করোনাভারাসের মহামারিতে সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের পদক্ষেপ নিয়ে চলছে চুলচেরা নানান বিশ্লেষণ। কারা কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করছেন, কে কতটা সফল- সেই পর্যালোচনাও চলছে বিশ্বব্যাপী।
এর মধ্যে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা মহামারি নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় সহানুভূতি ও সামাজিক ঐক্যের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন নারী নেতারা। বিপরীতে পুরুষ নেতারা ভয় ছড়ানো অথবা অন্যের ওপর দায় চাপানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।
চারজন গবেষকের এই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রি-প্রিন্ট প্ল্যাটফর্ম মেডআর্কাইভে। বিভিন্ন ধরনের গবেষণা আন্তর্জাতিক কোনো জার্নালে প্রকাশের আগে ত্রুটি-বিচ্যুতি যাচাইয়ে প্রি-প্রিন্ট প্ল্যাটফর্ম প্রকাশ হয়ে থাকে।
গবেষণার জন্য ২০টি দেশ বেছে নেয়া হয়েছে, যার ১০টিতে রাষ্ট্র অথবা সরকারপ্রধান হিসেবে আছেন নারীরা। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, বলিভিয়া, ব্রাজিল, ডমিনিকান রিপাবলিক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড, নাইজার, নরওয়ে, রাশিয়া, সাউথ আফ্রিকা, স্কটল্যান্ড, সিন্ট মার্টিন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান।
২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে এই ২০ দেশের শীর্ষ নেতদের দেয়া মোট ১২২টি বক্তব্য ও বিবৃতি বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে ৬১টি বক্তব্য-বিবৃতি নারী নেতাদের। এর মধ্যে যাদের ক্ষেত্রে দুটির কম বক্তব্য পাওয়া গেছে সেখানে সরকারি ভাষ্যগুলোও বিচার করেছেন গবেষকেরা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে যে ভাষণটি দিয়েছিলেন, সেটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই গবেষণায়।
অনুসন্ধানে পাঁচটি বিষয়ের দিকে নজর দিয়েছে গবেষক দল। এগুলো হলো- অর্থনীতি ও আর্থিক ত্রাণ, সমাজকল্যাণ ও অসহায় জনগোষ্ঠী, জাতীয়তাবোধ, দায়িত্ব ও পিতৃতন্ত্র এবং আবেগীয় আহ্বান।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় সব নেতাই তাদের বক্তব্যে অর্থনীতির ওপর করোনার প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন। তবে নারী নেতাদের মনোযোগ ছিল ব্যক্তি পর্যায়ের অর্থনীতি ও ছোট ব্যবসা ক্ষেত্রের দিকে। আর পুরুষ নেতৃত্ব জোর দিয়েছে বড় ব্যবসা ও করপোরেট অর্থনীতির দিকে।
মহামারি স্থানীয় বা ব্যক্তিপর্যায়ে কীভাবে জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করছে এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতা কী করে বাড়ানো যায়- সে বিষয়টি বারবার সামনে এনেছেন নারী নেতারা। গুরুত্ব পেয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সহিংসতার মতো বিষয়গুলোও।
গবেষণাপত্রে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৫ মার্চের ভাষণ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিতে জোর দিয়েছেন। ওই ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে।”
গবেষণায় দেখা গেছে, একমাত্র নারী নেতারাই মহামারি অভিবাসী ও উদ্বাস্তুদের নিয়ে কথা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের পরিচর্যার পাশাপাশি পারিবারিক যত্নের দায়বদ্ধতাও তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
স্কটল্যান্ডের নারী ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজন যেখানে কথা বলেছেন শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রান্সের ইমানুয়েল মাখোঁর বেশিরভাগ কথাই ছিল বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও তাদের সিইওদের নিয়ে।
করোনা মোকাবিলার বিষয়টি সামনে আনতে বিশ্বনেতাদের প্রায় সবাই যুদ্ধসম্পর্কিত রূপক শব্দ ব্যবহার করেছেন। গবেষণার জন্য বেছে নেয়া ২০ নেতার মধ্যে ১৭ জনই ব্যবহার করেছেন এ ধরনের শব্দ। তবে পুরুষ নেতাদের বক্তব্যে এসব শব্দের ছড়াছড়ি যেভাবে দেখা গেছে, নারীরা সে তুলনায় ছিলেন অনেক সংযত।
নারীরা অনেক বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা সহানুভূতিশীল ভাষা ব্যবহার করেছেন, যার লক্ষ্য ছিল আক্রান্তের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ ও সামাজিক ঐক্য সৃষ্টি।
গবেষক দলটি বলছে, করোনাভাইরাস সংকটে নারী ও পুরুষ নেতৃত্ব কতটা ভালো সাড়া দিয়েছে সেটি যাচাই করা তাদের লক্ষ্য ছিল না। গবেষণার সীমাবদ্ধতার দিকগুলো স্বীকার করে তারা বলছে, জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দেশের বাস্তবতা আলাদা। আর এই বাস্তবতাই নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্যের কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণাপত্রের সহ লেখক বেসরকারি সংস্থা উইমেন ইন গ্লোবাল হেলথের গবেষণা সহযোগী সারা ডাডা গবেষণার ফলাফলে নিজেই বিস্মিত। তিনি বলছেন, ‘পুরুষ নেতারা তাদের বক্তব্যে ভয়-ভীতি দেখানো অথবা অন্যের ওপর দায় চাপানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, নারীরা ব্যক্তিগত উদাহরণ ও সহানুভূতিকে সামনে এনে সামাজিক ঐক্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন।’
আরেক সহ লেখক ফ্লোরিডা কলেজ অফ পাবলিক হেলথ ইউনিভার্সিটির উইমেন ইন গ্লোবাল হেলথের অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড চেয়ারম্যান ড. মারলিন জোয়ানি বেওয়া বলেন, ‘এটা খুব পরিষ্কার, এই মহামারিতে নারীরা সাম্যের দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা পদ্ধতিতে যোগাযোগ-কৌশল গ্রহণ করেছেন। তাদের কৌশলের মধ্যে সমন্বিত নীতিগত সাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কিন্তু সামাজিক পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত ছিল।’
