করোনায় মৃত্যু আরও ১৮, শনাক্ত ৩৯৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ১৮ জন। ফাইল ছবি

করোনায় মৃত্যু আরও ১৮, শনাক্ত ৩৯৯

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১২, রাজশাহীতে দুই, চট্টগ্রামে দুই, খুলনায় এক ও রংপুর বিভাগে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ১৬ জন, আর বাড়িতে মারা গেছেন দুইজন।

দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সাত। এক দিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ১১।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যুতে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ৩৭৪ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৩৯৯ জনের দেহে। এখন পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৪৪ হাজার ১১৬।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৪টি ল্যাবে অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ১২ হাজার ৬৯৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮২৮ জন। এ নিয়ে সুস্থ হলেন চার লাখ ৯২ হাজার ৮৮৭ জন। সংক্রমণ বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও আটজন নারী। বয়স বিবেচনায় বিশোর্ধ্ব এক, ত্রিশোর্ধ্ব চার, চল্লিশোর্ধ্ব এক, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুই ও ষাটোর্ধ্ব ১০ জন।

২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১২, রাজশাহীতে দুই, চট্টগ্রামে দুই, খুলনায় এক ও রংপুর বিভাগে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ১৬ জন, আর বাড়িতে মারা গেছেন দুইজন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয়। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে সরকার। এখন দেশে সংক্রমণের ১১ মাস চলছে।

আরও পড়ুন:
কোভিডপরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির পুনর্বিবেচনা : একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দেড় লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা
করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
করোনায় ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭
করোনার নতুন প্রজাতি আরও ক্ষতিকারক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২০৫০ নাগাদ ৪ জনে ১ জনের শ্রবণ সমস্যা: ডব্লিউএইচও

২০৫০ নাগাদ ৪ জনে ১ জনের শ্রবণ সমস্যা: ডব্লিউএইচও

শোনার সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদনটি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রথম। এতে বলা হয়েছে, শ্রবণ সমস্যা সৃষ্টিকারী প্রদাহ, বিভিন্ন ধরনের রোগ, জন্মগত ত্রুটি, শব্দের আধিক্য ও জীবযাপনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতি চারজনে একজন কোনো কিছু শোনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জাতিসংঘের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এমন বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রবণ সমস্যা রোধ ও চিকিৎসায় অতিরিক্ত বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শোনার সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদনটি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রথম। এতে বলা হয়েছে, শ্রবণ সমস্যা সৃষ্টিকারী প্রদাহ, বিভিন্ন ধরনের রোগ, জন্মগত ত্রুটি, শব্দের আধিক্য ও জীবযাপনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

প্রতিবেদনে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে জনপ্রতি ব্যয় হবে ১.৩৩ ডলার।

এতে বলা হয়েছে, সমস্যাটি সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। পাশাপাশি শ্রবণ সমস্যার ফলে যোগাযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। এতে করে আর্থিক ক্ষতির শিকার হবে ভুক্তভোগী।

বর্তমানে বিশ্বে প্রতি পাঁচজনের একজন শ্রবণজনিত সমস্যায় ভুগছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৯ সালে বিশ্বে শ্রবণ সমস্যায় থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ১৬০ কোটি। আগামী তিন দশকে এটি দেড় গুণ বেড়ে ২৫০ কোটি হবে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

২০১৯ সালে কোনো না কোনো চিকিৎসার দরকার এমন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৩ কোটি। ২০৫০ সালে ২৫০ কোটি মানুষের মধ্যে এ সংখ্যাটি হবে ৭০ কোটি।

আরও পড়ুন:
কোভিডপরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির পুনর্বিবেচনা : একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দেড় লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা
করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
করোনায় ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭
করোনার নতুন প্রজাতি আরও ক্ষতিকারক

শেয়ার করুন

দেশে অর্ধেকে নামল টিকাগ্রহীতার সংখ্যা

দেশে অর্ধেকে নামল টিকাগ্রহীতার সংখ্যা

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাদান কেন্দ্র। ফাইল ছবি।

টিকা যে নিরাপদ, এ বিষয়টি আমরা জনগণকে বোঝাতে পারিনি। আমরা যদি তাদের বোঝাতে পারতাম, করোনা প্রতিরোধে টিকা নিতে হবে তাহলে টিকা নেওয়া বাড়ত: বিএসএমএমইউর ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুল রহমান।

দেশে এক সপ্তাহের ব্যবধানে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। গতকাল টিকাগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫২ জন। সোমবার এক দিনের ব্যবধানে কমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। যা গেল ৯ দিনের মধ্যে ছিল সর্বনিম্ন।

