× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
100 days of demanding womens dress freedom in Iran
google_news print-icon

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবির ১০০ দিন

ইরানে-নারীর-পোশাকের-স্বাধীনতা-দাবির-১০০-দিন-
ইরানের কুর্দি অঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) অনুসারে, ৬৯ শিশুসহ ৫০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার দুই জনকে ইতোমধ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। কমপক্ষে ২৬ জন এখন একই পরিণতির মুখে আছেন।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে চলা বিক্ষোভ ১০০তম দিনে গড়াল। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে ইরানের শাসকদের সামনে। যদিও বিক্ষোভের জন্য চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে ইরানিদের।

হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) অনুসারে, ৬৯ শিশুসহ ৫০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার দুই জনকে ইতোমধ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। কমপক্ষে ২৬ জন এখন একই পরিণতির মুখে আছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারকে ‘শেইম ট্রায়াল’ বলে অভিহিত করেছে।

দেশজুড়ে বিক্ষোভ কয়েক বছর আগেও দেখেছে ইরান। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি ২০১৮ পর্যন্ত চলেছিল। এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বরে আরেকবার বিক্ষোভের মুখে পড়ে ইরান। তবে এবারের বিক্ষোভটি একবারেই অন্যরকম।

এতে সমাজের সবস্তরের মানুষ শামিল হচ্ছেন। ইরানের মতো কট্টর ইসলামিক শাসনের দেশে বিক্ষোভটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’- স্লোগানে তারা রাজপথ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন।

বিক্ষোভে ইরানি সেলিব্রেটিরাও যুক্ত হচ্ছেন। এতে সরকারের রোষানলেও পড়ছেন তারা। অনেকে গ্রেপ্তার হচ্ছেন আবার অনেকে নির্বাসিত হচ্ছেন।

ইরানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারানেহ আলিদুস্তি। এক তরুণ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর সরকারের নিন্দা করেছিলেন তিনি। এর আগে বাধ্যতামূলক হেডস্কার্ফ ছাড়া নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন এই অভিনেত্রী। তারানেহ এখন ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে বন্দী আছেন।

তারানেহ অভিনীত ‘দ্য সেলসম্যান’ সিনেমাটি অস্কার জেতে। সিনেমাটির পরিচালক আসগর ফারহাদি ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘আমি তারানেহের সঙ্গে চারটি সিনেমায় কাজ করেছি। দেশবাসীর ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য এখন তিনি কারাগারে আছেন।

‘যদি এই ধরনের সমর্থন দেখানো অপরাধ হয়, তাহলে এই দেশের কোটি কোটি মানুষ অপরাধী।’

‘মৃত্যুর হুমকি’

পেগাহ আহাঙ্গারানিও ইরানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। গ্রেপ্তারের ভয়ে দেশ ছেড়েছেন তিনি। বিবিসি ফার্সিকে পেগাহ বলেন, ‘দুই পক্ষই উগ্রপন্থী। শাসকরা ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছেন। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোকেরাও প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

‘ইরান মাহসা আমিনি যুগে ফিরে যেতে পারে না।’

ইরানে চলমান বিক্ষোভের শুরু ১৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন দেশটির নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে ২২ বছরের এক তরুণীর মৃত্যু হয়। কুর্দি এই তরুণীর নাম মাহসা আমিনি। হিজাব ঠিক মতো না করার অভিযোগে রাজধানী তেহরান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মাহসার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি নির্যাতনে মাহসা মারা গেছেন। তবে সরকার বলছে, পুরনো শারীরিক অসুস্থতায় মৃত্যু হয়েছে তার। সেদিন সন্ধ্যা থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরে ইরানে।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবির ১০০ দিন
‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন নারীরা

আরেক সুপরিচিত ইরানি অভিনেতা হামিদ ফাররোখনেজাদ চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে একনায়ক ফ্রাঙ্কো, স্ট্যালিন এবং মুসোলিনির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন তিনি।

