× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
All the parties failed to fulfill the quota of women leadership
hear-news
player
google_news print-icon

নারী নেতৃত্বের কোটা পূরণে ব্যর্থ সব দল

নারী-নেতৃত্বের-কোটা-পূরণে-ব্যর্থ-সব-দল
মহিলা আওয়ামী লীগের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে র‌্যালি। ফাইল ছবি
দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বা দ্বিতীয় শীর্ষ পদে আছেন নারীরা। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। তার পরও দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে নারীর সংখ্যা ইসির বেঁধে দেয়া হারের চেয়ে অনেক কম।

রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে বিধান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই বছর পার হলেও এ বিধান প্রতিপালনের চিত্র নেই প্রধান তিন দলসহ দেশের কোনো রাজনৈতিক সংগঠনেই।

দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বা দ্বিতীয় শীর্ষ পদে আছেন নারীরা। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ।

জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী; সংসদ উপনেতাও ছিলেন নারী। বিরোধীদলীয় নেতাও রওশন এরশাদ। এমনকি আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীতে শেখ হাসিনাসহ নারী আছেন চারজন। তারপরও দেশের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের চিত্রে ইসির বিধানের প্রতিফলন নেই।

সার্বিক বিচারে দলগুলোর কমিটিতে নারীর সংখ্যা ইসির বেঁধে দেয়া হারের চেয়ে অনেক কম।

রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বিধান প্রতিপালনের সময়সীমা পার হয়ে গেছে দুই বছর আগেই, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলই এখন পর্যন্ত এ শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২০০৯ (আরপিও) (সংশোধিত)-এর ৯০ বি ধারা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব কমিটিতে নারীদের জন্য কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ পদ নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত সব দলই সে সময় ইসিকে জানিয়েছিল, ২০২০ সালের মধ্যে তারা কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বিধান পূর্ণ করতে পারবেন। সে অনুযায়ী দলগুলো উদ্যোগীও হয়। বাস্তবে কোনো দলই ইসির এই বিধান পূরণ করতে পারেনি।

উদ্ভূত বাস্তবতায় বিধানটি প্রতিপালন ইস্যুতে ইসিও অনেকটা শিথিল অবস্থানে। ইসি বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ হয়তো এটা সম্ভব হবে। সে জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়াতে আরপিও সংশোধনের লক্ষ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা আইন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির একুশতম জাতীয় সম্মেলনে গঠিত ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে ১৯ জন নারী প্রতিনিধি রয়েছেন। এই সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের এর আগের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্বের হার ছিল ১৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর আগে ১৯তম কাউন্সিলের পর গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী ছিলেন ১০ জন, যা ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে বলেছিলেন, ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তার দল কাজ করছে।

দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর মহিলা লীগের এক অনুষ্ঠানে জানান, সংগঠনের কমিটিতে বর্তমানে যতসংখ্যক নারী আছেন, সেটি বাড়িয়ে দেড় ‍গুণ করতে চান তারা। আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী নেতৃত্বে নারীদের ৩৩ ভাগ প্রতিনিধিত্ব থাকার কথা, কিন্তু এখন আছে ২২ ভাগ। এ লক্ষ্য পূরণে সবাইকে আরও তৎপর হতে হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘দল এ বিষয়ে কাজ করছে। প্রতি কমিটিতেই পর্যায়ক্রমে নারীর সংখ্যা বাড়ছে, তবে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীরা রাজনীতিতে কম। যোগ্যতাসম্পন্নদের দিয়ে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের বিধান পূরণে আওয়ামী লীগ অবিচল।’

আরেক বড় দল বিএনপির কমিটিতে নারীর সংখ্যা সামান্য। ষষ্ঠ সম্মেলনের সাড়ে চার মাস পর ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ সবশেষ ৫৯২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা দেয় বিএনপি।

ঘোষিত নতুন স্থায়ী কমিটিতে ১৭ জন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন ৭৩ জন। নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্য আছেন ৫০২ জন।

