× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
In the movies of the country the perno issue is the problem of womens polyurinary toilet
hear-news
player
print-icon

দেশের সিনেমায় পার্নো, বিষয় নারীর বহুমূত্র-শৌচাগার সমস্যা

দেশের-সিনেমায়-পার্নো-বিষয়-নারীর-বহুমূত্র-শৌচাগার-সমস্যা
‘সুনেত্রা সুন্দরম’ সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত
গল্পের ধারণা দিয়ে সেখানে বলা হচ্ছে, গল্প আবর্তিত হয়েছে এক নারী স্কলারকে নিয়ে। তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। ফলে তার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয় ঘন ঘন। চেষ্টা করলেও চেপে রাখতে পারেন না।

সিনেমার নাম সুনেত্রা সুন্দরম। এর পরিচালক কলকাতার শিবরাম শর্মা, প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী কলকাতার পার্নো মিত্র। তবে সিনেমাটি বাংলাদেশের। বিডি বক্স প্রোডাকশনের ব্যানারে সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন মাহমুদুর রহমান।

প্রযোজক নিউজবাংলাকে জানান, সুনেত্রা সুন্দরম বাংলাদেশের সিনেমা। এর দৃশ্যধারণ এখনও শুরু হয়নি। প্রথমে বাংলাদেশে হবে সিনেমার শুটিং, এরপর কলকাতাতেও শুটিংয়ের পরিকল্পনা আছে।

সিনেমাটি বাংলাদেশের, কিন্তু নির্মাতা, প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পীরা কলকাতার কেন জানতে চাইলে প্রযোজক বলেন, ‘আমরা সিনেমাটিতে অভিনেত্রী মমকে কাস্ট করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার শিডিউল পাওয়া যায়নি।

‘আর নির্মাতা শিবরামকে নেয়ার কারণ হলো, তার সঙ্গে আমি আমার ভাবনা শেয়ার করেছিলাম। তিনি আমাকে যে গল্প ও চিত্রনাট্য করে দিয়েছেন, তাতে আমি খুশি। তার একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা আমি দেখেছিলাম। সেটিও আমার ভালো লেগেছে।’

দেশের সিনেমায় পার্নো, বিষয় নারীর বহুমূত্র-শৌচাগার সমস্যা
সোমরাজ মাইতি ও পার্নো মিত্র। ছবি: সংগৃহীত

সুনেত্রা সুন্দরম সিনেমার দৃশ্যধারণ এখনও শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং এফডিসিতে সিনেমাটির কাজের জন্য আবেদন করা আছে বলে জানান মাহমুদুর রহমান।

সিনেমাটি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২৩ মার্চে কলকাতায় শুরু হয়েছে সিনেমার শুটিং।

গল্পের ধারণা দিয়ে সেখানে বলা হচ্ছে, গল্প আবর্তিত হয়েছে এক নারী স্কলারকে নিয়ে। তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। ফলে তার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয় ঘন ঘন। চেষ্টা করলেও চেপে রাখতে পারেন না।

সমস্যা হয় তখন, যখন অনেক জায়গায় অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় না। এমন একটি সামাজিক অবস্থা নিয়ে এগিয়ে যায় সিনেমা।

সিনেমায় সুনেত্রা চরিত্রে অভিনয় করছেন পার্নো মিত্র। তার বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেতা সোমরাজ মাইতিকে। আরও আছেন রূপাঞ্জনা মিত্রসহ বাংলাদেশের কয়েকজন শিল্পী।

প্রযোজকের এটিই প্রথম সিনেমা নয়। এর আগে কানামাছি নামের একটি সিনেমা তিনি প্রযোজনা করেছেন। তার পরিকল্পনা দুটি সিনেমা পরপর মুক্তি দেয়ার।

অন্যদিকে নির্মাতা শিবরাম শর্মা মূলত কোরিওগ্রাফার। দেশের সিনেমা ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণে তিনি কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন:
হাশিম দেখলেন ‘হাওয়া’, ঘুরলেন চারুকলা
‘হাওয়া’ এক নতুন সাহস, দ্বিতীয় সিনেমায় ব্যস্ত হবেন সুমন
‘প্রত্যাশিত সেল হলে পরাণের মুনাফায় ৫টি সিনেমা নির্মাণ সম্ভব’
বিদেশেও হাউসফুল হতে শুরু করেছে ‘হাওয়া’
সিনেমা হলে ফিরছে ব্ল্যাকে টিকিটের দিন!

