টিকাকেন্দ্রে গিয়েও নিবন্ধন করা যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকা নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা

টিকাকেন্দ্রে গিয়েও নিবন্ধন করা যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গণটিকাদান কর্মসূচির শুরুর দিনই রোববার টিকা নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। নিউজবাংলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে টিকা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন মন্ত্রী।  

টিকা আসতে দেরি হয়নি। গণটিকাদানেও বিলম্বের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে টিকাদান শুরু করেছে সরকার। আর শুরুর দিনেই টিকা নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। এ কর্মসূচির সার্বিক দিক, নানা গুজব ও টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

প্রশ্ন: গণটিকাদানের শুরুতেই কেন টিকা নিলেন?

জাহিদ মালেক: টিকা নিয়ে এক ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল। নানা মহল থেকে সমালোচনা আসছিল। অনেকেই বলেছে, এ টিকা নিরাপদ নয়, মান ভালো না। এ কারণে মন্ত্রী হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জনে প্রথমে টিকা নেয়া। টিকা নেয়ার পর আমি কোনো ধরনের অসুস্থতা বোধ করছি না। আমি মনে করি, সকলেরই টিকা নেয়া দরকার। এতে আপনিও সুরক্ষিত থাকবেন, আপনার পরিবার এবং দেশও সুরক্ষিত থাকবে।

প্রশ্ন: টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে তো অনেকেই ভয়ে ছিলেন, টিকা নেয়ার পর আপনি কী বললেন।

জাহিদ মালেক: আপনি জানেন, আজ আমিসহ অনেক মন্ত্রী টিকা নিয়েছেন। আজ সারা বাংলাদেশে সমস্ত জেলা-উপজেলায় টিকা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। আশা করি, আজ লক্ষাধিক লোক টিকা গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। একেক জনের কথা শুনেছি। তাদের হাল্কা জ্বর এসেছিল, যা কারও কয়েক ঘণ্টায় বা কারও এক দিনেই সেরে যায়। আশা করি, আজ আমাদের টিকা নেয়ার মাধ্যমে সকলে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ হবেন। মানুষের জন্যই তো টিকা।

আমরা আজ যারা টিকা নিয়েছি, সকলেই খুব ভালো আছি, সুস্থ আছি। আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কিছু মানুষ হয়তো নিজেদের স্বার্থে বিরূপ প্রচারণা চালান। কিন্তু আমাদের স্বার্থ হলো দেশবাসীকে রক্ষা করা। আমরা চাই, এ টিকার মাধ্যমে দেশবাসীকে করোনা থেকে রক্ষা করতে। সে জন্য কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে আমাদের আহ্বান: টিকা গ্রহণ করবেন এবং ভালো থাকবেন।

প্রশ্ন: সবাই কি টিকা পাবেন, নাকি টিকা নিয়ে সংকট দেখা দেবে?

জাহিদ মালেক: আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা রয়েছে। আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে আমাদের হাতে ৭০ লাখ টিকা রয়েছে। সে টিকা আমরা ৩৫ লাখ লোককে দুই ডোজ করে দিতে পারব। যদি এক ডোজ করে দেই, ৭০ লাখ লোককে দিতে পারব। ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা দ্বিতীয় লটের টিকা পাব। তারপর আবার মার্চ-এপ্রিলে পাব। কাজেই কখনই আমাদের টিকার কমতি বা সংকট হবে না। শহরের ও গ্রামের যারা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার, ডাক্তার, নার্স, মিডিয়াকর্মী, পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য যারা সব সময় বাইরে কাজ করেন, তারা সবার আগে টিকা নেবেন। ৫৫ বয়সের ওপরে যারা আছেন তাদের আহ্বান করব, যে জায়গাতেই থাকুন না কেন আপনারা এসে টিকা নেবেন।

প্রশ্ন: টিকা পেতে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর সমাধান কী?