ইরানের বিখ্যাত সাবেক ফুটবলার আলি করিমি দুবাইয়ে থাকেন। তিনিও বিক্ষোভকে সমর্থন করেছিলেন।

করিমি বলেন, ‘ইরানি গোয়েন্দারা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসি।’

করিমি এখন তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ইরানের শাসকদের সবচেয়ে স্পষ্টবাদী সমালোচকদের একজন। ইনস্টাগ্রামে তার ১৪ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

আরেক ইরানি ফুটবল আইকন আলি দাই। বিক্ষোভে সমর্থন দেয়ায় ইরানের বিচার বিভাগ তার গহনার দোকান এবং রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে।

পাগড়ি খুলে ফেলা

ইরানের ‘জেনারেশন জেড’ কঠোর ধর্মীয় শাসনকে অস্বীকার করে। মাথার স্কার্ফ পুড়িয়ে তারা সামনে থেকে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তরুণ বিক্ষোভকারীদের আরেকটি প্রবণতা ভীষণভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা শিয়া মুসলিম ধর্মগুরুদের পেছনে লুকিয়ে থাকে। সুযোগবুঝে একপর্যায়ে তারা ধর্মগুরুদের পাগড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।

এই অপরাধে গত মাসে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজ থেকে ১৬ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মুক্তি পাওয়ার আগে ১০ দিন আরশিয়াকে আটক করা হয়। এর দুই দিন পর ছেলেটি আত্মহত্যা করে। আরশিয়ার পরিবারের অভিযোগ, আটকের সময় তাকে পেটানো হয়েছিল। তারপর আটক অবস্থায় তাকে ‘অজানা ওষুধ’ খাওয়ানো হতো। এসবের প্রভাবে আরশিয়া আত্মহত্যা করেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ কেবল প্রতিবাদকারীদের ওপরই দমন-পীড়ন করেনি। যারা হেফাজতে মারা গেছে বা নিহতদের মরদেহ বুঝিয়ে তাদের চুপ থাকার জন্য শাসায় বলে অভিযোগ আছে ঢের।

এ ধরনের চাপের ভয়ে নিহত এক বিক্ষোভকারীর ভাই মর্গ থেকে লাশ চুরি করে পালিয়ে যায় বলে একটি সূত্র বিবিসি ফার্সিকে জানিয়েছে।

কাতার বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ের পর গাড়ির হর্ন বাজিয়ে তা উদযাপন করছিলেন মেহরান সামাক। জাতীয় দলের ফুটবলাররা বিশ্বকাপে বিক্ষোভ নিয়ে কিছু না বলায়, তাদের ওপর ক্ষেপে ছিল ইরানিরা। সেদিন পুলিশ মেহরানের মাথায় সরাসরি গুলি করে তাকে হত্যা করে।

অন্য একটি পরিবার বলছে, তারা তাদের ২৩ বছর বয়সী ছেলে হামেদ সালাহশুরের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পেয়েছিলেন। হামেদ পুলিশের হেফাজতে মারা গিয়েছিলেন।

‘মৃত্যুদণ্ড এবং নির্যাতন’

এ পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই বিচারের চরম নিন্দা করেছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের অনেকেই আবার বলেছেন, জেলে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে।

বেসরকারি সংস্থা-কুর্দিস্তান হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কুর্দি-ইরানি র‌্যাপার সামান ইয়াসিন মঙ্গলবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সংগঠনটি এর আগে বলেছিল, ইয়াসিনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। ইরানের সুপ্রিম কোর্ট শনিবার তার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল বহাল রেখেছে।

বিবিসি ফার্সির কাছে আসা একটি অডিও ফাইলে ২৬ বছর বয়সী অপেশাদার বডি বিল্ডার সাহান্দ নূরমোহাম্মাদজাদেহ অভিযোগ করেন, তাকে কারাগারে বেশ কয়েকবার ‘প্রতীকী মৃত্যুদণ্ড’ দেয়া হয়েছিল।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবির ১০০ দিন
নুরমোহাম্মাদজাদেহ

