× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
Cant judge being gay
hear-news
player
google_news print-icon

‘সমকামী হওয়ায় বিচারক হতে পারছি না’

সমকামী-হওয়ায়-বিচারক-হতে-পারছি-না
ভারতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৌরভ কিরপাল। ছবি: সংগৃহীত
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৌরভ কিরপাল বলেন, ‘কারণটি হলো আমার যৌনতা। আমি মনে করি না সরকার একজন প্রকাশ্য সমকামী ব্যক্তিকে বেঞ্চে নিয়োগ করতে চায়।’

সমকামী হওয়ার কারণে বিচারক পদে নিয়োগ আটকে আছে বলে দাবি করেছেন ভারতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৌরভ কিরপাল। তিনি বলেছেন, নিয়োগে বিলম্বের পেছনের কারণ হচ্ছে তার যৌন অভিমুখিতা।

ভারত সরকার কর্তৃক স্থগিত বিচারপতিদের নিয়োগ নিয়ে দেশটিতে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। সুপ্রিমকোর্ট এই বিচারকদের নিয়োগে অনুমোদন দেয়নি। এ কারণে সৌরভ কিরপালের বিচারক পদে নিয়োগ ২০১৭ সাল থেকে আটকে আছে।

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক এনডিটিভিকে সৌরভ বলেন, ‘কারণটি হলো আমার যৌনতা। আমি মনে করি না সরকার একজন প্রকাশ্য সমকামী ব্যক্তিকে বেঞ্চে নিয়োগ করতে চায়।’

কেন্দ্রীয় সরকার সৌরভের নিয়োগের সুপারিশে পাঁচ বছর ধরে বসে আছে; যা একজন প্রকাশ্য সমকামী ব্যক্তির ভারতীয় আদালতের বিচারক হওয়ার অপেক্ষার মেয়াদ বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
সমলিঙ্গের বিয়ের সনদ দিচ্ছে টোকিও
কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Men should be asked to build a safe world for women

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি
প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিন্নি (ছদ্মনাম)। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভালোবাসার বিয়ের দুই-তিন বছর পরই বদলে যায় স্বামীর আচরণ।

ছোটোখাটো বিষয়ে অকথ্য গালাগালি দিয়ে শুরু, দিনে দিনে তা গড়ায় মারধরে। ততদিনে তিন্নি দুই কন্যাসন্তানের জননী।

একপর্যায়ে তিন্নিকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেন স্বামী। বলা হয় শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ‘ভালো গৃহিণী’ হিসেবে সংসার করতে হবে। তবে ঘুরে দাঁড়ান তিন্নি। দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন সংসার ছেড়ে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মেয়েকে একসঙ্গে ভালো স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় বড় মেয়েকে বাবার কাছে রেখেছি। সে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে আমার কাছে আসে।’

আর ছোট মেয়ে তিন্নির স্কুলেই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিকতার কাছে একটা জায়গায় হার মেনেছি। তবে সংসার ছাড়লেও নিজের পরিচয় ছাড়িনি।’

মিরপুরের একটি এলাকায় সাবলেট বাসায় থাকেন রোজিনা আক্তার (ছদ্মনাম)। স্বামীর আগে বিয়ের কথা না জেনেই ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর আগের স্ত্রীর সঙ্গে একই বাসায় থাকতে হচ্ছে রোজিনাকে।

স্বল্পশিক্ষিত এই নারী হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় স্বামীর মারধর। আগের স্ত্রীও নিয়মিত স্বামীর মারধরের শিকার। এসব মেনে নিয়েই সংসার করছেন রোজিনা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ মানুষ, রাগ উঠলে একটু আকটু গায়ে হাত তুলবোই। খাওন পড়োন তো দিতাছে।’

সোহানা আর মিথুনের (ছদ্মনাম) তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় এক বছর আগে মিথুন দেশের বাইরে চলে যান। সোহানার সঙ্গে কাটানো কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও রয়েছে তার কাছে।

সোহানা এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চাইলে মিথুন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এই নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে সোহানার।

