× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
Nirbhayas mother is now the voice of oppressed women
google_news print-icon

নির্ভয়ার মা এখন নির্যাতিত নারীদের কণ্ঠস্বর

নির্ভয়ার-মা-এখন-নির্যাতিত-নারীদের-কণ্ঠস্বর---
দিল্লিতে ২০২০ সালের ২০ মার্চ মেয়ের ধর্ষকদের ফাঁসির পর আশা দেবী তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে উদযাপন করছেন। ফাইল ছবি
৫৬ বছরের আশা দেবীর একটি পা বিকল। প্রতিদিনই তাকে ছুটতে হয় ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে। এ অবস্থা নিয়ে পাঁচ সপ্তাহ ধরে প্রতি সন্ধ্যায় তিনি দিল্লির দ্বারকা জেলায় একটি মোমবাতি প্রজ্বলন সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

১০ বছর আগে আজকের দিনে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি বাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং নির্মমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল। গুরুতর আহত তরুণী এর কয়েক দিন পর মারা যান।

ভারতীয় আইনে ধর্ষণের শিকারদের নাম উল্লেখ করা হয় না। এ কারণে মেয়েটি যখন হাসপাতালের বিছানায় জীবনের জন্য যুদ্ধ করছিল, তখন সংবাদমাধ্যম মেয়েটির নাম দেয় ‘নির্ভয়া’- মানে অকুতোভয়।

আলোচিত ঘটনাটি ভারতের পাশাপাশি গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দেশজুড়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে নারী নির্যাতনের আইন কঠোর করতে বাধ্য হয় ভারত সরকার।

মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ওই বাসের চালক। তবে ঘটনার কয়েক মাস পর জেলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ মামলায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে আরও চারজনকে ফাঁসি দেয়া হয়; অপ্রাপ্ত থাকায় একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

অপরাধটি ভারতে লিঙ্গ সহিংসতাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। ঘটনাটি নির্ভয়ার মা আশা দেবীর জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছিল।

আশা দেবীর জীবনের বড় একটা অংশ কেটেছে একজন ‘আদর্শ’ গৃহবধূ হয়ে। রান্না আর সন্তানদের দেখভাল ছিল তার জীবনের মূল লক্ষ্য। গত এক দশকে এই আশা দেবী হয়ে উঠেছেন একজন নারী অধিকারকর্মী। শুরুতে নিজের মেয়ের জন্য... এখন পুরো ভারতের মেয়েদের ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছেন তিনি।

নির্ভয়ার মা এখন নির্যাতিত নারীদের কণ্ঠস্বর
আশা দেবীর বেদনাকাতর চেহারা প্রায়ই টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ত, যা অনেক ভারতীয়কে নাড়া দেয়

দুই বছর আগে ২০২০ সালে মেয়ের ওপর হামলার অষ্টম বার্ষিকীতে ধর্ষণের শিকার সব নারীর ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করার অঙ্গীকার করেছিলেন আশা। ঘটনার কয়েক মাস পর ফাঁসিতে ঝুলানো হয় অপরাধীদের।

তিনি বলেছিলেন, ‘এভাবেই আমি আমার মেয়ের প্রতি সম্মান জানাতে পারব।’

৫৬ বছরের আশা দেবীর একটি পা বিকল। প্রতিদিনই তাকে ছুটতে হয় ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে। এ অবস্থা নিয়ে পাঁচ সপ্তাহ ধরে প্রতি সন্ধ্যায় তিনি দিল্লির দ্বারকা জেলায় একটি মোমবাতি প্রজ্বলন সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

তারা ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর জন্য ন্যায়বিচার দাবি করছেন; যাকে ১০ বছর আগে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল। এই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে সম্প্রতি ভারতের শীর্ষ আদালত মুক্ত করে দিয়েছে। আদালত জানায়, আসামিরা যে দোষী তার কোনো প্রমাণ নেই। যদিও শীর্ষ আদালতে একটি রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, তার পরও ‘ছাওলা ধর্ষণ’ মামলাটি কেউ যেন ভুলে না যায়, সেটি নিশ্চিতের জন্য আরও অনেকের সঙ্গে আশা দেবী প্রতিবাদ করছেন।

আশা দেবী বলেন, ‘কোনো দিন ১০ আবার কোনো দিন ১৫ জন হয় মিছিলে। এভাবেই আমরা প্রতিদিন প্রতিবাদ করি।

‘আমরা চাই আদালতের আদেশ প্রত্যাহার করা হোক। তাদের (কথিত ধর্ষকদের) আবার জেলে যেতে হবে।’

আসামিদের ছেড়ে দেয়ার পরদিন আশা দেবী নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমার তো এখন চুপ থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমি তা পারিনি। আমার কেবল মনে হতো কীভাবে কোর্টরুমের বাইরে বসে কাঁদতাম, মাঝে মাঝে ভীষণ একা লাগত। সে জন্য আমি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করি এবং তাদের সঙ্গে বসে কাঁদি।’

গুজরাটের আরেকটি আলোচিত ধর্ষণ ঘটনা ছিল বিলকিস বানুর মামলাটি। অভিযুক্তরা বিলকিস বানুর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে হত্যাও করেছিল। তবে অভিযুক্ত ১১ জনকে খালাস করে দেয় রাজ্য সরকার। এই বিলকিস বানুর প্রতি ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়ে একটি অনলাইন পিটিশনে সম্প্রতি আশা দেবী তার সমর্থন দেন।