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Iranian Oscar Jayeer calls on the world to stand by the protesters

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর  সাইপ্রাসে ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছেন ইরানের বিশিষ্টজনরা। এবার এই বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকেও ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন দুইবারের অস্কার জয়ী ইরানি পরিচালক আসঘার ফারহাদি।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানাতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দুইবারের অস্কার বিজয়ী ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক আসঘার ফারহাদি।

রোববার ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি।

এই সময় চলমান আন্দোলনে পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেয়া প্রগতিশীল ও সাহসী নারীদেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।

ফারহাদি বলেন, ‘তারা এমন সাধারণ, অথচ মৌলিক অধিকার খুঁজছে যেগুলো রাষ্ট্র তাদের দিতে প্রত্যাখ্যান করেছে।

‘এই সমাজ, বিশেষ করে নারীরা, এই সময়ে এসে কঠোর ও বেদনাদায়ক পথ অতিক্রম করেছে এবং তারা স্পষ্টভাবেই একটি গন্তব্যে পৌঁছেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি, তারা ১৭ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী।

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
দুইবারের অস্কার জয়ী ইরানি পরিচালক আসঘার ফারহাদি

‘তারা যেভাবে রাস্তায় মিছিল করেছে, আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি । সব বর্বরতাকে উপেক্ষা করে তাদের নিজেদের ভাগ্য বেছে নেয়ার অধিকারের দাবিতে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি।’

বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সারা বিশ্বের সব শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বুদ্ধিজীবী, নাগরিক অধিকার কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি, যারা মানবিক মর্যাদা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং তারা যাতে ইরানের শক্তিশালী ও সাহসী নারী-পুরুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করে।’

মূলত জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচিতি রয়েছে আসঘার ফারহাদির। ২০১১ সালে ‘এ সেপারেশন’ এবং ২০১৬ সালে ‘দ্য সেলসম্যান’ চলচ্চিত্রের জন্য বিদেশি ভাষা ক্যাটাগরিতে দুইবার অস্কার (অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড) জেতেন তিনি।

আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি । সব বর্বরতাকে উপেক্ষা করে তাদের নিজেদের ভাগ্য বেছে নেয়ার অধিকারের দাবিতে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি।

এদিকে ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরার অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর ২২ বছরের মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান।

তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি ইরানি পুরুষও যোগ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার ঘোষণা দিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন।

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
এ সেপারেশন ও দ্য সেলসম্যান চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার পেয়েছিলেন আসঘার ফারহাদি

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল ইরান। ইরানের বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষও চলছে।

আরও পড়ুন:
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Anti Hijabs Get Appropriate Answer Iranian President

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট ১৬ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে গোটা ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। এবারের প্রতিবাদটা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ইস্যুতে নয়, বিস্ফোরণটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আরোপিত লিঙ্গভিত্তিক পোশাক কোডের প্রতিক্রিয়ায়।

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে দেশটিতে যে অস্থিরতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। অতি রক্ষণশীল এই প্রেসিডেন্ট হিজাববিরোধী আন্দোলনকে ‘দাঙ্গা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, যারা দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেয়া হবে।

বিক্ষোভে মাশহাদ শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের পরিবারের সঙ্গে শনিবার ফোনালাপে এ কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ইরান সরকারের হিসাবে, হিজাববিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত ৪১ জন। নিহতদের বেশির ভাগ বিক্ষোভকারী, কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

১৬ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদে কয়েক শ বিক্ষোভকারী, সংস্কারপন্থি এবং সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিক্ষোভ এখন ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৭০টি শহর ও গ্রামে।

বিক্ষোভ দমাতে সরাসরি গুলি ছুড়ছে নিরাপত্তা বাহিনী, জেরা করা হচ্ছে মানবাধিকারকর্মীদের। অন্যদিকে, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর মারছে বিক্ষোভকারীরা, সরকারি ভবন এবং গাড়িতেও আগুন দিচ্ছে তারা। ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দিচ্ছে বিক্ষুব্ধরা।

তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। এবারের প্রতিবাদটা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ইস্যুতে নয়, বিস্ফোরণটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আরোপিত লিঙ্গভিত্তিক পোশাক কোডের প্রতিক্রিয়ায়।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে ধরা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সঠিকভাবে হিজাব করেননি তিনি।

পুলিশ হেফাজতে মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, একসময় চলে যান কোমায়। হাসপাতালে ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়েছে।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

কিছু ইরানি নারী বিক্ষোভকারী তখন থেকে সমাবেশে নিজেদের হিজাব খুলে ফেলছে, অনেকে নিজের চুল কেটে ফেলছেন, কেউ কেউ নারীর স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

‘ক্ষোভ এবং আশা’

মানবাধিকারের দাবিতে চলা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়া প্রগতিশীল এবং সাহসী নারীদের সমর্থনে ইরানের অনেক পুরুষ রাস্তায় নেমেছেন। ইরানের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা আসগর ফারহাদিও নাম লিখিয়েছেন এই তালিকায়।

ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘তারা যেভাবে রাস্তায় মিছিল করেছে, আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি।

‘তাদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম এবং ভাগ্য বেছে নিতে সাহসে আমি মুগ্ধ। সম্মান জানাই তাদের।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ব্যাপকহারে শেয়ার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোলা চুলের এক তরুণীর সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তির পর তাকে মাটিতে চেপে ধরেছে দাঙ্গা পুলিশ। পরে অন্য নারীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

