× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
The more self love a man has the faster he slips
hear-news
player
google_news print-icon

পুরুষের যত বেশি আত্মপ্রেম, তত দ্রুত স্খলন

পুরুষের-যত-বেশি-আত্মপ্রেম-তত-দ্রুত-স্খলন
দ্রুত বীর্য স্খলন নারী-পুরুষের সম্পর্ককে হতাশার দিকে নিয়ে যেতে পারে। প্রতীকী ছবি
একদল মনোবিজ্ঞানী দেখেছেন, আত্মপ্রেম ও যৌন ক্রিয়াকলাপের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আত্মপ্রেমী (নার্সিসিস্ট) পুরুষ অর্গাজমে (চূড়ান্ত যৌন সুখানুভূতি) পৌঁছাতে পারেন কম এবং তাদের অকাল বীর্যপাতের সম্ভাবনা বেশি।

শারীরিক সম্পর্কের সময় দ্রুত বীর্যস্খলন নিয়ে দুর্বাভনার শেষ নেই বহু পুরুষের। এ ধরনের দুর্বলতা নারী-পুরুষের সম্পর্ককে চূড়ান্ত হতাশার দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে দ্রুত বীর্য স্খলনের মূল কারণ মানসিক। তাছাড়া অনভিজ্ঞতা ও অনিয়ন্ত্রিত যৌন উত্তেজনাও ভূমিকা রাখতে পারে পুরুষের দ্রুত স্খলনে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। একদল মনোবিজ্ঞানী দেখেছেন, আত্মপ্রেম ও যৌন ক্রিয়াকলাপের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আত্মপ্রেমী (নার্সিসিস্ট) পুরুষ অর্গাজমে (চূড়ান্ত যৌন সুখানুভূতি) পৌঁছাতে পারেন কম এবং তাদের অকাল বীর্যপাতের সম্ভাবনা বেশি।

পিয়ার-প্রিভিউ জার্নাল সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপিতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি। এতে বলা হয়েছে, আত্মপ্রেমী পুরুষের উত্তেজনা মূলত যৌন ক্রিয়া সম্পর্কিত নির্দিষ্ট অবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাদের সঙ্গী নতুন কি না সেটার ওপরেও তাদের উত্তেজনার মাত্রা (অ্যারাউজাল) নির্ভর করে।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার ভলপারাইসো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড এল. রোল্যান্ড। তিনি বলছেন, ‘যৌন প্রতিক্রিয়া ও তুষ্টির সঙ্গে ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন, আত্মপ্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের গবেষণা আত্মপ্রেমের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে গবেষণাটি ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য পুরুষের যৌন প্রতিক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে সে সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে।’

১৮ থেকে ৮৫ বছর বয়সী ১ হাজার ২৯৭ পুরুষকে বেছে নিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে গবেষণায়। তাদের বৈশিষ্ট্য, চিকিৎসাগত অবস্থা, গত ১২ থেকে ২৪ মাসের যৌনতা ও সম্পর্কের ইতিহাস এবং যৌন দুর্বলতা ও আত্মপ্রেমের খতিয়ান নেয়া হয়েছে।

গবেষকরা দেখেছেন, যৌনতার সময়ে আত্মপ্রেমে ভুগতে থাকা পুরুষের যৌন সঙ্গী বদলানোর সম্ভাবনা বেশি। তারা সন্তুষ্টি অর্জনে ঘন ঘন স্বমেহন ও সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌন মিলনে আগ্রহী হন। তবে এটা করেও যৌন তৃপ্তি লাভসহ সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে তাদের সন্তুষ্টি কম। শেষমেশ তারা শারীরিক সম্পর্কের চেয়ে স্বমেহনকেই বেশি পছন্দ করেন।

যৌন আত্মপ্রেমের সঙ্গে লিঙ্গ উত্থান সমস্যার (ইরেক্টাইল ডিসফাংশন) সম্পর্ক নেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মপ্রেমে ভোগা পুরুষ তাদের সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতার সময় অর্গাজমে পৌঁছাতে অসুবিধা বোধ করেন এবং অকাল বীর্যপাতের প্রবণতা তৈরি হয়।

রোল্যান্ড বলেন, ‘আত্মপ্রেমী পুরুষ আনন্দের জন্য তাদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দৃঢ়ভাবে চালিত হন। অর্গাজমের চেয়ে অন্যান্য কারণ, যেমন অন্তরঙ্গতার মাধ্যমে তারা বেশি যৌন তৃপ্তি লাভ করেন। তাদের দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা দেখা যেতে পারে। এ থেকে বোঝা যায়, তাদের যৌন উত্তেজনার বিষয়টি অভ্যন্তরীণ-স্থিতিশীল কারণগুলোর চেয়ে পরিস্থিতিগত কারণ দিয়ে বেশি চালিত।’

গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে অবশ্য সতর্ক করছেন রোল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘এটি একটি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত গবেষণা। ফলে উপসংহার টানার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের গবেষণায় মূল্যায়ন করা হয়নি এমন কারণও এ ফলের জন্য দায়ী হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
পুরুষের সমকামিতা বৈধতা পাচ্ছে সিঙ্গাপুরে
কিছু মানুষ কেন বদলায়, কেউ থাকে আগের মতোই
পাথরকে ‘সেক্সটয়’ বানিয়ে বানরের স্বমেহন
অনিশ্চয়তা শেষে মুক্তি পেলাম: হৃদয় মণ্ডল
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন খুদে বিজ্ঞানী নাবিহা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
The city that runs under the rule of women men are inhuman

