বরিশালে স্যালাইন সংকট

ডায়রিয়ার প্রকোপ: ‘৯০ টাকার স্যালাইন ১২০’

হাসপাতালে সামনের ওষুধের দোকানের মালিকরা বলছেন, স্যালাইনের দাম বেড়েছে। তবে নগরীর অন্য এলাকার দোকানের মালিকদের বক্তব্য, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে স্যালাইন।

ব‌রিশাল সদরের জাগুয়া ইউ‌নিয়‌নের আব্দুর রব ডায়‌রিয়ায় আক্রান্ত হ‌য়ে সদর হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছেন রোববার। বেড না পেয়ে চি‌কিৎসা নি‌চ্ছেন হাসপাতা‌লের মা‌ঠে।

ভ‌্যান চালক আব্দুর র‌বের অভি‌যোগ, হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে না স্যালাইন, কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল দিয়া এক‌টা স‌্যালাইন দেছেল‌ শরী‌রে দেয়ার লইগ্গা। স‌্যালাইন শেষ হওয়ার পর নার্সগো ধা‌রে চাইছেলাম, হেরা কই‌ছে এহা‌নে নাই। কইলো ফা‌র্মেসি দিয়া কিন্না আনেন।

‘সরকা‌রি হাসপাতা‌লে যদি স‌্যালাইন না থা‌হে তয় মো‌গো মতো গরীব মাইনষে কেম‌নে চি‌কিৎসা নিমু। প‌রে হেই কথা মত দুইটা স‌্যালাইন কেনা লাগ‌ছে।’

আব্দুর রবসহ হাসপাতালে ভ‌র্তি অন্য ডায়রিয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে হাসপাতালের বাইরের ওষুধের দোকানগুলো বেশি দামে স্যালাইন বিক্রি করছে। ৯০ টাকার স্যালাইন কারও কাছে চাওয়া হচ্ছে ১২০ বা ১৩০ টাকা, কারও কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকাও।

স‌রেজ‌মি‌নে সোমবার সকা‌লে সদর হাসপাতা‌লের সাম‌নে দেখা গেল, ডায়রিয়া রোগীর স্বজনরা স্যালাইনের জন্য ভিড় করে আছেন ওষুধের দোকানগুলোতে।

বরিশালে স্যালাইন সংকট

জা‌কিয়া বেগম না‌মে এক রোগীর স্বজন‌ অভিযোগ করেন, ‘এম‌নেই কো‌নো সিট পাই নাই। হের উপর স‌্যালাইনডাও কেনা লা‌গে য‌দি তয় কি‌ চি‌কিৎসা দেয় বু‌ঝিনা।

‘স‌্যালাই‌নের আসল দাম ৯০ টাহা, আর হেই স‌্যালাইন ফার্মেসি ওয়ালারা সি‌ন্ডি‌কেট কইরা ১৩০ টাহায় বে‌চে। এহা‌নের ডাক্তার নার্সরা একটা বা দু্ইটা দিয়াই কয় নাই শেষ স‌্যালাইন।’

হাসপাতা‌লের সামনের দি সেবা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌ল নামের ওষুধের দোকানের কর্মচারি মো. বদরু‌দ্দোজার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন স্যালাইনের দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

তিনি ব‌লেন, ‘হাজার মি‌লির ক‌লেরা স‌্যালাইন রেট ৯০ টাকা ক‌রেই। ত‌বে প্রোডাকশন কম থাকায় কোম্পানি অনেক বে‌শি দা‌মে বি‌ক্রি ক‌রে‌ছে‌। তাই আমা‌দেরও বেশি দামে বি‌ক্রি কর‌তে হ‌য়ে‌ছে।’

হাজরা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌লের মো. শুভ ব‌লেন, ‘৫০০ মিলির ক‌লেরা স‌্যালাই‌নের দাম ৭০ টাকা আর হাজার মিলির কোম্পানি রেট ৯০ টাকা। অনেকে বে‌শি দাম রে‌খে‌ছে। কিন্তু আমরা তা ক‌রি‌নি।’