নারী ও পুরুষ নেতাদের বক্তব্যের ধরনে পার্থক্য কেন- তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের অকসিডেন্টাল কলেজের রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক জেনিফার এম পিসকোপো।
তিনি বলছেন, ‘পুরুষ নেতাদের চেয়ে নারীদের বক্তব্য আলাদা হওয়ার কারণ শুধু স্বভাবজাত নয়, ভোটাররাও নারীদের কাছ থেকে নমনীয় বক্তব্যই প্রত্যাশা করে এবং সেটা পাওয়া না গেলে ভোটাররা মনক্ষুণ্নও হয়।
‘এখানে নেতাদের রাজনৈতিক নেতাদের মতাদর্শের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব নেতার বক্তব্যে জাতীয়তাবাদ ও যুদ্ধসম্পর্কিত শব্দের প্রাধান্য দেখা গেছে তারা সাধারণত ডানঘেঁষা রাজনৈতিক দল থেকে এসেছেন।’
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার (১৭ জুন) সাক্ষাৎ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।
উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. সফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সকল নেতারা এবং কর্মীদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। উপউপাচার্যরা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হোক। শিক্ষার্থীবান্ধব সকল কাজে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’ উপউপাচার্যরা আরও বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন রয়েছে, এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রদলের সহযোগিতা লাগবে।’ উপস্থিত সবাইকে মাননীয় উপউপাচার্যরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং নানা বিষয়ে উপউপাচার্যদের অবহিত করেন। বিশেষ করে আবাসন, নিরাপত্তাহীনতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন নেতারা।
শাখা ছাত্রদলের নেতারা নবনিযুক্ত উপউপাচার্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ছাত্রদলের নেতারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ। এ সময় শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রশিবিরের গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রতিবাদে রাজধানী শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং মিছিলজুড়ে তারা ছাত্রশিবিরের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রশিবির রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গুম ও অপহরণের সাজানো নাটক তৈরি করছে, যা প্রকৃতপক্ষে গুমের শিকার হওয়া আসল ভুক্তভোগীদের চরম অবমাননার শামিল।
এছাড়া অনলাইনে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যা দোষারোপ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
একই সাথে শিবিরের গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ নানা ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের যে প্রমাণ মিলছে, তারই তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাতে ছাত্রদল রাজপথে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
রাশেদ খান। ফাইল ছবি
জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট হবে এবং তখন কারও রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শনিবার (১৩ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টের ওপর ঘটে যাওয়া একটি সাইবার জটিলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জামায়াত-শিবিরের কড়া সমালোচনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, তাঁর লেখালেখির কারণে জামায়াত-শিবিরের নাকি খুব ক্ষতি হচ্ছে, আর সে কারণেই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে তুরস্ক থেকে ১৬টিরও বেশি ভুয়া কপিরাইট ক্লেইম বা অভিযোগ করে তাঁর ফেসবুক আইডি আট দিনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আট দিন পর শনিবার তিনি পুনরায় তাঁর আইডিতে পোস্ট করার সুযোগ পেলেও কপিরাইট ক্লেইমগুলোর এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
তিনি কিছু গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন যার জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো মিডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা কপিরাইট ক্লেইম করা হয়নি, বরং তুরস্ক থেকে জামায়াত-শিবিরের নিয়োগকৃত লবিস্ট টিম এই কাজ পরিচালনা করেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেন যে, জামায়াত-শিবির মূলত কোনো ধরনের ভিন্নমতে বিশ্বাস করে না। তাঁর আইডিতে চালানো সাম্প্রতিক সাইবার আক্রমণ এবং তাঁর মা-বাবাকে তুলে গালিগালাজ করাই দলটির এমন মানসিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
জামায়াত-শিবির তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল সম্পর্কে আমাদের এখন থেকেই সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় তারা যদি কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ তারা অত্যন্ত কঠিনভাবেই নেবে বলে তাঁর আশঙ্কা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাদের তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই গোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি, তাদের কর্মকাণ্ড এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের নানা খতিয়ান তুলে ধরেন।