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর ব্রাজিলের নোইভা দো করদেইরো শহরের সব কিছু চলছে নারীদের তৈরি নিয়মে। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। এই শহরে বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’- কাজী নজরুল ইসলাম ‘নারী’ কবিতায় এভাবেই ‘মহান সৃষ্টি’র পেছনে নারী-পুরুষের যৌথ ভূমিকার কথা লিখেছেন।

তবে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ছিমছাম নোইভা দো করদেইরো শহরে নারীরা পুরুষদের একদম পাত্তা দিতে রাজি নন। গোটা বিশ্বে পুরুষ দাপিয়ে বেড়ালেও এই শহর চলে নারীদের নিয়মে। সেই নিয়ম এতটাই কড়া যে, রীতিমতো মানবেতর জীবনের মধ্যে আছেন পুরুষ।

বিবাহিত পুরুষও সপ্তাহান্তে মাত্র এক দিন স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। বয়স ১৮ বছর পেরোলে ছেলে সন্তানদেরও সেখানে স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ।

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যের বেলো ভালে শহরের প্রত্যন্ত একটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে নারীদের এই ‘স্বর্গরাজ্য’। পর্তুগিজ ভাষায় নোইভা দো করদেইরোর অর্থ সুন্দর উপত্যকা। বাস্তবেও মনোরম শহরটি ছেয়ে আছে নানা ধরনের ফুল-ফলের গাছে।

শহরের অধিবাসীদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী, যাদের অনেকেই জীবনে কোনো পুরুষের সান্নিধ্যে আসেননি।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরো শহরে পুরুষের এই দুর্বিপাকের জন্য অবশ্য তাদের পূর্বপুরুষেরাই দায়ী। ইতিহাস বলছে, শহরটির পত্তন ঘটান মারিয়া সেনোরিনিয়িা দে লিমা নামে এক তরুণী। মারিয়াকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার।

১৮৯১ সালে মারিয়া ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরে নিজ শহর ছাড়তে বাধ্য হন। তিনিসহ তার পরিবারের পরবর্তী পাঁচ প্রজন্মকে ক্যাথলিক চার্চ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিপর্যস্ত মারিয়া পালিয়ে গিয়ে নোইভা দো করদেইরোতে বসবাস শুরু করেন। সমাজে একইভাবে নিগৃহীত আরও বেশ কয়েকজন নারীও ধীরে ধীরে আশ্রয় নেন সেখানে। এভাবেই গড়ে ওঠে নারীদের এক শহর, যেখানে বসবাসের সব নিয়ম-কানুন তৈরি করেছেন নারীরাই।

পরের প্রায় ৫০ বছর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে সমস্যা দেখা দেয় ১৯৪০ সালে। সে বছর অ্যানিসিও পেরেইরা নামে একজন ধর্মযাজক শহরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করে পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। শহরে তিনি গড়ে তোলেন একটি গির্জা, সেই সঙ্গে নারীদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। নারীদের মদ্যপান, গান শোনা, চুল কাটা বা গর্ভনিরোধক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

নারীদের ওপর এই খবরদারি একটানা চলে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। ওই বছর অ্যানিসিও মারা গেলে নোইভা দো করদেইরোর অতিষ্ঠ নারীরা সিদ্ধান্ত নেন, তারা আর কখনও পুরুষের কাছে মাথা নোয়াবেন না।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই পুরুষের নেতৃত্বে গঠিত ধর্মীয় সংগঠন ভেঙে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জারি হয় শহরে পুরুষদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রহিত করে আইন।

যে শহর চলে নারীর শাসনে, পুরুষ মানবেতর

নোইভা দো করদেইরোতে এখন সব মিলিয়ে ছয় শর মতো নারী আছেন। তাদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

কিছু নারী আছেন বিবাহিত, তাদের সন্তানও রয়েছে। তবে তাদের স্বামী এবং ১৮ বছরের বেশি ছেলে সন্তানদের সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেই। সপ্তাহে মাত্র একবার তারা যেতে পারেন নিজেদের বাড়িতে। বাকি দিনগুলো কাটাতে হয় শহরের বাইরে অন্য কোথাও।

ওই শহরের আইন-কানুন তৈরি করা থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, নগর পরিকল্পনা, এমনকি ধর্মীয় রীতিনীতিও পরিচালনা করেন নারীরা।

নোইভা দো করদেইরোর নারীরা বলছেন, নিজেদের মতো থাকতে পেরে তারা ভালোই আছেন। রোজালি ফার্নান্দেস নামে এক নারী বলেন, 'নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালোভাবে করতে পারে এমন অনেক কিছুই আছে। পুরুষেরা যখন ছিল তার চেয়ে আমাদের শহর এখন আরও সুন্দর ও ছিমছাম।

'নিজেদের মধ্যে কখনও মতভেদ হলে আমরা নিজেদের মতো করে মিটিয়ে নিই। ঝগড়া-ফ্যাসাদের পরিবর্তে ঐকমত্য খোঁজার চেষ্টা করি। আমরা সব কাজ ভাগ করে নিয়েছি। এখানে কেউ কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না।’

তবে এত শান্তির মধ্যেও ইদানীং কিছু নারীর আক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। এই আক্ষেপ না থাকার কারণও অবশ্য নেই।

দারুণ রূপবতী নেলমা ফার্নান্দেস ২৩টি বসন্ত পার করে ফেলেছেন, অথচ এখনও কাউকে চুমু খেতে পারেননি।

