ডায়রিয়া-নিউমোনিয়ায় এক মাসে ৭ শিশুর মৃত্যু

ডায়রিয়া-নিউমোনিয়ায় এক মাসে ৭ শিশুর মৃত্যু

সদর ও শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের ৬ তারিখ পর্যন্ত এ দুই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি শিশু। সদরে পাঁচজন ও শিশু হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় গত এক মাসে মৃত্যু হয়েছে সাত শিশুর। জেলা সদর হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের পরিসংখ্যান এমনই বলছে।

ঋতু পরিবর্তনের কারণে দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ায় এ ধরনের রোগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শয্যা ও চিকিৎসক সংকটে বিপর্যস্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা। সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ১০০ শয্যা থাকার কথা থাকলেও আছে কেবল ২৫টি। আর শিশু হাসপাতালে রয়েছে ২০টি শয্যা।

এই দুই হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের ৬ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি শিশু। সদরে পাঁচজন ও শিশু হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ডায়রিয়া নিয়ে ৮৭৫ জন, শিশু হাসপাতালে ২৭১ জন এবং নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪৩২ শিশু।

দুই হাসপাতাল মিলে আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি শিশু।

ডায়রিয়া-নিউমোনিয়ায় এক মাসে ৭ শিশুর মৃত্যু

আশাশুনি থেকে সদর হাসপাতালে আসা রাজিয়া পারভীন বলেন, ‘আমার তিন বছর বয়সের ছেলেটার কয়েক দিন ধরে ম্যালা জ্বর আসতিছে। মাঝে মাঝে কাশতিছে। সদর হাসপাতালে নিয়ে আইছি। কিন্তু বেড পাতিছিনা। তাই মেঝেতে রইছি।’

ওই হাসপাতালের মেয়েকে নিয়ে ভর্তি বৈকারি এলাকার সুলতানা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার মায়িডার ডায়রিয়া হতিছে। শিশু হাসপাতালে আনিছি ডাক্তার দেকাতি। কিন্তু তিন ঘণ্টা ধরে বইসে রইছি কিন্তু ভিড়ের কারণে ডাক্তার দেখাতি পারতিছিনে।’

সদর হাসপাতালের একমাত্র শিশু চিকিৎসক অসিম কুমার সরকার বলেন, ‘খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই বিভাগটি। অনেকটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে শিশু হাসপাতালে পাঁচজন শিশু চিকিৎসক নিয়মিত চিকিৎসা দিচ্ছেন। রয়েছে জনবল সংকটসহ অবকাঠামোগত নানা সমস্যা।

ডায়রিয়া-নিউমোনিয়ায় এক মাসে ৭ শিশুর মৃত্যু

শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক মো. মামুন জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভোর রাতে যাতে শিশুদের ঠান্ডা না লাগে সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

জেলার সিভিল সার্জন হোসাইন শাফায়েত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিজন চেঞ্জের কারণে এমনটা হচ্ছে। আর বিগত কিছুদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরে খাল খননের কারণে প্রচণ্ড পরিমাণ ধুলা। যার কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।’

শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শয্যাবৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান করব।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য