গোলাম মাওলা রনি ব্যাখ্যা করেন, এই ‘কোম্পানি’র মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশ ছিল। প্রথম অংশটি হলো শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপ, যারা ওই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় বড় সুবিধা লুটে নিয়েছে। দ্বিতীয় অংশটিতে ছিলেন আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর এমন কিছু সদস্য, যাদের বাড়ি চট্টগ্রামে কিংবা যারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এছাড়া এনজিও এবং ব্যাংকিং খাতের একটি বড় চক্র এই সময়ে জড়িত ছিল, যারা বিভিন্ন ছোটখাটো জরিপ বা রিপোর্টের নামে শত শত কোটি টাকার ফান্ড এনে নিজেদের মতো করে খরচ করেছে।
অর্থনৈতিক লুটপাটের অভিযোগ তুলে এই কলামিস্ট বলেন, বিগত সরকারের আমলে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। এই অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় ব্যয় হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সাথে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীকে ঋণ মওকুফ ও রিশিডিউলের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের লাখ লাখ কোটি টাকা শেষ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রনির মতে, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি।
ভিডিওর শেষ অংশে তিনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই কোম্পানির শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমান করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন, যার কারণে এখন তাদের কোনো ‘মোরাল কারেজ’ বা নৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির কারণেই বর্তমানে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সাথে সমঝোতা বা একীভূত হয়েছে, একাংশ নিজেদের চেহারা লুকিয়ে ফেলেছে এবং বাকি অংশটি বিচার এড়াতে ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জাতীয় সংসদে নিজেদের পারফরম্যান্স বাড়াতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (১০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, গত অধিবেশনে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এবার জামায়াতের এমপিদের ইসলামী ব্যাংকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কোর্সের বা সিলেবাসের বাইরের বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করেন, তখন জামায়াতের এমপিরা রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। তাদের রাতদিনের প্রশিক্ষণ যেন মুহূর্তেই বৃথা হয়ে গেল। এই পরিস্থিতিতে সংসদে ভালো করতে হলে তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেই রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায়, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জামায়াতের ৬৮ জন এমপির এভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়াটা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা তার পোস্টে আরও বলেন, আগে মানুষের ধারণা ছিল জামায়াতের লোকেরা বেশি শিক্ষিত এবং তাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণও বেশ উন্নত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দলে মনোযোগী ছাত্র থাকলেও দক্ষ প্রশিক্ষকের বড়ই অভাব রয়েছে। তাই শেখার যেহেতু কোনো শেষ নেই এবং শিখতে কোনো লজ্জাও নেই, জামায়াতের এমপিরা নির্দ্বিধায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্লাস করতে পারেন।
পরিশেষে তিনি জানান, তারা জামায়াতে ইসলামীকে সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান। বিরোধী দল হিসেবে তারা দুর্বল হলে দেশের মানুষ সংসদে পুনরায় আওয়ামী লীগের শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করবে, যা মোটেও কাম্য নয়।
আবু সাইদ আহমদ। ছবি: নিউজ বাংলা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিএনপির নেতা আবু সাইদ আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে তাকে সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, আবু সাইদ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালে গঠিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোনীত হন।
ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তিনি ঢাকার তৎকালীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং মতিঝিল থানা যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে স্বপরিবারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি। তারা ইনসাফ করতে পারলে দেশের চিত্র ভিন্ন হতো। মঙ্গলবার (৯ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়াবাজেট’ প্রস্তাবনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করছি, তা বাস্তবায়নের জন্য সততা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। সততা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সরকার যত বড় বাজেটই দিক না কেন, সেটি কার্যকর হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থা বা ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়ায় নানা ত্রুটি রয়েছে। এসব দুর্বলতা দূর করে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবে বিরোধী দল।
বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছি, তার আসল বিচারক হবে জনগণ। বাজেটের প্রস্তাবনা যদি জনস্বার্থের বিপক্ষে যায়, তাহলে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করবেন।
এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। জনগণের কল্যাণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য