× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
Not only Truss but other women who are running the country
hear-news
player
google_news print-icon

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

শুধু-ট্রাস-নন-দেশ-চালাচ্ছেন-আরও-যেসব-নারী-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস
সর্বশেষ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ৪৭ বছর বয়সী ট্রাস পার্লামেন্টে আসেন ২০১০ সালে। চার বছর এমপি পদে থাকার পর মন্ত্রিসভায় স্থান করে নেন। দায়িত্ব পালন করেন ডেভিড ক্যামেরন সরকারের পরিবেশ, খাদ্য এবং গ্রামীণবিষয়কমন্ত্রী পদেও।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন লিজ ট্রাস। দেশটির তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী তিনি। এই মুহূর্তে তার মতো এমন গৌরবের অধিকারী আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন দেশের আরও কয়েকজন নারী। নিজ নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

সর্বশেষ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ৪৭ বছর বয়সী ট্রাস পার্লামেন্টে আসেন ২০১০ সালে। চার বছর এমপি পদে থাকার পর মন্ত্রিসভায় স্থান করে নেন। দায়িত্ব পালন করেন ডেভিড ক্যামেরন সরকারের পরিবেশ, খাদ্য এবং গ্রামীণবিষয়কমন্ত্রী পদেও।

পরে টেরিজা মে সরকারেও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন ট্রাস। ২০২১ সালে হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষি সুনাককে প্রায় ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের নতুন বাসিন্দা হন ট্রাস। দেশটির ১৬তম প্রধানমন্ত্রী তিনি।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকালীন সময়ে বিদেশে থাকাকালে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। ওই বছরের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব নেন।

এরপর থেকে টানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। সর্বশেষ টানা তিন মেয়াদে আছেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। এ ছাড়াও ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবীণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ইউরোপের ৪৫টি দেশের মধ্যে ১৫টি দেশেই এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি পদে রয়েছেন নারী।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

যুক্তরাজ্যের এক কালের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সেও ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন একজন নারী। নাম এলিজাবেথ বোর্ন। ৩০ বছর পর সে দেশে এই পদে বসেছেন কোনও নারী। তার আগে দেশের শ্রমমন্ত্রী ছিলেন ৬১ বছরের এলিজাবেথ।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন মেট ফ্রেডরিকসন। ২০১৯ সালের জুন থেকে তিনি ওই পদে। মাত্র ৪১ বছর বয়সে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন সোশাল ডেমোক্র্যাট নেত্রী। এর আগে এত কম বয়সে কেউ দেশের প্রধানমন্ত্রী হননি। মেটের আগে মাত্র এক জন নারীই এই পদে ছিলেন।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

ইউরোপের আরেক দেশ এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন ৪৫ বছরের কাজা কালাস। ২০২১ সালে এই পদে বসেন তিনি। ২০১৮ সাল থেকে শাসক দল রিফর্ম পার্টির নেত্রী কাজা। ২০১৯ সাল থেকে পার্লামেন্টের সদস্য। ইউক্রেন যুদ্ধে সে দেশের পাশে দাঁড়িয়ে নজর কেড়েছেন কাজা। বহু অস্ত্র পাঠিয়ে ইউক্রেনকে সাহায্যও করেছেন।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

২০১৯ সাল থেকে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন সানা মারিন। মাত্র ৩৩ বছরে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সানা। সেই থেকেই শিরোনামে। তবে বহু বার বিতর্কেও জড়িয়েছেন। তার উত্তাল পার্টি করার ছবি দেখে আঙুল তুলেছিলেন রক্ষণশীলরা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০২০ সালে বিয়ে করেন সানা।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

২০২০ সালের ১৩ মার্চ থেকে গ্রিসের প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন ক্যাটরিনা সাকেল্লারোপোলু। ক্যাটরিনাই সে দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। এই পদে বসার আগে গ্রিসের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালতের প্রধান পদে ছিলেন ৬৬ বছরের এই ইন্ডিপেনডেন্ট নেত্রী।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

২০২২ সালে হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন কাটালিন নোভাক। মাত্র ৪৪ বছরে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। তার আগে হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট পদে বসেননি কোনও নারী। সেদিক থেকেও ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্যাটরিন জেকবসডট্টির। ২০১৭ সাল থেকে ওই পদে রয়েছেন তিনি। মাত্র ৪১ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। এর আগে আইসল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন তিনি।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

কসোভোর প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন ভিজোসা ওসমানি। ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল ওই পদে বসেছেন ৪০ বছরের ভিজোসা। আলবানিয়ান, ইংরেজি, তুর্কি, সার্বিয়ান, স্প্যানিশ- এতগুলো ভাষা গড়গড়িয়ে বলতে পারেন ভিজোসা।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট পদেও রয়েছেন এক নারী। নাম ইনগ্রিডা সিমোনাইট। ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ওই পদে রয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থমন্ত্রীর পদও সামলেছেন তিনি।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

২০২১ সাল থেকে মলডোভার প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন নাতালিয়া গাভ্রিলিটা। এর আগে দেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক শিক্ষার্থী। ৪৪ বছরের নাতালিয়া দেশের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী এবং তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

মলডোভার প্রেসিডেন্ট পদেও রয়েছেন একজন নারী। নাম মাইয়া সান্ডু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হন। তার আগে ২০১৯ সালের জুন থেকে নভেম্বর ছিলেন মলডোভার প্রধানমন্ত্রী।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন আনা বার্নাবিক। ২০১৭ সাল থেকে এই পদে ৪৬ বছরের আনা। এর আগে সার্বিয়ায় প্রধানমন্ত্রী পদে কোনও নারী বসেননি। সেদিক থেকে ইতিহাস গড়েছেন আনা। পাশাপাশি অন্য একটি ইতিহাসও গড়েছেন। সে দেশে তিনিই প্রথম সমকামী প্রধানমন্ত্রী।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

২০১৯ সাল থেকে স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন জুজানা কাপুটোভা। দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট তিনি। ৪৫ বছর বয়সে নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েছেন এই আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী।

শুধু ট্রাস নন, দেশ চালাচ্ছেন আরও যেসব নারী

২০২১ সাল থেকে সুইডেনের প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছে মাগডালেনা অ্যান্ডারসন। অর্থনীতিবিদ মাগডালেনার বয়স ৫৫।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে রেকর্ড গড়া এলিজাবেথ
চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Priyanka Chopra next to Iranian women

ইরানি নারীদের পাশে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

ইরানি নারীদের পাশে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
প্রিয়াঙ্কা লেখেন, ‘ইরানসহ সারা বিশ্বের নারীরা আওয়াজ তুলছেন; প্রকাশ্যে তারা চুল কেটে ফেলছেন। মাহসা আমিনি... যার তরুণ প্রাণ ইরানের নৈতিকতা পুলিশ নৃশংসভাবে কেড়ে নিয়েছে কেবল হিজাব ঠিক মত না করার কারণে। যারা তার জন্য নানা ধরনের প্রতিবাদ করছেন... তাদের কারও থামানো উচিত হবে না।’

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছেন তারকা অভিনেতা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টে এ ডাক দেন প্রিয়াঙ্কা।

মাহসা আমিনির সাদা-কালো চুল খোলা একটি স্কেচ পোস্ট করে প্রিয়াঙ্কা লেখেন, ‘ইরানসহ সারা বিশ্বের নারীরা আওয়াজ তুলছেন; প্রকাশ্যে তারা চুল কেটে ফেলছেন। মাহসা আমিনি... যার তরুণ প্রাণ ইরানের নৈতিকতা পুলিশ নৃশংসভাবে কেড়ে নিয়েছে কেবল হিজাব ঠিক মত না করার কারণে, তার জন্য নানা ধরনের প্রতিবাদ করছেন। যুগ যুগ ধরে জোরপূর্বক মুখে কুলুপ আটিয়ে রাখার পর যে কণ্ঠস্বর জেগে ওঠে, সেগুলো আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়বে ঠিকই। তারা থামবে না... তাদের কারও থামানো উচিতও না।

‘আমি আপনাদের সাহস ও নিবেদিত উদ্দেশ্য বিস্মিত। পুরুষতান্ত্রিকতাকে চ্যালেঞ্জ করা ও নিজের অধিকারের জন্য লড়াইয়ে জীবনের ঝুঁকি নেয়া সহজ কাজ নয়। তবে আপনারা সাহসী নারী... নিজেদের উৎসর্গ করে হলেও প্রতিদিন এটিই করছেন।’

চলমান আন্দোলনকে জোরাল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আন্দোলনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই তাদের কথা শুনতে হবে, সমস্যাগুলো বুঝতে হবে, তাদের সম্মিলিত কণ্ঠে যোগ দিতে হবে। আমাদের অবশ্যই এমন সবাইকে পেতে হবে যারা অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে, প্রতিবাদে যুক্ত করতে পারে। কারণ এই সংখ্যা বাড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।

View this post on Instagram

A post shared by Priyanka (@priyankachopra)

‘এই আন্দোলনে আপনার কণ্ঠ যুক্ত করুন। অবগত থাকুন ও সোচ্চার হন। এই কণ্ঠগুলোকে আর নীরব থাকতে বাধ্য করা যাবে না।’

সবশেষে #mahsaamini #IranProtests #WomanLifeFreedom হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমি তোমাদের পাশে আছি। জিন, জিয়ান, আজাদি... নারী, জীবন, স্বাধীনতা।’

এর আগে ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানান অস্কারজয়ী জুলিয়েট বিনোচে এবং মেরিয়ন কোটিলার্ডসহ বেশ কয়েকজন তারকা অভিনেত্রী। ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে তারা নিজেদের চুল কেটে ফেলেছেন।

ব্রিটিশ অভিনেতা শার্লট র‌্যাম্পলিং, শার্লট গেইনসবার্গ এবং সঙ্গীতশিল্পী জেন বার্কিনও চুল কেটে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

সংহতি জানিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত হলিউড তারকা ‘লর্ড অফ দ্য রিং: দ্য রিংস অফ পাওয়ার’-এর অভিনেত্রী ও অ্যাকটিভিস্ট নাজানিন বোনিয়াদিও। সম্প্রতি তিনি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলসে এক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ইরানে নারীদের এমন হিজাব করতে হয়, যেন তাদের চুল দেখা না যায়। কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই পোশাক কোড না মানার দায়ে। তিন দিন পর পুলিশি হেফাজতে মারা যান ২২ বছরের মাহসা।

ইরানি নারীদের পাশে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়। মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন ও ফ্রান্সের নারীরাও। যুক্ত হচ্ছেন তারকা ও রাজনৈতিক নেত্রীরাও।

আরও পড়ুন:
পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলনে ইরানের স্কুলছাত্রীরাও
হিজাব ফেলে বিক্ষোভে নামল ইরানের স্কুলছাত্রীরা
নাক কেটে, মাথা চূর্ণ করে কিশোরীদের হত্যা করছে ইরানি পুলিশ
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
This years Nobel Peace Prize belongs to a human rights activist and two organizations from Ukraine and Russia

শান্তিতে নোবেল বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী, ইউক্রেন-রাশিয়ার দুই সংগঠনের

শান্তিতে নোবেল বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী, ইউক্রেন-রাশিয়ার দুই সংগঠনের
নোবেল পুরস্কারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পুরস্কারজয়ী ব্যক্তি ও সংগঠন নিজেদের দেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। তারা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংরক্ষণে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকাদের সমালোচানার পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন তারা।

বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী অ্যালিয়েস বিয়ালিয়াৎস্কি এবং যুদ্ধরত দুই দেশ ইউক্রেন-রাশিয়া ভিত্তিক দুই মানবাধিকার সংগঠনকে এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী অ্যালিয়েস বিয়ালিয়াৎস্কির সঙ্গে এই পুরস্কার পেয়েছে রাশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট নোবেল ডট ওআরজি ও এ-সংক্রান্ত ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

নোবেল পুরস্কারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পুরস্কারজয়ী ব্যক্তি ও সংগঠন নিজেদের দেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। তারা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংরক্ষণে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকাদের সমালোচানার পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন তারা।

এতে বলা হয়, শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য নাগরিক সমাজের তাৎপর্য তুলে ধরেছেন নোবেল জয়ী ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠান। যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নথি তৈরিতে তারা দেখিয়েছেন অসাধারণ কর্মদক্ষতা।

গত বছর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি মুরাতভ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে গত ৩ অক্টোবর। প্রথম দিন চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয় করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

পরদিন মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল। এই বিষয়ে এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার।

বুধবার রসায়নেও নোবেল পুরস্কার পান তিন বিজ্ঞানী। ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’ ও ‘বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রি’র ভিত্তি দিয়ে এ পুরস্কার জয় করেছেন আমেরিকার ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি, কে ব্যারি শার্পলেস এবং ডেনমার্কের মর্টেন মেলডাল।

আর বৃহস্পতিবার এ বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ফ্রান্সের লেখক আনি আরনোঁ। নোবেল কমিটি বলেছে, ব্যক্তিস্মৃতির উৎসমূল, বিচ্ছিন্নতা এবং যৌথ অবদমনের চিত্র ক্ষুরধার ও সাহসী ভঙ্গীতে লেখনীতে তুলে ধরেছেন ৮২ বছর বয়সী আনি আরনোঁ।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ। সম্মানজনক এই পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ মার্কিন ডলার)।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিকেল ৩টায়
ব্যক্তিস্মৃতির শিকড়সন্ধানী লেখক আনি আরনোঁর নোবেল জয়
শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
A few hours later the Nobel Peace Prize was announced

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিকেল ৩টায়

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিকেল ৩টায়
গত বছর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি মুরাতভ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

শান্তিতে এ বছরের নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে শুক্রবার।

বিকেল ৩টায় নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই পুরস্কার ঘোষণা করবে।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট নোবেল ডট ওআরজি ও এ-সংক্রান্ত ফেসবুক পেজে এ কথা জানানো হয়েছে।

গত বছর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি মুরাতভ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে সোমবার। প্রথম দিন চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয় করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো।

পরদিন মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল। এই বিষয়ে এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফ্রান্সের অ্যালাঁ আসপে, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ ক্লাউসার ও অস্ট্রিয়ার আন্টন সেইলিংগার।

বুধবার রসায়নেও নোবেল পুরস্কার পান তিন বিজ্ঞানী। ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’ ও ‘বায়োঅর্থোগোনাল কেমিস্ট্রি’র ভিত্তি দিয়ে এ পুরস্কার জয় করেছেন আমেরিকার ক্যারোলাইন আর বারটোজ্জি, কে ব্যারি শার্পলেস এবং ডেনমার্কের মর্টেন মেলডাল।

আর বৃহস্পতিবার এ বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ফ্রান্সের লেখক আনি আরনোঁ। নোবেল কমিটি বলেছে, ব্যক্তিস্মৃতির উৎসমূল, বিচ্ছিন্নতা এবং যৌথ অবদমনের চিত্র ক্ষুরধার ও সাহসী ভঙ্গীতে লেখনীতে তুলে ধরেছেন ৮২ বছর বয়সী আনি আরনোঁ।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর শেষ হবে এবারের মোট ছয়টি শাখায় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে পুরস্কারের পদক, সনদ ও অর্থ। সম্মানজনক এই পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ মার্কিন ডলার)।

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তার রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে দেয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
ব্যক্তিস্মৃতির শিকড়সন্ধানী লেখক আনি আরনোঁর নোবেল জয়
শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
পেবোকে পুকুরে ফেলে নোবেল উদযাপন
রসায়নে নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি দিয়ে ৩ বিজ্ঞানীর নোবেল জয়

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Sharif University of Tehran calls for rallies across Iran

পুরো ইরানে সমাবেশের ডাক তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটির

পুরো ইরানে সমাবেশের ডাক তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের পরেও ইরানে আন্দোলন থামছে না। ছবি: সংগৃহীত
তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন সশস্ত্র ব্যক্তিদের ধরপাকড়ের শিকার হয়েছে শিক্ষার্থীরা। অনেক ছাত্রকেই আটক করেছে সাদা পোশাকধারীরা। অথচ দেশটির আইনে সশস্ত্র বাহিনীর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢোকা নিষিদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শনিবার পুরো দেশে সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইরানি অ্যাকটিভিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা শনিবার পুরো দেশে সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তেহরানের মর্যাদাপূর্ণ শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির অধ্যাপকরা ২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ৮ অক্টোবর শনিবার দেশটির সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ করার জন্য দেশের সব ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে এ আহ্বান জানানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কারণ দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলো সেন্সরশিপের কারণে বিক্ষোভের খবর প্রচার করতে পারে না।

শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি ক্যাম্পাসের ভেতর শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরত অনেক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে, যেখানে আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাসের ভেতরে সশস্ত্র বাহিনীর প্রবেশ নিষিদ্ধ।

ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, অনেক ছাত্রকে তাদের বাড়ি সহ অন্যান্য স্থান থেকে আটক করা হয়েছে।

এসব ঘটনারই বিচ্ছিন্নভাবে না করে সামগ্রিকভাবে প্রতিবাদ করতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

পুরো ইরানে সমাবেশের ডাক তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটির
মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা ইরানসহ বিশ্বের অনেক দেশেই প্রতিবাদ হয়েছে

আর কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও অনেক স্থানেই স্কুল ছাত্রীরা বিক্ষোভ করছে, মাথার হিজাব খুলে ফেলছে ও ক্লাসে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে। তারা স্কুলেও বিক্ষোভ করেছে এবং স্কুল থেকে ফেরার পথেও বিক্ষোভ করেছে, স্লোগান দিয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থীই তাদের মাথার স্কার্ফ জ্বালিয়ে দিয়েছে।

এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে এতোই কঠোর হয়েছে যে সরকারের অনেক কট্টর সমর্থকদের পক্ষেও তা হজম করা কঠিন হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

অসলো-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের (আইএইচআর) দেয়া তথ্যানুসারে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৯ জন সাংবাদিক, ২০ জন অধিকারকর্মী এবং ১৯ জন শিক্ষক সহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইএইচআর মঙ্গলবার জানিয়েছে যে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৯ শিশুসহ অন্তত ১৫৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার মাহসা আমিনির মৃত্যুর নিন্দা করেছে এবং মাহসার মৃত্যুর সঙ্গে যারা জড়িত এবং বিক্ষোভ দমনে যারা কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে।

আরও পড়ুন:
হিজাব ফেলে বিক্ষোভে নামল ইরানের স্কুলছাত্রীরা
নাক কেটে, মাথা চূর্ণ করে কিশোরীদের হত্যা করছে ইরানি পুলিশ
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
How is Ryan Sadie nominated for the Nobel Peace Prize?

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার এক বছর আগে ‘সুনির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন’ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের মনোনীত বা সুপারিশ করা ব্যক্তিদের নাম গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নোবেলের ছয়টি ক্যাটাগরিতে সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই নামগ্রহণ। ডা. রায়ান সাদী ও প্রতিষ্ঠানের নামও একই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক সুপারিশ বা মনোনয়ন আকারে গেছে নোবেল কমিটির কাছে।

বাংলাদেশি বংশদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ডা. রায়ান সাদী ও তার কোম্পানি ‘টেভোজেন বায়ো’ ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

কোম্পানিটির ওয়েবসাইটের ল্যান্ডিংপেজেই এ বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে।

ডা. সাদীর এক সময়কার সহপাঠী শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকেও বিষয়টি নিয়ে শনিবার একটি পোস্ট দেন।

বন্ধুকে অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪০ ব্যাচের বন্ধু রায়ান সাদী এমডি, এমপিএইচ, চেয়ারম্যান ও সিইও Tevogen Bio, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আমরা গর্বিত। সাদীর প্রতি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। সাদী ও তার পরিবারের প্রতি নিরন্তর শুভকামনা।”

পোস্টে একটি মন্তব্যে মন্ত্রী জানান, রায়ান সাদী মনোনীত হয়েছেন ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য। এই পোস্টে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত রিঅ্যাক্ট করেছেন ৭ হাজার ২০০ ফেসবুক ব্যবহারকারী, শেয়ার হয়েছে ৫২৯টি।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট

শান্তিতে ২০২৩ সালে নোবেলের জন্য রায়ান সাদীর ‘মনোনীত’ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা।

এতে দেখা গেছে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার এক বছর আগে ‘সুনির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন’ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের মনোনীত বা সুপারিশ করা ব্যক্তিদের নাম গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নোবেলের ছয়টি ক্যাটাগরিতে সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই নামগ্রহণ।

এরপর প্রাপ্ত নাম থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির কাজ চলে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত। নোবেল কমিটির পরামর্শকেরা আগস্ট মাস পর্যন্ত সেই সংক্ষিপ্ত তালিকার প্রতিটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। সবশেষে অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
নোবেল পুরস্কারের জন্য বিজীয় নাম চূড়ান্ত করার আগে চলে দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের সুপারিশ পেয়েছিল নোবেল কমিটি। এই তালিকা থেকে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম আগামী সোমবার ঘোষণা করা হবে।

ডা. রায়ান সাদী ও প্রতিষ্ঠানের নামও একই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক সুপারিশ বা মনোনয়ন আকারে গেছে নোবেল কমিটির কাছে। ডা. সাদী ও টেভোজেন বায়োকে মনোনয়ন দিয়েছেন ইয়েল স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এমেরিটাস কার্টিস প্যাটন। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিষ্ঠানের জনস্বাস্থ্য বিভাগের মহামারি বিদ্যা (অণুজীব ঘটিত রোগ) বিশেষজ্ঞ প্যাটন একই সঙ্গে ‘টেভোজেন বায়ো’র পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদেও আছেন

‘টেভোজেন বায়ো’ কোম্পানির ওয়েবসাইটের ল্যান্ডিংপেজে লেখা আছে, ‘আমরা বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিই।’

এরপরেই বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে মানবতাকে জর্জরিত করে রাখা সবচেয়ে ভয়ংকর রোগগুলোর বিরুদ্ধে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেলের জন্য মনোনীত’।

টেভোজেন বায়ো মূলত ক্যান্সার নির্মূলের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে। টেভোজেন বায়োর প্রতিষ্ঠাতা ডা. রায়ান সাদী বর্তমানে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
টেভোজেন বায়োর কোম্পানির ওয়েবসাইটে রয়েছে শান্তিতে নোবেলের জন্য মনোনীত হওয়ার তথ্য

শান্তিতে নোবেলের মনোনয়ন কীভাবে

নোবেল প্রাইজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতি বছর বছর হাজারো বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, সাবেক নোবেল বিজয়ী, পার্লেমেন্ট সদস্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিথযশা ব্যক্তিরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নোবেলের ছয়টি ক্যাটাগরির জন্য মনোনয়ন দিয়ে সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেন।

এই মনোনয়নদাতাদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করার উপর জোর দেয় নোবেল কমিটি। সুপারিশগুলো পাওয়ার পর নোবেল পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করেন চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এই চার প্রতিষ্ঠান হল দ্য রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস, দ্য নোবেল অ্যাসেম্বলি অ্যাট ক্যারোলিন্সকা ইন্সটিটিউট, দ্য সুইডিশ অ্যাকাডেমি এবং দ্য নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?

শান্তিতে নোবেলের জন্যও একই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেন সারা বিশ্বের ‘যোগ্য’ ব্যক্তিরা

নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘নোবেল কমিটি কখনও সুপারিশ পাওয়া বা মনোনীত ব্যক্তিদের নাম সংবাদমাধ্যম, এমনকি প্রার্থীদের কাছেও প্রকাশ করে না। পুরস্কার কে পাচ্ছেন সে সম্পর্কে আগাম জল্পনা-কল্পনার মধ্যে কিছু নাম উঠে আসে। এগুলো হয় নিছক অনুমান, নয়ত মনোনয়নের সুপারিশের পিছনে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকাশিত।’

শুধু চলমান সময়ের নয়, মনোনয়ন ডেটাবেসের বিগত ৫০ বছরের তথ্যও গোপন রাখা হয় বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি।

ডা. সাদী ও তার কোম্পানি কীভাবে ‘মনোনীত’

ডা. রায়ান সাদী ও তার কোম্পানি টেভোজেন বায়োকে কীভাবে এবং কে মনোনয়ন দিয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ই-মেইল পাঠায় নিউজবাংলা।

এর জবাবে টেভোজেন বায়োর পক্ষ থেকে ক্যাটলিন জয়েস লেখেন, ‘২০২৩ নোবেল শান্তি পুরস্কারের নোবেল কমিটি আমাদের বিবেচনা করায় আমরা অত্যন্ত সম্মানিত ও কৃতজ্ঞবোধ করছি।’

তিনি জানান, ইয়েল স্কুল অফ পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এমেরিটাস কার্টিস প্যাটন গত সপ্তাহে এই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং সেটি গৃহীত হয়েছে।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?
টেভোজেন বায়ো কোম্পানির চেয়ারম্যান রায়ান সাদী এবং পরিচালক হিসেবে আছেন অধ্যাপক কার্টিস প্যাটন

এ বিষয়ে রায়ান সাদীর একটি বিবৃতিও ই-মেইলে তুলে ধরেন ক্যাটলিন জয়েস। এই বিবৃতিতে সাদী বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য টেভোজেন বায়োর মনোনয়ের খবরে আমরা সম্মানিত ও কৃতজ্ঞবোধ করছি। এই অর্জনটি আমাদের পরিচালনা নীতিকে আরও বেগবান করবে। এই নীতিটি হলো সামাজিক সমৃদ্ধি, জনগণের স্বাস্থ্য ও মঙ্গল এবং সর্বোপরি মানব জাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে টেকসই ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন অসম্ভব।’

নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্ব থেকে পাওয়া নাম থেকে ফেব্রুয়ারিতে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। এছাড়া মনোনীতদের বিষয়ে নোবেল কমিটি কখনোই তথ্য প্রকাশ করে না। এরপরেও ডা. রায়ান সাদী ও তার কোম্পানি টেভোজেন বায়োকে কীভাবে ২০২৩ সালের শান্তি পুরস্কারের জন্য ‘মনোনীত’ বলা যাবে- সেই প্রশ্ন রেখে মনোনয়নদাতা অধ্যাপক কার্টিস প্যাটনকেও ই-মেইল করেছে নিউজবাংলা।

তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সেই ই-মেইলের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

শান্তিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ নোবেল কতবার

১৯০১ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ২৫টি প্রতিষ্ঠান নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ইউএনএইচসিআর) দুবার এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেডক্রস তিনবার এই পুরস্কার জয় করে। এর অর্থ হলো, সব মিলিয়ে ২৮ বার নোবেল শান্তি পুরস্কার গেছে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে।

কোনো কোনো বছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল জয় করেছেন। যেমন ২০০৬ সালে এই পুরস্কার যৌথভাবে পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক।

শান্তিতে নোবেলের জন্য রায়ান সাদী কীভাবে ‘মনোনীত’?

ড. ইউনূস ছাড়াও আরও কয়েকজন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পান। ২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান অ্যালবার্ট আর্নল্ড (আল) গোর জুনিয়র ও ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)।

এর দুই বছর আগে শান্তিতে ২০০৫ সালে নোবেল জয় করে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি ও এর প্রধান মোহামেদ এলবারাদি। ২০০১ সালে যৌথভাবে পুরস্কার পায় জাতিসংঘ এবং এর তখনকার মহাসচিব কফি আনান।

এর আগে ল্যান্ডমাইনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৭ সালে যৌথভাবে এই পুরস্কার পান জোডি উইলিয়ামস ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনস (আইসিবিএল)’। এছাড়া, ১৯৯৫ সালে জোসেফ রটব্লাট ও পগওয়াশ কনফারেন্সেস অন সায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল জয় করে।

এর আগে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কোনো ব্যক্তি শান্তিতে নোবেল পাননি। তবে যৌথভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানের নোবেল জয়ের নজির রয়েছে। এটি প্রথম দেয়া হয় ১৯৪৭ সালে। সেবার ফ্রেন্ডস সার্ভিস কাউন্সিল এবং আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি যৌথভাবে নোবেল পায়।

আরও পড়ুন:
মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
আদি পুরুষ থেকে মানুষ: জিনগত বিকাশ দেখিয়ে পেবোর নোবেল জয়
অর্থনীতিতে নোবেল যুক্তরাষ্ট্রের মিলগ্রম-উইলসনের
শান্তিতে নোবেল পেল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি
ক্রিসপারের দুই উদ্ভাবক পেলেন রসায়নে নোবেল

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
At least 30 killed in Thailand daycare center shooting

থাইল্যান্ডে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৩৪

থাইল্যান্ডে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৩৪ থাই পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুকধারীর গুলিতে ৩৪ জন নিহত হয়েছে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্দুক হামলাকারী একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, হামলাকারী আত্মহত্যা করেছেন।

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লং বুয়া লামফুতে শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারে বৃহস্পতিবার বন্দুকধারীর গুলিতে ৩৪ জন নিহত হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ মুখপাত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে রয়টার্স।

নিহত ৩৪ জনের মধ্যে ২৩ জনই শিশু।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্দুক হামলাকারী একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর ফেসবুক পেজে সম্ভাব্য হামলাকারী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ‘পানিয়া খামরাব’ বলা হয়েছে এবং তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুক হামলায় নিহত ৩৪
সম্ভাব্য হামলাকারী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা পানিয়া খামরাব

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, তিনি হামলা চালানোর পরই আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশের বিবৃতিতে বন্দুকধারীর আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

এর আগে একজন সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সব সংস্থাকে ব্যবস্থা নিতে এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

থাইল্যান্ডে এ ধরনের ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা খুবই বিরল। তবে ২০২০ সালে সম্পত্তিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ এক সৈনিক ৪টি স্থানে হত্যাযজ্ঞ চালান। তার হামলায় ২৯ জন নিহত ও ৫৭ জন আহত হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
থাইল্যান্ডে বিদেশিদের কোয়ারেন্টিনবিহীন পর্যটন শুরু
এবার থাই নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ
ইয়টে কোয়ারেন্টিন
রাজতন্ত্রের সমালোচনা করায় ৪৩ বছরের জেল
থাইল্যান্ডে সেনা অভ্যুত্থানের গুজব

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
EU MPs shed their hair to demand freedom in Iran

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন  

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন

  ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে চুল কেটে ফেলছেন ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভে সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের নারীরা। চলচ্চিত্র অভিনেত্রীসহ তারকা সংগীতশিল্পীরাও নিজেদের চুল কেটে ইরানি নারীদের সমর্থন দিচ্ছেন।

সবশেষ এই তালিকায় যুক্ত হলেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ইরাকি বংশোদ্ভূত সুইডিশ এই নারী ইইউ অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতা শেষে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলছেন।

ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অধিবেশনের বৈঠকে বুধবার ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন সাহলানি। তিনি বলেন, ‘ইরান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, আমাদের ক্রোধ অত্যাচারীদের চেয়ে বেশি হবে। যতক্ষণ না ইরানের নারীরা মুক্ত হবে, আমরা তাদের পাশে থাকব।’

বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন সাহলানি। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে নারীদের এমন হিজাব করতে হয়, যেন তাদের চুল দেখা না যায়। কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই পোশাক কোড না মানার দায়ে। তিন দিন পর পুলিশি হেফাজতে মারা যান ২২ বছরের মাহসা।

পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়। মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন ও ফ্রান্সের নারীরাও। যুক্ত হচ্ছেন তারকা ও রাজনৈতিক নেত্রীরাও।

আরও পড়ুন:
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০

মন্তব্য

p
উপরে