বরিশালে স্যালাইন সংকট

নগরীর অন্য এলাকার ওষুধের দোকানে গিয়ে জানা গেল, স্যালাইনের দাম বাড়েনি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বিএম ক‌লেজ এলাকার মা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌লের মা‌লিক মো. কা‌দের ব‌লেন, ‘ক‌লেরা স‌্যালাইনের দাম বা‌ড়ে‌নি। যারা বে‌শি দাম নি‌চ্ছে তারা অবৈধভাবে তা নি‌চ্ছে।’

এদিকে, রোগীদের স্যালাইন বেশি কিনতে হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের আবা‌সিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল ব‌লেন, ‘স্বাভা‌বিকভা‌বে একজন রোগী‌কে তিন থে‌কে চারটি স‌্যালাইন আমরা দি‌য়ে থা‌কি। এর বেশি স‌্যালাইন লাগলে তা‌দের কিন‌তে হয় বাই‌রে থে‌কে। এম‌নি‌তে স্যালাইনের কোনো সংকট নেই আমা‌দের।’

ওষুধের দোকানের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্যলাইনের সংকট দেখিয়ে নার্সরা রোগীদের তা কিনতে বাধ্য করছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

বরিশাল বিভাগে কয়েকদিন ধরেই বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। এতে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বরিশালে এর আগে এমন ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যায়নি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছি আমরা। শহরের মানুষ তেমন আক্রান্ত না হলেও, বেশি আক্রান্ত হচ্ছে উপকূল ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ।’

তিনি জানান, অতিরিক্ত গরমে স্বস্তি পেতে মানুষ পান্তা কিংবা শরবত খাচ্ছে বেশি। এসব তৈরিতে দূষিত পানি ব্যবহারের কারণেই ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে বলে তার মত।

বাসুদেব কুমার দাস গত রোববার জানিয়েছিলেন, বরিশাল বিভাগে এ বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের ২০ তারিখ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। সব থেকে বেশি আক্রান্ত দ্বীপ জেলা ভোলায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৪২১। পটুয়াখালীতে আক্রান্ত ৬ হাজার ৭৩৭, পিরোজপুরে ৩ হাজার ৭৫০, বরগুনায় ৪ হাজার ৩৫৩ এবং ঝালকাঠিতে আক্রান্ত ২ হাজার ৯৯৮ জন।

জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের তথ্য অনুযায়ী সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ জন ডায়া‌রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভ‌র্তি হন। জায়গা সল্পতার কার‌ণে অনেককে মা‌ঠে, ভ‌্যানে, গাছ তলায় বা ড্রেনের পা‌শে চি‌কিৎসা নি‌তে দেখা গে‌ছে।

আরও পড়ুন:
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় যা করবেন

করোনা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় যা করবেন

শিশুদের করোনা ঝুঁকিও কম নয় দ্বিতীয় ঢেউয়ে, তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আর তেমন নির্ভার থাকতে পারছেন না কোনো বাবা-মা। এবার করোনা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠায় শিশুরাও নিরাপদে নেই। এরইমধ্যে অনেক শিশু মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিতে শিশুদের আক্রান্তের খবর খুব একটা পাওয়া যায়নি। তাই অনেক বাবা-মা মনে করেছেন তাদের শিশুরা অন্তত নিরাপদ।

কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আর তেমন নির্ভার থাকতে পারছেন না কোনো বাবা-মা। এবার করোনা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠায় শিশুরাও নিরাপদে নেই। এরইমধ্যে অনেক শিশু মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এমন অবস্থা থেকে দেখা দিয়েছে আশংকা। শিশুদের নিরাপদ রাখতে কি করবেন তা জানার চেষ্টা করা হয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্ব্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে শিশুদেরও করোনা সংক্রমিত হওয়ার হার বেশি দেখতে পেয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, দ্বিতীয় ঢেউেয় বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা। মানে আরও বেশি ছোঁয়াচে হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসরদের ভাষ্য, পরিবারের একজন আক্রান্ত হলেই পরিবারে শিশুসহ অন্যরাও এবার আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।

এ জন্য কেউ একজন আক্রান্ত হলেই পরিবারের সবারই করোনার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এটা খুব জরুরি বলেই মত তাদের। বলছেন, এটা করা গেলে শিশুদের সাবধান রাখা যেমন সম্ভব হবে, তেমনি আবার তাদের সুরক্ষিত রাখতেও সহায়তা করবে।

