করোনায় বিপর্যস্ত ব্রাজিলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

করোনায় বিপর্যস্ত ব্রাজিলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

ব্রাজিলে করোনায় দিনে গড়ে মারা যাচ্ছে ২ হাজারের বেশি মানুষ। ছবি: এএফপি

রিও ডি জেনিরোভিত্তিক একটি সংস্থা বলছে, ব্রাজিলের ২৫ রাজ্যে হাসপাতালগুলোর ৮০ শতাংশ আইসিইউ ইতিমধ্যে করোনা রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।

করোনাভাইরাসের কারণে ব্রাজিলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ফিওক্রুজ।

রিও ডি জেনিরোভিত্তিক সংস্থাটি বলছে, ব্রাজিলের ২৫ রাজ্যে হাসপাতালগুলোর ৮০ শতাংশ আইসিইউ ইতিমধ্যে করোনা রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।

ফিওক্রুজ বলছে, পোর্তো আলেগ্রে ও ক্যাম্পো গ্র্যান্ডে শহরের আইসিইউগুলোর ধারণক্ষমতা এরই মধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে শিগগিরই অন্য শহরের আইসিইউগুলো আর খালি পাওয়া যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাজিলে দিনে গড়ে ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে করোনায়। এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। লকডাউন, মাস্কের ব্যবহার এবং গণহারে টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে করোনা মোকাবিলা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন তারা।

ব্রাজিলে এ পর্যন্ত করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৮০ লাখের বেশি মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ।

ব্রাজিল সরকার অবশ্য এসব বিষয় খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। গত সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বলেন, ‘ঘ্যানঘ্যানানি বন্ধ করুন। করোনা নিয়ে আর কত কান্নাকাটি করবেন?

‘আর কতকাল আপনারা বাসায় থেকে সবকিছু বন্ধ করে রাখবেন? এটা কেউ আর নিতে পারছে না। মৃত্যুর জন্য আফসোস করছি। কিন্তু আমাদের একটা সমাধান লাগবে।’

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৮ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, আক্রান্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পর ব্রাজিলের অবস্থান। আর মৃত্যুর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরের অবস্থানে আছে ব্রাজিল।

আরও পড়ুন:
টিকা নিলে কুমির হয়ে যেতে পারেন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

১৫ আগস্ট কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা। ফাইল ছবি

বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের মতো বলিষ্ঠ নেতা ছাড়া দলটিতে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো সন্দেহাতীতভাবেই কঠিন। কোনো রকম প্রশ্ন ছাড়াই মোল্লা ওমরে আস্থা রাখতেন তালেবানের প্রত্যেক সদস্য। বর্তমান নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদাও মোল্লা ওমরের মতোই লোকচক্ষুর আড়ালের জীবন বেছে নিলেও দলের এ সংকটে তিনি কীভাবে হাল ধরেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ফাটল তীব্র হচ্ছে শাসক দল তালেবানের মধ্যে। দূরত্ব বাড়ছে কট্টরপন্থি ও তুলনামূলক উদার নেতাদের মধ্যে।

তালেবান নেতাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই আফগান সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে লড়াই পর্দার আড়ালেই চলছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে বিভক্তির সত্যতা প্রকট হয়ে ওঠে উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদারের মৃত্যুর গুজব ছড়ালে।

প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে তালেবানের দুই পক্ষের তুমুল ঝগড়া-বিবাদের পর উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার সহিংসতায় নিহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়ায় সে সময়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই আফগান বলেন, গুজব এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে শেষ পর্যন্ত বারাদার বেঁচে আছেন প্রমাণে একটি অডিও ও একটি হাতে লেখা বিবৃতি প্রকাশ করে তালেবান। অডিও ও লিখিত বিবৃতিতে বারাদার জানিয়েছেন যে তিনি বেঁচে আছেন, যদিও এসবের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

সবশেষ বুধবার আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বারাদারের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারেও তাকে বলতে শোনা যায় যে তিনি বেঁচে আছেন। নিজের মৃত্যুর গুজব নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাবুল থেকে অন্য অঞ্চলে সফর করছিলাম আমি। সেখানে বসে এসব গুজব প্রত্যাখ্যানের জন্য আধুনিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ ছিল না।’