এমন পরিস্থিতে পুরানো নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করতে শুরু করেছে ফেসবুক, টুইটার, টিকটক এবং টেলিগ্রাম। তারা ওয়েব মনিটর নেটব্লকসের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং স্কাইপ পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। সীমিত করে দিয়েছে ইন্টারনেট সেবা।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

এই অবস্থায় আরও রক্তপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে ইরান সরকারকে সতর্ক করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

দেশের বাইরে থেকে ইরানের নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েও বিক্ষোভ চলছে। অ্যাথেন্স, বার্লিন, ব্রাসেলস, ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদ, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, সান্তিয়াগো, স্টকহোম, দ্য হেগ, টরন্টো এবং ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে চলছে প্রতিবাদ।

‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’

ইরান দেশটি চালান ৮৩ বছর বয়স্ক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। মূলত পরমাণু কর্মসূচি কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে আছে। আছে অর্থনৈতিক নানা নিষেধাজ্ঞা। ইরানের এই পরিস্থিতির জন্য বরাবরই ‘বিদেশি চক্রান্ত’কে দায়ী করছে দেশটির সরকার৷

হিজাব এবং রক্ষণশীল মূল্যবোধের পক্ষে বড় সমাবেশেরও আয়োজন করেছে ইরান সরকার। তেহরানের এঙ্গেলাব (বিপ্লব) স্কোয়ারে রোববার আরেকটি সরকারপন্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার বড় সমাবেশ করেন হিজাবপন্থিরা।

বাধ্যতামূলক পোষাক কোড প্রত্যাহার এবং নৈতিকতা পুলিশের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরানের প্রধান সংস্কারবাদী দল- ইউনিয়ন অফ ইসলামিক ইরান পিপলস পার্টি। ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমোদন’ এবং গ্রেপ্তারদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ইরানে তাদের নিজস্ব উত্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা।

অসলোভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস নিরাপত্তা বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বাদেই কমপক্ষে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বিক্ষোভে। অনেকের মরদেহ গোপনে দাফন করতে তাদের পরিবারকে জোর করা হয়েছে বলেও জানাচ্ছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হিজাববিরোধীরা

ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও আমিনির মৃত্যুর কারণ জানায়নি। তবে তার পরিবার বলছে, মাথায় আঘাতের কারণেই আমিনির মৃত্যু হয়েছে।

আমিনিকে মারধর করা হয়নি… এ কথা শুরু থেকেই জোর গলায় দাবি করে আছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ ওয়াহিদি। তিনি বলেছেন, ‘এ ঘটনায় সিদ্ধান্তকে পৌঁছাতে অবশ্যই মেডিক্যাল পরীক্ষকের চূড়ান্ত মতামতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Italys far right Giorgia Meloni is running for prime minister

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন ইতালির জনগণ। পূর্বাভাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে উগ্র ডানপন্থি সরকার।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন দেশটির ৫ কোটি ১০ লাখ ভোটার, যাদের ২৬ লাখ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে আছেন ৪৭ লাখ ভোটার।

জর্জিয়া মেলোনি ইতালির উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য দুটি ডানপন্থি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি।

প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি
চেম্বার এবং সিনেটের জন্য ভোট দিতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত সময় পাবেন ভোটাররা

জর্জিয়া মেলোনি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন। তিনি চাইছেন নিজের ফ্যাসিবাদের তকমা দূর করতে। যদিও নির্বাচনি প্রচারে ফ্যাসিস্ট স্লোগান দিতে দেখা গেছে ৪৫ বছরের মেলোনিকে। এ ছাড়া অভিবাসন বন্ধে লিবিয়ায় নৌ অবরোধের পক্ষে তার অবস্থান।

এক মাস আগেও, ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনি জোটের। জনমত জরিপে মেলোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন মধ্য-বাম ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এনরিকো লেটা।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)

দুই কক্ষের পার্লামেন্ট ইতালির; চেম্বার এবং সিনেট। নতুন নিয়মে দুই কক্ষের আকার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। চেম্বারের এখন ৪০০ আসন এবং সিনেট ২০০টি। এতে জোট সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো জোট ৪০ শতাংশ ভোট পেলে পার্লামেন্টের ৬০ শতাংশ আসন তাদের পক্ষে যাবে।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা অনিশ্চিত। কারণ এ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মেলোনি এবং তার সহযোগীরা এ ধারায় পরিবর্তন চান। তারা পার্লামেন্টে নির্বাচিত নিরপেক্ষ ব্যক্তির চেয়ে সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট চাইছে।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Hijab supporters are on the streets of Iran

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা তেহরানে হিজাবপন্থী সমাবেশে ইরানিরা জাতীয় পতাকা নেড়ে বিক্ষোভ করছে। ছবি: এএফপি
মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অবিহিত করছে হিজাবপন্থিরা। ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘কোরআনের অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত’- স্লোগানে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে তাদের মিছিল।

