গ্লোব বায়োটেকের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন

গ্লোব বায়োটেকের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন

গ্লোব বায়োটেক করোনার টিকা তৈরির দৌড়ে থাকা একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি। তাদের টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়েটেক উদ্ভাবিত করোনার টিকা ‘ব্যানকোভিড’ ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

ব্যানকোভিড ভ্যাকসিনের মিডিয়া সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলের জন্য ডিসেম্বরে আবেদন করেছিলাম। তার প্রেক্ষিতে গত ২৮ ডিসেম্বর ওই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়।’

তবে এখনও কোথায়, কোন অঞ্চলে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে তা জানাতে পারেনি তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সরকার নির্ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘২ থেকে ৩ মাস ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হলে ঔষধ প্রশাসনে টিকা উৎপাদন ও বাজারজাত করার জন্য অনুমোদন চাওয়া হবে।’

তবে এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা গত বছরের ২ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে কোভিড-১৯ টিকা নিয়ে আসার কথা জানান। সে সময়ে তারা একটি খরগোশের ওপর টিকা প্রয়োগ করে ফলাফল দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।

গ্লোব বায়োটেক করোনার টিকা তৈরির দৌড়ে থাকা একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি। তাদের টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য আইসিডিডিআরবির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) করলেও পরে তা বাতিল করে গ্লোব বায়োটেক। গত ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, আইসিডিডিআরবির অনাগ্রহ দেখে তারা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

সম্প্রতি ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুসা বিন শমসের। ছবি: নিউজবাংলা

দুদকের কাছে মুসা যেসব সম্পদের তালিকা দিয়েছিলেন, তার কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেবল ফরিদপুরে তার বাবার করা বাড়িতে তার অংশ পাওয়া গেছে। তিনি বনানী ও গুলশানের যে বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন, তার একটি ভাড়া করা, আরেকটি স্ত্রীর। সুইস ব্যাংকে কথিত অর্থের খোঁজ করার চেষ্টা করে এমন কোনো তথ্য পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফরিদপুরে পৈতৃক ভিটা ছাড়া আলোচিত চরিত্র মুসা বিন শমসেরের কোনো সম্পদের খোঁজ পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন। ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা ও হয়রানির’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে আমাদের তদন্ত চলছে। শিগগিরই তদন্ত শেষ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দুদকের এই অনুসন্ধান আর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদের বক্তব্য একই ধরনের।

যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার কাদের মাঝির সঙ্গে সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে গত ১২ অক্টোবর মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবির যুগ্ম কমিশনারের বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি সেদিন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে উনি (মুসা) অন্তঃসারশূন্য। একটা ভুয়া লোক মনে হয়েছে। ওনার কিচ্ছু নাই। তার একটা বাড়ি রয়েছে গুলশানে। সেটাও স্ত্রীর নামে। বাংলাদেশে তার নামে আর কিছু পাই নাই। তবে উনি মুখরোচক গল্প বলেন।’

মুসা বিন শমসের গত কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশে আলোচিত চরিত্র। বাংলাদেশে কারও সম্পদ নিয়ে প্রচার করার প্রবণতা না থাকলেও ব্যতিক্রম মুসা। তিনি বরাবর তার বিপুল পরিমাণ টাকার গল্প বলে বেড়ান।

তার দাবি, তিনি আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী, সুইস ব্যাংকে তার বিপুল পরিমাণ টাকা আছে। দেশেও বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার একরের বেশি জমি আছে।

ডিবিতে গিয়েও দাবি করেন, সুইস ব্যাংকে তার ৮২ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা আনতে পারলে তিনি পুলিশকে দেবেন ৫০০ কোটি টাকা। দুদককে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে বিল্ডিং করে দেবেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করে দেবেন।

তবে দুদক যখন তার সম্পদের হিসাব চেয়েছে, তখন তিনি দাবির পক্ষে কোনো নথিপত্র দিতে পারেননি।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘মুসা বিন শমসের অসৎ উদ্দেশ্যে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ঢাকার সাভার ও গাজীপুরে ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি এবং সুইস ব্যাংকের ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের) থাকার কথা বলেছেন। সেই সম্পদ অর্জনের উৎসের সমর্থনে কোনো রেকর্ডপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হন তিনি।’

