× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
The fear of public criticism was defeated by the power of motherhood
hear-news
player
google_news print-icon

মাতৃত্বের শক্তির কাছে পরাজিত হলো লোকনিন্দার ভয়

মাতৃত্বের-শক্তির-কাছে-পরাজিত-হলো-লোকনিন্দার-ভয়
সমাজ-লোকনিন্দার ভয় উপেক্ষা করে ফেলে দেয়া নবজাতককে আবার বুকে তুলে নিয়েছেন নওগাঁর এক নারী। প্রতীকী ছবি
নওগাঁ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের সিঁড়ি থেকে একটি নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে সময় তার বাবা-মায়ের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে সন্তানকে চিরতরে বিসর্জন দিতে পারেননি মা। সমাজ-লোকনিন্দার ভয় উপেক্ষা করে তিন দিন পর ওই হাসপাতালে ছুটে গিয়ে বুকে তুলে নেন নবজাতককে।

অবিবাহিত জেনে বিবাহিত এক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়েছিলেন প্রেমের সম্পর্কে। একপর্যায়ে হয় শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভে আসে সন্তান। সম্পর্ক অস্বীকার করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন কথিত প্রেমিক। মেয়েটির দুচোখে তখন অন্ধকার।

অসহায় মেয়েটি দুবার ভ্রূণ নষ্টের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন, শেষপর্যন্ত জন্ম নেয় এক মেয়ে শিশু। নিজের নাড়িছেড়া ধনকে বুকে নিয়ে একদিকে মায়ের চোখে আনন্দাশ্রু, অন্যদিকে মনজুড়ে উদ্বেগ-আতঙ্ক।

শেষপর্যন্ত নবজাতককে ফেলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেয়েটি।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের সিঁড়ি থেকে গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় একটি নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে সময় অনেক খুঁজেও তার বাবা-মায়ের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে রাখা হয় শিশু ওয়ার্ডে।

তবে সন্তানকে চিরতরে বিসর্জন দিতে পারেননি মা। সমাজ-লোকনিন্দার ভয় উপেক্ষা করে তিন দিন পর ওই হাসপাতালে ছুটে যান। গুরুতর অসুস্থ থাকায় শিশুটির সঙ্গে তারও চিকিৎসা শুরু হয় ওই হাসপাতালে।

মেয়েটি এখন সন্তানসহ আছেন শহরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে।

তিনি নিউজবাংলা জানান, নিজ বাড়িতেই সন্তানের প্রসব হয়। এর তিন-চারদিন পর মাকে সঙ্গে নিয়ে সদ্যোজাত সন্তানকে হাসপাতালের সিঁড়িতে ফেলে রেখে আসেন। বাবার পরিচয় না থাকায় লোকলজ্জার ভয়ে এ কাজ করেন তিনি।

নওগাঁ শহরেই মায়ের সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন মেয়েটি।

তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে শহরের একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে সে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কেও জড়ায়।’

তবে গর্ভে সন্তান আসার পর সম্পর্ক অস্বীকার করেন ওই ব্যক্তি, স্বীকার করেন তিনি বিবাহিত। শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় তার একটি মুদি ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান রয়েছে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের আরএমও আবু আনসার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেদিন শিশুটিকে পাওয়া যায় তার তিন-চার দিন আগে ওর জন্ম হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এরপর প্রসূতি ও তার মা এখানে এসে শিশুটিকে ফেলে রেখে যান।

‘তারা দুজন বিষয়টি আমাদের কাছে স্বীকারও করেছেন। প্রসূতির শারীরিক কিছু পরীক্ষা করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে শিশুটি তার বলে আমাদের মনে হয়েছে। শিশুটিও বুকের দুধ পান করছে। বাচ্চা প্রসবের পর মায়ের দৈহিক কিছু পরিবর্তন ঘটে, সেটি তার মধ্যে দেখা গেছে।’