এটা আরও একটা কারণে করার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। সেটা হচ্ছে, পরীক্ষা না করালে হঠাৎ করে যদি অবস্থার কোনো অবনতি হয় তাহলে হাসপাতালে ভর্তি করাতেও অসুবিধায় পড়তে হতে পারে।

পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে শিশুদের তার থেকে দূরে রাখতে বলছেন চিকিৎসকরা।

পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে একটু কষ্ট হলেও শিশুদের ক্ষেত্রেও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানোর পরামর্শ চিকিৎসকদের। কেননা এই প্রক্রিয়ায় ফলস নেগেটিভ আসার আশংকা কম থাকে। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় সঠিক ফল পাওয়া যায় বেশি।

বাড়ির কোনো শিশু আক্রান্ত হলে প্রথম কাজ হবে, বার বার জ্বর মাপা। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় পর পরই শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দেখতে হবে। এমনকি তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

যেসব শিশু বিভিন্ন রোগে ভুগছে তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সম্ভব হলে আইসিইউ সাপোর্ট আছে এমন হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

শেয়ার করুন

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫০

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫০

গত টানা ১০ দিন তিন হাজারের বেশি করোনাজনিত মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এই সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১০ জন, যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে খেই হারা ভারত। কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে শনাক্ত-মৃত্যুর রেকর্ড। দেশটিতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গত ১০ দিন ধরে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বৃহস্পতিবার ভারত করোনা শনাক্তে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ হাজার ৯২৭ জনের।

টানা ১০ দিন তিন হাজারের বেশি করোনাজনিত মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এই সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১০ জন, যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি।

করোনায় ১০ দিনের হিসাবে এতবেশি মৃত্যু দেখেনি আর কোনো দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে ১০ দিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুতে ভারতের ঠিক পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ৩৪ হাজার ৭৯৮ জন। এরপর ব্রাজিল, ৩২ হাজার ৬৯২ জন। এই তালিকায় থাকা পরের দুই দেশ মেক্সিকো, ১৩ হাজার ৮৯৭ জন এবং যুক্তরাজ্য ১৩ হাজার ২৬৬ জন।

করোনা সম্পরর্কীত সরকারি হিসাব তুলে ধরে টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারত চার লাখের বেশি শনাক্ত দেখেছে টানা দুই দিন। বৃহস্পতিবার সংক্রমণ ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৪ জনের শরীরে; বুধবার সংক্রমণ ধরা পড়ে ৪ লাখ ১২ হাজার ৭৮৪ জনের শরীরে।

করোনাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ১০০ এর বেশি মৃত্যু দেখেছে ১৩টি রাজ্য। এর মধ্যে ছয়টি রাজ্যে হয়েছে মৃত্যুর রেকর্ড। জনসংখ্যার হিসাবে ১৩ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রাজ্য উত্তরাখন্ড।

করোনার মধ্যেই এই রাজ্যে হয়েছে কুম্ব মেলা। বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় দশম।

করোনায় মৃত্যুতে রেকর্ড গড়েই যাচ্ছে মহারাষ্ট্র। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫৩ জনে। এ ছাড়া, ৩০০ এর বেশি মৃত্যুর খবর দেয় উক্তর প্রদেশ, দিল্লি ও কর্ণাটক। আর ২০০ এর বেশি মৃত্যু হয়েছে চত্তিশগরে।

এ ছাড়া একশোর বেশি মৃত্যু হওয়া রাজ্যগুলো হলো- তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড, ঝাড়খন্ড, গুজরাট ও পশ্চিমবঙ্গ। একদিনের হিসাবে রেকর্ড মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তামিলনাডু (১৯৫), রাজস্থান (১৬১), পশ্চিমবঙ্গ (১১৭), কেরালা (৬৩) ও জম্মু-কাশ্মীরে (৫২)।

