ট্রায়ালে ৯৫ ভাগ কার্যক্ষম টিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর

ট্রায়ালে ৯৫ ভাগ কার্যক্ষম টিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর

কার্যক্ষমতা আর কার্যকারিতা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে দুটি বিষয় এক নয়। এমনকি টিকা বিশেষজ্ঞরাও স্বীকার করেন দুটিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। কার্যক্ষমতা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পাওয়া একটা পরিমাপক মাত্র।

ফাইজার ও মর্ডানা দাবি করছে, তাদের করোনা টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর। অন্যদিকে, অক্সফোর্ডের টিকা ৭০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর বলা হচ্ছে।

কার্যকারিতার এই হার কী অর্থ বহন করে- সে বিষয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ। গত মাসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ফাইজার ও মডার্নার টিকার কার্যকারিতা নির্ধারণের পদ্ধতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর মানে এই নয় যে, বাস্তবে ১০০ জন টিকা গ্রহিতার মধ্যে ৯৫ জন করোনা থেকে সুরক্ষা পাবেন। বাস্তবে সুরক্ষা পাওয়া মানুষের হার অনেক কমও হতে পারে।

নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি বাংলায় ভাষান্তর করেছেন মেহরিন জাহান

করোনাভাইরাসকে হারানোর দৌড়ে এগিয়ে থাকা টিকাগুলো প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে। ফাইজার ও মডার্না এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তাদের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ কার্যকর। মডার্না তাদের কার্যক্ষমতার হার জানিয়েছে ৯৪.৫ শতাংশ। আর রাশিয়ার স্পুৎনিক টিকার উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের দাবি, তাদের টিকা ৯০ শতাংশেরও বেশি কার্যকর।

যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিকের টিকা গবেষক ডা. গ্রেগরি পোলান্ড যেমনটি বলছিলেন, ‘এরা সব হিসাব নিকাশই পাল্টে দিয়েছে। আমরা তো কেবল ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কার্যকারিতা আশা করেছিলাম।’

এমনকি দেশটির ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (এফডিএ) ঘোষণা দিয়েছিল, ৫০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখাতে পারলেই জরুরি ব্যবহারের জন্য টিকা অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

খবরের শিরোনাম দেখলে মনে হতেই পারে, এই টিকা পাওয়া প্রতি ১০০ জনের ৯৫ জনই করোনা থেকে সুরক্ষা পাবেন। তবে টিকাগুলোর ট্রায়ালের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া ফল আর বাস্তব এক নয়। বাস্তবে এসব টিকা কেমন কাজ করবে তা নির্ভর করছে এমন অনেক বিষয়ের ওপর, যেগুলো এখনো পরিষ্কার নয়- যেমন, টিকা দেয়া ব্যক্তি উপসর্গহীন করোনায় আক্রান্ত হবেন কি না অথবা কতজন টিকা পাবেন ইত্যাদি।

এখানে এসব টিকা আসলে কতটা কার্যকর- তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর- বলতে কোম্পানিগুলো আসলে কী বোঝায়?

টিকার ট্রায়ালের মৌলিক হিসাব-নিকাশগুলো দাঁড়িয়ে আছে এক শতকের বেশি আগে পরিসংখ্যানবিদদের বের করা হিসাবের ওপর। গবেষকেরা দুটি গ্রুপকে ট্রায়ালের আওতায় নেন- যাদের এক গ্রুপকে দেয়া হয় সত্যিকারের টিকা, আরেকটি গ্রুপকে টিকাসদৃশ প্লাসেবো। এরপর তারা স্বেচ্ছাসেবীদের অসুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন এবং কোন গ্রুপ থেকে কতজন আক্রান্ত হলেন- সেটি পর্যবেক্ষণ করেন।

যেমন, ফাইজার তাদের টিকার ট্রায়ালের জন্য ৪৩ হাজার ৬৬১ জন স্বেচ্ছাসেবীকে বেছে নিয়েছিল। তাদের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে আসা ১৭০ জনের মধ্যে পরে করোনা শনাক্ত হয়। এই ১৭০ জনের মধ্যে ১৬২ জনই ছিলেন প্লাসেবো গ্রুপের, অর্থাৎ তারা আসল টিকা পাননি। মাত্র আট জন আসল টিকা পাওয়ার পরেও আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন।

এই সংখ্যার ভিত্তিতে ফাইজারের গবেষকেরা দুই গ্রুপের স্বেচ্ছাসেবীদের অসুস্থ হওয়ার হার নির্ধারণ করেছেন। দুটি সংখ্যাই বেশ কম, তবে এর মধ্যে টিকা না পেয়ে আক্রান্ত হওয়ার হারটি টিকা পেয়ে আক্রান্তের হারের চেয়ে অনেক বেশি। এরপর গবেষকেরা দুই অংশের হারের আপেক্ষিক পার্থক্য বের করেছেন। এই পার্থক্যকে সংখ্যাগত মানে নির্ধারণ করা হয়, গবেষকেরা যাকে টিকার ‘এফিকেসি’ বা কার্যক্ষমতা বলেন। দুই গ্রুপে আক্রান্তের হার যদি একই হয়, তাহলে এফিকেসি হবে শূন্য। আবার আক্রান্ত ব্যক্তিদের কেউই যদি টিকা না পেয়ে থাকতেন, অর্থাৎ তারা সবাই যদি প্লাসেবো গ্রুপের হতেন, তাহলে টিকার এফিকেসি হতো ১০০ শতাংশ।

এভাবে ৯৫ শতাংশ কার্যক্ষম হওয়ার হিসাবটি বেশ শক্ত একটি প্রমাণ যে, টিকা ভালোভাবেই কাজ করছে। তবে এই টিকা নেয়ার পরেও অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু- তা কিন্তু ওই সংখ্যা দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না। এমনকি টিকা কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমাতে কতটা ভালোভাবে কার্যকর হবে তাও বলা যায় না।

কার্যক্ষমতা (এফিকেসি) ও কার্যকারিতার (ইফেক্টিভনেস) ফারাক

কার্যক্ষমতা আর কার্যকারিতা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে দুটি বিষয় এক নয়। এমনকি টিকা বিশেষজ্ঞরাও স্বীকার করেন দুটিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। কার্যক্ষমতা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পাওয়া একটা পরিমাপক মাত্র। অন্যদিকে, জনস হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ নাওয়ার বার-জিভের মতে, ‘কার্যকারিতা নির্ভর করে বাস্তব প্রয়োগে টিকা কতটা কাজ করছে তার ওপর।’

এটা হতে পারে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কার্যক্ষমতা টিকার বাস্তব কার্যকারিতার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাবে। তবে আগে বিভিন্ন রোগের টিকার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চেয়ে বাস্তব কার্যকারিতা বেশ কম।

ট্রায়াল আর বাস্তবের এই গড়মিলের কারণ হচ্ছে, ট্রায়ালে অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবীরা বড় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না। যেমন, বাস্তবে অনেকেরই নানা গুরুতর রোগ থাকে, যেগুলো শরীরে টিকার সুরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সবসময়ই অনুমোদন পাওয়া টিকার কার্যকারিতার ওপর নজরদারি বজায় রাখে। সংস্থাটি সম্প্রতি জানিয়েছে, করোনার টিকাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও তারা গবেষণা অব্যাহত রাখবে। এর ফলে টিকা পাওয়া ও না পাওয়া মানুষের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হবে।

এই টিকাগুলো আসলে কী করতে সক্ষম?

ফাইজার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এমনভাবে সাজিয়েছিল যেখানে দেখা হয়েছে, টিকা মানুষকে করোনা আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে পারে কিনা। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে জ্বর বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা গেলেই কেবল তাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

কিন্তু এমন অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেসব ক্ষেত্রে দেখা গেছে কোনো উপসর্গ ছাড়াই করোনা সংক্রমণ ঘটতে পারে। ফলে এটা হতেই পারে যে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেয়া আরও অনেকে টিকা পাওয়ার পরেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, কিন্তু উপসর্গ না থাকায় তা জানা যায়নি। আর এমন ঘটে থাকলে তাদের কেউ ওই ৯৫ শতাংশ কার্যক্ষমতার হিসাব নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হননি।

উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তরা অজান্তেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ান। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, উপসর্গহীনদের দেহে কম সংখ্যক ভাইরাস তৈরি হয়। এ কারণে তাদের কাছ থেকে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম, যেটা উপসর্গসহ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বেশি। কিন্তু টিকা নেয়ার পর নিজেকে সুরক্ষিত ভেবে মানুষ যদি মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায় তাহলে উপসর্গহীনদের কাছ থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।

ডা. বার জিভের আশঙ্কা, ‘এ রকম ধোয়াশাপূর্ণ অবস্থায় পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।’

এই টিকা কি আসলেই করোনা মহামারিতে লাগাম পরাবে?

টিকা শুধু গ্রহিতাকেই সুরক্ষা দেয় তা নয়, এটি ভাইরাস বিস্তারের গতিও কমায়। এভাবে ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার কমিয়ে আনে ও গোটা অঞ্চলকেই এক সময়ে সুরক্ষিত করে ফেলে।

বিজ্ঞানীরা বড় পরিসরে এমন কার্যকারিতাকেই টিকার সামগ্রিক প্রভাব হিসেবে গণ্য করেন। গুটি বসন্তের টিকার ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যাপক প্রভাব দেখা গিয়েছিল, যে কারণে ১৯৭০ এর দশকে ভাইরাসটি একদম হারিয়ে যায়। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে উচ্চ কার্যক্ষমতা দেখানো টিকাও বাস্তবে ততটা ভালো ফল দিতে নাও পারে, যদি সেটি অল্প কিছু মানুষে প্রয়োগ করা হয়।

ইয়েল স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এ. ডেভিড পালটিয়েল যেমনটি বলছিলেন, ‘টিকা কখনও প্রাণ বাঁচায় না, প্রাণ বাঁচে টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে।’

অধ্যাপক পালটিয়েল ও তার দল হেলথ অ্যাফেয়ার্স জার্নালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সেখানে তারা কার্যক্ষমতার হিসাবে উচ্চ থেকে নিম্ন মাত্রার টিকাগুলোর একটি মডেল দেখিয়েছেন। পাশাপাশি তারা করোনার এই বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে কত দ্রুত ও বড় পরিসরে টিকাগুলো সরবরাহ হবে সে বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছেন।

অধ্যাপক পালটিয়েল বলছেন, তাদের গবেষণার ফল উদ্বেগজনক। তিনি এবং তার সহকর্মীরা দেখিয়েছেন, সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু হার কমানোর ক্ষেত্রে টিকার কার্যক্ষমতা ততটুকুই হবে, যতটুকু টিকাদান কমসূচি চলবে।

অধ্যাপক পালটিয়েল সতর্ক করে বলছেন, ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য টিকার চেয়ে টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনাই বড় ভূমিকা রাখবে।’

আরও পড়ুন:
টিকা পেতে সিরামকে টাকা পাঠাল বেক্সিমকো
করোনার নতুন ধরনে টিকা কাজ নাও করতে পারে
টিকার জন্য ‘দেশবাসীকে গিনিপিগ বানাবে না সরকার’
অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ
টিকা: সিরামের এখন উল্টো সুর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাথর ছুড়ে হত্যার ভিডিওটি কাদের

পাথর ছুড়ে হত্যার ভিডিওটি কাদের

তালেবান সম্প্রতি কাউকে পাথর ছুড়ে মারেনি বলে উঠে এসেছে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে। ছবি: সংগৃহীত

এএফডব্লিউএ ভাইরাল ভিডিওটির রিভার্স সার্চিং কিফ্রেম ব্যবহার করে দেখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী ২০১৮ সালে এটি ছড়িয়েছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যাওয়ার পর থেকে সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ উঠতে থাকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তালেবানের বিরুদ্ধে পাথর ছুড়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

ভিডিওর ক্যাপশনে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘সতর্কতা-অতি সংবেদনশীল। যারা তালেবানের বদল যাওয়ার কথা বলছেন, তারা আফগানিস্তানে এক ব্যক্তিকে পাথর ছুড়ে মারার ভয়াবহ ফুটেজটি দেখুন। তাদেরই (তালেবান) তোষণ করে যাচ্ছে (জো) বাইডেন প্রশাসন।’

ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ)।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া ফুটেজটি ২০১৮ সালের। ওই ভিডিওর ব্যক্তিটির বয়স ৬০ বছর, যাকে পাথর মেরে হত্যা করে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

এএফডব্লিউএ ভাইরাল ভিডিওটির রিভার্স সার্চিং কিফ্রেম ব্যবহার করে দেখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী ২০১৮ সালে এটি ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে ফার্সি ভাষায় ক্যাপশনে একজন লেখেন, ‘আফগানিস্তানে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পাথর ছুড়ে মারছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা।’

ওই ক্যাপশন থেকে ক্লু পেয়ে ফার্সি ভাষায় কিছু কিওয়ার্ড সার্চ শুরু করে এএফডব্লিউএ। এসব কিওয়ার্ডের মাধ্যমে ফার্সি ভাষার সংবাদমাধ্যমে পাথর মেরে হত্যা সংক্রান্ত খবর খুঁজে পাওয়া যায়।

এসব খবরে জানানো হয়, পাথর ছুড়ে হত্যার এ আয়োজন করা হয় আফগানিস্তানের জওজান প্রদেশের দারজাব জেলায়। সেখানে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, দারজাব জেলার মঙ্গল গ্রামে বাড়ি ওই বৃদ্ধের। জানাজা ছাড়াই তার দাফন হয়।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির দিককার। ওই প্রতিবেদনসহ অন্য কিছু খবরের আলোকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজটি কিছুদিন আগের কিংবা তালেবান সংশ্লিষ্ট নয়।

আরও পড়ুন:
টিকা পেতে সিরামকে টাকা পাঠাল বেক্সিমকো
করোনার নতুন ধরনে টিকা কাজ নাও করতে পারে
টিকার জন্য ‘দেশবাসীকে গিনিপিগ বানাবে না সরকার’
অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ
টিকা: সিরামের এখন উল্টো সুর

শেয়ার করুন

৪ শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ‘বানানো’  

৪ শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ‘বানানো’  

মেঘনা নদী থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে নেয়া হয়।

মিথ্যা অভিযোগ করার কারণ হিসেবে শিশুরা জানায়, লঞ্চে প্রায়ই যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় অপরাধী চক্র। পুলিশ যাতে তাদেরকে এ ধরনের কোনো চক্রের সদস্য না ভাবে সে জন্যই শাকিব মিথ্যা কথা বলতে প্ররোচিত করেছিল।

ভাড়া না থাকায় লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে চার শিশুকে ফেলা দেয়ার একটি অভিযোগ পুলিশের বরাতে সম্প্রতি প্রকাশিত হয় সংবাদ মাধ্যমে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট লঞ্চ কর্মীদের বিরুদ্ধে রোববার হত্যাচেষ্টা মামলাও করেছে পুলিশ।

তবে ওই শিশুরা এখন বলছে, পুলিশের কাছে মিথ্যা বলেছিল তারা। তাদেরই এক সঙ্গী পুলিশের কাছে মিথ্যা বলতে বাকিদের প্ররোচিত করেছিল।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দিন শনিবার সাংবাদিকদের জানান, সেদিন বেলা ১১টার দিকে স্পিডবোটে মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় দুই শিশুর চিৎকার শুনে তাদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে নিয়ে যায় পুলিশ।

শিশুরা পুলিশকে জানায়, তারা লঞ্চে পানি বিক্রি করে। এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চে তারা ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাচ্ছিল। ভাড়া না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাদের লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়।

এর এক দিন পর মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শনিবার দুটি নয়, চারটি শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছিল। দুই শিশুর বাড়ি নোয়াখালীতে এবং বাকিদের গাইবান্ধা ও কুমিল্লায়।

ওই দিনই মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চের সব স্টাফকে আসামি করে মামলা করেন লুৎফর রহমান।

তবে চার শিশুর মধ্যে তিন জন এখন বলছে, নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা। নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা শিশু মেহেদুল এবং সাঁতরে তীরে ওঠা দুই শিশু সিয়াম ও তরিকুলের দাবি, তারা ইচ্ছা করেই লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা এর আগেও তারা ঘটিয়েছে।

৪ শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ‘বানানো’

নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পর সিয়াম ও তরিকুল সাঁতার কেটে তীরে ওঠে। তবে ভাসমান অবস্থায় মেহেদুল ও শাকিব নামের দুই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বিষয়টি লুকাতে পুলিশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে শাকিব।

মিথ্যা বলার কারণ কী- এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদুল, সিয়াম ও তরিকুল জানায়, লঞ্চে প্রায়ই যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় অপরাধী চক্র। পুলিশ যাতে তাদেরকে এ ধরনের কোনো চক্রের সদস্য না ভাবে সে জন্যই শাকিব মিথ্যা কথা বলতে প্ররোচিত করেছিল।

মেহেদুল, সিয়াম ও তরিকুল সোমবার রাতে একটি ভিডিও অকপটে বিষয়টি স্বীকার করে। তবে আরেক শিশু শাকিব কোথায় আছে তা জানা যায়নি।

গজারিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মেহেদুল জানায়, নদীতে ভাসমান অবস্থায় পুলিশকে দেখতে পায় শাকিব। এরপর সে লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়ার ‘গল্প’ শিখিয়ে দেয়। পুলিশ তাদের উদ্ধার করলে শাকিব নিজেই পুলিশের কাছে এই মিথ্য অভিযোগটি করে।

অন্য দুই শিশু জানায়, সদরঘাট থেকে তারা লঞ্চে উঠেছিল। সেখান থেকে মুন্সিগঞ্জ ঘাটের কাছে পৌঁছে মাঝ নদীতে যাত্রী উঠা-নামায় নিয়োজিত ট্রলারে করে তীরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে মুন্সিগঞ্জে ট্রলার চালকেরা তাদের নামতে দেন। এরপর পরে চাঁদপুরের অভিমুখে চলতে থাকা লঞ্চ থেকে সঙ্গীদের নদীতে লাফ দিতে বলে শাকিব। এক পর্যায়ে সে তরিকুলকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। এরপর একে একে সবাই নদীতে ঝাঁপ দেয়।

পরে সিয়াম ও তরিকুল সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ভাসতে থাকে মেহেদুল ও শাকিব। তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

ভিডিওতে শিশুরা জানায়, লঞ্চের স্টাফ ও পুলিশ কেউ তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেনি। এমভি ইমাম হাসান-৫ লঞ্চের মাস্টার দেলোয়ার হোসেনসহ অন্য কর্মীরাও লঞ্চ থেকে শিশুদের ফেলে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে নৌ-পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুটি শিশুকে উদ্ধার করেন নদী থেকে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে আমাদের মুক্তারপুর নৌ পুলিশের আইসি বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।’

তিনি বলেন, ‘উদ্ধার করা দুই শিশু বলেছিল, তাদের লঞ্চ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। এজন্য আমাদের মামলা করতে হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। যদি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের ফেলে না দেয় এবং শিশুরা যদি নিজেরাই ঝাঁপ দিয়ে থাকে তাহলে তদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
টিকা পেতে সিরামকে টাকা পাঠাল বেক্সিমকো
করোনার নতুন ধরনে টিকা কাজ নাও করতে পারে
টিকার জন্য ‘দেশবাসীকে গিনিপিগ বানাবে না সরকার’
অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ
টিকা: সিরামের এখন উল্টো সুর

শেয়ার করুন

তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?

তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?

২০১৯ সালে পাকিস্তানে সাপের কামড়ে লুবনার মৃত্যু হয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

লুবনার মৃত্যু ঘিরে পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। জাস্টিস ফর লুবনা হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের মুখে খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পাকিস্তান সরকার।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত মাসে ঘিরে ফেলার একপর্যায়ে পুরো দেশের দখল নিয়ে নেয় তালেবান।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের কয়েক সপ্তাহ পর ৩৩ জনকে নিয়ে সংগঠনটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর বিভিন্ন সময়ে তালেবান নেতারা অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশেষ করে নারী প্রতিনিধিসহ মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বললেও আদতে তা হয়নি।

ওই ৩৩ জনের মধ্যে নারী বা জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধিই নেই।

মন্ত্রিসভায় নারীর উপস্থিতি না দেখে কাবুলে বিক্ষোভও করেন আফগান নারীরা। পাশাপাশি নারী অধিকারের দাবিতে তারা রাস্তায়ও নামেন।

তালেবানের আগের শাসনামলে নারী অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মস্থলে যাওয়ার অনুমতি ওই শাসনামলে নারীদের ছিল না।

অধিকারের দাবিতে আফগান নারীদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন করে তালেবান, ছোড়া হয় গুলি। এ ছাড়া বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের ‘অপরাধে’ নির্যাতনের শিকার হন সাংবাদিকরা।

কারাগারে বন্দি রেখে স্থানীয় দুই সাংবাদিককে নির্মমভাবে পেটানোর খবর প্রকাশ হয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে এক শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়, ঝলমলে পোশাক পরিহিত নিষ্প্রাণ পড়ে থাকা আফগান শিশুটিকে তালেবানের যোদ্ধারা হত্যা করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ছবিটি পোস্ট করে শিরোনামে লিখেছেন, ‘ছবিটি দেখে আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে।

‘ছোট্ট এই পরীটি কী এমন কাজ করেছে, যার জন্য তাকে প্রাণ দিতে হলো? তালেবান ও তাদের সমর্থকদের ধিক্কার জানাই!’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ছবিটির দাবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে।

জানা যায়, ছবিটি ছয় বছর বয়সী লুবনার। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সাপের কামড়ে তার মৃত্য হয়।

পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহমান্দ জেলার ইয়াক্কাঘুন্দ তেহসিল শহরের মেয়ে লুবনা।

সাপের কামড়ে অচেতন লুবনাকে স্থানীয় শাবকাদার হাসপাতালে নেয়া হয়।

তবে হাসপাতালে সাপের বিষ প্রতিরোধী ইঞ্জেকশন না থাকায় চিকিৎসকরা লুবনাকে পেশোয়ারের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

পেশোয়ারে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় লুবনার।

হাসপাতালে ওষুধপত্রের অভাবে মেয়ের মৃত্যু হয়, এ অভিযোগ করেছিলেন লুবনার বাবা।

পেশোয়ারে যেতে হাসপাতাল থেকে যে অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছিল, তাতে অক্সিজেন কিট ছিল না বলেও অভিযোগ লুবনার বাবার।

লুবনার মৃত্যু ঘিরে পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। জাস্টিস ফর লুবনা হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়।

পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের মুখে খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পাকিস্তান সরকার।

দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফের এসে তালেবান এরই মধ্যে দমনমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও লুবনার মৃত্যুর জন্য সংগঠনটি দায়ী নয়।

আরও পড়ুন:
টিকা পেতে সিরামকে টাকা পাঠাল বেক্সিমকো
করোনার নতুন ধরনে টিকা কাজ নাও করতে পারে
টিকার জন্য ‘দেশবাসীকে গিনিপিগ বানাবে না সরকার’
অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ
টিকা: সিরামের এখন উল্টো সুর

শেয়ার করুন

দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?

দিল্লিতে বিমান ঠেলে সরানো হয়েছিল?

ভাইরাল এই ছবি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

চীনা এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে ইয়ানতাই বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি ফ্লাইট দেরি করে ছাড়ে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শনিবার ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়।

ভারী বর্ষণের কারণে রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অনেক অঞ্চলে বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দিল্লিতে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়েছে, দিল্লি বিমানবন্দরে জলাবদ্ধতার কারণে একটি বিমান ঠেলছেন যাত্রীরা।

টুইটারে একজন ছবিটি পোস্ট করে শিরোনামে লিখেছেন, ‘ভারী বর্ষণের কবলে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘দিল্লিতে বৃষ্টি। বিমানবন্দরে যাত্রীদের উদ্দীপনা।’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এডব্লিউএফএ) ভাইরাল ছবিটির দাবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে।

এতে জানা যায়, ছবিটি দিল্লি বিমানবন্দরের নয়। ২০০৭ সালে ছবিটি চীনের শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই বিমানবন্দর থেকে তোলা হয়েছিল। শানডং এয়ারলাইনসের একটি বিমান বিমানবন্দরটির কর্মীরা ঠেলছিলেন।

২০০৭ সালের ১৪ আগস্ট একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই বিমানবন্দরে ছবিটি তোলা হয়।

জলাবদ্ধ রানওয়ে থেকে শানডং বোম্বার্ডিয়ার সিআরজে-২০০ বিমানকর্মীরা ঠেলে সরাচ্ছেন।

চীনা এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে ইয়ানতাই বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি ফ্লাইট দেরি করে ছাড়ে।

বিমানবন্দরটির ২০ জনের বেশি কর্মী বিমানটি ঠেলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

শনিবার দিল্লিতে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ছবি বা ভিডিও খুঁটিয়ে দেখে ইন্ডিয়া টুডের ফ্যাক্টচেক দল।

ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টারমিনাল জলাবদ্ধ হওয়ার একটি ভিডিওরও খোঁজ পায় দলটি।

বৃষ্টিপাতের কারণে বিমানবন্দরটির রানওয়ে যে জলাবদ্ধ হয়, তা ওই ভিডিওতে পরিষ্কার বোঝা যায়।

এটা ঠিক, শনিবার ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতা দেখেন দিল্লিবাসী।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ছবিটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয়।

১৪ বছর আগে চীনের ইয়ানতাই বিমানবন্দর থেকে ওই ছবি তোলা হয়।

আরও পড়ুন:
টিকা পেতে সিরামকে টাকা পাঠাল বেক্সিমকো
করোনার নতুন ধরনে টিকা কাজ নাও করতে পারে
টিকার জন্য ‘দেশবাসীকে গিনিপিগ বানাবে না সরকার’
অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ
টিকা: সিরামের এখন উল্টো সুর

শেয়ার করুন

ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?

ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?

এই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস নন। ছবি: সংগৃহীত

অনুসন্ধান শেষে রয়টার্সের ফ্যাক্ট চেক দল এ সিদ্ধান্তে আসে, অফিস ডেস্কে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা ওই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস নন।

অফিস ডেস্কে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা এক ব্যক্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে দাবি করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস।

ফেসবুকে একজন ছবিটি শেয়ার করে শিরোনামে লিখেছেন, ‘আফগান সেন্ট্রাল ব্যাংকের নতুন গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিসকে দেখুন।

‘আফগানিস্তানের মুদ্রা অভিনব পন্থায় সুরক্ষিত রাখবেন তিনি।’

টুইটারে আরেকজন ছবিটি শেয়ার করে বলেন, ‘ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রধান।

‘কী মনে হয়? গভর্নর পদে হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস অল্প সময় নাকি দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকবেন?’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফ্যাক্ট চেক দল ভাইরাল ছবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে।

এতে জানা যায়, ২৩ আগস্ট আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিসের নাম ঘোষণা করে তালেবান। তবে ভাইরাল ছবিটি ইদ্রিসের নয়।

১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুল পতনের এক সপ্তাহ পর নতুন সরকারের কয়েক মন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নামও ঘোষণা করে তালেবান।

তুরস্কের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম আফগানিস্তানের নতুন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইদ্রিসের ছবি সে সময় ছাপায়।

এ ছাড়া আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে নতুন গভর্নরের ছবি প্রকাশ করে।

টেবিলে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত গভর্নর ইদ্রিসের ছবির কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

ইনি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর?