পুলিশ হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। প্রতিবাদের সপ্তম দিনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৫০টি শহর ও গ্রামে। তাদের দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে বিক্ষোভ হয়ে উঠেছে সহিংস, বাড়ছে প্রাণহানি।

বল প্রয়োগ করে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে এবার পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে দেশটির সরকার। ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে শুক্রবার বিক্ষোভ করে হিজাবপন্থিরা। মিছিল থেকে তারা ‘দাঙ্গাকারীদের’ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আহ্বান জানায়।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অবিহিত করছে হিজাবপন্থিরা। তাদের বিক্ষোভটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘কোরআনের অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত’- স্লোগানে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে সরকারপন্থিদের মিছিল।

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে ধরা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সঠিকভাবে হিজাব করেননি তিনি।

পুলিশ হেফাজতে মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, একসময় চলে যান কোমায়। হাসপাতালে ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়েছে।

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর শুক্রবার প্রথম সরকারের তরফ থেকে বিক্ষোভকারীদের কঠিন বার্তা দিয়েছে সেনাবাহিনী। বলেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা শত্রুদের মোকাবিলা করবে।

‘ইসলামি শাসনকে দুর্বল করার এই মরিয়া কর্মকাণ্ড শত্রুদের অশুভ কৌশলের অংশ।’

সামরিক বাহিনী বলছে, অন্যায়ভাবে লাঞ্ছিত মানুষদের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে শত্রুদের চক্রান্তগুলো নস্যাৎ করা হবে।

হিজাববিরোধীদের সতর্ক করেছেন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী মাহমুদ আলাভি। তিনি বলছেন, ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং বিপ্লবের মহান অর্জনকে ধূলিসাৎ করার স্বপ্ন কখনই বাস্তবায়িত হবে না।’

২০১৯ সালে গ্যাসোলিনের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের পর এটাই সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রয়টার্স বলছে, ওই বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষ।

সাম্প্রতিক অস্থিরতায় রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের পুলিশ স্টেশন এবং যানবাহনে আগুন দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবারই গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮৮ জন।

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হিজাববিরোধীরা

উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি বড় মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ার কারণে লাখ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম পুরোপুরি বন্ধ।

ইন্টারনেট সেবা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটিতে ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়েও প্রায় সপ্তাহখানেক ইন্টারনেট বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

আরও পড়ুন:
ইরানে বন্ধ ইনস্টাগ্রাম, ছবি যাচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপে
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
The day before the game the teacher protested the beating of the students by shaving their heads

বেণির কারণে কাবাডির ছাত্রীদের ‘মারধর’, মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ শিক্ষকের

বেণির কারণে কাবাডির ছাত্রীদের ‘মারধর’, মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ শিক্ষকের ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগে মাথা ন্যাড়া করার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদা পারভীন। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক স্ট্যাটাসে চট্টগ্রামের এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদা পারভীন লেখেন, ‘স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের ফেঞ্চ বেণি করে ছবি তোলা ও খেলতে যাওয়ার অপরাধে আমার স্কুলের হেডমাস্টার মেয়েদের চুল ধরে মারা ও বকার প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে?’ তার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবল দলকে নিয়ে সারা দেশ যখন উচ্ছ্বসিত, তখন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগের দিন ফ্রেঞ্চ বেণি করে ছবি তোলা চট্টগ্রামের একটি স্কুলের ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মাথা ন্যাড়া করার কথা জানিয়েছেন ওই স্কুলের শিক্ষক জাহিদা পারভীন।

এ শিক্ষকের অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম নগরীর এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর ছাত্রীদের মারধর ও বকা দেন প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী, তবে নিপা এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কী অভিযোগ জাহিদার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বৃহস্পতিবার রাতে ব্যক্তিগত আইডি থেকে নিজের মাথা ন্যাড়া করা ছবি পোস্ট করেন জাহিদা। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মাথা ন্যাড়া করেন।

ওই ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের ফেঞ্চ বেণি করে ছবি তোলা ও খেলতে যাওয়ার অপরাধে আমার স্কুলের হেডমাস্টার মেয়েদের চুল ধরে মারা ও বকার প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে?