নুরমোহাম্মাদজাদেহকে নভেম্বরে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা’-র (ইরানের আইনে অস্ত্র হাতে জনসাধারণের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা) অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ২৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভের কারণে যান চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

বিবিসি ফার্সি এক সাবেক বন্দীর এক্সরে ছবি হাতে পেয়েছে। যেখানে হামিদ ঘরে-হাসানলু নামে এক রেডিওলজিস্টের তিনটি পাঁজর ভেঙে গেছে দেখা যায়; তার ফুসফুসেও ছিদ্র ধরা পরে।

হামিদ ‘পৃথিবীতে দুর্নীতি’-এর জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। এটি এমন একটি অপরাধ যার সাজা মৃত্যুদণ্ড।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য হামিদকে নির্যাতন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
বিক্ষোভে সমর্থন: ইরানে অস্কারজয়ী সিনেমার অভিনেত্রী গ্রেপ্তার
ম্যান-মেইড ফাইবার উৎপাদনে আগ্রহী বিজিএমইএ-ওয়েরলিকন
বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকার যুবক তিনি
ইরানে ফাঁসির ঝুঁকিতে অনেক তরুণ
জাতিসংঘের নারী অধিকার সংস্থা থেকে ইরানকে বহিষ্কার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
What effect will the attack on Daif have on the ceasefire talks?

দাইফের ওপর হামলা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কী প্রভাব ফেলবে

দাইফের ওপর হামলা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কী প্রভাব ফেলবে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান দুর্ধর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ দাইফ। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষক খালেদ আল-গিন্দি বলেন, ‘খান ইউনিসে ইসরায়েলের শনিবারের হামলায় হামাসের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দাইফ নিহত হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি নিহত হয়ে থাকলে তা ইসরায়েলিদের জন্য বিজয়ের আখ্যান হতে পারে। তবে তা হামাসের অবস্থানকেও শক্ত করবে। কেননা এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়া হামাসের জন্য আত্মসমর্পণের শামিল বলে বিবেচিত হবে।’

হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দাইফকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করে শনিবার খান ইউনিসে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই হামলায় কমপক্ষে ৯০ জন নিহত এবং অন্তত ৩০০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

নিহতদের মধ্যে দুর্ধর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ দাইফ ছিলেন কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, তিনি ও হামাসের দ্বিতীয় কমান্ডার রাফা সালামাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘শুধু এই দুজন নয়, হামাসের সব নেতাকে হত্যা করাই ইসরায়েলের লক্ষ্য।’

কে এই মোহাম্মদ দাইফ

হামাসের সামরিক শাখা আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মেদ দাইফকে দীর্ঘদিন ধরেই হন্যে হয়ে খুঁজছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (এআইডি)। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ই‌সরায়েলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন তিনি।

দাইফকে টার্গেট করে বার বার হামলার ছক সাজিয়েছে তেলআবিব। ২০ বছর আগে ইসরায়েলের বিমান হামলায় কোনোক্রমে বেঁচে যান দায়েফ। সেই হামলায় এক চোখ, এক হাত ও দুই পা হারান তিনি। তারপর থেকে হুইলচেয়ারে বসেই হামাসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ফিলিস্তিনি গত বছর থেকে হামাসের সামরিক বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন এই দুর্ধর্ষ কমান্ডার। ওইদিন সকালে ‘আল আকসা বন্যা’ নামের ওই অভিযানের ঘোষণা দিয়ে দাইফের একটি ভয়েস রেকর্ড প্রকাশ করে হামাস।

হামলার ঠিক আগে রেডিওতে প্রকাশিত ৫৮ বছর বয়সী দাইফের ওই কমান্ড শুনে ইসরায়েলের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে হাজারো যোদ্ধা।

