করোনার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রুখতে গাইডলাইন

করোনার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রুখতে গাইডলাইন

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যে স্থানে টিকা দেয়া হবে সেই স্থানে ব্যথা হতে পারে। হালকা জ্বর আসতে পারে। মাথা ব্যথা করতে পারে। এ ছাড়া স্বল্প পরিমাণে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে কিভাবে তা ম্যানেজ করা হবে সে বিষয়ে একটি গাইড লাইন প্রস্তুত করেছে ওষুধ প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বেঠক শেষ নিউজবাংলাকে এই তথ্য জানান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান। বুধবার এই গাইডলাইন অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, “টিকা গ্রহণের আগে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। এজন্য একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে। এতে উল্লেখ্য আছে, ‘টিকা গ্রহণের আগে আমি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এই টিকার উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হয়ে টিকা গ্রহণে সম্মত আছি’।”

টিকা নিলে কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে স্থানে টিকা দেয়া হবে সেই স্থানে ব্যথা হতে পারে। হালকা জ্বর আসতে পারে। মাথা ব্যথা করতে পারে। এ ছাড়া স্বল্প পরিমাণে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানালে, শুধু টিকা না, যেকোনো ওষুধের ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে।

‘তবে আমার মনে হয় খুবই কম মানুষের ক্ষেত্রে এ আশঙ্কা থাকবে। আমাদের মোবাইল টিম থাকবে, টিকাদান কেন্দ্রে বেসিক ও ওষুধ লাগলে ইমিডিয়েটলি ম্যানেজ করার জন্য ব্যবস্থা থাকবে।’

সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য উপজেলা কেন্দ্রে যতদূর সম্ভব ব্যবস্থা রাখা হবে। এর ব্যাকআপ হিসেবে বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে কমিটি থাকবে।

বিশ্বের অনেক দেশে এরই মধ্যে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ দেশই দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও জার্মানির অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত টিকা। এ ছাড়া রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না, রাশিয়ার স্পুতনিক ও চীনের সিনোভ্যাক্স টিকা।

তবে বাংলাদেশ আস্থা রাখছে অক্সফোর্ডের টিকার ওপরই। এই টিকা ভারতীয় উপমহাদেশে উৎপাদন করবে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। তাদের কাছ থেকে তিন কোটি টিকা কিনবে বাংলাদেশ।

২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে যেকোনো সময় করোনা ভাইরাসের এই টিকা দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এই টিকা নিয়ে কারো ক্ষতি হলে সরকার দায়ী থাকবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে সম্মতিপত্রে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, টিকা বিষয়ক কমিটির সদস্য শামসুল হক বলেন, ‘যদি কারো কোনো সমস্যা থাকে এবং এটি যদি কোনো গ্রহীতা না জানিয়ে থাকেন তবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলেও তা আমরা বুঝতে পারব না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেন্দ্র ও টিকা গ্রহণের তারিখ এসএমএস বা খুদে বার্তার মাধ্যমে সবাইকে জানানো হবে। তালিকাভুক্তদের দুই মাসের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দেয়া হবে।

টিকা দেয়ার সময়ে গ্রহীতাকে একটি কার্ড দেয়া হবে। কার্ডটি ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে এটা নিয়ে আসতে হবে গ্রহীতাকে। টিকা দেয়া শেষ হলেও কার্ডটি সংরক্ষিত করতে হবে।

এ ছাড়া যদি কার্ডটি হারিয়ে যায় তবে সেটি www.surakkha.com.bd ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এই ওয়েবসাইট থেকেই টিকা গ্রহীতা সনদ সংগ্রহ করে নিতে পারবে।

আরও পড়ুন:
ভারতে তিন কোটি টিকা দেয়া হবে বিনা মূল্যে
টিকা পেতে নিবন্ধন শুরু ২৬ জানুয়ারি
২৫ জানুয়ারির মধ্যেই আসছে টিকা
ফাইজার টিকা পেতে আগ্রহী বাংলাদেশ
দেশে টিকা আসছে ২৫ জানুয়ারি

শেয়ার করুন

মন্তব্য