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে সক্ষম প্রথম তালেবান নেতা বারাদার। ২০২০ সালে সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ হয় তালেবান সহ-প্রতিষ্ঠাতার।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে আলোচনা ও চুক্তিতে তালেবানের প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন বারাদার। চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয় গত মাসে। এর দুই সপ্তাহ আগেই রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন বারাদার। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু সব প্রত্যাশা ধুলোয় মিশে যায় যখন পুরুষসর্বস্ব এবং কেবল তালেবানের প্রতিষ্ঠিত নেতাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়; বাদ দেয়া হয় আদিবাসী নেতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের।

আফগানিস্তানকে ‘ইসলামি আমিরাত’ ঘোষণা করে ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রিসভার শীর্ষ পদে বেশির ভাগ নেতা কট্টরপন্থি। তারা সম্প্রতি মুখে সব পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দিলেও কাজে নব্বইয়ের দশকের কঠোর শাসনের পুনরাবৃত্তি করছেন বলেও অভিযোগ মধ্যপন্থিদের।

বারাদারের বদলে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পান তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। তিনি জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যখন তালেবান আফগানিস্তান শাসন করেছে, সে সময় দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হাসান আখুন্দ।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআইয়ের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত। তাকে ধরিয়ে দিলে এক কোটি ডলার পুরস্কার দেবে এফবিআই।

কট্টরপন্থি শাসনের পরবর্তী লক্ষণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে নামিয়ে ফেলা হয় আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা, বসানো হয় তালেবানের নিজস্ব পতাকা।

যদিও পতাকার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তালেবান কর্মকর্তা। দুটি পতাকা পাশাপাশি রাখা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তালেবানের অন্তর্কোন্দলের বিষয়ে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আফগান জানান, এসব ইস্যুতে মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কট্টরপন্থি বাকি মন্ত্রীরা।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নেতৃত্বে ফাটলের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন। মঙ্গলবার এসব খবরকে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুতাকি।

কিন্তু এত সব প্রচেষ্টাতেও গুজবের অবসান ঘটছে না। কারণ গত কয়েক দিনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারের উপপ্রধান হিসেবে বারাদারের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এমনকি গত রোববার কাবুল সফররত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানির সঙ্গে তালেবান সরকারের বৈঠকেও ছিলেন না উপপ্রধানমন্ত্রী। ২০ বছর পর তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি ছিল সবচেয়ে শীর্ষ কোনো পররাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির আফগানিস্তান সফর। তার ওপর কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের দীর্ঘ আলোচনায় বারাদার ছিলেন দোহার নিয়মিত অতিথি।

ওই বৈঠকে না থাকার বিষয়ে বুধবারের ভিডিওতে বারাদার জানিয়েছেন, কাবুলে কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না তিনি। ফলে আগেই কাবুল ছেড়েছিলেন সফরের উদ্দেশ্যে এবং পরে কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনের বিষয়ে জানতে পারলেও ঠিক সময়ে কাবুলে ফিরতে পারেননি।

বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আফগান আর বারাদারের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিরা এপিকে জানিয়েছেন, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদার সঙ্গে বৈঠকের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে ছিলেন বারাদার।

অন্যদিকে আরেক তালেবান নেতা জানান, আফগানিস্তানের ২০ বছরের যুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হয়নি বারাদারের। ক্লান্ত বারাদার তাই পরিবারের কাছে ফিরেছিলেন কিছু সময়ের জন্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবানের মধ্যে ফাটল এলেও এখনই ভাঙনের পর্যায়ে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের এশিয়াবিষয়ক প্রকল্পের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘হাজার বিতর্ক সত্ত্বেও বছরের পর বছর তালেবানকে সব সময় একজোট দেখেছে বহির্বিশ্ব। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যের কোনো নড়চড় হয় না। আমি মনে করি, বর্তমান অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও সহজেই মিটিয়ে ফেলবে তারা।

‘তবে ক্ষমতায় টিকে থাকা নিয়ে, বৈধতা অর্জন নিয়ে এবং বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে তালেবান যে চাপে আছে, তা সহজে মেটার নয়। এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংগঠনিক দিক থেকে আরও বেশি চাপের মুখে পড়বে তারা; এ ধরনের গুরুতর অভ্যন্তরীণ ঝগড়া-বিবাদও বাড়তে থাকবে।’

তবে তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের মতো বলিষ্ঠ নেতা ছাড়া দলটিতে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো সন্দেহাতীতভাবেই কঠিন।

কোনো রকম প্রশ্ন ছাড়াই মোল্লা ওমরে আস্থা রাখতেন তালেবানের প্রত্যেক সদস্য। বর্তমান নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদাও মোল্লা ওমরের মতোই লোকচক্ষুর আড়ালের জীবন বেছে নিলেও দলের এ সংকটে তিনি কীভাবে হাল ধরেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