ধর্ষিতাদের পাশে দাঁড়ানো এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকারদের পরামর্শ দিতে আশা দেবী তার মেয়ের নামে একটি ট্রাস্ট গড়ে তুলেছেন। এতে আছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং অনেক স্বেচ্ছাসেবক। গত কয়েক বছরে তারা কয়েক ডজন পরিবারের সঙ্গে কাজ করেছে।

আশা দেবী এখন বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার উপস্থিতি প্রায় পুলিশ এবং কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে উদ্বুদ্ধ করে। তবে আশা দেবী জানান, তার মেয়ে মারা যাওয়ার ১০ বছর কেটে গেলেও ভারতের মাটিতে কিছুই বদলায়নি।

নির্ভয়ার ওপর হামলা হয় ২০১২ সালে। সে বছর ভারতে ২৪ হাজার ৯২৩টি ধর্ষণের মামলা রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২০ সালে সংখ্যাটি ৩ হাজার ৬৭৭-এ দাঁড়িয়েছে।

আশা দেবী বলেন, ‘কাগজে আইন তৈরি হয়, প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়। তবে তার বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে।

‘এমনটা চলতে থাকলে ন্যায়বিচারের প্রতি আমাদের বিশ্বাস উঠে যাবে।’

নির্ভয়ার মা এখন নির্যাতিত নারীদের কণ্ঠস্বর
নির্ভয়ার ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ হয়

আশা দেবীর এমন তৎপর হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে তার নিজের অভিজ্ঞতা, ন্যায়বিচারের জন্য তার দীর্ঘ লড়াই। ১০ বছর আগের স্মৃতি এখনও তার চোখে পানি আনে।

তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরের মতো দিন আর কাউকে যেন দেখতে না হয়।’

নির্ভয়ার বয়স ছিল কেবল ২৩। সবে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ শেষ করছিল; একটি হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল।

ছলছল চোখে নির্ভয়ার মা বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে একটি আইডি কার্ড পেয়েছিল। দু-এক দিনের মধ্যে এ কাজে যোগ দিত।’

নির্ভয়ার ওপর নৃশংসতার দিনটি ছিল রোববার। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সে মাকে বলেছিল, ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসবে।

কয়েক ঘণ্টা পর আশা দেবী মেয়েকে হাসপাতালে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পান। সে সময় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে আশা বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন তাকে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ডাক্তার বলেছিলেন, কীভাবে কী করবেন তারা সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না।

নির্ভয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন বাসচালকসহ আরও পাঁচজন। এ সময় নির্ভয়ার পাশে ছিল তার বয়ফ্রেন্ড। তাকেও চরম মারধর করা হয়েছিল। নগ্ন ও রক্তাক্ত যুগলকে তারা রাস্তার ধারে ফেলে দিয়েছিল। কয়েকজন পথচারী তাদের পেয়ে পুলিশ ডাকে। পরে তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়।

আশা দেবী বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছিল তা এতটাই নৃশংস ছিল যে সে মরে গিয়ে যেন বেঁচে গেছে। তার পরও সে ১২ দিন বেঁচে ছিল। সবাই তার নাম রেখেছিল নির্ভয়া। সে সত্যিই সাহসী ছিল।’

চোখের পানি মুছতে মুছতে আশা বলেন, ‘হাসপাতালে সে পানির জন্য ছটফট করত। কিন্তু আমরা তাকে এক চামচ পানিও দিতে পারিনি।

‘কেবল মনে হতো কী দোষ ছিল আমার মেয়ের? কেন তাকে এত যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হলো? আমি তাকে তীব্র যন্ত্রণা পেতে দেখেছি। সেই যন্ত্রণা থেকেই আমি শক্তি সঞ্চার করেছি। তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে আমি তার ন্যায়বিচারের জন্য লড়ব।’

বিচার শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই আশা দেবীকে আদালতে দেখা যেত। তিনি বলেন, ‘একটি শুনানিও মিস করিনি। বাড়িঘর তখন ছেড়েই দিয়েছিলাম।’

নির্ভয়ার মা এখন নির্যাতিত নারীদের কণ্ঠস্বর
লড়াই না ছাড়ার সংকল্পের কথা জানাচ্ছেন আশা দেবী

এসব সত্ত্বেও মামলাটি শেষ হতে এবং ধর্ষকদের ফাঁসিতে ঝুলতে ৭ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল।

আশা দেবী বলেন, ‘সংকল্প নিয়েছিলাম, যাই হোক হাল ছাড়ব না।’

উত্তর প্রদেশের একটি পিছিয়ে পড়া জেলায় বেড়ে ওঠেন আশা দেবী। হাই স্কুলটি বাড়ি থেকে অনেক দূরে থাকায় অষ্টম শ্রেণির পর স্কুল ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে। আইনের ভাষা বোঝার জন্য তাই আশাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রায়ই আসতে হতো আশাকে। টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যেত তাকে। আশার এমন অদম্য শক্তি দেখে অনেক ভারতীয় অনুপ্রেরণা পেয়েছিল। আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, সেলিব্রিটি এবং রাজনীতিবিদরা একসময় তার পাশে দাঁড়ান। এ সময়ের মধ্যে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের মৃত্যুদণ্ড দিলে আসামিদের পরিবার এবং তাদের আইনজীবীরা রিভিউ পিটিশন দাখিল করে এবং শেষ মুহূর্তে সরকারের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চায়।

