করোনাকালে মাস্ক না পরে জরিমানা গুণছেন অনেক মানুষ। অভিযান চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের। এর মধ্যেও অনীহা স্পষ্ট।
কারণ কী কী?
একজন তরুণী বলছিলেন তার স্কিনে সমস্যা হয়। অন্য একজনের মুখ ঘামে।
একজন দুপুরে ভাত খাবেন। তার আগে একটু ‘হাওয়া খেয়ে নিচ্ছিলেন।’
রাজধানীর ফার্মগেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ, মহাখালী, মাটিকাটা, নিকুঞ্জ এলাকায় মাস্ক ছাড়া ঘুরতে দেখা মানুষদের জিজ্ঞাসা করলে এ রকম আরও নানা জবাব পাওয়া গেল।
এদের একটি অংশ আবার মাস্ক পরছেন না কেন, এ প্রশ্ন শুনে খুবই বিরক্ত হন।
কিন্তু প্রশাসনের লোকজনের কাছে ধরা পড়লে বিরক্তি দেখিয়ে তো পার পাওয়া যাবে না। জরিমানা নির্ঘাত। তখন কী হবে?
এমন প্রশ্ন শুনে বিরক্তি আবার রাগে পরিণত হতে দেখা গেল কয়েকজনের ক্ষেত্রে।
মাস্ক পরলেই যে করোনা হবে না, এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মাস্ক পরতে উৎসাহী করছেন।
সরকার অবশ্য আর উৎসাহের মধ্যে রাখতে চাইছে না বিষয়টি। এক রকমের বাধ্যবাধকতার মধ্যেই ফেলতে চাইছে।
করোনার প্রাদুর্ভাবের পর মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে জারি করা আদেশ তুলে নেয়া হয়নি। তবে আগস্টের পর থেকে করোনার সংক্রমণ যখন নিম্নমুখী, তখন এ নিয়ে আর চাপ দেয়া হয়নি সেভাবে। তবে শীতে করোনার দ্বিতীয় ধাপের আশঙ্কায় আবার বিষয়টিতে জোর দেয়া হচ্ছে।
মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে প্রথমে জারি করা হয় ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি। অর্থাৎ মাস্ক না পরলে সেবা মিলবে না।
এতেও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন দেশজুড়ে চালানো হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। প্রতিদিনই জরিমানা করা হচ্ছে।
কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সেই আগের মতোই।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নিকুঞ্জে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু করেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল কুমার হালদার।
অভিযান চলাকালে মাস্কহীন বেশিরভাগ মানুষ বলেছেন, তাদের বাসা কাছে, তাই পরেননি; অনেকক্ষণ পরেছেন তাই, খুলে রেখেছেন। কেউ বলেছেন, ভুল হয়েছে, আর কখনও হবে না।
উজ্জ্বল কুমার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাইকে জরিমানা করছি না। একজন গরিব, যেমন রিকশাচালক, তার মাস্ক নাই; তাকে সচেতন করছি। একই সঙ্গে মাস্ক বিতরণ করছি। আবার একটি ফার্মেসির দোকানি; তাকে আমরা খুবই অল্প পরিমাণে জরিমানা করছি।
‘জরিমানা ফ্যাক্ট না, ১০০ টাকা জরিমানা দিলেও মানুষের মধ্যে গরজ আসবে যে এই টাকায় ১০টা মাস্ক কেনা যেত। এটাই জরুরি।’
কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যাওয়ার পরই বদলে যায় চিত্র।