অর্থাৎ দুদক ডিবির কাছে সম্পদের পরিমাণ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য দিয়েছেন মুসা। দুদকের জমা দেয়া হিসাবের তুলনায় সুইস ব্যাংকে প্রায় সাত গুণ টাকা থাকার দাবি করেছেন ডিবির কাছে।

সুইস ব্যাংকে আদৌ কোনো টাকা আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন বড় হয়েছে।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডে ৮৮টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ব্যাংকে তার টাকা জমা আছে, তার কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। দুদক টিম তদন্তের স্বার্থে বারবার চিঠি দিচ্ছে। চিঠির জবাব পাওয়া গেলেও টাকা জমা বা জব্দ থাকার তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে গাজীপুর ও সাভারের জমির তথ্য অসত্য, এ বিষয়ে নিশ্চিত তিনি। বলেন, ‘ঢাকা ও গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ডপত্র তল্লাশি করেও মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরীর কোনো প্রকার জমি ক্রয়-বিক্রয় করার তথ্য পাওয়া যায়নি।’

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

পৈতৃক ভিটা ফরিদপুরে

মুসার নামে একমাত্র যে স্থাপনাটি দুদক পেয়েছে, সেটি ফরিদপুরে। তবে সেই সম্পদ তিনি নিজে করেননি। ব্রিটিশ আমলে কৃষি দপ্তরে কাজ করা বাবা শমসের আলী মোল্লা যে বাড়ি করেছিলেন, সেখানে ভাগ আছে মুসার।

ফরিদপুরে মুসার জন্ম ১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর। চার ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

মুসার কথিত সম্পদের হিসাব খুঁজে বের করতে দুদকের পাশাপাশি কাজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউও)। দুটি সংস্থাই জানায়, তারা দেশে মুসার কোনো ব্যাংক হিসাবই খুঁজে পায়নি।

বিএফআইইউএর প্রতিবেদনে বলা হয়, মেসার্স ডেটকো লিমিটেড নামে জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসের। এর অংশীদারত্বে আরও কয়েকজন রয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানের নামে ঢাকায় দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছেও চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠির উত্তরে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সেখানে মুসার নামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে ওই ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদও নেই।

দুদক জানায়, ইউটিউবে গুলশান প্যালেস নামে ঢাকার যে বাড়িটি দেখান, তার মালিক আসলে মুসার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরী।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময়ে জনশক্তি রপ্তানিতে আলোচনায় থাকলেও এখন ডেটকো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানেই পরিণত হয়েছে।

বনানীতে যে বাড়িতে এই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে, সেটিও ভাড়া করা।

যেভাবে আলোচনায় মুসা

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনি প্রচারের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে দেশে প্রথম আলোচনায় আসেন মুসা বিন শমসের। তিনি জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা করলেও সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে তুলে ধরে।

২০১০ সালে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মুসার ৭ বিলিয়ন ডলার জব্দ করেছে বলে আরেক দফায় ঝড় তোলে পশ্চিমা গণমাধ্যম। অনিয়মিত লেনদেনের কারণে তার অর্থ জব্দ করা হয় বলে সে সময় গণমাধ্যমে দাবি করেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডে একটি দুর্গ কিনে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর বানানোর প্রস্তাব দিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন মুসা।

তিনি প্রচার করে বেড়ান, সাউথ আফ্রিকার বিশ্বনন্দিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ বইটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন মুসা বিন শমসেরকে।

এর পরই ২০১১ সালের এপ্রিলে একবার তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক, কিন্তু সেই অনুসন্ধান-প্রক্রিয়া বেশি দূর আগায়নি।

২০১৪ সালে বিজনেস এশিয়া ম্যাগাজিন মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশি অস্ত্র ব্যবসায়ীর ৭ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে সুইস ব্যাংকে।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মুসা বিন শমসেরের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলীকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয় কমিশন।

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে ‘দেহরক্ষী নাটক’

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক দফা গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মুসাকে।

