× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
Paharis want to survive in tribal identity
hear-news
player
print-icon

‘আদিবাসী’র স্বীকৃতি চান পাহাড়িরা

আদিবাসীর-স্বীকৃতি-চান-পাহাড়িরা-
পাহাড়িদের নাচ। ছবি: নিউজবাংলা
জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সমুন্নত রাখা। এ দিনটি সামনে রেখে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংবিধানিক পরিচয় ‘আদিবাসী’ করার দাবি জোরালো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস সামনে রেখে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংবিধানিক পরিচয় ‘আদিবাসী’ করার দাবি জোরালো হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মঙ্গলবার উদযাপন হবে দিনটি।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের আদিবাসী সম্প্রদায়। আমাদের মৌলিক অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা চাই বাংলাদেশে যে ৫৪টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী আছে তারা যেন সাংবিধানিকভাবে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পায়।’

সাংস্কৃতিক সংগঠন হিলর প্রডাকশনের সদস্য পিংকি চাকমা বলেন, ‘১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শান্তিচুক্তি হয়েছিল। এরপর ২৫ বছর কেটে গেলেও আমরা সাংবিধানিকভাবে আদিবাসীর স্বীকৃতি পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ধর্ম সবকিছু রয়েছে। তার পরও সরকার আমাদের কেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কিংবা উপজাতি বলছে তা আমরা জানি না।’

‘আদিবাসী’র স্বীকৃতি চান পাহাড়িরা

রাঙ্গামাটি পৌরসভা মাঠে মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। এতে থাকবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পোশাকের ডিসপ্লে। এরপর আলোচনা সভা ও পরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা হবে।

জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সমুন্নত রাখা।

‘আদিবাসী’র স্বীকৃতি চান পাহাড়িরা

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১১টি ভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। জনসংখ্যার দিক দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমাদের পর মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। ২০১১ সালে জনশুমারি ও গৃহগণনা তথ্যানুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলে চাকমা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪৪ হাজার।

২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলে চাকমা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯ জনে। অর্থাৎ ১১ বছরে চাকমা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৯ হাজার ২৯৯।

‘আদিবাসী’র স্বীকৃতি চান পাহাড়িরা

রাঙ্গামাটি বিএম ইনস্টিটিউটের প্রভাষক ও লেখক আনন্দ জ্যোতি চাকমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, সাঁওতালসহ প্রায় ৫০টি জাতিসত্তার স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। একটি জাতির যা প্রয়োজন, তা আমাদের আছে। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য সবকিছু আছে। এ কারণে আমরা আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সরকার আমাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে সরকারের প্রতি বিশ্বাস আর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।’

আরও পড়ুন:
‘অপরায়ন’ ও জাতিগত ভগ্নাংশ
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
ভারতে কারান্তরীণ সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু
কানাডার আরও ১০ গির্জায় আগুন
কানাডায় আরও ১৮২ আদিবাসী শিশুর কবর শনাক্ত, আবার গির্জায় আগুন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Uttal Iran killed 5 for womens freedom of dress

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল ইরান, নিহত ৫

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল ইরান, নিহত ৫ ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরায় গ্রেপ্তারের পর মারা যাওয়া মাহসা আমিনিকে (ডানে) কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে ইরানে। ছবি: এএফপি
কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি। পুলিশ হেফাজতে মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, পরে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান।

‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ২২ বছরের মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে।

মাহসার মৃত্যুর পর চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ জন

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি ইরানি পুরুষও যোগ দিয়েছেন। রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার ঘোষণা দিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ-বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। রাজধানী তেহরানে আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল ইরান, নিহত ৫
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল ইরান

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। ইরানের বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষও চলছে।

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দিস্তান প্রদেশের দিভান্দারেহতে সোমবারও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত হয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল ইরান, নিহত ৫
মাহসা আমিনিকে নিয়ে প্রতিবেদন গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম

কিছু ফুটেজে দেখা যায়, ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী সানন্দাজ শহরে বিক্ষোভে ইরানের বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের প্রতিবাদে অনেক নারী তাদের মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘খামিনির মৃত্যু’ বলে স্লোগান দিতে শোনা গেছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনি হলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।

প্রাগভিত্তিক রেডিও ফারদা জানিয়েছে, কুর্দি অধ্যুষিত দিভান্দারেহেতে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছুড়লে আহত হন ৮ জন।

মাহসাকে দাফনের সময়ও বিক্ষোভকারী গভর্নর ভবনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল ইরান, নিহত ৫
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে চলছে টানা বিক্ষোভ

এর আগে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তেহরানের পুলিশ কমান্ডার হোসেন রাহিমি বলেন, আমিনিকে নৈতিকতা পুলিশ বাধা দিয়েছে, কারণ তার হিজাব অনুপযুক্ত ছিল। সংবাদ সম্মেলনে আমিনিকে পুলিশের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন হোসেন রাহিমি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া দেশটির নৈতিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্নেল আহমেদ মিরজাইকে বরখাস্ত করা হয়েছে

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হবে এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল ইরান, নিহত ৫
তেহরানের রাস্তায় চলছে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

ইরানি এক সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাসিহ আলিনেজাদ তার অফিশিয়াল টুইটারে প্রতিবাদী নারীদের ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘হিজাব পুলিশের হাতে মাহসা আমিনি হত্যার প্রতিবাদে ইরানের নারীরা তাদের চুল কেটে ও হিজাব পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নিজেদের চুল ঢেকে রাখলে আমরা (নারী) স্কুলে যেতে পারব না, চাকরি করতে পারব না। আমরা এই লিঙ্গ বৈষম্যভিত্তিক শাসনে অতিষ্ঠ।’

তিনি আরেক টুইটে বলেন, ‘৭ বছর বয়স থেকে আমরা আমাদের চুল ঢেকে রাখতে বাধ্য। তা না হলে আমরা স্কুলে যেতে পারব না, চাকরি পাব না। আমরা এই লিঙ্গ-বৈষম্যভিত্তিক শাসনের অবসান চাই।’

আরও পড়ুন:
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল
ইরানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Daughter in law eager to marry her mother in law

শাশুড়িকে বিয়ে দিতে উদ্যোগী পুত্রবধূ

শাশুড়িকে বিয়ে দিতে উদ্যোগী পুত্রবধূ
‘বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলাম আম্মু (শাশুড়ি মা) একটু চুপচাপ থাকেন। ২০০৯ সাল থেকে আমার শ্বশুরের কাছ থেকে তিনি আলাদা। ওনাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। আম্মুর সব কিছুই ছিল ছেলেকেন্দ্রিক। ছেলে ছাড়া অন্য কিছু কখনই ভাবেননি। তার জীবনের অনেকটা সময় ছেলের কথা ভাবতে গিয়ে স্যাক্রিফাইস করেছেন। আমরা চাই না উনি আরও স্যাক্রিফাইস করুক।’

মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে যুবকের ফেসবুকে পোস্ট নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে এবার শাশুড়ির জন্য পাত্র চেয়ে পাত্র-পাত্রীসংক্রান্ত একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়েছেন পুত্রবধূ।

পোস্ট দেয়ার দুই দিনের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত দুজনকে ভালো লেগেছে। এখন কথাবার্তা চলছে। তিনি আশা করছেন, চার হাত এক করে দিয়ে শাশুড়ির জীবনের একাকিত্ব ঘোচাতে পারবেন তিনি।

সেই তরুণী জানিয়েছেন, তার শাশুড়ির একাকিত্বের বিষয়টি চিন্তা করে তার স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই পোস্ট দিয়েছেন। আর এর দুই দিন পর তার শাশুড়িকে জানান। শুরুতে তিনি আবার বিয়েতে রাজি ছিলেন না। তবে পরে দুজন মিলে রাজিও করান।