নির্বাহী কমিটিতে ৩৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান, ৭ জন যুগ্ম মহাসচিব, ১০ জন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে আছেন ১৬১ জন কর্মকর্তা। বাকিরা সদস্য।

বিশাল এ কমিটিতে নারী রয়েছেন ৭১ জন। সে হিসাবে বিএনপিতে নারী নেতৃত্ব রয়েছে ১১ দশমিক ০৯ শতাংশ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে আগস্ট মাসে ১৭ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে নারী কোটায় ছয়জনের স্থান পাওয়ার কথা থাকলেও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (পদাধিকারবলে) ছাড়া কোনো নারী স্থান পাননি। যদিও এর দুই বছর পর দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমানকে যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সেলিমা রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন একজন নারী। শতাংশের হিসাব ঠিক বলতে পারব না, তবে জেলা পর্যায়ে আরও ১৫ শতাংশ নারী যুক্ত করার জন্য বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ চলছে।

‘সমস্যা হচ্ছে, উপজেলা পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব অনেকে মানতে চায় না। সে নিয়ে খানিকটা ঝামেলা পোহাতে হয়, তবে আমরা ধীরগতিতে হলেও এগোচ্ছি। শিগগিরই ৩৩ শতাংশ কোটা পূরণ হয়ে যাবে।’

জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ৩০০ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কমিটিতে নারী আছেন ১২ জন।

কমিটিতে নারী সদস্যের সংখ্যা এত কম কেন এবং কবে নাগাদ তা ৩৩ শতাংংশে উন্নীত হবে জানতে চাইলে দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে কমিটিতে নারীর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দলের আগামী সম্মেলনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে, তবে যথেষ্টসংখ্যক যোগ্য নারী রাজনীতিবিদ না পাওয়ায় কমিটিতে নারী নেতৃত্বের সংখ্যা কম রয়েছে।’

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী কোটা পূরণ না হওয়ার পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘নারী নেতৃত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণটিই হলো কলুষিত রাজনীতি। এ কারণে নারীরা রাজনীতিতে আসতে কম আগ্রহী হচ্ছেন। অন্য দুটি কারণ হলো এ দেশের সমাজব্যবস্থাও মেয়েদের রাজনীতি করাকে স্বাভাবিকভাবে নেয় না এবং রাজনৈতিক দলগুলোও ৩৩ শতাংশ নারী কোটা পূরণে আন্তরিক নয়।’

আরও পড়ুন:
মিছিল-সমাবেশে সহযোগিতা করবে পুলিশ
খালেদা, এরশাদ বহুবার মন্ত্রী হতে বলেছিলেন: বাহার
বিএনপি লুটপাট, খাওয়াদাওয়ার মধ্যে নাই: মির্জা আব্বাস
গাধা পানি ঘোলা করে খায়: কাদের
এবার নারী ক্রিকেটারদের বেতন বাড়াল ইংল্যান্ড

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Saying yes means yes Swiss parliament votes to toughen rape laws

ধর্ষণের সংজ্ঞার পরিধি বাড়াতে ভোট সুইস পার্লামেন্টে

ধর্ষণের সংজ্ঞার পরিধি বাড়াতে ভোট সুইস পার্লামেন্টে সুইজারল্যান্ড পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল কাউন্সিল। ছবি: সংগৃহীত
প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে পার্লামেন্টের সোশ্যালিস্ট দলের সদস্য তামারা ফুনিসিলো বলেন, ‘প্রতিবেশীর অনুমতি ছাড়া তার ওয়ালেট থেকে আপনি টাকা নেন না। কলিংবেল না বাজিয়ে কারও ঘরে প্রবেশ করেন না। তাহলে আমার ওয়ালেট ও ঘর কেন আমার দেহ থেকে বেশি সুরক্ষিত থাকবে?’

সংজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত করে সম্মতিহীন সব ধরনের যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করতে প্রস্তাবিত একটি আইনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল কাউন্সিলের আইনপ্রণেতারা।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় সোমবার আইনটির পক্ষে ভোট দেন ৯৯ জন আইনপ্রণেতা; বিপক্ষে ভোট দেন ৮৮ জন। ভোট দেননি তিন আইনপ্রণেতা।

ইউরোপের দেশটির বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সঙ্গমকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

দেশটির নাগরিকদের অনেকেই মনে করেন, ধর্ষণের এ সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা দরকার। তাদের মতে, ভুক্তভোগীর জেন্ডার যাই হোক না, সম্মতিহীন যেকোনো শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণের সংজ্ঞাভুক্ত করতে হবে।

সুইজারল্যান্ডে সম্মতির মাত্রা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। এমন বাস্তবতায় না বলার পর শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করতে আইন উত্থাপন করা হয় পার্লামেন্টে।

আইনটি পাস হতে পার্লামেন্টের দুই কক্ষেরই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। দুই কক্ষ একমত হওয়ার পরও আইনটি নিয়ে জনগণের ভোট নিতে পারে সরকার।

প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে পার্লামেন্টের সোশ্যালিস্ট দলের সদস্য তামারা ফুনিসিলো এটিএস নিউজকে বলেন, ‘প্রতিবেশীর অনুমতি ছাড়া তার ওয়ালেট থেকে আপনি টাকা নেন না। কলিংবেল না বাজিয়ে কারও ঘরে প্রবেশ করেন না। তাহলে আমার ওয়ালেট ও ঘর কেন আমার দেহ থেকে বেশি সুরক্ষিত থাকবে?’

গ্রিনস এমপি রাফায়েল মাহিম এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘অন্যের শরীর কোনো খোলা বার নয়।’

পার্লামেন্টের অনেক সদস্য এ মতের বিরোধিতা করে বলেন, ‘এ চিন্তা মানুষের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি করবে এবং এর চর্চা কঠিন হবে।’

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ভোটকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, পাস হলে আইনটি নারীকে যৌন সহিংসতা থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, স্পেন, সুইডেন, ডেনমার্ক, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের অনেক দেশ সম্মতিহীন যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে আসছে।

আরও পড়ুন:
ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় সংগীত শিক্ষকের কারাদণ্ড
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
ধর্ষণ মামলার আসামি ধরতে পুলিশকে বাধা, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টায় ১০ বছরের কারাদণ্ড
বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যায় জড়িতকে খুঁজছে পুলিশ

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Abandonment of morality police in Iran is uproar

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের বিলুপ্তি নিয়ে ধূম্রজাল

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের বিলুপ্তি নিয়ে ধূম্রজাল ইরানে ইসলামিক পোশাকবিধি কার্যকর করার দায়িত্ব নৈতিকতা পুলিশের ওপর। ছবি: এএফপি
ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অধিকারকর্মীরা সোমবারের প্রকাশিত খবর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এটিকে ইরানের জাতীয় ছাত্র দিবস ঘিরে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচালে শাসকদের চক্রান্ত বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী বুধবার ইরানের জাতীয় ছাত্র দিবস।

ইরানের নৈতিকতা পুলিশের বিলুপ্তি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের এই বিভাগের হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে যে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে তা সামলাতে সোমবার নৈতিকতা পুলিশকে বিলুপ্তির কথা জানান দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল।

ইরানে পুলিশের এই বিভাগটি ‘গশত-ই-এরশাদ’ নামে পরিচিত। ইসলামিক শাসনের দেশটিতে বিদ্যমান কঠোর পোশাকবিধি অমান্যকারীদের আটক করে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব এই নৈতিকতা পুলিশের ওপর। ইরানের সাবেক কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের শাসনামলে বাহিনীটি গঠন করা হয়েছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মাদ জাফর মোনতাজেরি বলেছিলেন, গশত-ই-এরশাদ নামে পরিচিত নৈতিকতা পুলিশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পোশাকবিধির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

নৈতিকতা পুলিশ ব্যবস্থা কার্যকর আছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার জন্য রোববার জানতে চাইলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান সরাসরি উত্তর দেননি।

সার্বিয়ার বেলগ্রেডে সফরে থাকা আমিরাবদুল্লাহিয়ান বলেছিলেন, ‘ইরানে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা নিয়ে কোনো আপস হয় না। এটা নিয়ে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই। সবকিছু খুব ভালোভাবে চলছে।’

