ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ জেলায় আংশিক লকডাউনের প্রস্তাব

করোনা সংক্রমণের উচ্চ হার থাকা ২৯ জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আংশিক লকডাউনের প্রস্তাব করেছে জাতীয় কারিগরি কমিটি। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ জেলায় আংশিক লকডাউনের প্রস্তাব

করোনা প্রতিরোধে সরকারের গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম ২৯ জেলার কিছু এলাকায় লকডাউন দেয়ার এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ জেলায় আংশিক লকডাউনে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটি।

কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম ২৯ জেলার কিছু এলাকায় লকডাউন দেয়ার এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দিন দিন শনাক্তের হার যেভাবে বাড়ছে এমন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে অধিদপ্তরের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা ২৯ জেলা আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা যেতে পারে।’

এ ছাড়া এসব এলাকায় যেসব মানুষ বসবাস করেন, তাদের আশপাশে যারা আক্রান্ত কিংবা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন তাদের চিহ্নিত করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে বলে মত দেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আগে থেকে সতর্ক হতে হবে। আবার যেন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে সতর্ক হতে হবে। প্রতিনিয়ত করোনা শনাক্তের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে মানুষের উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য আগের তুলনায় বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে।’

বছরের শুরুতে করোনার সংক্রমণ অনেকটা কমে আসে এবং টিকাদান শুরু হলে মানুষ স্বাস্থ্যবিধিকে অনেকটাই উপেক্ষিত করতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেশের সব পর্যটন এলাকাও খুলে দেয়া হয়।

দেশে করোনার নতুন স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়ায় সংক্রমণ বেড়েছে

এমন অবস্থায় মার্চের শেষে এসে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই দিন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের উপরে ছিল। যা দেশে সংক্রমণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ।

এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ ঘটছে এমন ২৯ জেলাকে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের হার যে হারে বাড়ছে, তাতে এখনই এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেয়া না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন ও প্রধনামন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন একটু ভিন্ন। আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। নতুন ধরনে কারও ক্ষেত্রে ফুসফুস, আবার কারও গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজিক্যাল সিস্টেমগুলো মারাত্মকভাবে সংক্রমিত হয়। তখন দ্রুততম সময়ে চিকিৎসার আওতায় নেয়া প্রয়োজন হয়।

‘এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের অধিকাংশকেই আইসিইউতে নিতে হচ্ছে। এই কারণে এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সরকার করোনা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ২৯ জেলা চিহ্নিত করেছে, সরকারের উচিত হবে এসব জেলাতে করোনা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রয়োজনে এসব এলাকা আংশিক লকডাউন দেয়া যেতে পারে। তবে সারা দেশ লকডাউন দেয়া বাংলাদেশের জন্য ঠিক হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনা সংক্রমণের হার ২ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে এসেছে। নতুন করে সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তা উদ্বেগজনক। সুতরাং সবাইকে সতর্ক হতে হবে।

‘একই সঙ্গে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।’

করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা দিচ্ছেন এক নারী। ফাইল ছবি

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। তবে এখনই সাধারণ ছুটি বা লকডাউন ঘোষণার চিন্তাভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ১৮টি নির্দেশনা জারি করার পর সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা সাংবাদিকদের শুনিয়ে বলেন, ‘আগের অভিজ্ঞতা থেকেই এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।’

সাধারণ ছুটি দেয়ার কোনো চিন্তাভাবনা সরকারের আছে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের এ রকমের কোনো সিদ্ধান্ত নেই, সাধারণ ছুটি দেয়ার ব্যাপারে এ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। এখন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বা ওই ধরনের চিন্তাভাবনা নেই। তবে আমরা সতর্ক হলে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বছর ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো সাধারণ ছুটি ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। শুরুতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা হলেও পরে তার মেয়াদ বাড়ে কয়েক দফা। ছুটির মধ্যে সবকিছু বন্ধ থাকার সেই পরিস্থিতি ‘লকডাউন’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হয়েছে, এমন এলাকায় আংশিক লকডাউনের পরামর্শ দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বেশি সংক্রমিত এলাকায় আংশিক লকডাউন দিতে পরামর্শ দিয়েছি, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ওয়াজ মাহফিল, বিয়ে-শাদি ও রেস্টুরেন্টে যাওয়া সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছি। হোম অফিসের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