সেই নারী ও পুত্রবধূর মধ্যে পরিচয় ছিল বিয়ের আগেই। জানিয়েছেন, বিয়ের আগেই মেয়েটি তাকে আম্মু বলে ডাকতেন, বলতেন তাকে বিয়ে দেবেন। বিয়ের এক বছরের মাথায় যখন এই উদ্যোগ সত্যি সত্যি পুত্রবধূ নিয়েছে, তখন তিনি আর না করতে পারেননি।

ফেসবুকে পোস্ট দিলেও গণমাধ্যমে আপাতত তার বা শাশুড়ি- কারও নাম প্রকাশ করতে চাইছেন না সেই তরুণী। জানিয়েছেন, এটি তার শাশুড়ির ইচ্ছা। সেটিকেই সম্মান জানাচ্ছেন।

পাত্র-পাত্রী খুঁজতে ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেসবুক গ্রুপ ‘বিসিসিবি মেট্রিমনিয়াল: হেভেনলি ম্যাচ’। সেখানে নিজের জন্য, ভাইবোনের জন্য, ছেলেমেয়ের বা অন্য স্বজনের জন্য পোস্ট দেয়া হয় অহরহ।

এর ভিড়ে আগস্টের শুরুতে মায়ের জন্য পাত্রের সন্ধান পেয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেন মোহাম্মদ অপূর্ব নামে এক যুবক। তার বাবা মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি ও তার ভাই মাকে সময় দিতে পারেন না। তাই এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে মায়ের সঙ্গী চাইছেন তিনি।

শাশুড়ির জন্য পাত্র চেয়ে পোস্টের পেছনেও কারণ অনেকটাই একই রকম। এক যুগেরও বেশি সময় আগে বিচ্ছেদ হয়েছে বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী নারীর। একমাত্র ছেলেকে বিয়ে দেয়ার পর তিনি অনেকটাই নিঃসঙ্গ। ছেলে ও পুত্রবধূ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন, তখন তিনি আরও একা হয়ে পড়বেন।

পরে ছেলে ও পুত্রবধূ মিলে ঠিক করলেন, এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে হবে।

পোস্টদাতা পুরান ঢাকার বাসিন্দা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি পোস্টটি দেন সেই গ্রুপে।

তখনও তার শাশুড়ি বিষয়টি জানতেন না। শাশুড়িকে জানান দুই দিন পর। নিউজবাংলাকে সেই তরুণী বলেন, ‘আগে জানালে হয়তো উনি রাজি হতেন না। কারণ আমি আর আমার হাজবেন্ড মিলে তাকে রাজি করাতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে।’

কোন ভাবনা থেকে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে শুধু বাবারাই দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে। আমরা এটাই স্বাভাবিক ধরে নিই। কিন্তু একজন নারীরও যে একাকিত্ব আছে, একটা সময় গিয়ে তার সঙ্গীর দরকার হয়, সেটা আমরা ভুলে যাই।

‘বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলাম আম্মু (শাশুড়ি মা) একটু চুপচাপ থাকেন। ২০০৯ সাল থেকে আমার শ্বশুরের কাছ থেকে তিনি আলাদা। ওনাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। আম্মুর সব কিছুই ছিল ছেলেকেন্দ্রিক। ছেলে ছাড়া অন্য কিছু কখনই ভাবেননি। তার জীবনের অনেকটা সময় ছেলের কথা ভাবতে গিয়ে স্যাক্রিফাইস করেছেন। আমরা চাই না উনি আরও স্যাক্রিফাইস করুক।’

এই ফাঁকে পোস্টদাতা তরুণী জানিয়ে রাখছেন, শাশুড়ির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সেই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আরেকটি সংসার করছেন।

এই উদ্যোগে পরিবারের অন্য সদস্যের সম্মতি আছে কি না- জানতে চাইলে সেই তরুণী বলেন, ‘মূলত তার ছেলেই সব। প্রথমদিকে ওর একটু সমস্যা ছিল। পরে রাজি হয়েছে।