নির্ভয়ার মা এখন নির্যাতিত নারীদের কণ্ঠস্বর
ফাঁসি স্থগিত করার জন্য দোষীদের পরিবার অনেক চেষ্টা করেছিল

অধিকারকর্মীরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে গবেষণায় দেখা গেছে মৃত্যুদণ্ড আদতে অপরাধ কমায় না। এটির ফলে আরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে। কারণ অপরাধীরা প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করে।

তবে আশা দেবী মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে একজন জোরালো সমর্থক। জোর গলায় তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে উচিত বিচার।

‘কিছু মানুষ আছে যারা অভিযুক্তদের মানবাধিকারের কথা বলে। কিন্তু যে মেয়েটিকে ধর্ষণ এবং নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, তার মানবাধিকারের কথা কে বলে? মানুষের মধ্যে ভয় না কাজ করলে কিছুই বদলাবে না।’

আরও পড়ুন:
৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ভারত
ডমিঙ্গো চান না মেসির খেলা দেখুক সাকিব-মুশফিকরা
বাবাকে ৩২ টুকরা করে গভীর নলকূপে
মোদিকে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার কংগ্রেস নেতা
অরুণাচল সীমান্তে ভারত- চীন সেনাদের সংঘর্ষ, কয়েকজন আহত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Iranians are rallying to mourn Raisi

রাইসির শোকে সমাবেশ করছেন ইরানিরা

রাইসির শোকে সমাবেশ করছেন ইরানিরা
সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তার মৃত্যুর খবর প্রচার করে বলছে ‘ইরানি জাতির সেবক আয়াতুল্লাহ ইব্রাহিম রাইসি শাহাদাতের সর্বোচ্চ স্তর অর্জন করেছেন।’

শোকার্ত ইরানিরা পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শোক সমাবেশে যোগ দিতে সমবেত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে সেখানে একটি শোক র‌্যালি হবে। সোমবার একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তাবরিজে মারা যান ইব্রাহিম রাইসি।

রাইসি তার আজেরি সমকক্ষ ইলহাম আলিয়েভের সাথে তাদের দুই দেশের সীমান্তে একটি বাঁধের যৌথ উদ্বোধনে অংশ নেয়ার পর তাবরিজে ফেরার পথে হেলিকপ্টারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

রোববার বিকেলে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার মধ্যে। রাইসির হেলিকপ্টারের সাথে তার বহরের অন্য দুটি হেলিকপ্টারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে তার বহরের অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে ফিরে আসে।

সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তার মৃত্যুর খবর প্রচার করে বলছে ‘ইরানি জাতির সেবক আয়াতুল্লাহ ইব্রাহিম রাইসি শাহাদাতের সর্বোচ্চ স্তর অর্জন করেছেন।’ এতে তার ছবি দেখানো হয়েছে যেখানে তাঁকে কোরান তেলাওয়াত করতে দেখা যায়।

ইরানের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাাহিয়ান পূর্ব আজারবাইজানের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সদস্যরা এবং তার নিরাপত্তা দলের সদস্যসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাইসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে সমবেদনা আসতে থাকে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র জুড়ে শহরগুলোতে শোকার্ত লোকরা নিহত প্রেসিডেন্ট এবং তার সঙ্গীদের প্রতি শোক জানাতে বিভিন্ন সড়কে জড়ো হতে থাকে।

সোমবার রাজধানী তেহরানের সেন্ট্রাল ভ্যালিয়াসর স্কোয়ারে রাইসির প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ জড়ো হয়েছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পাঁচ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন এবং প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারকে নির্বাচনের আগে অন্তবর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় মিডিয়া পরে ঘোষণা করে যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচক আলী বাঘেরি, যিনি আমির-আব্দুল্লাহিয়ানের ডেপুটি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

তাবরিজ ত্যাগ করার পর তেহরানে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে রাইসির মরদেহ মঙ্গলবার শিয়া আলেমদের কেন্দ্রস্থল কোমে পৌঁছাবে।

বুধবার সকালে মূল শোক র‌্যালি শুরু হওয়ার আগে মঙ্গলবার রাতে তেহরানে একটি বিশাল শোক সমাবেশ এবং দোয়া অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রাইসিকে দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে এবং পরে তার নিজ শহর মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দাফন করা হবে।

অতি রক্ষণশীল রাইসি ২০২১ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছিল এমন একটি সময় যখন ইরান ব্যাপক বিক্ষোভে কেঁপে উঠেছিল এবং চিরশত্রু ইসরায়েলের সাথে হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়তে হয়েছে।

রাইসি মধ্যপন্থী হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হন। এমন সময় যখন ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং সিরিয়া, ইসরায়েল এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর সমস্ত সদস্য গাজা যুদ্ধ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ উত্তেজনার সময়ে রাইসির এই মৃত্যুতে সমবেদনার বন্যা নেমে আসছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুদ্ধের ফলে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং এরই ধারাবাহিকতায় তেহরান এপ্রিল মাসে ইসরায়েলে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও ড্রোন হামলা চালায়।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় দামেস্কে তেহরানের কনস্যুলেটকে ধ্বংস এবং দুই বিপ্লবী গার্ড জেনারেলকে হত্যা করার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করার পর এর জবাবে ইরান ওই হামলা চালায়।