নারী সহিংসতা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে।

এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে- এটা বলা যাবে না। সহিংসতার ধরনে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে এবং এগুলোভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে এক ধরনের সহিংসতা ছিল যে মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেয়া হতো না, বাইরে যেতে দেয়া হতো না অথবা অনেক ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো। ওই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে। তবে মেয়েদের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি রয়েই গেছে। একেক সময় একেক ধরনের নির্দেশনা সমাজ বা পরিবার মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সিস্টেমের তো চেঞ্জ হয়নি।’

জিনাত আরা বলেন, ‘আমাদের শিকড়েই সমস্যা রেখে দেয়া হলে ডাল কেটে বা ডাল ছেঁটে কোনো লাভ নেই। কারণ শিকড় থেকে আবার সেই জিনিসটাই বের হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি কমছে না। এখন যখন মেয়েদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তারা বাইরে যাচ্ছে, চাকরি করছে। এত চাপের পরও মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। তখন আরও বেশি শারীরিকভাবে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি করেও যখন দেখছে কিছু হচ্ছে না, তখন তাদের মানসিক, সামাজিকভাবে বয়কটের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কোণঠাসা করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের সামনের রাস্তায় এক তরুণীকে হেনস্তার ঘটনায় গত ১২ জুন প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আগের দিনে মেয়েদের রান্নার জন্য মসলা বাটতে হতো। আধুনিকায়নের কারণে এখন গুঁড়া মসলা পাওয়া যাচ্ছে। সেটা সময় বাঁচিয়েছে, কিন্তু সেই মসলার নাম দেয়া হয়েছে রাঁধুনী। অর্থাৎ মেয়েরাই রান্না করবে- এটাই যেন নির্ধারিত। আধুনিকায়নের সঙ্গে মানসিকতার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।’

পুরুষ ও নারীর মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে জিনাত আরা বলেন, ‘ছেলেরা ঘরের কাজ করলে মেয়েরা সারপ্রাইজড হয়ে যায়। মেয়েরা কিন্তু বাইরে ঠিকই যাচ্ছে, আবার সমানভাবে ঘর সামলাচ্ছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের খেয়াল রাখছে।

‘তবে পুরুষ ঘরে আসেনি। তারা শুধু বাইরেই রয়ে গেছে। ঘরের কাজ যে শুধু মেয়েদের নয়- এই মানসিকতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই মেয়েদের ঘরের কাজের মূল্যায়ন হয়নি। অন্যদিকে নারীকে এখনও নারী হিসেবেই দেখতে চায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। মেয়েরা অফিসে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং কাজ তাদের দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের অবস্থার পরিবর্তনে অনেক কাজ করছি, কিন্তু পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনে খুবই কম কাজ করেছি। পুরুষের পরিবর্তন হওয়াটা খুব জরুরি। দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারে- এমন মানসিকতা পুরুষের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আনা গেলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার শুভ্রা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অনেক উদ্যোগ ও আইন রয়েছে; কিন্তু সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জামিন অযোগ্য মামলার আসামি কোনো না কোনো প্রভাব খাটিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তদন্তে গাফিলতি, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যর্থতা, সাক্ষীর অপর্যাপ্ততা, পারিপার্শ্বিক চাপ ইত্যাদি কারণে মামলাগুলো গতি হারাচ্ছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার শুভ্রা বলেন, ‘এ জন্য সবার নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটি করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কিছুদিন প্রতিবাদ, শোভাযাত্রা করে সাময়িকভাবে থামানো গেলেও এটি তো শেষ হয়ে যায় না। কারণ সহিংসতার প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে, মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আমরা মানসিকভাবে মানবিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এসব ঘটতেই থাকবে।

‘শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা লিঙ্গবৈষম্যের মানসিকতা পরিবার থেকেই শিখে বড় হয় অনেক শিশু। ভালোবাসা, বন্ধন, সমতা- এই শিক্ষাগুলো পরিবার থেকেই আসতে হবে।’

