× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
Flowers and cake at grave for Mahsa Aminis 23rd birthday
hear-news
player
google_news print-icon

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক

মাহসা-আমিনির-২৩তম-জন্মদিনে-কবরে-ফুল-আর-কেক
মাহসা আমিনি গতবারও কেক কেটে নিজের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন (বাঁ থেকে তৃতীয়), পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর পর এবার তার কবরে ফুল আর কেক দিয়ে জন্মদিন পালন করেন শোকার্তরা (ডানে)। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বেঁচে থাকলে ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার ২৩ বছরে পা দিতেন মাহসা আমিনি। এ ঘটনা আরও আবেগতাড়িত করছে আন্দোলনকারীদের। ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজে ১৭ সেপ্টেম্বর মাহসাকে দাফন করা হয়। জন্মদিনে সেই কবর ফুলে ঢেকে দেন শোকার্ত বিক্ষোভকারীরা। কবরের ওপরেই কাটা হয় কেক।  

ইরানে ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া মাহসা আমিনি গোটা দেশে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

মাহসার মৃত্যুর ঘটনায় টানা বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
মাহসা আমিনি

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এর ঠিক পাঁচ দিন পরেই ছিল মাহসার জন্মদিন।

বেঁচে থাকলে ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার ২৩ বছরে পা দিতেন মাহসা আমিনি। এ ঘটনা আরও আবেগতাড়িত করছে আন্দোলনকারীদের। ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজে ১৭ সেপ্টেম্বর মাহসাকে দাফন করা হয়। জন্মদিনে সেই কবর ফুলে ঢেকে দেন শোকার্ত বিক্ষোভকারীরা। কবরের ওপরেই কাটা হয় কেক।

মাহসার বাবা ডয়চে ভেলে ফার্সিকে বলেন, ‘সে (মাহসা) বেঁচে থাকলে আজ ৩০ শাহরিভার নিজের জন্মদিন উদযাপন করত। সে ছিল ছোট্ট স্বপ্ন দেখা এক তরুণী। তার চলে যাওয়া বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।’

পার্সিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাহরিভার মাসের ৩০ তারিখ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ২১ সেপ্টেম্বর। এ বছর এই তারিখটি ছিল গত বুধবার।

জন্মদিনে মাহসার কবরের ওপর লাল কাপড় বিছিয়ে তার ছবিযুক্ত কেক কাটা হয়েছে। ছিল ডার্ক চকোলেট, মিষ্টি ও ফুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বার্থডে উইশ করেছেন সারা বিশ্বের অসংখ্য মানুষ।

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন মাহসা আমিনি

১৯৯৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া মাহসার পুরো নাম জিনা মাহসা আমিনি।

ইরান সরকারের অভিযোগ, মাহসা কুর্দি বিদ্রোহী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগকে সরকারের প্রোপাগান্ডা হিসেবে দাবি করেছে তার পরিবার।

মাহসা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না জানিয়ে তার চাচাতো ভাই এরফান মোর্তেজা বলেন, ‘আমার সোজাসাপ্টা উত্তর হলো মাহসা তার ২২ বছরের জীবনে কখনও ইরানের বাইরে পা রাখেনি। সে ছিল মিষ্টি একটি মেয়ে, যার জীবন বলতে ছিল সংগীত, ভ্রমণ, শিল্প সম্পর্কে চিন্তা; মাহসা কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত ছিল না। তার স্বপ্ন ছিল নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা।’

মাহসা ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান আরমিন আমিনি কিশোর বয়সেই মারা যায়। মাহসার কিয়ারশ আমিনি নামে এক ভাই রয়েছে, তার সামনেই তেহরানের মেট্রো স্টেশন থেকে মাহসাকে গ্রেপ্তার করে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ।

কিয়ারশ গত সপ্তাহে ইরানওয়্যারকে বলেন, ‘আমার এখন হারানোর আর কিছুই নেই। আমি ইরানের সবাইকে জানাব কী হয়েছিল।’