রাইসির মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে একটি বক্তৃতায় তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইরানের সমর্থনের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির এটি কেন্দ্রবিন্দু।

সোমবার ইসলামি প্রজাতন্ত্র জুড়ে রাইসির অনুষ্ঠানে ইরানের পতাকার সাথে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন করা হয়।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Raisi will be buried in his birth city Mashhad

রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে

রাইসির দাফন হবে জন্ম-শহর মাশহাদে ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত
ইব্রাহিম রাইসির জন্ম মাশহাদে, ১৯৬০ সালে। তার বাবা ছিলেন একজন ধর্মীয় নেতা। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। এরপর ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের চার বছর আগে ১৫ বছর বয়সে রাইসি তার নিজের শহর মাশহাদ ছেড়ে যান।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি জন্ম-শহর মাশহাদের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি এই মাশহাদ ছেড়ে গিয়েছিলেন। তার আগে বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তাকে চিরবিদায় জানাবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান।

কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে রাইসির মরদেহ বর্তমানে তাবরিজ শহরে রয়েছে। মঙ্গলবার এখানেই প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরটিতে তিনি রোববারই ভ্রমণ করেছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে সোমবার রাতে আল জাজিরা জানায়, ইব্রাহিম রাইসির জানাজা ও দাফন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় তাবরিজ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত অন্যদের জানাজাও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিহত অন্যদের জানাজাও তাবরিজ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে মরদেহগুলো তাবরিজের একটি ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যাওয়া হবে।

ইব্রাহিম রাইসির জন্ম মাশহাদে, ১৯৬০ সালে। তার বাবা ছিলেন একজন ধর্মীয় নেতা। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। এরপর ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের চার বছর আগে ১৫ বছর বয়সে রাইসি তার নিজের শহর মাশহাদ ছেড়ে কুমে চলে যান।

আরও পড়ুন:
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা
রাইসিকে নিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সম্বন্ধে যা জানা গেল
ইরানের সঙ্গে ‘পূর্ণ সংহতি’ হামাসের
রাইসির ‘বিষাদময়’ মৃত্যুতে ‘গভীরভাবে দুঃখিত’ মোদি
মোহাম্মদ মোখবের হলেন ইরানের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Arrest warrant application against Netanyahu Hania for war crimes

যুদ্ধাপরাধে নেতানিয়াহু-হানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন

যুদ্ধাপরাধে নেতানিয়াহু-হানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন
নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য হেগভিত্তিক আদালতের প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১ এ আবেদন করা বলে জানিয়েছেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হামাসের প্রধান নির্বাহী ইসমাইল হানিয়াসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে আবেদন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খান।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং হামাসের অপর দুই শীর্ষ নেতা আল কাসেম ব্রিগেডের নেতা মোহাম্মদ দিয়াব ইব্রাহিম আল-মাসরি এবং ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছেন ওই কৌসুঁলি।

নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য হেগভিত্তিক আদালতের প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১ এ আবেদন করা বলে জানিয়েছেন তিনি।

কমপক্ষে ৮ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাদের অপরাধমূলক দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব কারণের মধ্যে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের অনাহারে রাখা, বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর শারিরীক আঘাত করা, ইচ্ছাকৃত হত্যার মতো বিষয়কে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন, ওই সময় থেকে ইসরায়েল ও গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দিয়াব ইব্রাহিম আল-মাসরি এবং ইসমাইল হানিয়ারও দায়বদ্ধতা রয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, জিম্মি করা, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতার মতো কাজের সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের যে ১২৪টি রাষ্ট্র আইসিস নামের স্থায়ী বৈশ্বিক আদালতকে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেই রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় ইসরায়েলের নাম নেই। তেমনি নাম নেই যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ারও। তাই ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং আইসিসিকে স্বীকৃতি দেয়নি এমন সব দেশে নেতানিয়াহু, হানিয়া এবং বাকি তিন জনের কোনো ঝুঁকি নেই।

আরও পড়ুন:
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা
ইরানের সঙ্গে ‘পূর্ণ সংহতি’ হামাসের
নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা ছাড়ার হুমকি সাবেক জেনারেল গানৎজের
গাজায় হামাসপ্রধান সিনওয়ারের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে প্রস্তুত হামাস: মুখপাত্র

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Raisis death could fuel tensions in the Middle East
ইরানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রেসিডেন্টসহ নয়জনের প্রাণহানি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় রসদ যোগাতে পারে রাইসির মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় রসদ যোগাতে পারে রাইসির মৃত্যু হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি নিহত হওয়ার পর সোমবার তেহরানে ভ্যালি-ই-আসর স্কোয়ারে শোকার্ত জনতা। ছবি: সংগৃহীত
লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধে ইরানের অন্য মিত্ররাও জড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যার কারণে রোববারের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার মতো অপ্রত্যাশিত মারাত্মক ঘটনাও ঘটতে পারে।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তা মিলে মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নতুন নেতার নামও ঘোষণা করা হয়েছে।

আপাতভাবে এটি নিছক দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবে রাইসিকে বহন করা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। কেননা এই অঞ্চলে ইরানের বেশ গভীর ও বিস্তৃত প্রভাব রয়েছে।

কয়েক দশক ধরে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান। যার ফলে এই দেশগুলো শক্তি প্রদর্শন করতে এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের কট্টর শত্রু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের হামলা প্রতিহত করতে পারে।

