× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

স্বাস্থ্য
অনুমোদন ছাড়াই করোনার ন্যাজাল স্প্রে প্রয়োগ
google_news print-icon

অনুমোদন ছাড়াই করোনার ন্যাজাল স্প্রে প্রয়োগ

অনুমোদন-ছাড়াই-করোনার-ন্যাজাল-স্প্রে-প্রয়োগ
নীতিমালার কোনোটিই অনুসরণ করেননি ‘বঙ্গসেফ ওরো-ন্যাজাল স্প্রে’র গবেষকেরা। এমনকি নৈতিক অনুমোদন না নিয়েই তারা ওষুধের প্রয়োগ এবং সিআরওর মূল্যায়ন প্রতিবেদন ছাড়াই সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফল্য দাবি করেছেন। 

করোনাভাইরাস রোধে সক্ষম এক ধরনের ন্যাজাল স্প্রে উদ্ভাবনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় স্প্রেটি উদ্ভাবনের দাবি করছেন বিআরআইসিএমের কর্মকর্তারা।

এই ন্যাজাল স্প্রের কার্যকারিতা দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ২০০ রোগীর ওপর প্রয়োগের তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন গবেষকেরা। তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য নির্ধারিত নিয়মের কিছুই অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি যাদের ওপর এই স্প্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে তাদের সম্মতি গ্রহণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: করোনারোধী ‘ন্যাজাল স্প্রে’ উদ্ভাবন দাবি বিআরআইসিএমের

ঢাকা মেডিক্যালের যে চিকিৎসক এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, এই ন্যাজাল স্প্রে নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়। স্প্রেটির উপাদান অন্য রোগে ব্যবহার করা হতো, তবে এবার সেগুলো করোনা রোধে ব্যবহার করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ওষুধ মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রটোকল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেটি অনুসরণ না করে গুরুতর অনিয়ম করেছেন গবেষকেরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, যেকোনো ওষুধ বাজারে আসার আগে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপ অনুসরণের বিধান রয়েছে। একটি সম্ভাব্য ওষুধ মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের আগে গবেষকদের কার্যকারিতা পরীক্ষার প্রটোকল বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল বিএমআরসিতে জমা দিতে হয়।

অধ্যাপক নজরুল বলেন, ‘বিএমআরসি এই প্রটোকল যাচাই-বাছাইয়ের পর মানবদেহে পরীক্ষার নৈতিক অনুমোদন (এথিক্যাল পারমিশন) দিয়ে থাকে। এই অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল মানুষের ওপর ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা যায়। তবে যাদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাদের পূর্ব সম্মতি নেয়ার বিধান আছে। আবার লটারির মাধ্যমেও ওষুধগ্রহীতা নির্বাচনের একটি বিশ্বস্বীকৃত পদ্ধতি আছে।’

মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পদ্ধতি ও ফল পর্যালোচনার জন্য নিয়োগ দিতে হয় সরকার নির্ধারিত আলাদা কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা সিআরওকে। সেই সিআরওর মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওষুধ বাজারজাত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের।

তবে ওই নীতিমালার কোনোটিই অনুসরণ করেননি ‘বঙ্গসেফ ওরো-ন্যাজাল স্প্রে’র গবেষকরা। নৈতিক অনুমোদন না নিয়েই তারা ওষুধের প্রয়োগ করেছেন। সিআরওর মূল্যায়ন প্রতিবেদন ছাড়াই সাফল্য দাবি করেছেন সংবাদমাধ্যমের সামনে।

বিএমআরসি বা ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই মানবদেহে স্প্রে কীভাবে প্রয়োগ করা হলো এর পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।

বিষয়টি জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক নাক গলা বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল আরেফিনের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, ‘জরুরি পরিস্থিতি’ বিবেচনায় রোগীর ওপর এই স্প্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে।

গবেষক দলের তথ্য অনুযায়ী, কেবল সাধারণ পরিস্থিতিতে এই স্প্রে প্রয়োগ করে নাক ও গলার করোনাভাইরাস মেরে ফেলা সম্ভব। তবে আক্রান্তের অবস্থা গুরুতর হলে এই স্প্রের মাধ্যমে উপশম করা যায় না। সে ক্ষেত্রে রোগীর কোন ‘জরুরি পরিস্থিতিতে’ এই স্প্রে প্রয়োগ করা হলো, তার ব্যাখ্যা দেননি ডা. আরেফিন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জরুরি আইন বলতে ঢাকা মেডিক্যাল চাইলে যেকোনো গবেষণা করতে পারবে। এ জন্য তাকে বিএমআরসির অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ব্যাপক হারে গবেষণা করতে গেলে অবশ্যই বিএমআরসির অনুমোদন নিতে হবে।

‘আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এথিক্যাল রিভিউ কমিটির অনুমোদন নিয়ে এ স্প্রে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করেছি। এমন কোনো নতুন পদার্থ নিয়ে কাজ করা হয়নি, যার জন্য ওষুধ প্রশাসন ও বিএমআরসির অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন হবে।’

স্প্রের উপাদান নতুন উদ্ভাবন নয় স্বীকার করে মোস্তফা কামাল আরেফিন বলেন, ‘গলাব্যথা, টনসিল ইনফেকশন, গলায় ইনফেকশন—এ ধরনের ঠান্ডাজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে এই ওষুধ আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে।’

বিশ্বের অনেক দেশেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ন্যাজাল স্প্রে নিয়ে গবেষণা চলছে। কয়েকটি দেশে এ ধরনের স্প্রের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও চলছে। এর পরেও বাংলাদেশের গবেষক দলটি তাদের স্প্রেকে বিশ্বে প্রথম উদ্ভাবন কেন দাবি করছে- সেই প্রশ্নে ডা. আরেফিন বলেন, ‘আরও অনেক দেশে এ ধরনের ন্যাজাল স্প্রে থাকতে পারে, তবে সেগুলোর কোনোটিই আমাদেরটির মতো নয়।’

এই গবেষণার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিআরআইসিএমের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মালা খানের দাবি, করোনা রোগীর ওপর এই স্প্রে প্রয়োগের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল থেকে ‘নৈতিক ছাড়পত্র’ নেয়া হয়েছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামী রোববার ব্যাপক হারে গবেষণার জন্য বিএমআরসির অনুমোদন চাওয়া হবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্প্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনই আমরা গণমাধ্যমে জানাতে চাইনি। আমরা বিএমআরসির অনুমোদন নেয়ার জন্য কাগজপত্র কিছু দিনের মধ্যে জমা দেব।’

বিএমআরসির অনুমোদনের আগেই স্প্রের প্রয়োগ আইনের লঙ্ঘন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেকোনো গবেষণা যেকোনো প্রতিষ্ঠান করতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যালে একটা টেকনিক্যাল কমিটি রয়েছে। এই কমিটির কাছ থেকে আমার কাছে একটা প্রস্তাব আসার পর সেটার আমি অনুমোদন দিয়েছি।’

তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কোনো অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার নেই বলে জানিয়েছেন বিএমআরসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেকোনো মেডিক্যাল গবেষণা করতে হলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এটাকে নৈতিক ছাড়পত্র বলে। নৈতিক অনুমোদন দেয়ার অর্থ এই নয় যে, মানবদেহে পরীক্ষামূলক চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

‘পরীক্ষামূলক প্রয়োগ, ওষুধ উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন দরকার হয়। আবার হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতিরও প্রয়োজন।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা আমারও প্রশ্ন, অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এই স্প্রে মানবদেহে প্রয়োগ করা হলো। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে গবেষণাগারে, এরপর প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করে যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকে, তাহলে ঔষধ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মানবদেহে প্রয়োগ করা যাবে। এখানে এই নিয়মের কোনোটাই অনুসরণ করা হয়নি। এটা বেআইনি।’

‘জরুরি পরিস্থিতিতে’ গবেষণার ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া মানবদেহে ওষুধ প্রয়োগের নিয়ম আছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জরুরি অবস্থায় হয় কি- কাজটা দ্রুত করার সুযোগ দেয়া হয়। যে গবেষণাটি করতে পাঁচ মাস সময় লাগবে সেটা হয়ত দুই মাসে করা যায়। এ ছাড়া ৫০০টি প্রাণীর দেহে ওষুধ প্রয়োগ করার কথা ছিল, সেটি হয়ত ২০০টি করা যেতে পারে। এগুলো হয়ত শিথিল করা হয়। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া চলবে না।’

যাদের ওপর এই স্প্রে প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের কেউ অসুস্থ হলে মামলা বা অভিযোগ করার সুযোগ আছে বলেও জানান মো. সালাহউদ্দিন।

এর আগে গত বছরের মার্চে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়াই করোনা পরীক্ষার র‌্যাপিড কিটকে সফল বলে দাবি করেছিলেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ বিষয়ে দেশজুড়ে অনেক আলোচনা সমালোচনার পর এপ্রিলের শেষে সিআরও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিটের মূল্যায়ন চালাতে রাজি হন ডা. জাফরুল্লাহ। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি বলে পরে সংবাদ সম্মেলন করে জানায় সিআরও প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
8 more children died of measles

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।

এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
 Modernization of armed and police forces PM
শান্তিরক্ষা মিশন

 আধুনিকায়ন হচ্ছে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর: প্রধানমন্ত্রী

 আধুনিকায়ন হচ্ছে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।

এদিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় গতকাল বুধবার দিবসটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ সৈন্যদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।’

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা–ও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
City inspector is entering the field to build good habits of citizens

নাগরিকদের সুঅভ্যাস গড়তে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’

নাগরিকদের সুঅভ্যাস গড়তে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ ছবি: সংগৃহীত

নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরি করতে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় (৯নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।

নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই বিশেষ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে মোট ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। মতিঝিল ৯নং ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সফল হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকার সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

তিনি আরও জানান, এই সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলোবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমসমূহ ১০টি জোনে বিভক্ত: পুরো মতিঝিল এলাকাকে ১০টি ভাগে ভাগ করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠে নিয়োজিত থাকবেন।

সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ: ইন্সপেক্টররা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার: নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিকদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি, সিটি ইন্সপেক্টর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Special arrangement for prisoners to watch World Cup football match in Tangail

টাঙ্গাইলে কারাবন্দিদের ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন

টাঙ্গাইলে কারাবন্দিদের ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।

জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Sight is the greatest blessing in human life KCC Admin

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি: কেসিসি প্রশাসক

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি: কেসিসি প্রশাসক

দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।

খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Allegation of contractual recruitment withholding of promotion in state owned industrial enterprise Keru

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরুতে পদোন্নতি আটকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরুতে পদোন্নতি আটকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।

এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
140 families in Lalmohan are afraid of the embankment of Tentulia river

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১৪০ পরিবার

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১৪০ পরিবার ছবি: সংগৃহীত

ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।

উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।

করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।

ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’

লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য

p
উপরে