শুরুটা করা যাক নিকুঞ্জে বিআরটিএ অফিস থেকে। ঘড়িতে তখন বেলা সাড়ে ১২টা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গেছেন ১০ মিনিট আগে। গেটের বাইরে লেখা ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’।
মাস্ক না পরেই গেট দিয়ে ঢুকছেন অনেকেই। গেটে যিনি নিরাপত্তাকর্মী, তিনি নিজেও পরেননি মাস্ক।
কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই বুক পকেট থেকে বের করে পরে ফেলেন আর বলেন, ‘আমি মাস্ক পরে থাকি। এখনও পরে আছি।’
এ সময় পাশ দিয়ে একজন মাস্ক না পরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই মিয়া মাস্ক পরেন।’
গেটের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, রান্নাঘরের সামনে মাস্ক না পরে আড্ডা দিচ্ছেন কয়েকজন।
ডিপোর পাশে একটি অফিস কক্ষে এক কর্মকর্তা কাজ করছিলেন মাস্ক না পরেই। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ সম্পর্কে তিনি নাকি জানেনই না।
পরতে পরতে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরেছিলাম। মাস্ক পরা উচিত।’
গণপরিবহন, বাজার, ব্যাংক, হাসপাতালসহ জনসমাগমস্থলের চিত্রগুলো মোটামুটি একই রকম।
বেশিরভাগের মুখেই মাস্ক নেই। কেউ বুক পকেটে, কেউ থুতনিতে, কেউ কপালে, কেউ কানে বা শার্টের বোতামে ঝুলিয়ে রেখেছেন মাস্ক।
ফার্মগেট ওভারব্রিজ রাজধানীর একটি ব্যস্ততম জায়গা। ব্রিজে ওঠার আগেই দেখা যায়, একটি থানার সৌজন্যে লেখা ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি’। তবে তা কতজন পড়েছেন না পড়লেও গুরুত্ব দিচ্ছেন, সে প্রশ্ন রয়েই যায়।
মাস্ক না পরে সেখানে জুতা বিক্রি করছিলেন একজন। উচ্চস্বরে কথা বলতে হয়, ডাকাডাকি করতে হয়, তিনি ঝুঁকির কারণ হতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘আগে পরতাম। তারপর দেখি সব খুইল্লা দিছে। তাই গত এক সপ্তাহ ধইরা আর পরি না।’
‘এই থার্ড গেট, মানিকদি, ইসিবি, চইল্লে গেল, চইল্লে গেল, জলদি আসেন’ বলে হাঁক দিচ্ছিলেন ক্যান্টনমেন্টগামী ট্রাস্ট সার্ভিসের বাসশ্রমিক রুহুল আমিন।
দরজার পাশে স্টিকার সাঁটানো, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’। কিন্তু আসলে তারা বাস্তবায়ন করছে ‘নো মাস্ক, সার্ভিস’। খালি মুখে এলে কাউকে বাসে উঠতে বাধা দেয়া হয় না।
রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা তো বেকতেরে (সবাইকে) কই মাস্ক পড়তে। কেউ কেউ রাগ অয়, কেউ আবার কয় বাস ছাড়লে পরবে। আমরা কী করতাম।’
এমন যাত্রীদের একজন আনোয়ারুল হক। বলেন, ‘রোগ শোক এগুলান রাব্বুল আলামিন দেখবেন। তার ইচ্ছাতেই সব হয়।’
মহাখালী কাঁচাবাজারে খাসির মাংস কিনতে এসেছিলেন মধ্যবয়সী একজন। মাস্ক নাই কেন জানতে চাইলেই ক্ষেপে যান। উচ্চস্বরে বলেন, ‘কেউ বলতে পারবে মাস্ক পরলে করোনা হবে না?’
আপনার ব্যক্তিগত মতামত থাকতে পারে, ভ্রাম্যমাণ আদালত যে অভিযান চালাচ্ছে। ‘তারা এলে কী বলবেন?’ এমন প্রশ্ন শুনে কিছুটা শান্ত হন। বলেন, ‘তারাও কি বলতে পারবে মাস্ক পরলে করোনা হবে না?’
করোনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রবীণ, ফুসফুসের সমস্যা, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি ও এ জাতীয় কো-মরবিডিটি রোগে আক্রান্তরা।
তবে মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষেরই নেই মাস্ক। ভেতরের অবস্থাও একই রকম।
হাসপাতালের সামনেই ফল বিক্রি করছেন আসিফ মিয়া। ক্রেতা সামলাতে পারছেন না এক হাতে।
তিনি বলেন, ‘আমি এক মাস্ক একবারের বেশি পরি না। একটা মাস্ক পরা ছিলাম। বাথরুমে গেছিলাম। ফালায় দিছি। এখন নতুন একটা মাস্ক পরুম।’
যদিও পরে আধা ঘণ্টার মধ্যে তাকে আর মাস্ক পরতে দেখা যায়নি।
তার পাশেই জীবাণুনাশক ও মাস্ক বিক্রি করছেন তায়রা বেগম। তার মুখেরটা জায়গা মতো নাই, রেখে দিছেন থুতনিতে।
তিনি বলেন, ‘ভুল অইয়া গেছে। আর অইব না। আমার শ্বাসকষ্টে সমস্যা; আমি মাস্ক পরলে শ্বাস নিতে পারি না। তাই খুলে রাখি।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেও একই চিত্র। বাইকে বসে গল্প করছেন দুজন। একজনের মাস্ক কানে ঝুলছে। তিনি বলেন, ‘বাইক চালাতে গিয়ে খুলে যায়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাস্ক ছাড়া ঢুকতে মানা। কিন্তু ভেতরের কারও পরোয়া নেই।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের উল্টোপাশে চায়ের দোকান ও আশেপাশে বসে গল্প করছিলেন অনেকে। বেশিরভাগের মুখেই নেই মাস্ক।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সাবেক দুই শিক্ষার্থী আফ্রিদা আলি ও প্রিয়াংকা রহমান ঘুরতে এসেছেন সেখানে।
প্রিয়াংকা রহমান বলেন, ‘আমি হিজাব পরি; হিজাব দিয়েই মুখ ঢাকি। এখন কথা বলতেছি। তাই খুলে রাখলাম।’
আফ্রিদা আলি বলেন, ‘মাস্ক পরলে আমার স্কিনে সমস্যা হয়। তাই পরি না।’
স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, “‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতিটি একেবারেই নতুন। সর্বস্তরে এই মেসেজ এখনও পৌঁছেনি বলে এর বাস্তবিক হার এতটা কম।”
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমের সব ধারার অংশীজনকে এক মঞ্চে সমবেত করেছে সরকার। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দেশে একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল একজন ‘সহায়ক’ ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভা প্রধানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমের মূল ধারার সকল অংশীজনকে আমরা একই মঞ্চে জড়ো করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজন মূলত একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের পথ চলার মূল বিন্দুটি খুঁজে বের করতে পারি, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মহান ও স্বাধীন উদ্দেশ্যকে সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কেবল একজন 'সহায়ক' এবং 'সমন্বয়কারী'র দায়িত্ব পালন করবে।
বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনে যাওয়ার আগেই দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার। এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত যেসব জায়গায় মেরামত বা সংস্কার করা দরকার, সকলকে সাথে নিয়ে সেসব জায়গায় সরকার মেরামত করবে।
তিনি বলেন, সংস্কারের এইতালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সঞ্চালনায় কর্মশালায় ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সম্পাদক পরিষদ, জাতীয় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো), ন্যাশনাল মিডিয়া ওয়াচ কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন টেলিভিশন মালিক, সম্পাদকবৃন্দ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ধোঁয়াশা, প্রায় ৯৩ বার তদন্তের সময় পেছানো এবং এক অদৃশ্য আড়ালের পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মহা কেলেঙ্কারির তদন্ত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১০ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে। ওই অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে দেশি-বিদেশি ৬৪ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম—যার মধ্যে রয়েছেন খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাবেক গভর্নর। এত বছর পর প্রস্তুত হওয়া এই অভিযোগপত্র শুধু আইনি প্রক্রিয়ার একটি দলিলই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নকারীদের মুখোশ উন্মোচনের এক ঐতিহাসিক সোপান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছে সিআইডি।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়া শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে, দৃশ্যত আর কোনো কাজ বাকি নেই। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট জমা দিতে পারব। ইতোমধ্যে খসড়াটি আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রমাণের পাহাড় ডিঙিয়ে এই অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল ফরেনসিক প্রতিবেদন, ফিলিপিন্সের মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর), মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর রিপোর্ট, জাপান ও ভারতের বিশেষজ্ঞ সুপারিশ, শ্রীলঙ্কা থেকে অর্থ ফেরত আনার দালিলিক রেকর্ড, সুইফটের অভ্যন্তরীণ তথ্য, বিস্তৃত তদন্ত নথিপত্র এবং ১৬১ ধারায় নেওয়া সাক্ষীদের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রায় দশ হাজার পৃষ্ঠার মামলার এই ডকেট এবং খসড়া চার্জশিটে অপরাধের আদ্যোপান্ত ও অকাট্য তথ্যপ্রমাণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে: বাংলাদেশিদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আনিস এ খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক কে এম আবদুল ওয়াদুদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম, তৎকালীন উপমহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের সাবেক উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মো. সুলতান মাসুদ আহম্মেদ এবং গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান।