আরও পড়ুন:
টিকা নিলে কুমির হয়ে যেতে পারেন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন

পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অকাস চুক্তির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। ছবি: সংগৃহীত

অকাসের মূল ভিত্তি অস্ট্রেলিয়ার ডুবোজাহাজ হলেও সাইবার সক্ষমতা ও সাগরের তলদেশভিত্তিক প্রযুক্তিও এ চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় অংশীদারত্বমূলক চুক্তি এটি।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা চুক্তি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য রোধের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে ঐতিহাসিক চুক্তিটিকে।

‘অকাস প্যাক্ট’ হিসেবে পরিচিত চুক্তিটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ নির্মাণের সুযোগ পেতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও অকাস চুক্তির আওতাভুক্ত। এ চুক্তি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী তিন দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষামূলক অংশীদারত্ব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তিটিকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, ‘এ চুক্তির ফলে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ল এবং অস্ত্রের প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করল।’

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোকে ‘স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা ও আদর্শগত কুসংস্কারের ধারক’ বলে সমালোচনা করেছে।

চুক্তিটি নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গেও বিবাদে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অকাস প্যাক্টের কারণে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১২টি ডুবোজাহাজ তৈরির চুক্তি হারিয়েছে ফ্রান্স। চুক্তিটির অর্থমূল্য ছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্য-ইভস লে ড্রিয়ান বলেন, ‘আমাদের পিঠে ছুরি মারা হয়েছে।’

বুধবার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ চুক্তির ঘোষণা আসে। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

চুক্তিতে সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তিন নেতাই বারবার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে চলেছে বলে উল্লেখ করেছেন।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেন, ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সামরিক বাজেট তৈরি করছে চীন। দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনী খুব দ্রুত শক্তিশালী হয়ে চলেছে। বিতর্কিত কয়েকটি অঞ্চলে আধিপত্য তৈরির চেষ্টা করছে তারা। সেসব অঞ্চলে আমাদের মিত্র দেশগুলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চায়।’

গত কয়েক বছরে দক্ষিণ চীন সাগরসহ বেশ কিছু বিতর্কিত অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে আধিপত্য তৈরির অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন দেশ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘এ চুক্তির ফলে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে এবং হাজারো সুদক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নিরাপত্তা ইস্যুতে সবচেয়ে বড় অংশীদারত্বে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া।

ত্রিদেশীয় চুক্তিটি সামরিক সক্ষমতাকেন্দ্রিক। নিউজিল্যান্ড, কানাডাসহ পাঁচ দেশের গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগিবিষয়ক ফাইভ আইস ইন্টেলিজেন্স থেকে আলাদা হবে অকাস প্যাক্ট।

অকাসের মূল ভিত্তি অস্ট্রেলিয়ার ডুবোজাহাজ হলেও সাইবার সক্ষমতা ও সাগরের তলদেশভিত্তিক প্রযুক্তিও এ চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।

আরও পড়ুন:
টিকা নিলে কুমির হয়ে যেতে পারেন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন

পেশাদার নভোচারী ছাড়াই প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে ৪ পর্যটক

পেশাদার নভোচারী ছাড়াই প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে ৪ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

মহাকাশে প্রথম বেসামরিক অভিযাত্রিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজাকম্যান। মহাকাশভ্রমণে সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতায় জয়ী তিনজনকে নিয়ে মহাকাশে গেছেন আইজ্যাকম্যান। নিজেরসহ বাকি তিনজনের যাত্রার খরচও তিনি বহন করছেন।

প্রথমবারের মতো বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে গেলেন চার বেসামরিক পর্যটক। তাদের সঙ্গে নেই কোনো পেশাদার নভোচারী।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে স্থানীয় সময় বুধবার রওনা দেন তারা। পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবেন পরবর্তী তিনদিন। এরপর ফিরে আসবেন নিজস্ব পরিমণ্ডলে।

মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। সফরটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো সাধারণ মানুষের মহাকাশভ্রমণ; মহাকাশবিজ্ঞান ও পর্যটনের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। এযাবৎকালের অন্যতম উচ্চাভিলাষী পর্যটন মিশন ছিল এটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি ফ্লাইটে অভিযাত্রী ছিলেন চারজন। এদের মধ্যে তিনজনই ‘সাধারণ মানুষ’ এবং অপরজন তাদের পৃষ্ঠপোষক।