গণটিকা প্রয়োগের ১৩তম দিনে (২২ ফেব্রুয়ারি) টিকা নিয়েছেন ২ লাখ ২৫ হাজার ২৮০ জন। তবে সেটি সোমবার কমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের উদ্যোগে বিনা মূল্যে সারা দেশে টিকা দেয়া শুরু হয়। এরপর টানা চার দিন ধরে বাড়তে থাকে টিকা নেয়া মানুষের সংখ্যা। তবে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা নেয়া কমে আসছে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুল রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা যে নিরাপদ, এ বিষয়টি আমরা জনগণকে বোঝাতে পারিনি। আমরা যদি তাদের বোঝাতে পারতাম করোনা প্রতিরোধে টিকা নিতে হবে, এই টিকা নিলে আমরা আমাদের পরিবারকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারব, তাহলে টিকা নেওয়া বাড়ত।

টিকা নিতে নিবন্ধন করতে হয়। অনেকেই নিবন্ধন করতে পারেন না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যদি তাদের নিবন্ধনে সহযোগিতা করে, তাহলে অবশ্যই টিকা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়বে।’

গণটিকা প্রয়োগের ১৪তম দিন টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ জন। ১৫তম দিন টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৫ জন। ১৬ দিনে সারা দেশে টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। শুক্রবার ছুটির দিনে টিকা কর্মসূচি বন্ধ ছিল। গত শনিবার ১৭ দিনে টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৩৯ জন। রোববার টিকা নেয়ার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫২।

সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গণটিকা প্রয়োগের ১৯ দিনে সারা দেশে টিকা নিয়েছেন ৩২ লাখের বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জন।

সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন তার মধ্যে পুরুষ ২০ লাখ ৮১ হাজার ৮১৬ জন এবং নারী ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৯ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ২১ জনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৪৫ জনের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এসব মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কারও সামান্য জ্বর হয়েছে কিংবা বমি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার ঢাকার ৪৭টি এবং ঢাকার বাইরে ৯৫৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলে টিকা দেয়ার কার্যক্রম। ১৯ দিনে জেলাভিত্তিক সবচেয়ে বেশি টিকা দেয়া হয়েছে ঢাকায়। সবচেয়ে কম দেয়া হয়েছে বান্দরবানে।

২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ২৪ হাজার ২০৫ জন। ঢাকা বিভাগে মোট টিকা নিয়েছেন ৪৩ হাজার ১৪৯ জন। আর রাজধানীতে ১০ জনসহ ঢাকা বিভাগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ১২ জনের শরীরে।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ২২ হাজার ৭৯৬ জনকে। এই বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজশাহী বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১১ হাজার ৪৭১ জন। এই বিভাগের চারজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

খুলনা বিভাগে ১৬ হাজার ৩৫০ জনকে টিকা দেয়া হয়। এই বিভাগে কারও শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।

বরিশাল বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪৫৯ জনকে। এই বিভাগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে।

সিলেট বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৫ জনকে। এদের মধ্যে একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ময়মনসিংহ বিভাগে টিকা দেয়া হয় ৩ হাজার ৯০৪ জনকে। এই বিভাগে একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রংপুর বিভাগে টিকা নিয়েছেন ৯ হাজার ১৯৫ জন। এই বিভাগে একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
কোভিডপরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির পুনর্বিবেচনা : একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দেড় লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা
করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
করোনায় ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭
করোনার নতুন প্রজাতি আরও ক্ষতিকারক

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৮ মৃত্যু, শনাক্ত ৫৮৫

করোনায় আরও ৮ মৃত্যু, শনাক্ত ৫৮৫

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৮৫ জনের দেহে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৮০১ জন।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৪১৬ জনে।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৮৫ জনের দেহে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৮০১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৪টি ল্যাবে অ্যান্টিজেনসহ ১৩ হাজার ৫৭০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৭৩ জন। এ নিয়ে সুস্থ হলেন ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ জন। সংক্রমণ বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত আটজনের মধ্যে পুরুষ চার ও নারী চারজন। বয়স বিবেচনায় চল্লিশোর্ধ্ব দুইজন, পঞ্চশোর্ধ্ব তিন ও ষাটোর্ধ্ব তিন।

বিভাগ অনুযায়ী, ঢাকায় চার ও চট্টগ্রামে চার মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয়। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে সরকার। এখন সংক্রমণের ১২তম মাস চলছে।