সহিংসতার পেছনে আধুনিক সময়ের প্রযুক্তিও কিছুটা দায় রয়েছে বলে মনে করেন ড. তানিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার মানুষকে পরিবার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এতে তো বন্ধন তৈরি হয় না। পরিবার থেকেই মানুষ সামাজিকতা শেখে। আর সঠিক সামাজিকতা নিয়ে বড় হলে সহিংস মনোভাব অনেক কমে আসবে।’

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে করণীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত কোনো একটি সহিংস ঘটনা কেন হলো সেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। একটা মানুষ এ রকম ঘটনা কেন ঘটাল, তার গোড়া পর্যন্ত যেতে হবে। প্রতিবাদ করেই থেমে যাওয়া যাবে না।

‘একেকটি ঘটনা একেকভাবে ঘটে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে মূল জায়গাটিতে পৌঁছাতে হবে। তারপর একেকটি কারণ ধরে সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতি তিনজন নারীর একজন সহিংসতার শিকার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Teacher gender change to marry student

ছাত্রীকে বিয়ে করতে নারী থেকে পুরুষ হলেন শিক্ষক

ছাত্রীকে বিয়ে করতে নারী থেকে পুরুষ হলেন শিক্ষক লিঙ্গ পরিবর্তন করে নিজ শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন মিরা তথা আরভ কুন্তাল। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে কল্পনা ও মিরার বিয়ের বিষয়টি একটি বিরল ঘটনা হলেও মেনে নিয়েছে তাদের পরিবার।

ভারতের রাজস্থানে লিঙ্গ পরিবর্তন করে নিজের এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন মিরা নামে এক শিক্ষক।

রোববার কল্পনা ফৌজদার নামে ওই ছাত্রীকে বিয়ের খবরটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি নিজের ছাত্রী কল্পনার প্রেমে পড়েছিলেন রাজস্থানের ভরতপুরের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক মিরা। পরে কল্পনাকে বিয়ে করার জন্য নিজের লিঙ্গ বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

লিঙ্গ পরিবর্তন করে মিরা নিজের নতুন নাম দিয়েছেন আরভ কুন্তাল।

ভারতের রাজ্য পর্যায়ে কাবাডি খেলেন কল্পনা। আগামী জানুয়ারিতে দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক কাবাডিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন তিনি। শারীরিক শিক্ষার ক্লাসে মিরার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তার।

লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়ে মিরা তথা আরভ কুন্তাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভালোবাসায় সবকিছু করা যায়। তাই আমি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মেয়ে হিসেবে জন্ম নিয়েছি, কিন্তু সব সময় ছেলে হওয়ার কথা ভাবতাম। লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচারের কথা সব সময় মাথায় ঘুরত। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমি প্রথম অস্ত্রোপচার করি।’

কল্পনাও জানান, তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষক মিরার প্রেমে পড়েছেন। অস্ত্রোপচার না করলেও তিনি তাকে বিয়ে করতেন।

ভারতে কল্পনা ও মিরার বিয়ের বিষয়টি একটি বিরল ঘটনা হলেও মেনে নিয়েছে তাদের পরিবার।

আরও পড়ুন:
দোকান বরাদ্দে তৃতীয় লিঙ্গের অগ্রাধিকার: মেয়র আতিকুল
তৃতীয় লিঙ্গের ‍দুজনের চাকরি রাজশাহী ডিসি অফিসে
স্ফুলিঙ্গ সিনেমার মুক্তির দিন চূড়ান্ত
তৃতীয় লিঙ্গের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সাভারবাসী
সব লিঙ্গের জন্য কাজ করবেন তৃতীয় লিঙ্গের দিথী

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Intersex people told stories of intense deprivation

তীব্র বঞ্চনার গল্প শোনালেন আন্তঃলিঙ্গের মানুষ

তীব্র বঞ্চনার গল্প শোনালেন আন্তঃলিঙ্গের মানুষ আন্তঃলিঙ্গ মানুষদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বঞ্চনা দূর করার দাবি জানিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক। ছবি: নিউজবাংলা
বক্তারা জানান, আন্তঃলিঙ্গীয় মানুষদের সবচেয়ে নির্মম অভিজ্ঞতা হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই পরিবার ও সমাজের চাপে লিঙ্গ অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে। পুরুষ বা নারীর শরীর বানাতে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার হচ্ছে তাদের। অনেক শিশু এতে মারাও যাচ্ছে।

লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর অন্যতম একটি গোষ্ঠী হলেও আন্তঃলিঙ্গের মানুষেরা (ইন্টারসেক্স পারসন) দেশে নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার। জৈবিক এই বৈচিত্র্যময়তাকে ‘রোগ’ হিসেবে বিবেচনা করে অনেককে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নারী বা পুরুষে রূপান্তরিত করা হয়। ট্রান্সজেন্ডার হিসেবেও বিবেচনা করা হয় তাদের।

এ ধরনের বৈষম্য দূর করে আন্তঃলিঙ্গ মানুষদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং স্বাভাবিক নাগরিক অধিকারের দাবি জানানো হয়েছে এক গোলটেবিল বৈঠকে।

বেসরকারি সংস্থা স্পেস- আ ফাউন্ডেশন ফর পিস অ্যান্ড কেয়ারের উদ্যোগে শনিবার সকালে রাজধানীর লালমাটিয়ায় এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের সেমিনার কক্ষে এ গোলটেবিল বৈঠক হয়।

সাধারণভাবে আন্তঃলিঙ্গের সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যকে সমানভাবে বিচারের প্রবণতা রয়েছে। তবে ট্রান্সজেন্ডার বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা মানসিকভাবে এমন লিঙ্গ বৈশিষ্ট্য ধারণ করেন যেটি তাদের জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে না। অর্থাৎ জন্মগত শারীরিক লিঙ্গ বৈশিষ্ট্য নারীর হলেও তারা মানসিকভাবে পুরুষের বৈশিষ্ট্য অথবা পুরুষের শরীরে নারীর বৈশিষ্ট্য ধারণ করেন।

বিপরীতে, একজন ইন্টারসেক্স ব্যক্তি এমন লিঙ্গ বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন যা স্পষ্টভাবে পুরুষ বা নারীর বৈশিষ্ট্য নয়। জাতিসংঘের ফ্যাক্টশিটে বলা হয়েছে, ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের জন্মগত যৌন বৈশিষ্ট্য (জননাঙ্গ, গোনাড এবং ক্রোমোজোম প্যাটার্ন) পুরুষ বা নারীর প্রথাগত ধারণার সঙ্গে খাপ খায় না।

স্পেস আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নারী বা পুরুষে রূপান্তরিত করার বিরোধিতা করে ১৯৯৬ সালের ২৬ অক্টোবর আমেরিকার বোস্টন শহরে সমাবেশ করেন আন্তঃলিঙ্গ অধিকারকর্মীরা। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর ২৬ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী আন্তঃলিঙ্গ সচেতনতা দিবস উদ্‌যাপন হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিলে আন্তঃলিঙ্গ জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে মো. পারভেজ, নুরে আলম, পরী, মাইমুনা আক্তার তাদের বঞ্চনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, দেশে একজন আন্তঃলিঙ্গীয় মানুষ ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত না হলেও তিনি ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে চিহ্নিত হন। বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডাররা স্বতন্ত্র লিঙ্গ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও আন্তঃলিঙ্গের মানুষের কোনো স্বীকৃতি নেই।

বৈঠকে মাইমুনা আক্তার জানান, সরকারি ও বেসরকারি নথিতে আন্তঃলিঙ্গীয় মানুষের স্বীকৃতি না থাকায় তিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না, এমনকি তাকে পাসপোর্ট দেয়া হচ্ছে না।

বক্তারা জানান, আন্তঃলিঙ্গীয় মানুষদের সবচেয়ে নির্মম অভিজ্ঞতা হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই পরিবার ও সমাজের চাপে লিঙ্গ অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে। পুরুষ বা নারীর শরীর বানাতে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার হচ্ছে তাদের। অনেক শিশু এতে মারাও যাচ্ছে।

গোলটেবিল বৈঠকে নুরে আলম জানান, কখনও নারী আবার কখনও পুরুষ বানাতে তাকে ছয়বার এ ধরনের অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে। তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে কিংবা গণপরিবহনে উঠতে পারেন না।

নুরে আলম বলেন, ‘লিঙ্গ পরিবর্তনের এই অস্ত্রোপচার অপ্রয়োজনীয় ছিল। এটি হওয়ার আগে আমি সুস্থ ছিলাম। শুধু ছেলে বা মেয়ে বানানোর জন্য এই অস্ত্রোপাচার করে আমার বর্তমান শারীরিক জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।’

বৈঠকে বক্তারা জানান, শিশু হাসপাতালে প্রায়ই এ ধরনের লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপাচার করা হচ্ছে, যেটি মানবাধিকার লংঘন। কিছু অস্ত্রোপচার দরকারি হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘পুরুষ’ বা ‘নারী’ বানাতে এটা করা হচ্ছে।

বৈঠকে জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সরকারি ও বেসরকারি নথিতে আন্তঃলিঙ্গ পরিচয়ের স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি এই জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডারেরা
ট্রান্স নারীরা ‘বিশ্ব নারী সাঁতার প্রতিযোগিতা’ থেকে নিষিদ্ধ
প্রতিবন্ধী-ট্রান্সজেন্ডারদের চাকরি দিলে কর ছাড়
হোচিমিনের পরিবার একঘরে!
ট্রান্স পুরুষের পরিপক্ব ডিম্বাণুতে জন্ম নেবে সন্তান

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Religious minorities have no holidays in the media

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোনো উৎসবে ছুটি নেই সংবাদমাধ্যমে

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোনো উৎসবে ছুটি নেই সংবাদমাধ্যমে হিন্দু. বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের কোনো উৎসবে ওই ধর্মের অনুসারী ছাড়া অন্যদের ছুটি ভোগ করার সুযোগ নেই সংবাদমাধ্যমে। ছবি: নিউজবাংলা  
হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয় দশমী, জন্মাষ্টমী, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন ও বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমায় সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে সংবাদপত্রে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই। টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও এর ব্যতিক্রম নেই।

দেশের সংবাদমাধ্যম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিয়ে কথা বললেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসবে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ছুটি নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংবাদকর্মীরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে সরকার ঘোষিত ছুটির দিনে ‘ঐচ্ছিক’ ছুটি ভোগ করার সুযোগ পান। তবে সংবাদমাধ্যমে এসব দিনে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই।

সংবাদপত্রে ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে ৯ দিনের ছুটি রয়েছে, তবে সবগুলোই ইসলাম ধর্মকেন্দ্রিক। আর টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য ধর্মীয় উৎসবকেন্দ্রিক ছুটির নিয়ম প্রতিষ্ঠান ভেদে আলাদা। তবে সেখানেও হিন্দু. বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের কোনো উৎসবে ওই ধর্মের অনুসারী ছাড়া অন্যদের ছুটি ভোগ করার সুযোগ নেই।

সংবাদপত্রে ছুটির বিষয়টি মূলত সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার’স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা নোয়াব নির্ধারণ করে। নোয়াবের সিদ্ধান্ত অনুসারে বছরে ১১দিন বন্ধ থাকে সংবাদপত্র প্রকাশনা।

এই ১১ দিনেরমধ্যে ৯ দিনই ইসলাম ধর্মকেন্দ্রিক ছুটি। এগুলো হলো: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ৩ দিন করে ৬ দিন, ঈদে মিলাদুন্নবিতে একদিন, শবে বরাতে একদিন এবং আশুরাতে একদিন। এছাড়া পহেলা বৈশাখে একদিন ও মে দিবসে একদিন ছুটি রয়েছে।

এর বাইরে জাতীয় তিন দিবসে সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে বিশেষ ব্যবস্থায় পত্রিকা বের করা হয়।

অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয় দশমী, জন্মাষ্টমী, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন ও বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমায় সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে সংবাদপত্রে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই। টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও এর ব্যতিক্রম নেই।

বিষয়টিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি ছুটি দিতে হয় সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে ছুটি থাকা উচিত। আর যদি ছুটি না দেয়, যেহেতু গণমাধ্যম প্রতিদিন মানুষের দোরগাড়ায় যায়, সেক্ষেত্রে ছুটি বাতিল হলে নিজস্ব উদ্যোগে পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

‘এক সম্প্রদায় ধর্মীয় ছুটি পেল, অন্য সম্প্রদায় পেল না এটা শোভন নয়। এটা এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা বলে আমি মনে করি।’

সাংবাদিক সংগঠন থেকে কখনও বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে এ ধরনের দাবি কখনও জানানো হয়নি। সাংবাদিক সংগঠনগুলো আলোচনা করে গণমাধ্যমের মালিক, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিডিয়ায় এ ছুটিগুলো যখন নির্ধারণ করা হয় তখন মিডিয়া মূলত সংবাদপত্র ও এজেন্সি নির্ভর ছিল। অর্থাৎ সব অফলাইনের ছিল।

‘এখন কালের বিবর্তনে অনলাইন পত্রিকা, নিউজ এজেন্সি, অনলাইনে টেলিভিশন এগুলো সব ২৪ ঘণ্টার হয়ে গেছে। মিডিয়া এখন অত্যাবশ্যকীয় সেবার আওতায় এসে গেছে। ঈদের দিনেও মানুষ সংবাদ দেখতে চায়।‘

তিনি বলেন, ‘তবে সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন মিলিয়ে গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদের ছুটির পরিমাণ বাড়ানো উচিত। নির্ধারিত উৎসবের দিনেই ছুটি নিতে হবে বিষয়টি তেমন নয়। আলোচনার মাধ্যম আগে পিছে করে ছুটি নেয়া উচিত।’

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব ধর্মীয় উৎসবে ছুটি একসময় সংবাদমাধ্যমে ছিল। তবে কালের পরিক্রমায় দেখা যায় হিন্দু বা অন্য সম্প্রদায়ের কোনো ধর্মীয় ছুটি নেই। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

‘আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলি, সব ধর্মের সমন্বয়ের কথা বলি, সব ধর্মের সমান সযোগের কথা বলি, অথচ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের উৎসবে কোনো ছুটি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করে। কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। সংবাদপত্রে ছুটি তো সরকার নয়, নোয়াব নির্ধারণ করে। তারা কেন এগুলো বিবেচনা করে না আমি ঠিক জানি না।

‘বাংলাদেশে এখন অধিকাংশ ওনার বা মালিকরাই সম্পাদক। তারা চাইলে এ সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারে।’

নোয়াব থেকে কখনও অন্য ধর্মের উৎসবে ছুটির বিষয়ে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি জানিয়ে শ্যামল দত্ত বলেন, ‘বিজয় দশমী, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিনে একদিন করে ছুটি থাকা দরকার্। এ ব্যাপারে নোয়াবকে কখনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারাও কখনও উদ্যোগ নেননি।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে নোয়াব সভাপতি ও সমকাল প্রকাশক এ কে আজাদকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে নোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমানে সদস্য দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কখনও অন্য সংবাদমাধ্যমকে কমেন্ট দিই না। আমি কোনো বিষয়ে আমার যেটা বক্তব্য সেটা নিজের কাগজে লিখি, নিজের কলমে লিখি। তাই সচারচর আমার কোনো মন্তব্য অন্য কোথাও দেখবেন না।’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা অবশ্য মনে করছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসবে সংবাদমাধ্যমে সবার জন্য ছুটি থাকার যৌক্তিকতা নেই।

গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীরা ছুটির জন্য চাকরি করেন না। তারা জানেন এটা একটা অন্যরকম পেশা। অন্য পেশা থেকে আলাদা, এখানে সময় বেশি দিতে হয়, কাজের পরিবেশ ও ঝুঁকিও বেশি।

‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম জরুরি সেবার আওতায় পড়ে। জরুরি সেবার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসা, পরিবহন, আইনশৃংখলা বাহিনী এদের মতো গণমাধ্যমকেও সবসময় ছুটি দেয়া যায় না। আমি মনে করি, সেই বিবেচনায় গণমাধ্যম সব ছুটি পাবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘টেলিভিশনে ঈদের দিনও কাজ করা হয়। সংবাদপত্র বন্ধ থাকলেও তাদের অনলাইন ভার্সন চালু থাকে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের কাজ করতে হয়।

‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে সবাই কিন্তু সব ধর্মীয় উৎসবে ছুটি দিচ্ছে না। বড়দিনে ছুটি দেয়া হয়। কারণ এটা তাদের বড় ধর্মীয় উৎসব। তেমনি আমাদের এখানে ঈদে বড় ছুটি দেয়া হচ্ছে। অন্য ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিনে স্ব স্ব ধর্মালম্বীদের ছুটি দেয়া হয়।’

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় কারণে আমরা যে অনেকগুলো ছুটি কাটাই সেগুলো সংক্ষিপ্ত করা উচিত। এর পরিবর্তে জাতীয় উৎসব হিসেবে ঈদে আর একটু বেশি ছুটি দিলে মানুষের বাড়িতে যাওয়ার ছোটাছুটি আরও সহজ করে ফেলা সম্ভব বলে আমি মনে করি।’

অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংবাদপত্রে যারা কাজ করে তারা বছরে মাত্র ১১ বা ১২ দিন ছুটি পায়। তবে অনলাইন গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদের ঈদের দিনেও কাজ করতে হয়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের নির্ধারিত ছুটি না থাকলেও তাদেরকে স্ব স্ব অফিস ছুটি দেয়।

‘তবে এসব ছুটির একটা নীতিমালা থাকা উচিত। অন্তত দুর্গাপূজায় একটি দিন ছুটি দেয়া উচিত। কারণ মুসলিমরা দু্ই ঈদে ছুটি পায়। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গা উৎসব। এজন্য গণমাধ্যমে অফিসিয়ালি একটা ছুটি দেয়া উচিত। কারণ, কাজের বাইরে পরিবারকে সময় দেয়া জরুরি।’

আরও পড়ুন:
‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি
গণমাধ্যম আইনের কিছু দিক নিয়ে সংবাদকর্মীদের আপত্তি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Same sex marriage legalized in Cuba

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে প্রতীকী ছবি
ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

কমিউনিস্ট শাসিত দেশ কিউবায় সমলিঙ্গদের বিয়ে এবং সন্তান দত্তক নেয়ার অধিকার বৈধতা পেয়েছে। এ-বিষয়ক গণভোটে কিউবানরা বিদ্যমান আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এ ঘটনাকে কিউবার এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির দীর্ঘদিনের নেতিবাচক মনোভাবের বিস্ময়কর পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

চার দশকের পুরোনো একটি ‘পারিবারিক আইনে’ বড় সংস্কার আনার পক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট দেয় কিউবার মানুষ। এই সংস্কারের ফলে দেশটির বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য বাড়তি সুরক্ষার পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বেশ কিছু অধিকার নিশ্চিত হবে।

কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় কোনো আইন নিয়ে গণভোট আয়োজনের উদাহরণ খুব বেশি নেই। বিরল সে ধরনেরই এক গণভোটে তিন-চতুর্থাংশ নাগরিক আইন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ছয় দশক আগেও কিউবায় সমপ্রেমী বিয়ে এবং সন্তান দত্তকের ভাতা পাওয়ার ঘটনা ছিল কষ্টকল্পনা।

ফিদেল কাস্ত্রো সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের পর সমপ্রেমী জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তার করা হয় অনেককে। কাস্ত্রো পরে অবশ্য ওই নিপীড়নের জন্য ক্ষমা চান। বিপ্লবের ২০ বছর পর ১৯৭৯ সালে কিউবায় সমপ্রেম বৈধতা পায়, তবে বিয়ে করার অধিকার দেয়া হয়নি।

গত এক দশকে দেশটির এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন কাস্ত্রো পরিবারেরই এক সদস্য। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর মেয়ে মারিলা কাস্ত্রো দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।

ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।

তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক রায় দিয়েছেন আইন সংস্কারের পক্ষে।

আরও পড়ুন:
প্রেমে পড়া সিলেট ও গাইবান্ধার সেই দুই তরুণী ঘরছাড়া
সঙ্গিনী থেকে বিচ্ছিন্ন নোয়াখালীর সেই তরুণী কেটেছেন হাত
ফের বিচ্ছিন্ন সেই ২ তরুণী, যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ প্রশাসনের
স্কুলছাত্রীর প্রেমে নোয়াখালী থেকে টাঙ্গাইলে তরুণী
দুই তরুণীর প্রেম, বিয়েতে পরিবারের ‘না’

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Why and how to overcome postpartum depression

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা কেন, কাটবে কীভাবে

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা কেন, কাটবে কীভাবে ছবি: সংগৃহীত
সন্তান জন্মদানের চার সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয়। যদিও এটির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বরং বিষণ্নতার তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। তবে এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ধরন অনুযায়ী এর চিকিৎসা রয়েছে।

সন্তান জন্মের পর নারীদের শারীরিক ও মানসিক কিছু পরিবর্তন ঘটে। এতে তাদের মধ্যে দেখা দেয় হতাশা, মন খারাপ। অনেক নারীই সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে দিকশূন্য হয়ে পড়েন। পরিবারের সবাই যখন নতুন অতিথিকে নিয়ে ব্যস্ত, তখন মেয়ের দিকে যেন কারও খেয়ালই নেই। এমন অবস্থায় সন্তান সামলানো, অসহায়ত্ব থেকে ভেঙে পড়েন অনেকে। এটি হতাশা থেকে হতে পারে তীব্র মানসিক সমস্যা। একে মেডিক্যালের ভাষার পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা বলা হয়। সন্তান জন্মের পর এটি বেশির ভাগ নারীর মধ্যে দেখা দেয়।

ওয়েবএমডির একটি প্রতিবেদন বলছে, এটি সন্তান জন্মদানের চার সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয়। যদিও এটির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বরং বিষণ্নতার তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। তবে এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ধরন অনুযায়ী এর চিকিৎসা রয়েছে।

এর লক্ষ্মণগুলো মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামাজিক পরিবর্তনও সম্পর্কিত। ওষুধ এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়।

এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক যে পরিবর্তন ঘটে, তা হরমোন দ্রুত কমে যাওয়ার জন্য হতে পারে। তবে হরমোন কমে যাওয়া এবং হতাশার প্রকৃত যোগসূত্র পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। যেটি স্পষ্ট তা হলো, নারীদের প্রজননের জন্য ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন হরমোন রয়েছে, গর্ভাবস্থায় যা ১০ গুণ বেড়ে যায়। প্রসবের পর সেটি খুব দ্রুত কমে যায়।

লক্ষ্মণ কী?

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার উল্লেখযোগ্য লক্ষ্মণগুলো হলো-

  • ঘুমের সমস্যা
  • ক্ষুধা না লাগা বা খাবারে অরুচি
  • তীব্র ক্লান্তি
  • ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন অর্থাৎ মুড সুইং
  • যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া

এগুলো ছাড়াও বিষণ্নতা তীব্র হলে আরও কিছু লক্ষ্মণ দেখা দিতে পারে-

  • সন্তানের প্রতি অনাগ্রহ
  • প্রচণ্ড রাগ
  • নিজেকে অসহায় মনে করা
  • কাউকে আঘাত করা
  • মনোযোগের অভাব
  • এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও আসতে পারে

চিকিৎসা

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার চিকিৎসা নানাভাবে করা যেতে পারে। সাধারণত উপসর্গের ধরন বুঝে এটি করা হয়। এর মধ্যে অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ, সাইকোথেরাপি রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক সাপোর্ট। এ সময় কাছের মানুষদের তার পাশে থাকা খুব জরুরি।

এ ক্ষেত্রে অনেকে এটি ধরে নেন, বুকের দুধ খাওয়ালে ধরে নেবেন না যে আপনি বিষণ্নতা বা সাইকোসিসের জন্য ওষুধ খেতে পারবেন না। এটি ভাবার কারণ নেই। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে অনেক নারী বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই ওষুধ খেতে পারেন।

মন্তব্য

p
উপরে