২০১৫ সালের ১৯ মে তাকে আবার সম্পদ বিবরণী জমা দিতে নোটিশ দেয় দুদক। ৭ জুন আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী জমা দেন তিনি।

এরপর ১৮ ডিসেম্বর মুসা বিন শমসের আলোচনায় আসেন দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে। চার নারী নিরাপত্তাকর্মীসহ ৪০ জনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বহর নিয়ে সেদিন তিনি দুদকের ফটকে গাড়ি থেকে নামেন।

সে মুহূর্তে তার ডান হাতে শুভ্র আলোর দ্যুতি, হীরকখচিত বিশ্বখ্যাত রোলেক্স ব্র্যান্ডের অতি দামি ঘড়ি। হিরা বসানো চশমা, কলম ও জুতা পরা ছিল।

তবে পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে, এরা কেউ তার দেহরক্ষী ছিল না। তার জনশক্তি রপ্তানির কোম্পানির সাধারণ কর্মী তারা।

২০১৬ জানুয়ারি আবার তাকে দুদকে তলব করা হয় এবং ২৮ জানুয়ারি তাকে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

২০১৭ সালের ৭ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মুসার বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির তিনটি অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় তিনটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

‘স্বাধীনতাবিরোধী পরিচয়’ও সামনে

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক এম এ হাসানের ‘পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী’ বইয়ে ১৯৭১ সালে সে সময়ের তরুণ মুসা বিন শমসেরকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ওই গ্রন্থের তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুসা ছিলেন পাকিস্তানি সেনা অফিসারদের ঘনিষ্ঠজন আর মুক্তিকামী বাঙালির আতঙ্ক।

তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একাত্তরের ২৫ মার্চ আমি বঙ্গবন্ধুর বাসায় ছিলাম। পরদিন তিনি আমাদের যার যার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন। আমি নদী পার হয়ে হেঁটে ফরিদপুর যাই। ২২ এপ্রিল পাকিস্তানি আর্মির হাতে ধরা পড়ি। আমি তাদের হাতে বন্দি ছিলাম। একাত্তর সালের ৯ ডিসেম্বর অর্ধমৃত অবস্থায় মুক্তি পাই।’

দুদকে জমা দেয়া সম্পদের হিসাব

২০১৫ সালের ৭ জুন দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন মুসা বিন শমসের। তার জমা দেয়া হিসাব অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে ১২ বিলিয়ন ডলার জমা রয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি।

এ ছাড়া সুইস ব্যাংকের ভল্টে ৯০ মিলিয়ন ডলার দামের (বাংলাদেশি প্রায় সাড়ে সাত শ কোটি টাকা) অলংকার জমা থাকার দাবি করেছেন মুসা।

সে সময় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সুইস ব্যাংকে জব্দ অর্থ অবমুক্ত হলে এসব অর্থ পদ্মা সেতু নির্মাণসহ মানবকল্যাণে ব্যয় করবেন তিনি।

সেদিন দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে তার কোনো অর্থই সুইস ব্যাংকে জমা হয়নি। ৪২ বছর বিদেশে বৈধভাবে ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি ১২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন, যা সুইস ব্যাংকে তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, মিসর, সিরিয়া, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সরকারি প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধের অর্থ ওই সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

দুদকে জমা দেয়া হিসাব বিবরণীতে মুসা দুদককে জানান, ঢাকার সাভার ও গাজীপুরে তার ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি আছে। দেশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। এর মধ্যে গুলশান ও বনানীতে বাড়ির তথ্য দেন।

পরে দুদকের প্রতিবেদনে সবকিছু ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ধনকুবের’ মুসার জালিয়াতি গাড়ি নিবন্ধনেও

যুক্তরাজ্য থেকে আনা একটি গাড়ি জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিক্রির অপরাধে মুসা বিন শমসেরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

সংস্থাটির পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর করা মামলায় ২ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৩ টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়।

এতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনসারী, ফারিদ নাবীর, মুসা বিন শমসের, তার শ্যালক ফারুক উজ জামান ও মেসার্স অটো ডিফাইনের মালিক ওয়াহিদুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক সিরাজুল হক।