কিয়ারশ জানান, তাদের পরিবার রাজধানীতে ঘুরতে এসেছিল। শহীদ হাঘানি এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশপথে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নৈতিকতা পুলিশের টহল ভ্যান তাদের গতিরোধ করে।

পুলিশ মাহসাকে জোর করে ভ্যানে তুলে নেয়। তার ভাই এ সময় বাধা দিয়েও ব্যর্থ হন। নৈতিকতা পুলিশের দলটি যাওয়ার সময় জানায়, মাহসাকে তারা নিজেদের স্টেশনে নিয়ে যাচ্ছে এবং ১ ঘণ্টার ‘শিক্ষা সেশন’ শেষে ছেড়ে দেয়া হবে।

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
ইরানজুড়ে বিক্ষুব্ধদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন মাহসা আমিনি

পরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে কিয়ারশ বলেন, ‘আমি ওদের (নৈতিকতা পুলিশ) ভবনের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। আমার সঙ্গে আরও অনেকে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পাই।

‘আমরা সবাই দরজায় ধাক্কা দিতে থাকি। হঠাৎ পুলিশ সদস্যরা ভবন থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের লাঠিপেটা এবং টিয়ার শেল ছুড়তে শুরু করে। আঘাতে আমার সারা শরীর কালো আর নীল হয়ে গিয়েছিল। কাঁদানে গ্যাসের কারণে চোখ জ্বলছিল। এর ৫ মিনিট পর একটি অ্যাম্বুলেন্স ভবনটি থেকে বেরিয়ে যায়।’

কিয়ারশ বলেন, ‘এ সময় বন্দি অনেক নারী ছুটে বেরিয়ে আসেন। তারা বলছিলেন ভেতরে কেউ মারা গেছে। আমি তাদের মাহসার ছবি দেখালাম। একজন বললেন, ঘটনাটি ঘটার সময় মাহসা তার পাশে ছিল।

‘আমি হতবাক ও আতঙ্কিত হয়ে যাই। এক পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে। তিনি বললেন, তাদের একজন আহত হয়েছেন। তিনি আসলে মিথ্যা বলছিলেন। আমি তাকে বিশ্বাস করিনি। সেই অ্যাম্বুলেন্সে ছিল মাহসা। আমি ছুটতে ছুটতে হাসপাতালে গিয়েছি।’

সেদিন রাত সোয়া ৮টার দিকে চিকিৎসকরা মাহসার পরিবারকে জানান, তাকে বাঁচানো যাবে না। তিনি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। তার হৃৎপিণ্ড সচল থাকলেও মস্তিষ্ক কাজ করছে না। কোমায় চলে যাওয়া মাহসার মৃত্যু হয় ১৬ সেপ্টেম্বর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অল্প কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, ছোটবেলা থেকেই প্রাণোচ্ছ্বল ছিলেন মাহসা আমিনি।

চাচাতো ভাই এরফান মোর্তেজা বলেন, ‘মাহসা বা আমাদের প্রিয় জিনা (ডাকনাম) সব সময় হাসিখুশি, উচ্ছ্বসিত ও প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ ছিল। গান, ঘোরাঘুরি, কুর্দি পোশাক এবং শিল্প খুব পছন্দ করত। আমাদের কোনো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিতদের সঙ্গে ও কখনও দুর্ব্যবহার করেনি।’

‘বাধ্যতামূলক হিজাব আইন ও একদম পছন্দ করত না।’

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভের সময় হিজাব খুলে পুড়িয়ে দিচ্ছেন এক নারী

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অসংখ্য পুরুষও যোগ দিয়েছেন

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সে সময়েও পোস্ট দিয়েছিলেন অসংখ্য ইরানি পুরুষ।

ওই আন্দোলনের রেশ শেষ না হতেই মাহসার মৃত্যু কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

আরও পড়ুন:
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি
ইরানে বন্ধ ইনস্টাগ্রাম, ছবি যাচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপে
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Bank manager fired in Iran for serving women without hijab