শিশুটি অন্য কারও হতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ’আজ পর্যন্ত অন্য কেউ বাচ্চাটির দাবি করেনি। আর প্রসূতিও কিন্তু শহর ছেড়ে পালিয়েও যাননি।’

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা ইমাম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাচ্চাটি পাওয়ার পর জেলা সমাজ সেবা অফিস ও শিশু কল্যাণ কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদারক করা হয়। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রসূতির শারীরিক কিছু পরীক্ষাও করা হয়েছে। শিশুটি বুকের দুধ পান করছে। আর অন্য কেউ শিশুটিকে নিজের বলে দাবিও করেনি। সব মিলিয়ে শিশুটি তারই সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।’

তিনি বলেন, ‘বাচ্চা ও মেয়েটি শহরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে আছে। সে কিন্তু পালিয়ে যায়নি। এরপরেও কেউ বাচ্চাটিকে দাবি করলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে পরে তা অস্বীকারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে মেয়েটির কথিত প্রেমিকের সঙ্গে। তবে মেয়েটির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করছেন তিনি।

ওই ব্যক্তি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। সে আমার দোকানে আসত। এভাবেই তার সঙ্গে পরিচয়। এর বাইরে আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।’

এমন অবস্থায় মেয়েটি কী করতে পারেন জানতে চাইলে জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহসীন রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আইনের আশ্রয় নিতে পারে ওই মেয়ের পরিবার। মামলা হলে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শিশুটির পিতৃপরিচয় পাওয়া সম্ভব।’

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নূর মুহাম্মদ বলেন, ‘জেলা সমাজসেবা অফিসের পক্ষ থেকে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়েছে। সামনে আরও সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালের সিঁড়িতে পাওয়া শিশুটি নিয়ে গেল কারা?
হাসপাতালের সিঁড়িতে জীবিত নবজাতক
‘ভুয়া চিকিৎসকের ওষুধে’ নবজাতকের মৃত্যু
‘নালায় ফেলা সন্তানকে’ ফেরত নিতে হাসপাতালে নারী
ডাস্টবিনে পড়েছিল নবজাতক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
The city that runs under the rule of women men are inhuman

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর ব্রাজিলের নোইভা দো করদেইরো শহরের সব কিছু চলছে নারীদের তৈরি নিয়মে। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। এই শহরে বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’- কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় এভাবেই ‘মহান সৃষ্টি’র পেছনে নারী-পুরুষের যৌথ ভূমিকার কথা লিখেছেন।

তবে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ছিমছাম নোইভা দো করদেইরো শহরে নারীরা পুরুষদের একদম পাত্তা দিতে রাজি নন। গোটা বিশ্বে পুরুষ দাপিয়ে বেড়ালেও এই শহর চলে নারীদের নিয়মে। সেই নিয়ম এতটাই কড়া যে, রীতিমতো মানবেতর জীবনের মধ্যে আছেন পুরুষ।

বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। বাস্তবেও মনোরম শহরটি ছেয়ে আছে নানা ধরনের ফুল-ফলের গাছে।

শহরের অধিবাসীদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী, যাদের অনেকেই জীবনে কোনো পুরুষের সান্নিধ্যে আসেননি।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরো শহরে পুরুষের এই দুর্বিপাকের জন্য অবশ্য তাদের পূর্বপুরুষেরাই দায়ী। ইতিহাস বলছে, শহরটির পত্তন ঘটান মারিয়া সেনোরিনিয়িা দে লিমা নামে এক তরুণী। মারিয়াকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার।

১৮৯১ সালে মারিয়া ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরে নিজ শহর ছাড়তে বাধ্য হন। তিনিসহ তার পরিবারের পরবর্তী পাঁচ প্রজন্মকে ক্যাথলিক চার্চ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিপর্যস্ত মারিয়া পালিয়ে গিয়ে নোইভা দো করদেইরোতে বসবাস শুরু করেন। সমাজে একইভাবে নিগৃহীত আরও বেশ কয়েকজন নারীও ধীরে ধীরে আশ্রয় নেন সেখানে। এভাবেই গড়ে ওঠে নারীদের এক শহর, যেখানে বসবাসের সব নিয়ম-কানুন তৈরি করেছেন নারীরাই।

পরের প্রায় ৫০ বছর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে সমস্যা দেখা দেয় ১৯৪০ সালে। সে বছর অ্যানিসিও পেরেইরা নামে একজন ধর্মযাজক শহরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করে পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। শহরে তিনি গড়ে তোলেন একটি গির্জা, সেই সঙ্গে নারীদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। নারীদের মদ্যপান, গান শোনা, চুল কাটা বা গর্ভনিরোধক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

নারীদের ওপর এই খবরদারি একটানা চলে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। ওই বছর অ্যানিসিও মারা গেলে নোইভা দো করদেইরোর অতিষ্ঠ নারীরা সিদ্ধান্ত নেন, তারা আর কখনও পুরুষের কাছে মাথা নোয়াবেন না।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই পুরুষের নেতৃত্বে গঠিত ধর্মীয় সংগঠন ভেঙে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জারি হয় শহরে পুরুষদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রহিত করে আইন।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরোতে এখন সব মিলিয়ে ছয় শর মতো নারী আছেন। তাদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

কিছু নারী আছেন বিবাহিত, তাদের সন্তানও রয়েছে। তবে তাদের স্বামী এবং ১৮ বছরের বেশি ছেলে সন্তানদের সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেই। সপ্তাহে মাত্র একবার তারা যেতে পারেন নিজেদের বাড়িতে। বাকি দিনগুলো কাটাতে হয় শহরের বাইরে অন্য কোথাও।

ওই শহরের আইন-কানুন তৈরি করা থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, নগর পরিকল্পনা, এমনকি ধর্মীয় রীতিনীতিও পরিচালনা করেন নারীরা।

নোইভা দো করদেইরোর নারীরা বলছেন, নিজেদের মতো থাকতে পেরে তারা ভালোই আছেন। রোজালি ফার্নান্দেস নামে এক নারী বলেন, 'নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালোভাবে করতে পারে এমন অনেক কিছুই আছে। পুরুষেরা যখন ছিল তার চেয়ে আমাদের শহর এখন আরও সুন্দর ও ছিমছাম।

'নিজেদের মধ্যে কখনও মতভেদ হলে আমরা নিজেদের মতো করে মিটিয়ে নিই। ঝগড়া-ফ্যাসাদের পরিবর্তে ঐকমত্য খোঁজার চেষ্টা করি। আমরা সব কাজ ভাগ করে নিয়েছি। এখানে কেউ কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না।’

তবে এত শান্তির মধ্যেও ইদানীং কিছু নারীর আক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। এই আক্ষেপ না থাকার কারণও অবশ্য নেই।

দারুণ রূপবতী নেলমা ফার্নান্দেস ২৩টি বসন্ত পার করে ফেলেছেন, অথচ এখনও কাউকে চুমু খেতে পারেননি।

নেলমা স্বীকার করছেন, শহরের নারীরা অসাধারণ সুন্দরী হলেও পছন্দের জীবনসঙ্গী অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না। এতসব নিয়ম-কানুন মেনে শহরটিতে পা রাখার মতো সাহসী পুরুষের সংখ্যা নগণ্য।

নেলমা বলেন, ‘এখানে আমরা যারা অবিবাহিত নারী রয়েছি তাদের সঙ্গে যেসব পুরুষের দেখা হয়, তারা হয় বিবাহিত নয়তো কোনো না কোনোভাবে আত্মীয়। আমি জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়েও কোনো পুরুষকে চুমু খাওয়ার সুযোগ পাইনি।

‘আমরা সবাই প্রেমে পড়তে চাই, বিয়ে করার স্বপ্ন দেখি। তবে স্বামী খুঁজতে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে চাই না। আমরা এমন পুরুষের সান্নিধ্য চাই, যারা এখানকার নিয়ম মেনেই জীবনযাপনে রাজি হবে।’