শেয়ার করুন

আইস পাচারে নতুন কৌশল, ধরা পড়লে টাকা মাফ

আইস পাচারে নতুন কৌশল, ধরা পড়লে টাকা মাফ

আইস পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার খোকন ও রফিক। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আইসের চালান যদি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে তাহলে মিয়ানমারের কারবারিরা তার দাম নেয় না। নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর পর হুন্ডির মাধ্যমে আইসের চালানের দাম পাঠানো হতো মিয়ানমারে। কখনও চায়ের প্যাকেটে, কখনও আচারের প্যাকেটে করে নানা কৌশল ব্যবহার করে আনা হয় আইস।’

ইয়াবার পর বাংলাদেশে অবৈধ দামি মাদক ক্রিস্টাল মেথের (আইস) বাজার ধরতে নতুন কৌশল নিয়েছে মিয়ানমারের মাদক কারবারিরা। বাংলাদেশের মাদক কারবারিদের উৎসাহিত করতে অগ্রিম টাকা ছাড়াই আইসের চালান পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা।

চালান নিরাপদে বাংলাদেশের মাদক কারবারির হাতে পৌঁছানোর পরই তারা টাকা নিচ্ছে। আইসের চালান যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরে ফেলে তাহলে এর দামও নেয় না মিয়ানমারের কারবারিরা।

এই কৌশলের কারণে সম্প্রতি আইসের চাহিদা ও সরবরাহ বেড়েছে বাংলাদেশে। প্রায়ই ধরা পড়ছে মাদকটির ছোট ছোট চালান৷

তবে র‍্যাবের অভিযানে ক্রিস্টাল মেথের (আইস) সবচেয়ে বড় চালানটি ধরা পড়েছে শনিবার। এদিন ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের আইস জব্দ করেছে বাহিনী। বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ টেকনাফ আইস সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হোছেন খোকন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ রফিককে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে র‍্যাব।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাহিনীটি। সেখানে আইসের ব্যবসা ও এর সিন্ডিকেট সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তারা অবৈধভাবে নৌপথ ব্যবহার করে মিয়ানমারে গিয়ে সেখানকার মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলছে। মিয়ানমারের কারবারিরাও বাংলাদেশের কারবারিদের যুক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল নিয়েছে।

‘আইসের চালান যদি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে তাহলে মিয়ানমারের কারবারিরা তার দাম নেয় না। নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর পর হুন্ডির মাধ্যমে আইসের চালানের দাম পাঠানো হতো মিয়ানমারে। কখনও চায়ের প্যাকেটে, কখনও আচারের প্যাকেটে করে নানা কৌশল ব্যবহার করে আনা হয় আইস।’

আইস পাচারে নতুন কৌশল, ধরা পড়লে টাকা মাফ
গ্রেপ্তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচ কেজি আইস। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাবের এই মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তার খোকন নৌপথে নিয়মিত মিয়ানমার যেতেন। তিনি ও তার সহযোগী পাঁচ বছর ধরে ইয়াবা কারবারে সঙ্গে জড়িত। তবে বেশি লাভের কারণে কয়েক মাস ধরে আইসের কারবারে জড়িয়ে পড়েন তারা। খোকন টেকনাফকেন্দ্রিক মাদক কারবারে জড়িত সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এই সিন্ডিকেটে ২০ থেকে ২৫ জন রয়েছেন। প্রথমে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার সমুদ্রপথ দিয়ে মাদকের চালান মিয়ানমার থেকে টেকনাফ নিয়ে আসে খোকন। সেখান থেকে অটোরিকশার চালকের ছদ্মবেশে থাকা রফিক মাদকটি এনে তার বাসায় প্রাথমিকভাবে রাখতো। পরে ছোট ছোট ভাগে সেগুলো চট্টগ্রামে পাঠানো হতো। সুযোগমতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো মাদকের চালান।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর গুলশান, বনানী, মিরপুর, মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক আইসের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারা শহরে সরবরাহের জন্যই আইসের এই বড় চালানটি নিয়ে আসা হয়। চালানটি দেয়ার পর তারা টাকা সংগ্রহ করত। তবে এর আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে জড়িতরা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আমরা এই সিন্ডিকেটের অনেকের নাম পেয়েছি। এদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।’

