ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা

আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ষাট গম্বুজ মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা

জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ও সুন্দরবনে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মহামারি ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগে দর্শনার্থী প্রবেশে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক শুক্রবার সন্ধ্যায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে শনিবার থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বেলায়েত হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র, হিরণ পয়েন্ট, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালীসহ বনের বিভিন্ন স্পটে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।

জেলে, মৌয়ালসহ বনজীবী যারা বনের মধ্যে অবস্থান করছে তাদেরও লোকালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ও সুন্দরবনে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মহামারি ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।’

জেলা সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বাগেরহাটে এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ছয় দিনে নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছে ৩৬ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৩ জনে।

আরও পড়ুন:
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না
পর্যটন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুক্তরাজ্যে তরুণরা পাবেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প টিকা

যুক্তরাজ্যে তরুণরা পাবেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প টিকা

যুক্তরাজ্যে ৪০ বছরের কম বয়সীরা পাবেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প টিকা। ছবি: সংগৃহীত

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন এদের মধ্যে অন্তত ২৪২ জনের রক্ত জমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। এদের বড় অংশই তরুণ যাদের বয়স ৪০ এর নীচে।

যুক্তরাজ্যে চল্লিশ বছরের কম বয়সীদের মাঝে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এদের কারো কারো রক্ত জমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির ওষুধ নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থার তথ্য মতে, সেখানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অন্তত: দুই কোটি ৮৫ লাখ ডোজ দেয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে অন্তত ২৪২ জনের রক্ত জমাট বাঁধার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। এদের বড় অংশই তরুণ যাদের বয়স ৪০ এর নীচে।

দেশটির টিকা ও রোগ প্রতিরোধ কমিটির (জেসিবিআই) শীর্ষ কর্মকর্তা অধ্যাপক ওয়ে সেন লিম বলেন, ‘তরুণ যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৯ এর মধ্যে তাদের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না দেয়া নিরাপদ হবে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার বিকল্প না পাওয়া পর্যন্ত তাদের টিকা না নিলেও চলবে। দেশটিতে কোভিড পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।’

তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্নার টিকা।

দেশটির ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত সামগ্রীর নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এমএইচআরএ) প্রধান নির্বাহী ডা. জুন রেইন জানান, অ্যাস্ট্রাজেনেকের টিকা ব্যবহারের ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

অনুর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সীদের জন্য বিকল্প টিকা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সম্প্রতি এই টিকার বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি উল্লেখ করে। তবে টিকা থেকে যে সুরক্ষা পাওয়া যাবে তা ঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি। ইউরোপের কিছু দেশ এরই মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৩০ বছরের কম বয়সীদের জন্য অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিকল্প টিকার ব্যবস্থা করা হবে বলে গত ৭ এপ্রিল জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে বেশ কিছু দিন থেকেই রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। ইউরোপের বহু দেশ এরই মধ্যে এই টিকার ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও বিষয়টি নিয়ে এত দিন নীরব ছিল যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে মোট দুই কোটি মানুষ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন। মার্চের শেষ পর্যন্ত টিকা নেয়ার পর ৭৯ জনের মধ্যে বিরল রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা দেখা দেয়। এদের মধ্যে ১৯ জন মারা গেছে।

সংস্থাটি জানায়, তার মানে এই নয় যে, টিকার কারণেই রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটছে। তবে দুটির মধ্যে সংযোগ ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে।

এমএইচআরএ’র প্রধান নির্বাহী ডা. জুন রেইনে বলেন, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল। টিকার কারণেই রক্ত জমাট বাঁধছে কিনা তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ঝুঁকি ও সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য করতে গেলে দেখা যাবে পাল্লা দ্বিতীয়টির দিকে ঝুঁকে আছে।