হিজাবহীন নারীকে সেবা দিয়ে চাকরি গেল ব্যাংক কর্মকর্তার

হিজাবহীন নারীকে সেবা দিয়ে চাকরি গেল ব্যাংক কর্মকর্তার  মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে অবস্থিত কোম প্রদেশের এক ব্যাংক ম্যানেজার বৃহস্পতিবার হিজাব না পরা এক নারীকে ব্যাংক সেবা দেন। পরে ওই ব্যাংক ম্যানেজারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বলে জানায় কোম প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমাদ হাজিজাদেহ।

হিজাব না পরা এক নারীকে সেবা দেয়ায় ইরানে এক ব্যাংক ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে রোববার এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

ইরানের আইনে, নারীকে অবশ্যই তাদের মাথা, ঘাড়, চুল ঢেকে রাখতে হবে।

সঠিকভাবে হিজাব না করার অভিযোগে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু হয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন থেকেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে গোটা।

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে অবস্থিত কোম প্রদেশের এক ব্যাংক ম্যানেজার বৃহস্পতিবার হিজাব না পরা এক নারীকে ব্যাংক সেবা দেন। পরে ওই ব্যাংক ম্যানেজারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বলে জানায় কোম প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমাদ হাজিজাদেহ।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।



ইরানের বেশিরভাগ ব্যাংকই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। হাজিজাদেহ জানান, হিজাব আইন বাস্তবায়ন করা প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের দায়িত্ব।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও আন্দোলনকারীসহ অন্তত ১৩০ জন ইরানে নিহত হয়েছেন।
ইরানের অভিযোগ, পশ্চিমারা আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে। তাদের দাবি এটা কোনো বিক্ষোভ না, দাঙ্গা।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত রাজতন্ত্রকে উৎখাত করার মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামি বিপ্লব ঘটে। এ বিপ্লবের চার বছর পর ইরানে হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়।

তারপরও ইরানের নারীরা আঁটসাঁট জিন্স এবং ঢিলেঢালা রঙিন হেডস্কার্ফে পরতে পারতেন।

তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে অতি-রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেডস্কার্ফ আইন কার্যকর করার জন্য সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে এক হওয়ার আহ্বান জানান।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
600 women attended the Pop of Color conference in Poznan

৬০০ নারীর অংশগ্রহণে ‘পশিয়ান কনফারেন্স’

৬০০ নারীর অংশগ্রহণে ‘পশিয়ান কনফারেন্স’   বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা
পরিকল্পনা এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ আমরা সবাই দেশে নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছি। এখন পুরুষের সঙ্গে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে। সামনের দিকে নারীদের এই শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।’

ফিমেল কমিউনিটি পপ অফ কালার-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘পশিয়ান কনফারেন্স ২০২২’। শুক্রবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন খাতের ৬ শতাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক অথরিটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকর্ণ কুমার ঘোষ, দেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল সুসানে গীতি, বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ফরিদা ইয়াসমিনসহ আরও অনেকে।

কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সাতটি সেশন হয়। সেখানে স্বাস্থ্য, মেন্টাল হেলথ, সাইবার সিকিউরিটি, ওমেন সেক্সুয়াল হেলথ, নিউট্রিশন, উদ্যম ও স্পৃহা, ক্যারিয়ার ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বক্তারা।

পরিকল্পনা এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ আমরা সবাই দেশে নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছি। এখন পুরুষের সঙ্গে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে। সামনের দিকে নারীদের এই শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।’

৬০০ নারীর অংশগ্রহণে ‘পশিয়ান কনফারেন্স’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১০ খাতে ১০ জন উদ্যোমী নারীকে সম্মাননা দেয় পপ অফ কালার।

বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পপ অফ কালার এর প্রতিষ্ঠাতা টিঙ্কার জান্নাত মিম।

আবৃতি ও সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে সন্ধ্যায় শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Men should be asked to build a safe world for women

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি
প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিন্নি (ছদ্মনাম)। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভালোবাসার বিয়ের দুই-তিন বছর পরই বদলে যায় স্বামীর আচরণ।