আরও পড়ুন:
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

শেয়ার করুন

লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান

লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান

এই সময়ে বন্ধ থাকবে গাড়ি চলাচল। জন সমাগম হয় এমন ধরনের কোনো আয়োজন করা যাবে না। আয়োজন করে বিয়েশাদী বন্ধ থাকবে ৩১ মে পর্যন্ত। তবে আদালতে বা ঘরোয়া পরিবেশে সর্বোচ্চ ১১ জনের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করা যাবে।

করোনাভাইরাসের দ্রুত বিস্তার রোধে লকডাউনে যাচ্ছে ভারতের রাজস্থান। ১০ মে থেকে এই লকডাউন কার্যকর করতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। চলবে ২৪ মে পর্যন্ত।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সময়ে বন্ধ থাকবে গাড়ি চলাচল। জন সমাগম হয় এমন ধরনের কোনো আয়োজন করা যাবে না। আয়োজন করে বিয়েশাদী বন্ধ থাকবে ৩১ মে পর্যন্ত। তবে আদালতে বা ঘরোয়া পরিবেশে সর্বোচ্চ ১১ জনের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করা যাবে।

গ্রাম অঞ্চলেও করোনা ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক সুরক্ষার আওতায় থাকা প্রকল্পগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। বন্ধ রাখা হবে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো। লকডাউনের সময়টায় বাড়িতে থেকে ধর্মীয় আচার পালনে অনুরোধ করা হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ আলাদা নির্দেশনা দেবে বলে রাজস্থান রাজ্য সরকার থেকে বলা হয়েছে।

করোনার বিস্তার রোধে একই ধরনের লকডাউন চলছে দিল্লিতে। ভারতের আরও অনেক রাজ্য একই ধরনের লকডাউনের পথে হাঁটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ভারতে যেসব রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে এর মধ্যে রাজস্থান অন্যতম। বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে ১৭ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৬১ জনের।

রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যস্থানে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখ ২ হাজার ৫৬৮ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ১৮২ জনের।

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় যাতে অক্সিজেন সংকট না হয় সেজন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন রাজস্থান মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থামছে না। প্রায় প্রতিদিনই সংক্রমণের রেকর্ড হচ্ছে। শনাক্ত ছাড়িয়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ। মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার।

আরও পড়ুন:
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

শেয়ার করুন

ভারতফেরত করোনা রোগীকে ছাড়পত্র: চিকিৎসককে শোকজ

ভারতফেরত করোনা রোগীকে ছাড়পত্র: চিকিৎসককে শোকজ

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক জানান, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ এলেও পিসিআর পদ্ধতির টেস্টে সোমবার আবু হেনার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে আবু হেনার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি হাসপাতালে তিনি নেই।’

ভারতে থেকে দেশে আসা আবু হেনা নামের এক করোনা রোগীকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে নিয়মবর্হিভূতভাবে ছাড়পত্র দেয়ায় সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরুরি সভায় তাকে শোকজ করা হয়।

ভারতফেরত আবু হেনা নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র চকদেব মহল্লার বাসিন্দা। বুধবার হেনাকে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসার জন্য যান আবু হেনা। সেখানে ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ২৭ এপ্রিল বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে হাসপাতালে আইসোলেশনে ছিলেন।

৩০ এপ্রিল সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতালে অ্যান্টিজেন ও পিসিআর দুই পদ্ধতিতে করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক রিপোর্টে নেগেটিভ আসে। তবে পরে পিসিআর টেস্টে পজিটিভ আসে।

চকদেব মহল্লার কাওসার ও একরামুল হকসহ কয়েকজন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জানতাম না হেনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এখন ভয় হচ্ছে, কারণ তার আমাদের অনেকে ঘোরাফেরা করেছে।’

আবু হেনা বলেন, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ আসা আর শারীরিক অসুস্থতা না থাকায় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ সবাইকে অনুরোধ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে রোববার বাসায় আসি। এরপর থেকে সরকারি নিয়ম মেনে বাসাতেই হোম কোয়ারেন্টিনে আছি।’

বর্তমানে তার কোনো শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। তার পরিবারের লোকজনও সবাই ভালো আছেন বলে দাবি করেন আবু হেনা।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক জানান, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ এলেও পিসিআর পদ্ধতির টেস্টে সোমবার আবু হেনার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে আবু হেনার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি হাসপাতালে তিনি নেই।