তবে তিনি আরও বলেন, জনগণের সুরক্ষাই আমাদের কাছে সর্বাধিক অগ্রধিকার পাবে।

এমএইচআরএ’র এই পর্যালোচনার পর যুক্তরাজ্য সরকারের স্বতন্ত্র টিকা বিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থা জয়েন্ট কমিটি জেসিভিআইয়ের তথ্য মতে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের জন্য বিকল্প টিকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেয়।

এমএইচআরএ জানিয়েছে, যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন তারা দ্বিতীয় ডোজের টিকাও নির্ভয়ে নিতে পারেন। তবে যাদের রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গ দেখা দিয়েছিল তারা টিকা নেয়া থেকে বিরত থাকবেন।

আরও পড়ুন:
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না
পর্যটন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

করোনা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় যা করবেন

করোনা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় যা করবেন

শিশুদের করোনা ঝুঁকিও কম নয় দ্বিতীয় ঢেউয়ে, তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আর তেমন নির্ভার থাকতে পারছেন না কোনো বাবা-মা। এবার করোনা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠায় শিশুরাও নিরাপদে নেই। এরইমধ্যে অনেক শিশু মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিতে শিশুদের আক্রান্তের খবর খুব একটা পাওয়া যায়নি। তাই অনেক বাবা-মা মনে করেছেন তাদের শিশুরা অন্তত নিরাপদ।

কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আর তেমন নির্ভার থাকতে পারছেন না কোনো বাবা-মা। এবার করোনা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠায় শিশুরাও নিরাপদে নেই। এরইমধ্যে অনেক শিশু মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এমন অবস্থা থেকে দেখা দিয়েছে আশংকা। শিশুদের নিরাপদ রাখতে কি করবেন তা জানার চেষ্টা করা হয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্ব্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে শিশুদেরও করোনা সংক্রমিত হওয়ার হার বেশি দেখতে পেয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, দ্বিতীয় ঢেউেয় বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা। মানে আরও বেশি ছোঁয়াচে হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসরদের ভাষ্য, পরিবারের একজন আক্রান্ত হলেই পরিবারে শিশুসহ অন্যরাও এবার আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।

এ জন্য কেউ একজন আক্রান্ত হলেই পরিবারের সবারই করোনার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এটা খুব জরুরি বলেই মত তাদের। বলছেন, এটা করা গেলে শিশুদের সাবধান রাখা যেমন সম্ভব হবে, তেমনি আবার তাদের সুরক্ষিত রাখতেও সহায়তা করবে।

এটা আরও একটা কারণে করার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। সেটা হচ্ছে, পরীক্ষা না করালে হঠাৎ করে যদি অবস্থার কোনো অবনতি হয় তাহলে হাসপাতালে ভর্তি করাতেও অসুবিধায় পড়তে হতে পারে।

পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে শিশুদের তার থেকে দূরে রাখতে বলছেন চিকিৎসকরা।

পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে একটু কষ্ট হলেও শিশুদের ক্ষেত্রেও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানোর পরামর্শ চিকিৎসকদের। কেননা এই প্রক্রিয়ায় ফলস নেগেটিভ আসার আশংকা কম থাকে। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় সঠিক ফল পাওয়া যায় বেশি।

বাড়ির কোনো শিশু আক্রান্ত হলে প্রথম কাজ হবে, বার বার জ্বর মাপা। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় পর পরই শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দেখতে হবে। এমনকি তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

যেসব শিশু বিভিন্ন রোগে ভুগছে তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সম্ভব হলে আইসিইউ সাপোর্ট আছে এমন হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না
পর্যটন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫০

করোনায় ভারতে ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫০

গত টানা ১০ দিন তিন হাজারের বেশি করোনাজনিত মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এই সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১০ জন, যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে খেই হারা ভারত। কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে শনাক্ত-মৃত্যুর রেকর্ড। দেশটিতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গত ১০ দিন ধরে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বৃহস্পতিবার ভারত করোনা শনাক্তে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই সময়ে ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ হাজার ৯২৭ জনের।

টানা ১০ দিন তিন হাজারের বেশি করোনাজনিত মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এই সময়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১১০ জন, যার অর্থ প্রতি ঘণ্টায় সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি।