আরও পড়ুন:
বীরের বেশে পাহাড়ে চারকন্যা
মালদ্বীপের লিগে খেলতে গেলেন সাবিনা
শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ
ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা
চেনা মাঠে প্রত্যাশা পূরণ করতে চান সালমা-জ্যোতিরা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Having female referees at the World Cup in Qatar is a tough message

কাতার বিশ্বকাপে নারী রেফারি থাকা ‘কঠিন বার্তা’

কাতার বিশ্বকাপে নারী রেফারি থাকা ‘কঠিন বার্তা’ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইউভেন্তাস ও ডিনামো কিয়েভের ম্যাচ পরিচালনা করছেন স্টেফানি ফ্রাপার্ট। ছবি: ইউয়েফা
বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার জন্য যে ৩৬ জন রেফারি নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩৮ বছর বয়সী ফ্রাপার্টও আছেন।

কাতার বিশ্বকাপে নারী রেফারির অন্তর্ভুক্তিকে এক ‘কঠিন বার্তা’ বলে উল্লেখ করেছেন ফরাসি নারী রেফারি স্টেফানি ফ্রাপার্ট। ফ্রাপার্টের সঙ্গে আরও দুই নারী রেফারিকে এবারের প্যানেলে যুক্ত করেছে ফিফা।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ২০ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার জন্য যে ৩৬ জন রেফারি নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩৮ বছর বয়সী ফ্রাপার্টও আছেন।

তালিকাভুক্ত বাকি দুই নারী রেফারি হলেন রুয়ান্ডার সালিমা মুকানসাঙ্গা ও জাপানের ইয়োশিমি ইয়ামাশিতা।

স্টেফানি ফ্র্যাপার্ট সংবাদমাধ্যমকে বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘আমি কোনো নারীবাদী মুখপাত্র নই। তবে ওই দেশে একজন নারী রেফারি থাকাটা ফিফার কাছ থেকে একটি শক্তিশালী বার্তা।’

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সমাজে নারী প্রতিনিধিত্বের সমালোচক হওয়ার পরও কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নির্বাচন করা নিয়ে অবশ্য ফ্রাপার কোনো ব্যক্তিগত মত নেই।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজন বিষয়ে আমি কোনো নীতিনির্ধারক নই। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সব দেশে একজন নারীকে বাড়তি সচেতন থাকতে হয়। তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমাকে সাদরে গ্রহণ করা হয়েছে।’

ফ্রাপার্ট তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য মাইলফলক স্থাপন করেছেন। প্রথম নারী রেফারি হিসেবে তিনি ২০১৯ সালের আগস্টে ইউয়েফা সুপার কাপ, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ২০২২ সালের মে মাসে ফ্রেঞ্চ কাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন বুমরাহ
টফিতে দেখুন ফুটবল বিশ্বকাপ
বোল্ট-নিশ্যামকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Afghan women are also on the streets to show solidarity with the Iran protests

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায় কাবুলে ইরানি দূতাবাদের সামনে বিক্ষোভ করছেন আফগান নারীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘ইরান ঘুরে দাঁড়াল, এখন আমাদের পালা’, ‘মাহসার রক্ত ​​আমাদের পথ, আমাদের অনুপ্রেরণা’... স্লোগানে অন্তত ৩০ নারী কাবুলের ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে আরেক রক্ষণশীল দেশ আফগানিস্তানে। তালেবানের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার কাবুলে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। একপর্যায়ে ফাঁকা গুলিতে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় দেশটির শাসকগোষ্ঠী তালেবান।

‘ইরান ঘুরে দাঁড়াল, এখন আমাদের পালা’, ‘মাহসার রক্ত ​​আমাদের পথ, আমাদের অনুপ্রেরণা’... স্লোগানে অন্তত ৩০ নারী ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

পরিচয় গোপন রাখতে সবার পরনে ছিল বোরকা, চোখে সানগ্লাস, কারও মুখে মাস্ক। তাদের হাতে ছিল ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির ছবি।

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেও ইরানের অন্তত ৮০ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকরা ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