‘এর পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আগের দিন রোববার সন্ধ্যায় আবু হেনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানী।’

ভারতে করোনার মহামারি ভয়াবহতার বিষয়টি জানার পরও নিয়মবর্হিভূতভাবে কাউকে না জানিয়ে ছাড়পত্র দেয়ায় বুধবার জরুরি সভায় তাকে শোকজ করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে হাসপাতাল থেকে ঠিকানা নিয়ে আবু হেনার সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের লোকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ জানান, তিনি, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওসহ অন্যদের না জানিয়েই ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় গেছেন আবু হেনা। হেনার করোনা পজিটিভ আসার ঘটনাটি জানতে পেরে ও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ তিনি তার বাড়ি গেছেন। তাকে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার অনুরোধ জানালেও তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। বাসাতেই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

শেয়ার করুন

দেশে টিকা উৎপাদন করতে চায় ৫ কোম্পানি

দেশে টিকা উৎপাদন করতে চায় ৫ কোম্পানি

‘আমাদের বেশ কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি করোনা টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সরকার বর্তমানে তিন কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করবে। এটা আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধী টিকা উৎপাদন করতে চায় দেশের বড় পাঁচটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়া ও চীনের উদ্ভাবিত টিকা দেশেই উৎপাদন করতে সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে তারা।

টিকা সরবরাহ নিয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চুক্তির পর দেশেই টিকা উৎপাদনের কথা জানিয়েছে সরকার। তবে এই টিকা নিজেরা উৎপাদন করবে, নাকি বেসরকারি পর্যায়ে উৎপাদন হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি এখনও।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিডেটের টিকা উৎপাদনের প্রাথমিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি।

এদের মধ্যে রেনেটা এবং ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার টিকা উৎপাদনের প্রযুক্তি চেয়ে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসনের কাছে আবেদনও করেছে।

এদের মধ্যে পপুলার, হেল্থকেয়ার, ইনসেপটা ও রেনাটা রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে টিকা প্রযুক্তির জন্য।

গত ২ মে রাশিয়কে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে ওরিয়ন ফার্মা। দুই দিন পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেই বিষয়টি তারা জানিয়েছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান জানান, ‘আমাদের বেশ কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির করোনা টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সরকার বর্তমানে তিন কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করবে। এটা আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।’

দেশে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচির শুরু হয় সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া উৎপাদিত টিকা দিয়েই। তবে হঠাৎ ভারতের এই প্রতিষ্ঠান টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় টিকার সংকটে পড়ে দেশ।

সংকট নিরসনে সরকার বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা পেতে যোগাযোগ করছে। গত ২৭ এপ্রিল রাশিয়ার মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুৎনিক-ভি ও ২৯ এপ্রিল চীনের সিনোফার্মের টিকাকে জরুরি প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এই দুটি দেশ থেকে টিকা কেনার পাশাপাশি তাদের টিকা দেশে উৎপাদনের প্রযুক্তি নিতে চায়।

সেসব দেশ থেকে টিকা কিনে আনার পাশাপাশি ফর্মুলা গোপন রাখার শর্তে চীন ও রাশিয়ার টিকা দেশেই উৎপাদন করতে চায় সরকার। সরকারের এই কাজে সহযোগিতা করবে দেশীয় এই ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

কী বলছে কোম্পানিগুলো

ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা উৎপাদনে সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা কাজ করতে চাই। সরকার থেকে সবুজ সংকেত পেলেও টিকা উৎপাদনে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।’

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন রোগের ১৪টি টিকা উৎপাদন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনার টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা প্রতি মাসে ৮০ লাখ ডোজ।’

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উপবিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বিশ্বাস নিউজবাংলাকে জানান, তারা প্রতি মাসে ২০ লাখ ডোজ টিকা উৎপাদন করতে পারবেন। তবে সরকারের সহযোগিতা পেলে তা ৫০ লাখে নেয়া সম্ভব।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বলছে, এক বছর আগেই তারা টিকা উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন রোগের টিকা উৎপাদনও চলছে।