করোনায় ১০ দিনের হিসাবে এতবেশি মৃত্যু দেখেনি আর কোনো দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে ১০ দিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুতে ভারতের ঠিক পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ৩৪ হাজার ৭৯৮ জন। এরপর ব্রাজিল, ৩২ হাজার ৬৯২ জন। এই তালিকায় থাকা পরের দুই দেশ মেক্সিকো, ১৩ হাজার ৮৯৭ জন এবং যুক্তরাজ্য ১৩ হাজার ২৬৬ জন।

করোনা সম্পরর্কীত সরকারি হিসাব তুলে ধরে টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারত চার লাখের বেশি শনাক্ত দেখেছে টানা দুই দিন। বৃহস্পতিবার সংক্রমণ ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৪ জনের শরীরে; বুধবার সংক্রমণ ধরা পড়ে ৪ লাখ ১২ হাজার ৭৮৪ জনের শরীরে।

করোনাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ১০০ এর বেশি মৃত্যু দেখেছে ১৩টি রাজ্য। এর মধ্যে ছয়টি রাজ্যে হয়েছে মৃত্যুর রেকর্ড। জনসংখ্যার হিসাবে ১৩ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রাজ্য উত্তরাখন্ড।

করোনার মধ্যেই এই রাজ্যে হয়েছে কুম্ব মেলা। বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় দশম।

করোনায় মৃত্যুতে রেকর্ড গড়েই যাচ্ছে মহারাষ্ট্র। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫৩ জনে। এ ছাড়া, ৩০০ এর বেশি মৃত্যুর খবর দেয় উক্তর প্রদেশ, দিল্লি ও কর্ণাটক। আর ২০০ এর বেশি মৃত্যু হয়েছে চত্তিশগরে।

এ ছাড়া একশোর বেশি মৃত্যু হওয়া রাজ্যগুলো হলো- তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড, ঝাড়খন্ড, গুজরাট ও পশ্চিমবঙ্গ। একদিনের হিসাবে রেকর্ড মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তামিলনাডু (১৯৫), রাজস্থান (১৬১), পশ্চিমবঙ্গ (১১৭), কেরালা (৬৩) ও জম্মু-কাশ্মীরে (৫২)।

আরও পড়ুন:
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না
পর্যটন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান

লকডাউনে যাচ্ছে রাজস্থান

এই সময়ে বন্ধ থাকবে গাড়ি চলাচল। জন সমাগম হয় এমন ধরনের কোনো আয়োজন করা যাবে না। আয়োজন করে বিয়েশাদী বন্ধ থাকবে ৩১ মে পর্যন্ত। তবে আদালতে বা ঘরোয়া পরিবেশে সর্বোচ্চ ১১ জনের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করা যাবে।

করোনাভাইরাসের দ্রুত বিস্তার রোধে লকডাউনে যাচ্ছে ভারতের রাজস্থান। ১০ মে থেকে এই লকডাউন কার্যকর করতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। চলবে ২৪ মে পর্যন্ত।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সময়ে বন্ধ থাকবে গাড়ি চলাচল। জন সমাগম হয় এমন ধরনের কোনো আয়োজন করা যাবে না। আয়োজন করে বিয়েশাদী বন্ধ থাকবে ৩১ মে পর্যন্ত। তবে আদালতে বা ঘরোয়া পরিবেশে সর্বোচ্চ ১১ জনের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করা যাবে।

গ্রাম অঞ্চলেও করোনা ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক সুরক্ষার আওতায় থাকা প্রকল্পগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। বন্ধ রাখা হবে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো। লকডাউনের সময়টায় বাড়িতে থেকে ধর্মীয় আচার পালনে অনুরোধ করা হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ আলাদা নির্দেশনা দেবে বলে রাজস্থান রাজ্য সরকার থেকে বলা হয়েছে।