কাবুলের দূতাবাস এলাকার এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নারীর স্বাধীনতা চাওয়ার পাশাপাশি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল বিক্ষোভকারীরা। একসময় তালেবানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সামনে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।’

অন্যসব দিনের মতো বৃহস্পতিবারও কাবুলের ইরানি দূতাবাসের সামনে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল। এসবের মধ্যেও তালেবান সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, প্রতিবেশী দেশে আফগান শরণার্থীদের নিপীড়নের প্রতিবাদে সমাবেশ করতে যাচ্ছেন নারীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তালেবান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তারা ইরানে সহিংস আচরণের শিকার আফগান অভিবাসীদের পক্ষে প্রতিবাদ করছে। হঠাৎ বুঝতে পারলাম তারা ইরানি মেয়েটির জন্য প্রতিবাদ করছে। তাই আমাদের সহকর্মীরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে আসার পর নিজেদের অধিকারের দাবিতে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ করেছে নারীরা। শাসকদের দমন-পীড়নের কারণে এসবের বেশির ভাগই হয়েছে ঘরোয়াভাবে।

আফগান নারীদের দাবি, তাদের কর্মক্ষেত্র এবং হাইস্কুলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হোক। তালেবানরা মেয়েদের জন্য হাইস্কুল নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে আফগান নারীরাও তাদের পুরো শরীর ঢেকে রাখতে বাধ্য। পুরুষ সঙ্গী ছাড়া কোথাও ভ্রমণ কর‍তে পারে না তারা।

এসব বিধিনিষেধের বেশির ভাগই তালেবানের প্রথম শাসনের পুনরাবৃত্তি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার শুরুর দিকে নারীর প্রতি মনোভাব বদলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। তবে ক্ষমতায় পোক্ত হওয়ার পর স্বরূপে ফিরতে শুরু করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
The daughter of Irans former president was arrested on charges of inciting protests

বিক্ষোভে ‘উসকানি’: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টের মেয়ে গ্রেপ্তার

বিক্ষোভে ‘উসকানি’: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টের মেয়ে গ্রেপ্তার পূর্ব তেহরান থেকে গ্রেপ্তারের পর ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানির মেয়ে ফাইজেহ হাশেমি। ছবি: এএফপি
আন্দোলনকারীদের উসকে দেয়ার অভিযোগে পূর্ব তেহরান থেকে ফাইজেহ হাশেমিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, উসকানি দিয়েও তিনি মানুষকে রাস্তায় নামাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ইরানে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে উসকানি দেয়ার অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমি রাফসানজানির মেয়ে ফাইজেহ হাশেমিকে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আনাদৌলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের উসকে দেয়ার অভিযোগে পূর্ব তেহরান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, উসকানি দিয়েও তিনি মানুষকে রাস্তায় নামাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট পদে নারী প্রার্থী হিসেবে ৫৯ বছর বয়সী বিশিষ্ট নারী অধিকারকর্মী ফাইজেহ হাশেমির নাম শোনা যাচ্ছে।

বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সংক্রিয় থাকায় তিনি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে ছিলেন।

এর আগে, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে সরকারবিরোধী প্রচারণারমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ মাস তেহরানের কারাগারে থাকতে হয় তাকে।

২০০৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কয়েকবার।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা আলী আকবর রাফসানজানি ইরান বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক। সংস্কারপন্থি এই নেতা এর পরও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তার মৃত্যু হয়। তবে যোগ্যতায় তার মেয়েও কম নন।

সম্প্রতি ইরানে ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তুমুল বিক্ষোভ।

বিক্ষোভে ‘উসকানি’: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টের মেয়ে গ্রেপ্তার

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ছবি: এএফপি

রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮০টি শহর এখন অগ্নিগর্ভ। পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন, বলে জানিয়েছে ওসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস। এ সময় আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ।

১৯৭৯ সালে দেশটিতে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে নারীর পোশাক ইস্যুতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ এটি।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ওই বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এর আগে দেশটির ‘নৈতিকতা পুলিশ’ ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।