ষাটের দশকে গাজায় খান ইউনূস শরণার্থী শিবিরে জন্ম দাইফের। জন্মের সময় তার নাম ছিল মোহম্মদ দিয়াব ইব্রাহিম আল-মাসরি। সে সময় মিসরের দখলে ছিল গাজা। পরে দাইফ নামে পরিচিতি পান তিনি। গাজায় ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে গাজা দখল করে নেয় ইসরায়েল।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে ইসলামপন্থী ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গঠনের পরপরই দাইফ তাতে যোগ দেন বলে ধারণা করা হয়।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন হামাসের এই শীর্ষস্থানীয় নেতা। এমনকি ইন্টারনেটেও তার খুব বেশি ছবি নেই।

১৯৮৯ সালে ফিলিস্তিনের প্রথম ইন্তিফাদা বা গণজাগরণের সময় ইসরায়েলি বাহিনী দাইফকে গ্রেপ্তার করে। অবশ্য পরে তাকে ছেড়েও দেয়।

২০০২ সালে ক্বাসাম ব্রিগেডের তৎকালীন প্রধান ইসরায়েলি হামলায় নিহত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হন দাইফ। তিনি গাজাজুড়ে মাটির নিচ দিয়ে অসংখ্য সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নায়ক ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া আত্মঘাতী বোমা হামলাসহ বহু ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পরিকল্পনার জন্য তাকে দায়ী করে ইসরায়েল।

ছাড়া পাওয়ার পর থেকে দাইফ একেবারে পর্দার আড়ালে চলে গেছেন। তার চেহারা, এমনকি তিনি সুস্থ আছেন কি না, তাও ফিলিস্তিনিদের বেশিরভাগের কাছেই অজানা।

কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি হুইল চেয়ার ব্যবহার করেন। আবার অনেকে বলেছেন, তিনি হাঁটতে পারেন।

আরবিতে তার নাম ‘দাইফ’ এর অর্থ ‘অতিথি’, যা তার ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের সমার্থক।

মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ঘোষণা করেন, তিনি দাইফ, সিনওয়ার ও হামাসের নির্বাসিত সর্বোচ্চ নেতা ইসমাইল হানিয়ার গ্রেপ্তার চান। একইসঙ্গে সেসময় নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্টেরও গ্রেপ্তার চান তিনি।

দাইফের ওপর হামলা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কী প্রভাব ফেলবে

হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দাইফকে হত্যা করতে পারলে নিঃসন্দেহে ইসরায়েলের জন্য তা সর্বোচ্চ বিজয় হিসেবে চিহ্নিত হবে। অন্যদিকে হামাসের জন্য তা হবে ব্যাপক মানসিক পরাজয়। আর এই অবস্থান থেকে ইসরায়েলের ওপর আরও বেশি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠবে হামাস। আর তাতে নয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা ভেস্তে যাবে। আরও বেশি রক্তপাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে মধ্যপ্রাচ্যের এই জনপদ।

শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হামাসের সব নেতাকে হত্যার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। নেতাদের হত্যা করে গোষ্ঠীটির ওপর চাপ বাড়ানো হলে তা যুদ্ধবিরতিতে সহায়ক হবে।’

তাই দাইফকে হত্যা করতে পারলে নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি আলোচনায় আরও ইতিবাচক হতে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নেতানিয়াহু এর আগেই বলেছেন, ইসরায়েল তার লক্ষ্য (হামাসের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা) অর্জন না করা পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ শেষ করবেন না।

তবে দাইফকে ইসরায়েল যদি হত্যা করতে পারে তাহলে তা যুদ্ধবিরতি আলোচনা থেকে হামাসকে সরিয়ে দিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার মৃত্যু তাদের যুদ্ধবিরতি আলোচনার পরিবর্তে প্রতিহিংসার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষক খালেদ আল-গিন্দি বলেন, ‘ইসরায়েলিদের জন্য এটি তাদের বিজয়ের আখ্যান হতে পারে, যা তারা গত নয় মাস ধরে মরিয়া হয়ে তাড়া করে চলেছে। তবে তা হামাসের অবস্থানকেও শক্ত করবে।