করোনার বিস্তার রোধে একই ধরনের লকডাউন চলছে দিল্লিতে। ভারতের আরও অনেক রাজ্য একই ধরনের লকডাউনের পথে হাঁটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ভারতে যেসব রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে এর মধ্যে রাজস্থান অন্যতম। বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে ১৭ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৬১ জনের।

রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যস্থানে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখ ২ হাজার ৫৬৮ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ১৮২ জনের।

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় যাতে অক্সিজেন সংকট না হয় সেজন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন রাজস্থান মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থামছে না। প্রায় প্রতিদিনই সংক্রমণের রেকর্ড হচ্ছে। শনাক্ত ছাড়িয়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ। মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার।

আরও পড়ুন:
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না
পর্যটন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

ভারতফেরত করোনা রোগীকে ছাড়পত্র: চিকিৎসককে শোকজ

ভারতফেরত করোনা রোগীকে ছাড়পত্র: চিকিৎসককে শোকজ

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক জানান, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ এলেও পিসিআর পদ্ধতির টেস্টে সোমবার আবু হেনার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে আবু হেনার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি হাসপাতালে তিনি নেই।’

ভারতে থেকে দেশে আসা আবু হেনা নামের এক করোনা রোগীকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে নিয়মবর্হিভূতভাবে ছাড়পত্র দেয়ায় সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরুরি সভায় তাকে শোকজ করা হয়।

ভারতফেরত আবু হেনা নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র চকদেব মহল্লার বাসিন্দা। বুধবার হেনাকে নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসার জন্য যান আবু হেনা। সেখানে ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ২৭ এপ্রিল বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে হাসপাতালে আইসোলেশনে ছিলেন।

৩০ এপ্রিল সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতালে অ্যান্টিজেন ও পিসিআর দুই পদ্ধতিতে করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক রিপোর্টে নেগেটিভ আসে। তবে পরে পিসিআর টেস্টে পজিটিভ আসে।

চকদেব মহল্লার কাওসার ও একরামুল হকসহ কয়েকজন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জানতাম না হেনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এখন ভয় হচ্ছে, কারণ তার আমাদের অনেকে ঘোরাফেরা করেছে।’

আবু হেনা বলেন, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ আসা আর শারীরিক অসুস্থতা না থাকায় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ সবাইকে অনুরোধ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে রোববার বাসায় আসি। এরপর থেকে সরকারি নিয়ম মেনে বাসাতেই হোম কোয়ারেন্টিনে আছি।’

বর্তমানে তার কোনো শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। তার পরিবারের লোকজনও সবাই ভালো আছেন বলে দাবি করেন আবু হেনা।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাঈদুল হক জানান, ‘অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে রিপোর্টে নেগেটিভ এলেও পিসিআর পদ্ধতির টেস্টে সোমবার আবু হেনার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে আবু হেনার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি হাসপাতালে তিনি নেই।

‘এর পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আগের দিন রোববার সন্ধ্যায় আবু হেনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী সার্জন গোলাম রাব্বানী।’

ভারতে করোনার মহামারি ভয়াবহতার বিষয়টি জানার পরও নিয়মবর্হিভূতভাবে কাউকে না জানিয়ে ছাড়পত্র দেয়ায় বুধবার জরুরি সভায় তাকে শোকজ করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে হাসপাতাল থেকে ঠিকানা নিয়ে আবু হেনার সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের লোকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ জানান, তিনি, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওসহ অন্যদের না জানিয়েই ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় গেছেন আবু হেনা। হেনার করোনা পজিটিভ আসার ঘটনাটি জানতে পেরে ও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ তিনি তার বাড়ি গেছেন। তাকে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার অনুরোধ জানালেও তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। বাসাতেই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না
পর্যটন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

দেশে টিকা উৎপাদন করতে চায় ৫ কোম্পানি

দেশে টিকা উৎপাদন করতে চায় ৫ কোম্পানি

‘আমাদের বেশ কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি করোনা টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সরকার বর্তমানে তিন কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করবে। এটা আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধী টিকা উৎপাদন করতে চায় দেশের বড় পাঁচটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়া ও চীনের উদ্ভাবিত টিকা দেশেই উৎপাদন করতে সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে তারা।

টিকা সরবরাহ নিয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চুক্তির পর দেশেই টিকা উৎপাদনের কথা জানিয়েছে সরকার। তবে এই টিকা নিজেরা উৎপাদন করবে, নাকি বেসরকারি পর্যায়ে উৎপাদন হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি এখনও।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিডেটের টিকা উৎপাদনের প্রাথমিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি।

এদের মধ্যে রেনেটা এবং ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার টিকা উৎপাদনের প্রযুক্তি চেয়ে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসনের কাছে আবেদনও করেছে।

এদের মধ্যে পপুলার, হেল্থকেয়ার, ইনসেপটা ও রেনাটা রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে টিকা প্রযুক্তির জন্য।

গত ২ মে রাশিয়কে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছে ওরিয়ন ফার্মা। দুই দিন পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেই বিষয়টি তারা জানিয়েছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান জানান, ‘আমাদের বেশ কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির করোনা টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সরকার বর্তমানে তিন কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করবে। এটা আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।’

দেশে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচির শুরু হয় সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া উৎপাদিত টিকা দিয়েই। তবে হঠাৎ ভারতের এই প্রতিষ্ঠান টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় টিকার সংকটে পড়ে দেশ।

সংকট নিরসনে সরকার বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা পেতে যোগাযোগ করছে। গত ২৭ এপ্রিল রাশিয়ার মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুৎনিক-ভি ও ২৯ এপ্রিল চীনের সিনোফার্মের টিকাকে জরুরি প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এই দুটি দেশ থেকে টিকা কেনার পাশাপাশি তাদের টিকা দেশে উৎপাদনের প্রযুক্তি নিতে চায়।

সেসব দেশ থেকে টিকা কিনে আনার পাশাপাশি ফর্মুলা গোপন রাখার শর্তে চীন ও রাশিয়ার টিকা দেশেই উৎপাদন করতে চায় সরকার। সরকারের এই কাজে সহযোগিতা করবে দেশীয় এই ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

কী বলছে কোম্পানিগুলো

ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা উৎপাদনে সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা কাজ করতে চাই। সরকার থেকে সবুজ সংকেত পেলেও টিকা উৎপাদনে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।’

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন রোগের ১৪টি টিকা উৎপাদন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনার টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা প্রতি মাসে ৮০ লাখ ডোজ।’

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উপবিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বিশ্বাস নিউজবাংলাকে জানান, তারা প্রতি মাসে ২০ লাখ ডোজ টিকা উৎপাদন করতে পারবেন। তবে সরকারের সহযোগিতা পেলে তা ৫০ লাখে নেয়া সম্ভব।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বলছে, এক বছর আগেই তারা টিকা উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন রোগের টিকা উৎপাদনও চলছে।


কোম্পানিটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, ‘সরকার চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এর বেশিকিছু এই মুহূর্তে বলতে পারব না।’

রেনেটার মহাব্যবস্থাপক কামরুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সরকার অনুমতি দিলে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা মডার্নার টিকা আনতেও চিঠি দিয়েছি।’

ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের কোম্পানি সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, ‘এটি একেবারেরই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আমরা রাশিয়ার কাছে বাংলাদেশের অন্যান্য কোম্পানির মতো আবেদন করেছি। তাদের প্রযুক্তি স্থানান্তরে দ্য রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডকে (আরডিআইএফ) জানিয়েছি যে, তাদের টিকা তৈরির সক্ষতা আমাদের আছে। এখন রাশিয়া বাংলাদেশের কাকে এ টিকার অনুমোদন দেবে, সেটি তাদের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আবেদনের বিষয়টি আমরা ওষুধ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু না।’