আসামির তালিকায় ফিলিপিন্সের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: ফিলিপিন্সের অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কাম সিন ওং, মায়া সান্তোস দেগুইতো, রাউল ভিক্টর বি তান, ব্রিজিট আর কাপিনা, নেস্তর ও পিনেদা, রোমুয়ালদো এস আগারাডো, অ্যাঞ্জেলা রুথ এস টরেস, লোরেঞ্জো তান, মিস ন্যান্সি, জাও কিওগ, ডেনিস সি ব্যানকোড, ইসমায়েল আর রেইস, সাবিনো এম ইকো, লিজেন্ড জে রাসেলা, রিচার্ড ইনসাইন, উইলিয়াম সোঁ গো (প্রয়াত), সালুদ রেইস বাউতিস্তা শেবা, মিশেল বাউতিস্তা কনকন, অ্যান্টনি এ পেলেজো, জন ইউ, লুইস ফাব্রেগাস খো, ম্যান পো চান, মিং ই সাইমন সি, রোজালিও পরানতা তান্দুয়ান, এনরিকে কে রাজোন, টমাস আরাসি, জোসে এডুয়ার্ডো জে আলারিলা, ক্রিশ্চিয়ান আর গনজালেস, ডোনাটো সি আলমেইদা এবং ফ্লিন্ট রিচার্ডসন।
ব্যক্তির পাশাপাশি দেশটির আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে—রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি), ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশন, সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিং, আব্বা কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ইনকরপোরেশন, বিকন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ইনকরপোরেশন, মাইডাস ক্যাসিনো এবং সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোকে।
শ্রীলঙ্কার ৭ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান: শ্রীলঙ্কান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হেগোডা গামাগে শালিকা পেরেরা, ইমিয়াগে ডন মিউরিন রানাসিংহে, রামানায়েক আরাচ্চিগে ডন প্রদীপ রোহিত দামকিন, গাহা আরামবেগেদারা সাঞ্জিবা তিসা বান্দারা, ওয়েরাপুলি মুহান্দিরামগে প্রিয়াঙ্কা জয়দেব, লুয়াইস হান্নাদিগে শিরানি ধম্মিকা ফার্নান্দো এবং নিশান্ত নলক ওয়ালাকুলু আরাচ্চি। আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছে তাদের তৈরি করা ‘শালিকা ফাউন্ডেশন’ নামক ভুয়া এনজিওটি।
অন্য দেশের অভিযুক্তরা: এছাড়াও এই আন্তর্জাতিক জালিয়াতিতে সহায়তার অপরাধে ভারতের নাগরিক নীলাভান্নান মাদুক্কুর আনন্দন, প্রীতম রেড্ডি, সুধীন্দ্র আত্রেশ ও রাকেশ আস্তানা; উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত হ্যাকার পার্ক জিন হিয়োক ও দেশটির রাষ্ট্রীয় হ্যাকার সংগঠন ‘লাজারাস গ্রুপ’; চীনের তিন নাগরিক ডিং ঝিজে, গাও শুহুয়া ও ওয়েইকাং জু এবং জাপানি নাগরিক সাসাকির নাম রয়েছে এই অভিযোগপত্রে।
এদিকে, ঘটনার দীর্ঘ এক দশক পর মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের এই চূড়ান্ত পদক্ষেপে গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, একটি দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ক্ষুণ্ণ হওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির একটি বড় অংশ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
যেভাবে সুনিপুণভাবে ঘটেছিল সেই চুরি: ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যরাত। যখন পুরো দেশ গভীর ঘুমে মগ্ন, ঠিক তখনই সাইবার অপরাধের ইতিহাসে ঘটে যায় এক নজিরবিহীন ও দুঃসাহসিক ডাকাতি। কোনো ধরনের অস্ত্রের গর্জন ছাড়াই, কেবল কম্পিউটারের কি-বোর্ডের কয়েকটি ক্লিকে নিমিষেই গায়েব হয়ে যায় দেশের মানুষের রক্তঘাম ছড়ানো ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা তৎকালীন হিসেবে প্রায় ৮১০ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনো আর শ্রীলঙ্কার ব্যাংকে পাচার করে দেয় একদল আন্তর্জাতিক হ্যাকার।
শুরুতে একে কেবল বাইরের দেশের হ্যাকারদের কারসাজি মনে করা হলেও, সময়ের সাথে সাথে উন্মোচিত হতে থাকে ভেতরের অন্ধকার সত্যিগুলো। ‘সর্ষে ভূত’ থাকার মতোই ঘরের শত্রু বিভীষণদের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর পরোক্ষ মদদ ছাড়া এত বড় ডাকাতি যে অসম্ভব ছিল, তা আজ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যম ‘সুইফট’ সিস্টেমের নিরাপত্তা ভেঙে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
এর মধ্যে একটি বার্তার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ভিউ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ডলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, ইংরেজি বানানের একটি সাধারণ ভুলের কারণে কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ জাগে। ফলে শেষ মুহূর্তে সেই অর্থ আটকে যায় এবং রক্ষা পায়।
তবে বাকি চারটি বার্তার মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) জুপিটার স্ট্রিট শাখায়। সেখানে আগে থেকেই ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে চারটি অ্যাকাউন্ট খুলে রাখা হয়েছিল।
অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সেই বিপুল অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর ‘ফিলরেম মানি রেমিটেন্স’ কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোতে রূপান্তর করে সেই টাকা ঢেলে দেওয়া হয় তিনটি ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে।
পরবর্তীতে একটি ক্যাসিনো মালিকের কাছ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও, বাকি টাকার হদিস মেলাতে চরম বেগ পেতে হয়। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হতে হতে সেই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, তার কোনো স্পষ্ট হদিস মিলছিল না।
এই অর্থ লোপাট, রূপান্তর এবং জালিয়াতিতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে নিউইয়র্কের আদালতে আরসিবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি মামলা চলমান রয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, রিজার্ভের অর্থ চুরির এই মাস্টারপ্ল্যানে ‘অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের’ প্রত্যক্ষ সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। হ্যাকাররা মূলত ‘নেস্টেগ’ ও ‘ম্যাকট্রাক’-এর মতো মারাত্মক ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের গোপন পথ তৈরি করে। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ফেড থেকে অর্থ সরিয়ে তা নিউইয়র্ক ও ফিলিপিন্সের আরসিবিসি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই সাইবার ডাকাতির খবরটি ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করলেও, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিষয়টি জানতে পারে প্রায় এক মাস পর—ফিলিপিন্সের একটি সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্রে।
এত বড় একটি ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখার তীব্র সমালোচনার মুখে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে প্রাথমিক সেই মামলায় সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
শুরু থেকেই মামলাটির তদন্তভার সামলাচ্ছে সিআইডি। সর্বশেষ গত ১৮ মে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ রেকর্ড ৯৫ বারের মতো পেছানো হয়। আদালত আগামী ২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
চব্বিশের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের পর গত বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিলেও, মন্ত্রণালয় তদন্তভার হস্তান্তরে সম্মতি দেয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিআইডির হাত ধরেই আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এই ঐতিহাসিক মামলার গতিপ্রকৃতি।
মানিক মিয়া এভিনিউসংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন জনসমাগম স্থল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থী, পথচারী, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এ এলাকায় আসেন। তাই এ স্থানকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মানিক মিয়া এভিনিউসংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেন ডেপুটি স্পিকার।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য গণশৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থীরা নানা ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। জাতীয় সংসদ ভবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে আগত মানুষের নাগরিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভ্রাম্যমান গণশৌচাগার ব্যবহার উপযোগী রাখার ব্যবস্হা গ্রহণ করতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এর নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানিক মিয়া এভিনিউতে আসেন। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা, যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি উত্তরণে সংসদ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি, আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার প্রজনন বৃদ্ধি করতে পারে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানিক মিয়া এভিনিউ এবং সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকাকে আরও সবুজ ও পরিবেশসম্মত করে গড়ে তোলার জন্য সংসদ চত্বরের দেয়াল ঘেঁষে এবং উপযুক্ত খালি স্থানে অধিক সংখ্যক বৃক্ষ, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছপালা রোপণ করতে হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে দর্শনার্থীদের জন্য আরও মনোরম ও ছায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সচিবালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানিক মিয়া এভিনিউকে রাজধানীর একটি আদর্শ, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জনপরিসরে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ফাইল ছবি
ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি, কর ফাঁকির মহোৎসব, কর অব্যাহতির অপব্যবহার এবং সীমিত করদাতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ও কঠোর কৌশল নিয়েছে সরকার। রাজস্ব প্রশাসনে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস খাতের জন্য পৃথক তিনটি 'টাস্কফোর্স' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা সরকারের এই পদক্ষেপকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। সরকারের প্রত্যাশা—এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের ভিত্তি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি কর ব্যবস্থাপনায় ফিরবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা; যা শেষ পর্যন্ত উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে জাতীয় বাজেটের আকার জ্যামিতিকহারে বাড়লেও, সেই অনুপাতে বাড়েনি রাজস্ব আদায়। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি সেবা খাতের ব্যয় মেটাতে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের কর-জিডিপি অনুপাতও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। এই সংকটজনক বাস্তবতায় কর প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি রোধকেই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—এই তিন খাতের অসংগতি ও চ্যালেঞ্জের ধরন একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই প্রথাগত একক কাঠামোর পরিবর্তে এবার খাতভিত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব টাস্কফোর্সের মূল কাজ হবে—কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট উৎস ও ধরন শনাক্ত করা, ঢালাও কর অব্যাহতির যৌক্তিকতা পুনঃমূল্যায়ন করা, রাজস্ব প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
অর্থ, পরিকল্পনা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, প্রতিটি টাস্কফোর্সের জন্য মাসভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং ‘মাইলফলক’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট খাতের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
‘কর ফাঁকি, জালিয়াতি এবং অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব আহরণের ভিত্তি শক্তিশালী করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আমরা পুরো রাজস্ব ব্যবস্থাকে একটি তথ্যনির্ভর, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে কাজ করছি।’
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো অতি সীমিত করদাতা ভিত্তি। দেশের অর্থনীতির আকার দৃশ্যমানভাবে বাড়লেও করদাতার সংখ্যা রয়ে গেছে প্রায় একই জায়গায়। বিপুলসংখ্যক সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখনো কার্যকর কর জালের বাইরে অবস্থান করছে। ফলে যারা নিয়মিত কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর করের বোঝা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। নতুন টাস্কফোর্সগুলো যদি কর নেট সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তবেই রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, সরকার বর্তমানে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল এবং পুনর্গঠনের একটি 'থ্রি-স্টেপ' কৌশল অনুসরণ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে ভোগব্যয় বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ দান, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব ব্যবস্থার এই আমূল সংস্কার মূলত এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে রাজস্ব আদায়ের তথ্য উপস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি ও ধোঁয়াশা ছিল, যার ফলে প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ত। এই ডেটা কারচুপির অবসান ঘটাতে তথ্য ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব প্রশাসনে প্রযুক্তির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কর ফাঁকি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ধরা পড়বে। পাশাপাশি করদাতাদের জন্য সেবা প্রাপ্তিও সহজ হবে। ডিজিটাল তথ্যভান্ডার, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আন্ত-বিভাগীয় তথ্য আদান-প্রদানের সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করা গেলে রাজস্ব আদায়ে বৈপ্লবিক অগ্রগতি সম্ভব।
তবে শুধু রাজস্ব বাড়ানোই সরকারের একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। অর্থ উপদেষ্টা নিজেই সরকারের পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পরিচালন ব্যয় যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, মূলধনী ও উন্নয়ন ব্যয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা মন্থর করে দিতে পারে।
অর্থনীতিবিদরাও সতর্ক করে বলছেন, উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় (যেমন- বেতন, ভাতা, প্রশাসনিক খরচ) বেশি বাড়তে থাকলে তা সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেবে। তাই রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়েও সরকার উদ্বিগ্ন। দেশে এমন বহু মেগা প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো বছরের পর বছর ধরে চললেও কোনো সুফল দিচ্ছে না। বারবার সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতাকেই প্রমাণ করে। এই প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন, বাস্তবায়ন, তদারকি এবং মূল্যায়নের পুরো চেইনেই আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে সরকার প্রকল্প তদারকিতে একটি ‘ড্যাশবোর্ডভিত্তিক ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে বা ‘লাইভ’ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া উন্মুক্ত তথ্যনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গবেষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
এদিকে ব্যবসায়ী মহল সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানালেও এর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে গভীর কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অলীক কল্পনামাত্র।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজস্ব আদায়ের অতিরিক্ত চাপ মাঠপর্যায়ে করদাতাদের ওপর নতুন করে হয়রানির কারণ হতে পারে। তাই রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশলটি এমন হতে হবে, যাতে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি একটি ‘করদাতাবান্ধব’ প্রশাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রকৃত কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন তিনটি টাস্কফোর্স গঠন মূলত বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা। কারণ বিগত দুই দশকে রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কারের বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এবার যদি সত্যি সত্যিই তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তবেই রাজস্ব আহরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা পুরোপুরি নির্ভর করছে এই সংস্কারের সাফল্যের ওপর। সে কারণে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস খাতের এই নতুন তিন টাস্কফোর্সকে কেবল একটি রুটিন প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং একে দেশের ভঙ্গুর রাজস্ব ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপান্তরের এক চূড়ান্ত সূচনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদকক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। সেদিন স্পিকার জানিয়েছিলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এরপর গতকাল বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুকও বিষয়টি সুরাহার জন্য অনুরোধ জানান।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি জানিয়েছিলেন বিষয়টি পরীক্ষা করে জানানো হবে। সে পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন। তিনি জানান, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৭(১) ধারায় বলা আছে—‘সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদকক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং তাহার আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময়ে সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিবেন।’
স্পিকার বলেন, এ বিধিতে ২০০৬ সালে সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অষ্টম সংসদে কার্যপ্রণালি বিধি-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রিপোর্ট দেয়। ২৬ সেপ্টেম্বর এটি সংসদে গৃহীত হয়।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আপনারা যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানাবেন।’
ফাইল ছবি
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল আটটা) আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৪৮ জন। এতে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৬৬ জনে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৭৩ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এসময় হামের উপসর্গ নিয়ে যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে দুটি শিশু মারা গেছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে একটি করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০৭ জন। তাদের মধ্যে ৩৩১টি শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (১৭৫) ও বরিশাল (১৩৫)।
এছাড়া এসময় সুস্থ হয়ে ৮১৫ জন হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছেন।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯৫ দিনে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৮৯ হাজার ৯০৪ জনের মধ্যে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৪ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ জনের। এ ছাড়া ৯৫ দিনে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের (ইউএন) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক)-এর মানবিক বিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৃগস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মানবিক নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
এছাড়া নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে মানবিক অর্থায়নের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান।
তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন।
জাতিসংঘে অবস্থানকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ ২০২৬ সালের ইকোসক মানবিক বিষয়ক অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা-২-এ অংশ নেবেন।
এছাড়া তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
মন্তব্য