‘পুনশ্চ: আমার মেয়েরা খেলার মাঠে খেলতে নামার অনুমতি পায়নি। স্কুলের সভাপতি আবার বর্তমানে চট্টগ্রামের সিডিএর চেয়ারম্যান এবং স্কুলটি উনার বড় আব্বার নামে।’

জাহিদা নিউজবাংলাকে জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানা জোনে ৪৯তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডি খেলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য টিম তৈরি তার দায়িত্ব। অংশগ্রহণের নিয়ম অনুযায়ী খেলার এক দিন আগে অংশগ্রহণকারী দলের ছবি তোলে কো-অর্ডিনেটরকে জমা দিতে হয়।

তার ভাষ্য, ওই দিন (৭ সেপ্টেম্বর) ছাত্রীদের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে ছবি তোলার জন্য তিনি তাদের জার্সি পরে তৈরি হতে বলেন। কাবাডি খেলায় চুলে কোনো অলংকার বা ক্লিপ থাকতে পারে না। তাই বেণি করতে হয়। সে কারণে সবাই বেণি করেছিল। ছবি তোলার জন্য মেয়েদের ডেকে তিনি টয়লেটে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে চিৎকার শোনেন যে, প্রধান শিক্ষক তাদের বকাবকি করছেন।

তিনি আরও জানান, ছাত্রীরা দ্বিতীয় তলায় ছিল। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক তাদের নিচে ডেকে নিয়ে চুল ধরে মারছিলেন। তিনি (জাহিদা) বের হয়ে ছাত্রীদের মারতে ও বকতে দেখে প্রধান শিক্ষিকাকে নিবৃত্ত করেন।

জাহিদা পারভীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বেণি কেন করছে সেটা বলে তিনি তাদের মারছিলেন, বকাবকিও করছিলেন। এর মধ্যে কাবাডি টিমের মীম নামের একজনকে বলছিলেন যে, সে-ই সব নষ্টের মূল, সে সব মেয়েদের নষ্ট করছে। আমি বের হয়ে উনাকে থামাই। বলি যে, আমিই তাদের বেণি করত বলেছি।

‘তিনি তখন আমাকেও বলেন যে, এভাবে বেণি করতে পারবে না। তা ছাড়া খেলার দিন মাঠে যাওয়ার আগে নানা ছুতোয় আমাদের দেরি করছিলেন। যেমন: মেয়েদের খাবার-দাবারের হিসাব দিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন, এটা তো এসেও দেয়া যায়, কিন্তু উনি হিসাব দিয়ে তবেই যেতে বলেছেন।’

শিক্ষক জাহিদার অভিযোগ অস্বীকার করেন এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি ওই দিন শিক্ষার্থীদের মারধর বা বকাবকি কোনোটাই করিনি; বরং আমিও তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম।’

বেণির কারণে কাবাডির ছাত্রীদের ‘মারধর’, মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ শিক্ষকের
এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

এই বিষয়ে জাহিদা পারভীন বলেন, ‘উনি মারধর ও বকাবকির পর নিয়ম রক্ষার ছবি উঠিয়েছেন।’

খেলার দিন প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করায় ভেন্যুতে যেতে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ জাহিদার। তার ভাষ্য, দেরি হওয়ার কারণে আগে জানিয়ে রাখা সত্ত্বেও কো-অর্ডিনেটর শিক্ষার্থীদের মাঠে নামতে দেননি।

জাহিদা বলেন, ‘৩ তারিখ এই সম্পর্কিত একটা মিটিং হয়েছিল। আমি মিটিংয়ে সবার সামনে স্কুলে মডেল টেস্ট চলায় আমার একটু দেরি হবে বলে জানিয়েছিলাম। থানা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও জানিয়েছিলাম, কিন্তু খেলার দিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরিতে যাওয়ার অজুহাতে কো-অর্ডিনেটর খাস্তগীর স্কুলের কাজল স্যার আমার মেয়েদের মাঠে নামতে দেননি। আমি এটার প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও তারা কর্ণপাত করেনি।’

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা এবং নানা ছুতোয় দেরি করানোর অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা; বরং আমি বলেছি যে, মডেল টেস্ট পরীক্ষা না দিলে কিছু হবে না। তিনি বলেছেন, পরীক্ষা দিক, তিনি কো-অর্ডিনেটরকে বলে রেখেছেন। তা ছাড়া খেলার দিন সকালে আমি উনাকে (জাহিদা) বলেছিলাম যে, আপনার দেরি হয়ে যাচ্ছে। উনি সেটা গুরুত্ব দেননি।’

এই বিষয়ে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজল চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

কোতোয়ালি থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হুদা ছিদ্দিকী বলেন, ‘দেরি হবে বলে আমাকে খেলার আগে তো জানায়ইনি। খেলতে না দেয়ার বিষয়েও কিছু জানায়নি; বরং উনার সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা দেরিতে অন্যান্য স্কুলের টিচারদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এসেছে জাহিদা পারভীনের বিরুদ্ধে। তিনি নাকি কাজল স্যারসহ আরও কয়েকজনকে খুব বাজেভাবে গালাগাল করেছেন।

‘তা ছাড়া উনি দুই ঘণ্টা দেরিতে এসেছেন বলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা জানিয়েছেন। এতক্ষণ অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। কারণ ২০ মিনিটের ওই খেলা এক দিনেই শেষ করতে হয়েছে। ওই এক দিনে মোট ২০টা খেলা শেষ করতে হয়েছে।’

