করোনায় যা যা করণীয়: ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ  

করোনায় যা যা করণীয়: ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ  

করোনায় আক্রান্ত হলে অবশ্যই আইসোলেশনে থাকতে হবে। আইসোলেশন মানে, এই ১৪ দিন ঘরের বাইরে যাবেন না, বাড়ির অন্য কারো সঙ্গে মিশবেন না। কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীর খাবার ঘরের দরজার বাইরে রেখে আসতে হবে, কেউ ভেতরে ঢুকবেন না।

সারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বহু দেশ এখন চরম বিপর্যস্ত। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন দেশে বাড়ছে শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।

প্রথিতযশা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবিএম আব্দুল্লাহ নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন তিনি সুস্থ আছেন।

তার পরামর্শ, একজন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে অবশ্যই তাকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে থাকতে হবে।

আর আইসোলেশন মানে হলো, এই ১৪ দিন তিনি নিজে ঘরের বাইরে যাবেন না, আবার বাড়িতে অন্য কারো সঙ্গে মিশবেন না। ঘরে অবস্থানকালে পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শও এড়িয়ে চলতে হবে। কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীর খাবার ঘরের দরজার বাইরে রেখে আসতে হবে, কেউ ভেতরে ঢুকবেন না।

ঘরের বাইরের অন্য কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে নিজে না গিয়ে কারো সহায়তা নেয়াই ভালো। ঘরে পোষা প্রাণী থাকলে তাদের সংস্পর্শে না যাওয়াই ভালো। এক কথায় নিজে নিজেকেই অন্যদের থেকে পৃথক করে রাখা। এতে পরিবারের বা সমাজের অন্যরা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে না

আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় যদি কারোর জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা বেশি দেখা দেয়, তাহলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে।

করোনায় আক্রান্ত মানেই মৃত্যু নয়

করোনা মানেই কি মৃত্যু? করোনা মানেই মৃত্যু নয়। বরং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে, আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে শিশুসহ সবাই ক্রমে সুস্থ হয়ে ওঠে।

এজন্য দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। ভালো হবে প্রতিদিন সুষম খাবার, টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে পারলে। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। ধূমপান ও মদ্যপান একদম নয়। আপনার শরীরে যদি করোনাভাইরাস ধরা পড়ে, তাহলে দুশ্চিন্তা না করে চিকিৎসা নিন। ভাইরাস পজিটিভ মানে মৃত্যু নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্তদের শতকরা ৬ জনের মৃত্যু হয়।

আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজে একটি রুমে আবদ্ধ হয়ে যান। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করুন। যদি রুমে অ্যাটাস্ট বাথরুম থাকে তাহলে ভালো হয়।

পূর্বের কোনো রোগ থাকলে বা সেই রোগের জন্য ওষুধ খাচ্ছেন, এমন ওষুধসহ থালা-বাসন থেকে শুরু করে যা দরকারি জিনিস সঙ্গে রাখুন।

আসল কথা হলো সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে আপনি পরিবার থেকে দূরে থাকুন। এমন রুমে অবস্থান করুন যেখানে আপনার পরিবারের সদস্যরাও ঢুকবেন না। এমনকি আপনি ওই রুম থেকে বের হবেন না।

মনে রাখবেন, করোনায় আক্রান্ত হলেও অনেকের উপসর্গ দেখা যায় না। অনেকের আবার জ্বর জ্বর ভাব থাকে। কারো যদি জ্বর জ্বর ভাব থাকে থার্মোমিটার নিয়ে নিজেই পরিমাপ করে নিতে হবে। শুধু যদি জ্বর হয় তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আপনি ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।

যে সব প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখবেন

আপনারা জানেন, কভিড-১৯-এর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসক লক্ষণ বুঝে উপসর্গ দেখে, নানা রকম চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। আপনার যদি এক শর ওপরে জ্বর থাকে; আর আপনি যদি পূর্ণবয়স্ক হন, তাহলে দিনে তিনবার প্যারাসিটামল খান। এভাবে কিছুদিন খেতে থাকেন, দেখবেন আপনার জ্বর, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা এমনিতেই চলে যাবে।

যদি সর্দি, হাঁচি ও কাশি থাকে, তাহলে সিরাপ খেতে পারেন। ফেক্সোফেনাডিন প্রতিদিন একটা করে খান, দেখবেন কিছুদিন পর হাঁচি ও কাশি দূর হয়ে গেছে।

যদি কাশি বেশি হয় তাহলে তুসকা সিরাপ খেতে পারেন। তুসকা ছাড়াও বাজারে অনেক ধরনের সিরাপ রয়েছে; সেগুলো খেতে পারেন। শরীরে যদি ব্যথা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন।

মনোবল চাঙা রাখতে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকুন

করোনা আক্রান্ত হলে সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো মনোবল শক্ত রাখা। যার যার সৃষ্টিকর্তাকে ডাকবেন। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে এই রোগ থেকে নিশ্চয়ই মুক্তি দান করবেন।

আপনি যদি মনোবল দুর্বল করে ফেলেন, তাহলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

আপনি যদি মনোবল শক্ত রাখতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনি এমনি বৃদ্ধি পাবে। করোনাভাইরাস আপনাকে কিছু করতে পারবে না।

‘অনেক রিপোর্টেই আমরা দেখেছি, বয়স্ক কিংবা অন্য কোনো রোগ আছে, এমন ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে। এটি আসলে অনেক ক্ষেত্রেই ভুল।

‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যেকোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সেই রোগের চিকিৎসা আছে। আপনি করোনা আক্রান্ত, আপনার আগে থেকে ডায়াবেটিস আছে, তাহলে আপনি করোনার সঙ্গে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাও নেবেন।’

যে সময় হাসপাতালে যেতে হবে

নতুন ধরনের ভেরিয়েন্ট দ্রুত মানুষকে দুর্বল করে ফেলছে। দ্রুত অক্সিজেন লেভেল কমে আসছে। তাই করোনায় আক্রান্তের পর যদি শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তাহলে আপনি এজমাসল ওষুধ ইউজ করবেন। ওষুধে যদি কাজ না হয়, করোনার চিকিৎসা দেয়, এমন হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। তবে উন্নত দেশগুলোতে ঘরে বসেই বেশির ভাগ রোগী করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অনেক সময় এমনও হয়েছে, হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগী বেকায়দায় পড়েছেন, এমনকি মারাও গেছেন। তীব্র শ্বাসকষ্টে অক্সিজেন প্রয়োজন হলে অবশ্যই হাসপাতালে যাবেন। তাৎক্ষণিক অক্সিজেনের ব্যবস্থা করবেন।

যে সব খাবার খাবেন

আপনি বাসায় বসে ভিটামিন সি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করবেন। ঘনঘন চা পান করবেন। সব খাবার গরম খান। প্রচুর পরিমাণে রঙিন শাকসবজি খান। প্রোটিন খান।

ডিম খাবেন ও দুধ পান করবেন। করোনা আক্রান্ত হলে ঠান্ডাজাতীয় কোনো কিছুই আপনি খেতে পারবেন না।

আইসোলেশনে যেভাবে সময় কাটাবেন

এই অবসর সময়ে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকার সবচেয়ে মোক্ষম সময়। মুসলিম হলে নামাজ পড়বেন। অন্য ধর্মের হলে উপাসনা করতে পারেন। মোবাইলের মাধ্যমে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সামাজিক দূরত্ব মেনটেইন করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। সকাল বিকেল এক সময় শরীর চর্চা করতে পারেন। সবচেয়ে বড় বিষয় সামাজিক দূরত্ব মেইনটেইন করা।

প্রয়োজন হলেও আপনি বাইরে যেতে পারবেন না। কোনো প্রয়োজনে আপনার ঘরেও কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আইসোলেশনে রাখতে হবে। আপনি আইসোলেশনে থাকবেন, মনোবল শক্ত করবেন, দেখবেন খুব দ্রুত এই ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভ করেছেন।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব
করোনায় আরও ৬৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে শয্যা খালি নেই
চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড খালি মাত্র ৪টি
সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনায় মৃত্যু ৭৪

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সপ্তাহে ১ ডোজ টিকাও যায়নি কাশ্মীরে

সপ্তাহে ১ ডোজ টিকাও যায়নি কাশ্মীরে

জম্মু-কাশ্মীরে ২৪ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে লকডাউন। ছবি: এনডিটিভি

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় জম্মু-কাশ্মীরে লকডাউন ২৪ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হাতে গোনা জরুরি কয়েকটি সেবা বাদে সবকিছুই বন্ধ। বাড়ির বাইরে বের হওয়াও নিষিদ্ধ।

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি থমকে গেছে। গত এক সপ্তাহে এক ডোজ টিকাও অঞ্চলটিতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। টিকার মজুত পৌঁছেছে শূন্যের কোঠায়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার উপত্যকাটির ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশের বেশির ভাগ জেলায় এক ডোজ টিকাও পায়নি কেউ। রাজধানী শ্রীনগরেও একই হাল।

এদিন প্রায় দেড় কোটি বাসিন্দার মধ্যে মাত্র ৫০৪ জন টিকা নিয়েছেন।

সপ্তাহব্যাপী টিকা সরবরাহ বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘এর আগের শনিবার শেষবার টিকার একটি চালান এসেছিল। সব দিয়ে দেয়া হয়েছে। আর কোনো টিকা আমাদের হাতে নেই।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় কাশ্মীরে লকডাউন ২৪ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হাতে গোনা জরুরি কয়েকটি সেবা বাদে সবকিছুই বন্ধ। বাড়ির বাইরে বের হওয়াও নিষিদ্ধ।

করোনার বিস্তার রোধে শ্রীনগরে আসা-যাওয়া বন্ধ; ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে রাস্তাঘাট। অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন শেষে রাজ্যটি থেকে কয়েক হাজার সেনাসদস্যকে কাশ্মীরে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এরপর আরও কঠোর হয়েছে বিধিনিষেধ।

তবে সোমবার থেকে লকডাউন শিথিলের কথা ছিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে।

কাশ্মীরে এ পর্যন্ত করোনায় প্রাণহানি হয়েছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। শনাক্ত হয়েছে আড়াই লাখের বেশি।

অঞ্চলটিতে পুলিশ, সেনাসদস্যসহ ২৮ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই।

দেশজুড়ে ১৮ ও তার বেশি বয়সী সবার টিকাদান শুরু হলেও কাশ্মীরে তা হয়নি। পুরো অঞ্চলটিতে কেবল দুটি টিকাকেন্দ্রে ১৮ বছর বয়সীদের টিকা দেয়া হচ্ছে। তা-ও দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ ডোজ করে। টিকা সংকটে এই কর্মসূচিও এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব
করোনায় আরও ৬৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে শয্যা খালি নেই
চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড খালি মাত্র ৪টি
সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনায় মৃত্যু ৭৪

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 

চট্টগ্রামে ভারতফেরত ৪ জনের করোনা পজিটিভ 

‘করোনা আক্রান্ত চারজনের কারও শরীরে ভারতীয় ভ্যরিয়েন্ট আছে কিনা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। এর জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে।’

চট্টগ্রামে ভারতফেরত চারজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে তাদের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি

নিউজবাংলাকে শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে এই তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির।

ভেরতফেরত করোনা আক্রান্তরা হলেন খুলশী থানার বাসিন্দা জাহেদা বেগম, পটিয়ার সুলতান আহমেদ, হালিশহরের সাজেদা আক্তার এবং সাতকানিয়ার মিজানুর রহমান। এর মধ্যে মিজানুর সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাকিরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ মে পর্যন্ত ভারতফেরত ৪২ জন এসেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এর মধ্যে ১৭ জন রোগী ও বাকিরা রোগীর স্বজন। সাধারণত হাসপাতালে আসার পর ভেরতফেরত সবার এন্টিজেন ও পিসিআর টেস্ট করা হয়। তাদের সবার এন্টিজেন টেস্ট নেগেটিভ আসলেও ১৩ মে চারজনের পিসিআর টেস্টে করোনা পজিটিভ আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত চারজনের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাকি একজনকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বাকি ৩৮ জনকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাধ্যমে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।’