গ্রেপ্তার খোকনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলছে বলেও র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন।

শেয়ার করুন

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারের সিংহভাগ কোম্পানির দরপতন হচ্ছে। এর বাইরে নয় ব্যাংক খাতও। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ২২ শতাংশ কমেছে লোকসানি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর। এর বাইরে তিনটি ব্যাংকের দর ১০ শতাংশের কম কমেছে। ৮টি ব্যাংকের দর কমেছে ৫ থেকে ৭ শতাংশ। ১২টি ব্যাংকের দর কমেছে ১ থেকে ৫ শতাংশের কম। অর্থাৎ একদিন সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়লেই একটি ছাড়া বাকিগুলো হারিয়ে ফেলা দর ফিরে পাবে। আর সাতটি ব্যাংকের দর বেড়েছে। একটি ব্যাংকের দর পাল্টায়নি।

পুঁজিবাজারে এক বছরের বেশি সময় ধরে উত্থানে ব্যাংক খাতে দর বেড়েছে সামান্যই। এ নিয়ে হতাশার মধ্যে এবার একমাস ধরে টানা দর সংশোধনে এই খাতের শেয়ারধারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানি ছাড়া সিংহভাগ কোম্পানির দরপতন হচ্ছে। এর বাইরে নয় ব্যাংক খাতও। তবে এই খাতে দরপতনের হার তুলনামূলক কম। যেকোনো একটি ভালো দিনেই কোম্পানিগুলো যেটুকু দর হারিয়েছে, তার সবটুকু ফিরে পেতে পারে।

ব্যাংক খাতে কেবল লোকসানি একটি কোম্পানির শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। আগের দুই মাসে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ২২ শতাংশ। এটির দাম আরও বেশি কমেছিল, তবে চলতি সপ্তাহে কিছুটা দর ফিরে পেয়েছে।

বাকি ৩১টি কোম্পানির মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি কমেছে তিনটি কোম্পানির দর। একটির দর মাস শেষে অপরিবর্তিত আছে একটির, সাতটির দর বেড়েছে। চারটির দর কমেছে এক থেকে দুই শতাংশের মধ্যে। আটটি কোম্পানির শেয়ার দর কমার হার তিন থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে। ৮টি কোম্পানির শেয়ার দর ৫ শতাংশের বেশি থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

এই সময়ে মুনাফায় থাকা ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারানো ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৯.৮৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে আরেকটি ব্যাংকের ৯.৪০ শতাংশ, আর তৃতীয় সর্বোচ্চ কমেছে ৯.২৫ শতাংশ।

আরও একটি ব্যাংকের শেয়ারদর আপাতদৃষ্টিতে সাড়ে ৯ শতাংশ কমলেও সেটি ৮ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এবং সেই লভ্যাংশ সমন্বয় হয়েছে।

অন্যদিকে প্রধান খাতগুলোর মধ্যে বিমা, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, প্রকৌশল এবং বস্ত্র খাতে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ এমনকি এর চেয়ে বেশি হারে দর সংশোধন হয়েছে বহু কোম্পানির।

বিমা খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে গত এক মাসে দর বেড়েছে কেবল দুটির, প্রকৌশল খাতের ৪২ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে আটটির, বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির। কমেছে বাকিগুলোর।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা প্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে বিনিয়োগাকারীরা ফান্ডামেন্টাল কোম্পানির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। আসলে দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে এক সময় ভালো মুনাফা করলেও এখন দর সংশোধনের সময় দেখা গেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি লোকসানে আছে। এ থেকে অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হয়।

ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি কমেছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যে ব্যাংক খাতের একমাত্র লোকসানি কোম্পানিটি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি।

গত বছরের জুলাইয়ের শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২ টাকা ৮০ পয়সা। সেটি এবার বেড়ে হয় সর্বোচ্চ ৭ টাকা ৮০ পয়সা।

গত ২৯ জুলাইও শেয়ার দর ছিল ৪ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে ২ সেপ্টেম্বর দাম দাঁড়ায় ৭ টাকা ৪০ পয়সা।