চাপ দিয়ে পদত্যাগপত্র নেয়ার অভিযোগ

ওই ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক চাপ দিয়ে পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য করে বৃহস্পতিবার থেকে আর স্কুলে ঢুকতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জাহিদা পারভীন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খেলার দিন বিকেলে বাসায় ফিরে আমি ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন থেকে তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তিন দিন পর আমি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছিলাম।

‘তিনি আমার অসুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বই দেননি; বরং আমার ভাইকে ফোন দিয়ে আমার ওপর চাপ তৈরি করেছেন। আমার নামে খুব বাজে কথা বলেছেন। এমনকি আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টি-শার্ট পরে ছবি তুলেছিলাম। সেটা নিয়ে বাজে কথা বলেছে। আমাকে পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৩ বা ১৪ তারিখ নিজের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ থেকে বাসার সামনের সেলুনে গিয়ে আমি আমার মাথা ন্যাড়া করেছি প্রতিবাদস্বরূপ। কারও প্রতি অভিযোগ থেকে না।’

চাপ দেয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী বলেন, ‘এটা আসলে মিথ্যা কথা, আমি কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করিনি; বরং তিনি শিক্ষদানের যোগ্য নন উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমার স্কুলে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। তাকে ঢুকতে না দেয়ার বিষয়টাও মিথ্যা।’

স্কুলের শিক্ষককে চাপ দিয়ে পদত্যাগপত্র নেয়ার আইনি কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হুদা ছিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের এ রকম কোনো সুযোগ নেই। এটা তিনি কোনোভাবেই পারবেন না। বিদ্যালয়ের কমিটি হলে অন্য বিষয়।’

আরও পড়ুন:
ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই কর্মীর ওপর হামলা
ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিপেটা: আরও ৫ পুলিশ প্রত্যাহার
বরগুনায় কর্মীদের সংঘর্ষ তদন্তে ছাত্রলীগের কমিটি
এমপি শম্ভুর সঙ্গে তর্কাতর্কি: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম প্রত্যাহার
ছাত্রলীগ কর্মীদের বেধড়ক পিটুনির তদন্তে পুলিশের কমিটি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
The presenter did not give an interview in Dhaka the president of Iran

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল আমানপোর মাথায় স্কার্ফ না দেয়ায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে যোগ দেননি ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি। ছবি: সিএনএন
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা ছিল সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরের। কিন্তু আমানপোর মাথা কাপড় দিয়ে ঢাকতে অস্বীকার করায় শেষ মুহূর্তে সাক্ষাৎকার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন রাইসি।

অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

একদম শেষ মুহূর্তে সিএনএনের প্রধান আন্তর্জাতিক উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর মাথায় স্কার্ফ পরার দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর ইব্রাহিম রাইসি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর মাধ্যমে নারী পোশাকের স্বাধীনতার বিষয়ে ইরানে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই পোশাক বিধির বিষয়ে আপোষ না করার ইংগিত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে এখন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানেই তার সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা ছিল আমানপোরের।

তবে নির্ধারিত সময়ে তা শুরু না হয়ে ৪০ মিনিট ধরে চলে টানাপড়েন। প্রেসিডেন্ট রাইসির একজন সহকারী আমানপোরকে মাথায় স্কার্ফ দিতে বলেছিলেন। তবে আমানপোর তা প্রত্যাখ্যান করেন।

আমানপোর জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট রাইসির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট আর সাক্ষাৎকার দিতে আসেননি।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি বংশোদ্ভুত সিএনএন সাংবাদিক ও উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর

সিএনএনের সাংবাদিক ও উপস্থাপক আমানপোর ইরানের রাজধানী তেহরানেই বেড়ে উঠেছেন। ফার্সি ভাষায় তার বেশ দখলও রয়েছে।

ইরানে সাংবাদিকতা করার বিষয়ে স্থানীয় আইন ও রীতিনীতি মেনে প্রতিবেদন করার সময় মাথায় স্কার্ফ দিতে তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আমানপোর। তিনি বলেছেন, এ ছাড়া একজন সাংবাদিক হিসেবে সেখানে (ইরানে) কাজ করার সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, ইরানের বাইরে কোনো ইরানি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য তিনি নিজের মাথা ঢাকবেন না।

সিএনএনের ‘নিউ ডে’ প্রোগ্রামে আমানপোর বলেন, ‘এখানে নিউ ইয়র্কে বা ইরানের বাইরে অন্য কোথাও, আর কোনো ইরানি প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা (মাথায় স্কার্ফের বিষয়ে) করেননি। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের (ইরানি প্রেসিডেন্ট) সাক্ষাৎকার নিয়েছি- ইরানের ভেতরে বা বাইরে, কখনোই পোশাক পরতে (মাথার স্কার্ফ) বলা হয়নি।’

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদানিজাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়ও মাথায় স্কার্ফ ছিল না আমানপোরের

আমানপোর বলেন, ‘আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে নিজের, সিএনএন ও সব নারী সাংবাদিকের পক্ষে তা (মাথায় স্কার্ফ) প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ এর দরকার নেই।’

তবে এক টুইটবার্তায় আমানপোর স্বীকার করেন, যেহেতু ইরানে (পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে) বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে তার কথা বলাটা (এ সময়) গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট রুহানির সাক্ষাৎকারের সময়ও মাথায় স্কার্ফ দেননি আমানপোর

কতটা সত্যি আমানপোরের দাবি

আগের ইরানি প্রেসিডেন্টদের সাক্ষাৎকারের বিষয়ে আমানপোর যে দাবি করেছেন, তার সত্যতা রয়েছে। তিনি সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, তাকে স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকতে হয়নি। এমনকি সাবেক রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদানিজাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সময়ও মাথা ঢাকেননি রাইসি।

এখানে নিউ ইয়র্কে বা ইরানের বাইরে অন্য কোথাও, কোনো ইরানি প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা (মাথায় স্কার্ফের বিষয়ে) করেননি। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের (ইরানি প্রেসিডেন্ট) সাক্ষাৎকার নিয়েছি- ইরানের ভেতরে বা বাইরে, কখনোই পোশাক পরতে (মাথার স্কার্ফ) বলা হয়নি।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় আমানপোরকে একটি কাপড়ে মাথা ঢাকতে দেখা গেলেও সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল তেহরানে। মোহাম্মদ খাতামিকে সাক্ষাৎকারের সময় বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
মোহাম্মদ খাতামির সাক্ষাৎকারে আমানপোরের মাথায় কাপড় থাকলেও সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল তেহরানে

নারীদের পোশাক সম্পর্কে যা আছে ইরানের আইনে

ইরানে নারীদের পোশাক নিয়ে বিধি নিষেধ দেয়া শুরু হয় ১৯৭৯ সালে দেশটিতে হওয়া ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। দেশটিতে শরিয়াহ ভিত্তিতে করা আইনের আলোকে একজন নারীকে জনসমক্ষে মাথা ঢেকে রাখতে হয় ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়। এই আইন ইরানে অবস্থান করা সকল মুসলিম, অমুসলিম, নারী পর্যটক, বিদেশি সাংবাদিক সবার জন্য প্রযোজ্য।

ইসলামি বিপ্লবের আগে, পশ্চিমাপন্থি শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাত করার আগে তেহরানের রাস্তায় মিনিস্কার্ট ও খোলা চুল কোনো অস্বাভাবিক দৃশ্য ছিল না।

পাহলভির স্ত্রী ফারাহও পশ্চিমা পোশাকে অভ্যস্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল
ইরানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা
‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
What happened at Buffs press conference?

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক সাবিনার দাঁড়িয়ে থাকার এ ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বাফুফে কার্যালয়ে সাফ শিরোপাজয়ী নারী দলকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের কিছু ছবি ও ভিডিও ঘিরে চলছে বিতর্ক। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাফুফে কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী, এমনকি জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলছেন, পুরো সংবাদ সম্মেলনের খণ্ডিত একটি অংশ প্রচার করে ছড়ানো হয়েছে বিভ্রান্তি।  

সাফ শিরোপাজয়ী নারী দলের ঢাকায় ফেরার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের কিছু ছবি ও ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবি ও ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, জাতীয় দলের অধিনায়ক ও হেড কোচকে পেছনে দাঁড় করিয়ে রেখে চেয়ারে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বাফুফে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে খেলোয়াড়দের বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলেও প্রতিবেদন প্রচার করেছে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম।

বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানাচ্ছেন ফুটবল সমর্থক ও সংগঠকরা। তাদের অভিযোগ জাতীয় তারকাদের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা দেখানো হয়েছে বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাফুফে কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী, এমনকি জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলছেন, পুরো সংবাদ সম্মেলনের খণ্ডিত একটি অংশ প্রচার করে ছড়ানো হয়েছে বিভ্রান্তি।

সাফ বিজয়ীরা বাফুফে কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর থেকে সংবাদ সম্মেলন পুরোটা সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক কাজী নাহিয়ান আরেফীন ও নাজিবুর রহমান নাঈম।

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে
বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও সর্বডানে হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। ছবি: নিউজবাংলা

নেপাল থেকে সাফের শিরোপা নিয়ে বুধবার জাতীয় দল যখন বাফুফে ভবনে পৌঁছায় সময় তখন ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে ৭টা। এরপর হয় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের শুরুতেই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। ফুটবল সমর্থক ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেকাতে হিমশিম খাওয়া বাফুফের নিরাপত্তা কর্মীরা সাংবাদিকদেরও নির্ধারিত কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন।

শেষ পর্যন্ত ৮টা ৪০ মিনিটে সংবাদকর্মীরা প্রবেশ করেন সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। দীর্ঘ শোভাযাত্রার ক্লান্তিজনিত কারণে এই কক্ষে সাফজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্যই ছিলেন অনুপস্থিত। বিশ্রাম নিতে তারা চলে যান ডরমেটরিতে। সংবাদ সম্মেলন কেন্দ্রে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনসহ উপস্থিত ছিলেন দলের তিন-চার জন সদস্য।

শুরুতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাফজয়ী দলের অধিনায়ক ও কোচ চেয়ারে বসেছিলেন। সেখানে বসেই বক্তব্য দেন দুজন। এরপর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও বাফুফে সভাপতি সাফের ট্রফি তুলে দেন সাবিনার হাতে।

এ সময় টেলিভিশন সাংবাদিকদের অনুরোধে সাবিনা ও রাব্বানী টেবিলের মাঝামাঝি এসে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলেন। পরে তারা পেছনে সরে একপাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখনকার ছবিই ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে।

সাবিনা ও রাব্বানী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার পর অনুষ্ঠানের অতিথি ও কর্মকর্তাও বক্তব্য দেন।

বুধবার রাতের সংবাদ সম্মেলনটি কাভার করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সাংবাদিক জয়ন্ত সাহা জয়। তিনি ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন (বানান ও ভাষারীতি অপরিবর্তিত), ‘বলা হচ্ছে কৃষ্ণা, সাবিনা ও সানজিদা বা মারিয়ারা সেখানে বসার জায়গা পাননি৷ বসতে পারেননি কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনও৷ আদতে ঘটনা ওইরকম নয়৷ সংবাদ সম্মেলনের পোর্ডিয়ামের ঠিক পাশে সোফায় বসে নোট নিয়েছি। আমার ঠিক সামনে বসেছিলেন ছোটন ভাই। কৃষ্ণা, সাবিনা, সিরাত ও মারিয়ারা এসেছিলেন৷ সাবিনা ও ছোটন ভাই বসেছিলেন চেয়ারে। বাকিরা বসতে চায়নি৷

‘বাফুফে ভবনের তিন তলায় কনফারেন্স রুমটা খুব ছোট। এসি চলে না৷ মারিয়া এসেই বললো, তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তাকে দ্রুত চলে যেতে বলি, কৃষ্ণাও চলে যায়৷ ওই ছোট রুমে আজ সব মিডিয়াকর্মীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন৷ সাবিনা ও ছোটন ভাইকে রিকোয়েস্ট করা হলো তারা যেন আসন ছেড়ে মাঝে এসে কথা বলেন। বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাপারসনরা বলেছেন, তাদের সুবিধা হয়। সাবিনা ও ছোটন ভাই তাই দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন।’

অন্যদিকে, বাফুফের দাবি খেলোয়াড়দের প্রতি কোনো ধরনের অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী এবং সাংবাদিকদের অনুরোধে জায়গা বদল করেছেন খেলোয়াড় ও কোচ।

আসলে কী হয়েছিল বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নারী দলের হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। ছবি: সংগৃহীত

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাই ছিলাম। পরিস্থিতি কী ছিল সেটা দেখেন। মন্ত্রী মহোদয় এসেছেন। তারা বসে ছিলেন। সাবিনাও বসা ছিল। সাবিনা সিট ছেড়ে হেড কোচকে জায়গা করে দিয়েছে সেটাও আপনাদের (সাংবাদিকদের) অনুরোধে। আপনারাই বলেছিলেন, হেড কোচ দূরে বসেছেন, তাকে এখানে নিয়ে আসলে ক্যামেরায় পেতে সুবিধা হবে। আপনাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তেমনটাই করা হয়েছে।

‘আমরাও বিষয়গুলো বুঝি যে, অনেক সময় অনেক কিছু হয়ে যায়। তবে আমি অনুরোধ করব আমরা যে একটা দারুণ একটা ফ্লো-র মধ্যে রয়েছি সেটা যেন ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে পারি।’

বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে সংবাদ সম্মেলনের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।

এতে দেখা যাচ্ছে, সাবিনা ও হেড কোচ দুজনে চেয়ারে বসেই বক্তব্য দিচ্ছেন।

সাবিনা লিখেছেন, ‘বিষয়গুলোকে নেতিবাচক হিসেবে নেবেন না। এসব নেতিবাচক বিষয় সামনে এনে আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটিকে নষ্ট করবেন না। সবাই ইতিবাচক হওয়ার চেষ্টা করি ও উপভোগ করি। আমার এটুকুই বলার ছিল। সবার প্রতি ভালোবাসা।’

আরও পড়ুন:
মনে হয় শেখ হাসিনা ক্যাপ্টেন ছিলেন: মান্না
খেলোয়াড়দের চুরি যাওয়া টাকা দেবে বাফুফে
তালাবদ্ধ অক্ষত লাগেজ দেয়া হয়েছে: বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

p
উপরে