গত মাসে সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে বিমান হামলায় দুই ইরানি জেনারেল ও পাঁচ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার জবাবে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বে ইসরায়েলে ইরানের শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জর্ডান ও অন্যদের সহায়তায় ইসরায়েল প্রায় সব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।

আবার এই হামলার জবাবে ইরানের ইস্পাহান শহরে একটি বিমান প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেমের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এই হামলা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একটি সতর্ক বার্তা ছিল বলা যায়।

বছরের পর বছর ধরে দু’পক্ষের মধ্যে গোপন অভিযান ও সাইবার হামলার মতো আড়ালে যুদ্ধ চললেও গত এপ্রিলের এই হামলা-পাল্টা হামলা ছিল তাদের প্রথম সরাসরি সামরিক সংঘাত।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধে ইরানের অন্য মিত্ররাও জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে হামলা-পাল্টা হামলা বড় এক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও জাগিয়ে তুলেছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যার কারণে রোববারের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার মতো অপ্রত্যাশিত মারাত্মক ঘটনাও ঘটতে পারে।

ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসরায়েলকে ধ্বংসের শপথ নেয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখে আসছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে ইরানও নিজেকে ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখ। দেশটির শীর্ষ নেতারা বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

রোববার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি ছিলেন। গত মাসে ইসরায়েলের সমালোচনা করে রাইসি বলেন, ‘ইহুদিবাদী ইসরায়েল ৭৫ বছর ধরে ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে আসছে।

‘প্রথমত দখলদারদের বিতাড়িত করতে হবে; দ্বিতীয়ত, তারা যে ক্ষতি করেছে তার মূল্য আদায় করতে হবে এবং তৃতীয়ত, অত্যাচারী ও দখলদারকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

ধারণা করা হয়, ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে কয়েক বছর ধরে ইসরায়েল অসংখ্য হামলা চালিয়েছে।

অবশ্য রোববারের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার এই ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ইরান বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়েছে। হামাস ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায়, যা চলমান গাজা যুদ্ধের সূত্রপাতের কারণ। তবে হামাসের ওই হামলার সঙ্গে ইরান সরাসরি জড়িত ছিল এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের নেতারা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আসছেন। এ অঞ্চলে তাদের মিত্ররা অনেকদূর এগিয়েছে।

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননের উগ্রপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে প্রায় প্রতিদিনই দু’পক্ষের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষ চলছে, যার ফলে উভয় পক্ষের হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত এই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়নি। আর শেষ পর্যন্ত তা-ই যদি হয় তাহলে সেটা উভয় দেশের জন্যই বিপর্যয়কর হবে।

ইরানের আরেক মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলকে প্রতিহত করার নামে বার বার আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। এক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে আপাত সম্পর্ক নেই এমন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেও হামলা চালায় তারা। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধজাহাজও পাল্টা হামলা চালায়।

শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইরান বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও প্রভাব বিস্তার করেছিল।

ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করে আসছে যে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে ইরান পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ করছে।

বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ৯০ শতাংশের কাছাকাছি অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য।

জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার ক্যামেরা ও পরিদর্শকদের নিষিদ্ধ করেছে ইরান। পরমাণু কর্মসূচি বরাবরই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে বলে ইরান দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা মনে করে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তাদের সক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ছিল।

ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হলেও তাদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র থাকার কথা কখনোই স্বীকার করেনি।

ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর ইরান রাশিয়ার প্রধান মিত্র হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে। ইউক্রেনের শহরগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো বিস্ফোরক ড্রোনগুলো ইরানের সরবরাহ করা এমন অভিযোগ এসেছে।

তবে বার্তা সংস্থা এপি-কে এক সাক্ষাৎকারে রাইসি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করেনি।’

ইরানি কর্মকর্তারা ড্রোন সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারই বলে দেয় যুদ্ধ শুরুর পর এই অস্ত্রের সরবরাহ বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক
ইরানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি
রাইসিসহ সবার মরদেহ উদ্ধার, ইরানে ৫ দিনের শোক
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা
রাইসিকে নিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সম্বন্ধে যা জানা গেল

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
President mourns the death of Irans president and foreign minister

ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (বাঁয়ে) ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। কোলাজ: নিউজবাংলা
রাষ্ট্রপতি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান ও তাদের সফরসঙ্গীদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। খবর ইউএনবি

সোমাবার ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (নবনির্বাচিত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট) মোহাম্মাদ মোখবারকে পাঠানো এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট রাইসির দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি কঠিন সমস্যা মোকাবিলায় সাহস ও মর্যাদা আমাদের সকলের জন্য একটি মডেল ও অনুপ্রেরণা। ইরান একজন অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ নেতাকে হারাল। জনগণের প্রতি সহানুভূতি তাকে অসাধারণ করে তুলেছিল।

রাষ্ট্রপতি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আরও পড়ুন:
ইরানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
রাইসিসহ সবার মরদেহ উদ্ধার, ইরানে ৫ দিনের শোক
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Ibrahim Raisi From Religious Leader to President of Iran

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির পর ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ এক কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা ছিলেন ইব্রাহিম রাইসি। ৬৩ বছরের এই সাবেক বিচার বিভাগীয় প্রধান ব্যাপকভাবে জয়ী হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। তার বাবাও একজন ধর্মগুরু ছিলেন। তার শ্বশুর আয়াতুল্লাহ আহমাদ আলামোলহোদাও একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ এক কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা ছিলেন ইব্রাহিম রাইসি। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি অংশে রক্ষণশীলদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছিলেন তিনি। হাসান রুহানির পর ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।

৬৩ বছরের এই সাবেক বিচার বিভাগীয় প্রধান ব্যাপকভাবে জয়ী হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। তিনি এমন একটা সময়ে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ গ্রহণ করেন যখন ইরান তীব্র অর্থনৈতিক সমস্যা, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনাসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

রাইসি দায়িত্বভার গ্রহণের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ইরান। তার মধ্যে ২০২২ সালে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, গাজায় ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অন্যতম। আর গাজায় চলমান যুদ্ধের সময়েই ইরান ও ইসরায়েলের ছায়াযুদ্ধ প্রকাশ্যে চলে আসে।

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত

ইব্রাহিম রাইসির কর্মজীবন বেশ ঘটনাবহুল। বিচারবিভাগীয় ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ছিল। খুব অল্প বয়সে সাফল্য পান তিনি। কিন্তু বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে শুরু করে কট্টর পন্থার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমালোচনার শিকার হয়েছেন তিনি। এক ঝলকে দেখে নেয়া যাক তার জীবনের বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো।

ব্যক্তিগত জীবন

ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন ইব্রাহিম রাইসি। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। তার বাবাও ধর্মগুরু ছিলেন।

শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী ইসলামের নবীর বংশধরদের মতো কালো পাগড়ি পরতে দেখা যেত তাকে। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৫ বছর বয়সে কুম শহরে এক শিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেন রাইসি।

আন্তর্জাতিক আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন রাইসি। শহীদ মোতাহারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেসরকারি আইনে বিশেষীকরণসহ আইনশাস্ত্র এবং আইনের মৌলিক বিষয়ে পিএইচডি লাভ করেন তিনি।

সেখানে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায়, তিনি পশ্চিমা সমর্থিত শাহ-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেন। অবশেষে ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ-এর শাসনের পতন ঘটে।

ছাত্র অবস্থা থেকেই ইব্রাহিম রাইসিকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যেতে থাকে। পশ্চিমা সমর্থিত শাহের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর বিচার বিভাগে যোগ দেন তিনি। আয়াতুল্লাহ খামেনির কাছে প্রশিক্ষণের সময় বেশ কয়েকটি শহরে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৮১ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।

রাইসির ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। তার স্ত্রী জামিলে তেহরানের শহীদ বেহেস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।

তার শ্বশুর আয়াতুল্লাহ আহমাদ আলামোলহোদা। তিনিও একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা এবং মাশহাদ শহরে জুমার নামাজ পরিচালনা করেন।

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট
বিচার বিভাগীয় ক্ষেত্রে দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল ইব্রাহিম রাইসির। ছবি: সংগৃহীত

৪০ বছরের বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা

বিচার বিভাগীয় ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল ইব্রাহিম রাইসির। বিপ্লবের পর সবগুলো বছরই তিনি বিচারিক পদে কাজ করে এসেছেন। শুধু তাই নয়, যখন জেনারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে তিন বছর আগে আস্তান কুদস রাজাভির দায়িত্ব নেন, সেই সময়েও তিনি বিশেষ করণিক আদালতের কৌঁসুলি ছিলেন।

তার নির্বাচনি বিতর্ক এবং প্রচারাভিযানের সময় বিচার বিভাগীয় প্রধান হিসেবে নিজের কর্মকাণ্ডকে ‘সফল’ হিসেবে দাবি করলেও, অনেকেই মনে করেন তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন বিচার ব্যবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশেষত, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ছবিটা তার পূর্বসূরিদের চেয়ে খুব একটা আলাদা ছিল না।

মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং সাজা দেয়া, পরিবেশ কর্মীদের লাগাতার আটক করা, নাভিদ আফকারি এবং রুহুল্লাহ জামসহ একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের মতো বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে তার সময়কালে।

পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট এবং মেসেঞ্জার বন্ধ করে দেয়া, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাও তার দায়িত্বে থাকার সময়েই ঘটেছে বলে অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, বিচার বিভাগে চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইব্রাহিম রাইসি যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন সেগুলোর জন্য দায়বদ্ধ থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন তার এক বক্তব্যে। যদিও অনেকেই মনে করেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের যে দীর্ঘ তালিকা রয়েছে তার নিরিখে জনতাকে বোঝানোর কাজটা সহজ নয়।

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট
২০১৯ সালে প্যারিসে ইরানের বিরোধীদলীয় কর্মীরা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতদের স্মরণ করেন। ছবি: সংগৃহীত

‘ঘাতক কমিটি’র সঙ্গে যোগ

বিচার বিভাগীয় ক্ষেত্রে খুব অল্প বয়সেই সাফল্য অর্জন করেছিলেন ইব্রাহিম রাইসি। ডেপুটি কৌঁসুলি নিযুক্ত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে এক গোপন ট্রাইব্যুনাল বসে, যা ‘ঘাতক কমিটি’ নামে পরিচিত ছিল। ওই ট্রাইব্যুনালের চার বিচারপতির একজন ছিলেন রাইসি। তেহরানের ডেপুটি কৌঁসুলি পদে থাকাকালীনই ওই ট্রাইব্যুনালের অংশ ছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ইতোমধ্যে জেলে সাজা ভোগ করছেন এমন হাজার হাজার বন্দির ‘পুনর্বিচার’ করার জন্য বসানো হয়েছিল ওই ট্রাইব্যুনাল। এই সাজাপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই ছিলেন বামপন্থী বিরোধী দল মুজাহেদিন-ই খালকের (এমইকে) সদস্য, যা পিপলস মুজাহেদিন অর্গানাইজেশন অফ ইরান (পিএমওআই) নামেও পরিচিত।