অথচ তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কখনও মুনাফার মুখ না দেখে কোম্পানিটি চলতি বছরও লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি, এমনকি লোকসান কমাতেও পারেনি। তার পরেও শেয়ার দর কেন এভাবে বাড়ছে, এমন প্রশ্নের মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরু হতে না হতেই লাফিয়ে লাফিয়ে কমতে থাকে।

গত ১০ অক্টোবর সেই ২৭ জুলাইয়ের দাম ৪ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে দাম। তবে এরপর সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চার কর্মদিবসের মধ্যে তিন দিন বেড়ে হয় ৫ টাকা ৬০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দর। এক মাসে ব্যাংকটির শেয়ার দর হারিয়েছে ৯.৮৪ শতাংশ। ১ টাকা ৩০ পয়সা কমে শেয়ার দর ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে ব্র্যাক ব্যাংকের, যেটির দাম সর্বোচ্চ পরিমাণে কমা কিছুটা অবাক করার মতোই ঘটনা। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

গত এক মাসে এই ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ৪ টাকা ৮০ পয়সা শেয়ার দর ৫০টাকা ৬০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৪৫ টাকা ৮০ পয়সায়। শতকরা হিসেবে দর কমেছে ৯.৪৮ শতাংশ।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে চাপে থাকা এবি ব্যাংক। তবে এটির দর প্রায় সময়ই উঠা নামার মধ্যে থাকে।

৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। সেটি কমে এখন দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৯.২ শতাংশ।

নতুন তালিকাভুক্ত সাউথবাংলার শেয়ার আপাতদৃষ্টিতে ৯.৪৭ শতাংশ দর হারিয়েছে দেখা গেলেও এর মধ্যে ২০২০ সালে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ সমন্বয় হয়েছে। এই বছরে ৪ শতাংশ বোনাস ও ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে। এমনিতে নগদ লভ্যাংশ সমন্বয়ের কথা না থাকলেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারে এই প্রবণতা আছে। এই দুটি বিষয় হিসাব করলে ৪ শতাংশের মতো কমেছে ব্যাংকটির শেয়ার দর।

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে
পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: ফাইল ছবি

৫ থেকে ৭ শতাংশ দর হারিয়েছে যেসব ব্যাংক

এই সময়ে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৭.০৯ শতাংশ। শেয়ারদর ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩ টাকা ১০ পয়সায়।

ন্যাশনাল ব্যাংকের কম কমেছে ৬.৭৪ শতাংশ। ৬০ পয়সা কমে ৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩০ পয়সায়।

মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ টানা বেড়ে যাওয়া ডাচ বাংলা ব্যাংক তিন মাস ধরেই সংশোধনে আছে।

৯৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমতে কমতে শেয়ার দর এখন দাঁড়িয়েছে ৭৯ টাকা ৯০ পয়সায়। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কমেছে ৫ টাকা ৪০ পয়সা বা ৬.৩৩ শতাংশ।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৬.২৭ শতাংশ। এই সময়ে শেয়ার দর ২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ২০ টাকা ৯০ পয়সায়।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৬.০২ শতাংশ। এই সময়ে দাম ৩৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সায়।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ৫.৯৫ শতাংশ। ১ টাকা ৪০ পয়সা কমে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ২২ টাকা ১০ পয়সায়।

ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর এই সময়ে কমেছে ৫.৮৪ শতাংশ। ২ টাকা ১০ পয়া কমে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৮০ পয়সায়।

৫ শতাংশের কম কমেছে যেগুলোর দর

৪.৮০ শতাংশ কমেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দর। ১০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৯ টাকা ৯০ পয়সা।

৪.৭৮ শতাংশ কমেছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর। ১ টাকা কমে ২০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৯০ পয়সায়।

৪.৪৭ শতাংশ কমেছে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারদর। ৭০ পয়সা কমে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ২০ পয়সায়।

৪.৪০ শতাংশ কমেছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারদর। ৬০ পয়সা কমে ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়।

৪.২১ শতাংশ কমেছে সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর। ৭০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সায়।

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৪.০৫ শতাংশ। ৬০ পয়সা কমে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ২০ পয়সায়।

৩.৩৩ শতাংশ কমেছে এসআইবিএলের দর। ৪০ পয়সা কমে ১৫ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৫০ পয়সায়।

৪.৪৭ শতাংশ কমেছে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারদর। ৬০ পয়সা কমে ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়।

২.৯৭ শতাংশ কমেছে ইউসিবির শেয়ারদর। ৫০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৩০ পয়সায়।

২.৬৬ শতাংশ কমেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারদর। ৪০ পয়সা কমে ১৫ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৬০ পয়সায়।

১.৮৬ শতাংশ কমেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারদর। ৩০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

১.৩৬ শতাংশ কমেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর। ৪০ পয়সা কমে ২৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮০ পয়সায়।

যেগুলোর দর বেড়েছে

বাজার সংশোধনের একমাসে কমে গিয়েও শেষ পর্যন্ত বেড়েছে এনআরবিসির দর। সংশোধন শুরু হওয়ার আগের দিন শেয়ারদর ছিল ২৮ টাকা। সেখান থেকে দর এক পর্যায়ে ২৩ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে এসেছিল। কিন্তু গত ৬ কর্মদিবসের মধ্যে ৫ দিন বেড়ে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৬০ পয়সায়।

অর্থাৎ বাজার সংশোধনের মধ্যে ব্যাংকটির দর বেড়েছে ১২.৮৫ শতাংশ বা ৩ টাকা ৬০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬.৫৮ শতাংশ বেড়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর। এটির দরও কমে গিয়ে পরে বেড়েছে। বাজার সংশোধন শুরুর আগের দিন দাম ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। ১ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে এখন দাম ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪.৮০ শতাংশ বেড়েছে যমুনা ব্যাংকের দর। ২২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২৪ টাকা। তবে দাম একপর্যায়ে আরও বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছিল।

চতুর্থ সর্বোচ্চ ২.৮৬ শতাংশ বেড়েছে উত্তরা ব্যাংকের দর। ২৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা ১০ পয়সা।

এছাড়া পূবালী ব্যাংকের শেয়ার দর ২ শতাংশ বেড়ে ২৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা ৫০ পয়সা, ব্যাংক এশিয়ার দর ০.৯৪ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আল আরফাহ ইসলামী ব্যাংকের দর ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে ২৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে হয়েছে ২৬ টাকা ২০ পয়সা।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর উঠানামা করে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। সংশোধন শুরুর আগেও দাম ছিল ৩০ টাকা। এখনও তাই।

শেয়ার করুন

ঘুমন্ত স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগ

ঘুমন্ত স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগ

নলডাঙ্গায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজ্জাকের বাবা হামেদ আলী জানান, পুত্রবধূ সালমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাজ্জাকের সঙ্গে তার বিরোধ লেগে থাকত। রাজ্জাক প্রায়ই সালমার মারধরের শিকার হতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্জাককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নাটোরের নলডাঙ্গায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সালমা বেগমের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মোমিনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাজ্জাক উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে। তিনি মুদি দোকানদার ছিলেন।

রাজ্জাক হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সালমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে রাজ্জাকের বিরোধ চলে আসছিল। সালমা প্রায়ই রাজ্জাককে মারধর করতেন। একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে রাজ্জাক ঘুমিয়ে পড়লে সালমা তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন।

ওসি জানান, শনিবার সকালে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার এবং সালমাকে গ্রেপ্তার করে।

রাজ্জাকের বাবা হামেদ আলী জানান, পুত্রবধূ সালমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাজ্জাকের সঙ্গে তার বিরোধ লেগে থাকত। রাজ্জাক প্রায়ই সালমার মারধরের শিকার হতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্জাককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় হামেদ আলী বাদী হয়ে সালমাকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেছেন।

শেয়ার করুন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু রোববার, প্রস্তুত জগন্নাথ

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু রোববার, প্রস্তুত জগন্নাথ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস। ছবি: নিউজবাংলা

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ-ইউনিটভুক্ত ১০ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থীর আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। সকল শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে পারবে, সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’ ভর্তি পরীক্ষার দিন সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল।