কোম্পানিটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, ‘সরকার চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এর বেশিকিছু এই মুহূর্তে বলতে পারব না।’

রেনেটার মহাব্যবস্থাপক কামরুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সরকার অনুমতি দিলে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা মডার্নার টিকা আনতেও চিঠি দিয়েছি।’

ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের কোম্পানি সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, ‘এটি একেবারেরই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আমরা রাশিয়ার কাছে বাংলাদেশের অন্যান্য কোম্পানির মতো আবেদন করেছি। তাদের প্রযুক্তি স্থানান্তরে দ্য রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডকে (আরডিআইএফ) জানিয়েছি যে, তাদের টিকা তৈরির সক্ষতা আমাদের আছে। এখন রাশিয়া বাংলাদেশের কাকে এ টিকার অনুমোদন দেবে, সেটি তাদের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আবেদনের বিষয়টি আমরা ওষুধ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু না।’

শেয়ারদরে উল্লম্ফন

যে পাঁচটি কোম্পানি টিকা উৎপাদন করতে চায়, তার মধ্যে দুটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। দুটির দামই পুঁজিাবাজারে বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ঘোষণা দিয়েছে ওরিয়ন ফার্মা। তারা জানিয়েছে, রাশিয়ার কাছে আবেদনের বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। যা নিয়মিত ও সাধারণ ব্যবসায়িক যোগাযোগের অংশ।

এই ঘোষণার পর দুই দিন কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। শেয়ারদর ৪৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয় ৫১ টাকা ৪০ পয়সা।

এদিন কোম্পানির গত এক মাসের সবচেয়ে বেশি শেয়ার লেনদেনও হয়েছে। হাতবদল হয় ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৫টি শেয়ার।

বৃহস্পতিবার দাম বাড়ে আরও আড়াই টাকা। দাম দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ৯০ পয়সা।

অবশ্য রেনেটা লিমিটেড কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। তবে বৃহস্পতিবার এই কোম্পানির শেয়ারদরও বেড়েছে। ২১ টাকা বেড়ে ১০ টাকা মূল্যমানের শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

শেয়ারদর ১ হাজার ২৭৮ টাকা থেকে হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

আরও পড়ুন:
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

শেয়ার করুন

ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ

ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ

করোনাভাইরাসের দাপটে বিপর্যস্ত ভারত। ছবি: সংগৃহীত

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের প্রায় ১৩ হাজার নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট ও ছত্তিশগড়সহ আটটি রাজ্যে মিলেছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি বি.ওয়ান.সিক্সওয়ানসেভেন ভাইরাস।

ভারতে মার্চে আবিষ্কৃত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসই দেশটিতে চলমান বিপর্যয়ের কারণ। যেসব রাজ্য মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সবগুলোতেই শনাক্ত হয়েছে ‘ডবল মিউট্যান্ট’ বা বি.ওয়ান.সিক্সওয়ানসেভেন করোনাভাইরাসের বিপুল সংক্রমণ।

ভারতের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তার সূত্র উল্লেখ করে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে আবিষ্কৃত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এ করোনার সঙ্গে বিপুল প্রাণহানি ও সংক্রমণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

তবে আরও গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টির গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

স্বাস্থ্যবিদদের মতে, ডবল মিউটেশন’-এর হলো একই ভাইরাসে এক সঙ্গে দুই ধরনের বিবর্তন সংঘটিত হওয়া। এর ফলে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও সহজে ফাঁকি দিতে পারে ভাইরাসটি।

ভাইরাসের বাইরের এই আমিষের আবরণকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘স্পাইক প্রোটিন’, যার মাধ্যমে ভাইরাসটি মানবদেহের কোষে প্রবেশ করতে পারে।

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের প্রায় ১৩ হাজার নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট ও ছত্তিশগড়সহ আটটি রাজ্যে মিলেছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি বি.ওয়ান.সিক্সওয়ানসেভেন ভাইরাস।