মহাকাশে প্রথম বেসামরিক অভিযাত্রিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজাকম্যান। মহাকাশভ্রমণে সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় জয়ী তিনজনকে নিয়ে মহাকাশে গেছেন আইজ্যাকম্যান। নিজেরসহ বাকি তিনজনের যাত্রার খরচও তিনি বহন করছেন।

আইজ্যাকম্যানের সঙ্গী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স। মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তিও তিনি।

শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী আর্সেনক্স পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেজি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি; বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

নিজের পকেট থেকে হাসপাতালটিতে ১০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান। আরও ১০ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের চেষ্টাও করছেন।

আইজ্যাকম্যান ও আর্সেনক্সের দুই সঙ্গী ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল। ভ্রমণ শেষে চলতি সপ্তাহে ফ্লোরিডা উপকূলে অবতরণ করবে ক্যাপসুলটি।

এর আগে চলতি বছর নিজস্ব মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে গিয়েছিলেন দুই ধনকুবের ব্যবসায়ী স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন ও জেফ বেজোস।

আগামী মাসে এক রুশ চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রী বেড়াতে যাবেন আইএসএসে; পরের ফ্লাইটটি যাবে নতুন বছরের শুরুতে।

আরও পড়ুন:
টিকা নিলে কুমির হয়ে যেতে পারেন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন

গুজবের অবসান ঘটাতে বারাদারের ভিডিও বার্তা

গুজবের অবসান ঘটাতে বারাদারের ভিডিও বার্তা

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার। ফাইল ছবি

এর আগে টুইটারে তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের এক মুখপাত্র আরটিএ টিভিতে বারাদারের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হবে বলে জানান। ‘শত্রুপক্ষের অপপ্রচারকে মিথ্যা প্রমাণ করা হবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বারাদার আহত বলে গুঞ্জন শুরুর পর থেকেই এ খবর মিথ্যে বলে বারবার দাবি করছিলেন তালেবান নেতারা।

আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনলাইনে বুধবার প্রকাশিত ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়নি। বারাদারের একটি ভিডিও ধারণের পর তা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে।

দলীয় অন্তঃকোন্দল ও সংঘাতে বারাদার আহত হয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয় বলে ভিডিওতে বলতে শোনা যায় তালেবান সরকারের উপ-প্রধানকে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য নয়; আমি ভালো আছি, সুস্থ আছি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের খবর প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটেনি। এসব সত্য নয়।’

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিএকে সাক্ষাৎকারটি দেন বারাদার। পরে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করা হয়।

সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে বারাদারকে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সামনে একটি সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর হাতে আরটিএর লোগো সম্বলিত মাইক্রোফোন ছিল।

ভিডিওতে বারাদারকে একটি কাগজে লেখা কথা পড়ে শোনাতে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, ‘দুশ্চিন্তা করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এর আগে টুইটারে তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের এক মুখপাত্র আরটিএ টিভিতে বারাদারের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হবে বলে জানান। ‘শত্রুপক্ষের অপপ্রচারকে মিথ্যা প্রমাণ করা হবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বারাদার আহত বলে গুঞ্জন শুরুর পর থেকেই এ খবর মিথ্যে বলে বারবার দাবি করছিলেন তালেবান নেতারা।

এর আগে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে শাসক দল তালেবান বড় ধরনের অন্তর্কোন্দলে জড়িয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

বলা হয়, কাবুলে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রীতিমতো ঝগড়া ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গত সপ্তাহে ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের সঙ্গে বিবাদে জড়ান মন্ত্রিসভার এক সদস্য। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তর্কের একপর্যায়ে পরস্পরের প্রতি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও করেন তারা।

তালেবানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি পশতু জানিয়েছে, বারাদারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন নতুন তালেবান সরকারের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী ও নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানির। কাতারে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ তালেবান সদস্য ও বিবদমান দুই নেতার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিও বারাদার ও খলিল হাক্কানির বিবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান, দেশকে ঘোষণা করে ‘ইসলামিক আমিরাত’ হিসেবে। সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা আব্দুল গনি বারাদারের বদলে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী করা হয় জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে। বারাদার হন আখুন্দের উপপ্রধান।

সরকারের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান বারাদার।

গত রোববার কাবুল সফররত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করে তালেবান সরকার। সে বৈঠকেও ছিলেন না বারাদার।

সদ্য প্রকাশিত ভিডিওতে কারণ হিসেবে বারাদার জানান, ওই বৈঠকের সময় সফরে ছিলেন তিনি এবং ঠিক সময়ে কাবুলে ফিরতে পারেননি।

গুঞ্জন রটেছিল, তালেবানের মন্ত্রিসভায় থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরেই প্রকাশ্যে আসছেন না বারাদার। আফগানিস্তানের পাকিস্তান সীমান্তে সক্রিয় তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সব আত্মঘাতী হামলার অভিযোগ রয়েছে।

তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ছোট ভাই আনাস হাক্কানিও বুধবার টুইটারে বিবৃতি দিয়ে বারাদারের সঙ্গে বিবাদের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুন:
টিকা নিলে কুমির হয়ে যেতে পারেন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন

আফগানিস্তান ছেড়ে পালাল কিশোরী ফুটবলাররা

আফগানিস্তান ছেড়ে পালাল কিশোরী ফুটবলাররা

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী টুইটে লেখেন, ‘আফগান নারী ফুটবল দলকে স্বাগত জানাই। তারা তোর্কহাম স্থলবন্দর দিয়ে আফগানিস্তান থেকে দেশে প্রবেশ করেছে। পাকিস্তানে ভ্রমণের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় কাগজের মেয়াদ রয়েছে। পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন তাদের স্বাগত জানিয়েছে।’

আফগানিস্তানের জাতীয় নারী ফুটবল দলের পর এবার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে জাতীয় কিশোরী ফুটবল দলের সদস্যরা।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তোর্কহাম সীমান্ত দিয়ে খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের সদস্যরা পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়।

টুইটে বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী।

তিনি লেখেন, ‘আফগান নারী ফুটবল দলকে স্বাগত জানাই। তারা তোর্কহাম স্থলবন্দর দিয়ে আফগানিস্তান থেকে দেশে প্রবেশ করেছে। পাকিস্তানে ভ্রমণের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় কাগজের মেয়াদ রয়েছে। পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন তাদের স্বাগত জানিয়েছে।’

বিবিসির খবরে বলা হয়, ৩২ জন খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলে মোট ১১৫ জনের একটি দল দাতব্য সংস্থা ‘ফুটবল ফর পিস’ এর মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তোর্কহাম স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমে দলটি পেশোয়ারে আসে। পরে পূর্বাঞ্চলের শহর লাহোরে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের সদরদপ্তরে নেয়া হয় তাদের।

যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, আশ্রয় পেতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে চিঠি দিয়েছিল ফুটবলাররা। সেই ঠিঠিতে বলা হয়, তালেবানের শাসনে তাদের জীবন চরম হুমকিতে আছে।

১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নেয় তালেবান। এর কিছু দিনের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালায় দেশটির জাতীয় দলের নারী ফুটবলাররা।

এবার অবশ্য উদার নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তালেবান নেতারা।

শুরুর দিকে নারীদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিলেও নিজেদের অবস্থান কিছুটা পোক্ত করার পরপরই সে জায়গা থেকে সরে আসে তালেবান। নারীদের পর্দায় ব্যবস্থায় আরোপ হয় কড়াকড়ি।

সবশেষ গত সপ্তাহে তালেবানের সাংস্কৃতিক কমিশনের উপপ্রধান আহমাদুল্লাহ ওয়াসিক নারী ক্রিকেট প্রসঙ্গে বলেন, ‘নারীদের মুখ ও শরীর এই খেলায় ঢাকা হয় না। ইসলাম এই পর্দাবিহীন অবস্থা সমর্থন করে না।’

আরও পড়ুন:
টিকা নিলে কুমির হয়ে যেতে পারেন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় কঠোরভাবে বিধিনিষেধ পালনের পরামর্শ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে নতুন নির্দেশিকা জারি করে বুধবার করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসের পুরোটাই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময়ে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফিউ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গে করোনার বিধিনিষেধ ফের বেড়েছে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে নতুন নির্দেশিকা জারি করে বুধবার করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসের পুরোটাই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময়ে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফিউ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসায় পশ্চিমবঙ্গে বাস, ট্যাক্সি মেট্রোরেল, অটোর মতো গণপরিবহন চলাচলে আগেই ছাড় দেয়া হয়েছে। দাবির মুখে ছাড় দেয়া হয়েছে জিম, রেস্তোরাঁ, বিনোদন পার্ক, সিনেমা হল, চিড়িয়াখানার মতো স্থানে যাতায়াতে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি উঠলেও বিধিনিষেধ বাড়ায় এটা স্পষ্ট, রাজ্যে এখনই লোকাল ট্রেন চলছে না। সরকারের নতুন নির্দেশিকায় লোকাল ট্রেনের বিষয়েও কিছু উল্লেখ নেই।

যদিও বর্তমানে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চলছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম। তবে মেট্রোরেলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় নতুন নির্দেশিকায় কঠোরভাবে করোনা বিধিনিষেধ পালনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। শর্ত মেনে যেসব প্রতিষ্ঠান খুলেছে সেখানে কঠোরভাবে কোভিড প্রটোকল পালন করতে বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ জোরদার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনা বিধিনিষেধ অবজ্ঞা করলে, বিপর্যয় মোকাবিলায় আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষের। এর মাঝে পশ্চিমবঙ্গে অক্সিজেন সংকটসহ নানা কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল। করোনা সংকট অনেকটা কাটছে বলে ধারণা করা হলেও সতর্কতা বহাল রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন চললেও অনেকেই মানছে না শারীরিক দূরত্ব। বিশেষ করে হাটবাজার বা গণপরিবহনে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

আরও পড়ুন:
টিকা নিলে কুমির হয়ে যেতে পারেন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন

ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট চাইতে নেমেছিলেন বুধবার খুব সকালে। তখন যদুবাবুর বাজারে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে ধরে স্থানীয় কিছু লোক স্লোগান দিতে থাকেন- ‘ঘরের মেয়ে মমতা জিন্দাবাদ, জয় বাংলা।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটছেন এখন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে হেরেও হয়েছেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী। আর তাই আইনি বাধ্যবাধকতায় পদ ও সম্মান বাঁচাতে লড়ছেন ভবানীপুর উপনির্বাচনে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাই সজাগ দৃষ্টি।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই উপনির্বাচন ৩০ সেপ্টেম্বর। এতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মমতা। অন্যদিকে ছাড় দেয়নি বিজেপি। তাদের নবীন প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল জোরেশোরেই চালাচ্ছেন প্রচারণা। প্রার্থিতায় রয়েছেন সিপিএমের শ্রীজীব বিশ্বাস।

মনোনয়ন জমা দেয়ার পর্ব শেষে এখন ভবানীপুরে চলছে জোরকদমে ভোট প্রচার। জনসংযোগে জোর দিয়েছে সব পক্ষ। সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে মমতা সমর্থকদের। ভারতীয় সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে মমতাকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে, না হলে ছাড়তে হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ। এ পর্যায়েই ভোটের মাঠে সতর্ক নজর সবার।

ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা
ভবানীপুর গুরুদ্বারে বুধবার মমতা জনসংযোগ করেন মালা রায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে। ছবি: নিউজবাংলা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ কর্মীদের জনসংযোগ বাড়াতে তাগাদা দিয়ে বলেছেন, ‘জিতে গেছি ভেবে হাত গুটিয়ে থাকলে চলবে না। যেতে হবে সবার ঘরে।’

বুধবার ভবানীপুর গুরুদ্বারে মমতা। সঙ্গে ছিলেন মালা রায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল নেতারা। সেখানে শিখ ধর্মগুরুদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সমস্যার কথা শোনেন, আশ্বাস দেন পাশে থাকার। এর আগে তিনি ১৬ আনা মসজিদের ইমামদের সঙ্গে কথা বলেন। জনসংযোগ করার সময় গণেশ পূজাতেও গেছেন মমতা।

স্থানীয় ভোটাররা জানান, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ৪০ শতাংশ অবাঙালি ভোট। যা অনেক হিসাব বদলে দিতে পারে। এই সম্প্রদায়ের মন পেতে তাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে সব পক্ষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে বুধবার চেতলা এলাকায় ভোট প্রচারে নেমেছিলেন পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনিও ভোটারদের ঘরে ঘরে গেছেন সমর্থন আদায়ে।

বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট চাইতে নেমেছিলেন বুধবার খুব সকালে। তখন যদুবাবুর বাজারে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে ধরে স্থানীয় কিছু লোক স্লোগান দিতে থাকেন- ‘ঘরের মেয়ে মমতা জিন্দাবাদ, জয় বাংলা।’
জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘বাচ্চা মেয়েকে আপনাদের এত ভয় কেন?’

তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম সম্প্রতি প্রিয়াঙ্কাকে ‘বাচ্চা মেয়ে’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
বুধবারের ঘটনা শুনে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘স্লোগান দেয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। মানুষ কাকে সমর্থন করবেন, কাকে ভোট দেবেন, কার নামে স্লোগান দেবেন, সেটা তারাই ঠিক করবেন।’

আরও পড়ুন:
টিকা নিলে কুমির হয়ে যেতে পারেন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন