ঢামেকে আগুন: পৃথক আইসিইউ-এসডিইউতে স্থানান্তর

ঢামেকে আগুন: পৃথক আইসিইউ-এসডিইউতে স্থানান্তর

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউ। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, ‘আগুন লেগেছিল ১৪ বেডের আইসিইউতে। ১৪ জন রোগী ছিলেন। আগুনের ঘটনায় তাদের সবাইকে করোনার জন্য আলাদা ১০ বেডের একটি আইসিইউ আছে, সেখানে স্থানান্তর করেছি। মানসম্পন্ন কিছু এসডিইউ আছে সেখানেও কিছু রোগীকে স্থানান্তর করেছি। কেউ কিন্তু আগুনে মারা যাননি। স্থানান্তরের পর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তিন রোগী মারা যান।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আগুনের পর সেখান থেকে রোগীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে হাসাপাতালের পৃথক আইসিইউ ও হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ)।

হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় বুধবার সকাল ৮টার দিকে আগুনের সূত্রপাত। এ সময় রোগী স্থানান্তরে গুরুতর অসুস্থ তিন রোগীর মৃত্যু হয়।

ওই ওয়ার্ডের বাকি রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, আগুন লেগেছিল ১৪ বেডের আইসিইউতে। ১৪ জন রোগী ছিলেন। আগুনের ঘটনায় তাদের সবাইকে করোনার জন্য আলাদা ১০ বেডের একটি আইসিইউ আছে, সেখানে স্থানান্তর করেছি। মানসম্পন্ন কিছু এসডিইউ আছে, সেখানেও কিছু রোগীকে স্থানান্তর করেছি। কেউ কিন্তু আগুনে মারা যাননি। স্থানান্তরের পর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তিন রোগী মারা যান।’

নাজমুল হক বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমাদের করোনার ব্যাপক কার্যক্রম। বলা যায় সারা দেশের করোনা আক্রান্ত অর্ধেক রোগীর চাপ সামলাই আমরাই। আমাদের মোট আইসিইউ ২৪ বেডের। এর মধ্যে ১৪ বেডের আইসিইউতে আগুন লাগে। এ ছাড়া আমাদের আইসিইউ মানসম্পন্ন এসডিইউ আছে।’

নাজমুল জানান, করোনা ইউনিটের আইসিইউ চালু করা হয় বিশেষ প্রয়োজনে। একটা সিট ১০ মিনিটও খালি থাকে না। ওই ইউনিটে ৫৩৩ জন রোগী রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেক সময় সবার জন্য আইসিইউ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

নিজেদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতির কারণে কিন্তু অনেকটা তাড়াহুড়া করে আইসিইউ চালু করা হয়েছিল। এই আইসিইউ ২৪ ঘণ্টা চালানোর জন্য যে ধরনের সার্বক্ষণিক সক্ষমতা, স্ট্যাবিলিটি, পারফরমেন্স দরকার সেটা আমরা পারিনি।

ক্ষতি প্রায় ২ কোটি টাকা

আইসিইউতে আগুনে ক্ষতি সম্পর্কে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক নাজমুল হক বলেন, ‘আইসিইউ প্রতি খরচ হয়েছে ধরেন প্রায় ২০ লাখ টাকা। যদি ১০ লাখ টাকা করেও ধরি তাহলে মিলে এর ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক প্রায় ২ কোটি টাকা।’

কবে নাগাদ তবে এই আইসিইউ চালু করা সম্ভব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা চালু করা এখনই সম্ভব নয়। এটা আমরা নতুন করে সুন্দর করে তৈরি করব। আইসিইউ চালানোর জন্য যে ধরনের বেসিক রিকোয়ারমেন্ট দরকার সেসব চালু আছে। আগুনে আইসিইউটি যে ভস্মীভূত হয়ে গেছে তা কিন্তু নয়।’

ঢামেকে আগুন: পৃথক আইসিইউ-এসডিইউতে স্থানান্তর
আগুনের পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। ছবি: নিউজবাংলা

আরও আইসিইউ দরকার

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে এই ইউনিটে আরও এসির দরকার বলে জানিয়েছেন পরিচালক নাজমুল হক।

‘আমাদের এই মুহূর্তে চাপ সামলাতে আইসিইউ দরকার। আমাদের বাকি যে ১০ বেডের আইসিইউ আছে সেটা মূলত সার্জারি আইসিইউ। ওটার কিছু বেড খালি থাকবে। সেখানে আমরা মেডিসিনের রোগীদের পাঠাচ্ছি। সেখানে মেডিসিনের ডাক্তারদের শিফট করে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে।

‘আমাদের ওখানে আরেকটি ভালো স্পেস আছে, তা হলো পোস্ট অপারেটিভ। এটা আইসিইউ মানসম্পন্ন। সেখানে আমরা আইসিইউ মানের চিকিৎসা সেবাটা চালু করব। আমাদের যে সমস্ত হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) আছে, ক্ষতিগ্রস্ত আইসিইউ চালুর আগে পর্যন্ত আমরা এই এইচডিইউগুলো আরও উন্নত করে আইসিইউর চাপটা সামলানোর পরিকল্পনা করেছি।’

যা বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

গোলাম মোস্তফা আইসিইউ ১২ নম্বর বেডে ছিলেন। তার শ্যালক জামান বলেন, ‘আমরা বাইরে ছিলাম। দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল আমার পেশেন্ট জীবিত ছিলেন। ভেতরের লোকজন যাদের অবস্থা ভালো তাদের আগে সরিয়েছেন। আমার রোগীর কাছে যেতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদেরকে আনসাররা ঢুকতে দেয়নি।

গোলাম মোস্তফা গত ১১ মার্চ ব্রেন ও ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হন। করোনা টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় করোনা ইউনিটের আইসিইউতে নিয়ে আসা হয়।

করোনা ইউনিটের ভেতরে থাকা ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলো সঠিকভাবে কাজ করেনি বলে দাবি স্বজনদের। করোনা ইউনিটে থাকা নার্স এবং স্টাফদের অবহেলার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

১০ নম্বর বেডে ছিলেন মাহবুব মন্ডল। তিনি বেঁচে আছেন। তবে তার অবস্থাও ভালো না। আগুন লাগার সময় ১০ নম্বর বেডে বাবার পাশে ছিলেন ছেলে ইসলামুল হক।

আগুনের সূত্রপাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার পেশেন্ট ছিল ১০ নম্বর বেডে। ১২ নম্বর বেডে আইসিইউ মেশিনের শর্ট সার্কিট হয়। এতে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন আমি আমার পেশেন্টের পাশে দাঁড়ানো। আগুনটা একটা পাইপের সঙ্গে লাগার পর ১২ নম্বর পেশেন্টের যে গার্ডিয়ান ছিলেন, তিনি বাড়ি দিয়ে পাইপটা সরিয়ে দেন। তখন আগুনটা উপরে উঠে যায়।

‘আগুন বেড়ে যাওয়ার পর ভেতরে থাকা সিস্টার, আনসার সবাই পালিয়ে যান। আগুন বেড়ে যাওয়ায় আমার বাবার অক্সিজেন খুলে বাইরে নিয়ে আসি। পাশ থেকে একটি সিলিন্ডার ম্যানেজ করে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এখন পর্যন্ত আমাদের পেশেন্টকে আইসিটিতে স্থানান্তর করা হয়নি।’

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন: তদন্তে ২ কমিটি
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন, সরানোর পর ৩ রোগীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের

ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত হওয়ার পর হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওয়াহেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার ছোট মেয়ে ও স্ত্রীসহ অন্যদের অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর শিশু হাবিবার মৃত্যু হয়।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা ও তার ১৩ মাসের শিশুকন্যা নিহত হয়েছে।

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ধরখার ইউনিয়নের তন্তর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল ওয়াহেদ ভূঁইয়ার বাড়ি নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ওয়ারুক গ্রামে। তার শিশুকন্যার নাম মোছা. হাবিবা।

দুর্ঘটনায় শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছে। তারা হলো স্মৃতি বেগম, রোকসানা, ১০ বছরের ফারুমা, ৫ বছরের ওয়াফি ও ১৩ বছরের তামিমা।

নিহতের পরিবার ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আব্দুল ওয়াহেদ ইসলামপুর পলিটেকনিক্যাল কলেজের হিসাব-বিজ্ঞানের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুল ওয়াহেদ পরিবার নিয়ে কাউতলী থেকে কসবার নয়নপুরে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে তন্তর নামক এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল ওয়াহেদের মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তার মেয়ে হবিবা ও স্ত্রীসহ ছয়জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর হাবিবার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওয়াহেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার ছোট মেয়ে ও স্ত্রীসহ অন্যদের অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর শিশু হাবিবার মৃত্যু হয়।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন: তদন্তে ২ কমিটি
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন, সরানোর পর ৩ রোগীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিক নিহত

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিক নিহত

শ্রমিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা ডেমরা মহিলা মাদ্রাসার পেছনে একটি দশতলা ভবনে কাজ করছিলাম। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় তলায় রংয়ের কাজ চলছিল। সেখানে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন জাকির।’

রাজধানীর ডেমরায় একটি বহুতল ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন জাকির হোসেন নামের এক শ্রমিক। ৩৫ বছর বয়সী জাকির রংমিস্ত্রি হিসেবে সেখানে কাজ করছিলেন।

ডেমরা সাইন বোর্ড এলাকার মহিলা মাদ্রাসার পিছনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রমিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা ডেমরা মহিলা মাদ্রাসার পেছনে একটি দশতলা ভবনে কাজ করছিলাম। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় তলায় রংয়ের কাজ চলছিল। সেখানে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন জাকির।’

সহকর্মীরা জানান, অচেতন অবস্থায় জাকিরকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জাকিরের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। ঢাকায় ডেমরা এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন: তদন্তে ২ কমিটি
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন, সরানোর পর ৩ রোগীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

ইউজিসি স্বর্ণপদকের আবেদন আহ্বান

ইউজিসি স্বর্ণপদকের আবেদন আহ্বান

ইউজিসির রিসার্চ সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণকালীন শিক্ষকরা ইউজিসি স্বর্ণপদকের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

‘ইউজিসি স্বর্ণপদক ২০২০’ এর জন্য আবেদন আহ্বান করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। আবেদনপত্র পাঠাতে হবে আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার ইউজিসির রিসার্চ সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের পরিচালক মো. কামাল হোসেনের সই করা অফিস আদেশে থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আবেদনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে-

১. দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণকালীন শিক্ষকরা ইউজিসি স্বর্ণপদকের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

২. আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।

৩. প্রকাশিত প্রবন্ধ বা বই অবশ্যই ২০২০ সালে প্রকাশিত হতে হবে। কোনো পুনর্মুদ্রিত প্রবন্ধ বাঁ পুস্তক গ্রহণযোগ্য হবে না।

৪. বর্ণনা ও জরিপমূলক, অনুবাদ বা সম্পাদনা কর্ম এবং রিভিউ আর্টিকেল এই স্বর্ণপদকের জন্য বিবেচিত হবে না।

৫. প্রবন্ধ যদি যৌথ প্রকাশনা হয় সেক্ষেত্রে কেবল প্রধান লেখক বা সর্বশেষ লেখক অন্যান্য সহলেখকের সম্মতিপত্রসহ আবেদন করতে পারবেন।

৬. বইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক লেখক হলে যৌথভাবে আবেদন করতে হবে।

৭. বাংলা ও ইংরেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ শব্দের মধ্যে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে।

৮. প্রকাশিত প্রবন্ধের ক্ষেত্রে ছয় কপি এবং বইয়ের ক্ষেত্রে চার কপি জমা দিতে হবে।

৯. বাংলা ও ইংরেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ শব্দের মধ্যে সারাংশ জমা দিতে হবে।

১০. প্রবন্ধের সফট কপি [email protected] ঠিকানায় অবশ্যই জমা দিতে হবে।

১৯৮০ সালে প্রবর্তিত হয় ‘ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড’। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষায় মৌলিক গবেষণা ও প্রকাশনায় উৎসাহ দিতে এই সম্মাননার নাম পরবর্তীতে ‘ইউজিসি স্বর্ণপদক’ করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন: তদন্তে ২ কমিটি
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন, সরানোর পর ৩ রোগীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

বৈশ্বিক মন্দা উত্তরণে বাধা মূল্যস্ফীতি: বিশ্বব্যাংক

বৈশ্বিক মন্দা উত্তরণে বাধা মূল্যস্ফীতি: বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও পরিচালক আয়হান কোস বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির জন্য নিকট ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলতে পারে।’

২০০৭-২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর প্রায় এক যুগ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মূল্যস্ফীতি কমই ছিল। তবে সেই দিন বোধহয় শেষ হতে চলেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ। লাগাম টানতে পারছে না সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রও। ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোতেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

এরই মধ্যে উদ্বেগের খবর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি বলছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। সার্বিকভাবে উচ্চ পণ্যমূল্য কিছু দেশে খাদ্য নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী মহামারি করনোভাইরাসের ধাক্কায় সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক নামের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল শেষে জ্বালানির দাম গড়ে আগের বছরের চেয়ে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ বাড়বে এবং এই উচ্চ মূল্য ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। জ্বালানির বাইরে খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের যে দাম বোড়ছে, সেটিও শিগগিরই কমবে না। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

সবমিলিয়ে এটি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপকে বাড়িয়ে তুলবে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও বাধাগ্রস্ত করবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও পরিচালক আয়হান কোস বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির জন্য নিকট ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলতে পারে।’

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে কিছু দ্রব্যমূল্য এতোটাই বেড়েছে যে, সেটি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১১ সালের পর এমনটা আর দেখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, ‘প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার উচ্চদাম অন্যান্য পণ্যের উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে সারের উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে বেড়েছে দাম। সারের এই উচ্চ মূল্য খাদ্য শস্যেরই উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম এবং জিংকের মতো কিছু ধাতুর উৎপাদনও কম হয়েছে জ্বালানির মূল্য বাড়ার কারণে।’

বাংলাদেশেও চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

আগের মাস আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জুলাইয়ে হয়েছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এর পর থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে।

অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যের মূল্য এখন ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১৩০। অথচ গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। খাদ্যে ব্যয় বৃদ্ধি অবস্থাপন্ন মানুষের জন্য বড় সমস্যা না হলেও দরিদ্র মানুষের জন্য তা বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ, আনুপাতিক হারে দরিদ্র মানুষের খাদ্যব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

স্বস্তিতে নেই মার্কিন ভোক্তারা। বেড়েই চলেছে মূল্যস্ফীতির হার। মার্কিন শ্রমবিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেও দেশটিতে ভোক্তা মূলকসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। আবারও উঠে এসেছে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সেপ্টেম্বরে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ অর্থনীতির ভোক্তারা খাদ্য ও সেবার জন্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি দিচ্ছে।

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। এ মাসে পেট্রলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। খাদ্যের দাম গত মাসের তুলনায় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ ও বাসাভাড়া বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্টের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম এতটা মূল্যস্ফীতি বাড়ে কানাডায়। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, পরিবহন, আবাসন ও খাদ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশটির ওপরে।

কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসারও কথা রয়েছে তাদের।

মূল্যস্ফীতির প্রভাব

অর্থনীতদিবিদেরা বলেন, কিছুটা মূল্যস্ফীতি থাকা খারাপ নয়। এর অর্থ হলো, অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য আছে। মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক নিরূপণে বহুল ব্যবহৃত ফিলিপস (নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ এ ডব্লিউ ফিলিপস) কার্ভের সারকথা হলো, বেকারত্ব কম থাকলে এবং মজুরি ঊর্ধ্বমুখী হলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে সমস্যা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন সুদহার বৃদ্ধি করে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ গ্রহণ কমে যায়। বিনিয়োগে প্রভাব পড়ে। ফলে এটা একধরনের উভয়সংকট।

দেশে সরকার সুদহার যতই নিয়ন্ত্রণ করুক না কেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। তারা যদি না জানেন, বিনিয়োগ থেকে কতটা লভ্যাংশ পাওয়া যাবে, তাহলে তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

বৈশ্বিক পরিসরে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘করোনা স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া জাহাজ ভাড়াসহ অন্য পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।’

আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেন এই অর্থনীতিবিদ।

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন: তদন্তে ২ কমিটি
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন, সরানোর পর ৩ রোগীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে হত্যা: ২ ‘হত্যাকারী’ শনাক্ত

কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে হত্যা: ২ ‘হত্যাকারী’ শনাক্ত

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাত। ফাইল ছবি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে আমরা হত্যাকারী দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাতকে ক্যাম্পাসের ভেতর ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে হত্যাকারীদের পরিচয় নিশ্চিতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন ছাত্রলীগ নেতা বলে জানা গেছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে আমরা হত্যাকারী দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি জানিয়ে ওসি বলেন, ‘লাশ এখনও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন হবে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।’

ওসি হত্যায় সন্দেহভাজন দুজনের নাম প্রকাশ না করলেও প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের একজনের নাম সামসুদ্দোহা সাদী ও অপরজনের নাম তানভীর আহমদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে চাচাতো ভাই রাফিকে নিয়ে কলেজে যান রাহাত। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে তারা যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন সিলভার রংয়ের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন সাদী ও তানভীর।

কলেজ ফটকের ২০-২৫ গজ ভেতরে রাহাতকে দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেল থামান তারা। এরপর নেমেই রাহাতের উরুতে ছুরিকাঘাত করেন সাদী। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাহাত। আর ছুরিকাঘাতের পরই মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় সাদী ও তানভীর।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশের একাধিক সূত্র।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত সামসুদ্দোহা সাদী কলেজের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সাদী ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তিনি সিলেট ছাত্রলীগের কাশ্মীর বলয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। তার বাড়ি দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিম পাড়া গ্রামে। অপর অভিযুক্ত তানভীরও একই এলাকার বাসিন্দা।

আর নিহত রাহাতের বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকায়।

এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম জানান, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কলেজে তিন দিন পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষা চলবে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন: তদন্তে ২ কমিটি
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন, সরানোর পর ৩ রোগীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

মারধরে আহত রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হক। ছবি: নিউজবাংলা

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পুলিশ। আহত শিক্ষক দাবি করেছেন, কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেছেন।’

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কলেজের কয়েক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানিয়েছে, মারধরের পর অধ্যক্ষকে অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তারা গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে শুক্রবার তিনি মামলা করতে পারেন।

কলেজ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে সমাজকর্ম বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হান্নানসহ কয়েকজন শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা অধ্যক্ষের কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

পরে ৫-৬ জন শিক্ষক অধ্যক্ষ উমরুল হককে মারধর করে বাইরে থেকে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হক মারধরের অভিযোগ করলেও কারণ বলেননি। তবে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হান্নানের মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। আহত শিক্ষক দাবি করেছেন, কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেছেন।’

ওসি আরও বলেন, ‘এখনও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। অধ্যক্ষ আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেন। সম্প্রতি পিবিআই ওই ঘটনার তদন্ত শেষে ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হকও রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন: তদন্তে ২ কমিটি
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন, সরানোর পর ৩ রোগীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন

রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন

রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুনের ঘটনায় এক নারীর আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, ‘জেলে সম্প্রদায় বরাবরই নির্যাতিত, নিপীড়িত। সাম্প্রদায়িকতা, মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয় জেলেদের। রংপুরের হামলা এসব অনাচারের ধারাবাহিকতা।’

রংপুরের পীরগঞ্জে জেলেপাড়ায় সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, ‘মৎস্যজীবী জেলে সম্প্রদায় বরাবরই নির্যাতিত, নিপীড়িত। সাম্প্রদায়িকতা, মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয় জেলেদের। রংপুরের হামলা এসব অনাচারের ধারাবাহিকতা।

‘পীরগঞ্জসহ সারাদেশে জেলেদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনবার্সনের ব্যবস্থা করতে হবে। আইনের আওতায় আনতে হবে অপরাধীদের।’

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলে সমিতির সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ চন্দ্ৰ বৰ্মণসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন: তদন্তে ২ কমিটি
ঢাকা মেডিক্যালে আগুন, সরানোর পর ৩ রোগীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শেয়ার করুন