20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ কি চলেই এলো

করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ কি চলেই এলো

চলতি সপ্তাহে করোনা পরীক্ষা, সংক্রমণ, মৃত্যু সবকিছুই আগের চার সপ্তাহের তুলনায় বেশি। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণের পক্ষে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় মাস্ক পরায় কড়াকড়ির মধ্যে টানা পাঁচ দিন ধরে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। টানা চার দিন মৃত্যুর সংখ্যা ২০ এর বেশি। সোম থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আবার দুই মাসের সর্বোচ্চ ৩৯ জন।

প্রশ্ন উঠেছে, সরকার যে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা বলছে, সেটা কি এসেই গেল?

যদিও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসতে নারাজ। তারা বলছে, কোনো একটি সপ্তাহের প্রবণতা দিয়ে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় না। আরও কিছু দিন দেখতে হবে, তারপর বলা যাবে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি তথা মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্বের পরামর্শ না মানলে শীতে পরিস্থিতি খারাপ হবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

১৪ অক্টোবর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাস স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবশেষ এক সপ্তাহে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে সংক্রমণ শনাক্তও হয়েছে আগের তিন সপ্তাহের চেয়ে বেশি, মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে এ সপ্তাহেই বেশি।

১৪ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে ৯৪ হাজার ২৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩১১ জন। এই সময়ে মারা যান ১২২ জন।

২১ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে ৯১ হাজার ৬৩৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্ত হয় ১০ হাজার জন। মৃত্যু হয় ১৩৯ জনের।

২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৯১ হাজার ৭৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রোগী শনাক্ত হয় ১১ হাজার ৬১ জন। মারা যান ১৪৫ জন।

৪ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৪০১ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। ১০ হাজার ৭৯৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া যায়। মারা যান ১২৫ জন।

সবশেষ ১১ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে এক লাখ ২ হাজার ৭৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ হাজার ৬৪ জন রোগী পাওয়া যায়। মারা যান ১৪৬ জন।

এই সপ্তাহে দেশে সংক্রমণের হার আগের চার সপ্তাহের চেয়ে বেশি। আগের চার সপ্তাহের সংক্রমণের হার শতকরা ১০ শতাংশের মতো হলেও সবশেষ সপ্তাহে তা প্রায় ১৩ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ এলে শনাক্তের হার পাঁচ শতাশের নিচে আসার কথা। তবে এখনো শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে নামেনি।’

এক সপ্তাহ ধরে আবার শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও একে দ্বিতীয় ঢেউ বলা যাবে না বলেও মনে করেন এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘এখনও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরীও বলেন, ‘এক সপ্তাহ সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধি দিয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বলা যাবে না। আর কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে এটা নিয়ে।’

আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে আরও কিছুদিন সময় নিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।’

এই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সারা দেশ একবারে লকডাউন না করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি সবাইকে মানতে হবে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের করোনা সনদ দেখাতে হবে।

এখন অনেক মানুষ করোনার উপসর্গ দেখা দিলেও টেস্ট করাতে যায় না। কীভাবে টেস্ট বাড়ানো যায়, এ বিষয়েও ভাবার পরামর্শও দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে সরকার ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে লকডাউনের চিন্তা নেই সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘আমিসহ আমার পরিবারের সবাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। এরই মধ্যে নো মাস্ক নো সার্ভিস বাস্তবায়ন করেছে। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও বেড়েছে। আশা করা যায় আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ২১ মৃত্যু
ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা শনাক্ত ল্যাব চালু
করোনায় ৫৮ দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা পজিটিভ না নেগেটিভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য