ছোটোখাটো বিষয়ে অকথ্য গালাগালি দিয়ে শুরু, দিনে দিনে তা গড়ায় মারধরে। ততদিনে তিন্নি দুই কন্যাসন্তানের জননী।

একপর্যায়ে তিন্নিকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেন স্বামী। বলা হয় শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ‘ভালো গৃহিণী’ হিসেবে সংসার করতে হবে। তবে ঘুরে দাঁড়ান তিন্নি। দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন সংসার ছেড়ে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মেয়েকে একসঙ্গে ভালো স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় বড় মেয়েকে বাবার কাছে রেখেছি। সে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে আমার কাছে আসে।’

আর ছোট মেয়ে তিন্নির স্কুলেই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিকতার কাছে একটা জায়গায় হার মেনেছি। তবে সংসার ছাড়লেও নিজের পরিচয় ছাড়িনি।’

মিরপুরের একটি এলাকায় সাবলেট বাসায় থাকেন রোজিনা আক্তার (ছদ্মনাম)। স্বামীর আগে বিয়ের কথা না জেনেই ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর আগের স্ত্রীর সঙ্গে একই বাসায় থাকতে হচ্ছে রোজিনাকে।

স্বল্পশিক্ষিত এই নারী হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় স্বামীর মারধর। আগের স্ত্রীও নিয়মিত স্বামীর মারধরের শিকার। এসব মেনে নিয়েই সংসার করছেন রোজিনা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ মানুষ, রাগ উঠলে একটু আকটু গায়ে হাত তুলবোই। খাওন পড়োন তো দিতাছে।’

সোহানা আর মিথুনের (ছদ্মনাম) তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় এক বছর আগে মিথুন দেশের বাইরে চলে যান। সোহানার সঙ্গে কাটানো কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও রয়েছে তার কাছে।

সোহানা এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চাইলে মিথুন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এই নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে সোহানার।

নারী সহিংসতা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে।

এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে- এটা বলা যাবে না। সহিংসতার ধরনে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে এবং এগুলোভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে এক ধরনের সহিংসতা ছিল যে মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেয়া হতো না, বাইরে যেতে দেয়া হতো না অথবা অনেক ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো। ওই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে। তবে মেয়েদের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি রয়েই গেছে। একেক সময় একেক ধরনের নির্দেশনা সমাজ বা পরিবার মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সিস্টেমের তো চেঞ্জ হয়নি।’

জিনাত আরা বলেন, ‘আমাদের শিকড়েই সমস্যা রেখে দেয়া হলে ডাল কেটে বা ডাল ছেঁটে কোনো লাভ নেই। কারণ শিকড় থেকে আবার সেই জিনিসটাই বের হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি কমছে না। এখন যখন মেয়েদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তারা বাইরে যাচ্ছে, চাকরি করছে। এত চাপের পরও মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। তখন আরও বেশি শারীরিকভাবে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি করেও যখন দেখছে কিছু হচ্ছে না, তখন তাদের মানসিক, সামাজিকভাবে বয়কটের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কোণঠাসা করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের সামনের রাস্তায় এক তরুণীকে হেনস্তার ঘটনায় গত ১২ জুন প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আগের দিনে মেয়েদের রান্নার জন্য মসলা বাটতে হতো। আধুনিকায়নের কারণে এখন গুঁড়া মসলা পাওয়া যাচ্ছে। সেটা সময় বাঁচিয়েছে, কিন্তু সেই মসলার নাম দেয়া হয়েছে রাঁধুনী। অর্থাৎ মেয়েরাই রান্না করবে- এটাই যেন নির্ধারিত। আধুনিকায়নের সঙ্গে মানসিকতার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।’

পুরুষ ও নারীর মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে জিনাত আরা বলেন, ‘ছেলেরা ঘরের কাজ করলে মেয়েরা সারপ্রাইজড হয়ে যায়। মেয়েরা কিন্তু বাইরে ঠিকই যাচ্ছে, আবার সমানভাবে ঘর সামলাচ্ছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের খেয়াল রাখছে।

‘তবে পুরুষ ঘরে আসেনি। তারা শুধু বাইরেই রয়ে গেছে। ঘরের কাজ যে শুধু মেয়েদের নয়- এই মানসিকতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই মেয়েদের ঘরের কাজের মূল্যায়ন হয়নি। অন্যদিকে নারীকে এখনও নারী হিসেবেই দেখতে চায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। মেয়েরা অফিসে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং কাজ তাদের দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের অবস্থার পরিবর্তনে অনেক কাজ করছি, কিন্তু পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনে খুবই কম কাজ করেছি। পুরুষের পরিবর্তন হওয়াটা খুব জরুরি। দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারে- এমন মানসিকতা পুরুষের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আনা গেলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার শুভ্রা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অনেক উদ্যোগ ও আইন রয়েছে; কিন্তু সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জামিন অযোগ্য মামলার আসামি কোনো না কোনো প্রভাব খাটিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তদন্তে গাফিলতি, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যর্থতা, সাক্ষীর অপর্যাপ্ততা, পারিপার্শ্বিক চাপ ইত্যাদি কারণে মামলাগুলো গতি হারাচ্ছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার শুভ্রা বলেন, ‘এ জন্য সবার নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটি করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কিছুদিন প্রতিবাদ, শোভাযাত্রা করে সাময়িকভাবে থামানো গেলেও এটি তো শেষ হয়ে যায় না। কারণ সহিংসতার প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে, মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আমরা মানসিকভাবে মানবিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এসব ঘটতেই থাকবে।

‘শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা লিঙ্গবৈষম্যের মানসিকতা পরিবার থেকেই শিখে বড় হয় অনেক শিশু। ভালোবাসা, বন্ধন, সমতা- এই শিক্ষাগুলো পরিবার থেকেই আসতে হবে।’

সহিংসতার পেছনে আধুনিক সময়ের প্রযুক্তিও কিছুটা দায় রয়েছে বলে মনে করেন ড. তানিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার মানুষকে পরিবার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এতে তো বন্ধন তৈরি হয় না। পরিবার থেকেই মানুষ সামাজিকতা শেখে। আর সঠিক সামাজিকতা নিয়ে বড় হলে সহিংস মনোভাব অনেক কমে আসবে।’

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে করণীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত কোনো একটি সহিংস ঘটনা কেন হলো সেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। একটা মানুষ এ রকম ঘটনা কেন ঘটাল, তার গোড়া পর্যন্ত যেতে হবে। প্রতিবাদ করেই থেমে যাওয়া যাবে না।

‘একেকটি ঘটনা একেকভাবে ঘটে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে মূল জায়গাটিতে পৌঁছাতে হবে। তারপর একেকটি কারণ ধরে সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতি তিনজন নারীর একজন সহিংসতার শিকার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
In another caste marriage is the result of life

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে গত সপ্তাহে আয়ুশি চৌধুরীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ছবি: সংগৃহীত
প্লাস্টিকে মোড়ানো আয়ুশির দেহটি একটি লাল স্যুটকেসে বন্দি অবস্থায় শুক্রবার উত্তর ভারতের মথুরা শহরের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়ুশির বাবা নীতেশ কুমার যাদব এবং মা ব্রজবালাকে। পুলিশের ধারণা, অনার-কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন মেয়েটি।   

আয়ুশি চৌধুরীর ২২তম জন্মদিন আগামী ১ ডিসেম্বর। দিনটা আর উদযাপন করা হবে না তার। কারণ ৯ দিন আগে পুলিশের সামনেই আয়ুশির মরদেহ দাহ করা হয়েছে।

প্লাস্টিকে মোড়ানো আয়ুশির দেহটি একটি লাল স্যুটকেসে বন্দি অবস্থায় শুক্রবার উত্তর ভারতের মথুরা শহরের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়ুশির বাবা নীতেশ কুমার যাদব এবং মা ব্রজবালাকে। পুলিশের ধারণা, অনার-কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন মেয়েটি।

সম্মান রক্ষার্থে হত্যা বা অনার-কিলিং হলো কাউকে নিজের পরিবার বা গোত্রের সম্মানহানির দায়ে ওই পরিবার বা গোত্রের অপর ব্যক্তি কর্তৃক হত্যা করা। এর মাধ্যমে এই সম্মানহানির উপযুক্ত প্রতিকার হয় বলে মনে করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অনার কিলিং সংঘটিত হলেও, ভারতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই অনার কিলিংয়ের প্রধান শিকার নারীরা।

পুলিশের অভিযোগ, রাজধানী দিল্লির কাছে নিজ বাড়িতে ১৭ নভেম্বর বাবার গুলিতে নিহত হন আয়ুশি। অন্য জাতের এক পুরুষকে বিয়ে করা নিয়ে সেদিন পরিবারের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল আয়ুশির। খুনের পর তার বাবা-মা মরদেহ যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের কাছে ফেলে এসেছিলেন।

দম্পতি এখন পুলিশ হেফাজতে। তবে তারা এখন পর্যন্ত কিছু শিকার করেননি। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড গোটা ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে বছরে নারীর প্রতি সহিংসতার লাখ লাখ অভিযোগ জমা পড়ে।

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
ঘরের তাকে সুন্দর করে সাজানো আয়ুশির বইগুলো

বিবিসি হিন্দি যখন দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির বদরপুরে আয়ুশির বাড়িতে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবে ব্যস্ত পাড়াটি হতাশায় আচ্ছন্ন ছিল। এক প্রতিবেশী জানান, আয়ুশির কী হয়েছে শুনে দুদিন ধরে তিনি ঠিকমতো খাননি।

‘সে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল, হাই স্কুলের পরীক্ষায় অনেক ভালো নম্বর পেয়েছিল’... তিনি স্মরণ করেন।

আয়ুশি একটি বেসরকারি কলেজ থেকে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতক করছিলেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন।

বাড়ির প্রথম তলায় ছিল আয়ুশি ঘর। এখানে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ছাপ পাওয়া যায়। প্রতিটি আসবাবে ছড়িয়ে আছে আয়ুশির দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আনন্দ... জাগতিকতা।

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
এই লাল স্যুটকেসটিতে পাওয়া যায় আয়ুশির মরদেহ

এখনও আয়ুশির বইগুলো তার পড়ার টেবিলের তাকে সুন্দর করে সাজানো রয়েছে। দেয়ালে ঝুলছে বাবা-মা, ছোট ভাই আর দাদির সঙ্গে আয়ুশির হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি।

ছোট্ট আলমারিটাতে থাকা নেইলপলিশ, লিপস্টিকসহ সাজসজ্জার জিনিসগুলো আর ব্যবহার করা হবে না আয়ুশির। তার বিছানার কাছে ঝুলে থাকা ডোরেমন পুতুলটি যেন এখনও খুঁজছে আয়ুশিকে।

আয়ুশির দাদি জামবন্তি জানান, শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল আয়ুশি। বেশির ভাগ সময় তার ঘরে পড়াশোনায় মগ্ন থাকত তার নাতনি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জামবন্তি বলেন, ‘গত ১৫ হাসপাতালে ছিলাম। যখন আমি ফিরে আসি, তখন পুলিশ এসে আমার ছেলে ও পুত্রবধূকে ধরে নিয়ে যায়।’

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
আয়ুশির ঘরের দেয়ালে ঝুলছে তার খেলনাগুলো

পুলিশের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, আয়ুশি গত বছর তার বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য বর্ণের এক পুরুষকে বিয়ে করেছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে আয়ুশির সঙ্গে তার বাবা-মায়ের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। যার ফলে প্রায়শই ঝগড়া হতো।’

পরিবারের দাবি, খুনের দিন আয়ুশি বাড়িতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তার বাবা ভীষণ খেপে যান।

ময়নাতদন্তে আয়ুশির মাথা, মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, বুকে দুবার গুলি করা হয়েছে আয়ুশিকে। এতেই তার মৃত্যু হয়।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Hijab controversy in West Bengal after Karnataka

কর্ণাটকের পর পশ্চিমবঙ্গে হিজাব বিতর্ক

কর্ণাটকের পর পশ্চিমবঙ্গে হিজাব বিতর্ক
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। হাওড়ার ধুলাগড়ি আদর্শ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির কিছু ছাত্র আচমকা দশম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের হিজাব পরে স্কুলে আসা নিয়ে আপত্তি তোলে। তাদের ভাষ্য, ‘ছাত্রীরা যদি হিজাব পরে স্কুলে আসে, তবে আমরাও নামাবলী গায়ে দিয়ে স্কুলে আসব।’

হিজাব নিয়ে ভারতের কর্ণাটকের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার একটি স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে গন্ডগোল হয়েছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনার জেরে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর টেস্ট পরীক্ষা বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। হাওড়ার ধুলাগড়ি আদর্শ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির কিছু ছাত্র আচমকা দশম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের হিজাব পরে স্কুলে আসা নিয়ে আপত্তি তোলে। তাদের ভাষ্য, ‘ছাত্রীরা যদি হিজাব পরে স্কুলে আসে, তবে আমরাও নামাবলী গায়ে দিয়ে স্কুলে আসব।’

স্কুল কর্তৃপক্ষের নিষেধ সত্ত্বেও মঙ্গলবার ওই ছাত্ররা নামাবলী পরে স্কুলে যায়। এতে হিজাব পরা কয়েকজন ছাত্রী প্রতিবাদ জানায়। এরপর দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে সাঁকরাইল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতির সামাল দেয়।

স্কুলের টিচার ইনচার্জ অরিন্দম মান্না অবশ্য স্কুলে ভাঙচুর বা মারপিটের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সোমবার কয়েকজন নামাবলী গায়ে দিয়ে স্কুলে আসে। তাদেরকে নিষেধ করলে তারা তা খুলে ফেলে।

‘স্কুলের পরীক্ষা শেষ হয়ার পর জরুরি বৈঠক হয়। এতে ধর্মীয় পোশাক পরে স্কুলে আসতে নিষেধ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত ছাত্র-ছাত্রীকে জানিয়ে দেয়া হয়। তবে মঙ্গলবার ফের ৫ জন ছাত্র নামাবলী গায়ে দিয়ে স্কুলে আসে। এতে অন্য সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানায়।

‘এরপর দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পুলিশে খবর দেয়া হলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস পরীক্ষা বাতিল করা হয়।’

অরিন্দম মান্না আরও বলেন, ‘শনিবার এ বিষয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, পুলিশ প্রশাসন, ব্লক আধিকারিক এবং স্কুলের জেলা পরিদর্শক মিলে আলোচনা পর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

কয়েক মাস আগে কর্নাটকের স্কুলে হিজাব পরা নিয়ে মামলা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে যায়। দেশের উচ্চ আদালতে মামলার রায়ে বলা হয়, শিক্ষাঙ্গনে হিজাব পরা নিয়ে কোঙও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
A woman is murdered every 11 minutes UN

প্রতি ১১ মিনিটে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন একজন নারী: জাতিসংঘ

প্রতি ১১ মিনিটে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন একজন নারী: জাতিসংঘ প্রতীকী ছবি
আগামী ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ‘নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা অবসান দিবস’ বিশ্বব্যাপী পালিত হবে। দিবসটির আগে দেয়া বক্তব্যে এমন মন্তব্য করলেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

বিশ্বে প্রতি ১১ মিনিটে পরিবারের সদস্য বা সঙ্গীদের হাতে একজন নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। মঙ্গলবার এমনটি জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ।

আগামী ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ‘নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা অবসান দিবস’ বিশ্বব্যাপী পালিত হবে। এ দিবসের আগে দেয়া বক্তব্যে এমন মন্তব্য করলেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

গুতেরেস বলেন, ‘নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বিশ্বের সবচেয়ে প্রচলিত মানবাধিকার লঙ্ঘন। প্রতি ১১ মিনিটে একজন নারী বা মেয়ে সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। আমরা জানি যে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অর্থনৈতিক অস্থিথিশীলতা থেকে উদ্ভূত অন্যান্য চাপ নারীদের প্রতি অনিবার্যভাবে আরও বেশি শারীরিক এবং মৌখিক নির্যাতনের শিকার বানাচ্ছে।’

এ সময় নারীদের প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বের সরকারগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাতিসংঘের মহাসচিব।

গুতেরেস জানান, নারী ও মেয়েরা অনলাইনেও ব্যাপক সহিংসতার সম্মুখীন হচ্ছেন। যার মধ্যে যৌন হয়রানি, ছবির অপব্যবহারও রয়েছে।

জাতিসংঘের প্রধান ইতিহাসের বইয়ে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এখন সময় এসেছে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করার জন্য জীবন পরিবর্তনকারী সিদ্ধান্ত নেয়ার। এর অর্থ হচ্ছে সরকারগুলোর এই দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও অর্থায়ন বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে তৃণমূল এবং সুশীল সমাজ গোষ্ঠীকে জড়িত করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ ও নারীদের সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৬ সালের মধ্যে নারী অধিকার সংগঠন ও আন্দোলনের তহবিল ৫০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস বলেন, নারীর অধিকারের সমর্থনে আওয়াজ তুলুন এবং গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করুন যে, আমরা সবাই নারীবাদী।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Voting at 18 is discriminatory New Zealand court

১৮-তে ভোট দেয়া ‘বৈষম্যমূলক’: নিউজিল্যান্ডের আদালত

১৮-তে ভোট দেয়া ‘বৈষম্যমূলক’: নিউজিল্যান্ডের আদালত ভোট দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের ভোটাররা। ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ড আদালতের এ রুলের পর এখন ইস্যুটি আলোচনার জন্য পার্লামেন্টে উত্থাপিত হবে। সেখানে পার্লামেন্ট সিলেক্ট কমিটি দ্বারা বিষয়টি পর্যালোচিত হতে হবে। কিন্তু এই রুল নিউজিল্যান্ডের সর্বনিম্ন ভোটের বয়স পাল্টাতে বাধ্য করতে পারবে না।

১৮ বছর হলে একজন ভোটার ভোট দিতে পারেন... বিষয়টিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলছে নিউজিল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট আদালত। সোমবার এ রুল দেয়া হয়।

‘মেক ইট সিক্সটিন’ নামের একটি সংগঠন ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ভোটের অধিকার দেয়ার দাবিতে ২০২০ সালে একটি মামলাটি করেছিল।

রুলের পর মেক ইট সিক্সটিন-এর সহকারী পরিচালক ক্যাডেন টিপলার বলেন, এটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী ঘটনা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো যেসব বিষয় তরুণদের ওপর প্রভাব ফেলে সেসব বিষয়ে তাদের ভোট দিতে পারা উচিত।

আদালতের এ রুলের পর ইস্যুটি এখন আলোচনার জন্য পার্লামেন্টে উত্থাপিত হবে। পার্লামেন্ট সিলেক্ট কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এখন। যদিও এই রুল নিউজিল্যান্ডের সর্বনিম্ন ভোটের বয়স পাল্টাতে বাধ্য করতে পারবে না।

আদালতের রুলের পর বয়স কমানোর বিষয়টি আইনসভায় তুলতে দ্রুত একটি খসড়া প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের বয়স কমানোর পক্ষে। আমার সরকারের জন্য এটা কোনো বিষয়ই না। যেকোনো ইলেক্টোরাল আইন অনুমোদন করাতে হলে ৭৫ শতাংশ সংসদ সদস্যের সমর্থন থাকা দরকার।’

নিউজিল্যান্ডের সবগুলো রাজনৈতিক দল ভোটারদের সর্বনিম্ন বয়স কমানোর পক্ষে না। নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম বিরোধীদল ন্যাশনাল পার্টিও এই দাবিকে সমর্থন করে না।

মন্তব্য

p
উপরে