প্রথম দিন ‘এ’ ইউনিটে মোট এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) এই ইউনিটে পরীক্ষা দেবেন মোট ১০ হাজার ৯১৫ জন পরীক্ষার্থী। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভর্তি পরীক্ষায় গ্রহণের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই নিজেদের আসন খুঁজে পায় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ডিজিটাল ব্যানারে রোল নম্বর, কেন্দ্র এবং ভবন নির্দেশক বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেয়ার জন্য সব ভবনের প্রবেশমুখে বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন। তারা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ-ইউনিটভুক্ত ১০ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থীর আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কোনো আসন বিন্যাস আমরা করবো না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধীনস্থ পোগোজ স্কুলে আমরা আসন বিন্যাস করবো। সকল শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে পারবে, সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’

ভর্তি পরীক্ষার দিন সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিএমপির কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছি, এছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ডিসি ওয়ারি, ডিসি লালবাগ, পুলিশের ডিসি ওয়ারি, ডিসি লালবাগ, এনএসআই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হয়। আর ট্রাফিকের সঙ্গে আলোচনা করছি যেন পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে আসা যাওয়া করতে পারে।’

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু রোববার, প্রস্তুত জগন্নাথ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

নিউজবাংলাকে ড. মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গেট এবং পোগোজের একটি গেট মোট পাঁচটি গেট দিয়েই শিক্ষার্থীরা প্রবেশ এবং বের হতে পারবেন এবং এসব গেটে পুলিশ পাহারায় থাকবে। যে যেই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে সুবিধা পাবে সে সেই গেট দিয়েই প্রবেশ করতে পারবে এবং বের হতে পারবে।’

পরীক্ষার উপকরণ ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস যেমন ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, মোবাইল বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, এটিএম কার্ড নিয়ে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেনা বলেও জানিয়েছেন প্রক্টর।

মেয়েদের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, যেসব মেয়েরা হিজাব পড়ে, তারা অন্তত পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে যেন কান বের করে রাখে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নানাবিধ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা একটা মহামারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সেজন্য শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মূল ফটক থেকে শুরু করে ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিকভাবেও মাস্ক, স্যানিটাইজার দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা সেগুলো ব্যবহার করবে। প্রতিটি বেঞ্চে একজন করে পরীক্ষার্থী বসানো হবে। পরীক্ষার্থীদের যেনো কোন ভোগান্তি না হয় সেজন্য আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

এর আগে জিএসটিভুক্ত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৭ অক্টোবর ‘এ’ ইউনিটে বিজ্ঞান, ২৪ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিটে মানবিক এবং ১ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিটে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে শিক্ষার্থীদের এ সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। এতে মোট ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর। তবে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না।

দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। আসন রয়েছে মোট ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছিলেন দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

গুচ্ছভুক্ত ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

বরিশালের গৌরনদীতে ফেসবুকে কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের মন্দির ও বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল।

বরিশালের গৌরনদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের তিনটি মন্দির ও কিছু বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল কাজিরপাড় গ্রামে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এসব হামলা হয়।

এ ঘটনায় ফেসবুকে কমেন্টকারী যুবক মহানন্দ বৈদ্যকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় লোকজন।

আটক মহানন্দ বৈদ্য কাজিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পবিত্র কোরআন নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করেন মহানন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি স্থানীয় কিছু মুসলমানের নজরে এলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসলিমরা মহানন্দকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে ওই রাতেই স্থানীয় কয়েকজন মিলে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরি মন্দির এবং জগদীশ বৈদ্যর বাড়ির হরি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ওই এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত বালা জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা মুসলমানদের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কোরআন শরিফ নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

প্রশান্ত বলেন, মন্তব্যকারী যে সম্প্রদায়েরই হোক, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

বড়লেখার দক্ষিণভাগ বাজারে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকার সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। একটি কুচক্রী মহল সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তবে তারা কোনো অবস্থাতেই সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বড়লেখা পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী অজিম উদ্দিন সরদার, নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম হেলাল উদ্দিনসহ অনেকে।

শেয়ার করুন