স্থানীয় সময় সোমবার কানাডার অটোয়ায় দেশটি প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়া আন্দোলনকারীদের ওপর ইসলামিক রিপাবলিকটির সরকারের নজীরবিহীন দমন-পীড়নের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তথাকথিত নৈতিকতা পুলিশ সদস্যরা, প্রজাতন্ত্রের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংস্থা এর আওতায় পড়বে।’

একই ইস্যুতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দেশটির বিতর্কিত নৈতিকতা পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কুর্দি তরুণীর মৃত্যুর দায় দেশটির নৈতিকতা পুলিশ ইউনিটের। এই মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভরত নারীদের পুলিশের নির্বিচার দমন-পীড়নের ঘটনায় এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

নারীর জন্য কঠোর পোশাকবিধি দেখভালের দায়িত্বে আছে ইরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ ইউনিট, ফারসি ভাষায় যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘গাস্ত-ই এরশাদ’। নিবর্তনমূলক ভূমিকার কারণে এই ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত অজনপ্রিয়। মাহসার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পাশাপাশি দেশটির শাসকগোষ্ঠীর প্রতিও বিপুলসংখ্যক মানুষের অনাস্থার প্রকাশ ঘটেছে এবার।

আরও পড়ুন:
ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Abortion of unmarried persons also legal Supreme Court of India

অবিবাহিতদের গর্ভপাতের অধিকারও সমান: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

অবিবাহিতদের গর্ভপাতের অধিকারও সমান: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভবন। ছবি: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ১৯৭১ সালে প্রণীত মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি অ্যাক্টে বিবাহিত নারীদের গর্ভপাতের যে অধিকার দেয়া হয়েছে, তা পাবেন অবিবাহিত নারীরাও।

বিবাহিতদের পাশাপাশি অবিবাহিত নারীদের নিরাপদ ও বৈধ গর্ভপাতের অধিকার সমান বলে রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ঐতিহাসিক এ রায় দেয় বলে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ১৯৭১ সালে প্রণীত মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি অ্যাক্টে বিবাহিত নারীদের গর্ভপাতের যে অধিকার দেয়া হয়েছে, তা পাবেন অবিবাহিত নারীরাও।

সর্বোচ্চ আদালত আরও বলেছে, ২০২১ সালে ওই আইনে যে সংশোধনী আনা হয়েছে, তাতে গর্ভপাতের ক্ষেত্রে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে কোনো ফাঁক রাখা হয়নি। এর ফলে নিরাপদ ও বৈধ গর্ভপাতের অধিকার পাবেন সব নারী।

বিচারপতি চন্দ্রচুড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিবাহিত ও অবিবাহিত নারীদের মধ্যে কৃত্রিম ফারাক থাকতে পারে না। নারীদের অবশ্যই এ ধরনের (গর্ভপাত) অধিকার চর্চার স্বাধীনতা থাকতে হবে।

জন্মদানের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা শরীরের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জানিয়ে রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বেছে নেয়া, সন্তানের সংখ্যা এবং গর্ভপাত করা কিংবা না করার সিদ্ধান্ত সামাজিক বাধাবিপত্তি ছাড়াই নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, কোনো নারীর অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের পরিণতিকে খাটো করে দেখা যাবে না। ভ্রুণের স্বাস্থ্য নির্ভর করে মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর।

আরও পড়ুন:
‘খেলা হবে’ দিবসে শাড়ি পরে মাঠে নামা সেই এমপি ফের ভাইরাল
ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে গিয়ে ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ১৭ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
ভারতে ভারি বৃষ্টিতে দেয়াল ধসে ৯ মৃত্যু
ভারতে পোশাক রপ্তানি বেড়ে দ্বিগুণ, কমছে চীনে
বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ-হত্যা দলিত ২ বোনকে

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Viral in the Iran protests the young woman was shot dead?

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত? চুল বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া তরুণীকে হাদিস নাজাফি দাবি করে তার মৃত্যুর তথ্য প্রচার করছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বিবিসি ফার্সির টুইটের পর হাদিসের মৃত্যুর প্রতিবেদন থেকে চুল বাঁধা তরুণীর ছবি সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে এর দু’দিন পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ঝুঁটি বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি। বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমও বলছে, ভাইরাল ভিডিওর তরুণী গুলিতে নিহত হয়েছেন।

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে কঠোর পোশাকবিধি নিয়ে ইরানি নারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে । ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে অন্তত ৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করলেও প্রতিবাদের ঢেউ দেশটির অন্তত ৮০টি শহরে এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রতিদিনই প্রাণ দিচ্ছে মানুষ। নিহতদের মধ্যে পুরুষের পাশাপাশি নারী-শিশুও রয়েছে।

মাহসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নতুন করে আরও একটি নাম প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি ২২ বছরের তরুণী হাদিস নাজাফি।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
মাহসা আমিনির (বাঁয়ে) পর এবার ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবির বিক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন এই তরুণী

কারাজ শহরে ২১ সেপ্টেম্বর ওই বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

এর চার দিন পর গত রোববার সাংবাদিক এবং নারী অধিকারকর্মী মাসিহ আলিনেজাদ একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে দেখা যায় এক তরুণী তার খোলা চুল ঝুঁটি বেধে বিক্ষোভে যোগ দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাসিহ আলিনেজাদের দাবি ছিল, ওই তরুণীর নামই হাদিস নাফাফি। বিক্ষোভে যোগ দেয়ার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর ছয়টি গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।

ইরানের সাংবাদিক ফারজাদ সেফিকারানকে উদ্ধৃত করে আল আরাবিয়া জানায়, বিক্ষোভে নিহত হাদিসের মুখ, ঘাড় এবং বুকে গুলি লেগেছিল। স্থানীয় ঘায়েম হাসপাতালে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়। আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনেও ভিডিওতে চুল বাঁধা তরুণীকে ‘হাদিস নাজাফি’ বলে উল্লেখ করা হয়।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
ভাইরাল ভিডিওর এই তরুণীকে হাদিস নাজাফি হিসেবে দাবি করা হচ্ছে

তবে সোমবার বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আগে চুল বাঁধা ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি নয়। ওই তরুণী নিজেও বিবিসিকে একটি ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আমি বিক্ষোভে নিহত হাদিসা নাজাফি নই। তবে আমি নারীদের জন্য, মাহসাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

চুল বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীকে ‘হাদিস নাজাফি’ বলে দাবি করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি অ্যানিমেশন ভাইরাল হয়েছে। তবে বিবিসি ফার্সির টুইটের পর ওই অ্যামিনেশনের নির্মাতা এলো নিকো শিরোনামে একটি সংশোধনী দেন। এলো নিকো লেখেন, বিবিসি জানিয়েছে চুল বাঁধা যে তরুণীর অ্যানিমেশন আমি করেছি, তিনি জীবিত আছেন।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনের পর হাদিসের মৃত্যুর প্রতিবেদন থেকে চুল বাঁধা তরুণীর ছবি সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

তবে এর দু’দিন পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দেশটির বার্তা সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) বরাতে জানায়, ঝুঁটি বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এসব প্রতিবেদনের বরাতে বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমও ভাইরাল ভিডিওর তরুণী ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন দাবি করে বুধবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ভাইরাল ভিডিওর তরুণী আর হাদিস নাজাফি যে আলাদা ব্যক্তি তা নিয়ে সোমবার রাতেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউজবাংলা।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর গত মঙ্গলবার এই বিভ্রান্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম চুল বেঁধে বিক্ষোভে সামিল হওয়া তরুণীকে হাদিস নাজাফি বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে ভিডিওর ওই তরুণীকে পরে হত্যা হরা হয়। তবে ভিডিওটিতে যাকে দেখা গেছে তিনি হাদিস নাজাফি নন।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল ভিডিওটির অপব্যবহার হলেও হাদিস নাজাফির মৃত্যুর ঘটনা সত্যি।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
হাদিস নাজাফির মৃত্যু সনদ

নেদারল্যান্ডভিত্তিক ফার্সি ভাষার রেডিও জামানেহ কথা বলেছে হাদিসের এক স্বজনের সঙ্গে। তার তথ্য অনুসারে, হাদিসের বয়স ২২ বছর। ইরানের কারাজে শহরে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের সময় শর্টগানের অন্তত ২০টি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে লাগা এসব গুলিতে প্রাণ হারান হাদিস।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরান বিক্ষোভে নিহতদের যে তালিকা করেছে সেখানেও হাদিস নাজাফির নাম রয়েছে। তার পরিবার সোমবার বিবিসি ফার্সিকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। হাদিসের মৃত্যু সনদও প্রকাশ করেছে পরিবার। ইনস্টাগ্রামে হাদিসের অ্যাকাউন্ট ‘রিমেম্বারিং’ রয়েছে।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
ইনস্টাগ্রামে হাদিস নাজাফির অ্যাকাউন্ট

হাদিসের বোন শিরিন নাজাফি রেডিও জামানেহকে জানান, পরিবারিক বন্ধুরা তাদের কাছে আলোচিত তরুণীর ভাইরাল ভিডিওটি পাঠিয়েছিলেন। এরপর তারা প্রাথমিকভাবে সাংবাদিকদের বলেছিলেন চুল বাঁধা তরুণীটি হাদিস হতে পারে। কারণ ভিডিওর তরুণীর চুল, পোশাক ও চশমা অনেকটা হাদিসের মতোই দেখাচ্ছিল। তবে আসল তরুণী পরে বিবিসিকে তার নিজের আরেকটি ভিডিও পাঠানোর পর হাদিসের পরিবার নিজেদের ভুল বুঝতে পারে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #MahsaAmini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

আরও পড়ুন:
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’
বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
What women wear is a womans decision Malala

নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা

নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা শান্তিতে নোবেলজয়ী সমাজকর্মী মালালা ইউসুফজাই (বাঁয়ে ) এবং ইরানি তরুণী মাহসা আমিনি। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
মালালা বলেন, ‘যেমনটা আগেই বলেছি, যদি কেউ আমাকে মাথা ঢেকে রাখতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করব। যদি কেউ আমাকে আমার স্কার্ফ খুলতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করব। আমি মাহসা আমিনির জন্য ন্যায়বিচারের আহ্বান জানাচ্ছি।’

একজন নারী কি পোশাক পরবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার কেবল সেই নারী। ইরানি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুতে ক্ষোভ জানিয়ে এ মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী সমাজকর্মী মালালা ইউসুফজাই।

টুইটার এবং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মালালা লেখেন, ‘একজন নারী যা-ই পরতে পছন্দ করুন না কেন, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সেই নারীর আছে।

‘যেমনটা আগেই বলেছি, যদি কেউ আমাকে মাথা ঢেকে রাখতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করব। যদি কেউ আমাকে আমার স্কার্ফ খুলতে বাধ্য করে, আমি প্রতিবাদ করব। আমি মাহসা আমিনির জন্য ন্যায়বিচারের আহ্বান জানাচ্ছি।’

নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্রত্যক্ষদর্শী ও মাহসার পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মাহসার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে; যেখানে দেখা যায়, কোমায় থাকা তরুণীর মাথা ব্যান্ডেজে মোড়ানো, টিউবের সাহায্যে তিনি শ্বাস নিচ্ছেন।

নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #MahsaAmini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

বিক্ষোভের ১২ দিনে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৮০টি শহরে। বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে সহিংস হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

ইরান সরকারের হিসাবে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যসহ ৪১ জন নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা বলছে, সংখ্যাটা ৭৬।

আরও পড়ুন:
উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী
হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
মাহসার মৃত্যুতে কেন এভাবে বিস্ফোরিত ইরান
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া

মন্তব্য

p
উপরে