সেপ্টেম্বরে ইরানের রাজধানী তেহরানে ২২ বছরের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে নৈতিকতা পুলিশ। মাহসা আমিনি নামের ওই তরুণীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি। ১৬ সেপ্টেম্বর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মাহসার মৃত্যু হয়। সেদিন সন্ধ্যা থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের জনগণ। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইরানে।

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের বিলুপ্তি নিয়ে ধূম্রজাল
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

সোমবার সকাল পর্যন্ত নৈতিকতা পুলিশের দায়িত্বে থাকা ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম স্থগিত করার কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নৈতিকতা পুলিশ বাহিনীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনতাজেরি বা সরকারের বিচার বিভাগীয় শাখার নেই।

ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অধিকারকর্মীরা সোমবারের প্রকাশিত খবর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এটিকে ইরানের জাতীয় ছাত্র দিবস ঘিরে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচালে শাসকদের চক্রান্ত বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী বুধবার ইরানের জাতীয় ছাত্র দিবস।

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের বিলুপ্তি নিয়ে ধূম্রজাল
তেহরানে একটি ম্যুরালের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী

টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জের ইরানের প্রোগ্রামের প্রধান কাসরা আরাবি টুইটারে বলেছেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির শাসন ‘নৈতিকতা পুলিশ’ বিলুপ্ত করেছে এমন প্রতিবেদনগুলো ভুয়া খবর।

“ইরানে আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের বড় বিক্ষোভ থেকে মিডিয়ার মনোযোগকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালানো হয়েছে। কেন মূলধারার মিডিয়া এই প্রসঙ্গ উপেক্ষা করল?”

আরব উপদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের চেয়ারওম্যান হান্না নিউম্যান রোববার প্রতিবেদনগুলোকেকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নিউম্যান টুইটে লেখেন, “ইরান সরকারের ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর বিল্পপতি ঘোষণা করা ছিল একটি জনসংযোগ স্টান্ট। মৃত্যুদণ্ড, নির্বিচারে আটক এবং ধর্ষণ আজও দুঃখজনক বাস্তবতা।"

তেহরান নৈতিকতা পুলিশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে…এ খবর যেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মনতাজেরি জানিয়েছিলেন, সেদিন পার্লামেন্টে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কঠোর পোশাকবিধি শিথিল করতে সংবিধান পরিবর্তনে সংস্কারবাদী এবং বিক্ষোভকারীদের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ।

গালিবাফ শনিবার বলেছিলেন, ‘দেশে সংবিধান ছাড়া আমাদের আর কোনো বৈধ দলিল নেই। একটি নতুন শাসনের জন্য আলোচনায় আমাদের ফোকাস সংবিধান বাস্তবায়নের দিকে থাকা উচিত, বিধান পরিবর্তনের দিকে নয়।’

ইরানের সংবিধান সংস্কারের দাবিকে দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতা সমর্থন করলে অথবা সর্বোচ্চ নেতা খামেনি অনুরোধ করলে, গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ধর্মের মতো ইরানের ‘অ-সংশোধনযোগ্য নীতি’ ছাড়া যেকোনো বিষয়ে গণভোটের সুযোগ হয়েছে ইরানের সংবিধানে।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Investigation report against cricketer Al Amin has been delayed again

ফের পেছাল ক্রিকেটার আল আমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

ফের পেছাল ক্রিকেটার আল আমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ক্রিকেটার আল আমিন হোসেন। ফাইল ছবি
স্ত্রী ইশরাত জাহানের অভিযোগ, তাকে অত্যাচার করে বাসা থেকে বের করে দেন আল আমিন। দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর এমন অত্যাচার চালাচ্ছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আল আমিন একটা মেয়ের সঙ্গে থাকে। এ জন্য তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন।’

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনে স্ত্রী ইসরাত জাহানের করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার আল আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ পিছিয়ে আগামী ২ জানুয়ারি ঠিক করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আতাউল্লাহর আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য দিন ঠিক ছিল। কিন্তু এদিন তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় নতুন এ দিন ঠিক করেন বিচারক।

গত ২ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় আল আমিনের বিরুদ্ধে স্ত্রী ইসরাত জাহানের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

ইশরাত জাহানের অভিযোগ তাকে অত্যাচার করে বাসা থেকে বের করে দেন আল আমিন। দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর এমন অত্যাচার চালাচ্ছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আল আমিন একটা মেয়ের সঙ্গে থাকে। এ জন্য তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন।’

মামলায় ইসরাত তার দুই সন্তানসহ বাসায় শান্তিপূর্ণভাবে থাকার অধিকারসহ মাসিক ভরণপোষণ দাবি করেছেন। জীবন ধারণের জন্য ৪০ হাজার, দুই সন্তানের ভরণ-পোষণ ও ইংলিশ মিডিয়ামে লেখাপড়া বাবদ মাসে ৬০ হাজার টাকা আল-আমিনের কাছে পাওয়ার হকদার বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইসরাত জাহান ও আল আমিনের বিয়ে হয়। তাদের দুটি ছেলে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে আল আমিন স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজখবর নেন না এবং ভরণপোষণও দেন না।

এতে আরও বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আল আমিন বাসায় এসে স্ত্রীর কাছে যৌতুকের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। ইসরাত টাকা দিতে অস্বীকার করলে আল আমিন তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন, সংসার করবেন না বলেও জানান।

ইসরাত তখন ৯৯৯ নম্বরে কল করে সাহায্য চাইলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ইসরাত জাহান। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলাও হয়।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর আল আমিন তার মায়ের মাধ্যমে জানান, ইসরাতের সঙ্গে সংসার করবেন না; সন্তানদের ভরণপোষণও দেবেন না। প্রয়োজনে বাসা থেকে বের করে দিয়ে স্ত্রীকে তালাক দেবেন।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে আল আমিন এমনটি করেছেন বলে মামলার বিবরণে দাবি করেন ইসরাত জাহান।

আরও পড়ুন:
ক্রিকেটার আল-আমিনের আদালত বদলির আবেদন নাকচ
স্ত্রীর মামলায় ক্রিকেটার আল আমিনের তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল
স্ত্রীর মামলায় আল আমিনের স্থায়ী জামিন

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
3 women referees are making history in the World Cup

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ছেন ৩ নারী রেফারি

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ছেন ৩ নারী রেফারি ফ্রেঞ্চ কাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করছেন স্টেফানি ফ্রাপার্ট। ছবি: এএফপি
বৃহস্পতিবার রাত ১ টায় জার্মানি বনাম কোস্টারিকার ম্যাচ পরিচালনা করবেন ফ্রান্সের স্টেফানি ফ্র্যাপাট,  ব্রাজিলের নেউজা বাক, ও মেক্সিকোর ক্যারেন দিয়াজ মেদিনা।

ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ম্যাচ পরিচালনা করতে যাচ্ছেন ৩ নারী রেফারি। বৃহস্পতিবার রাত ১ টায় জার্মানি বনাম কোস্টারিকার ম্যাচ পরিচালনা করবেন ফ্রান্সের স্টেফানি ফ্র্যাপাট, ব্রাজিলের নেউজা বাক, ও মেক্সিকোর ক্যারেন দিয়াজ মেদিনা।

ফ্রাপার্ট এর আগে গত মঙ্গলবার মেক্সিকো ও পোল্যান্ডের ম্যাচে চতুর্থ অফিসিয়ালের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ফ্রাপার্ট বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের চাপ নিয়ে ওয়াকিবহাল। সেটাতে আমাদের কাজে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আমাদের শান্ত, ফোকাসড থাকতে হবে। মিডিয়া ও অন্য কোথায় কে কী বলছে সেটা নিয়ে বেশি ভাবা যাবে না। মাঠের কাজেই আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।’

আল বাইত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ। ফ্রাপার্ট জানিয়েছেন, ম্যাচ পরিচালনা করতে তাকে নারী হিসেবে কখনই কোনো বিপাকে পড়তে হয়নি।