বুধবার ২৪ ঘণ্টায় ভারতে রেকর্ড চার লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত এবং তিন হাজার ৯৮০ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে ভারতে মহামারির তৃতীয় ধাক্কা অবধারিত বলে হুঁশিয়ারি দেন সরকারের বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কে বিজয়রাঘবন। এর ফলে প্রাণহানি ও সংক্রমণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও থার্ড ওয়েভ কবে নাগাদ আঘাত হানতে পারে, তা এখনও অস্পষ্ট।

করোনায় প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পরের অবস্থান ভারতের। দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার।

সংক্রমণ শনাক্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। দেশটিতে এ নিয়ে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ১৪ লাখ মানুষের দেহে।

ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে করোনার টেস্ট কিট, ওষুধ, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের। রোগীর বিপরীতে স্বাস্থ্য খাতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক লোকবল সংকট।

আরও পড়ুন:
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

শেয়ার করুন

করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ

করোনায় সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ

মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মরণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে বাংলাদেশ চীনমৈত্রী সেতুর কাছে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। ছবি: সংগৃহীত

দেশে মোট করোনা শনাক্তের মাত্র ২.০৭ শতাংশ বেশি ময়মনসিংহ বিভাগে। ঠিক পরেই রয়েছে বরিশাল বিভাগ। এই বিভাগে শনাক্তের হার ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ, ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং রংপুর বিভাগ, ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করলেও এর প্রভাব তেমন পড়েনি চার বিভাগে। এর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ ময়মনসিংহ বিভাগ।

দেশে মোট করোনা শনাক্তের মাত্র ২.০৭ শতাংশ নবীন এই বিভাগে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশ বা অঞ্চলের করোনা সংক্রমণ হার ৫ শতাংশের নিচে হলে সেখানকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়। ময়মনসিংহ বিভাগে শনাক্তের এই হার এখন অবধি ৫ শতাংশের অর্ধেকের কম।

করোনায় নিরাপদের দিক থেকে ময়মনসিংহের ঠিক পরেই রয়েছে বরিশাল বিভাগ। এই বিভাগে শনাক্তের হার ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ, ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং রংপুর বিভাগ, ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

শুরু থেকেই করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। মোট সংক্রমণের অর্ধেকেরই বেশি এই বিভাগে, ৫৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। মোট শনাক্তের ১৮.৩৫ শতাংশ রয়েছে এই বিভাগে।

করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই আছে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে। এর মধ্যে মোট শনাক্তের ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ আছে খুলনা বিভাগে। আর রাজশাহী বিভাগে আছে ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় বেশি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ছবি: নিউজবাংলা

মোট শনাক্তের ৮৭ দশমিক ৮২ ভাগই চার বিভাগে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা। বাকি ১২ দশমিক ২০ ভাগ ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রংপুরে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে এই চারটি বিভাগে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা) করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। সিটি করপোরেশন যেখানে আছে, সেখানেও সংক্রমণের হার তুলনামুলক বেশি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে করোনা সংক্রমণের মোট শনাক্তের ৫৮ শতাংশই ঢাকায়। ১১ হাজারের মৃত্যুর মধ্যে ঢাকাতেই মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার। চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজারের ওপরে। রাজশাহীতে সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ এবং খুলনায় ৬ শতাংশ।

তিনি বলেন, দেশে মোট ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে কয়েকটি জেলায়। এই সংক্রমণ কমানোর জন্য সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বিভাগ অনুযায়ী করোনাভাইরাসে শনাক্তের হার। সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে দেশে ট্রেন, বাস ও নদীপথ বন্ধ থাকবে। বিয়েশাদির অনুষ্ঠান, পিকনিক করা যাবে না। রেস্তোরাঁয় খাওয়া যাবে না। এ ছাড়া, আগের দেয়া ১৮ দফা বহাল থাকবে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ৩৮ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর চেয়ে কম মৃত্যু হয় ২৮ মার্চ। ওই দিন ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১ হাজার ৮২২ জনের শরীরে। দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৬০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৭৯৬ জনের।

গত এক দিনে দেশের ৪২৮টি ল্যাবে ২১ হাজার ৫৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন। মোট সুস্থ ৭ লাখ ২ হাজার ১৬৩ জন। সুস্থতার হার ৯০.২৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ, নেপথ্যে দূষিত পানি

শেয়ার করুন