‘এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়া হামাসের জন্য আত্মসমর্পণেরই শামিল বলে বিবেচিত হবে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের হামলায় দেশটির অন্তত ১ হাজার ২০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। সে সময় ২৫০ ইসরায়েলিকে জিম্মি করে নিয়ে যায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র শাসক গোষ্ঠী হামাস। ওই ঘটনার পর থেকে গাজায় ক্রমাগত হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

নয় মাসের বেশি সময় জুড়ে চলা ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৩০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হামাসের সামরিক প্রধানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৭১

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Israeli attack on mosque in refugee camp kills 15

শরণার্থী শিবিরের মসজিদে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ১৫

শরণার্থী শিবিরের মসজিদে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ১৫ ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনে নিহতদের স্বজনের আহাজারি। ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এক প্রতিবেদনে জানায়, শনিবার গাজা শহরের পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে এই হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে।

উত্তর গাজার আরও একটি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। শিবিরের একটি মসজিদ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে এই হামলা চালানো হয়।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার গাজা শহরের পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে এই হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, খান ইউনিসের মাওয়াসি এলাকার শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৭১ জন নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় আরও অন্তত ২৮৯ জন আহত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের হামলায় দেশটির অন্তত এক হাজার ২০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। সে সময় ২৫০ ইসরায়েলিকে জিম্মি করে নিয়ে যায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র শাসক গোষ্ঠী হামাস। ওই ঘটনার পর থেকে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন:
হামাসের সামরিক প্রধানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৭১
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধের সময় এসেছে: বাইডেন
যুদ্ধবিরতির চেষ্টার মধ্যে গাজায় এক দিনে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭৭
যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭
ইসরায়েলের সেনা অবস্থানে ২০০ রকেট ছুড়েছে হিজবুল্লাহ

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Israeli strike targeting Hamas military chief kills 71

হামাসের সামরিক প্রধানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৭১

হামাসের সামরিক প্রধানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৭১ ইসরায়েলের টানা আগ্রাসনে মৃত্যু নগরীতে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল নির্ধারিত ‘নিরাপদ’ এলাকা মুওয়াসির ভেতরে হামলাটি চালানো হয়, যা উত্তর রাফাহ থেকে খান ইউনিস পর্যন্ত বিস্তৃত। বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি সেখানে তাঁবু করে আশ্রয় নিয়ে আছে। তবে নিহতদের মধ্যে মোহাম্মদ দাইফ আছেন কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফিলিস্তিনে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দাইফকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় কমপক্ষে ৭১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েল নির্ধারিত ‘নিরাপদ’ এলাকা মুওয়াসির ভেতরে হামলাটি চালানো হয়, যা উত্তর রাফাহ থেকে খান ইউনিস পর্যন্ত বিস্তৃত। বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি সেখানে তাঁবু করে আশ্রয় নিয়ে আছে।

নিহতদের মধ্যে মোহাম্মদ দাইফ আছেন কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, দাইফ ও হামাসের দ্বিতীয় কমান্ডার রাফা সালামাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

হামলায় আরও অন্তত ২৮৯ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হতাহতদের বেশ কয়েকজনকে পাশের নাসের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অনেকের মতে, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার মূল কারিগর ছিলেন হামাসের এই কমান্ডার। ওই ঘটনায় এক হাজার ২০০ বেসামরিক ইসরায়েলি নিহত হয়। আর এর পর থেকে নয় মাসের বেশি সময় ধরে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।

মোহাম্মদ দাইফ বেশ কয়েক বছর ধরে ইসরায়েলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। অতীতে ইসরায়েলের একাধিক হত্যাচেষ্টা থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

দাইফকে লক্ষ্য করে এই হামলা চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দখলদারদের (ইসরায়েল) ফিলিস্তিনি নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার দাবি এটিই প্রথম নয়। কিন্তু প্রতিবারই তাদের এসব দাবি মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।

হামাসের মুখপাত্র জিহাদ ত্বহা বলেছেন, দাইফ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে যে দাবি করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন এবং (গাজায় সংঘটিত) অপরাধ ও গণহত্যার ন্যায্যতা ও তা ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যেই এগুলো রটানো হচ্ছে।

মোহাম্মদ দাইফ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। একাধিক গুপ্ত হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বলে ধারণা করা হয়। ইসরায়েলের প্রকাশিত একটি পরিচয়পত্রে তার ৩০ বছর বয়সী ছবিই এখন পর্যন্ত দেখা গেছে। এমনকি গাজায়ও খুব বেশি মানুষ তাকে দেখেননি।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধের সময় এসেছে: বাইডেন
যুদ্ধবিরতির চেষ্টার মধ্যে গাজায় এক দিনে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭৭
যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭
ইসরায়েলের সেনা অবস্থানে ২০০ রকেট ছুড়েছে হিজবুল্লাহ
যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তির ‘দ্বারপ্রান্তে’ ইসরায়েল ও হামাস

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
There is no bar to the release of the Imran couple who were acquitted in the last case

শেষ মামলায় ইমরান দম্পতি খালাস, কারামুক্তিতে বাধা নেই

শেষ মামলায় ইমরান দম্পতি খালাস, কারামুক্তিতে বাধা নেই ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি। ছবি: সংগৃহীত
ইদ্দত মামলার কারণেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জেলে আটকে আছেন। অন্য মামলাগুলোর কোনোটিতে জামিন আবার কোনোটিতে খালাস পেয়েছেন। শনিবারের এই রায়ের পর তাকে জেলে আটকে রাখার আর কোনো বিদ্যমান মামলা নেই।

কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইসলামাবাদের জেলা ও সেশন কোর্টের একজন বিচারপতি শনিবার ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে ইদ্দত মামলায় দেয়া অভিযোগ তুলে নিয়েছেন।

এই মামলাটির কারণেই পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা জেলে আটকে আছেন। অন্য মামলাগুলোর কোনোটিতে জামিন আবার কোনোটিতে খালাস পেয়েছেন। শনিবারের এই রায়ের পর তাকে জেলে আটকে রাখার আর কোনো বিদ্যমান মামলা নেই।

অনলাইন ডনের এক রিপোর্টে বলা হয়, ইমরান খান এই মামলায় প্রায় এক বছর জেলে আছেন। শনিবার দিনের শুরুতে মামলার রায় সংরক্ষিত রাখার পর স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার পর বিচারক আফজাল মাজোকা রায় ঘোষণা করেন।

আপিল গ্রহণ করে বিচারক বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলে অবিলম্বে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে মুক্তি দেয়া উচিত।

‘পিটিআই প্রধান এবং তার স্ত্রীর মুক্তির আদেশও ইস্যু করা হয়েছে।’

রিপোর্টে বলা হয়, ইমরান খানের কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। তোষাখানা ও সাইফার বা কূটনৈতিক বার্তা বিষয়ক মামলায় এর আগে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ৩ ফেব্রুয়ারি ইমরান দম্পতিকে ইদ্দত মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বুশরা বিবির সাবেক স্বামী খাওয়ার ফরিদ মানেকার মামলায় তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

ফরিদ মানেকার অভিযোগ করেন, বুশরা বিবির ইদ্দতের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই ইমরান খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। এ মামলার শুনানিতে সিনিয়র সিভিল জজ কুদরাতুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরাকে সাত বছর করে জেল এবং পাঁচ লাখ রুপি করে জরিমানা করেন।

নাগরিক সমাজ, নারী অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা আদালতের এই রায়ের কড়া সমালোচনা করেন। তোষাখানা ও সাইফার মামলায় তাদেরকে জেল দেয়ার কাছাকাছি সময়ে এই রায় দেয়া হয়।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Obamas concern about Biden

বাইডেনকে নিয়ে ওবামার শঙ্কা

বাইডেনকে নিয়ে ওবামার শঙ্কা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত
বারাক ওবামা জো বাইডেনের পুনর্নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন একাধিক ডেমোক্র্যাট সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছেন।

রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও স্পিকার উভয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কংগ্রেসের এক ডজনের বেশি সদস্য, কর্মী এবং ওবামা ও পেলোসি উভয়ের যোগাযোগে থাকা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পর বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

ওই ব্যক্তিরা বলেছেন, ওবামা ও পেলোসি দুজনই মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।

প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট বিতর্কে প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের বিপক্ষে দুর্বল ও বিব্রতকর ফলের পর নভেম্বরের নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে পদত্যাগ করতে জো বাইডেনকে সরাসরি ও ব্যক্তিগতভাবে আহ্বান জানিয়ে আসছে ডেমোক্র্যাটদের একাংশ।

২৭ জুনের বিতর্কের পর ওবামা এক এক্স বার্তায় বলেছেন, ‘বিতর্কে খারাপ রাত আসে কখনও কখনও। এমনটা ঘটতে পারে। আমাকে বিশ্বাস করুন, আমি জানি।’

এর ঠিক পরের রাতে হাউস ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিউ ইয়র্কে এক তহবিল সংগ্রহে ওবামা একই অনুভূতির পুনরাবৃত্তি করেন।

বারাক ওবামা জো বাইডেনের পুনর্নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন একাধিক ডেমোক্র্যাট সদস্য।

দুই সপ্তাহ পার হলেও এ বিষয়ে ওবামার জনসমক্ষে মন্তব্য না করার সিদ্ধান্তকে অনেক নেতৃস্থানীয় ডেমোক্র্যাট মনে করছেন যে পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়ার পরিকল্পনা তার নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এক ডেমোক্র্যাট সিএনএনকে বলেন, ‘তারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নিজের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য অপেক্ষা করছেন ও দেখছেন।’

বাইডেন প্রচার ক্যাম্পেইন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।

তবে ওবামার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা একজন ডেমোক্র্যাট বলেছেন, ‘তিনি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীর জন্য সর্বাত্মক প্রচারে নামতে চলেছেন। আমাদের মনোনীত প্রার্থী যেই হোন না কেন, তিনি নভেম্বরে সেই ব্যক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করবেন।’

ওবামা এ বছর দুটি তহবিল সংগ্রহের ইভেন্টে বাইডেনের পাশে ছিলেন।

অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ডেমোক্র্যাট স্পষ্ট করে বলেছেন যে পেলোসি বিতর্কের পর থেকে কয়েক বার বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তিনি বাইডেনের রেসে থাকার সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসাবে দেখছেন না।

পেলোসির ঘনিষ্ঠ ওই ডেমোক্র্যাট এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই আশা করছেন যে ওবামা এবং পেলোসি গত দুই সপ্তাহ ধরে ডেমোক্র্যাটদের আচ্ছন্ন করে রাখা অশান্তির অবসান ঘটাতে পারবেন।

বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ডেমোক্র্যাট বলেছেন, নির্বাচনের চার মাসের মতো সময় থাকতে আরও বেশি ক্ষতি হওয়ার আগে তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বলা দরকার।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের দায়মুক্তি বিপজ্জনক নজির: বাইডেন
তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বাইডেনের কণ্ঠে জয়ের প্রত্যয়
বাইডেনকে সরে দাঁড়াতে বলল নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় পরিষদ
বিতর্কে বাজে পারফরম্যান্স স্বীকার করে ট্রাম্পকে হারানোর প্রতিজ্ঞা বাইডেনের
বিতর্কে বাইডেনকে ‘খুব খারাপ ফিলিস্তিনি’ বললেন ট্রাম্প

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Nepal Prime Minister Pushpa Dahal deposed

নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প দাহাল ক্ষমতাচ্যুত

নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প দাহাল ক্ষমতাচ্যুত পুষ্প কমল দাহাল। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জোট সরকার থেকে দেশটির সবচেয়ে বড় দল ইউএমএল নিজেদের সরিয়ে নিলে ক্ষমতা হারাতে হয় প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহালকে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা খড়গ প্রসাদ অলি।

পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল। শুক্রবার পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জোট সরকার থেকে দেশটির সবচেয়ে বড় দল নিজেদের গুটিয়ে নিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সূত্র: এপি

প্রধানমন্ত্রী পুষ্প দাহালের জোট সরকারের ওপর থেকে ৩ জুলাই সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় জোটের সবচেয়ে বড় দল ইউএমএল। ফলে সংবিধান অনুযায়ী বাধ্য হয়ে পুষ্পকে সংসদে আস্থা ভোটের আয়োজন করতে হয়।

নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ২৭৫টি আসন রয়েছে। কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আস্থা ভোটে জিততে কমপক্ষে ১৩৮টি ভোট প্রয়োজন। কিন্তু শুক্রবারের ওই আস্থা ভোটে পুষ্প পেয়েছেন মাত্র ৬৩টি ভোট। ২৫৮ জন আইনপ্রেণেতার মধ্যে তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৯৪ জন।

পুষ্প দাহালের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে ইউএমএল হাত মেলায় দেশটির অন্যতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে। এই জোট এখন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা খড়গ প্রসাদ অলিকে নির্বাচিত করবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে নেপালে নির্বাচন হয়। এতে পুষ্প কমল দাহালের দল সংসদে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন পেলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ওই সময় থেকেই তার জোটটি নড়বড়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত এ বছরের জুলাইয়ে এসে তাকে ক্ষমতা হারাতে হলো। সবমিলিয়ে তিনি মাত্র ১৯ মাস প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নেপালের নতুন প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাওদেল
নাগরিকত্ব নিয়ে ঝামেলায় মন্ত্রিত্ব হারালেন নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Time to stop Israel Hamas war Biden

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধের সময় এসেছে: বাইডেন

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধের সময় এসেছে: বাইডেন ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কঠিন, জটিল সমস্যা রয়ে গেছে। যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে এখনও ফাঁক রয়েছে। তবে আমরা অগ্রগতি অর্জন করছি। এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে এবং এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘সময় এসেছে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধের।’

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েলের প্রতি সামগ্রিক সমর্থন সত্ত্বেও ইহুদি রাষ্ট্রটির পদক্ষেপ সম্পর্কে উদ্বেগের কথা স্বীকার করেন বাইডেন। তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহকারীদের দাবি বাতিল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন।

ওয়াশিংটনে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পর জো বাইডেন বলেন, ‘অনেক কিছু আছে, যেসব বিষয়ে আমি ইসরায়েলিদের রাজি করাতে পারতাম। কিন্তু মূল কথা হল আমাদের এখন সুযোগ আছে। এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।’

‘ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কঠিন, জটিল সমস্যা রয়ে গেছে। যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে এখনও ফাঁক রয়েছে। তবে আমরা অগ্রগতি অর্জন করছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রবণতাটি ইতিবাচক এবং আমি এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে এবং এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যা এখনই শেষ হওয়া উচিত।’

বাইডেন এক মাসেরও বেশি আগে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন যাতে ইসরায়েল সাময়িকভাবে গাজায় হামলা বন্ধ করবে এবং হামাস যোদ্ধারা জিম্মিদের মুক্তি দেবে। একইসঙ্গে ধ্বংসাত্মক নয় মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির জন্য আলোচনার মঞ্চ তৈরি হবে।

হামাস পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে ফিরে এসেছে এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার কিছু কট্টর-ডান সরকারের মিত্রদের কাছ থেকে পুশব্যাকের মুখোমুখি হয়েছেন।

তবে কূটনীতিকরা মূল মধ্যস্থতাকারী কাতারে বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া সবশেষ আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন।

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৩৮ হাজার ৩৪৫ জন নিহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

আরও পড়ুন:
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর সিনিয়র কমান্ডার নিহত
গাজায় যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি: জাতিসংঘ
সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের দায়মুক্তি বিপজ্জনক নজির: বাইডেন
তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বাইডেনের কণ্ঠে জয়ের প্রত্যয়
বাইডেনকে সরে দাঁড়াতে বলল নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় পরিষদ

মন্তব্য

p
উপরে