ট্রাইব্যুনালে কতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল তার সঠিক সংখ্যা না জানা গেলেও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর তথ্য অনুযায়ী প্রায় পাঁচ হাজার নারী-পুরুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর তাদের গণকবর দেওয়া হয়। সমাধি আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেই মনে করা হয়।

ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নেতারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি অস্বীকার করেন না। তবে তারা আলাদাভাবে মামলাগুলো নিয়ে কোনো আলোচনাও করতে চান না। এর আইনি বিষয়েও কোনো কথা বলতে চান না তারা।

রাইসি অবশ্য এই মৃত্যুদণ্ডে তার ভূমিকার কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন। তবে একইসঙ্গে এটাও দাবি করে এসেছেন যে, আয়াতুল্লাহ খোমেনির ফতোয়া বা ধর্মীয় বিধানের কারণে এগুলো ন্যায়সঙ্গত হয়েছে।

২০১৬ সালে রাইসি, বিচার বিভাগের কয়েকজন সদস্য ও তৎকালীন ডেপুটি সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ হোসেন আলী মোন্তাজারির (১৯২২-২০০৯) মধ্যে বৈঠক চলাকালীন কথোপকথনের একটা অডিও টেপ ফাঁস হয়ে যায়।

অডিও টেপে মোন্তাজেরিকে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। এক বছর পর আয়াতুল্লাহ হোসেন আলী মোন্তাজারি খোমেনির মনোনীত উত্তরসূরি হিসেবে তার পদ হারান এবং খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হন।

২০২১ সালে গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে তার ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রাইসি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘একজন বিচারক, একজন কৌঁসুলি যদি জনগণের সুরক্ষা করে থাকেন তবে তার প্রশংসা করা উচিত...। আমি এ পর্যন্ত যেসব পদে ছিলাম সেখানে মানবাধিকার রক্ষা করতে পেরে আমি গর্বিত।’

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট

আসতান-ই কুদস্-ই রাজাভির দায়িত্ব

রাষ্ট্রীয় পরিদর্শক সংস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ইব্রাহিম রাইসি। তিনি ইরানের বিচার বিভাগের প্রথম উপ-প্রধান পদে নিযুক্ত হন এবং ২০১৪ সালে ইরানের মহাকৌঁসুলি (প্রসিকিউটার জেনারেল) পদের দায়িত্ব পান।

দু’বছর পর আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্পদশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আসতান-ই কুদস্-ই রাজাভি দেখাশোনার সব দায়িত্ব তুলে দেন রাইসির হাতে।

এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মাশহাদে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার দরগা রক্ষণাবেক্ষণ করে।

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের দাতব্য এবং অন্যান্য সংস্থা পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের হাতে।

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ, কৃষি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও আর্থিক ব্যবস্থাসহ বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব এই সংস্থার হাতে রয়েছে।

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইব্রাহিম রাইসির পক্ষে প্রচারণা। ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও রাইসিকে নিয়ে বিতর্ক

২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়ে পর্যবেক্ষকদের চমকে দিয়েছিলেন রাইসি। ওই নির্বাচনে অবশ্য তিনি জেতেননি। জিতেছিলেন ধর্মীয় নেতা হাসান রুহানি, যিনি প্রথম দফায় ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান। নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক যোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরা ইব্রাহিম রাইসি ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান পান ওই নির্বাচনে।

রাইসির বিরুদ্ধে রুহানির অভিযোগ ছিল, বিচার বিভাগের ডেপুটি প্রধান হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতির মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রায় কিছুই করেননি।

তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুহানির কাছে পরাজয় রাইসির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারেনি। ২০১৯ সালে আয়াতুল্লাহ খামেনি তাকে দেশের বিচার বিভাগের ক্ষমতাশালী পদে অধিষ্ঠিত করেন।

এরপরের সপ্তাহেই তিনি অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস বা বিশেষজ্ঞমণ্ডলীর ডেপুটি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে ৮৮ ধর্মীয় নেতার সমন্বয়ে গঠিত এই পরিষদ।

বিচার বিভাগীয় প্রধান হিসাবে ইব্রাহিম রাইসির সময়কালে বিচার ব্যবস্থায় কিছু সংস্কার হয়েছে। এর ফলে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা কমেছে এবং অবৈধ মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যাও কমেছে বলে দাবি করা হয়।

যদিও পরিসংখ্যান বলছে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বিশ্বে চীনের পরের স্থানই ইরানের। শুধু তাই নয়, ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করতে বিচার বিভাগ হাত মিলিয়েছে নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে। তারা যৌথভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এবং বিদেশে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি আছে এমন ইরানিদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মামলাও দিয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরিখে ২০১৯ সালে রাইসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাইসির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের যে তালিকা রয়েছে, সেখানে এমন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার অভিযোগ রয়েছে যারা কথিত অপরাধের সময় নাবালক ছিলেন।

২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার সময় রাইসি দেশের নির্বাহী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে এবং দারিদ্র্য, দুর্নীতি, অপমান ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে স্বতন্ত্র মঞ্চে এসেছেন বলে দাবি করেন।

নির্বাচনের চিত্র দ্রুত বদলে যায় যখন কট্টরপন্থী গার্ডিয়ান কাউন্সিল বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মধ্যপন্থী ও সংস্কারবাদী প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করে। ভিন্নমতাবলম্বী ও কিছু সংস্কারপন্থী ভোটারদের নির্বাচন বয়কট করার আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ ছিল, রাইসি যাতে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি না হন তা নিশ্চিত করতে পুরো বিষয়টা সাজানো হয়েছে।

প্রথম দফায় ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি জয় নিশ্চিত করতে পারেন। তবে ওই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪৯ শতাংশের কিছু কম, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে সর্বনিম্ন।

ইব্রাহিম রাইসি ওই বছরের আগস্ট মাসে রাষ্ট্রপতি হিসাবে চার বছরের মেয়াদ শুরু করার সময় দেশের সমস্যা সমাধানে অর্থনৈতিক উন্নতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে কোনো কূটনৈতিক পরিকল্পনা সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।

তার ইঙ্গিত ছিল ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করতে ২০১৫ সালের চুক্তি নিয়ে আলাপ আলোচনার দিকে। দীর্ঘদিন ধরেই এই চুক্তি নিয়ে কোনো ইতিবাচক উত্তর পায়নি ইরান। এরপর থেকে ইরান ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে পাল্টা জবাব দিয়েছে।

রাইসি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার পাশাপাশি তাদের আঞ্চলিক তৎপরতা রক্ষার অঙ্গীকার করেন এবং নিজেদের স্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

আলোচনায় রাইসির কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও ২০২২ সালের আগস্টে পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল বলে জানা গেছে। যদিও তৎকালীন সময়ে ইরানের পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট
মাহসা আমিনিরি ছবি নিয়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান।

সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে তেহরানে নীতি পুলিশের হাতে আটক মাহসা আমিনি নামের এক তরুণীর মৃত্যু জন্ম দেয় এক আন্দোলনের, যার নাম ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’। কর্তৃপক্ষ ওই তরুণীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কথা অস্বীকার করলেও জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান অনুযায়ী শারীরিক অত্যাচারের ফলে মৃত্যু হয়েছিল মাহসা আমিনির।

বিক্ষোভকারীদের বল প্রয়োগ করে দমন করা হয়েছিল। এই ঘটনায় নিহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৫৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সরকারের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর ৭৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

২০ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় এবং নয় যুবককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রশমিত করা গেলেও, হিজাব আইন নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ অব্যাহত ছিল। ইরানের সংসদ এবং রাইসি নতুন আইন এনে যে সমস্যার মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন, তার জবাবে অনেক নারী জনসমক্ষে তাদের চুল ঢেকে রাখা বন্ধ করে দেন।

ইব্রাহিম রাইসি: ধর্মীয় নেতা থেকে যেভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক উত্তেজনা

কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সাত বছর পর ২০২৩ সালের মার্চে রাইসি সরকার ইরানের তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক সুন্নি শক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে আকস্মিক সমঝোতা করতে রাজি হয়ে যায়।

কিন্তু ওই বছরের অক্টোবরে হামাস দক্ষিণ ইসরায়েলে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।

একই সময়ে লেবাননের হেজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন মিলিশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রদর্শনের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

এই উত্তেজনা বৃদ্ধি আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে- এমন আশঙ্কা এপ্রিলে আরও জোরদার হয় যখন ইরান প্রথমবার সরাসরি সামরিক হামলা চালায় ইসরায়েলে।

সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে প্রাণঘাতী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন মি. রাইসি।

ইসরায়েল এর জবাবে ইরানের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেই আক্রমণ অবশ্য তার সরকারকে বিচলিত করতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

রোববার ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি বাঁধ উদ্বোধনের সময় ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইরানের সমর্থনের ওপর জোর দিয়ে রাইসি বলেন, ‘ফিলিস্তিন মুসলিম বিশ্বের প্রথম ইস্যু’।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Irans new foreign minister Ali Bagheri Kani

ইরানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি

ইরানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি আলি বাঘেরি কানি। ছবি: আইআরএনএ
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনি জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মোখবারকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নিহত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি।

ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী বাহাদোরি জাহরোমি সোমবার এ ঘোষণা দেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ানের মৃত্যুর পরে মন্ত্রণালয়েরর দায়িত্ব পুনর্বন্টন করে দেশটির মন্ত্রিসভা। নির্বাহী, সংসদ ও বিচার- সরকারের তিন বিভাগের এক বৈঠকের পর ঘোষণাটি আসে।

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনি জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মোখবারকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

একটি সাক্ষাতকারে ইরানের মন্ত্রিসভার মুখপাত্র হাদি তাহান নাজিফ বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন সাপেক্ষে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান, সংসদের স্পিকার ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সমন্বয়ে গঠিত কাউন্সিল আগামী ৫০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন:
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
রাইসিসহ সবার মরদেহ উদ্ধার, ইরানে ৫ দিনের শোক
ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়: কর্মকর্তা
রাইসিকে নিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সম্বন্ধে যা জানা গেল

মন্তব্য

p
উপরে