আরও পড়ুন:
কোভিডপরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির পুনর্বিবেচনা : একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দেড় লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা
করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
করোনায় ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭
করোনার নতুন প্রজাতি আরও ক্ষতিকারক

শেয়ার করুন

ভারতের টিকা নিলেন মোদি

ভারতের টিকা নিলেন মোদি

করোনাভাইরাসের টিকা নিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: টুইটার

টিকা নিয়ে মোদি বলেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমাদের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা যে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন, তা আসলেই অসাধারণ।’

ভারতজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে নিজেদের উদ্ভাবিত টিকা নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) দিল্লিতে সোমবার সকালে টিকা নেন তিনি।

ভারত বায়োটেক ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) উদ্ভাবিত কোভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজ নেন মোদি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার থেকে ষাটোর্ধ্ব এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সী অসুস্থ ব্যক্তিদের করোনার টিকা দেয়া শুরু হয় ভারতে।

টুইটবার্তায় মোদি বলেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমাদের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা যে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন, তা আসলেই অসাধারণ।’

করোনার টিকা নিতে সক্ষম ব্যক্তিদের ডোজ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ‘চলুন, একসঙ্গে ভারতকে করোনামুক্ত করি।’

ভারতে মার্চ-এপ্রিলে কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে। মোদির টিকা নেয়ার সময় ওই সব রাজ্যকে প্রতিনিধিত্ব করে এমন আয়োজন ছিল। যেমন অসমের গামছা ছিল মোদির পরনে। এ ছাড়া পুদুচেরি ও কেরালার নার্সরা তাকে টিকা দেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সকালের দিকেই টিকা নেয়ার সময় বেছে নেন মোদি। জনগণের অসুবিধা বিবেচনায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে কোনো রুট ওই সময় আটকানোও হয়নি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনার টিকা তৈরি করছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট, যা ‘কোভিশিল্ড’ নামে পরিচিত। ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে গণপর্যায়ে দেয়া শুরু হয় কোভিশিল্ড।

রাশিয়া উদ্ভাবিত স্পুটনিক-ভি, ভারতের বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি কাডিলা হেলথকেয়ার উদ্ভাবিত জাইকোভ-ডিসহ করোনার আরও কয়েকটি টিকা ভারতে অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
কোভিডপরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির পুনর্বিবেচনা : একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দেড় লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা
করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
করোনায় ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭
করোনার নতুন প্রজাতি আরও ক্ষতিকারক

শেয়ার করুন

মডার্নার কাছে ৭.৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি অ্যাস্ট্রাজেনেকার

মডার্নার কাছে ৭.৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি অ্যাস্ট্রাজেনেকার

করোনাভাইরাসের টিকা বিক্রির মধ্য দিয়ে মডার্নার শেয়ারের দর বেড়ে যায়। এর পরপরই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের শেয়ার মডার্নার কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মডার্নার কাছে নিজেদের ৭.৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকো।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা দ্য টাইমসের বরাতে সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনাভাইরাসের টিকা বিক্রির মধ্য দিয়ে মডার্নার শেয়ারের দর বেড়ে যায়। এর পরপরই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের শেয়ার মডার্নার কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাস্ট্রাজেনেকা কবে মডার্নার কাছে শেয়ার বিক্রি করল, তা স্পষ্ট নয়।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও মডার্না এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্যান্য রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে মডার্নার সঙ্গে অংশীদারত্ব থাকছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার। এ ছাড়া করোনা স্থানিক পর্যায়ে চলে এলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজেদের উদ্ভাবিত টিকা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রি করবে কোম্পানিটি।

জরুরি ব্যবহারের জন্য মডার্নার টিকার অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বছর ১৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের করোনার টিকা বিক্রির আশা করছে তারা।

আরও পড়ুন:
কোভিডপরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির পুনর্বিবেচনা : একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দেড় লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা
করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
করোনায় ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭
করোনার নতুন প্রজাতি আরও ক্ষতিকারক

শেয়ার করুন

অনুমোদন পেলেও শুরু হলো না অ্যান্টিবডি টেস্ট

অনুমোদন পেলেও শুরু হলো না অ্যান্টিবডি টেস্ট

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবডি বা অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো হাসপাতালে এ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠিই পায়নি।

করোনাভাইরাস উপসর্গহীনভাবে অনেকের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। উপসর্গহীন আক্রান্তদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে গত ২৪ জানুয়ারি অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন দেয় সরকার।

কিন্তু অনুমোদনের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও কোনো হাসপাতালে অ্যান্টিবডি টেস্ট করা সম্ভব হয়নি। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এখনও কিছু জানে না। তারা কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে গণটিকাদান কর্মসূচি চলছে। অনেকের শরীরে উপসর্গহীন করোনা রয়েছে। তাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি না, তা দেখতে অ্যান্টিবডি টেস্ট জরুরি। এমনকি যারা টিকা নিয়েছে, তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাইয়েও এই টেস্ট করার প্রয়োজন রয়েছে।

দেশে অধিকাংশ হাসপাতালে অ্যান্টিবডি টেস্টের সক্ষমতা থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদাসীনতায় পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুল রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক হাসপাতালের সক্ষমতা থাকলেও অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি মিলছে না। আমাদের হাসপাতালে এই সক্ষমতা রয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখনও অনুমতি দেয়নি। অনুমোদন দিলেও অনেক শর্ত দেবে। সেই শর্ত পূরণ করা অধিকাংশ হাসপাতালের জন্য কষ্টকর।’

অধ্যাপক মো. সায়েদুল বলেন, ‘আরটিপিসিআর টেস্টের ক্ষেত্রেও অধিদপ্তর এমন আচরণ করেছে। ২ হাজার আরটিপিসিআর টেস্ট সম্পন্ন করতে আইসিডিডিআরবি তিন মাস সময় নিয়েছে। তিন মাস পরে আরটিপিসিআর টেস্ট শুরুর দিনেই আমাদের হাসপাতাল ২ হাজার টেস্ট করিয়েছে।’

দেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এরপর থেকেই বিশেষজ্ঞরা এ ভাইরাসে আক্রান্তের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি না, তা জানতে অ্যান্টিবডি টেস্টের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

১০ মাস পর ২৪ জানুয়ারি এ ধরনের পরীক্ষার অনুমোদনের বিষয়টি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশে অনেকের দাবি ছিল অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি দেয়ার। এখন এটা চালু করার অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। আজ আপনাদের যখন বললাম, তখন থেকেই এটা চালু হয়ে গেল।’

তবে মন্ত্রীর এ ঘোষণার পর এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এখনও কিছু জানে না। অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও মুখপাত্র আইয়ুব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মন্ত্রী মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। তবে অফিশিয়াল কোনো চিঠি আমরা পাইনি। প্রজ্ঞাপন পেলে এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।’

গণহারে হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু না হলেও গবেষণার কাজে কিছু জায়গায় অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে গবেষণার কাজে অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হচ্ছে। তবে গণহারে এই টেস্ট করার অনুমতি দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো আদেশ আসেনি। এটা নিয়ে কাজ চলছে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, এই টেস্ট করার সক্ষমতা রয়েছে এমন কিছু হাসপাতালের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া এই টেস্টের কেমন মূল্য হবে, তা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। সেটিরও কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করা হবে।

অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে সরাসরি করোনাভাইরাস শনাক্ত করা যায় না। তবে যারা উপসর্গহীন আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের রোগ পরবর্তী সময় অ্যান্টিবডি যাচাইয়ের ভিত্তিতে শনাক্ত করা সম্ভব। শরীরে নির্দিষ্ট কোনো রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, সেটি জানতে এ ক্ষেত্রে রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে আরটি-পিসিআর টেস্টের ওপরই নির্ভর করছিল সরকার। তবে পরীক্ষার হার বাড়াতে ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্ত হয় অ্যান্টিজেন টেস্ট।

দেশে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি গত ৩ জুন এক সভায় র‌্যাপিড টেস্টের সুপারিশ করে। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, করোনা সংক্রমণের বর্তমান অবস্থা জানতে অ্যান্টিবডি টেস্ট চালু করা দরকার। এর মাধ্যমে সংক্রমণের পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। সংক্রমণ বুঝতে হলে অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করা জরুরি।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাস উপসর্গহীনভাবে অনেকের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। উপসর্গহীন আক্রান্তদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা এই টেস্ট ছাড়া বলা যায় না। এ জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট খুব জরুরি।

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের কিছুদিনের মধ্যেই অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন কিট উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছিল গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস। তবে পরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই দুটি কিটের প্রত্যাশিত কার্যকারতা না পাওয়ার কথা জানায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গণস্বাস্থ্যের র‌্যাপিড টেস্টিং কিট তৈরির বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘মানোত্তীর্ণ’ না হওয়ার কারণে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে অনেক বিতর্কও হয়।

আরও পড়ুন:
কোভিডপরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির পুনর্বিবেচনা : একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দেড় লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা
করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
করোনায় ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭
করোনার নতুন প্রজাতি আরও ক্ষতিকারক

শেয়ার করুন

বিনা খরচে টিকা পাবে দেশের সব মানুষ

বিনা খরচে টিকা পাবে দেশের সব মানুষ

বিশ্বের ১৩০টি দেশে এখনও পায়নি করোনার টিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে বাংলাদেশে টিকা পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি।

মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য বিনা মূল্যে টিকা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ইতিমধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকার সংস্থান করেছে সরকার। যদিও দেশে পৌঁছেছে ৯০ লাখ।

সরকার বলছে, ৪০ বছরের ওপরে সব মানুষকে দেয়া হবে টিকা। সেই হিসেবে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি। একজনের জন্য যদি দুটি করে ডোজ প্রয়োজন হয়, তবে মোট টিকা দরকার ৮ কোটি ডোজ।

এর মধ্যে ৪০ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। আর টিকা নিয়েছেন প্রায় ২৮ লাখ মানুষ।

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, বিশ্বের ১৩০টি দেশ এখনও পায়নি করোনা প্রতিরোধী টিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে বাংলাদেশের টিকা পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি।

বাজারে আসার আগেই বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ডের ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনে রেখেছিল সরকার। এ ছাড়া দেশের মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশের জন্য জাতিসংঘের বৈশ্বিক টিকা জোট ‘কোভ্যাক্স’ থেকে আরও ৬ কোটি ৮০ লাখ টিকা প্রাপ্তিও নিশ্চিত করেছে সরকার। এর সঙ্গে আছে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে আসা ২০ লাখ ডোজ টিকা। সব মিলিয়ে ১০ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সরকার। এখন টিকাগুলো সময়মতো আসার অপেক্ষা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সিরাম থেকে কেনা ৩ কোটি ডোজ টিকার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ আসে গত ২৫ জানুয়ারি। এর আগে ভারতের উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ আসে ২১ জানুয়ারি।

তবে চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা থাকলেও এসেছে ২০ লাখ ডোজ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, ভারত এবং বিশ্বজোড়া চাহিদার কারণে সিরাম ৫০ লাখ টিকা পাঠাতে পারেনি। তবে সিরাম এবং বেক্সিমকোকে এ জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, মার্চে সিরাম বাড়তি টিকা পাঠিয়ে ঘাটতি পূরণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই চালানে টিকা কম এলেও দেশে টিকা সংকট হবে না জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা নিশ্চিত করেছে। অবশ্যই সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা মূল্যে দেশের সব জনগণের টিকা নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকার ইতিমধ্যে তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্য দেশের এখনও টিকা প্রয়োগ শুরু না হলেও আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত ২৮ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।’

এ বি এম আব্দুল্লাহ জানালেন, কোভ্যাক্সের টিকার প্রথম চালান আগামী মাসের শুরুর দিকেই দেশে আসার কথা রয়েছে। এই বছরের মধ্যে পাইপলাইনে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিয়ে ৫ কোটি মানুষের টিকা দেয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুল রহমান বলেন, মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ টিকার আওতায় আনতে হলে ২৪ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। এতো বিপুল লোকের টিকা নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এখনই ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে ৪ কোটি টিকা বরাদ্দ দিয়েছে। টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যদি ভালো সমঝোতা করতে পারি, তাহলে এ টাকায় আরও ৮ কোটি টিকা কেনা সম্ভব। রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশ করোনা টিকা উৎপাদন করছে, সেই সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে সরকারের। এ জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত। সেটির আলোকেই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সাপ্লাই-চেইনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও টিকা দ্রুতই আসছে। আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সবাইকে বিনা মূল্যে টিকা নিশ্চিত করতে পারব।’

সবার জন্য টিকা নিশ্চিতে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের বাইরে টিকার বিকল্প উৎস নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন ‘টিকা সংগ্রহে বিকল্প ভাবনাও রয়েছে। ভারতের বায়োটেক এবং চীনের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করছে। আমাদের এখানে কিছু নতুন সাপ্লাইয়ার আবেদন করেছে। এ বিষয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি। সে বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

আরও পড়ুন:
কোভিডপরবর্তী বিশ্বে কূটনীতির পুনর্বিবেচনা : একটি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দেড় লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা
করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
করোনায় ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭
করোনার নতুন প্রজাতি আরও ক্ষতিকারক

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg