দেশে যেভাবে রেকর্ড করল করোনা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানায় উদাসীন মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

দেশে যেভাবে রেকর্ড করল করোনা

‘বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে করোনা বেশি ছড়াচ্ছে। হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি হচ্ছেন, তারা দুই-এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ করেছেন।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল গত ডিসেম্বর থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এরপর থেকে তীব্র গতিতে ছুটছে। গত দুই সপ্তাহে শনাক্তের হার বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি।

২ এপ্রিল পর্যন্ত কোভিড-১৯ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ জন। এদিকে টানা ছয় দিন পাঁচ হাজারে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির পেছনে গণটিকাদান শুরুর পর মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতাকেই মূলত দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনাভাইরাসের নতুন ধরনও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তারা।

হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগে লকডাউনে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সংক্রমণ কমতে কমতে গত ৩ ডিসেম্বর শনাক্তের হার নেমে এসেছিল ২-এর ঘরে। চলতি সপ্তাহে তা ছাড়িয়ে গেছে ২৩ শতাংশের বেশি। গত ১৪ দিনে শনাক্তের হার বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি। গত বছরের ১৬ জুলাই এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন শনাক্ত ছিল ৩ হাজার ৭৩৩ জন। তবে গত ছয় দিন পাঁচ হাজারের ওপরে রোগী শনাক্ত হচ্ছে তা এক বছরের মধ্যে দেখেনি বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ সরকারিভাবে প্রথম মৃত্যুর ঘোষণা আসে। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ছিল ২০ শতাংশের ওপরে।

এর পর ধীরে ধীরে কমতে থাকে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর রোগী শনাক্তের হার কমে ২ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমে আসে। ডিসেম্বর থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত শনাক্তের হার ছিল ৫ শতাংশের নিচে। তবে গত ৯ মার্চ তা বেড়ে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছায়। ৩ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২৩ শতাংশের ওপরে।

দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজারের বেশি মানুষ। শনাক্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৭ জন। আর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে টিকা নিয়েছেন ৫৪ লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৯৩৬ জনের শরীরে। টিকা পেতে নিবন্ধন করেছেন ৬৮ হাজারের বেশি।

হঠাৎ কেন করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তার কারণ অনুসন্ধান করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান শুরু হওয়ার পর থেকেই মানুষের মধ্যে গা-ছাড়াভাব তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ। বিয়েশাদি ও সামাজিক অনুষ্ঠান, ভ্রমণ বেড়েছে। এসব কারণেই রোগী বাড়ছে। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই করোনা বাড়ছে। এরই মধ্যে আইসিইউ সংকট দেখা দিয়েছে।

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। করোনার প্রকোপ শীতে কম কেন এমন প্রশ্নে নিউজবাংলাকে তিনি বলেছিলেন, শীতে অন্যান্য ভাইরাসের প্রকোপ বেশি থাকে। এ কারণে শীতকালে করোনা সংক্রমণ অনেকটা কমে আসে।

করোনা কেন হঠাৎ বাড়ছে এবং প্রতিরোধে করণীয় জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানা পূর্বশর্ত। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে শিথিলতা রয়েছে। আমরা মাস্ক পরছি না। বিয়েশাদি ও সামাজিক অনুষ্ঠান স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেছে।

‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। টিকা নেই আর না নেই, আমাদের মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। ৩০ মিনিট পরপর হাত ধুতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।’ সরকার যে নকডাউন ঘোষণা করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা বিষয়ে গুরুত্ব নেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি সারা বিশ্বে দেখা দিয়েছে, এটা শুধু বাংলাদেশে নয়। যে কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। করেনা ভাইরাসের প্রথম ডোজ টিকা দেয়া বন্ধ হচ্ছে আগামী সোমবার। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু হবে। প্রথম ডোজ যারা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজের জন্য মোবাইল ফোনে এসএমএস দেয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনার নতুন ধরন একটু ভিন্ন। আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। নতুন ধরনে কারও ক্ষেত্রে ফুসফুস, আবার কারও গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিক্যাল সিস্টেমগুলো মারাত্মকভাবে সংক্রমিত হয়। তখন দ্রুততম সময়ে চিকিৎসার আওতায় নেয়া প্রয়োজন। এ জন্য হাসপাতালগুলোকে জোরদার প্রস্তুতি নিতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে করোনা বেশি ছড়াচ্ছে। হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি হচ্ছেন, তারা দুই-এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ করেছেন। পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

যেভাবে বেড়েছে শনাক্তের হার

করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে আট মার্চ, এরপর মার্চজুড়ে শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ১৮ শতাংশে। এপ্রিলে এই হার ১২ দশমিক ০৮-এ এসে দাঁড়ায়, মে মাসে হার ছিল ১৬ দশমিক ১৭। জুনের দিকে শনাক্তের হার একটু বেড়ে ২১ দশমিক ৪৯-এ দাঁড়ায়। জুলাইয়ে সেটা আরও বেড়ে ২২ দশমিক ৪৬ শতাংশে দাঁড়ায়। এরপর আবার কমতে থাকে করোনা শনাক্তে হার। আগস্টজুড়ে হার ছিল ২০ দশমিক ১৮। সেপ্টেম্বর শনাক্তের হার নেমে আসে ১২ দশমিক ৭০-তে।

নভেম্বরে আবার করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকে, এ মাসে শনাক্তের হার ছিল ১৩ দশমিক ১২। ডিসেম্বর ও জানুয়ারির শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারি শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত করোনা নিয়ন্ত্রণে ছিল দেশে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে থেকে করোনা শনাক্তের হার বাড়তে থাকে। আর মার্চ শনাক্তের হার ১০ দশমিক ১৯।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি মাঠ প্রশাসন
মজুতে টান: ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ টিকার প্রথম ডোজ
লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ
লকডাউন শুনেই মূর্ছা গেলেন চা বিক্রেতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ

অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ

রাজশাহীতে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। ছবি: নিউজবাংলা

আরএমপি কমিশনার বলেন, ‘কোভিড আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের রোগী বা তার স্বজনরা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নম্বরে কল করলে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ পুলিশ সদস্য রোগীর ঠিকানায় উপস্থিত হবেন। সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক গিয়ে রোগীকে পরীক্ষা করে অক্সিজেন দেবেন।’

পুলিশের নম্বরে ফোন দিলেই করোনা রোগীর বাড়ি পৌঁছে যাবে অক্সিজেন। পুলিশের সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক।

রাজশাহী মহানগরের করোনা রোগীদের বিনা মূল্যের এই সেবা দিতে চালু করা হয়েছে পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যাংক।

নগর পুলিশ কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এই ব্যাংকের উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

অক্সিজেন সরবরাহের এ সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরএমপি থেকে একটি ফোন নম্বর দেয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘কোভিড আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের রোগী বা তার স্বজনরা কন্ট্রোল রুমের নম্বরে কল করলে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ পুলিশ সদস্য রোগীর ঠিকানায় উপস্থিত হবেন। সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক গিয়ে রোগীকে পরীক্ষা করে অক্সিজেন দেবেন। তারা রোগীকে অক্সিজেনসহ চিকিৎসা সেবা দেবেন।’

পুলিশ কমিশনার আবু কালাম বলেন, ‘এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে ইন্সপেক্টরসহ ১০ জনকে সিলিন্ডার ব্যবহার, স্পিড মাত্রা নির্ধারণ ও রিফিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনকে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।’

৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও শিগগিরই তা ১০০ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অক্সিজেন ব্যাংক উদ্বোধনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপি কর্মকর্তা সুজায়েত ইসলাম, মজিদ আলী, রশীদুল হাসান, সাজিদ হোসেনসহ অনেকে।

আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের দেয়া কন্ট্রোল রুমের নম্বরটি হলো ০১৩২০-০৬৩৯৯৮।

ঈদের পর করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেসামাল হয়ে পড়েছে। সাধারণ ওয়ার্ডগুলো একের পর এক করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে; সম্প্রসারণ হতে হতে এখন হাসপাতালের এক-চতুর্থাংশ করোনা ইউনিটে রূপান্তর হয়েছে। তারপরও বেড সংকুলান করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি মাঠ প্রশাসন
মজুতে টান: ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ টিকার প্রথম ডোজ
লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ
লকডাউন শুনেই মূর্ছা গেলেন চা বিক্রেতা

শেয়ার করুন

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

করোনা টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকক্ষেত্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভারতের বেশ কয়েকজন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে গেছে দাবি করা ব্যক্তির গায়ে সামান্য পাউডার লাগিয়ে দিতেই শরীর থেকে উধাও চুম্বকশক্তি। গায়ে লেগে থাকছে না হাতা, খুন্তি, চামচ, খুচরো পয়সা। ফলে টিকার সঙ্গে এর যে কোনো সম্পর্ক নেই সেটি প্রমাণিত ।

বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন, টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে যাওয়া ভুয়া, ভিত্তিহীন খবর।

সম্প্রতি শিলিগুড়ির নেপাল চক্রবর্তী, তেহট্টের প্রবীর মণ্ডল, বসিরহাটের শংকর প্রামাণিক টিকা নেয়ার পর শরীরে ধাতব জিনিস আটকে যাচ্ছে, শরীর হয়ে উঠেছে চুম্বক ক্ষেত্র বলে দাবি করে যে খবর হয়ে ছিল সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।

বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, বর্ষার সময় হওয়ায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরে ঘাম বেশি হয়। এ কারণে এসব জিনিস আটকে যাচ্ছে শরীরে।

শরীর ও ধাতব বস্তুর মধ্যে থাকা পৃষ্ঠটান সেই কাজে খানিকটা সাহায্য করছে। এর সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নাই। ম্যাগনেটম্যানরা শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ।

ম্যাগনেট ম্যানদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে, ভারত সরকারের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও জানিয়ে দিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের টিকা নিয়ে কোনো ব্যক্তির শরীরে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হওয়া অসম্ভব ।

কেন্দ্রীয় সরকারের নোডাল এজেন্সি প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো জানিয়েছে, টিকা নিয়ে মানুষ চুম্বক হয়ে উঠেছে বলে যে দাবি নেট মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

বিজ্ঞান মঞ্চের আরেক সদস্য সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘অতিমারি পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ এ ধরনের খবর রটিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি মাঠ প্রশাসন
মজুতে টান: ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ টিকার প্রথম ডোজ
লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ
লকডাউন শুনেই মূর্ছা গেলেন চা বিক্রেতা

শেয়ার করুন

জনসনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন

জনসনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে বেলজিয়ামের জ্যানসেন-সিলাগ ইন্টারন্যাশনাল এনভি উৎপাদিত করোনার টিকা ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আবেদন করা হয়। এরপর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই টিকার ড্রোসিয়ার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পার্ট, সিএমসি পার্ট ও রেগুলেটরি স্ট্যাটাস) মূল্যায়ন করে করোনা চিকিৎসার জন্য জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে বেলজিয়ামের জ্যানসেন-সিলাগ ইন্টারন্যাশনাল এনভি উৎপাদিত করোনার টিকা ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আবেদন করা হয়।

এরপর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই টিকার ড্রোসিয়ার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পার্ট, সিএমসি পার্ট ও রেগুলেটরি স্ট্যাটাস) মূল্যায়ন করে করোনা চিকিৎসার জন্য জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাংলাদেশে এই টিকার স্থানীয় এজেন্ট।

গত ১২ মার্চ এটি করোনা চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি অনুমোদন পায়। এই টিকা ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সীদের প্রয়োগ করা যাবে। সেই অনুযায়ীই টিকার প্রয়োগ করা হবে।

টিকাটি এক ডোজের ও সংরক্ষণের তাপমাত্রা ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই টিকাসহ দেশে পাঁচটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হলো। এর আগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-করভি, সিনোভ্যাকের করোনাভ্যাক ও রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির অনুমোদন দেয়া হয়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সহনীয় ও গুরুতর রোগ প্রতিরোধে তাদের তৈরি টিকা ৭২ শতাংশ কার্যকর। সে তুলনায় এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫৭ শতাংশ কার্যকর।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি মাঠ প্রশাসন
মজুতে টান: ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ টিকার প্রথম ডোজ
লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ
লকডাউন শুনেই মূর্ছা গেলেন চা বিক্রেতা

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৫০ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩১৯

করোনায় আরও ৫০ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩১৯

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২১৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ২২২ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৩১৯ জনের শরীরে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২১৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ২২২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১২টি ল্যাবে ২৩ হাজার ২৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪.২৭ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৪০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ২৪৩ জন সুস্থ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৭১ হাজার ৭৩ জন। সুস্থতার হার ৯২.৫৩ শতাংশ।

গত একদিনে সুস্থদের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন ও নারী ২০ জন। তাদের বয়স বিশোর্ধ্ব এক, ত্রিশোর্ধ্ব তিন, চল্লিশোর্ধ্ব নয়, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১১ ও ষাটোর্ধ্ব ২৬ জন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি মাঠ প্রশাসন
মজুতে টান: ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ টিকার প্রথম ডোজ
লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ
লকডাউন শুনেই মূর্ছা গেলেন চা বিক্রেতা

শেয়ার করুন

ভারতে করোনার নতুন ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ শনাক্ত

ভারতে করোনার নতুন ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ শনাক্ত

ভারতে করোনার নতুন ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ শনাক্ত হয়েছে।

করোনার এই নতুন ধরন অধিক সংক্রামক কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তবে আপাতত উদ্বেগজনক কিছু দেখছেন না সিএসআইয়ের ইনস্টিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির পরিচালক অনুরাগ আগরওয়াল।

ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় বড় প্রভাব ছিল অতি সংক্রামক বি.১.৬১৭ ধরনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ ধরনের নাম দিয়েছিল 'ডেল্টা'।

এবার সেই ধরনেরই ফের রূপবদল। রূপ বদলেছে ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেইন। স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন করে সেই স্ট্রেইনই এখন ‘ডেল্টা প্লাস’।

জিনোম সিকোয়েন্সিতে দেখা গেছে, কে৪১৭এন মিউটেশন হয়েছে ডাবল মিউট্যান্ট স্ট্রেইনের। তবে এ স্ট্রেইনকে এখনও উদ্বেগজনক বলছেন না বিজ্ঞানীরা।

দিল্লির সিএসআইআর ইনস্টিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির বিজ্ঞানী বিনোদ স্কারিয়া টুইটবার্তায় বলেন, নয়া এই স্ট্রেইনে বি.১.৬১৭.২.১ পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিনোদের দাবি, মিউটেশনের ফলে মানবদেহে প্রবেশের পথ আরও সুগম করেছে এই ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেইন।

সংস্থা জানিয়েছে, ৭ জুন পর্যন্ত ৬ জিনোমে এই স্ট্রেইন দেখা গেছে।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আপাতত ৬৩ জিনোমে ডেল্টার এই নয়া মিউটেশন ধরা পড়েছে।

বিনোদ জানান, ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার করলেও আপাতত ভারতে দ্রুত ছড়াতে শুরু করেনি এই স্ট্রেইন।

তবে চিন্তার বিষয়, এই স্ট্রেইনের কাছে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি রুখে দেয়ার ক্ষমতা থাকতে পারে। অর্থাৎ অ্যান্টিবডি ককটেলকে আটকে দিতে পারে এই নয়া স্ট্রেইন।

কয়েক দিন আগেই অনুমোদন পেয়েছে অ্যান্টিবডি ককটেল। এবার সেই ককটেলের কার্যকারিতা রুখে দিতে পারলে চিন্তা আরও বাড়বে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

এই নয়া স্ট্রেইন অধিক সংক্রামক কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তবে আপাতত উদ্বেগজনক কিছু দেখছেন না সিএসআইয়ের ইনস্টিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির পরিচালক অনুরাগ আগরওয়াল।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি মাঠ প্রশাসন
মজুতে টান: ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ টিকার প্রথম ডোজ
লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ
লকডাউন শুনেই মূর্ছা গেলেন চা বিক্রেতা

শেয়ার করুন

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন মার্চে

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন মার্চে

দেশে রাশিয়ার ফর্মুলায় স্পুৎনিক ভি টিকা তৈরি করবে ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিউক্যালস। ফাইল ছবি

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদনে এরইমধ্যে একটি কোর কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে কমিটিতে আছে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান।

রাশিয়ার ফর্মুলায় টিকা উৎপাদনের অনুমতি পেতে পারে দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা লিমিটেড।

বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ২০২২ সালের মার্চ থেকে দিনে ৩০ হাজার ডোজ ‘স্পুৎনিক ভি’ করোনা টিকা উৎপাদনের সুযোগ পাবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৭ মে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সেখানেই টিকা তৈরির প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি নেয়ার হয়েছে বলে বৈঠকের একটি সূত্র নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছে।

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদনে এরইমধ্যে একটি কোর কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে কমিটিতে আছে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান।

রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেশটির পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন।

চলতি সপ্তাহে আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বাংলাদেশে স্পুৎনিক ভি তৈরির।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এরইমধ্যে টিকার ফর্মুলা প্রকাশ না করা ও যৌথ উৎপাদন সম্পর্কিত দুইটি সমঝোতা সই হয়েছে। এখন পারচেজ ও প্রডাকশন ফ্যাসিলিটিজ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সূত্র বলছে, প্রথম পর্বের বৈঠকে উভয় পক্ষ ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার স্পুৎনিক ভি উৎপাদন করবে বলে সম্মত হয়। আগামী মার্চ থেকেই উৎপাদন শুরু হবে।

উভয় দেশের সম্মতিতে প্রতিদিন ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘স্পুৎনিক ভি’ দেশে উৎপাদন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গত ২২ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা রাশিয়া থেকে কিছু ভ্যাকসিন ক্যাশ দিয়ে কিনব, আর কিছু আমরা এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করব। এখানে এক নম্বর শর্ত হচ্ছে যে, ভ্যাকসিন উৎপাদনের ফর্মুলা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে সমাঝোতা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে লাইন মিনিস্ট্রি হিসেবে কাজ করেছে। বিষয়টি রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত আলোচনা ও সমাঝোতা করছে।’

১০ জুন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে দেশেই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর ঘোষণা আসবে।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার আই ইগ্নটভের গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বিদায়ী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে ভ্যাকসিন সহযোগিতা নিয়ে আলাপ চলছে। এ বিষয়ে চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই রাশিয়া থেকে ভ্যাকসিন সহযোগিতা পাবে বাংলাদেশ।

প্রথমে বাংলাদেশ সরকার একমাত্র উৎস হিসেবে করোনার টিকা কেনার চুক্তি করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড টিকা ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনার চুক্তি হয়।

সেই টিকা দেয়ার কথা ছিল প্রতিমাস ৫০ লাখ করে। কিন্তু সিরাম বাংলাদেশকে মাত্র ৭০ লাখ টিকা সরবরাহ করে। এরপর আর দেয়নি। পাশাপাশি ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দেয় ৩৩ লাখ টিকা।