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস। ছবি: সংগৃহীত

ভারতভিত্তিক ফ্যাক্ট চেকার ব্লুম লাইভও ভুলভাবে উপস্থাপিত ইদ্রিসের ছবি নিয়ে প্রতিবেদন করে।

অফিস ডেস্কে বন্দুক রাখা ব্যক্তিটি আসলে কে, তা জানতে পারেনি রয়টার্সের ফ্যাক্ট চেক দল।

তবে ভাইরাল ছবির পেছনে ঝোলানো পতাকাটি আফগানিস্তানের রাজস্ব অধিদপ্তরের, এটি নিশ্চিত হয়েছে রয়টার্স।

১৭ আগস্টের দিকে ডেস্কে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা ব্যক্তির ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শুরু করে।

অনুসন্ধান শেষে রয়টার্সের ফ্যাক্ট চেক দল এ সিদ্ধান্তে আসে, অফিস ডেস্কে বন্দুক রেখে ল্যাপটপে কাজ করা ওই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস নন।

আরও পড়ুন:
টিকা পেতে সিরামকে টাকা পাঠাল বেক্সিমকো
করোনার নতুন ধরনে টিকা কাজ নাও করতে পারে
টিকার জন্য ‘দেশবাসীকে গিনিপিগ বানাবে না সরকার’
অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ
টিকা: সিরামের এখন উল্টো সুর

শেয়ার করুন

করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

করাচিতে চলছে টিকাদান কর্মসূচি। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানি ওই পত্রিকায় দাবি করা হয়, করোনার টিকার কারণে এক হাজারের বেশি ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এটি নেয়ার পর ভারতের ৩০ হাজার মানুষ দুঃসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। পরিসংখ্যানটি ভারতভিত্তিক পত্রিকা দ্য হিন্দুস্তান টাইমস থেকে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে হিন্দুস্তান টাইমসের ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো খবর বা নিবন্ধ পাওয়া যায়নি।

করোনাভাইরাসের চতুর্থ ধাক্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।

পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, শুক্রবার পাকিস্তানে ৩ হাজার ৬৮৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। আর এতে মৃত্যু হয় ৮৩ জনের।

গত বছর করোনা দেশটিতে আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৭ জন এতে আক্রান্ত হয়। মৃত্যু হয় ২৬ হাজার ৫৮০ জনের।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার। জনগণকে টিকা নিতে উৎসাহিতও করা হচ্ছে।

তবে সম্প্রতি দেশটির উর্দুভাষী একটি স্থানীয় পত্রিকা তাদের এক নিবন্ধে করোনা টিকার ‘ক্ষতিকর প্রভাবের’ বেশ কয়েকটি দাবি করে।

নাম না জানা ওই পত্রিকায় ছাপানো নিবন্ধটির স্ক্রিনশট এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সব দাবির কোনোটিই সঠিক নয়।

নিবন্ধটিতে প্রথমে দাবি করা হয়, করোনা টিকা নেয়ার পর চার হাজার ব্রিটিশ নারীর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেছে। ওই নারীদের জৈবিক কার্যক্রম টিকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

করোনা টিকার এই ‘ক্ষতিকর প্রভাব’ জুনে ডেইলি মেইলে প্রকাশ করা হয়েছিল।

করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নিবন্ধের স্ক্রিনশট। ছবি: এএফপি

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনা টিকা নেয়ার পর প্রায় চার হাজার নারী পিরিয়ডে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা টিকার সঙ্গে পিরিয়ডে সমস্যার যোগসূত্র পাননি।

আগস্টে যুক্তরাজ্যের মেডিসিন্স অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘করোনা টিকা নেয়ার পর পিরিয়ডে সমস্যার কথা জানানো হয়।

‘এর পরই বেশ কয়েকবার টিকার মূল্যায়ন হয়। তবে করোনার উপসর্গ বা টিকার সঙ্গে পিরিয়ডে জটিলতার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।’

এ ছাড়া পাকিস্তানি ওই পত্রিকায় দাবি করা হয়, করোনা টিকার কারণে এক হাজারের বেশি ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এটি নেয়ার পর ভারতের ৩০ হাজার মানুষ দুঃসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।

পরিসংখ্যানটি ভারতভিত্তিক পত্রিকা দ্য হিন্দুস্তান টাইমস থেকে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে হিন্দুস্তান টাইমসের ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো খবর বা নিবন্ধ পাওয়া যায়নি।

হিন্দুস্তান টাইমসও এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি নাকচ করেছে।

পত্রিকাটির সম্পাদক সুকুমার রঙ্গনাথন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন আমরা ছাপাইনি।

‘কারণ টিকা নেয়ায় এক হাজারের বেশি ভারতীয়র মৃত্যুর ভীতিজনক পরিসংখ্যান কোনোভাবেই সঠিক নয়।’

পাকিস্তানি ওই পত্রিকার নিবন্ধে আরও দাবি করা হয়, করোনার টিকা নেয়ার পর তরুণদের হৃৎপিণ্ডে সমস্যা দেখা দেয়।

এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন উল্লেখ করে পত্রিকাটি।

করোনা টিকা নেয়ার পর তরুণদের হৃৎপিণ্ডের পেশি ও মেমব্রেনে ব্যথা হতে পারে বলে জানিয়েছিল সিডিসি।

তবে সিডিসি এও জানায়, এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল। করোনা টিকার সঙ্গে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কার্যকারণ-সম্পর্কিত যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
টিকা পেতে সিরামকে টাকা পাঠাল বেক্সিমকো
করোনার নতুন ধরনে টিকা কাজ নাও করতে পারে
টিকার জন্য ‘দেশবাসীকে গিনিপিগ বানাবে না সরকার’
অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ
টিকা: সিরামের এখন উল্টো সুর

শেয়ার করুন

ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

ইসরায়েলে জোর করে টিকা দেয়া হয়?

২৪ জুলাই সিডনিতে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: এএফপি

ভাইরাল ভিডিওটির দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছে এএফপির ফ্যাক্টচেক দল। তাদের ভাষ্য, ভাইরাল ভিডিওটি ইসরায়েলের নয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

পার্কের ভেতর পুলিশ একদল মানুষকে তাড়া করছে এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে বলা হয়, জনগণকে জোর করে টিকা দেয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ।

ভাইরাল ভিডিওটির শিরোনামে লেখা, ‘ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ জোর করে টিকা দিতে চাইছিল। পুলিশ ওই সময় কয়েকজনকে তাড়াও করে।’

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পার্কের ভেতরে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে তাড়া করার একপর্যায়ে তাদের ধরে মাটিতে চেপে ধরছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

ভিডিও ফুটেজের গায়ে লেখা, ‘টিকা না নেয়া ইসরায়েলিদের মোবাইল টাস্ক ইউনিট জোর করে টিকা দিতে চাইছে।’

ভাইরাল ভিডিওটির এ দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্টচেক দল।

তাদের ভাষ্য, ভাইরাল ভিডিওটি ইসরায়েলের নয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ব্র্যান্ড নিউ টিউবে ২৪ জুলাই ওই একই ভিডিও পোস্ট করা হয়।

এটির শিরোনামে লেখা ছিল, ‘অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পুলিশের আরও নিষ্ঠুরতা।’

ভিডিওটির ২৩ সেকেন্ডে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘সিডনির ব্রডওয়ে এলাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে বলছি। এখানে বিক্ষোভ এখনো শুরু হয়নি।’

গুগল স্ট্রিট ভিউতে সার্চ দেয়ার পর ভিক্টোরিয়া পার্কের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির পার্কের মিল পাওযা যায়।

২৪ জুলাই ইউটিউবে পোস্ট করা অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, ভিক্টোরিয়া পার্কে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়াজুড়ে রাজধানী শহরগুলোতে লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এ পদক্ষেপ নেয় দেশটির সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সিডনির ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে টাউন হল পর্যন্ত হাজার হাজার মাস্ক না পরা ক্ষুব্ধ মানুষ সরকারঘোষিত লকডাউনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘২৪ জুলাই ব্রডওয়ে এলাকার ভিক্টোরিয়া পার্কে লকডাউনবিরোধী কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।’

এবিসি নিউজ, সিডনি মর্নিং হেরাল্ডসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও একই খবর ছাপায়।

আরও পড়ুন:
টিকা পেতে সিরামকে টাকা পাঠাল বেক্সিমকো
করোনার নতুন ধরনে টিকা কাজ নাও করতে পারে
টিকার জন্য ‘দেশবাসীকে গিনিপিগ বানাবে না সরকার’
অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ
টিকা: সিরামের এখন উল্টো সুর

শেয়ার করুন