করোনা আক্রান্ত চারজনের শরীরে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত চারজনের কারও শরীরে ভারতীয় ভ্যরিয়েন্ট আছে কিনা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। এর জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে।’

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব
করোনায় আরও ৬৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে শয্যা খালি নেই
চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড খালি মাত্র ৪টি
সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনায় মৃত্যু ৭৪

শেয়ার করুন

৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১

৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১

গত ২১ মার্চ দেশে করোনায় ২২ জনের মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে দিক থেকে ৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যুর খবর জানানো হলো শনিবার।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৬১ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২১ মার্চ দেশে করোনায় ২২ জনের মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে দিক থেকে ৫৫ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যুর খবর জানানো হলো শনিবার।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে সাত লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৬ জনের দেহে। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ১২৪ জনের।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫৯টি ল্যাবে তিন হাজার ৭৫৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬.৯৫ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৬৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬৪ জন সুস্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজার ৪৩৫ জন। সুস্থতার হার ৯২.৫২ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২২ জনের মধ্যে ১৭ পুরুষ ও ৫ নারী।

বয়স বিবেচনায় মৃত ২২ জনের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব চার, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৬, ষাটোর্ধ্ব ১২ জন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব
করোনায় আরও ৬৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে শয্যা খালি নেই
চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড খালি মাত্র ৪টি
সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনায় মৃত্যু ৭৪

শেয়ার করুন

গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

গণপরিবহন চালুতেই সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

ঈদে ফেরিতে গাদাগাদি করে লোকজন বাড়িতে যাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ যেভাবে বাড়ি ফিরেছে তাতে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এভাবে একটি খাত বন্ধ রেখে ভোগান্তি না বাড়িয়ে বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনসহ সব পরিবহন খুলে দেয়া হোক।

ঈদের ছুটি শেষ হবে শনিবার। আগামীকাল থেকেই ঢাকায় আসতে হবে ঈদের আগে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া লোকজনকে। তবে যেভাবে ঢাকা থেকে মানুষ গ্রামে ফিরেছে একইভাবে ঢাকায় আসার বিপক্ষে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালু করাই হবে ভালো সমাধান।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় সরকার ৪ এপ্রিল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ১৮টি বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন ও শপিং মল বন্ধ রাখার কথা বলা হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে বিধিনিষেধ বাড়লেও খুলে দেয়া হয় শপিং মল। এরপর আস্তে আস্তে বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার। মানুষের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

গত দুই সপ্তাহে শপিং মলগুলোতে ঈদ কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। এরপর গত সপ্তাহে খুলে দেয়া হয় নগর পরিবহন। তবে চালু করা হয়নি আন্তজেলা বাস। আর এতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি চরম মাত্রায় বাড়তে থাকে।

ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষ নানা উপায়ে ভিড় করে ফেরি ঘাটে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে পার হয় ফেরি। সংক্রমণ বাড়ার কথা বলে সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সেটি উপহাসে পরিণত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ যেভাবে বাড়ি ফিরেছে তাতে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এভাবে একটি খাত বন্ধ রেখে ভোগান্তি না বাড়িয়ে বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনসহ সব পরিবহন খুলে দেয়া হোক।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। এভাবে যারা ঢাকা ছেড়েছে সেখানে বরং স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণ নেই।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব খুলে দিতে হবে। সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে এখন। শুধু সড়ক পরিবহন নয়, নৌপরিবহনও খুলে দিতে হবে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ঈদের আগে যেমন দুই-তিন দিনের মধ্যে মানুষ বাড়িতে ফিরে গেছে আসার ক্ষেত্রে একটু সময় নিতে পারে। যেভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে, সেটা একটু মনিটরিং করলে আর কোনো সমস্যা হবে না।’

দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের যে অবস্থা তাতে তো আপনি সবকিছু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকতে পারেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব খুলে দেয়া যেতে পারে। আর আমরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু করতে পারি।’

হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অবশ্যই গণপরিবহন খুলে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেখুন ঈদের আগে মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় শহর থেকে বাড়ি যাবে। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং জনমনস্তত্ত্বের সাথে জড়িত। এটিকে মাথায় রেখেই আমাদের পরিকল্পনা করা উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দুইটি উপায় নেয়া উচিত ছিল। এক. আপনি সব কিছু বন্ধ রাখুন। সে ক্ষেত্রে বাইসাইকেল থেকে শুরু করে অ্যারোপ্লেন বন্ধ থাকবে। কেউ কোথাও যেতে পারবে না। শুধু অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলবে। দুই. আপনি সব খোলা রাখেন, যাতে সবাই যাতায়াত করতে পারে।’

‘কিন্তু সরকার এটি না করে কী করল? যাদের প্রাইভেট কার আছে বা বেশি ভাড়া দিয়ে গাড়ি নিতে পারবে আবার যাদের বিমানের টিকিটের টাকা আছে, তারা বাড়ি যাচ্ছে। কিন্তু প্রান্তিক মানুষ কিন্তু সেটি পারছে না। তাই তারা বাড়ি যাচ্ছে। ১৬ তারিখে অফিস খুলবে। আমরা যাই নির্দেশ দিই আর না দিই তারা তো চাকরি বাঁচাতে ফিরে আসবে।’

সংকট নিরসনে দুটি পরামর্শ দিয়েছেন লেলিন।

তিনি বলেন, ‘সরকার ছুটি আরও তিন দিন বাড়িয়ে দিক। আর এটি সব সরকারি ও বেসরকারি কর্মস্থলে প্রযোজ্য থাকবে। না হয় বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক গণপরিবহন খুলে দিক। এতে চাপ কমতে পারে।

‘নির্দিষ্ট বিভাগ অনুযায়ী মানুষ গণপরিবহনে ফিরে আসুক। তবে অবশ্যই সেটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অথবা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি, সেনাবাহিনীর গাড়ি দিয়ে দেয়া হোক। অবশ্যই সেটি দুই সিটে একজন করে বসবে।’

সরকার ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদের পর আরও অন্তত এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর ২০ থেকে ২২ তারিখের দিকে সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। এ দিক থেকে আমাদের পরিকল্পনা আছে ঈদের পরে আরও এক সপ্তাহ বিধিনিষেধ চলমান রাখা অন্তত।’

আন্তজেলা পরিবহন খুলে দেয়া নিয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, ‘এখন যে অবস্থা, সেটা আমরা চিন্তা করছি। ২০-২২ তারিখে কী অবস্থা হয়, সেটা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যা আছে সেভাবেই। নতুন কিছু থাকলে সেটা জানানো হবে। কী হবে সেটা সবটা ১৬ তারিখে জানানো হবে।’

পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেভাবে মানুষ বাড়িতে গিয়েছে তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণ ছিল না। যদি গণপরিবহন খুলে দেয়া হয় আর সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় তবে কিন্তু এই সমস্যা থাকত না।’

সরকার কী কারণে পরিবহন বন্ধ রাখতে বলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার সংক্রমণের ভয় পাচ্ছে। তবে যেভাবে এখন সবকিছু চলছে তাতেই তো সংক্রমণ বাড়ার কথা।

‘আমরা তো দেখেছি ফেরিতে মানুষ কীভাবে পার হয়েছে। সেখানে গণপরিবহন থাকলে সুষ্ঠুভাবে যাওয়া যেত।’

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব
করোনায় আরও ৬৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে শয্যা খালি নেই
চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড খালি মাত্র ৪টি
সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনায় মৃত্যু ৭৪

শেয়ার করুন

আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট

আবু হেনার ‘মর্জিতে’ ৯ কোটি টাকার করোনা কিট

সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। ছবি: সংগৃহীত

সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান গত ৯ মে জিএস বায়োটেক নামের একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই এক লাখ আরটি পিসিআর কিটের সরবরাহ নেন। এই সরবরাহের আগে কোনো ধরনের নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) ইস্যু করা হয়নি। এছাড়া, কেনাকাটার প্রতিটি ধাপে হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম।

সরকারি আইন ও বিধি না মেনেই কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপো-সিএমএসডি) প্রায় ৯ কোটি টাকার করোনা পরীক্ষার আরটি পিসিআর কিট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি কার্যাদেশ ও ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়াই এসব কিট কেনা হয়েছে।

এর আগে গত বছরেও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ৩৪৩ কোটি টাকার বিল আটকে আছে।

অভিযোগ উঠেছে, সেই সমালোচনা রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কোনো রকম চুক্তি ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান তার ‘পছন্দের কোম্পানির’ কাছ থেকে এক লাখ কিট কিনেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের মাধ্যমে সম্প্রতি ৯ কোটি টাকায় ১ লাখ কিট কিনেছে সিএমএসডি। এসব কিট গত রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুঝে নিয়েছে। এর আগে ৬ মে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এ ব্যাপারে অনাপত্তি দেয়।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান গত ৯ মে জিএস বায়োটেক নামের একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই এক লাখ আরটি পিসিআর কিটের সরবরাহ নেন। এই সরবরাহের আগে কোনো ধরনের নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) ইস্যু করা হয়নি।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে যে কোনো সরবরাহ নেয়ার আগে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন পেতে হয়। আনুষ্ঠানিক দর কষাকষির পর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রস্তাব ঠিক করে ক্রয় প্রক্রিয়া শুরুর বিধান রয়েছে।

এই অনুমোদন পাওয়ার পর নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড জারি করে কার্য সম্পাদন জামানত ও কার্য সম্পাদন চুক্তি করে সরবরাহ নেয়ার নিয়ম রয়েছে।

তবে এক লাখ কিট কেনার ক্ষেত্রে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে তার একক সিদ্ধান্তে জিএস বায়োটককে কিট সরবরাহের অনুমতি দেন। কিট সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াটিই অস্বচ্ছ হওয়ায় এখানে ব্যাপক দুর্নীতির শংকা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি সরবরাহ কাজে কোনো প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। তবে নতুন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের করোনা কিটের রিএজেন্ট নিয়ে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।

কিটের কার্টন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, জিএস মূলত একটি গার্মেন্টস কোম্পানি। সিএমএসডি পরিচালকের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কোনো যোগ্যতা ছাড়াই এই কোম্পানি কিট সরবরাহ করেছে।

করোনা পরীক্ষার আরটি পিসিআর কিট আমদানি করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এনওসি বা অনাপত্তি নিতে হয়। নিউজবাংলার হাতে আসা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এনওসিতে দেখা যায়, কিট সরবরাহকারী প্রকৃত প্রতিষ্ঠান চিনের সানসিউর কোম্পানি। তবে সরাসরি তাদের কাছ থেকে না এনে হংকংয়ের জাইলি ইন্ডস্ট্রি কোম্পানি নামে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে এগুলো দেশে আনা হয়েছে।

হংকং থেকে কিট সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়ম মানা হয়নি। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছ থেকে এনওসি নেয়া হয় ২৩ এপ্রিল। এই এনওসি দেয়ার পূর্ব শর্ত হিসেবে ওয়ার্ক অর্ডার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হয়। তবে এগুলো এনওসি পেয়েছে জিএস বায়োটেক।

অভিযোগ আছে, ক্রয় কমিটি থেকে শুরু করে মূল্য যাচাই কমিটিতে একটি একটি চক্র রয়েছে, যার সবাই সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামানের ঘনিষ্ঠ।

প্রতিষ্ঠানটির আগের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন কেনাকাটার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, কখনও কখনও মালামাল কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় অনুমোদন, অধিদপ্তর অনুমোদন, ক্রয় কমিটি ও মূল্য যাচাই কমিটির মিটিং, নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড ইস্যু, কার্যাদেশ চুক্তি সবই একই তারিখে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, আবু হেনা মোর্শেদ জামান সব ধরনের জরুরি কেনাকাটায় একক সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। সবশেষ এক লাখ কিট কেনায় অনিয়মের তথ্য পেয়ে বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল মহাখালির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টোর পরিদর্শন করে। সেখানকার নথি ঘেঁটে জানা যায়, গত ৯ মে জিএস বায়োটেকের কাছ থেকে থেকে এক লাখ পিসিআর কিট বুঝে নিয়েছেন স্টোর কিপার। তবে তার কাছে কোনো ওয়ার্ক অর্ডার বা আনুষঙ্গিক কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। শুধু জিএস বায়োটেকের একটি অসম্পূর্ণ চালান কপি পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) উপসচিব শরীফ মুহম্মদ ফয়েজুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলার উপযুক্ত ব্যক্তি নই। আমি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এখানে অ্যাটাচমেন্টে আছি। কোনো অনিয়মের বিষয়ে জানতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষেরর কাছ থেকে জেনে নেন।’

অন্যদিকে, সিএমএসডির উপ-পরিচালক তউহীদ আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্টি পণ্যের কেনাকাটায় কোনো অনিয়ম হলে এবং সেক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আমরা দেখব।’

নতুন প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের মাধ্যমে করোনা কিটের মতো স্পর্শকাতর পণ্য সংগ্রহ ঝুঁকিপূর্ণ কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারের কিছু প্রেসক্রাইবড ফরম্যাট আছে, কোনো কিছু কিনতে হলে সেভাবে দরপত্র আহ্বান করতে হবে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সিটিউ একটা প্রতিষ্ঠান আছে, তার মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড ডক্যুমেন্ট তৈরি করা থাকে, এই ডক্যুমেন্টস অনুযায়ী কারও যদি লাইসেন্স না থাকে বা অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকে তাহলে অটোমেটিক্যালি বাদ পড়ে যাবে। অভিজ্ঞতা না থাকলে তার এগেইন্সেটে একটা পয়েন্ট থাকে।’

তউহীদ আহমদ বলেন, ‘এ বছর টেন্ডার দিয়ে কোনো মালামাল সংগ্রহ করা হয় নাই। যে কয়টা মালামাল কেনা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি পারমিশনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।’

বিতর্ক ওঠা এক লাখ কিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপিএম (ডাইরেক্ট পার্চেজ মেথড) পদ্ধতিতে আনা হলে সেটা আমার দেখার বিষয় না, এ বিষয়ে ডিরেক্টরের কাছে জানতে পারেন।’

গত বছর কার্যাদেশ ছাড়া কেনাকাটার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কার্যাদেশ ছাড়া জিনিসপত্র আনায় সমস্যা হয়েছে। বিল-টিল আটকে আছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামানের মোবাইল ফোনে অনেকবার কল করা তিনি রিসিভ করেননি। মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

কিট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জিএস বায়োটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈকত সাহার মোবাইল ফোনে কল করেও সাড়া পায়নি নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব
করোনায় আরও ৬৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে শয্যা খালি নেই
চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড খালি মাত্র ৪টি
সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনায় মৃত্যু ৭৪

শেয়ার করুন

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬৫

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬৫

ভারতে তিন হাজারের নিচে নামছে না করোনায় দৈনিক মৃত্যু। এমন পরিস্থিতিতে শ্মশানে লাশ দাহে দিন পার করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। ছবি: এনডিটিভি

ভারতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৯০৭ জনে। দেশটিতে ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ২০৭ জনের।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিন হাজার ৮৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে হিসাবে দেশটিতে প্রতি ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৬৫.৮৩ জনের।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৯৮ জনের দেহে। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৯০৭ জনে।

ভারতে করোনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৬৬ হাজার ২০৭ জনের।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে কর্ণাটকে। রাজ্যটিতে এ সময়ে ভাইরাস শনাক্ত হয় ৪১ হাজার ৭৭৯ জনের দেহে।

মহারাষ্ট্রে শনাক্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ৯২৩ জন। রাজ্যটিতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭১৪ জনের।

কর্ণাটকে মৃত্যু হয়েছে ৩৭৩ জনের। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি হয়েছে ৩১১ জনের।

করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি কমাতে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে লকডাউন চলছে দিল্লিতে। এর প্রভাব পড়তে পারে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে।

দিল্লিতে শুক্রবার শনাক্ত হয় ৮ হাজার ৫০৬ জন। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীতে ১০ এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো শনাক্ত ১০ হাজারের নিচে নামে।

মুম্বাইয়েও আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। মহারাষ্ট্রের রাজধানীতে শুক্রবার বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা কমে ৩৭ হাজার ৬৫৬তে নামে।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব
করোনায় আরও ৬৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে শয্যা খালি নেই
চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড খালি মাত্র ৪টি
সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনায় মৃত্যু ৭৪

শেয়ার করুন

এ বছর ‘অনেক বেশি প্রাণঘাতী হবে’ করোনা

এ বছর ‘অনেক বেশি প্রাণঘাতী হবে’ করোনা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নিয়মিতই মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড হচ্ছে ভারতে। ফাইল ছবি

ডব্লিউএইচওর ডিজি বলেন, ‘প্রথম বছরের চেয়ে দ্বিতীয় বছরে অনেক বেশি প্রাণঘাতী মহামারি দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।’

সংক্রমণের দ্বিতীয় বছরে করোনাভাইরাস আরও বেশি প্রাণঘাতী হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) টেডরোস আধানম গেব্রিয়েসুস শুক্রবার এমন সতর্কবার্তা দেন।

তিনি বলেন, ‘প্রথম বছরের চেয়ে দ্বিতীয় বছরে অনেক বেশি প্রাণঘাতী মহামারি দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।’

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডব্লিউএইচওর ডিজি এমন এক সময়ে বার্তাটি দিলেন যখন জাপান আরও তিনটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

অলিম্পিক শুরু হওয়ার মাত্র ১০ সপ্তাহ আগে এমন ব্যবস্থা নিল পূর্ব এশিয়ার দেশটি। এমন বাস্তবতায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে অলিম্পিক গেমস বাতিলের জন্য একটি পিটিশন দিয়েছে বন্ধের পক্ষের প্রচারকারীরা।

জাপানে মে মাসের শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ছিল টোকিওসহ বেশ কিছু শহরে। সে তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো হিরোশিমা, ওকায়ামা ও উত্তর হোক্কাইদো।

করোনার চতুর্থ ঢেউ মোকাবিলা করতে গিয়ে চাপে পড়েছে জাপানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। দেশটিতে এ গ্রীষ্মে অলিম্পিক গেমস আয়োজন বন্ধে জনমত দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

টোকিওর সাবেক গভর্নর পদপ্রার্থী কেনজি উৎসুনোমিয়া রাজধানীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে অলিম্পিক গেমস বন্ধে পিটিশন দিয়েছেন। তিনি খেলার চেয়ে জীবনকে অগ্রাধিকার দিতে আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাপানের মতো দুঃসংবাদ আছে তাইওয়ানের জন্যও। দেশটির রাজধানী তাইপেতে বিনোদনের ভেন্যু, লাইব্রেরি ও স্পোর্টস সেন্টারগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাইলটদের মধ্যে নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর পর তাইওয়ান এ ব্যবস্থা নেয়।

করোনা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি তাইওয়ানে। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ১ হাজার ২৯০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১২ জনের।

ভারতে প্রয়োগ শুরু হচ্ছে রাশিয়ার টিকার

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে প্রয়োগ শুরু হচ্ছে রাশিয়ার টিকা স্পুৎনিক-ভি। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রথমবারের মতো বিদেশি কোনো টিকার প্রয়োগ হচ্ছে।

প্রথম ব্যাচে রাশিয়ার টিকার দেড় লাখ ডোজ ১ মে আসে ভারতে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় চালান আসার কথা রয়েছে।

ভারতের শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পুৎনিক-ভি উৎপাদনে চুক্তি হয়েছে রাশিয়ার। ভারতে বছরে এ টিকার ৮৫ কোটি ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

বিশ্বে অন্য সব দেশে দৈনিক যতসংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, শুধু ভারতেই সে পরিমাণ মানুষের দেহে রোজ ভাইরাসটি শনাক্ত হচ্ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতে শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের।

চীনের উহানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে করোনা প্রথম ধরা পড়ে। এরপর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে এএফপির হিসাবে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব
করোনায় আরও ৬৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৪৬২
কুমিল্লা মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে শয্যা খালি নেই
চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড খালি মাত্র ৪টি
সব রেকর্ড ছাড়িয়ে করোনায় মৃত্যু ৭৪

শেয়ার করুন