জাহিদ মালেক: টিকা পেতে সবাইকে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। যদি কারও কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমাদের উপজেলা-ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রে এসে নিবন্ধন করবেন এবং সেখান থেকে এসেই টিকা নেবেন। যদি তথ্যকেন্দ্রেও নিবন্ধন করতে না পারেন, তাহলে টিকাকেন্দ্রে আপনাদের জন্য নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে এসে নিবন্ধন করে টিকা নিয়ে যাবেন।

প্রশ্ন: নিবন্ধন শুরুর ১০ দিন পার হলেও এখনও সুরক্ষা অ্যাপ আসেনি গুগল প্লে স্টোরে, এই ব্যর্থতার দায় কার?

জাহিদ মালেক: অ্যাপ আইসিটি মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে এবং গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি আপলোড করেছে। এটা একটা প্রসেসিংয়ের বিষয়, তাই একটু সময় লাগছে। এখন আপাতত সুরক্ষা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন চলছে। ওয়েবসাইটটি আইসিটি ডিভিশনের তত্ত্বাবধানেই চলছে। তারাই এটার দেখাশোনা করছে। নতুন একটা ওয়েবসাইট তৈরি হলে কিছু সমস্যা হতেই পারে। এক্ষেত্রে যখনই যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, আইসিটি ডিভিশনকে আমরা জানাচ্ছি এবং তারা সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে দিচ্ছে। আমরা সব সময় এ বিষয়ে সজাগ আছি। তাদের সঙ্গে সব সময়ই আমাদের যোগাযোগ আছে। আমরা বলেছি, কোনো কারণে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যদি নিবন্ধন করতে দেরি হয়, তাহলে আপনারা টিকাকেন্দ্রে এসে হাতে নিবন্ধন করে নেবেন। পরে আমরা ওই কাগজগুলো আমাদের মূল সার্ভারে এন্ট্রি করে দেব। কাজেই অ্যাপ বা ওয়েবসাইট কোনো সমস্যা নয়, আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করে রেখেছি।

প্রশ্ন: তাহলে সমাধান কী?

জাহিদ মালেক: অ্যাপের বিষয়টা সময়মতো হওয়া দরকার। আগে-পরে কোনো বিষয় নয়। সেটা সময়মতোই হয়েছে, কাজ চলছে। আশা করি এটা নিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না।

আরও পড়ুন:
‘চার ঘাট’ ঘুরে টিকার নিবন্ধন
নাটোরে টিকার সঙ্গে উপহার
দ্বিতীয় দিনে টিকা দেড় গুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯২ জনের
টিকা নিলেন খালেদার আইনজীবী বিএনপি নেতা খোকন
টিকা নিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বিবি রাসেল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনা খরচে টিকা পাবে দেশের সব মানুষ

বিনা খরচে টিকা পাবে দেশের সব মানুষ

বিশ্বের ১৩০টি দেশে এখনও পায়নি করোনার টিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে বাংলাদেশে টিকা পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি।

মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য বিনা মূল্যে টিকা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ইতিমধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকার সংস্থান করেছে সরকার। যদিও দেশে পৌঁছেছে ৯০ লাখ।

সরকার বলছে, ৪০ বছরের ওপরে সব মানুষকে দেয়া হবে টিকা। সেই হিসেবে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি। একজনের জন্য যদি দুটি করে ডোজ প্রয়োজন হয়, তবে মোট টিকা দরকার ৮ কোটি ডোজ।

এর মধ্যে ৪০ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। আর টিকা নিয়েছেন প্রায় ২৮ লাখ মানুষ।

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, বিশ্বের ১৩০টি দেশ এখনও পায়নি করোনা প্রতিরোধী টিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে বাংলাদেশের টিকা পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি।

বাজারে আসার আগেই বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ডের ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনে রেখেছিল সরকার। এ ছাড়া দেশের মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশের জন্য জাতিসংঘের বৈশ্বিক টিকা জোট ‘কোভ্যাক্স’ থেকে আরও ৬ কোটি ৮০ লাখ টিকা প্রাপ্তিও নিশ্চিত করেছে সরকার। এর সঙ্গে আছে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে আসা ২০ লাখ ডোজ টিকা। সব মিলিয়ে ১০ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সরকার। এখন টিকাগুলো সময়মতো আসার অপেক্ষা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সিরাম থেকে কেনা ৩ কোটি ডোজ টিকার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ আসে গত ২৫ জানুয়ারি। এর আগে ভারতের উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ আসে ২১ জানুয়ারি।