তিনি যোগ করেন, ‘শুরু থেকেই আমি ক্লাব ও খেলোয়াড়দের সমর্থন পেয়ে এসেছি। স্টেডিয়ামেও আমাকে সবসময় স্বাগত জানানো হয়েছে। নিজেকে অন্য রেফারিদের থেকে আলাদা মনে হয়নি। বিশ্বকাপেও একইভাবে স্বাগত জানানো হবে আশা করছি।’

ফ্রাপার্ট তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য মাইলফলক স্থাপন করেছেন। প্রথম নারী রেফারি হিসেবে তিনি ২০১৯ সালের আগস্টে ইউয়েফা সুপার কাপ, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ২০২২ সালের মে মাসে ফ্রেঞ্চ কাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

এবারের বিশ্বকাপের তালিকাভুক্ত বাকি দুই নারী রেফারি হলেন রুয়ান্ডার সালিমা মুকানসাঙ্গা ও জাপানের ইয়োশিমি ইয়ামাশিতা।

আরও পড়ুন:
নকআউটের আগে আর্জেন্টিনার পোল্যান্ড-বাধা
ইরানের স্বপ্ন ভেঙে পরের রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র
গ্রুপ সেরা হয়েই নকআউটে ইংল্যান্ড

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
The girl who stopped the marriage by going to the police station got GPA five

থানায় গিয়ে বিয়ে ঠেকানো মেয়েটি পেল জিপিএ ফাইভ

থানায় গিয়ে বিয়ে ঠেকানো মেয়েটি পেল জিপিএ ফাইভ মায়ের সঙ্গে জিপিএ ফাইভ পাওয়া শ্রাবন্তী (ডানে)। ছবি: নিউজবাংলা
ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে শ্রাবন্তী পরীক্ষা দিয়েছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘শ্রাবন্তী শুধু নিজের জন্য নয়, আমার প্রতিষ্ঠানের জন্যও গৌরব বয়ে এনেছে। শ্রাবন্তীর এই সাফল্য ও বাল্যবিয়ে রোধ করার সাহসী মনোবল একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে ঠিক হয়েছিল শ্রাবন্তী সুলতানার। তবে তাতে রাজি ছিল না সে। পরে একাই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে বাল্যবিয়ের অভিযোগ দেয়। পুলিশ গিয়ে তার পরিবারকে বুঝিয়ে বিয়ে বাতিল করে। তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে পড়াশোনার খরচ চালানোর দায়িত্ব নেয় স্থানীয় প্রশাসন।

সেই শ্রাবন্তী এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, পেয়েছে জিপিএ ফাইভ। পড়া শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হতে চায় সে।

সাহসী এই কিশোরীর রেজাল্টে গর্বিত তার মা ও স্কুলের শিক্ষকরা।

শ্রাবন্তী বলে, ‘আমি নিজের বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে অনেক মেয়ে সেটা পারছে না। পরিবারের চাপে বাল্যবিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে অকালে ঝরে পড়ছে অনেকে।

‘আমি সমাজে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই।’

শ্রাবন্তীর মা বিউটি খাতুন বলেন, ‘আমি একটি মুড়ির কারখানায় কাজ করি... আমার স্বামী ও ছেলে থাকে যশোরে। অভাবের সংসারে মেয়েকে লেখাপড়া করানোর সাধ্য ছিল না। তাই গত বছর তার বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই।

‘কিন্তু আমার মেয়ে পড়তে চেয়েছিল। আমরা বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় সে থানায় গিয়ে হাজির হয়। তারপর পুলিশ এসে আমাদের বুঝালে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। আমার মেয়ে খুব মেধাবী। আমি তার ফলে খুব সন্তুষ্ট। যত কষ্টই হোক না কেন, আমি আমার মেয়েকে সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলব।’

ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে শ্রাবন্তী পরীক্ষা দিয়েছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘শ্রাবন্তী শুধু নিজের জন্য নয়, আমার প্রতিষ্ঠানের জন্যও গৌরব বয়ে এনেছে। শ্রাবন্তীর এই সাফল্য ও বাল্যবিয়ে রোধ করার সাহসী মনোবল একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

গত বছর সেপ্টেম্বরে বিয়ে ঠিক হয়েছিল শ্রাবন্তীর। পুলিশ নিয়ে এসে বাসায় বুঝিয়ে বিয়ে বাতিল করায় সে। তার এই পদক্ষেপের কারণে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সেইবার শ্রাবন্তীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। পড়াশোনার খরচ চালিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছিল তাকে। স্কুলে যাতায়াতের খরচের বিষয়ে সহযোগিতা করেন তৎকালীন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।

পড়াশোনা চালিয়ে নিতে এই সহায়তা পাওয়ায় পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে শ্রাবন্তী ও তার পরিবার।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ ফাইভ, এগিয়ে মেয়েরা
চট্টগ্রামে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ ফাইভ
এসএসসির সাফল্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
পাসের হারে সিলেট কেন তলানিতে
এবার পরীক্ষার্থী কমলেও ফেল বেড়েছে লাখের বেশি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Conflict disasters multiply the plight of women PM

ক্ষমতায়ন না হলে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না: প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতায়ন না হলে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না: প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সোমবার সকালে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা প্রশ্নাতীত, নারীরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ; বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তারা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, অপুষ্টি, অশিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার শিকার। যেকোনো সংঘাত ও দুর্যোগে তাদের দুর্দশা বহু গুণ বেড়ে যায়।’

নারীরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেকোনো সংঘাত ও দুর্যোগে তাদের দুর্দশা অনেক গুণ বেড়ে যায়।

তিনি বলেছেন, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন না হলে সমাজে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না।

ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সোমবার সকালে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

নারীদের শান্তি ও নিরাপত্তার সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ নারী শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই রেজুলেশন প্রণয়নে অংশ নিতে পেরে বাংলাদেশ গর্বিত।’

ক্ষমতায়ন না হলে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সোমবার সকালে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি সেমিনারে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এটা প্রশ্নাতীত, নারীরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ; বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তারা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, অপুষ্টি, অশিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার শিকার। যেকোনো সংঘাত ও দুর্যোগে তাদের দুর্দশা বহু গুণ বেড়ে যায়।’

ক্ষমতায়ন না হলে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না: প্রধানমন্ত্রী
ঝড়ে বিধ্বস্ত বাড়ির উঠানে এক নারী। ছবি: ইউএন উইমেন

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতায়ন না হলে সমাজে নারীর অবস্থার উন্নতি হতো না। আমার সরকার নারী নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। নীতির অধীনে আমরা মূলধারার আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীদের সার্বিক উন্নয়ন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের ক্ষমতায়নের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার ব্যবস্থা নিয়েছি।

‘রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা, খেলাধুলা, সশস্ত্র বাহিনী ইত্যাদি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক দৃশ্যপটকে বদলে দিয়েছে।’

জেন্ডার সমতায় বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণের কারণে বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা সব ক্ষেত্রেই উন্নত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গ সমতায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।’

নারীদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে তার কন্যা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের রাষ্ট্র গঠনের শুরুতেই লিঙ্গ সমতার সারমর্মটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছিলেন। সমান সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমরা জাতীয় উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত স্তরে যেতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে। সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: রাষ্ট্র শুধু ধর্ম-জাতি-বর্ণ-লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। একই অনুচ্ছেদের (২) ধারায় বলা হয়েছে: রাষ্ট্র ও জনজীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকবে।’

আরও পড়ুন:
‘নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের কারণ’
খালেদা-তারেকের সঙ্গে সংলাপ কেমন কথা: প্রধানমন্ত্রী
সঞ্চয় বাড়ান, মিতব্যয়ী হোন: প্রধানমন্ত্রী
৬০০ নারীর অংশগ্রহণে ‘পশিয়ান কনফারেন্স’
এখন সবাই রিজার্ভ বিশেষজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Online violence against women increased by 132 percent

অনলাইনে নারী সহিংসতা বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ

অনলাইনে নারী সহিংসতা বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ রোববার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ পরিচালিত অনলাইন সমীক্ষার তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দেশে ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছে, যা গত বছর  ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ। সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় সমীক্ষাটি চালানো হয়।

দেশে অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতা বেড়েছে। গত এক বছরে এই বৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালে দেশে ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

চলতি বছরে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ পরিচালিত এক অনলাইন সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে রোববার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট- এই ছয় জেলায় অনলাইন জরিপের মাধ্যমে সমীক্ষাটি করা হয়। এতে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৫৯ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২২ সালে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে বেশি ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অনলাইন সহিংসতার শিকার হন ফেসবুকে। এছাড়া ম্যাসেঞ্জারে ৩৫ দশমিক ৩৭, ইনস্টাগ্রামে ৬ দশমিক ১১, ইমোতে ৩ দশমিক ০৬, হোয়াটসঅ্যাপে ১ দশমিক ৭৫ ও ইউটিউবে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার সম্মুখীন হন। এর বাইরে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নারী বলেছেন যে তারা ভিডিও কল, মোবাইল ফোন ও এসএমএস-এর মাধ্যমে হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।

চলতি বছরের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার মধ্যে ঘৃণ্য ও আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ মন্তব্য, ৫৩ দশমিক ২৮ শতাংশ নারী ইনবক্সে যৌনতাপূর্ণ ছবি গ্রহণ ও যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব এবং ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ নারী বৈষম্যমূলক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন।

১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের নামে অন্য কেউ অনলাইনে নকল আইডি তৈরি করায় হয়রানির শিকার হয়েছেন। ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বলেছেন যে তাদের কার্যকলাপ সবসময় সাইবার স্পেসে অনুসরণ করা হয় এবং ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বলেছেন যে তাদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হয়েছে এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যৌন নিপীড়নের হুমকি পেয়েছেন।

এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ৩ দশমিক ০৬ শতাংশের মতে, যৌন নিপীড়নের সময় তাদের ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল এবং সেগুলো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। ২ দশমিক ৬২ শতাংশ নারী বলেছেন, তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি গোপনে পোস্ট করা হয় এবং পরে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থের জন্য ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বলেছেন যে তাদের ছবি সম্পাদনা করে পর্নোগ্রাফি সাইটে প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন সহিংসতার কারণে নারীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব হলো মানসিক আঘাত, হতাশা এবং উদ্বেগ- ৬৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা বা মতামত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আস্থা হারানো- ৪২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ট্রমার শিকার হয়েছেন এবং ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ আত্মমর্যাদা হারিয়েছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, অনলাইন সহিংসতা ও হয়রানির কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা নারীর আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং ৮৫ শতাংশের বেশি ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ জমা না দিয়ে নীরব ছিলেন। যদিও তারা বিভিন্ন উপায়ে অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন-এর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ জাতীয় জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ নিকটস্থ থানায়, ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ সাইবার ক্রাইমের ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সিটিটিসি ও ডিএমপির মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয়, বেশিরভাগ নারী মনে করেন বিদ্যমান অভিযোগের প্রক্রিয়াগুলো কার্যকর নয়। তাই ২৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ নারী কোনো অভিযোগ জমা দিতে আগ্রহ দেখাননি। ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ তাদের জমা দেয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখেননি। সামাজিক কলঙ্ক, ভুক্তভোগী দোষারোপ এবং গোপনীয়তা হারানোর ভয়ে ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ নারী অনলাইনের মাধ্যমে বেনামে অভিযোগ করতে চান।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ নারীই বলেছেন, তারা অনলাইনে সহিংসতা ও নারীর প্রতি হয়রানির বিষয়ে কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা দেখেননি। ৭৩ দশমিক ০৯ শতাংশ বলেছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এছাড়া ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ০৮ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সারের মাধ্যমে এবং ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখেছেন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা নতুন কিছু নয় এবং এটি এখনও বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যমান। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র- প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন হচ্ছে এবং এর নানারকম বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে। এর নতুন এক মাধ্যম হলো অনলাইন, এই প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে নারীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কিশোরী ও ১৮ বছরের নিচের কন্যা শিশুরা এর শিকার বেশি হচ্ছে। সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করলে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

মন্তব্য

p
উপরে