকাতে আমরা গত বছরও পরিকল্পনা দিয়েছিলাম। এবারও আমরা ঘরমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করছি। নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে ঈদ উদযাপন করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

‘এ ছাড়া এবার পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনার কথা বলছি। পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে নিশ্চিত করা যায় এ বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হবে। সেই বিষয়ে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এবারও দিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি যদি নিশ্চিত করা যায় সংক্রমণের ঊধ্র্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পশুর হাটগুলোতে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে হাটে যাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া যায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার প্রস্তাবটি বিবেচনা রাখব। এ বিষয়ে আলোাচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ রোধে সরকার প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞা দফায় দফায় বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ।

গত ঈদুল ফিতরেও ঈদযাত্রায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সরকার। বাসসহ যাত্রীবাহী গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেনি ঘরমুখী মানুষ। যে যার মতো করে বাড়ি ফেরে। লঞ্চঘাটগুলোতে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়।

ঈদযাত্রার জের পড়েছে করোনা সংক্রমণেও। ঈদের আগে দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে চলমান বিধিনিষেধ কোরবানির ঈদের পরও অব্যাহত রাখা হবে বলে আগেই জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন।

গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ঈদের পরে ২০-২২ তারিখের দিকে সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিক থেকে আমাদের পরিকল্পনা আছে ঈদের পরে আরও এক সপ্তাহ বিধিনিষেধ চলমান রাখা। আর এর মধ্যে শতভাগ মাস্ক যেন আমরা পরাতে পারি সে ব্যবস্থা করা। আশা করি ১৬ তারিখের মধ্যে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এগুলো জানাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান
ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ
ভারতে করোনা: তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পরিকল্পনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ভারতে রেকর্ড ৪ লাখ ১২ হাজার শনাক্ত
ভারতে মহামারির ‘থার্ড ওয়েভ’ অবধারিত

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যের তথ্য অন্য কোনো মন্ত্রণালয়কে না দেয়ার অনুরোধ

স্বাস্থ্যের তথ্য অন্য কোনো মন্ত্রণালয়কে না দেয়ার অনুরোধ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য প্রদান ও পর্যালোচনা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করার লক্ষ্যে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগিতা আহ্বান করা হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে সুপারিশ করা হয়।

করোনাভাইরাস মহামারি সময়ে তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সকল তথ্য দেয়া ও পর্যালোচনার দায়িত্ব শুধু ওই মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত বলে মত দিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। তাই অন্য কোনো মন্ত্রণালয় যেন স্বাস্থ্যের কোনো তথ্য প্রকাশ না করে, সে জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এই কমিটি।

রোববার সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, মো. আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, রাহগির আলমাহি এরশাদ ও আমিরুল আলম মিলন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য প্রদান ও পর্যালোচনা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করার লক্ষ্যে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগিতা আহ্বান করা হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে সুপারিশ করা হয়।

দেশের সকল জনগণকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দ্রুততার সঙ্গে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা সহজতর প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠাতেও মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে কমিটি।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত কত টাকার মাস্ক ও কিট কেনা হয়েছে, টিকা সংকট মোকাবলায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, টিকা জিটুজি নাকি এজেন্টের মাধ্যমে আনা হচ্ছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আইসিইউ ও অক্সিজেনের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য সংকট থেকে উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরাসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান
ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ
ভারতে করোনা: তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পরিকল্পনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ভারতে রেকর্ড ৪ লাখ ১২ হাজার শনাক্ত
ভারতে মহামারির ‘থার্ড ওয়েভ’ অবধারিত

শেয়ার করুন

জনগণকে ১০০ কোটি টিকা দিল চীন

জনগণকে ১০০ কোটি টিকা দিল চীন

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে করোনার ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় মানুষজন টিকা নেয়ার ব্যাপারে ফের উদ্যোগী হয়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ১০০ কোটির বেশি ডোজ জনগণকে দিয়েছে চীনের সরকার। এ সংখ্যা বৈশ্বিকভাবে দেয়া করোনা টিকার এক তৃতীয়াংশের বেশি।

বিবিসির প্রতিবেদনে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় দেশটির জনগণের মধ্যে টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখা দেয়।

তবে টিকা নিলে বিনা মূল্যে ডিমসহ অন্যান্য প্রণোদনা ও বিশ্বজুড়ে ডেল্টা ধরনের করোনার প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে টিকা গ্রহণ বৃদ্ধি পায়।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ১৪০ কোটি জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশকে পুরোপুরি টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

নিজেদের তৈরি টিকা সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক নিচ্ছে চীনের মানুষ। উভয় টিকারই ডোজ দুটি।

চীনে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ও গণপরীক্ষা ভাইরাসটির সংক্রমণ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। চীনের অনেকের মধ্যে এসব কারণেও টিকা নেয়ার বিষয়ে উৎসাহের ঘাটতি দেখা যায়।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে করোনার ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় মানুষজন টিকা নেয়ার ব্যাপারে ফের উদ্যোগী হয়।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলেছে, সম্প্রতি ১০ কোটি টিকা শেষ হতে মাত্র পাঁচ দিন সময় লাগে।

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংঝাউ শহরের চিকিৎসকেরা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, করোনার ডেল্টা ধরনের উপসর্গ ভিন্ন ও আরও বিপজ্জনক। ২০১৯ সালে উহান শহরে শনাক্ত হওয়া ধরন এত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না।

গুয়াংঝাউ শহরের কাছে শেনজেন শহরের এক বাসিন্দা বলেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে টিকা নিতে চাননি। তবে এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি।

২৭ বছর বয়সী ওই বাসিন্দা বলেন, ‘আমি এখন টিকা নিতে চাই। তবে টিকার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন আর টিকা নিলে বিনা মূল্যে ডিম দেয়া হচ্ছে না। টিকাকেন্দ্রে পৌঁছাতে ফ্রি রাইড দেয়াও এখন বন্ধ।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান
ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ
ভারতে করোনা: তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পরিকল্পনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ভারতে রেকর্ড ৪ লাখ ১২ হাজার শনাক্ত
ভারতে মহামারির ‘থার্ড ওয়েভ’ অবধারিত

শেয়ার করুন

দেশে ফিরলেন আরও ২৪ বাংলাদেশি

দেশে ফিরলেন আরও ২৪ বাংলাদেশি

৩৪ দিনে দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ৯৩৪ জন দেশে ফিরলেন। ছবি: নিউজবাংলা

দর্শনার জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলিম জানান, কলকাতার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে রোববার ২৪ বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরেন। সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। তবে তাদের কারও করোনা শনাক্ত হয়নি।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ২৪ বাংলাদেশি।

এ নিয়ে গত ৩৪ দিনে এই চেকপোস্ট দিয়ে ৯৩৪ জন দেশে ফিরলেন।

দেশে ফেরার পর ওই চেকপোস্টের অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল। তবে এদিন কারও শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি।

দর্শনার জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলিম জানান, কলকাতার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে রোববার ২৪ বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরেন। সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। তবে তাদের কারও করোনা শনাক্ত হয়নি। সেখান থেকে নির্ধারিত পরিবহনযোগে তাদের জেলা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কোয়ারেন্টিনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশের অভিবাসন শাখা (ইমিগ্রেশন) ও শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস) আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতফেরত ব্যক্তিদের নির্ধারিত পরিবহনে (মাইক্রোবাস) করে জেলা প্রশাসনের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ১৪ দিন থাকবেন।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ভারতফেরত ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি দুজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান
ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ
ভারতে করোনা: তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পরিকল্পনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ভারতে রেকর্ড ৪ লাখ ১২ হাজার শনাক্ত
ভারতে মহামারির ‘থার্ড ওয়েভ’ অবধারিত

শেয়ার করুন

ফাইজারের টিকা রাজধানীর তিন কেন্দ্রে

ফাইজারের টিকা রাজধানীর তিন কেন্দ্রে

সোমবার প্রতি কেন্দ্রে ১২০ জন করে মোট ৩৬০ জনকে এই টিকা দেয়া হবে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই টিকা দেয়া হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ আগামীকাল সোমবার রাজধানীর তিন হাসপাতালে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রতি কেন্দ্রে ১২০ জন করে মোট ৩৬০ জনকে সোমবার এই টিকা দেয়া হবে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই টিকা দেয়া হবে।

ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ উদ্বোধনের দিন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের।

পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখার জন্য ৭ থেকে ১০ দিন প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এই টিকা দেয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার থেকে ফাইজারের টিকা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে। যারা এই সেন্টারে নিবন্ধন করে এখনও টিকা পাননি, তাদের মধ্য থেকে ১২০ জনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করে এই টিকা দেয়া শুরু করা হবে।’

তিনি জানান, সোমবারের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর থাকার কথা রয়েছে। উনি না এলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমের মাধ্যমে এই টিকা দেয়া শুরু হবে। ১২০ জনকে দেয়ার পর এক সপ্তাহ বন্ধ থাকবে টিকা প্রয়োগ।

বাংলাদেশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকা শুরু করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা টিকা দিয়ে। অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা কেনার চুক্তি হয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ। তবে রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৭০ লাখ দেয়ার পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি। এ অবস্থায় অন্য দেশ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আর ফাইজারের কিছু টিকা পাওয়া গেছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, কার্যকারিতার দিক থেকে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড, সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি, রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির মতো ফাইজারের টিকাও নিতে হয় দুই ডোজ করে।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশে করোনার টিকা নিশ্চিতের প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের এই টিকা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এই টিকার দাম তুলনামূলক বেশি আর এর কার্যকারিতাও বেশি। এ কারণে এই টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আগেই জানিয়েছেন, নিবন্ধন করেও যারা টিকা পাচ্ছেন না, ফাইজারের টিকা প্রয়োগে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হবে শিক্ষার্থীদেরও।

ফাইজারের ভ্যাকসিন সারা দেশে পরিবহন করার মতো কোল্ড চেইন সিস্টেম না থাকায় এগুলো মূলত রাজধানীতেই দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফাইজারের ভ্যাকসিন অবশ্যই মাইনাস ৬০-৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান
ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ
ভারতে করোনা: তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পরিকল্পনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ভারতে রেকর্ড ৪ লাখ ১২ হাজার শনাক্ত
ভারতে মহামারির ‘থার্ড ওয়েভ’ অবধারিত

শেয়ার করুন

খুলনা বিভাগে এক দিনে মৃত্যু বাড়ল ২৭ শতাংশ

খুলনা বিভাগে এক দিনে মৃত্যু বাড়ল ২৭ শতাংশ

খুলনা বিভাগে এক দিনে সর্বোচ্চ ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। ছবি: নিউজবাংলা

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় ৭, চুয়াডাঙ্গায় ৫, যশোর ও ঝিনাইদহে ৪, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ২ এবং নড়াইল ও মাগুরায় ১ জন করে মারা গেছেন।

খুলনা বিভাগে এক দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার বেড়েছে ২৭ শতাংশ। শনিবার ২২ জনের মৃত্যু হলেও রোববার এই সংখ্যা ২৮। এর মধ্যে আজও কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সেই সঙ্গে বিভাগে ৭৬৩ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সুস্থ হয়েছেন আরও ১৯৪ জন।

রোববার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় ৭, চুয়াডাঙ্গায় ৫, যশোর ও ঝিনাইদহে ৪, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ২ এবং নড়াইল ও মাগুরায় ১ জন করে মারা গেছেন।

শনিবার (১৯ জুন) বিভাগে সর্বোচ্চ ২২ জনের মৃত্যু হয়। আর বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ১৮ জনের মৃত্যু হয়। তবে শুক্রবার (১৮ জুন) বিভাগে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় ২০২০ সালের ১৯ মার্চ।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৪৫ হাজার ৩২ জন। আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৫-এ। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৪ হাজার ৩২০ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২২৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৮২১ জনের দেহে। মারা গেছে ২০৮ জন। সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৯৯২ জন।

বাগেরহাটে নতুন করে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৬৮। এর মাধ্যমে করোনা শনাক্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫০ জনে।

জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৫ জন। সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৭৫৪ জন।

সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয় ১৪ জনের দেহে। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজার ৮৬৬। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৯৭৬ জন।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জনের দেহে। মোট শনাক্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৮০।

জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১০৮ জনের। সুস্থ হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৮।

২৪ ঘণ্টায় নড়াইলে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৪৪ জন। মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৭২। এর মধ্যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৭ জন।

মাগুরায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এ নিয়ে মোট রোগী ১ হাজার ৩৮৫।

এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। জেলায় সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ২২০ জন।

ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯০ জনের দেহে। মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৯৬। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৬ জনের। সুস্থ হয় ২ হাজার ৮৮২ জন।

কুষ্টিয়ায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬৪ জনের। জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৩৩৮ জনের।

জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৪ জনের। সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ৮ জন।

চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৮ জনের দেহে। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৯১ জনের।

জেলায় মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের; সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৯৩৮ জন।

মেহেরপুরে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৯ জন। মোট শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৩ জন।

জেলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৩ জন, সুস্থ হয়েছেন ৯৫৫ জন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান
ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ
ভারতে করোনা: তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পরিকল্পনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ভারতে রেকর্ড ৪ লাখ ১২ হাজার শনাক্ত
ভারতে মহামারির ‘থার্ড ওয়েভ’ অবধারিত

শেয়ার করুন

করোনা: ব্রাজিলে মৃত্যু ছাড়াল ৫ লাখ

করোনা: ব্রাজিলে মৃত্যু ছাড়াল ৫ লাখ

করোনাভাইরাসে প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ব্রাজিল। ছবি: এএফপি

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ফিওক্রুজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি ভীষণ সংকটজনক। টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১৫ শতাংশ। মহামারির দেড় বছর পর দেশটিতে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সরকার কীভাবে সামলাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে ব্রাজিলের কংগ্রেস।

যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারিতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে।

বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে ব্রাজিলের ১ কোটি ৭৯ লাখের কাছাকাছি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে এ সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ও ৩ কোটি।

২৪ ঘণ্টার হিসাবে শনিবার ব্রাজিলে করোনায় প্রাণ গেছে ২ হাজার ২৪৭ জনের। শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৮২ হাজার নতুন রোগী।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক সপ্তাহে দেশটিতে দৈনিক ৭০ হাজার মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় চার মাস ধরে ব্রাজিলে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর গড় দেড় হাজারের বেশি।

এর মধ্যেই দেশটিতে মহামারি পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। কারণ হিসেবে তারা বলছেন করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচির ধীরগতি ও শীতের মৌসুম এগিয়ে আসতে থাকার কথা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্সেলো কুইরোগা শোকাতুর লাখো পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি লিখেন, ‘যারা মারা গেছেন, তাদের বাবা, মা, বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের প্রতি আমার সহমর্মিতা রয়েছে। মহামারির কারণে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু ব্রাজিলের জন্য ভীষণ দুঃখের।’

সম্প্রতি নতুন করে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও ছোঁয়াচে ভাইরাসটির বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি আরোপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো।

‘পরিস্থিতি গুরুতর’

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ফিওক্রুজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি গুরুতর। টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১৫ শতাংশ।

মহামারির দেড় বছর পর দেশটিতে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বলসোনারোর প্রশাসন কীভাবে সামলাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে ব্রাজিলের কংগ্রেস।

মহামারি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা, টিকা-লকডাউন-স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ দেখিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

সে অবস্থান থেকে তিনি অনেকটা সরে এলেও বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে টিকা কিনতে দেরি করেছেন বলসোনারো। মহামারিকে গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করে তুলেছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের ক্রমাগত রূপ পরিবর্তন এবং একের পর এক অধিক সংক্রামক ভ্যারিয়েন্টের কারণে ব্রাজিলে মহামারি নতুন গতিতে বাড়ছে। এর মধ্যে আছে আমাজন বনাঞ্চলে প্রথম শনাক্ত করোনার গামা ভ্যারিয়েন্ট।

দেশটির বেশিরভাগ রাজ্যের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যার তুলনায় রোগী ভর্তির হার ৮০ শতাংশের বেশি।

দক্ষিণ গোলার্ধ্বে আগামী সপ্তাহ থেকে শীতের মৌসুম শুরু হতে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়বে বলে শঙ্কা বাড়ছে।

ফিওক্রুজের ভাষ্য, ‘ব্রাজিলে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের হার অত্যাধিক...শীতের কারণে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার ভয় বেশি।’

এমন পরিস্থিতিতে টিকা কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে আরও অনেক প্রাণহানি হবে বলে সতর্ক করেছেন ব্রাজিলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা আনভিসার সাবেক প্রধান গনজালো ভেসিনা।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ প্রাণ চলে গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে থাকবে। কারণ টিকা কার্যক্রম সম্পন্নে অনেক সময় লাগবে।

‘হয়তো এ বছরে মৃত্যুর মিছিল থামবেও না। কারণ টিকা সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে আমাদের। এমনিতেই টিকা কেনাই হয়েছে দেরিতে।’

টিকা কার্যক্রমের গতি জোরদারের দাবিতে শনিকার ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন লাখো মানুষ।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান
ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ
ভারতে করোনা: তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে পরিকল্পনার নির্দেশ হাইকোর্টের
ভারতে রেকর্ড ৪ লাখ ১২ হাজার শনাক্ত
ভারতে মহামারির ‘থার্ড ওয়েভ’ অবধারিত

শেয়ার করুন