তবে চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা থাকলেও এসেছে ২০ লাখ ডোজ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, ভারত এবং বিশ্বজোড়া চাহিদার কারণে সিরাম ৫০ লাখ টিকা পাঠাতে পারেনি। তবে সিরাম এবং বেক্সিমকোকে এ জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, মার্চে সিরাম বাড়তি টিকা পাঠিয়ে ঘাটতি পূরণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই চালানে টিকা কম এলেও দেশে টিকা সংকট হবে না জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা নিশ্চিত করেছে। অবশ্যই সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা মূল্যে দেশের সব জনগণের টিকা নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকার ইতিমধ্যে তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্য দেশের এখনও টিকা প্রয়োগ শুরু না হলেও আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত ২৮ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।’

এ বি এম আব্দুল্লাহ জানালেন, কোভ্যাক্সের টিকার প্রথম চালান আগামী মাসের শুরুর দিকেই দেশে আসার কথা রয়েছে। এই বছরের মধ্যে পাইপলাইনে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিয়ে ৫ কোটি মানুষের টিকা দেয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুল রহমান বলেন, মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ টিকার আওতায় আনতে হলে ২৪ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। এতো বিপুল লোকের টিকা নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এখনই ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে ৪ কোটি টিকা বরাদ্দ দিয়েছে। টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যদি ভালো সমঝোতা করতে পারি, তাহলে এ টাকায় আরও ৮ কোটি টিকা কেনা সম্ভব। রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশ করোনা টিকা উৎপাদন করছে, সেই সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে সরকারের। এ জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত। সেটির আলোকেই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সাপ্লাই-চেইনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও টিকা দ্রুতই আসছে। আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সবাইকে বিনা মূল্যে টিকা নিশ্চিত করতে পারব।’

সবার জন্য টিকা নিশ্চিতে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের বাইরে টিকার বিকল্প উৎস নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন ‘টিকা সংগ্রহে বিকল্প ভাবনাও রয়েছে। ভারতের বায়োটেক এবং চীনের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করছে। আমাদের এখানে কিছু নতুন সাপ্লাইয়ার আবেদন করেছে। এ বিষয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি। সে বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

আরও পড়ুন:
‘চার ঘাট’ ঘুরে টিকার নিবন্ধন
নাটোরে টিকার সঙ্গে উপহার
দ্বিতীয় দিনে টিকা দেড় গুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯২ জনের
টিকা নিলেন খালেদার আইনজীবী বিএনপি নেতা খোকন
টিকা নিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বিবি রাসেল

শেয়ার করুন

বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ বেঁধে দেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ বেঁধে দেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে গত নভেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালন করে। ফাইল ছবি

বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ বেঁধে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্রুতই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্ব্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্লিনিকের চিকিৎসার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।  

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার। আর তাই বেসরকারি হাসপাতালগুলোরে খরচ নির্ধারণ করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রোববার সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চিকিৎসা সেবায় দেশের বেসরকারি খাতের সংযুক্তি শীর্ষক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রাইভেট মেডিক্যাল সেবার ক্ষেত্রে হাসপাতালের মানগত দিক বিবেচনা করে সরকার একটি নির্দিষ্ট হারে ফি নির্ধারণ করে দিতে উদ্যোগী হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের প্রাইভেট মেডিক্যাল প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘চিকিৎসা সেবা নিতে দেশের মানুষের আউট অফ পকেট এক্সপেনডিচার বেশি হচ্ছে। অথচ দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যেই দেয়া হয়। চিকিৎসা সেবা নিতে মানুষের এত বেশি টাকা ব্যয়ের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বিদেশে চিকিৎসা নেয়া, দেশের প্রাইভেট মেডিক্যাল সেবার মাধ্যমে বা ঔষধ কেনার মাধ্যমে।’