নেলমা স্বীকার করছেন, শহরের নারীরা অসাধারণ সুন্দরী হলেও পছন্দের জীবনসঙ্গী অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না। এতসব নিয়ম-কানুন মেনে শহরটিতে পা রাখার মতো সাহসী পুরুষের সংখ্যা নগণ্য।

নেলমা বলেন, ‘এখানে আমরা যারা অবিবাহিত নারী রয়েছি তাদের সঙ্গে যেসব পুরুষের দেখা হয়, তারা হয় বিবাহিত নয়তো কোনো না কোনোভাবে আত্মীয়। আমি জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়েও কোনো পুরুষকে চুমু খাওয়ার সুযোগ পাইনি।

‘আমরা সবাই প্রেমে পড়তে চাই, বিয়ে করার স্বপ্ন দেখি। তবে স্বামী খুঁজতে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে চাই না। আমরা এমন পুরুষের সান্নিধ্য চাই, যারা এখানকার নিয়ম মেনেই জীবনযাপনে রাজি হবে।’

আরও পড়ুন:
বীরের বেশে পাহাড়ে চারকন্যা
মালদ্বীপের লিগে খেলতে গেলেন সাবিনা
শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ
ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা
চেনা মাঠে প্রত্যাশা পূরণ করতে চান সালমা-জ্যোতিরা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Vallage songs about the beauty of men are taking the net world by storm

পুরুষের সৌন্দর্য নিয়ে ‘ভাল্লাগে’ গানে নেট দুনিয়ায় ঝড়

পুরুষের সৌন্দর্য নিয়ে ‘ভাল্লাগে’ গানে নেট দুনিয়ায় ঝড় ভাল্লাগে গানের শিল্পী সুমি শবনম (বাঁয়ে) এবং গানটির মডেল নয়ন ও মম। ছবি: সংগৃহীত
‘ভাল্লাগে’ গানটি গত জুলাইয়ে ইউটিউবে প্রকাশের আড়াই মাসে ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে। দেশের দর্শকের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্শকরাও মেতেছেন এর সুর-কথায়। এত বিপুল সাড়ায় উচ্ছ্বসিত শিল্পী সুমি শবনম।  

‘ছেলে তোর কোঁকড়া কোঁকড়া চুলে যেন সমুদ্র ঢেউ খেলে/ সেই ঢেউ খেলা দেখিতে আমার ভাল্লাগে’- এই গানে উন্মাতাল ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

সংগীতশিল্পী সুমি শবনমের ‘ভাল্লাগে’ শিরোনামের গানটি গত জুলাইয়ে ইউটিউবে প্রকাশের আড়াই মাসে ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে। টিকটক, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেও ভাইরাল গানটির নানান রিল। ফেসবুকে #ভাল্লাগে হ্যাশট্যাগ রীতিমতো ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

দেশের দর্শকের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্শকরাও মেতেছেন গানটিতে। তৈরি করছেন রিল। পশ্চিমবঙ্গের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী অঙ্কিতা বর্মণ ফেসবুকে গানটির একটি রিল পোস্ট করে লিখেছেন, ‘অষ্টমীর দিন পাঞ্জাবিতে ছেলেদের দেখার পর আমরা।’

ফেসবুকে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরে রায়গঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে গানটির সঙ্গে নাচছেন এক তরুণী।

#vallage দিয়ে গানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সংগীতশিল্পী আরজীন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘ভাল্লাগে। ‘ছেলে তোর কোঁকড়া কোঁকড়া চুলে যেন সমুদ্র ঢেউ খেলে’ এই গান বাংলাদেশ ইন্ডিয়া কাঁপায় ফেলছে। টিকটকে তো ঝড়, সাথে ইন্সটাগ্রাম ফেইসবুক তো আছেই। ১৯৮৯ সালে শিল্পী ডলি সায়ন্তনি এর ‘হে যুবক/ রঙ চটা জিন্সের প্যান্ট পরা’ গানের পর ছেলেদেকে ভালো লাগা নিয়ে নারী কণ্ঠে এরকম গান বাংলাতে হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’

অভাবনীয় এই সাড়া নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন গানটির শিল্পী সুমি শবনম। জানিয়েছেন, গানটি সৃষ্টির পেছনের গল্প।

পুরুষের সৌন্দর্য নিয়ে ‘ভাল্লাগে’ গানে নেট দুনিয়ায় ঝড়
ভাল্লাগে গানের শিল্পী সুমি শবনম। ছবি: সংগৃহীত

সুমি শবনম বলেন, ‘গানের সিলেকশন ওইভাবে হয়নি। গানটি আমার স্বামী আকরাম হোসেনের লেখা। উনি ব্যাংকে চাকরি করেন। মাঝে মধ্যে গান লেখেন। পাঁচ বছর আগে গানটি লিখেছিল।

‘আমি তো তখন ওভাবে গানে সময় দিতে পারিনি, আমার জমজ সন্তান। তাদেরকে দেখেশুনে রেখে গান গাওয়া অনেক ঝামেলা হয়ে গিয়েছিল। এখন তারা বড় হয়েছে।

‘এরই মধ্যে আমার স্বামী বলল এখন তো বাচ্চাদের চাপ নেই, তুমি এখন ফেসবুক পেজ করো, ইউটিউব চ্যানেল করো। আমি তখন বললাম তুমি এ রকম একটা গান লিখেছিলে এবং খুবই হেসেছিলাম গানটা শোনার পরে। তখন আমার হ্যাজবেন্ড বলল, গানটা তাহলে তোমার চ্যানেলে করে ফেল।’

এর পরের ঘটনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গানটা নিয়ে গেলাম সজীবের কাছে (সংগীত পরিচালক)। তার অফিসে গিয়ে অনেকগুলো গান দেখালাম, সব শেষে এই গান দেখালাম।

‘গানটি দেখেই সজীব বলল, আপা এইরকম গানই তো দরকার। তখন এই গানটি আমাকে রেকর্ড করতে বলল। রেকর্ড শেষে তাকে বললাম, গানটার ভিডিও করব তোমার স্টুডিওতে, অত খরচ করতে পারব না, আমার চ্যানেলে দেব।

‘তখন সজীব বলল, আপা গানটা আপনার চ্যানেলে দেয়া যাবে না। এটা ভালো একটা গান, প্রমিনেন্ট কোনো একটা চ্যানেলে দিলে ভালো হবে।’

এরপর গানের মিউজিক ভিডিও তৈরি ও প্রচারের গল্প শোনান সুমি। বলেন, ‘গানটি আমি হানিফ ভাইকে (হানিফ সংকেত) পাঠালাম। উনি সঙ্গে সঙ্গে লিখে পাঠিয়েছেন এটা অসাধারণ একটা গান। উনি বললেন, কিছু কথা চেঞ্জ করতে, হানিফ ভাইয়ের ওখানে দিতে হলে কিছু কথা চেঞ্জ করে দিতে হবে, আমি বললাম দেব।

‘পরে উনাকে আর কানেক্ট করতে পারছিলাম না, উনি হয়ত দেশের বাইরে ছিলেন। উনাকে আর পেলাম না।

‘পরে আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তাকেও আর পরে পেলাম না। এরপর সজীব একদিন নয়ন ভাইকে (সৃষ্টি মাল্টিমিডিয়ার মালিক ও গানের মডেল) গানটি পাঠায়। সজীব জানাল গানটি নয়ন ভাই নেবে। ভিডিওর যত খরচ তিনি দেবেন, আপনি গানটা নয়ন ভাইকে দিয়ে দেন। এরপর চার-পাঁচদিনের মধ্যে ভিডিও সেরে ফেললাম। কোরবানি ঈদের পরদিন গানটি রিলিজ হয়েছে।’

পুরুষের সৌন্দর্য নিয়ে ‘ভাল্লাগে’ গানে নেট দুনিয়ায় ঝড়
ভাল্লাগে গানের মডেল নয়ন ও মম। ছবি: সংগৃহীত

একদম ছোটবেলা থেকে গান করেন বলেন জানালেন সুমি। তিনি বলেন, ‘আমি তো গান করি একদম ছোটবেলা থেকে। আমার পরিবার থেকেই গান গাওয়া শেখা। আমার ভাই-বোন, আমার বাবা-দাদা পুরো পরিবার গানের পরিবার। আমার গানের হাতেখড়িই হয়েছে বড় তিন ভাইয়ের কাছ থেকে।’

মেহেরপুরের গাংনীতে বাড়ি সুমির। স্বামীর চাকরির সুবাদে ঢাকাতেই থাকেন। তিনিও দুই বছর একটা চাকরি করেছেন। তবে গান-বাজনা আর সংসার সামলানোর জন্য সেই চাকরি ছেড়েছেন বলে জানান সুমি।

এ পর্যন্ত তার ৬-৭ টি অ্যালবাম বেড়িয়েছে সুমির। এর মধ্যে দুটি লালনগীতি ও বাকিগুলো মৌলিক গানের। এই অ্যালবামগুলো ২০০০ সাল থেকে ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ সালের দিকে করা। এ ছাড়া সেসময় ইত্যাদিতেও গান করেছেন তিনি।

‘ভাল্লাগে’ গানের মতো সাড়া আর কোনো গানে সাড়া পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সুমি বলেন, “২০০১ সালে আমার একটা গান এসেছিল ‘আমার মাকে একটা চশমা কিনে দে/ আমার বাপকে একটা চশমা কিনে দে।’ সে সময় প্রচুর সাড়া ফেলেছিল গানটি। যদি সে সময় ইউটিউবের যুগ হতো তাইলে ওটাও ভাইরাল হতো।’’

দীর্ঘদিন ধরে গান করলেও জোরালোভাবে সংগীত জগতে খুব একটা শোনা যায়নি সুমির নাম। তবে ‘ভাল্লাগে’ গানে বিপুল সাড়া তাকে উজ্জীবিত করেছে। ভীষণ খুশি সুমি জানালেন, আগামীতে নিয়মিত হবেন গানের জগতে।

আরও পড়ুন:
‘জয় বাংলা স্লোগান বঙ্গবন্ধু নেন কবি নজরুল থেকে’

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
In Iran brothers are dying to demand the freedom of their sisters clothes

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই ইরানে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির (ডানে) মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রাবার বুলেটবিদ্ধ এক তরুণ। ছবি: টুইটার
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বুধবার পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছেন অন্তত ৭ বিক্ষোভকারী, যাদের সবাই পুরুষ। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, লাঠিপেটায় গত ছয় দিনে আহত হয়েছেন সাড়ে চার শর বেশি মানুষ, গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজারেরও বেশি। আহত ও গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা বেশি।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ২২ বছরের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশটির বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ চলছে।

এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন হাজারো পুরুষ। রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে দেশটির অসংখ্য পুরুষ সোচ্চার।

টানা ছয় দিনের বিক্ষোভ দমন করতে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। বুধবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৭ বিক্ষোভকারী, যাদের প্রায় সবাই পুরুষ বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী।

নরওয়েভিত্তিক কুর্দি অধিকার গোষ্ঠী হেনগাও-এর তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ মঙ্গলবার ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের পিরানশাহর ও উর্মিয়া শহরে ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৬ বছরের কিশোর জাকারিয়া খিয়াল ও ২৩ বছর বয়সী ফারজাদ দারউশি মারা যান।

এ ছাড়া গত কয়েক দিনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিতে দেহগোলান, দিওয়ানদারা, সাকেজ, উর্মিয়া এবং পিরানশাহর শহরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচ কুর্দি বিক্ষোভকারী।

নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, লাঠিপেটায় গত ছয় দিনে আহত হয়েছেন সাড়ে চার শর বেশি মানুষ, গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজারেরও বেশি। আহত ও গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা বেশি।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া পুরুষরা বলছেন, তারা ইরানে নারীর জন্য ‘স্বাধীন’ একটি পরিবেশ তৈরি করতে চান। আমিরএমসিজি নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে রাবার বুলেটে ঝাঝরা হয়ে যাওয়া এক পুরুষ বিক্ষোভকারীর ছবি পোস্ট করে বলা হয়েছে, ‘দ্যাট’স হোয়াট উই ডু ফর আওয়ার সিস্টার্স (আমাদের বোনদের জন্য আমরা যা করছি)’।

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানে মঙ্গলবার বিক্ষোভে নিহত কিশোর জাকারিয়া খিয়াল (বাঁয়ে) ও ফারজাদ দারউশি

ইরানের নিউ ইয়র্কভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের নির্বাহী পরিচালক হাদি ঘাইমি বলেন, ‘মাহসা আমার মেয়ে, আমার বোন, আমার স্ত্রী হতে পারে। আমার বাড়ির মেয়েরা যতবার বাড়ি থেকে বের হয়, ততবার আশঙ্কায় থাকি, তারা হয়তো আর বাড়ি ফিরে নাও আসতে পারে।’

ইরানে ১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সে সময়েও পোস্ট দিয়েছিলেন অসংখ্য ইরানি পুরুষ।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

আরও পড়ুন:
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল
‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’
হিজাবে অনিচ্ছুক নারীদের হয়রানি বন্ধ করুন: জাতিসংঘ

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Women footballers are paid while men are still unpaid

বেতন আছে নারী ফুটবলারদের, পুরুষ এখনও ‘অবৈতনিক’  

বেতন আছে নারী ফুটবলারদের, পুরুষ এখনও ‘অবৈতনিক’   জাতীয় দলের নারী ফুটবলাররা পুরুষের চেয়ে কম বেতন পান এমন তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত
নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বেতন কাঠামোর আওতায় কেবল নারী ফুটবলাররাই আছেন, অর্থাৎ নারী খেলোয়াড়েরাই কেবল বাফুফে থেকে প্রতি মাসে বেতন পান। জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়দের বাফুফে কোনো বেতন দিচ্ছে না। তবে ক্লাব ফুটবলে নারীদের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান পুরুষ খেলোয়াড়।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় দলের নারী ফুটবলারদের ‘বেতনবৈষম্য’ নিয়ে। একটি জাতীয় দৈনিকে দুই বছর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ইনফোগ্রাফ নতুন করে ফেসবুকে পোস্ট করে অনেকে দাবি করছেন, জাতীয় দলের পুরুষ ফুটবলারদের তুলনায় অনেক কম বেতন পান নারীরা।

‘নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের বেতনবৈষম্য’ শিরোনামের ওই ইনফোগ্রাফে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ফুটবলারদের আয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত নারী ফুটবলারদের মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা, ‘বি’ শ্রেণিভুক্তদের আট হাজার টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত নারী ফুটবলাররা বেতন পান ছয় হাজার টাকা।

এতে পুরুষ ফুটবলারদের বেতনের তথ্য অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়, ক্লাব পর্যায়ে শীর্ষ পর্যায়ের একজন ছেলে ফুটবলারদের বার্ষিক আয় ৫০-৬০ লাখ টাকা, আর নারী ফুটবলার সর্বোচ্চ ৩-৪ লাখ টাকা আয় করেন।

এই ইনফোগ্রাফটি শেয়ার করে অনেকেই জাতীয় দলের নারী ফুটবলারদের ব্যাপক বেতনবৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলছেন।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বেতন কাঠামোর আওতায় কেবল নারী ফুটবলাররাই আছেন, অর্থাৎ নারী খেলোয়াড়েরাই কেবল বাফুফে থেকে প্রতি মাসে বেতন পান। জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়দের বাফুফে কোনো বেতন দিচ্ছে না। তবে ক্লাব ফুটবলে নারীদের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান পুরুষ খেলোয়াড়েরা।

দেশের নারী ফুটবলাররা ২০১৯ সাল থেকে বাফুফের বেতন কাঠামোর আওতাভুক্ত। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাবিনা-কৃষ্ণা-মারিয়াসহ ৩৬ ফুটবলারকে বেতনের আওতায় নিয়ে আসে সংস্থাটি। নারী খেলোয়াড়দের এই বেতন খুব বেশি না হলেও জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়েরা এখন পর্যন্ত কোনো বেতন কাঠামোর আওতায় আসেননি।

জাতীয় দলে খেলার জন্য জামাল ভূঁইয়াদের কোনো বেতন দেয়া হয় না। ক্যাম্পে থাকাকালীন নামমাত্র খরচ আর ম্যাচ ফি পেয়ে থাকেন তারা।

পুরুষ ফুটবলারদের আয়ের একমাত্র উৎস ক্লাব ফুটবল। ক্লাবের চুক্তি অনুসারে তারা পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন।

গত বছরের গত জুনে পুরুষ ফুটবলারদের বেতন কাঠামোয় আনার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে এ কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছেলেরা আপাতত বেতন কাঠামোতে নেই। ফান্ড পেলে মেয়েদের পাশাপাশি তাদের জন্যও কাঠামো করা হবে।’

জাতীয় পুরুষ দলের মতো নারী দলের জন্যও রয়েছে তহবিলের সমস্যা। এ কারণে নারী ফুটবলারদের বেতন বাড়ানো যাচ্ছে না বলে দাবি কছেন বাফুফে কর্তারা।
বাফুফে ভবনে মঙ্গলবার এক সংবাদসম্মেলনে সংস্থার সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানান, সাফজয়ী নারী দলের সদস্যদের বেতন তিনি বাড়াতে চান, কিন্তু বর্তমানে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমি তো চাই বাড়াতে, কিন্তু পারছি না। যদি ফান্ড আনতে পারি তাহলে তো অবশ্যই দেব। ফান্ড এলে সেটা মেয়েদের ভাগেই যাবে।’

নারী খেলোয়াড়রা বাফুফের বেতনভুক্ত হলেও ক্লাবে পর্যায়ে অনেক কম পারিশ্রমিক পান সাবিনা-কৃষ্ণারা। সর্বোচ্চ ৩-৪ লাখ টাকা, যেখানে তপু-জামালরা অর্ধকোটির উপরে আয় করেন।

বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেই নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের আয়ে তীব্র বৈষম্য রয়েছে।

ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবলের মতো জনপ্রিয় বৈশ্বিক খেলাগুলোতে পুরুষ অ্যাথলিটরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান। এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা রয়েছে অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের।

দেশে ফুটবলে জাতীয় দলের নারীরা বেতন পেলেও ক্রিকেটে বৈষম্যের চিত্র পরিষ্কার।

২০১৭ সালের সবশেষ বেতন কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা এ-প্লাস শ্রেণির পুরুষ ক্রিকেটাররা প্রতি মাসে বিসিবি থেকে বেতন পাচ্ছেন চার লাখ টাকা করে। এ-শ্রেণির ক্রিকেটাররা পান তিন লাখ টাকা। বি-শ্রেণির ক্রিকেটাররা দুই লাখ টাকা। সি-শ্রেণিতে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ডি-শ্রেণির ক্রিকেটাররা পান মাসে এক লাখ টাকা করে।

গত বছর জুনে সাকিব-তামিমদের মূল বেতন ১০-১২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই হারে বেতন বাড়িয়েছে বোর্ড। তবে বৈষম্যের মাত্রা নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ভয়াবহ।

২০ শতাংশ বেতন বাড়ার পরেও এ-ক্যাটাগরিতে নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন এখন ৬০ হাজার টাকা। বি-ক্যাটাগরিতে ৪০ হাজার। সি-ক্যাটাগরিতে ৩০ ও ডি-ক্যাটাগরিতে ২০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন সালমা-জাহানারারা।

নারী ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগে ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি ছিল ১০০ ডলার ও টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ ফি ছিল ৭৫ ডলার। এখন ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি করা হয়েছে ৩০০ ডলার ও টি-টোয়েন্টিতে করা হয়েছে ১৫০ ডলার।

ক্রিকেটের অন্যতম দুই পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ধরনের বৈষম্য।

সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার একজন চুক্তিবদ্ধ পুরুষ ক্রিকেটার বছরে দুই লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করেন। নারীদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক মাত্র ৬৫ হাজার ডলার।

গড়পড়তা বছরে আড়াই থেকে তিন লাখ পাউন্ড আয় করেন জাতীয় দলের একজন পুরুষ ক্রিকেটার।

নারীদের ক্ষেত্রে এ অঙ্কটা অনেক কম। ইংল্যান্ডের হিদার নাইট ও ট্যামি বিউমন্টের মতো সেরা তারকাদের বছরে বেতন এক লাখ পাউন্ড।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানেও রয়েছে তীব্র লিঙ্গ বৈষম্য। ভারতে ভিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের মতো তারকাদের বাৎসরিক বেতন ৭ কোটি রুপি।

আর ভারতীয় নারী দলের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কউর ও তারকা খেলোয়াড় স্মৃতি মান্ধানা বোর্ড থেকে বেতন পান বছরে ৫০ লাখ রুপি।

আরেক পরাশক্তি পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পান পুরুষ দলের অধিনায়ক বাবর আজম। তার বেতন বছরে ১ কোটি ৩২ লাখ পাকিস্তানি রুপি।

সেখানে নিদা দার ও সানা মিরের মতো পাকিস্তানের সেরা নারী ক্রিকেটাররা বেতন পান মাসে ১ লাখ ২০ হাজার পাকিস্তানি রুপি বা প্রায় ৫৮ হাজার টাকা।

চুক্তিবদ্ধ নারী ও পুরুষ ক্রিকেটাররা বেতনের বাইরেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন ম্যাচ ফি, প্রতিদিন ভাতা পেয়ে থাকেন। এটি নির্ধারিত হয় সিরিজ ও ফরম্যাট অনুযায়ী।

এর বাইরে ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপ, মিডিয়া বিজ্ঞাপনে কাজ করার অর্থও যোগ হয় ক্রিকেটারদের আয়ের সঙ্গে। তবে এসব ক্ষেত্রেও নারীর চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে পুরুষ খেলোয়াড়েরা।

আরও পড়ুন:
বুধবার দুপুরে ঢাকায় ফিরছেন সাবিনা-সানজিদারা
স্বপ্নাকে খেলতে দেয়ার বিরোধীরাও আনন্দে আত্মহারা
ঐতিহাসিক জয়ের পর ফোনই ধরেননি সালাহউদ্দিন
বাংলাদেশের কাছে হেরে পদত্যাগ করলেন নেপাল কোচ
খোলা বাসের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে সানজিদার

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Divorce celebration party for 18 men by printing cards

কার্ড ছাপিয়ে ১৮ পুরুষের ডিভোর্স উদযাপনের পার্টি

কার্ড ছাপিয়ে ১৮ পুরুষের ডিভোর্স উদযাপনের পার্টি
ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাকি আহমেদ বলেন, ‘গত আড়াই বছরে বিয়েতে জীবন জটিল হয়ে পড়ছিল- এমন ১৮ পুরুষের পক্ষে লড়ে তাদের বিচ্ছেদে সহায়তা করেছি আমরা। সব সময় এই মানুষগুলোকে আমরা মানসিকভাবে সাহায্য করেছি।’

বিয়ে ভালো ব্যাপার অনেকের জন্যই, কারো জন্য তা হয়তো বিষাদেরও। এই তিক্ততা আর না বাড়াতে কেউ কেউ বেছে নেন বিচ্ছেদের পথ। এমন একদল পুরুষ এবার জড়ো হচ্ছেন এক অনুষ্ঠানে। বিচ্ছেদ উদযাপনের এই পার্টির জন্য কার্ডও ছাপিয়েছেন তারা।

মধ্যপ্রদেশের ভোপালের এই ঘটনা এরই মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়েছে বলে রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিচ্ছেদ করাতে ইচ্ছুক পুরুষদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভাই ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এই বিয়েবিচ্ছেদ পার্টির আয়োজন করেছে।

সংস্থাটি বলছে, বিচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবন শেষ হয়ে যায়নি এবং তারা যেন ভালো কিছু করতে পারেন, এ ব্যাপারটি নিয়ে উৎসাহ দিতেই আয়োজন।

অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক, মানসিক অবসাদ- এসব ব্যাপার পেরিয়ে যখন একটা মানুষ এমন স্বাধীনতা পায় তখন তার উদযাপন করা উচিত বলে মনে করেন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

কার্ড ছাপিয়ে ১৮ পুরুষের ডিভোর্স উদযাপনের পার্টি

ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাকি আহমেদ বলেন, ‘গত আড়াই বছরে বিয়েতে জীবন জটিল হয়ে পড়ছিল, এমন ১৮ পুরুষের পক্ষে লড়ে তাদের বিচ্ছেদে সহায়তা করেছি আমরা। সব সময় এই মানুষগুলোকে আমরা মানসিকভাবে সাহায্য করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আদালতসহ নানা ক্ষেত্রে বেশ চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এই পুরুষদের। এ জন্য নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করতে তাদের নিয়ে এমন উৎসাহদায়ক আয়োজন করা দরকার।’

জাকি আহমেদ বলেন, ‘বিচ্ছেদের পর অনেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। আমাদের আয়োজন তাদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করবে।’

বিচ্ছেদ হওয়া পুরুষদের মধ্যে কারো বিয়ের বয়স ছিল মাত্র কদিন, কারো বা ৩০ বছরের মতো। তাদের একেকজনের বয়স একেক রকম।

জাকি আহমেদ জানান, তারা খুব ছোট পরিসরে গোপনে আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। তবে কীভাবে যেন আমন্ত্রণপত্রের কার্ড ভাইরাল হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আয়োজন ছোট হবে। তবে এখন বিষয়টি ভাইরাল হওয়ায় বড় ধরনের পার্টি করছি।’

আরও পড়ুন:
রোহিনীকে ছেড়ে গেলেন এক বউ
প্রেমে পড়া সিলেট ও গাইবান্ধার সেই দুই তরুণী ঘরছাড়া
মসজিদের ব্যাটারি চুরি: স্বামীকে তালাক

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Female bankers object to short lived men

স্বল্পবসন পুরুষে আপত্তি নারী ব্যাংককর্মীদের

স্বল্পবসন পুরুষে আপত্তি নারী ব্যাংককর্মীদের হাফপ্যান্ট পরা পুরুষ গ্রাহককে কানারা ব্যাংকের একটি ব্রাঞ্চে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রতীকী ছবি
ব্যাংকের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার অর্চনা কুমারীর সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, ‘সেবা নিতে আগ্রহী কোনো পুরুষ হাফপ্যান্ট পরে এই ব্যাংকে আসবেন না। এতে প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তারা কাজে মনযোগ দিতে পারেন না।’

নারীদের ‘ছোট পোশাক’ নিয়ে বাংলাদেশে কিছু শিক্ষার্থীর কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে উল্টো খবর এল পাশের দেশ ভারত থেকে। সেখানে একটি ব্যাংকে স্বল্পবসন পুরুষদের ঢোকা ঠেকাতে নোটিশ দেয়া হয়েছে, কারণ পুরুষের এই স্বল্প বসনে কাজে বিঘ্ন ঘটছে নারী কর্মীদের।

নারী কর্মীদের নির্বিঘ্ন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে উত্তরপ্রদেশের বাঘপতের কিষাণপুরের বরাল গ্রামে রাষ্ট্রায়াত্ত কানারা ব্যাংকে ছোট পোশাক বা হাফপ্যান্ট পরা পুরুষদের ঢুকতে নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি দেয়া এই নির্দেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা

আরও পড়ুন: শার্ট খোলা ছবি দিলেই আবেদন হারায় পুরুষ!

ব্যাংকের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার অর্চনা কুমারীর সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, ‘সেবা নিতে আগ্রহী কোনো পুরুষ হাফপ্যান্ট পরে এই ব্যাংকে আসবেন না। এতে প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তারা কাজে মনযোগ দিতে পারেন না।’

স্বল্পবসন পুরুষে আপত্তি নারী ব্যাংককর্মীদের

নোটিশ বোর্ডে এই নির্দেশনা টাঙানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকটির নিরাপত্তাকর্মীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। হাফপ্যান্ট পরা পুরুষ দেখলেই ব্যাংকে ঢুকতে বারণ করছেন তারা।

ব্যাংকটির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সেবাগ্রহীতাদের অনেকেই যুবক বয়সের। তারা হাফপ্যান্ট পরে অনেক সময় ব্যাংকে ঢুকে পরেন। এতে কাজে মনযোগ দিতে পারছেন না বলে কয়েকজন নারীকর্মী অভিযোগ করেছেন।

‘এতে আমাদের অফিসের কাজে সমস্যা হচ্ছে। নারী কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। এরপরই আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নারীর ‘ছোট পোশাকের’ বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি আয়োজিত মানববন্ধন নিয়ে প্রবল সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কর্মসূচির ব্যানার-ফেস্টুনে ব্যবহৃত স্লোগান নারীর প্রতি প্রচণ্ড অমর্যাদার হিসেবে মন্তব্য করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:
নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য মাপলে বিয়েতে গায়ে হলুদ কেন: দীপু মনি
যেকোনো পোশাকেই ‘বিজ্ঞানী হতে পারেন’ নারী
পোশাকের স্বাধীনতায় আঘাতের বিরুদ্ধে দাঁড়াল জাহাঙ্গীরনগর

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Males are least in Brahmanbaria

পুরুষ সবচেয়ে কম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

পুরুষ সবচেয়ে কম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় পর্যায়ে ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ৯৮। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ৮৬ দশমিক ৯৯, চাঁদপুরে ৮৭ দশমিক ৪১ এবং কুমিল্লায় ৮৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে নারীর বিপরীতে ক্রমেই কমছে পুরুষের সংখ্যা। কমতে কমতে জাতীয় পর্যায়ে ১০০ নারীর বিপরীতে এখন পুরুষের সংখ্যা ৯৮। তবে জেলার হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই সংখ্যা আরও কমে ৮৬ দশমিক ৯৯ শতাংশে ঠেকেছে। আর ১০০ নারীর বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১১৫ জন পুরুষ আছেন ঢাকা জেলায়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় পর্যায়ে ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ৯৮। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ৮৬ দশমিক ৯৯, চাঁদপুরে ৮৭ দশমিক ৪১ এবং কুমিল্লায় ৮৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

সংখ্যার হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুরুষের সংখ্যা ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৩, নারীর সংখ্যা ১৭ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬৬। চাঁদপুরে পুরুষের সংখ্যা ১২ লাখ ২৮ হাজার ৭৭৪, সেখানে নারী ১৪ লাখ ৫ হাজার ৬৮২ জন। কুমিল্লায় পুরুষের সংখ্যা ২৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৩, নারী ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৪১৬।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে প্রথম শুমারিতে ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ছিল ১০৮ জন, ১৯৮১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত শুমারিতে ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১০৬-এ।

২০১১ সালের শুমারিতেও নারীর চেয়ে বেশি ছিল পুরুষের সংখ্যা। সে সময় ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের অনুপাত ছিল ১০০ দশমিক ৩। তবে সর্বশেষ গণনায় পুরুষের অনুপাত নেমে এসেছে ১০০-র নিচে।

বিভাগ ও জেলা হিসাবে অন্য জায়গাগুলোতে পুরুষের সংখ্যা কমলেও সর্বশেষ জনশুমারিতে দেখা যাচ্ছে, ঢাকায় নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা বেশি। জেলায় প্রতি ১০০ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ১১৫ দশমিক ৪৫।

ঢাকা বিভাগে ২ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ৫৫৬ নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ২ কোটি ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮২২ জন।

শুমারি অনুযায়ী, সারা দেশের মধ্যে ঢাকা বিভাগের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে মোট জনসংখ্যা ৪ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ১০৭ জন।

সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বরিশাল বিভাগে। সেখানে ৯১ লাখ ১০২ জনের মধ্যে অনেক এগিয়ে আছেন নারীরা। বরিশাল বিভাগে পুরুষের সংখ্যা ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০। এ বিভাগে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা দুই লাখের বেশি। সেখানে নারী আছেন ৪৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪২১ জন।

বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন। নারী ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন। ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন ১২ হাজার ৬২৯ জন।

আরও পড়ুন:
অবিবাহিত বেশি সিলেটে, কম রাজশাহীতে
ঢাকা বিভাগে বেশি মানুষ, বরিশালে কম
বিয়ে বেশি রাজশাহীতে, বিচ্ছেদ খুলনায়

মন্তব্য

p
উপরে