‘মাস্ক পরাতে কড়াকড়ি করতে বলা হয়েছে। বেশি সংক্রমিত এলাকায় আংশিক লকডাউন দিতে পরামর্শ দিয়েছি। দুই-এক দিনের মধ্যেই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে এসে যাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৯৩৭ জনে। গত এক দিনে মারা যাওয়া ৪৫ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট ৮ হাজার ৯৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ১৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৪০ হাজার ১৮০ জন হয়েছে।

সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও তা উপেক্ষা করেই চলছেন রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষজন। ফাইল ছবি

২৯ জেলায় রেড জোন চিহ্নিত করা বা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘সেখানকার কোভিড কমিটি চাইলে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে, তবে সাধারণ ছুটির বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটি নিয়ন্ত্রণ কমিটি ঠিক করবে। তবে আমরা বিষয়টি মনিটরিং করব।’

‘আমরা দেখেছি, প্রথম দিকে নতুন করে করোনা সংক্রমণের জেলা ছিল ছয়টি। ২০ তারিখে সেটি ২০ জেলায় পেয়েছি এবং ২৪ তারিখে পেয়েছি ২৯ জেলায়। সুতরাং করোনা সংক্রমণ বেড়েই যাচ্ছে।’

ঝুঁকিতে যে ২৯ জেলা

দেশের ২৯টি জেলাকে করোনা সংক্রমণের তিনটি ক্যাটাগরিতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে উচ্চ ঝুঁকির ছয় জেলা, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুর।

মধ্যম থেকে উচ্চ ঝুঁকির ১৯ জেলা মৌলভীবাজার, সিলেট, নরসিংদী, রাজবাড়ী, ফেনী, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, বরিশাল, রাজশাহী, নড়াইল, নীলফামারী, গাজীপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, নওগাঁ, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল।

কম ঝুঁকি থেকে উচ্চ ঝুঁকির পাঁচ জেলা নোয়াখালী, বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর ও নাটোর।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: গোটা ভারতই ঝুঁকিতে
করোনা: ১ বছরের মধ্যে আনতে হবে নতুন টিকা
টানা দুই দিন ৫ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৪৫
করোনা: বরিশালে জনসমাগম সীমিত রাখার নির্দেশ
টিকা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও করোনায় আক্রান্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা ঠেকাতে জানালা খোলা রাখার পরামর্শ

করোনা ঠেকাতে জানালা খোলা রাখার পরামর্শ

জানালা খোলা রাখলে করোনা সংক্রমণ ছড়ানো কমতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত। ছবি: সংগৃহীত

নতুন ধরনের করোনায় স্বল্প বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানোর তথ্য জানার পর এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে কেন্দ্র সরকার। সেখান থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণ রোধে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন।

কোভিড ১৯ এর জন্য দায়ী সার্স কোভ ২ প্রধানত বাতাসের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এমন অবস্থায় ভারতের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ রোধে ঘরের জানালা খোলা রাখতে।

চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে বৃহস্পতিবার গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ হয়েছে। গবেষক দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ডের প্রাইমারি কেয়ার হেলথ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ট্রিস গ্রিনহালজ।

প্রথমে ল্যানসেটের প্রকাশিত প্রবন্ধকে আমলে না নিলেও এবার সেই করোনা ঠেকাতে ভারতের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ঘরের জানালা খুলে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

নতুন ধরনের করোনায় স্বল্প বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানোর তথ্য জানার পর এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে কেন্দ্র সরকার। সেখান থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণ রোধে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: করোনা বায়ুবাহিত, আবদ্ধ জায়গায় সংক্রমণ বেশি: গবেষণা

নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) বিনোদ পাল সোমবার জানান, করোনাভাইরাস সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। যার মধ্যে একটি হল, এটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে এবং সেই তথ্য কিছুটা হলেও ঠিক। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ল্যানসেটে প্রকাশিত ওই গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিনোদ বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ সারফেস বা পৃষ্ঠতলের চেয়ে বায়ুমাধ্যমে বেশি ছড়ায়। এ ধরনের সংক্রমণের আশংকা বদ্ধ ঘরে বেশি থাকে। বদ্ধ ঘরে যেখানে অনেক লোকের সমাগত হতে পারে এবং সেখানে শীতাতপ যন্ত্র চললে সংক্রমণের আশংকা থাকে। তাই এই পরিস্থিতিতে জানলা-দরজা খুলে রাখা শ্রেয়।’

এর বেশি আর এ নিয়ে ব্যাখ্যা করতে চাননি নীতি আয়োগ কর্তা।

বাতাসে ছড়ানোর প্রমাণ থাকলেও আগের জারি করা কোভিড সতর্কবিধিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি ল্যানসেটে প্রকাশ করা ওই গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ছয় বিশেষজ্ঞ এই গবেষণার ভিত্তিতে বলছেন, করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত হওয়ার কারণেই প্রচলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো মানুষকে রক্ষা করতে পারছে না।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম কোভিড ১৯ সংক্রমণ ধরা পরে। এর কয়েক মাসের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশেও কোভিড ১৯ সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয়ে গত বছরের ৮ মার্চ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই বলছে, করোনাভাইরাস মূলত সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির মাধ্যমে নিকটজনের কাছে ছড়ায়। এজন্য, হাঁচি-কাশি আক্রান্তদের কাছ থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, আক্রান্তদের চিহ্নিত করে আইসোলেশনসহ বেশকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়ে আসছে সংস্থাটি।

তবে গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে হঠাৎ করেই বাড়তে থাকে ভারত, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ। ভারতে এখন দৈনিক গড়ে আড়াই লাখ সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। তাতে মারা যাচ্ছে হাজারের বেশি করে।

বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে দৈনিক মৃত্যু ছাড়িয়েছে ১০০ জন। আর আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে পাঁচ হাজারের বেশি।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: গোটা ভারতই ঝুঁকিতে
করোনা: ১ বছরের মধ্যে আনতে হবে নতুন টিকা
টানা দুই দিন ৫ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৪৫
করোনা: বরিশালে জনসমাগম সীমিত রাখার নির্দেশ
টিকা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও করোনায় আক্রান্ত

শেয়ার করুন

চার দিন পর করোনায় মৃত্যু একশর নিচে

চার দিন পর করোনায় মৃত্যু একশর নিচে

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৫৫৯ জনের দেহে। এ নিয়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে সাত লাখ ২৭ হাজার ৭৮০ জনের দেহে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৫৮৮ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৮৮ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মঙ্গলবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে টানা চার দিন দৈনিক শত মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে সংখ্যাটা ১০০-এর নিচে নামে বলে মঙ্গলবার জানায় অধিদপ্তর।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয় শুক্রবার। পরের দিন একইসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার আরও ১০২ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। সোমবারও করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ১১২ জনের মৃত্যুর খবর জানায় অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৫৫৯ জনের দেহে। এ নিয়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে সাত লাখ ২৭ হাজার ৭৮০ জনের দেহে।

এতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫টি ল্যাবে ২৭ হাজার ৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬.৮৫ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৯৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৮১১ জন সুস্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৬ লাখ ২৮ হাজার ১১১ জন। সুস্থতার হার ৮৬.৩১ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৯১ জনের মধ্যে ৫৮ পুরুষ ও ৩৩ নারী রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জন বাদে সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

বয়স বিবেচনায় মৃত ৯১ জনের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ত্রিশোর্ধ্ব ৭, চল্লিশোর্ধ্ব ১১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৮ ও ষাটোর্ধ্ব ৫৪ জন।