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসা সেবা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একেক হাসপাতালের একেক রকম চার্জ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আরেকটি কারণ হয়েছে।’

দেশের আনাচে-কানাচে প্রাইভেট ক্লিনিক স্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সারা দেশে প্রাইভেট ক্লিনিক দিয়ে ছেয়ে গেছে। এই ক্লিনিকগুলোর মধ্যে কিছু মানসম্পন্ন সেবা দিলেও বহু ক্লিনিকে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না। এসব ক্লিনিকের ভালোমানের চিকিৎসা সরঞ্জামও নেই।’

বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ বেঁধে দেয়া হচ্ছে: স্বাস্ব্যমন্ত্রী
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ বেঁধে দিচ্ছে সরকার

সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত না করলে বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশ জুড়ে মাশরুমের মতো গজিয়ে ওঠা মানহীন প্রাইভেট ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হবে। খুব দ্রুতই ক্লিনিক সেবার জন্য একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড বেঁধে দেয়া হবে। এই মানদণ্ড বজায় না থাকলে সেসব ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হবে।’

করোনা পরীক্ষার নাম করে ভূয়া সনদ দেয়া, করোনা চিকিৎসায় অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অভিযোগ ওঠার পর গত নভেম্বরে দেশে অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধে অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এরপর দেশেব্যাপী শুরু হয় অভিযান। বন্ধ করে দেয়া হয় বেশকিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। এবার মন্ত্রী মানহীন ক্লিনিকের জন্য মাণ নির্ধারণ করার কথাও জানালেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খানসহ দেশের বেসরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন:
‘চার ঘাট’ ঘুরে টিকার নিবন্ধন
নাটোরে টিকার সঙ্গে উপহার
দ্বিতীয় দিনে টিকা দেড় গুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯২ জনের
টিকা নিলেন খালেদার আইনজীবী বিএনপি নেতা খোকন
টিকা নিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বিবি রাসেল

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৮ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৮৫

করোনায় আরও ৮ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৮৫

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ছবি: নিউজবাংলা

করোনায় দেশে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৪০৮ জনে। মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ২১৬ জন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৪০৮ জনে।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, একদিনে দেশে আরও ৩৮৫ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এতে মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ২১৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৪টি ল্যাবে অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ১৩ হাজার ৪১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮১৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হলেন ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯২৪ জন। সংক্রমণ বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৮ জনের মধ্যে পুরুষ ছয় ও নারী দুইজন। বয়স বিবেচনায় ত্রিশোর্ধ্ব একজন চল্লিশোর্ধ্ব একজন পঞ্চশোর্ধ্ব দুই ষাটোর্ধ্ব চার।

বিভাগ অনুযায়ী, ঢাকায় পাঁচ ও চট্টগ্রামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয়। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে সরকার। এখন সংক্রমণের ১১তম মাস চলছে।

আরও পড়ুন:
‘চার ঘাট’ ঘুরে টিকার নিবন্ধন
নাটোরে টিকার সঙ্গে উপহার
দ্বিতীয় দিনে টিকা দেড় গুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯২ জনের
টিকা নিলেন খালেদার আইনজীবী বিএনপি নেতা খোকন
টিকা নিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বিবি রাসেল

শেয়ার করুন

আসছে এক ডোজের টিকা

আসছে এক ডোজের টিকা

ফাইজার ও মডার্নার চেয়ে জনসন উদ্ভাবিত টিকা দামে কম, সংরক্ষণপ্রক্রিয়াও সহজ। আগের টিকা দুটি সংরক্ষণে উচ্চমাত্রার ফ্রিজার প্রয়োজন হলেও সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যাবে জনসনের টিকা।

জনসন অ্যান্ড জনসন উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দপ্তর (এফডিএ)। করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে অন্যান্য টিকা দুই ডোজ নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও এই টিকা এক ডোজ নিলেই চলবে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা।

করোনা প্রতিরোধী এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় টিকা। এর আগে আরও দুটি টিকা আনে দেশটির দুই প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও মডার্না।

বিবিসি লিখেছে, ফাইজার ও মডার্নার চেয়ে জনসনের টিকা দামে কম, সংরক্ষণপ্রক্রিয়াও সহজ। আগের টিকা দুটি সংরক্ষণে উচ্চ মাত্রার ফ্রিজার প্রয়োজন হলেও সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যাবে জনসনের টিকা।

জনসনের টিকার ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি করোনাজনিত জটিল অসুস্থতা রোধ করতে পারে। তবে সার্বিকভাবে টিকাটির কার্যকররতা ৬৬ শতাংশ।

টিকাটি মূলত উদ্ভাবন করেছে বেলজিয়ান ফার্মাসিউটিক্যালস জ্যানসেন, যার মালিকানায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন।

প্রতিষ্ঠানটির টিকা পেতে এরই মধ্যে অনেক দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিতে সম্মত হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। আগামী সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রয়োগ শুরু হতে পারে।

জনসনের টিকার অর্ডার দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কানাডা। জরুরি অবস্থায় এই টিকা ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে বাহরাইন। এর বাইরে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৫০ কোটি ডোজ টিকা দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী আরও একটি টিকার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বলেছেন, এটা সব আমেরিকানের জন্য উজ্জীবিত হওয়ার খবর। তবে করোনা যুদ্ধ শেষ হতে এখনও অনেক পথ বাকি।

বাইডেন বলেন, ‘যদিও আজকের সুসংবাদটা আমরা উদযাপন করছি, তবু সব আমেরিকানের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা হাত ধুবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন এবং সব সময় মাস্ক পরবেন।

‘আমি অনেকবার বলেছি, পরিস্থিতি আবার খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বর্তমান অগ্রগতি খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা অনুমোদনের আগেই চলতি মাসের শুরু থেকেই জনসনের টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। দেশটি প্রথমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড টিকা প্রয়োগ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু পরে জানায়, করোনার নতুন ধরনে কোভিশিল্ড কাজ করে ‘সামান্যই’। আর দক্ষিণ আফ্রিকার করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই নতুন ধরনে সংক্রমিত।

জনসনের টিকার ট্রায়াল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে। এতে দেখা গেছে, টিকাটি করোনাজনিত জটিল অসুস্থতা দমনে ৮৫ শতাংশ কার্যকর। আর মাঝারি মাত্রার অসুস্থতা দমনে কার্যকর ৬৬ শতাংশ।

ট্রায়ালে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের কারও মৃত্যু হয়নি। এমনটি টিকা নেয়ার ২৮ দিন পরও কাউকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি।

আরও পড়ুন:
‘চার ঘাট’ ঘুরে টিকার নিবন্ধন
নাটোরে টিকার সঙ্গে উপহার
দ্বিতীয় দিনে টিকা দেড় গুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯২ জনের
টিকা নিলেন খালেদার আইনজীবী বিএনপি নেতা খোকন
টিকা নিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বিবি রাসেল

শেয়ার করুন

১৭ দিনে টিকা নিলেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ

১৭ দিনে টিকা নিলেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ

রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে টিকা নিচ্ছেন এক নারী। ফাইল ছবি

২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনসহ এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ৭১১ জনের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এসব মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কারও সামান্য জ্বর হয়েছে কিংবা বমি হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গণটিকা প্রয়োগের ১৭ দিনে দেশে টিকা নিয়েছেন প্রায় ৩০ লাখের মতো মানুষ। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৩৯ জন।

শনিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৩৯ জন, সব মিলিয়ে টিকা নিয়েছেন ২৯ লাখ ৮৪ হাজার ৭৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৬ জন এবং নারী ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭ জন।

এ সঙ্গে যোগ হবে আরও ৫৬৭ জন, যাদের গণটিকার আগে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনসহ এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ৭১১ জনের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এসব মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কারও সামান্য জ্বর হয়েছে কিংবা বমি হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকা দেয়া শুরু হয়। এরপর টানা চার দিন ধরে বাড়তে থাকে টিকা নেয়া মানুষের সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বুধবার ঢাকার ৪২টি এবং ঢাকার বাইরে ৯৫৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম চলেছে। ১৬ দিনে জেলাভিত্তিক সবচেয়ে বেশি টিকা দেয়া হয়েছে ঢাকায়। সবচেয়ে কম দেয়া হয়েছে খাগড়াছড়িতে।

২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ২৬ হাজার ৮৫৭ জন। ঢাকা বিভাগে মোট টিকা নিয়েছেন ৫০ হাজার ৩৯১ জন। আর রাজধানীতে ৭ জনসহ ঢাকা বিভাগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ১১ জনের।

এক দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৬ জনকে। এই বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজশাহী বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১৪ হাজার ৫৩ জন। এই বিভাগের একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

খুলনা বিভাগে ২৭ হাজার ৬২৩ জনকে টিকা দেয়া হয়। এই বিভাগে একজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

বরিশালে টিকা দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৯৫ জনকে। এই বিভাগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে।

সিলেট বিভাগে টিকা দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৮০৭ জনকে। এদের মধ্যে একজনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ময়মনসিংহ বিভাগে টিকা দেয়া হয় ৪ হাজার ৩৭৮ জনকে। এই বিভাগেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

রংপুর বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১০ হাজার ৫১০ জন। এই বিভাগে একজনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘চার ঘাট’ ঘুরে টিকার নিবন্ধন
নাটোরে টিকার সঙ্গে উপহার
দ্বিতীয় দিনে টিকা দেড় গুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯২ জনের
টিকা নিলেন খালেদার আইনজীবী বিএনপি নেতা খোকন
টিকা নিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বিবি রাসেল

শেয়ার করুন

টার্গেট পূরণ হওয়ার পর টিকা নেব: প্রধানমন্ত্রী

টার্গেট পূরণ হওয়ার পর টিকা নেব: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: নিউজবাংলা

সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী আরও তিন কোটি টিকা কিনছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরও তিন কোটি ডোজ কেনার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, যেন একটি মানুষও বাদ না যায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, অবশ্যই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেবেন তিনি। তবে তা দেশবাসীকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পর।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে তালিকাভুক্ত হওয়া উপলক্ষে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

‘আগে কত পারসেন্টকে দিতে পারলাম, সেটা আগে দেখতে চাই। অবশ্যই টিকা নেব। আমাদের একটা টার্গেট ঠিক করা আছে, সেটা পূরণ হওয়ার পরে যদি টিকা থাকে, তাহলে দেব।’

গত ২৭ জানুয়ারি দেশে করোনার টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ দিন পর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় গণটিকা কার্যক্রম। সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধান জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ২৮ লাখের বেশি মানুষ টিকা নিয়েছে।

গত বুধবার টিকা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পাশে।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ কোভিশিল্ড টিকা কিনেছে বাংলাদেশ। দুই চালান আর ভারত সরকারের দেয়া ২০ লাখ ডোজ উপহার মিলে এখন পর্যন্ত দেশে টিকা এসেছে ৯০ লাখের বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পাশে ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি: পিআইডি

করোনা টিকাদান হারে অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সরকারের আরও টিকা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

‘আরও তিন কোটি ডোজ কেনার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, যেন একটি মানুষও বাদ না যায়। কোনো দেশ উৎপাদন করতে না পারলে, আমাদের এখানে উৎপাদন করা যায় কি না, সে জন্য দেশের ফার্মাসিউটিক্যালসগুলোকে বলা হয়েছে প্রস্তুত থাকতে।

‘মানুষকে সেবা দেয়া আমার কর্তব্য। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় জাতির পিতার কন্যা হিসেবে এটা কর্তব্য।’

‘করোনা মোকাবিলায় ম্যাজিক নেই’

বাংলাদেশ করোনা মোকাবিলায় অনেকটাই সফল। দেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৪০০ জনের। আর আক্রান্ত পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩১ জন।

দেশে এক মাসের বেশি সময় ধরে করোনার শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ পাঁচ শতাংশের নিচে হলে করোনা নিয়ন্ত্রণে বলা যায়। অবশ্য নীতিমালায় এও বলা আছে যে, দিনে পরীক্ষা হতে হবে ২০ হাজারের বেশি। কিন্তু দেশে এত বেশি নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে না।

এই কম নমুনা পরীক্ষার পেছনে অবশ্য সরকারের কোনো দায় নেই। শুরুর দিকে কিটসহ অবকাঠামোগত সমস্যায় পরীক্ষা করতে বাধা পেলেও এখন আর সে পরিস্থিতি নেই। দেশের ২০৬টি ল্যাবে এখন পরীক্ষা করা যায়, সেই সঙ্গে শুরুর হয়েছে অ্যান্টিজেন টেস্টও। জনগণই পরীক্ষা করতে কম যাচ্ছে।

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ছবি: নিউজবাংলা

করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও)। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এটা কোনো ম্যাজিকের কিছু না। যখন যেভাবে বলেছি, সবাই মেনে চলেছে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করায় এটা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের সম্মিলিত ম্যাজিক।

‘করোনা সারাবিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছিল। জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ যে, আমরা যখন যেভাবে বলেছি, সবাই মেনে চলেছে। আমরা সময়োচিত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, বিশেষ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে। মানুষের যেন কষ্ট না হয় সেটা দেখেছি। আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছি। সব শ্রেণির মানুষ সহায়তা পেয়েছে। তখনও গবেষণা চলছে, আগাম অর্থ দিয়ে করোনার টিকা কেনার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

নিজের কর্তব্য থেকেই এসব কাজ করেছেন বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সরকারের সব সদস্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আমার দলের নেতাকর্মী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সদস্য প্রত্যেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে। যাকে যখন যে কাজ করতে বলেছি, করেছে। সহযোগিতা-ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে।

‘আমার কোনো ম্যাজিক নয়, এটা বাংলাদেশের মানুষের ম্যাজিক। আমার বাবা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নিজের জীবন দিয়ে গেছেন। কাজেই এটা আমার দায়িত্ব। আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধটাই আসল।’

আরও পড়ুন:
‘চার ঘাট’ ঘুরে টিকার নিবন্ধন
নাটোরে টিকার সঙ্গে উপহার
দ্বিতীয় দিনে টিকা দেড় গুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯২ জনের
টিকা নিলেন খালেদার আইনজীবী বিএনপি নেতা খোকন
টিকা নিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বিবি রাসেল

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৪০৭

করোনায় আরও ৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৪০৭

গত একদিনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৪০৭ জনের শরীরে। মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩১ জন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৪০০ জন।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত একদিনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৪০৭ জনের শরীরে। মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৪টি ল্যাবে অ্যান্টিজেনসহ ১২ হাজার ৩৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবশেষ এক দিনে সুস্থ হয়েছেন ৬০৯ জন। এ নিয়ে সুস্থ হলেন ৪ লাখ ৯৬ হাজার ১০৭ জন। সংক্রমণ বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত পাঁচজনের মধ্যে পুরুষ চার ও নারী এক জন। বয়স বিবেচনায় বিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন ষাটোর্ধ্ব তিন। বিভাগ অনুযায়ী, ঢাকায় চার ও চট্টগ্রামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয়। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে সরকার। এখন সংক্রমণের ১১তম মাস চলছে।

আরও পড়ুন:
‘চার ঘাট’ ঘুরে টিকার নিবন্ধন
নাটোরে টিকার সঙ্গে উপহার
দ্বিতীয় দিনে টিকা দেড় গুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৯২ জনের
টিকা নিলেন খালেদার আইনজীবী বিএনপি নেতা খোকন
টিকা নিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বিবি রাসেল

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg