টিকা নিতে নিবন্ধন ৬৪ লাখ

টিকা নিতে নিবন্ধন ৬৪ লাখ

গণটিকা দেয়া শুরুর ৪১ দিনে টিকা নিয়েছেন ৫০ লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৯২৩ জনের শরীরে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গণটিকা দেয়া শুরুর ৪১ দিনে টিকা নিয়েছেন ৫০ লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৯২৩ জনের শরীরে। টিকা পেতে নিবন্ধন করেছেন ৬৪ হাজারের বেশি।

বুধবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন ৭৮ হাজার ৮১৭ জন। সব মিলিয়ে টিকা গ্রহীতার সংখ্যা ৫০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯।

তাদের মধ্যে পুরুষ ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৪ এবং নারী ১৯ লাখ ৫৫ জন। এছাড়া ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে টিকা নেন আরও ৫৬৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনসহ ৯২৩ জন টিকাগ্রহীতার শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে মাত্রা খুবই মৃদু। কারও সামান্য জ্বর কিংবা বমি হয়েছে।

রাজধানীতে ৪৬টি এবং বাইরে ৯৫৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম চলছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮৯ জন।

গত একদিনে জেলাভিত্তিক সবচেয়ে বেশি টিকা দেয়া হয়েছে ঢাকায়, ৯ হাজার ৪৬২ জনকে। সবচেয়ে কম বান্দরবানে, ১০০ জনকে।

২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ৯ হাজার ৪৬২ জন। ঢাকা বিভাগে টিকা নিয়েছেন ২২ হাজার ৮১ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ১২ হাজার ৪৬৭ জনকে। কারও শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। রাজশাহী বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১১ হাজার ৫০২ জন। এই বিভাগেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। খুলনা বিভাগে ৮ হাজার ৮৫৫ জনের মধ্যে কারও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

বরিশালে টিকা দেয়া হয়েছে ২ হাজার ৭০০ জনকে। এই বিভাগেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। সিলেট বিভাগে ২ হাজার ৩৪৩ জন টিকাগ্রহীতার মধ্যে কারও শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রংপুরে ১২ হাজার ৭২৮ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ১৪১ জনকে। এর মধ্যে একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেষ বিদায়ে ‘মানবিক স্পর্শ’

শেষ বিদায়ে ‘মানবিক স্পর্শ’

অন্তিম বিদায়ের আগে স্বজনহীনতার ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণা কিছুটা হলেও লাঘব করতে অভিনব উপায় বেছে নিয়েছেন ব্রাজিলের এক নার্স। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে স্বজনের স্পর্শের অনুভূতি দেয়ার চেষ্টা করেছেন অন্যভাবে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুপুরী ব্রাজিল। ছোঁয়াচে রোগ বলে বিদায় নেয়ার আগ মুহূর্তেও প্রিয়জনদের এক নজর দেখার সুযোগ পাননি হতভাগ্য লাখো মানুষের।

অন্তিম বিদায়ের আগে স্বজনহীনতার ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণা কিছুটা হলেও লাঘব করতে অভিনব উপায় বেছে নিয়েছেন ব্রাজিলের এক নার্স। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে স্বজনের স্পর্শের অনুভূতি দেয়ার চেষ্টা করেছেন অন্যভাবে।

ঘটনাটি সাও পাওলোর ভিলা প্রাডো ইমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিটের। হাসপাতালটিতে দায়িত্বরত নার্স সেমেই আরাউজো চেয়েছিলেন ইনটিউবেশনে থাকা এক করোনা রোগীর মানসিক কষ্ট কমাতে।

স্বজনবিচ্ছিন্ন ওই নারীকে স্বজনের স্পর্শ অনুভব করাতে চেয়েছিলেন আরাউজো। তিনি রাবারের এক জোড়া গ্লাভসে উষ্ণ পানি ভরে তা ওই রোগীর হাতের ওপরে রাখেন।

দুই জোড়া গ্লাভস এমনভাবে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর হাতের ওপর রাখা হয়, যেন জীবন্ত কোনো মানুষ নিজের দুই হাত দিয়ে তাকে ধরে রেখেছে।

করোনা ওয়ার্ডের এমন দৃশ্যের ছবি ভাইরাল হয়েছে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে।

মহামারির এ সময়ে মানবিক স্পর্শের এ ছবি নাড়িয়ে দিয়েছে মানুষকে, কাঁদিয়েছে স্বজন হারানোর ক্ষত বয়ে চলা লাখো মানুষকে।

ছবিটি টুইটারে প্রথম প্রকাশ করেন আরাউজো নিজেই। ক্যাপশনে লেখেন, ‘রোগীর যত্ন করতে, তাকে স্বস্তি দিতে, তার প্রতি নিজের মমতা জানাতেই এ কাজটি করেছি। শুধু পেশাদার আচরণ হলেই তো চলে না।

‘মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, তার মন কী চাইছে তা বোঝার চেষ্টা করাও আমার দায়িত্ব।’

ছবিটি ভাইরাল হলে এক সাক্ষাৎকারে এই নার্স বলেন, ‘ইনটিউবেশন ভীষণ কষ্টের একটি প্রক্রিয়া। কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে সাহায্য করতে রোগীর শ্বাসনালিতে টিউব ঢোকাতে হয়।

‘এই ভয়াবহ শারীরিক যন্ত্রণা কিছুটা কমাতে রোগীকে বোঝাতে চেয়েছি যে, তাকে কেউ ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে তার ঠান্ডা হয়ে যাওয়া শরীরকে খানিকটা উষ্ণও রাখা সম্ভব এতে।’

চেতনাহীন কিন্তু অনুভূতি কাজ করছে, এমন মানুষকে সহমর্মিতা জানানোর এর চেয়ে ভালো উপায় আর হয় কি না, তা জানা নেই অনেকের।

ছবিটি রিটুইট করা লাখো মানুষের আশা, মৃত্যুপথযাত্রী ওই রোগীর চেতনা ফেরাতে হয়তো এই ভালোবাসাই ওষুধের মতো কাজ করবে।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এমন ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। আরাউজোর সহকর্মী মারিয়া সান্তোস ও ভেনেসা ফরমেন্টন এর আগেও এ কাজ করেছেন। তারা এই চিকিৎসার নাম দিয়েছে ‘লিটল হ্যান্ড’ বা ‘ছোট্ট হাত’।

মহামারির করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ব্রাজিল। এক বছরে দেশটিতে সংক্রামক এ ভাইরাসে প্রাণ গেছে সাড়ে তিন লাখ মানুষের। আক্রান্ত হয়েছে আরও এক কোটি ৩৪ লাখ মানুষ।

শেয়ার করুন

করোনায় সর্বোচ্চ ৭৭ জনের মৃত্যু

করোনায় সর্বোচ্চ ৭৭ জনের মৃত্যু

দেশে করোনায় এক দিনে সবচেয়ে বেশি ৭৭ জন মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪৩টি ল্যাবে ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০.৪৯ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৬৫ শতাংশ।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে আরও পাঁচ হাজার ৩৪৩ জনের শরীরে।

এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জনে।

এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ জনের মৃত্যুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৬৬১ জনে পৌঁছেছে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪৩টি ল্যাবে ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০.৪৯ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৬৫ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৮৩৭ জন সুস্থ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জন। সুস্থতার হার ৮৪.৩০ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৭৭ জনের মধ্যে ৫১ পুরুষ ও ১৫ নারী রয়েছে। তারা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

বয়স বিবেচনায় মৃত ৭৭ জনের এক শিশু রয়েছে। এ ছাড়া বিশোর্ধ্ব তিন, ত্রিশোর্ধ্ব দুই, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচ, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২২, ষাটোর্ধ্ব ৪৪ জন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

শেয়ার করুন

অগ্রিম টাকা দিয়েও মেলেনি আইসিইউ, রোগীর মৃত্যু 

অগ্রিম টাকা দিয়েও মেলেনি আইসিইউ, রোগীর মৃত্যু 

মগবাজারের হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে অগ্রিম টাকা নিয়েও আইসিইউ না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

মগবাজারের হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি করার ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা দেয়ার নিয়ম করেছে কর্তৃপক্ষ। ওয়ার্ডে ভর্তির ক্ষেত্রে ৪০ হাজার, কেবিনে ৭০ হাজার, আইসিইউতে ৮০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিতে হয়।

রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ফিরোজ উদ্দিন। ৩ এপ্রিল তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়। নমুনা পরীক্ষার দুই দিন পর করোনা পজিটিভ আসে।

শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে ৫ এপ্রিল ফিরোজ ভর্তি হন বেসরকারি ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেও পরিস্থিতি জটিল হলে চিকিৎসক পরামর্শ দেন আইসিইউতে নিতে।

বেশ কিছু হাসপাতালে খোঁজ করে ফিরোজ উদ্দিনের ছেলে সায়েম রাজধানীর মগবাজারে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ফাঁকা আইসিইউয়ের খোঁজ পান।

সায়েম জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অগ্রিম এক লাখ টাকা দিলে আইসিইউ বেড দেবে বলে আশ্বাস দেয়।

তিনি জানান, তার পরিবারের পক্ষে সেই টাকা জোগাড় করা ছিল কষ্টসাধ্য। তারপরও টাকা জোগাড় করা হয়। ৭ এপ্রিল অগ্রিম টাকাও দেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ দেয়নি। এমনকি কোনো সিটও পাননি তার বাবাকে নিয়ে গিয়ে। অবশেষে সেখানেই অক্সিজেন স্বল্পতায় তার বাবার মৃত্যু হয়।

মগবাজারের হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে অগ্রিম টাকা নিয়েও আইসিইউ না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

পরিবারের দাবি, ৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ফিরোজ উদ্দিন অক্সিজেন স্বল্পতায় মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়ে যায় আইসিইউতে। পরে দাবি করে রোগী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ফিরোজ উদ্দিনের ছেলে সায়েম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালের লোকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। তারা আমার থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে আইসিইউ বেড দেয়ার কথা বলে। প্রায় এক ঘণ্টা ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারেরও ব্যবস্থা করতে পারেনি তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে আইসিইউ বেড কনফার্ম করার পরেও বেড চাওয়া হলে পরে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে পারবেন না বলে দায়সারা ভাব দেখায়। এমনকি বারবার রুম থেকে বের হয়ে চলে যেতে লাগে।’

রোগীর সঙ্গে থাকা রনি বলেন, ‘একটা হাসপাতালে কতটা অব্যবস্থাপনা আছে তা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে না আসলে বুঝতাম না। এখানে একজন আরেকজনের অজুহাত দিয়ে ফাঁকা বুলি ছেড়ে চোখের সামনে একটা রোগীকে মেরে ফেলল।’

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ডা. জিতু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফুল সাপোর্ট আইসিইউতে আমাদের বেড খালি ছিল না। আমাদের এখানে ১৫টি পূর্ণাঙ্গ টিআইসিইউ গত দুই সপ্তাহ ধরে ফাঁকা নেই।’

‘ফিরোজ আলমকে আইসিইউ দেয়ার কথা বলে ভর্তি করানো হলেও আইসিইউ দেয়া হয়নি। এমনকি অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা করা হয়নি। আপনাদের অবহেলায় তিনি মারা গেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।’

নিউজবাংলার উল্লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ চিকিৎসক বলেন, ‘সবকিছু তো আমি বলতে পারব না। তবে এটা বলতে পারি, ওই দিন খুব খারাপ অবস্থা ছিল, রোগীর প্রচণ্ড চাপ ছিল। ওই দিন অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের খুবই সংকট ছিল।

‘আমাদের হাসপাতালে টোটাল জিনিসপত্র সেন্ট্রাল থেকে বণ্টন করা হয়। সেখান থেকে আসতে হবে তো। কিছু মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্রাইসিস চলছে। এটা সাফার করছে অনেকেই। হয়তো অক্সিজেন নিশ্চিত না করার কারণে মৃত্যু হয়েছে।’

রোগী ভর্তি করার জন্য অগ্রিম টাকা দেয়ার বিষয়ে তিনি জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি করার ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা দেয়ার নিয়ম করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওয়ার্ডে ভর্তির ক্ষেত্রে ৪০ হাজার টাকা, কেবিনে ৭০ হাজার, আইসিইউতে ৮০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিতে হবে।

এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জিতু বলেন, ‘ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে রোগীর জন্য এমনিতেই এই টাকা ব্যয় হয়ে যায়।’

অক্সিজেন ব্যবস্থা ছাড়াই চড়া দামে বেডে রোগী ভর্তি করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে বেশ কিছুদিন ধরে করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে। করোনা রোগীর হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট দেখা যাচ্ছে। অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে।

‘এ ক্ষেত্রে যদি কোনো রোগীর স্বজন অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে আমরা সেই রোগীকে আইসিইউ রুমের মধ্যে বেড দিচ্ছি। তবে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সুবিধা দিতে পারছি না।’

বিষয়টি নিয়ে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মোর্শেদকে ফোন করা হলে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন।

পরে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কলগুলো আর রিসিভ হয়নি।

শেয়ার করুন

২৫ গুণ দ্রুতগতিতে ধনী দেশে টিকাদান

২৫ গুণ দ্রুতগতিতে ধনী দেশে টিকাদান

করোনাভাইরাসের টিকা নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী। ছবি: এএফপি।

গত বৃহস্পতিবার নাগাদ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১১ শতাংশ হয়েও বৈশ্বিকভাবে দেওয়া করোনা টিকার ৪০ শতাংশ নিয়েছে ২৭টি ধনী দেশের নাগরিকরা। অন্যদিকে বিশ্বের ১১ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ পেয়েছে টিকার মাত্র ১.৬ শতাংশ ডোজ।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশকে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে। তবে টিকার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় দেখা গেছে বড় ধরনের বৈষম্য। বেশির ভাগ টিকাই বাগিয়ে নিয়েছে ধনী দেশগুলো।

গত বৃহস্পতিবার নাগাদ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১১ শতাংশ হয়েও বৈশ্বিকভাবে দেওয়া করোনা টিকার ৪০ শতাংশ নিয়েছে ২৭টি ধনী দেশের নাগরিকরা।

অন্যদিকে বিশ্বের ১১ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ পেয়েছে টিকার মাত্র ১.৬ শতাংশ ডোজ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের ভ্যাকসিন ট্র্যাকারে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে এমন প্রতিবেদন করেছেন টম রান্ডেল।

ওই প্রতিবেদক জানান, স্বল্প আয়ের দেশগুলোর তুলনায় ২৫ গুণ দ্রুততার সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর সরকার।

ব্লুমবার্গের টিকাবিষয়ক তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৫৪টি দেশে ৭২ কোটি ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমটি টিকাপ্রাপ্তির সঠিক অবস্থা জানাতে এসব দেশের সম্পদের হিসাবের পাশাপাশি নাগরিকদের টিকা পাওয়ার সুবিধার রেকর্ড তুলে ধরেন।

ট্র্যাকার অনুসারে দেখা যায়, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েও এখন পর্যন্ত মোট টিকার ২৪ শতাংশ প্রয়োগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর। আর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে দেশটির ৭৫ শতাংশ নাগরিককে টিকা দেয়া হবে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ২.৭ শতাংশ হয়েও মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ ডোজ পেয়েছে পাকিস্তানের নাগরিকরা।

ধনী দেশের সরকারগুলো টিকা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত কোটি ডোজ আগাম চুক্তির ভিত্তিতে কিনে রেখেছে। ফলে এমন বৈষ্যমের চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে।

জনসংখ্যার ভিত্তিতে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে এখনও কোনো উপায় বা পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যায়নি।

এমন বাস্তবতায় বিশ্বের সবচেয়ে কম সম্পদশালী মহাদেশ আফ্রিকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে।

মহাদেশটির ৫৪টি দেশের মধ্যে কেবল তিনটি দেশে এখন পর্যন্ত টিকার আওতায় এসেছে মাত্র এক শতাংশ মানুষ। এখনও ২০টি দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়নি।

শেয়ার করুন

করোনায় যা যা করণীয়: ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ  

করোনায় যা যা করণীয়: ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ  

করোনায় আক্রান্ত হলে অবশ্যই আইসোলেশনে থাকতে হবে। আইসোলেশন মানে, এই ১৪ দিন ঘরের বাইরে যাবেন না, বাড়ির অন্য কারো সঙ্গে মিশবেন না। কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীর খাবার ঘরের দরজার বাইরে রেখে আসতে হবে, কেউ ভেতরে ঢুকবেন না।

সারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বহু দেশ এখন চরম বিপর্যস্ত। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন দেশে বাড়ছে শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।

প্রথিতযশা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবিএম আব্দুল্লাহ নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন তিনি সুস্থ আছেন।

তার পরামর্শ, একজন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে অবশ্যই তাকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে থাকতে হবে।

আর আইসোলেশন মানে হলো, এই ১৪ দিন তিনি নিজে ঘরের বাইরে যাবেন না, আবার বাড়িতে অন্য কারো সঙ্গে মিশবেন না। ঘরে অবস্থানকালে পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শও এড়িয়ে চলতে হবে। কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীর খাবার ঘরের দরজার বাইরে রেখে আসতে হবে, কেউ ভেতরে ঢুকবেন না।

ঘরের বাইরের অন্য কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে নিজে না গিয়ে কারো সহায়তা নেয়াই ভালো। ঘরে পোষা প্রাণী থাকলে তাদের সংস্পর্শে না যাওয়াই ভালো। এক কথায় নিজে নিজেকেই অন্যদের থেকে পৃথক করে রাখা। এতে পরিবারের বা সমাজের অন্যরা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে না

আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় যদি কারোর জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা বেশি দেখা দেয়, তাহলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে।

করোনায় আক্রান্ত মানেই মৃত্যু নয়

করোনা মানেই কি মৃত্যু? করোনা মানেই মৃত্যু নয়। বরং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে, আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে শিশুসহ সবাই ক্রমে সুস্থ হয়ে ওঠে।

এজন্য দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। ভালো হবে প্রতিদিন সুষম খাবার, টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে পারলে। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। ধূমপান ও মদ্যপান একদম নয়। আপনার শরীরে যদি করোনাভাইরাস ধরা পড়ে, তাহলে দুশ্চিন্তা না করে চিকিৎসা নিন। ভাইরাস পজিটিভ মানে মৃত্যু নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্তদের শতকরা ৬ জনের মৃত্যু হয়।

আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজে একটি রুমে আবদ্ধ হয়ে যান। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করুন। যদি রুমে অ্যাটাস্ট বাথরুম থাকে তাহলে ভালো হয়।

পূর্বের কোনো রোগ থাকলে বা সেই রোগের জন্য ওষুধ খাচ্ছেন, এমন ওষুধসহ থালা-বাসন থেকে শুরু করে যা দরকারি জিনিস সঙ্গে রাখুন।

আসল কথা হলো সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে আপনি পরিবার থেকে দূরে থাকুন। এমন রুমে অবস্থান করুন যেখানে আপনার পরিবারের সদস্যরাও ঢুকবেন না। এমনকি আপনি ওই রুম থেকে বের হবেন না।

মনে রাখবেন, করোনায় আক্রান্ত হলেও অনেকের উপসর্গ দেখা যায় না। অনেকের আবার জ্বর জ্বর ভাব থাকে। কারো যদি জ্বর জ্বর ভাব থাকে থার্মোমিটার নিয়ে নিজেই পরিমাপ করে নিতে হবে। শুধু যদি জ্বর হয় তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আপনি ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।

যে সব প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখবেন

আপনারা জানেন, কভিড-১৯-এর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসক লক্ষণ বুঝে উপসর্গ দেখে, নানা রকম চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। আপনার যদি এক শর ওপরে জ্বর থাকে; আর আপনি যদি পূর্ণবয়স্ক হন, তাহলে দিনে তিনবার প্যারাসিটামল খান। এভাবে কিছুদিন খেতে থাকেন, দেখবেন আপনার জ্বর, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা এমনিতেই চলে যাবে।

যদি সর্দি, হাঁচি ও কাশি থাকে, তাহলে সিরাপ খেতে পারেন। ফেক্সোফেনাডিন প্রতিদিন একটা করে খান, দেখবেন কিছুদিন পর হাঁচি ও কাশি দূর হয়ে গেছে।

যদি কাশি বেশি হয় তাহলে তুসকা সিরাপ খেতে পারেন। তুসকা ছাড়াও বাজারে অনেক ধরনের সিরাপ রয়েছে; সেগুলো খেতে পারেন। শরীরে যদি ব্যথা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন।

মনোবল চাঙা রাখতে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকুন

করোনা আক্রান্ত হলে সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো মনোবল শক্ত রাখা। যার যার সৃষ্টিকর্তাকে ডাকবেন। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে এই রোগ থেকে নিশ্চয়ই মুক্তি দান করবেন।

আপনি যদি মনোবল দুর্বল করে ফেলেন, তাহলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

আপনি যদি মনোবল শক্ত রাখতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনি এমনি বৃদ্ধি পাবে। করোনাভাইরাস আপনাকে কিছু করতে পারবে না।

‘অনেক রিপোর্টেই আমরা দেখেছি, বয়স্ক কিংবা অন্য কোনো রোগ আছে, এমন ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে। এটি আসলে অনেক ক্ষেত্রেই ভুল।

‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যেকোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সেই রোগের চিকিৎসা আছে। আপনি করোনা আক্রান্ত, আপনার আগে থেকে ডায়াবেটিস আছে, তাহলে আপনি করোনার সঙ্গে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাও নেবেন।’

যে সময় হাসপাতালে যেতে হবে

নতুন ধরনের ভেরিয়েন্ট দ্রুত মানুষকে দুর্বল করে ফেলছে। দ্রুত অক্সিজেন লেভেল কমে আসছে। তাই করোনায় আক্রান্তের পর যদি শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তাহলে আপনি এজমাসল ওষুধ ইউজ করবেন। ওষুধে যদি কাজ না হয়, করোনার চিকিৎসা দেয়, এমন হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। তবে উন্নত দেশগুলোতে ঘরে বসেই বেশির ভাগ রোগী করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অনেক সময় এমনও হয়েছে, হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগী বেকায়দায় পড়েছেন, এমনকি মারাও গেছেন। তীব্র শ্বাসকষ্টে অক্সিজেন প্রয়োজন হলে অবশ্যই হাসপাতালে যাবেন। তাৎক্ষণিক অক্সিজেনের ব্যবস্থা করবেন।

যে সব খাবার খাবেন

আপনি বাসায় বসে ভিটামিন সি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করবেন। ঘনঘন চা পান করবেন। সব খাবার গরম খান। প্রচুর পরিমাণে রঙিন শাকসবজি খান। প্রোটিন খান।

ডিম খাবেন ও দুধ পান করবেন। করোনা আক্রান্ত হলে ঠান্ডাজাতীয় কোনো কিছুই আপনি খেতে পারবেন না।

আইসোলেশনে যেভাবে সময় কাটাবেন

এই অবসর সময়ে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকার সবচেয়ে মোক্ষম সময়। মুসলিম হলে নামাজ পড়বেন। অন্য ধর্মের হলে উপাসনা করতে পারেন। মোবাইলের মাধ্যমে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সামাজিক দূরত্ব মেনটেইন করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। সকাল বিকেল এক সময় শরীর চর্চা করতে পারেন। সবচেয়ে বড় বিষয় সামাজিক দূরত্ব মেইনটেইন করা।

প্রয়োজন হলেও আপনি বাইরে যেতে পারবেন না। কোনো প্রয়োজনে আপনার ঘরেও কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আইসোলেশনে রাখতে হবে। আপনি আইসোলেশনে থাকবেন, মনোবল শক্ত করবেন, দেখবেন খুব দ্রুত এই ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভ করেছেন।

শেয়ার করুন

বিপণিবিতানে ভিড়, সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

বিপণিবিতানে ভিড়, সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি রেখে ভাইরোলজিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।’

লকডাউনের পঞ্চম দিনে শুক্রবার শপিংমল খোলার অনুমতি মিললেও শুরুতে ক্রেতা না পেয়ে হতাশ ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিকেল হতেই পাল্টে যায় চিত্র। বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতার ভিড় হতে থাকে।

এমনিতেই কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে জনমানুষের ভিড় সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ হাজার ৪৬২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের।

সংক্রমণ বাড়ার এই সময়ে গণপরিবহন ও বিপণিবিতান খুলে দেয়ার কারণে সরকারের আরোপ করা বিধিনিষেধ মেনে চলার দিকে অনেকেই উদাসীন। সড়কেও বেড়েছে মানুষের সংখ্যা।

রাজধানীর নিউমার্কেট, চাঁদনীচক, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, গুলিস্তানের বিপণিবিতান ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। গায়ে-গায়ে ঘেঁষে আছে মানুষ। ফুটপাতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। এ কারণে অনেক মার্কেটসংলগ্ন রাস্তায় যানজট দেখা দেয়।

News-Market-3

তবে করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

‘সরকারের এদিকে কোনো লক্ষ্য নেই। সংক্রমণ ঠেকানোর সবচেয়ে বড় বিষয় স্বাস্থ্যবিধি পালন করা। কিন্তু সেই বিষয়ে যা যা করার তা করছে না সরকার।’

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি রেখে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।’

শুক্রবার বিপণিবিতান খুলে দিলে নিউমার্কেট এলাকায় দেখা দেয় তীব্র যানজট। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এর আগে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় সরকার সারা দেশে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ৪ এপ্রিল। ১৮টি বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন ও শপিংমল বন্ধ থাকার কথা বলা হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, গত চার দিন শপিং মল, দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকলেও অলিগলির সব দোকানপাটই খোলা ছিল। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি।

News-Market-1

বুধবার থেকে গণপরিবহন চলাচল উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়ার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে মার্কেট খুলে দেয়ার কথা বলা হয়।

নিউমার্কেট এলাকায় কেনাকাটা করতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এতে বলা হয়, ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে শপিংমল ও দোকানপাট। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

শেয়ার করুন

ভারতে সবচেয়ে সংক্রমিত রাজ্যে টিকার সংকট

ভারতে সবচেয়ে সংক্রমিত রাজ্যে টিকার সংকট

করোনার টিকা সংকটের কারণে বন্ধ মুম্বাইয়ের একটি কেন্দ্র। ছবি: এনডিটিভি

মুম্বাইয়ের মেয়র কিশোরি পেডনেকার শুক্রবার বলেন, ‘এমন অনেক টিকাকেন্দ্র রয়েছে যেখানে কোনো টিকাই নেই। ওইসব কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়েছে। শুনেছি ৭৬ হাজার থেকে এক লাখের মতো ডোজ আজ মুম্বাইয়ে আসবে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ঘাটতি দেখা দেয়ায় ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই শহরে ৭১টি কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বান্দ্রায় বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সের (বিকেসি) টিকাকেন্দ্র অন্যতম। টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কেন্দ্রের বাইরে অনেককে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

শুক্রবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিকেসির ডিন রাজেশ দেরে বলেন, ‘সাধারণত একদিন আগেই পর্যাপ্ত টিকা পেয়ে থাকি আমরা। গতকালও টিকার কোনো সংকট ছিল না। গতরাতে আজকের টিকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আসেনি। আমাদের সংগ্রহে এখন কেবল ১৬০টি ডোজ রয়েছে।’

নাগরিক সংগঠন বৃহনমুম্বাই মিউনিসিপাল করপোরেশনের (বিএমসি) তথ্য অনুযায়ী, গোটা মুম্বাইয়ে ১২০টির মতো টিকাকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৭১টি কেন্দ্রে টিকা নেই।

বাকি ৪৯টি কেন্দ্রে টিকা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার ও বিএমসি। ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষকে ওইসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে টিকা দেয়া হয়।

মুম্বাইয়ের মেয়র কিশোরি পেডনেকার শুক্রবার বলেন, ‘এমন অনেক টিকাকেন্দ্র রয়েছে যেখানে কোনো টিকাই নেই। ওইসব কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়েছে। শুনেছি ৭৬ হাজার থেকে এক লাখের মতো ডোজ আজ মুম্বাইয়ে আসবে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

মহারাষ্ট্র রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপ গতকাল অভিযোগ করে বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় মহারাষ্ট্রে টিকা সরবরাহ অপ্রতুল। অন্যদিকে গুজরাটের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো পর্যাপ্ত টিকা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে মহারাষ্ট্রে করোনার দৈনিক সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে রাজ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪০ লাখ ও প্রতি মাসে ১ কোটি ৬০ লাখ টিকার প্রয়োজন। গুজরাটের তুলনায় মহারাষ্ট্রের জনসংখ্যা দ্বিগুণ। গুজরাট এক কোটি ডোজ পেয়েছে। আমরাও একই পরিমাণ টিকা পেয়েছি।’

মহারাষ্ট্রের প্রতি কেন্দ্রের বৈষম্যমূলক নীতির সমালোচনার পর রাজ্যটিতে টিকার বরাদ্দ সাত লাখ থেকে ১৭ লাখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাজেশ তোপ।

এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেন, টিকা স্বল্পতার কথা বলে মহারাষ্ট্র নিজের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘টিকা নিয়ে কয়েকটি রাজ্যের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। এর মাধ্যমে রাজ্যগুলো নিজেদের অক্ষমতা ঢাকার চেষ্টা করছে। যে তিন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি টিকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান রয়েছে। ওই দুই রাজ্য বিজেপিশাসিত নয়।’

শেয়ার করুন