বিভাগ অনুযায়ী, ঢাকায় ৬০, চট্টগ্রামে ১৭, রাজশাহীতে ৩, খুলনায় ৫, বরিশালে ৪, রংপুরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: গোটা ভারতই ঝুঁকিতে
করোনা: ১ বছরের মধ্যে আনতে হবে নতুন টিকা
টানা দুই দিন ৫ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৪৫
করোনা: বরিশালে জনসমাগম সীমিত রাখার নির্দেশ
টিকা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও করোনায় আক্রান্ত

শেয়ার করুন

ডায়রিয়ার প্রকোপ: ‘৯০ টাকার স্যালাইন ১২০’

ডায়রিয়ার প্রকোপ: ‘৯০ টাকার স্যালাইন ১২০’

হাসপাতালে সামনের ওষুধের দোকানের মালিকরা বলছেন, স্যালাইনের দাম বেড়েছে। তবে নগরীর অন্য এলাকার দোকানের মালিকদের বক্তব্য, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে স্যালাইন।

ব‌রিশাল সদরের জাগুয়া ইউ‌নিয়‌নের আব্দুর রব ডায়‌রিয়ায় আক্রান্ত হ‌য়ে সদর হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছেন রোববার। বেড না পেয়ে চি‌কিৎসা নি‌চ্ছেন হাসপাতা‌লের মা‌ঠে।

ভ‌্যান চালক আব্দুর র‌বের অভি‌যোগ, হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে না স্যালাইন, কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল দিয়া এক‌টা স‌্যালাইন দেছেল‌ শরী‌রে দেয়ার লইগ্গা। স‌্যালাইন শেষ হওয়ার পর নার্সগো ধা‌রে চাইছেলাম, হেরা কই‌ছে এহা‌নে নাই। কইলো ফা‌র্মেসি দিয়া কিন্না আনেন।

‘সরকা‌রি হাসপাতা‌লে যদি স‌্যালাইন না থা‌হে তয় মো‌গো মতো গরীব মাইনষে কেম‌নে চি‌কিৎসা নিমু। প‌রে হেই কথা মত দুইটা স‌্যালাইন কেনা লাগ‌ছে।’

আব্দুর রবসহ হাসপাতালে ভ‌র্তি অন্য ডায়রিয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে হাসপাতালের বাইরের ওষুধের দোকানগুলো বেশি দামে স্যালাইন বিক্রি করছে। ৯০ টাকার স্যালাইন কারও কাছে চাওয়া হচ্ছে ১২০ বা ১৩০ টাকা, কারও কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকাও।

স‌রেজ‌মি‌নে সোমবার সকা‌লে সদর হাসপাতা‌লের সাম‌নে দেখা গেল, ডায়রিয়া রোগীর স্বজনরা স্যালাইনের জন্য ভিড় করে আছেন ওষুধের দোকানগুলোতে।

বরিশালে স্যালাইন সংকট

জা‌কিয়া বেগম না‌মে এক রোগীর স্বজন‌ অভিযোগ করেন, ‘এম‌নেই কো‌নো সিট পাই নাই। হের উপর স‌্যালাইনডাও কেনা লা‌গে য‌দি তয় কি‌ চি‌কিৎসা দেয় বু‌ঝিনা।

‘স‌্যালাই‌নের আসল দাম ৯০ টাহা, আর হেই স‌্যালাইন ফার্মেসি ওয়ালারা সি‌ন্ডি‌কেট কইরা ১৩০ টাহায় বে‌চে। এহা‌নের ডাক্তার নার্সরা একটা বা দু্ইটা দিয়াই কয় নাই শেষ স‌্যালাইন।’

হাসপাতা‌লের সামনের দি সেবা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌ল নামের ওষুধের দোকানের কর্মচারি মো. বদরু‌দ্দোজার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন স্যালাইনের দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

তিনি ব‌লেন, ‘হাজার মি‌লির ক‌লেরা স‌্যালাইন রেট ৯০ টাকা ক‌রেই। ত‌বে প্রোডাকশন কম থাকায় কোম্পানি অনেক বে‌শি দা‌মে বি‌ক্রি ক‌রে‌ছে‌। তাই আমা‌দেরও বেশি দামে বি‌ক্রি কর‌তে হ‌য়ে‌ছে।’

হাজরা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌লের মো. শুভ ব‌লেন, ‘৫০০ মিলির ক‌লেরা স‌্যালাই‌নের দাম ৭০ টাকা আর হাজার মিলির কোম্পানি রেট ৯০ টাকা। অনেকে বে‌শি দাম রে‌খে‌ছে। কিন্তু আমরা তা ক‌রি‌নি।’

বরিশালে স্যালাইন সংকট

নগরীর অন্য এলাকার ওষুধের দোকানে গিয়ে জানা গেল, স্যালাইনের দাম বাড়েনি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বিএম ক‌লেজ এলাকার মা মে‌ডি‌ক্যাল হ‌লের মা‌লিক মো. কা‌দের ব‌লেন, ‘ক‌লেরা স‌্যালাইনের দাম বা‌ড়ে‌নি। যারা বে‌শি দাম নি‌চ্ছে তারা অবৈধভাবে তা নি‌চ্ছে।’

এদিকে, রোগীদের স্যালাইন বেশি কিনতে হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের আবা‌সিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল ব‌লেন, ‘স্বাভা‌বিকভা‌বে একজন রোগী‌কে তিন থে‌কে চারটি স‌্যালাইন আমরা দি‌য়ে থা‌কি। এর বেশি স‌্যালাইন লাগলে তা‌দের কিন‌তে হয় বাই‌রে থে‌কে। এম‌নি‌তে স্যালাইনের কোনো সংকট নেই আমা‌দের।’

ওষুধের দোকানের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্যলাইনের সংকট দেখিয়ে নার্সরা রোগীদের তা কিনতে বাধ্য করছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

বরিশাল বিভাগে কয়েকদিন ধরেই বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। এতে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বরিশালে এর আগে এমন ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যায়নি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছি আমরা। শহরের মানুষ তেমন আক্রান্ত না হলেও, বেশি আক্রান্ত হচ্ছে উপকূল ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ।’

তিনি জানান, অতিরিক্ত গরমে স্বস্তি পেতে মানুষ পান্তা কিংবা শরবত খাচ্ছে বেশি। এসব তৈরিতে দূষিত পানি ব্যবহারের কারণেই ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে বলে তার মত।

বাসুদেব কুমার দাস গত রোববার জানিয়েছিলেন, বরিশাল বিভাগে এ বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের ২০ তারিখ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। সব থেকে বেশি আক্রান্ত দ্বীপ জেলা ভোলায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৪২১। পটুয়াখালীতে আক্রান্ত ৬ হাজার ৭৩৭, পিরোজপুরে ৩ হাজার ৭৫০, বরগুনায় ৪ হাজার ৩৫৩ এবং ঝালকাঠিতে আক্রান্ত ২ হাজার ৯৯৮ জন।

জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের তথ্য অনুযায়ী সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ জন ডায়া‌রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভ‌র্তি হন। জায়গা সল্পতার কার‌ণে অনেককে মা‌ঠে, ভ‌্যানে, গাছ তলায় বা ড্রেনের পা‌শে চি‌কিৎসা নি‌তে দেখা গে‌ছে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: গোটা ভারতই ঝুঁকিতে
করোনা: ১ বছরের মধ্যে আনতে হবে নতুন টিকা
টানা দুই দিন ৫ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৪৫
করোনা: বরিশালে জনসমাগম সীমিত রাখার নির্দেশ
টিকা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও করোনায় আক্রান্ত

শেয়ার করুন

বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু স্বেচ্ছাসেবক লীগের

বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু স্বেচ্ছাসেবক লীগের

রাজধানীর কলাবাগানে মঙ্গলবার দুপুরে করোনা রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা উদ্বোধন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

নাছিম বলেন, ‘রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক কাজকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সবসময় প্রাধান্য দিয়ে থাকে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর আগে ১০টি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স ও দুটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে, ৪৩ জন ডাক্তার দিয়ে ২৪ ঘণ্টা টেলিমেডিসিন সার্ভিস দিচ্ছে। এর পরিধি প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

রাজধানীর কলাবাগানে মঙ্গলবার দুপুরে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নাছিম বলেন, ‘জামায়াত, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলাম একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, আমাদের জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধে, জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে। তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়।

‘বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত একসাথে হয়ে দানবীয় কায়দায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা করতে চায়। এরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তকমা দিতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ ধর্মকে ঢাল করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারবে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বাংলাদেশে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাবো।’

এ সময় করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। মহামারির সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা-কর্মীদের প্রশংসা করেন তিনি।

নাছিম বলেন, ‘রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক কাজকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সবসময় প্রাধান্য দিয়ে থাকে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর আগে ১০টি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স ও দুটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে, ৪৩ জন ডাক্তার দিয়ে ২৪ ঘণ্টা টেলিমেডিসিন সার্ভিস দিচ্ছে। এর পরিধি প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

‘আজ ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিসের মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ যেভাবে দাঁড়াচ্ছে, এটি অত্যন্ত মহৎ উদ্যোগ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা একে স্বাগত জানাই।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা-কর্মীরা জানান, যে কেউ ০৯৬১১৯৯৭৭৭ হটলাইন নম্বরে ফোন করলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিনা মূল্যের অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা নিতে পারবে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: গোটা ভারতই ঝুঁকিতে
করোনা: ১ বছরের মধ্যে আনতে হবে নতুন টিকা
টানা দুই দিন ৫ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৪৫
করোনা: বরিশালে জনসমাগম সীমিত রাখার নির্দেশ
টিকা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও করোনায় আক্রান্ত

শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্য-ভ্রমণ তালিকায় নিষিদ্ধ ভারত

যুক্তরাজ্য-ভ্রমণ তালিকায় নিষিদ্ধ ভারত

ভারতকে ভ্রমণ নিষিদ্ধের তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। ছবি: এএফপি

ভারতে কমপক্ষে ১০৩ জনের শরীরে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের পর যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক সোমবার ভারতকে লাল তালিকায় যুক্ত করার কথা জানান। এতে ভারতের কেউ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ায় যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ নিষিদ্ধের তালিকায় নাম উঠেছে ভারতের।

দেশটিতে কমপক্ষে ১০৩ জনের শরীরে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের পর যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক সোমবার এই ঘোষণা দেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভারত সফরের কথা থাকলেও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। এরপরই দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতকে লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কথা জানান।

ম্যাট হ্যানকক জানান, গত ১০ দিন যারা ভারতে আছেন, তারা যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না।

তবে ব্রিটিশ অথবা আইরিশ পাসপোর্ট ব্যবহারকারী কিংবা ব্রিটিশ নাগরিকরা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারলেও তাদের সরকারিভাবে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

আগামী শুক্রবার থেকে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে যুক্তরাজ্য।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৭০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আর এই সময়ে মারা গেছে ১ হাজার ৭৬১ জন।

এমন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশটিতে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রও।

দেশটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারতে এখন সংক্রমণের চতুর্থ পর্যায় চলছে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কেউ দেশটিতে ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি টিকা নেয়া থাকলেও আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতে দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতি, বেড ও ওষুধের অভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: গোটা ভারতই ঝুঁকিতে
করোনা: ১ বছরের মধ্যে আনতে হবে নতুন টিকা
টানা দুই দিন ৫ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৪৫
করোনা: বরিশালে জনসমাগম সীমিত রাখার নির্দেশ
টিকা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও করোনায় আক্রান্ত

শেয়ার করুন

সিরামকে শতভাগ অগ্রিম অর্থ দিল ভারত সরকার

সিরামকে শতভাগ অগ্রিম অর্থ দিল ভারত সরকার

জুলাই পর্যন্ত টিকার অগ্রিম মূল্য হিসেবে সিরামকে তিন হাজার কোটি রুপি ও ভারত বায়োটেককে এক হাজার কোটি রুপি পরিশোধ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ভারতে টিকা উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেককে শতভাগ অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করে রেখেছে দেশটির সরকার।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই পর্যন্ত টিকার অগ্রিম মূল্য হিসেবে সিরামকে তিন হাজার কোটি রুপি ও ভারত বায়োটেককে এক হাজার কোটি রুপি পরিশোধ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসে ভারতে ২৪ ঘণ্টায় আবারও রেকর্ড মৃত্যুর মধ্যেই এলো এ খবর। দেশটিতে সোমবার এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৫৭ জনের, মহামারিকালে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ফলে এক বছরে ভারতে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে।

দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ১ কোটি ৫৩ লাখের বেশি মানুষ। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দুই লাখের বেশি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। গত এক সপ্তাহে এ সংখ্যা ১৬ লাখের বেশি।

করোনাভাইরাসে সংক্রমণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরের অবস্থানে আছে ভারত। প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পরই অবস্থান দেশটির।

এমন পরিস্থিতিতে মহামারি নিয়ন্ত্রণে টিকা কার্যক্রমের গতি বাড়াতে তৎপর হয়েছে ভারত সরকার। গত সপ্তাহে ভারত বায়োটেকের বেঙ্গালুরু কারখানার জন্য ৬৫ কোটি রুপির তহবিলে অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। কোভ্যাকসিনের উৎপাদন বাড়াতে নেয়া হয় এ পদক্ষেপ।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ফার্মাসিউটিক্যালসের গবেষণালব্ধ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কোভিশিল্ড। অন্যদিকে ভারতীয় গবেষকদের উদ্ভাবিত কোভ্যাকসিন উৎপাদন করছে ভারত বায়োটেক।

টিকা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে প্রতিষ্ঠান দুটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে দেশটির সরকার। অর্থায়নের প্রাথমিক লক্ষ্য, টিকা প্রস্তুতে কাঁচামাল আমদানি, কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও টিকা উৎপাদন ও বণ্টন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতে করোনার টিকার মজুত শেষ হয়ে আসছে বলে উদ্বেগের মধ্যেই এসব তথ্য প্রকাশ করল ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়।

সোমবার সকালেই পাঞ্জাব সরকার কেন্দ্রকে হুঁশিয়ার করে জানায়, রাজ্যটিতে আর মাত্র তিন দিন টিকা দেয়ার মতো ডোজ মজুত আছে। শুক্রবার অন্ধ্র প্রদেশ জানায়, রাজ্যটিতে টিকার মজুত সম্পূর্ণ শেষ।

টিকার সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বলে চলতি মাসের শুরুতেই মুম্বাই-পুনেসহ রাজ্যের শতাধিক টিকাকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয় মহারাষ্ট্রে।

চলতি সপ্তাহেই ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, টিকা উৎপাদনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে টিকা আমদানির কথাও ভাবছে।

যদিও এর আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি ছিল, করোনাভাইরাসের টিকার ঘাটতি নেই ভারতে।

এদিকে আগামী ১ মে থেকে ভারতে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের প্রত্যেকের জন্য টিকা কার্যক্রম শুরু করছে ভারত। বর্তমানে টিকা নেয়ার জন্য দেশটিতে ন্যূনতম বয়স ৪৫ বছর।

গত ১৬ জানুয়ারি ভারতে টিকা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে এক বা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন সাড়ে ১২ কোটি মানুষ।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: গোটা ভারতই ঝুঁকিতে
করোনা: ১ বছরের মধ্যে আনতে হবে নতুন টিকা
টানা দুই দিন ৫ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৪৫
করোনা: বরিশালে জনসমাগম সীমিত রাখার নির্দেশ
টিকা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও করোনায় আক্রান্ত

শেয়ার করুন

এক বছর ধরে ডরমেটরিতে আটক অভিবাসী শ্রমিকরা

এক বছর ধরে ডরমেটরিতে আটক অভিবাসী শ্রমিকরা

সিঙ্গাপুরে এক বছর ধরে ডরমেটরিতে আটক অভিবাসী শ্রমিকদের কম্পাউন্ড থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। ছবি: সংগৃহীত

৩০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি শ্রমিক বলেন, ‘কর্মস্থলে নির্মাণ করা ডরমেটরিতেই এক বছর বন্দি অবস্থায় রয়েছি। সেখান থেকে আমার কাজের স্থানে কেবল যেতে পারি । এর বাইরে কোথাও যাওয়ার অধিকার নেই আমার। আমি এখনও টিকা পাইনি।’

সিঙ্গাপুরে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এক বছর ধরে কর্মস্থলে নির্মিত ডরমেটরিতে আটক অভিবাসী শ্রমিকদের কম্পাউন্ড থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না।

সংক্রমণ রোধে দেশটির সরকারের নেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ লাখ ২০ হাজার অভিবাসী এসব ডরমেটরিতে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন।

অভিবাসী শ্রমিকদের মাঝে সংক্রমণের হার শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ার পরও তাদের মুক্তভাবে কাজে ফেরা ও মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিচ্ছে না দেশটির সরকার। কবে অনুমতি পেতে পারেন, সে বিষয়েও কোনো আশাও দেখছেন না শ্রমিকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের সোমবারের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদক ফিলিপ হাইজমানসের সঙ্গে কথোপকথনে বাংলাদেশের এক শ্রমিক জানান, ‘আমার বাইরে যাওয়ার কোনো স্বাধীনতা নেই। শুধু ডরমেটরি থেকে কাজের স্থানে যেতে পারি। কাজ শেষে আবারও ডরমেটরিতে ফিরতে হয়।’

৩০ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি শ্রমিক বলেন, ‘কর্মস্থলে নির্মাণ করা ডরমেটরিতেই বন্দি অবস্থায় রয়েছি। সেখান থেকে আমার কাজের স্থান নির্মাণাধীন ভবনেই কেবল যেতে পারি আমি। এর বাইরে কোথাও যাওয়ার অধিকার নেই আমার। আমি এখনও টিকা পাইনি।’

শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে বিভিন্ন সংগঠন অভিবাসী শ্রমিকদের এমন বন্দি জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে।

হিউম্যানিটেরিয়ান অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন ইকোনমিকসের অপারেশন ম্যানেজার লুক টান বলেন, ‘ডরমেটরিগুলোতে বসবাসকারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।’

এক বছর আগে, ডরমেটরিগুলোতে ব্যাপকহারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কঠোর বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সরকারের নেয়া এমন বিধিনিষেধ সংক্রমণ রোধে সফলতা দেখায়। গত নভেম্বরের পর থেকে এই ডরমেটরিগুলোতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ জনেরও কম।

দেশটির জনশক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, কমিউনিটির অন্যদের সঙ্গে মাসে একবার এই শ্রমিকদের দেখা করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন তারা।

এই মুখপাত্র আরও বলেন ‘এই ডরমেটরিগুলোতে বসবাসকারী অন্তত ৯ হাজার শ্রমিককে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে এ বছর মার্চে। আরও ৩০ হাজার শ্রমিককে দ্বিতীয় ধাপে টিকার আওতায় আনা হবে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির পার্লামেন্টে জানানো হয়, ডরমেটরিগুলোর অভিবাসী শ্রমিকরা টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

আরও পড়ুন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: গোটা ভারতই ঝুঁকিতে
করোনা: ১ বছরের মধ্যে আনতে হবে নতুন টিকা
টানা দুই দিন ৫ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৪৫
করোনা: বরিশালে জনসমাগম সীমিত রাখার নির্দেশ
টিকা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টও করোনায় আক্রান্ত

শেয়ার করুন