জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের

জাতিসংঘে সাহায্য কমানোর সাফাই যুক্তরাজ্যের

সাহায্য হারানোর ফলে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মৃত্যুঝুঁকিতে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি জাতিসংঘের। ছবি: সংগৃহীত

দরিদ্র দেশগুলোতে মহামারির বিপর্যয় ভয়াবহ বলে জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা সমন্বিত বলে বিবৃতি দেয়ার পরই অর্থ সহায়তা কমানোর ঘোষণা দেয় লন্ডন।

করোনাভাইরাস মহামারির দোহাই দিয়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলো অর্থ সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্তের সাফাই দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

রোববার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব স্কাই নিউজকে বলেন, ‘বিভিন্ন দেশকে আর্থিকভাবে যে সহযোগিতা আমরা দিয়ে আসছি দীর্ঘদিন ধরে, তাতে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেয়া সত্যিই কঠিন ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে এ সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হয়েছে।’

রাব বলেন, মহামারির কারণে ৩০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এমন অবস্থায় নিজস্ব সঞ্চয় থেকে অন্য দেশকে সহযোগিতা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দরিদ্র দেশগুলোতে মহামারির বিপর্যয় ভয়াবহ বলে জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা সমন্বিত বলে বিবৃতি দেয়ার পরই অর্থ সহায়তা কমানোর ঘোষণা দেয় লন্ডন।

বিশ্বের শীর্ষ সাত ধনী দেশের জোট জি-সেভেনের সর্বোচ্চ দাতা ব্রিটিশ সরকার দরিদ্র দেশগুলোতে সহায়তা বাতিল করেছে ব্রিটিশ মুদ্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ডের। চলতি সপ্তাহেই লন্ডনে বৈঠক করবেন জি-সেভেন জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

ইউনিসেফ, ইউএনএইড ও ইউএনএফপিএ’র তথ্য অনুযায়ী, সাহায্য হারানোর ফলে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মৃত্যুঝুঁকিতে পড়বে।

রোববারই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতকে সহযোগিতার জন্য এক হাজার ভেন্টিলেটর পাঠানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য। চিকিৎসা সরঞ্জামে সংকট মোকাবিলায় আগেই ৪৯৫টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ও ২০০ ভেন্টিলেটর পাঠিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন
যুক্তরাজ্যে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১০৭
গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিশুদের হোমওয়ার্কের চাপ কমাতে চীনে আইন

শিশুদের হোমওয়ার্কের চাপ কমাতে চীনে আইন

শিশুদের ওপর পড়াশোনার চাপ কমাতে নতুন আইন পাস করে চীন। ছবি: এএফপি

চীনের বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানায়, নতুন আইনটিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর হোমওয়ার্ক ও প্রাইভেটে পড়ার চাপ কমাতে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও শরীরচর্চা করতে পারে, সে জন্য নতুন ওই আইনে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে শিশুদের মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি তাদের ইন্টারনেট আসক্তিও হ্রাস পাবে।

স্কুলের শিশুদের হোমওয়ার্ক ও প্রাইভেটে পড়ার চাপ কমাতে নতুন একটি আইন এনেছে চীন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া শনিবার তাদের প্রতিবেদনে জানায়, নতুন আইনটির পুরোটা প্রকাশ করা হয়নি। আইনটিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর হোমওয়ার্ক ও প্রাইভেটে পড়ার চাপ কমাতে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও শরীরচর্চা করতে পারে, সে জন্য নতুন ওই আইনে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে শিশুদের মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি তাদের ইন্টারনেট আসক্তিও হ্রাস পাবে।

নতুন এই আইন ছাড়াও চলতি বছরে শিশু-কিশোরদের বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। কিশোরদের অনলাইন গেমসের নেশা কাটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া থেকে শুরু করে ইন্টারনেট সেলিব্রিটিদের প্রতি ভক্তি কমানো ছিল উল্লেখযোগ্য।

সোমবার চীনের পার্লামেন্ট জানায়, কিশোররা খুব খারাপ ব্যবহার করলে বা কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাদের অভিভাবকদের শাস্তি দেয়ার আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিশুদের অনলাইন গেমসের সময় কমিয়ে দেয়। শুধু শুক্র, শনি ও রোববার এক ঘণ্টা করে তারা অনলাইনে গেমস খেলতে পারবে।

এ ছাড়া হোমওয়ার্কের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির দিনে স্কুল শেষে প্রধান বিষয়ে প্রাইভেটে পড়া নিষিদ্ধ করেছে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্কুলের শিশুদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ কমাতে এসব সিদ্ধান্ত নেয় চীনা সরকার।

একই সঙ্গে ‘মেয়েলিপনা’ কমিয়ে আরও ‘পুরুষালি’ হতে দেশের কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানায় চীন।

এ লক্ষ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে ক্যাম্পাসে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা প্রচারে স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন
যুক্তরাজ্যে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১০৭
গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

শেয়ার করুন

কাবুলে বিদ্যুৎ লাইনে বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

কাবুলে বিদ্যুৎ লাইনে বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

বৃহস্পতিবার কাবুলে বৈদ্যুতিক লাইনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আইএস-কে। ছবি: এএফপি

আইএস-কে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে খেলাফতের যোদ্ধারা সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো শহরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করার দায় নিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের [(আইএস) আফগান শাখা আইএস-খোরাসান (আইএস-কে)]।

সশস্ত্র সংগঠনটি শুক্রবার বিস্ফোরণের দায় নেয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আইএস-কে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে খেলাফতের যোদ্ধারা সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

ওই বিস্ফোরণ উচ্চ-ভোল্টেজের একটি বিদ্যুৎ লাইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কাবুলসহ আফগানিস্তানের অন্য কয়েকটি প্রদেশে আমদানি করা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওই লাইন।

আফগানিস্তানের বিদ্যুৎব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর।

মূলত উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে দেশটি। এ কারণে মাঠে-ঘাটের বিদ্যুৎ লাইনে সহজে হামলা চালাতে পারে সন্ত্রাসীরা।

রাজধানী কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া দেশকে স্থিতিশীল রাখার তালেবানের প্রচেষ্টার ওপর আরও একটি আঘাত।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্বীকৃতি পেতে ক্ষমতা দখলের পর দুই মাসের বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তানজুড়ে বেশ কয়েকটি সহিংস হামলা চালিয়ে তালেবানকে উদ্বেগে ফেলেছে আইএস-কে।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে এক শিয়া মসজিদে আইএস-কের বোমা হামলায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়।

এর আগের শুক্রবার ৮ অক্টোবর দেশটির কুন্দুজ শহরে আরেক শিয়া মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আইএস-কে। ওই ঘটনায় অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন
যুক্তরাজ্যে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১০৭
গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

শেয়ার করুন

চার মাস পর চাঁদে নাসার ক্রুবিহীন ফ্লাইট

চার মাস পর চাঁদে নাসার ক্রুবিহীন ফ্লাইট

ফেব্রুয়ারিতে চাঁদে ক্রুবিহীন ফ্লাইট পাঠাচ্ছে নাসা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মহাকাশ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাতে আর্টেমিস-ওয়ান সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ক্রুসহ আর্টেমিস-টু পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেবে এটি। এ ছাড়া চাঁদে মানুষের অবস্থানের ক্ষমতা সম্প্রসারণেও আর্টেমিস-ওয়ান সহায়তা করবে।’

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করতে ক্রুবিহীন কয়েকটি ফ্লাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা। এরপর পৃথিবীর একমাত্র স্যাটেলাইটটিতে ফের পা রাখবেন নভোচারীরা।

নাসার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান

স্থানীয় সময় শুক্রবার নাসা জানায়, চাঁদের একটি কক্ষপথে অরিয়ন মহকাশযান পাঠানোর আগে চলমান বিভিন্ন পরীক্ষার শেষ ধাপে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

নাসা জানায়, ক্রুবিহীন টেস্ট ফ্লাইট আর্টেমিস-ওয়ান ভবিষ্যতে ক্রুসহ ফ্লাইট পরীক্ষার ক্ষেত্র উন্মোচন করবে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রয়ারির আগ পর্যন্ত মহাকাশের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা চালাবে নাসা। এসব পরীক্ষার মধ্যে ইন্টারফেস ও কমিউনিকেশন সিস্টেম পরীক্ষা, ড্রেস রিহার্সালও থাকবে।

ড্রেস রিহার্সাল সফল হলে মহাকাশযান পাঠানোর তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নাসা।

নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মহাকাশ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাতে আর্টেমিস-ওয়ান সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ক্রুসহ আর্টেমিস-টু পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেবে এটি। এ ছাড়া চাঁদে মানুষের অবস্থানের ক্ষমতা সম্প্রসারণেও আর্টেমিস-ওয়ান সহায়তা করবে।’

৫২ বছর আগে অ্যাপোলো ১১ অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রথম চাঁদে মানুষ পাঠায় নাসা। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নিল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে পা রাখেন।

১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মোট ১২ নভোচারী চাঁদে হাঁটতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন
যুক্তরাজ্যে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১০৭
গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

শেয়ার করুন

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

আফগানিস্তানের ময়দান শরে কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুলের একটি ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: এএফপি

মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষক শফিকা বিরোনি বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার শেষ সময়ে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের দখলে নিতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তালেবান।

চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানি হয়। ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকটি স্থাপনা।

আফগানিস্তানের একটি মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের কার্যালয়ও বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়। তাদের শেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বোমায় উড়ে যায়।

তা সত্ত্বেও দেশটির গ্রামাঞ্চলে সন্তানসম্ভবা নারী ও নবজাতক শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ওই শিক্ষকরা। কঠিন পরিবেশেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের দখলে যায়। এর কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

নতুন সরকারের কাছে ওই মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের একটাই চাওয়া, তাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।

কলেজটির ৫২ বছর বয়সী শিক্ষক শফিকা বিরোনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।

‘সমাজের সবচেয়ে নিপীড়িত অংশ নারী ও শিশুদের সেবার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

‘তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

আফগানিস্তানের ওয়ারদাক প্রদেশের রাজধানী ময়দান শরে অবস্থিত ওই কলেজের নাম কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুল। এতে ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। আগামী বছরের মে মাসে তাদের স্নাতক শেষ হবে।

তালেবান ও আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংষর্ষ স্মরণ করে কলেজটির কোর্স ডিরেক্টর খাতুল ফজলি বলেন, ‘ওই সময় প্রতিদিনই এখানে যুদ্ধ হতো। কঠিন সময় পার করেছি আমরা।’

আফগানিস্তানের মিডওয়াইফারি কলেজ কীভাবে চলবে এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা এখনও তালেবান সরকার দেয়নি।

অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো আফগানিস্তানজুড়ে মিডওয়াইফদের সম্প্রতি সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তা হলো, দেশটির ব্যাংকিংব্যবস্থা কাজ না করায় চার মাস ধরে তারা তাদের বেতন পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় গত ১৫ বছরে ময়দান শরসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তার পরও দেশটির শিশু মৃত্যুহার বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া আফগানিস্তানে প্রতিবছর হাজার হাজার নারী প্রসবকালীন জটিলতায় মারা যায়।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন
যুক্তরাজ্যে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১০৭
গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

শেয়ার করুন

সিরিয়ায় ড্রোন হামলায় আল-কায়েদা কমান্ডার ‘নিহত’

সিরিয়ায় ড্রোন হামলায় আল-কায়েদা কমান্ডার ‘নিহত’

সিরিয়ায় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ এক নেতা নিহত হন। ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র মেজর জন রিগসবি বিবৃতিতে বলেন, ‘সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আজ (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ নেতা আব্দুল হামিদ আল-মাতার নিহত হয়েছেন।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইরত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এর দুই দিন পরই আল-কায়েদার এক কমান্ডারকে হত্যা করল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র মেজর জন রিগসবি বিবৃতিতে বলেন, ‘সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আজ (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ নেতা আব্দুল হামিদ আল-মাতার নিহত হয়েছেন।

‘আল-কায়েদার ওই নেতা ছাড়া ড্রোন হামলায় অন্য কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। এমকিউ-৯ বিমানে ওই হামলা পরিচালিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘আল-কায়েদার এই জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যার ফলে বিশ্বজুড়ে আরও হামলা চালানো বা পরিকল্পনা করা এখন সংগঠনটির পক্ষে কিছুটা কঠিন হবে।’

রিগসবি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ আমাদের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য আল-কায়েদা এখনও অনেক বড় হুমকি।

‘নিজেদের সংগঠন পুনর্নির্মাণ, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা শাখাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও হামলা পরিকল্পনার জন্য সিরিয়াকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে আল-কায়েদা।’

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব শহরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আল-কায়েদার আরেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সেলিম আবু-আহমেদ নিহত হন।

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে সে সময় এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘হামলা পরিকল্পনা, তহবিল সংগ্রহ ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সহিংসতায় সেলিম আবু-আহমেদ জড়িত ছিলেন।’

দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধ দেশি-বিদেশি সেনাবাহিনী, মিলিশিয়া ও জিহাদিদের জটিল রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে।

২০১১ সালে সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান কঠোরভাবে দমনের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয়। ওই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন
যুক্তরাজ্যে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১০৭
গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

শেয়ার করুন

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

'দিদির দূত' লেখা এ গাড়িতে বিজেপি কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল। সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

অসিত পুরকায়স্থ, কলকাতা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে স্থানীয় ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ত্রিপুরা সফররত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী সুস্মিতা দেব হামলার শিকার হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর দেশের অন্যান্য রাজ্যে দল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। এরই অংশ হিসেবে ত্রিপুরায় সফর করছেন রাজ্যসভা সদস্য সুস্মিতা।

সুস্মিতার জনসংযোগ কর্মসূচি চলাকালীন শুক্রবার ‘দিদির দূত’ লেখা গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যাগ ছিনতাই ও মোবাইল ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা।

এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দিকে।

সাংবাদিকদের সুস্মিতা বলেন, ‘আক্রমণকারীরা সবাই বিজেপি কর্মী। কেউ মাস্ক পরা ছিল না।’

‘দিদির দূত’ লেখা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেস।

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

‘বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

প্রতিক্রিয়ায় হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজেপি মুখপাত্র অস্মিতা বণিক। তিনি বলেন, ‘অন্য দলের ওপর আক্রমণের সময় আমাদের নেই। ত্রিপুরায় গণতন্ত্র বিদ্যমান। তৃণমূল ছাড়া অনেক বিরোধী দল আছে। তারা নিজেদের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে।’

ত্রিপুরার আসন্ন পৌরভোটে জিততে তৃণমূল কংগ্রেস বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যটিতে ‘দিদির দূত’ জনসংযোগ কর্মসূচিতে নেমেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ এ কর্মসূচি চলবে। প্রচারের জন্য ‘দিদির দূত’ লেখা তৃণমূলের বেশ কিছু গাড়ি সেখানে পৌঁছে গেছে।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় সুস্মিতা দেব বলেন, “‘ত্রিপুরার জন্য তৃণমূল’- এই স্লোগানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দর্শন মানুষের সামনে তুলে ধরছি। ত্রিপুরার ৫৮টি ব্লক ও ১৬টি পৌর এলাকায় হবে আমাদের জনসংযোগ যাত্রা।”

এদিকে, আজই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের রাজ্যটিতে পৌরসভা ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ২৫ নভেম্বর হবে ভোট। বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২৭ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন ৩ নভেম্বর। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল ঘোষণাসহ ভোটের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন
যুক্তরাজ্যে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১০৭
গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ফুসফুস পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন

হাসপাতালে ফুসফুস পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন

ফুসফুস নিয়ে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে অবতরণের পর ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকের ড্রোন। ছবি: ইউরো নিউজ

ড্রোন দিয়ে ফুসফুস পরিবহনের সফল এই ফ্লাইটটি পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়েছিল। অনুমতি পেতে প্রায় অর্ধশতবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংশোধন আনতে হয়েছে। যেমন ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরে ড্রোনটি যেন বেতার তরঙ্গ প্রতিরোধক হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।

রাতের অন্ধকারে টরন্টো শহরে এক হাসপাতালের ছাদ থেকে উড়ে গেল একটি ড্রোন। কানাডার ব্যস্ত ও বৃহত্তম মহানগরীর সড়কে গাড়িঘোড়ার শব্দে ছোট্ট উড়োযানটির আরও ছোট যান্ত্রিক পাখার শব্দ আলাদা করে ধরতে পারেনি পথচলতি মানুষ।

ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট্ট ড্রোনটি বহন করছিল অমূল্য এক সম্পদ মানুষের ফুসফুস, যা প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় কোনো মৃত্যুপথযাত্রী।

প্রথম ফ্লাইটেই আকাশছোঁয়া ভবন, যানজট আর দোকানপাটে মানুষের ভিড় পেছনে ফেলে দ্রুততম সময়ে ফুসফুস গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে ড্রোনটি।

মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস আনা-নেয়া বা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ড্রোনের ব্যবহার নজিরবিহীন, যা করে দেখিয়েছে কানাডা।

এ কাজে ব্যবহৃত ড্রোনটির ওজন মাত্র সাড়ে ১৫ কেজি বা ৩৪ পাউন্ড। কার্বন ফাইবারে তৈরি বিদ্যুৎ-চালিত ড্রোনটি তৈরি করেছে কিউবেকভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকস।

শহরের পশ্চিমে অবস্থিত টরন্টো ওয়েস্টার্ন হাসপাতাল থেকে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে ফুসফুস পৌঁছে দিয়েছে ড্রোনটি। ১০ মিনিটের কম সময়ে অতিক্রম করেছে পৌনে এক মাইল দূরত্ব।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসের শেষ সপ্তাহে। ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয় হলেও পুরো পথে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছিলেন একদল প্রকৌশলী ও চিকিৎসক।

ড্রোনকেন্দ্রিক এ প্রকল্পে কারিগরি একটি দলের সঙ্গে দুই বছর ধরে কাজ করছেন চিকিৎসক শাফ কেশবজি। তিনি বলেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রমাণ করছি আমরা। টরন্টোর মতো ব্যস্ত শহরের মাঝ দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রেখেই ড্রোন চালিয়ে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সম্ভব।’

ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকের ড্রোনবিষয়ক প্রকৌশলী মিখাইল কার্ডিনাল জানান, ড্রোনটি একটি হিমায়িত কালো বাক্স বহন করেছে। ওই বাক্সটি ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নির্ধারিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে সক্ষম’, যেন প্রত্যঙ্গটি মানবদেহের বাইরেও ‘কার্যকর থাকে এবং অন্য দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়’।

ফুসফুসবাহী ড্রোনটির অবতরণের সময় টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে অপেক্ষা করছিলেন অস্ত্রোপচারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সদস্যরা। তারা ড্রোনের ভেতর থেকে প্যাকেটে সংরক্ষিত ফুসফুসটি বের করেন এবং অপেক্ষারত রোগীর দেহে সেটি প্রতিস্থাপন করেন।

প্রাণঘাতী রোগ পালমোনারি ফিব্রোসিসে আক্রান্ত ৬৩ বছর বয়সী এক রোগীর দেহে ফুসফুসটি প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সুস্থ আছেন ওই রোগী।

ড্রোন দিয়ে ফুসফুস পরিবহনের সফল এই ফ্লাইটটি পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়েছিল।

অনুমতি পেতে প্রায় অর্ধশতবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংশোধন আনতে হয়েছে। যেমন ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরে ড্রোনটি যেন বেতার তরঙ্গ প্রতিরোধক হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।

যদি তাও কোনোভাবে চূড়ান্ত ফ্লাইটটি ব্যর্থ হতো, তাও যেন ফুসফুসটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, সেটি নিশ্চিতেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। সে জন্য ড্রোনে একটি ব্যালিস্টিক প্যারাশুট যুক্ত করা ছিল। ড্রোনটি মাঝপথে বিকল হলে সেটিকে ও ফুসফুসটিকে ধীরগতিতে এবং নিরাপদে গন্তব্যে অবতরণে সাহায্য করতো প্যারাশুটটি।

ড্রোন দিয়ে মানবদেহে প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস পরিবহনের ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।

তবে ২০১৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যেও এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ড্রোন দিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনি হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।

সাধারণত বিমানবন্দর হয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ স্থানান্তর করা হয়, বিশেষ করে যখন এক শহর থেকে অন্য শহরে নেয়া হয় সেটি। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ যানবাহনের মাধ্যমে সেটিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে দুটি হাসপাতাল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থানান্তরে সরাসরি ড্রোন ব্যবহার করলে সময় বাঁচে এবং যানজট এড়ানো সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে জন্মনিয়ন্ত্রণে ধস, রেকর্ড নবজাতকের শঙ্কা
ইংল্যান্ডে খুলেছে পাব, সেলুন
যুক্তরাজ্যে ‘কিল দ্য বিল’ বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১০৭
গবেষণায় ব্যয় কমলে বিপর্যয়, শঙ্কা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের

শেয়ার করুন