এ ছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশকে দুই দফায় উপহার দিয়েছে ১১ লাখ সিনোফার্মের তৈরি টিকা। চীন থেকেও সরকার দেড় কোটি টিকা কেনার প্রাথমিক চুক্তি করেছে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি মাঠ প্রশাসন
মজুতে টান: ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ টিকার প্রথম ডোজ
লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ
লকডাউন শুনেই মূর্ছা গেলেন চা বিক্রেতা

শেয়ার করুন

ইংল্যান্ডে ৪ সপ্তাহ পেছাল স্বাস্থ্যবিধি শিথিল

ইংল্যান্ডে ৪ সপ্তাহ পেছাল স্বাস্থ্যবিধি শিথিল

বরিস জনসন জানান, পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২১ জুন চতুর্থ ও শেষ ধাপের লকডাউন প্রত্যাহার করা হলে টিকা কার্যক্রমের তুলনায় ছাড়িয়ে যেতে পারে ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা। সে ক্ষেত্রে আবারও প্রাণহানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইংল্যান্ডে শেষ ধাপে লকডাউন শিথিলের তারিখ চার সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ জুলাই করা হয়েছে। এর ফলে ২১ জুন থেকে করোনাকালীন যেসব স্বাস্থ্যবিধি উঠে যাওয়ার কথা ছিল, সেগুলো বহাল থাকছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ পর পরিস্থিতি আবার পর্যালোচনা করা হবে।

১৯ জুলাইয়ের পর স্বাস্থ্যবিধি বহাল রাখার দরকার হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কিন্তু পরে ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তারিখ পেছানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই বলেও জানান তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ জুন স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলে হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যা আবারও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে (যেটি ভারতে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল) যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় এ সতর্কতা জারি করা হয়।

বরিস জনসন জানান, পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২১ জুন চতুর্থ ও শেষ ধাপের লকডাউন প্রত্যাহার করা হলে টিকা কার্যক্রমের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা। সে ক্ষেত্রে আবারও প্রাণহানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু লকডাউন শিথিলে বিলম্বের ফলে আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়ার সময় পাবে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার নতুন সংক্রমণ শনাক্তের বিপরীতে গুরুতর অসুস্থ বা হাসপাতালে রোগীর ভর্তির সংখ্যা এখনও নিম্নমুখী আছে।

‘আমরা প্রতিদিনই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দুই সপ্তাহ পর আমরা ধরে নেব যে ঝুঁকি কেটে গেছে। এরপর পূর্ণাঙ্গ রূপে অর্থনীতি সচল ও লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা সময়ে আমরা এই ভাইরাসের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে শিখব।’

পার্লামেন্টের হাউজ অফ কমন্সে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টিকা কার্যক্রমের গতি আরও জোরদার করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার থেকে ইংল্যান্ডে ২৩ ও ২৪ বছর বয়সীদেরও টিকা দেয়া শুরু হচ্ছে।

শেষ ধাপের স্বাস্থ্যবিধি শিথিল হলে বিয়ের মতো আয়োজনে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা থাকলেও অতিথির সংখ্যা সীমিত রাখার নির্দেশনা উঠে যাবে। প্রতি টেবিলে ছয়জনের বেশি বসা যাবে না এবং বদ্ধ জায়গায় নাচা যাবে না।

প্রবীণ নিবাস কেন্দ্রেও নিয়মনীতি শিথিল হবে।

১৯ জুলাইয়ের মধ্যে দুই ডোজ টিকাই নিয়ে নেবেন যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও করোনার ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ। এরপর ইংল্যান্ডে চল্লিশোর্ধ্বদের দুই ডোজ টিকা নেয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ১২ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহে নামিয়ে আনা হবে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি মাঠ প্রশাসন
মজুতে টান: ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ টিকার প্রথম ডোজ
লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ
লকডাউন শুনেই মূর্ছা গেলেন চা বিক্রেতা

শেয়ার করুন