শেয়ারদরে উল্লম্ফন

যে পাঁচটি কোম্পানি টিকা উৎপাদন করতে চায়, তার মধ্যে দুটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। দুটির দামই পুঁজিাবাজারে বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ঘোষণা দিয়েছে ওরিয়ন ফার্মা। তারা জানিয়েছে, রাশিয়ার কাছে আবেদনের বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। যা নিয়মিত ও সাধারণ ব্যবসায়িক যোগাযোগের অংশ।

এই ঘোষণার পর দুই দিন কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। শেয়ারদর ৪৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয় ৫১ টাকা ৪০ পয়সা।

এদিন কোম্পানির গত এক মাসের সবচেয়ে বেশি শেয়ার লেনদেনও হয়েছে। হাতবদল হয় ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৫টি শেয়ার।

বৃহস্পতিবার দাম বাড়ে আরও আড়াই টাকা। দাম দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ৯০ পয়সা।

অবশ্য রেনেটা লিমিটেড কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। তবে বৃহস্পতিবার এই কোম্পানির শেয়ারদরও বেড়েছে। ২১ টাকা বেড়ে ১০ টাকা মূল্যমানের শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

শেয়ারদর ১ হাজার ২৭৮ টাকা থেকে হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

আরও পড়ুন:
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না
পর্যটন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ

ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনই ভারতে বিপর্যয়ের কারণ

করোনাভাইরাসের দাপটে বিপর্যস্ত ভারত। ছবি: সংগৃহীত

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের প্রায় ১৩ হাজার নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট ও ছত্তিশগড়সহ আটটি রাজ্যে মিলেছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি বি.ওয়ান.সিক্সওয়ানসেভেন ভাইরাস।

ভারতে মার্চে আবিষ্কৃত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসই দেশটিতে চলমান বিপর্যয়ের কারণ। যেসব রাজ্য মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সবগুলোতেই শনাক্ত হয়েছে ‘ডবল মিউট্যান্ট’ বা বি.ওয়ান.সিক্সওয়ানসেভেন করোনাভাইরাসের বিপুল সংক্রমণ।

ভারতের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তার সূত্র উল্লেখ করে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে আবিষ্কৃত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এ করোনার সঙ্গে বিপুল প্রাণহানি ও সংক্রমণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

তবে আরও গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টির গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

স্বাস্থ্যবিদদের মতে, ডবল মিউটেশন’-এর হলো একই ভাইরাসে এক সঙ্গে দুই ধরনের বিবর্তন সংঘটিত হওয়া। এর ফলে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও সহজে ফাঁকি দিতে পারে ভাইরাসটি।

ভাইরাসের বাইরের এই আমিষের আবরণকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘স্পাইক প্রোটিন’, যার মাধ্যমে ভাইরাসটি মানবদেহের কোষে প্রবেশ করতে পারে।

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের প্রায় ১৩ হাজার নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট ও ছত্তিশগড়সহ আটটি রাজ্যে মিলেছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি বি.ওয়ান.সিক্সওয়ানসেভেন ভাইরাস।

বুধবার ২৪ ঘণ্টায় ভারতে রেকর্ড চার লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত এবং তিন হাজার ৯৮০ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে ভারতে মহামারির তৃতীয় ধাক্কা অবধারিত বলে হুঁশিয়ারি দেন সরকারের বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কে বিজয়রাঘবন। এর ফলে প্রাণহানি ও সংক্রমণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও থার্ড ওয়েভ কবে নাগাদ আঘাত হানতে পারে, তা এখনও অস্পষ্ট।

করোনায় প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পরের অবস্থান ভারতের। দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার।

সংক্রমণ শনাক্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। দেশটিতে এ নিয়ে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ১৪ লাখ মানুষের দেহে।

ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে করোনার টেস্ট কিট, ওষুধ, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের। রোগীর বিপরীতে স্বাস্থ্য খাতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক লোকবল সংকট।

আরও পড়ুন:
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে পর্যটক না
পর্যটন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন