নতুন ধরনের করোনা দক্ষিণ কোরিয়াতেও

নতুন ধরনের করোনা দক্ষিণ কোরিয়াতেও

করোনা শনাক্ত হওয়া ওই তিন ব্যক্তি লন্ডনভিত্তিক এক পরিবারের সদস্য। ২২ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় তিন জনের দেহে পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাস।

দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কোরিয়া ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, করোনা শনাক্ত হওয়া ওই তিন ব্যক্তি লন্ডনভিত্তিক এক পরিবারের সদস্য। ২২ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছার পর তাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়। ফল পজিটিভ এলে ওই তিন জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়।

চলতি মাসের শুরুতে করোনার এই নতুন ধরন যুক্তরাজ্যে ধরা পড়ে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এ ধরনটি শনাক্ত হয়েছে এশিয়ার জর্ডান, জাপান, উত্তর আমেরিকার কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে।

করোনার এ ধরনটি আগের চেয়ে আরও বেশি সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের ওপর ৫০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

এ দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াও আছে। চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে দেশটিতে বিমান আসা বন্ধ রাখা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যফেরত দক্ষিণ কোরিয়ার এক বয়স্ক ব্যক্তির দেহে মৃত্যুর পর করোনা শনাক্ত হয়। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন।

করোনার তৃতীয় ধাক্কায় পর্যুদস্ত দক্ষিণ কোরিয়া। কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সত্ত্বেও চলতি মাসে বেশ কয়েক বার রাজধানী সিওলে করোনায় শনাক্তের দৈনিক সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়।

পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় সোমবার পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৬৮০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। রোগে মৃত্যু হয়েছে ৮১৯ জনের।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উৎপাদন বাড়াচ্ছি, বাংলাদেশ টিকা পাবে: দোরাইস্বামী

উৎপাদন বাড়াচ্ছি, বাংলাদেশ টিকা পাবে: দোরাইস্বামী

ভারতে চারদিন ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় ভ্যাকসিনের বিষয়ে কথা বলেন বিক্রম দোরাইস্বামী। ছবি: নিউজবাংলা

দোরাইস্বামী জানান, করোনা মহামারির কারণে দুই দেশ খারাপ সময় পার করছে। এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত আছে। ভ্যাকসিনের জন্য দুই দেশের সম্পর্কে ভাটা পড়বে না।

ভারত থেকে করোনাভারাসের টিকার নতুন চালান আসা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে ভারত নিজেই ভ্যাকসিন সংকটে আছে। তবে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, শিগগিরই বাংলাদেশে ভ্যাকসিন রপ্তানি করা হবে।’

ভারতে চারদিন ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় বৃহস্পতিবার আখাউড়া স্থলবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

দোরাইস্বামী বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে দুই দেশ খারাপ সময় পার করছে। এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত আছে। ভ্যাকসিনের জন্য দুই দেশের সম্পর্কে ভাটা পড়বে না।’

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ কারণে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বেশি ভ্যাকসিন সরবরাহের চুক্তি আছে। চুক্তি অনুযায়ী ৭০ লাখ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি টিকা ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করা হবে।

ভারতীয় হাই কমিশনারকে দুই দেশের শূন্যরেখায় স্বাগত জানান আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরে এ আলম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

গত ১৮ মার্চ আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন দোরাইস্বামী।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে ৩ কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে গত বছর নভেম্বরে চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তির আওতায় দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে।

ভারত সরকারের দুই দফা উপহারের ৩২ লাখ ডোজ মিলে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ মানুষ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার জন্য ৪২ লাখ টিকা রাখা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভারত নিজস্ব চাহিদার কথা বিবেচনা করে সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকার রপ্তানি গত ২৪ মার্চ স্থগিত করে।

কোভ্যাক্সের আওতায় ১৮০টি দেশও সিরাম উৎপাদিত টিকা পাবে, কিন্তু রপ্তানি স্থগিত হওয়ায় এসব দেশও টিকা পাচ্ছে না।

শেয়ার করুন

করোনা টিকার প্রভাব ঋতুস্রাবে?

করোনা টিকার প্রভাব ঋতুস্রাবে?

বাহরাইনে করোনার টিকা নিচ্ছেন এক নারী। ছবি: এএফপি

নারীদের ঋতুস্রাবে করোনা টিকার প্রভাব নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন গবেষণা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, টিকা নেয়ার ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরে চাপ তৈরি হয়। এ কারণে ঋতুস্রাবের ওপরেও টিকার প্রভাব থাকতে পারে।

করোনার টিকা নেয়ার পর নারীদের ঋতুস্রাব (মাসিক) অনিয়মিত হয়ে পড়ছে কি না সেটি জানতে অনলাইনে একটি জরিপ চালাচ্ছেন দুই নারী গবেষক। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার নারী এই জরিপে অংশ নিয়েছেন।

এ বছরের শুরুতে করোনার টিকা নেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়িসের সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্যাথরিন ক্ল্যান্সি এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষক ড. ক্যাথেরিন লি।

দুই গবেষকই টিকা নেয়ার নারীদের মাসিক ঋতুচক্রে সাময়িক পরিবর্তন খেয়াল করেছেন। দেখা গেছে, ঋতুস্রাব স্বাভাবিক সময়ের আগে শুরু হচ্ছে অথবা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে হচ্ছে। আবার কখনো এটি অনিয়মিতও ঘটছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি নিয়ে প্রথম টুইট করেন ক্ল্যান্সি। তিনি লিখেন, ‘টিকা নেয়ার পর আর কেউ কি তাদের ঋতুস্রাবে পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?’

ঋতুস্রাবের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্রয়োজন পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন ক্ল্যান্সি।

তার ওই টুইটে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ লাইক দেন। টুইটবার্তার উত্তরে অনেক নারী জানান, তারা নিজেরাও ঋতুস্রাবে অস্বাভাবিক পরিবর্তন খেয়াল করছেন।

পরে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক জরিপ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন ক্ল্যান্সি ও লি।

৭ এপ্রিল তারা জরিপের একটি লিংক টুইটারে পোস্ট করেন, যেখানে নারীরা টিকা নেয়ার পর তাদের ঋতুস্রাব সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা জানাতে পারবেন।

শিকাগো ট্রিব্রিউনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লি জানান, সোমবার পর্যন্ত অনলাইন জরিপটিতে প্রায় ২৫ হাজার নারী অংশ নিয়েছেন।

লি বলেন, ‘ঠিক কতজন নারী এই পরিবর্তন খেয়াল করছেন আমাদের জরিপে সেটি সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়। তবে আমরা তাদের অভিজ্ঞতার মিলগুলো সম্পর্কে অন্তত জানতে পারব। হয়ত এই জরিপ বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী গবেষণার পথ দেখাবে।‘

করোনা টিকা নারীদের ঋতুস্রাবে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে সেটি নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন গবেষণা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, টিকা নেয়ার ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরে চাপ তৈরি হয়। হয়ত এ কারণেই ঋতুস্রাবের ওপরেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অনুমোদন পাওয়া ফাইজার-বায়োএনটেক, মর্ডানা এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার পরীক্ষা চালানোর সময় ঋতুচক্রে পরিবর্তনের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ফ্যামিলি মেডিসিনের অধ্যাপক ড. রানিত মিশোরি জানান, টিকা নেয়ার পর ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কথা তিনি শুনেছেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো অসুবিধা নিয়ে কেউ তার কাছে আসেনি।

মিশোরি বলেন, ‘যারা এটি নিয়ে জরিপ করছেন আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। কিন্তু টিকা নেয়ার কারণেই ঋতুস্রাবে সমস্যা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত এর সপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্মদানে সক্ষম এমন নারীদের ১৪-১৫ শতাংশের বেলায় মাসিকে বাড়তি রক্তপাত স্বাভাবিক ঘটনা।’

তিনি জানান, মানসিক চাপ, হরমোনের সমস্যা, বিভিন্ন ওষুধের প্রভাব, রক্তজমাট বাঁধার সমস্যা বা থাইরয়েডের সমস্যার কারণেও মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। টিকা নেয়ার সঙ্গে এর এর সম্পর্ক আছে কি না, সেটি বোঝার জন্য আরও গবেষণা ও সময়ের প্রয়োজন।

মিশোরি আশা করেন, জরিপটির কারণে নারীরা টিকা নেয়া থেকে বিরত থাকবেন না।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই টিকা নিন। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে টিকার ভূমিকা অনেক। এর ফলে আপনার জীবন বাঁচবে। অন্যদিকে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাসিকে বাড়তি রক্তক্ষরণ জীবনের জন্য তেমন ঝুঁকিপূর্ণ কিছু নয়।’

শেয়ার করুন

ডিএনসিসি হাসপাতালে রোগীর চাপ, ৪ দিনে ১৩ মৃত্যু

ডিএনসিসি হাসপাতালে রোগীর চাপ, ৪ দিনে ১৩ মৃত্যু

রাজধানীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল। ছবি: নিউজবাংলা

ডিএনসিসি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ হাসপাতালে রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে আসা করোনা রোগীদের কাউকে এখন পর্যন্ত আমরা ফেরত পাঠাইনি। তবে এভাবে সব রোগী এখানে আসতে শুরু করলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে।’

উদ্বোধনের পর থেকে রাজধানীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে সারা দেশ থেকে আসছে রোগী। হাসপাতালটিতে চার দিনে ১৫৭ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৯০ জন। এরই মধ্যে সেখানে ১৩ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৭ জন।

হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার ​দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে ৭ জন রোগী মারা গেছেন। হাসপাতালটি উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জন মারা গেছেন। যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এ ছাড়া এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩০০ করোনা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

‘যারা এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া অধিকাংশই বয়োবৃদ্ধ। যাদের বয়স ৬৫ থেকে ৭৫ বছর। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৩ জন ঢাকার ও ৪ জন ঢাকার বাইরের রোগী।’

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে থেকে অনেক রোগী আসছেন। তবে আমরা বাইরের জেলা থেকে আসা রোগীদেরই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। যারা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ট্রান্সফার হয়ে আসছেন, তাদের নিরুৎসাহিত করছি।’

তিনি বলেন, ‘এ হাসপাতালে রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে আসা করোনা রোগীদের কাউকে এখন পর্যন্ত আমরা ফেরত পাঠাইনি। তবে এভাবে সব রোগী এখানে আসতে শুরু করলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে।’

হাসপাতালটি জনবল সংকট রয়েছে জানিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এক হাজার শয্যার হাসপাতালে ২৫০টি শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল না পাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই এক হাজার শয্যা চালু করতে চাই। জনবল না পেলে সেটা সম্ভব হবে না।’

শেয়ার করুন

মেক্সিকো, পোল্যান্ডে ফাইজারের নকল টিকা বিক্রি

মেক্সিকো, পোল্যান্ডে ফাইজারের নকল টিকা বিক্রি

মেক্সিকোতে ফাইজারের টিকা হিসেবে নকল ডোজ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ডলার দামেও। ছবি: এএফপি

মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, টিকার শিশিগুলোতে ভুয়া লট নাম্বার ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল। পোল্যান্ডে টিকার শিশিতে যে উপাদান পাওয়া গেছে, তা প্রসাধনী পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত এক ধরনের তরল। এই উপাদান ত্বকে বলিরেখা ঠেকানোর ক্রিমে ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

মেক্সিকো ও পোল্যান্ডে জব্দ করা ফাইজারের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার সবগুলোই নকল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এসব টিকার একেকটি ডোজ এক হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেক্সিকোর একটি ক্লিনিকে নকল টিকা নিয়েছেন প্রায় ৮০ জন।

আপাতত এ টিকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বলে মনে করা হলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এটি কোনোরকম সুরক্ষাও দেবে না।

মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, টিকার শিশিগুলোতে ভুয়া লট নাম্বার ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ ছিল।

পোল্যান্ডে টিকার শিশিতে যে উপাদান পাওয়া গেছে, তা প্রসাধনী পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত এক ধরনের তরল। এই উপাদান ত্বকের বলিরেখা ঠেকানোর ক্রিমে ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

এবিসি নিউজকে ফাইজারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘নকল টিকার বিষয়ে আমরা অবগত। ই-কমার্স ও পরিচয় ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব কাজ করছে। মহামারির বিপর্যয়ের মধ্যে কোভিড নাইনটিনের টিকা ও ওষুধ নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা, জালিয়াতি ও অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপ দিন দিন বাড়ছে, হয়তো আরও বাড়বে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ নুয়েভো লিয়নের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনসচেতনতামূলক প্রচারে গোপনে বিক্রি করা কোভিড টিকা কিনতে জনগণকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।

গত মার্চ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও মেক্সিকোতে ফাইজারের টিকার নকল ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল।

জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় উদ্ভাবিত টিকার কোনো উপাদানই নকল টিকায় নেই বলে জানিয়েছে ফাইজার।

রাশিয়ার উদ্ভাবিত করোনা প্রতিরোধী টিকা স্পুটনিকের ছয় হাজার ডোজের একটি চালান বর্তমানে পরীক্ষা করছে মেক্সিকো। গত মাসে হন্ডুরাসগামী একটি ব্যক্তিগত বিমান থেকে চালানটি জব্দ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিলের পর করোনায় তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে মধ্য আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে। মহামারিতে এ পর্যন্ত দুই ১৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন দেশটিতে।

শেয়ার করুন

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ৩ লক্ষাধিক

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ৩ লক্ষাধিক

ভারতের অনেক হাসপাতালে আইসিইউতে অক্সিজেনের অপেক্ষায় সংকটাপন্ন রোগীরা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার। ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষের দেহে।

করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে ভারতে।

মহামারির এক বছরে দেশটিতে প্রথমবারের মতো এক দিনে আক্রান্ত হয়েছে তিন লাখের বেশি মানুষ। একই সময়ে মারা গেছে দুই হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ।

ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার সকালে জানায়, বুধবার নতুন করে তিন লাখ ১৬ হাজার মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন দুই হাজার ১০৪ জন।

এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার। ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষের দেহে।

করোনাভাইরাসে সংক্রমণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরের অবস্থানে ভারত। প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পরই অবস্থান দেশটির।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ভারত সরকার। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে দিল্লির উচ্চ আদালত।

দিল্লিতে মেডিক্যাল অক্সিজেনের তীব্র সংকট নিয়ে বুধবার প্রশ্ন তোলে আদালত।

এক বিচারক বলেন, ‘চরম বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়েও কীভাবে পরিস্থিতি এড়িয়ে যাচ্ছে এই সরকার? আপনারা অক্সিজেনের সংকটের কারণে মানুষের মৃত্যু হতে দিতে পারেন না।’

নিজেদের দুটি হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট নিয়ে ম্যাক্স গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের শুনানিতে এসব কথা বলেন বিচারক।

মহামারির চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও শিল্পকারখানায় অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

বিচারক বলেন, ‘মানুষ মরছে আর আপনারা শিল্পকারখানা নিয়ে আছেন? মানে মানুষের জীবনের কোনো দামই নেই এই সরকারের কাছে?’

এক দিন আগেই আলাদা শুনানিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্পকারখানার জন্য বরাদ্দ অক্সিজেন হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরবরাহে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয় আদালত। মানুষের জীবনের চেয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে বিপর্যয় চরমে পৌঁছাবে বলেও হুঁশিয়ারিও দেন বিচারকরা।

কিন্তু এ রায়ের পরেও টনক নড়েনি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তীব্র অক্সিজেন সংকট থাকা হাসপাতালের সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে। বুধবার মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরের একটি হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় একসঙ্গে প্রাণ যায় কমপক্ষে ২২ রোগীর।

বুধবারের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগের ব্যাপারে বিস্ময় জানান আইনজীবীরা।

জবাবে বিচারক বলেন, ‘অভিযোগ শুনে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি কেমন, তা আপনারা জানেন। গতকাল পেট্রোলিয়াম ও ইস্পাত শিল্পকারখানার অক্সিজেন হাসপাতালে পাঠানোর যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তা কি আপনারা শুনেছেন?’

এ প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া শুরু হয়েছে। কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিচারক প্রশ্ন করেন, ‘এর বাস্তব ফল কী হয়েছে? আপনাদের কাগজপত্র নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

গত এক সপ্তাহে ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ১৮ লাখের বেশি মানুষ। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৫২০ জনের।

শেয়ার করুন

আইসিইউ নিয়ে হ-য-ব-র-ল

আইসিইউ নিয়ে হ-য-ব-র-ল

জনবল সংকটের কারণে আইসিইউ সেবা ব্যাহত হচ্ছে বরিশালে। ছবি: নিউজবাংলা

আমি অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক। তবে এখানে দরকার আইসিইউ স্পেশালিস্ট। আমার একাই নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে ২৪টি বেড। যেটা অসম্ভব। এর মধ্যে আবার অন্য জেলাকে কীভাবে সাপোর্ট দেব: ভোলা ও পটুয়াখালীতে আইসিইউ চালু করতে সাপোর্ট দিতে হবে শুনে বরিশালে আইসিইউর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অবেদনবিদ নাজমুল হুদা।

বিভাগীয় শহর বরিশালে ২৪ আইসিইউ শয্যা থাকলেও সেগুলোর দেখভালে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ।

আইসিইউগুলো তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একজন অবেদনবিদকে (অ্যানেসথেসিস্ট)। আর রোগীদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন মূলত স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকজন নার্স। এই সংখ্যাটিও অপর্যাপ্ত।

কোনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেলে মেরামত বা সেগুলো প্রতিস্থাপনের মতো দক্ষতাসম্পন্ন কোনো লোক নেই জেলায়। এমনটি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি করে করতে হয় সমাধান।

এর মধ্যে পাশের জেলা ভোলায় তিনটি আইসিইউ শয্যা ও তিনটি ভেন্টিলেটর মেশিন আর পটুয়াখালীতে পাঁচটি আইসিইউ শয্যা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু সেখানেও কোনো আইসিইউ বিশেষজ্ঞ নেই। এমনকি শয্যাগুলো স্থাপনের মতো জ্ঞানসম্পন্ন লোকই নেই।

ভোলাকে বলা হয়েছে শয্যাগুলো স্থাপনে যেন বরিশালের সহযোগিতা নেয়া হয়। পটুয়াখালীকেও একই পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

কিন্তু বরিশাল নিজেই যেখানে ধুঁকছে, সেখানে পাশের দুই জেলাকে কীভাবে সহযোগিতা করা হবে সেটা বুঝতে পারছেন না এখানকার চিকিৎসকরা।

বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় চিকিৎসালয় শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাধারণ ও করোনা ওয়ার্ড মিলিয়ে আইসিইউ শয্যা আছে ১২টি করে ২৪টি।

এর মধ্যে করোনা ওয়ার্ডের একটি আইসিইউ শয্যা বিকল হয়ে গেলেও সেটি মেরামত করা যাচ্ছে না। সেখানে নতুন ভেন্টিলেটর সংযোজন করে চালুর চেষ্টা চলছে।

আরও ১০টি আইসিইউ শয্যা পাঠানো হয়েছে। সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না জনবল-সংকটের কারণে।

এ ছাড়া হাসপাতালটির আইসিইউ ইউনিটের জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে ২২টি, যার মধ্যে সচল রয়েছে ১৪টি। বাকি আটটি এখনও সংযোজন করাই সম্ভব হয়নি।

এই আইসিইউএর পরিপূর্ণ সুবিধা রোগীরা পাচ্ছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ ২৪টি শয্যার জন্য নার্সও নেই প্রয়োজনমতো। ১৭ জন নার্স শিফটিং ডিউটি করছেন। তবে দক্ষ চিকিৎসক নেই তাদের পরিচালনার জন্য।

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে দায়িত্বরত নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমি অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক। এখানে দরকার আইসিইউ স্পেশালিস্ট। আমার একাই নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে ২৪টি বেড, যেটা অসম্ভব।

‘তা ছাড়া বেশির ভাগ রোগীর স্বজনরাই ডাক্তারকে সরাসরি চাচ্ছেন চিকিৎসাসেবায়, যা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। নার্সরাই মূলত সাপোর্টটা দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে কিছুই নেই। কোনো যন্ত্র নষ্ট হলে চিঠি চালাচালি করে অনেক সময় অপেক্ষার পর ঠিক করতে হয়। সম্প্রতি একটি ভেন্টিলেটর নষ্ট হয়েছে, তা ঠিক করতেও চিঠি পাঠিয়ে অপেক্ষা করতে হয়।’

এর মধ্যে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য ১৯ এপ্রিল ভোলায় তিনটি করে আইসিইউ শয্যা ও ভেন্টিলেটর পাঠিয়ে সেগুলো চালু করতে বরিশালের সাহায্য নিতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ভোলায় গিয়ে সহযোগিতা করার কোনো সুযোগ আছে কি না, জানতে বরিশাল আইসিইউর দেখভালের দায়িত্বে থাকা অবেদনবিদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘এই হাসপাতালেই যেখানে এই সমস্যা সেখানে বিভাগ থেকে অন্য জেলায় সাপোর্ট দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

‘কেননা এখানেই জনবল সংকট প্রকট। এই হাসপাতালে আরও ১০টি আইসিইউ বেড এসেছে। সাতটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা এবং কিছু ভেন্টিলেটর এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যে তাও চালু হলে আমাদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।’

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরই জনবল সংকট। সেখানে করোনা মহামারিতে আমরা অন্য জেলায় কীভাবে সাপোর্ট দেব? নতুন করে জনবল নিয়োগ না দিলে আমাদের এখানেই তো নতুন আইসিইউ ইউনিট চালানো সম্ভব নয়।’

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস জানান, এই পরিস্থিতিতে পটুয়াখালীতেও পাঁচটি আইসিইউ শয্যা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখানেও সেগুলো চালানোর লোক নেই।

লোক না থাকলে আইসিইউ শয্যা পাঠানোর কী যুক্তি, এমন প্রশ্নে চিকিৎসা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে জনবল চাহিদা আমাদের কাছে চাওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ভোলা হাসপাতাল এবং পটুয়াখালী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জনবল চাহিদা নিয়ে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জনবল নিয়োগ হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।’

জনবল পাওয়া না গেলে আইসিইউ শয্যাগুলো চালু করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

টিকা নিলে মৃত্যুঝুঁকি কম: গবেষণা

টিকা নিলে মৃত্যুঝুঁকি কম: গবেষণা

প্রথম দফায় টিকা নেয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হওয়া ২০০ জনের ওপর গবেষণা চালায় চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) একদল গবেষক। ছবি: নিউজবাংলা

গবেষণা দলের সদস্য অধ্যাপক প্রাণেশ দত্ত বলেন,‘২০০ জনের ওপর গবেষণা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। অতএব বলা যায়, টিকা নিলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।’

করোনার টিকা নেয়ার পর ফের আক্রান্ত হলে,মৃত্যু ঝুঁকি কম বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) একদল গবেষক। প্রথম দফায় টিকা নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হওয়া ২০০ জনের ওপর গবেষণা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তারা।

গবেষণায় তারা দেখতে পেয়েছেন টিকা নেয়ার পর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নিতে হয়েছিল। তবে ওই ব্যক্তি করোনার পাশাপাশি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তাই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ করোনা নয় বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।

গবেষণা দলের সদস্য অধ্যাপক প্রাণেশ দত্ত বলেন, ‘২০০ জনের ওপর গবেষণা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। অতএব বলা যায়, টিকা নিলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।’

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সিভাসু ল্যাবে ২০০ জনের করোনা শনাক্ত হয়, তারা ৭ ফেব্রুয়ারির পর করোনার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছিলেন। তাদের উপর মূলত গবেষণাটি চালানো হয়।

সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী, শিক্ষক ইফতেখার আহমেদ, প্রাণেশ দত্ত, সিরাজুল ইসলাম, ত্রিদীপ দাশ ও তানভীর আহমদ নিজামী গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, টিকা নেয়ার পর আক্রান্তদের মধ্যে ৮২ দশমিক পাঁচ শতাংশ ব্যক্তির হাসপাতালে যেতে হয়নি। বাকিরা হাসপাতালে গেলেও মারাত্মক কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন নি। ৮৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ রোগী শ্বাসকষ্টমুক্ত ছিলেন। টিকা নেয়া ৯১ শতাংশ রোগীর কোনো রকম কাশি কিংবা হাঁচি ছিল না। ৫৬ দশমিক ছয় শতাংশ রোগীর স্বাদ ও ঘ্রাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। টিকা গ্রহণকারী রোগীদের গড়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল ৯৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

গবেষণা দলের সদস্য প্রফেসর প্রাণেশ দত্ত বলেন, ‘টিকাগ্রহীতা করোনায় আক্রান্ত হলেও তাদের শারীরিক তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। অর্থাৎ করোনায় ভুগলেও তারা শঙ্কামুক্ত।’

সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, ‘২০০ জনের মধ্যে ১৯০ জন ইতোমধ্যে করোনামুক্ত হয়ে গেছেন। একজন মারা গেছেন। বাকি ৯ জনের কোনো উপসর্গ নেই। তাই বলা যায়, টিকা নিলে ৯৯ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়।’

সিভাসুর গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৬৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ রোগী আগে থেকে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জন উচ্চ রক্তচাপ, ৩২ জন ডায়াবেটিস ও ৫ জনের অ্যালার্জি ছিল।

গবেষণা দলের সদস্য অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রথম ধাপের গবেষণা শেষ করেছি। সেটির ফলাফল এসেছে। গবেষণা এখনও চলমান রয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর রোগীদের মধ্যে কি ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তাও পর্যালোচনা করা হবে। প্রথম ধাপের গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার পর আক্রান্তদের মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তা পর্যালোচনা করা। এতে দেখা যায় টিকা নেয়ার পর আক্রান্ত হলেও ৮২ শতাংশ রোগীদর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গবেষণাটি ছোট আকারে হলেও এটি ইতিবাচক। এই গবেষণার কারণে মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী হবে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইউছুপ মিয়া বলেন,‘টিকা নেয়ার পর করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মৃত্যুঝুঁকি কম। এটি একটি ইতিবাচক গবেষণা। তবে এই গবেষণাটি আরও বড় পরিসরে করতে হবে। বড় করে গবেষণায় এই তথ্যটি প্রমাণ হলে সবাই টিকা নেবেন।

শেয়ার করুন