‘উদ্যোগটা আমিই নিয়েছি। কারণ একটা মেয়ে হয়ে আমি বুঝি, মায়েরা বলতে পারেন না। কিন্তু একাকিত্ব তাদেরও অনেক কষ্ট দেয়।’

শাশুড়ির জন্য কেমন পাত্র চান, সেটিও জানিয়ে দিয়েছেন সেই তরুণী। তিনি লেখেন, ‘সামাজিক মিশুক প্রকৃতির একজন মানুষ, যার সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যাবে, বিশ্বাস করা যাবে, আমাকে বুঝবে আর ভুলগুলো শুধরে দেবে। নিজেকে বুঝতে দেবে।’

পাত্রের কেমন পারিবারিক আর্থিক অবস্থা চাইছেন, সে বিষয়ে সেই তরুণী উল্লেখ করেন, ‘পারিবারিক অবস্থান মধ্যবিত্ত হলেও সমস্যা নাই, বেশি ধনী হলেও সমস্যা নাই।

‘সরকারি চাকরি হলে ভালো হয়, তবে বিদেশি সিটিজেনশিপপ্রাপ্ত হলে আরও ভালো হবে।’

কেউ কি যোগাযোগ করেছেন- জানতে চাইলে সেই তরুণী বলেন, ‘অনেকেই যোগাযোগ করছেন। এর মধ্যে দুজনকে আমার ভালো লেগেছে। যতক্ষণ না হচ্ছে, কিছু তো বলা যায় না। তাই এখনই সবটা সামনে আনতে চাই না। আমার এই উদ্যোগ সফল হলে আমি নিজেই সবাইকে জানাব।’

বিয়েটা হয়ে গেলে নাম, ছবি- সবই প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়ে দেন সেই তরুণী।

আপত্তি নেই শাশুড়ির

যার জন্য পাত্র খোঁজা হচ্ছে, সেই নারীর সঙ্গেও কথা হয়েছে নিউজবাংলার। তিনি বলেন, ‘বউ যখন আমার ছেলের গার্লফ্রেন্ড ছিল, তখন থেকেই বলত, আম্মু আপনাকে বিয়ে দেব। আমিও হাসতাম। ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি এক বছর। এর মাঝেই ও এই উদ্যোগ নিয়েছে। আমিও বলেছি আচ্ছা বিয়ে দাও। তোমরা যেটা ভালো মনে করো সেটা হবে।’

ব্যাপক প্রশংসা ফেসবুকে

এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত দুই দিনে এই পোস্টে কমেন্ট পড়েছে ১৬৩টি। এর মধ্যে প্রত্যেকটি কমেন্টেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। জিনিয়া রহমান পাপড়ি নামে একজন লিখেন, ‘আমরা যে আস্তে আস্তে সংকীর্ণ মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি, সেটা দেখে ভালো লাগছে। দোয়া করি, আন্টির বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে কাটানোর জন্য তার মতই একজন সঙ্গী মিলুক।

‘আমি আমার মাকে তো কোনোভাবেই রাজি করাতে পারলাম না বিয়ের জন্য। এই বয়সে একা একা থাকতে থাকতে আর নেগেটিভ থিংকিং করতে করতে মানসিকভাবে এতটা অসুস্থ হয়ে গেছে যে, তার সঙ্গে থাকা, কথা বলা, কোনোটাই করা যাচ্ছে না। সন্তান, বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে এতটা ফ্রি হওয়া যায় না। সঙ্গী লাগে একজন।’

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রকে তুলে নিয়ে তরুণীর বিয়ের ঘটনাটি ‘মিথ্যা’
মৃত্যুর ৩০ বছর পর বিয়ে
বাবার স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে
অবিবাহিত বেশি সিলেটে, কম রাজশাহীতে
বিয়ে বেশি রাজশাহীতে, বিচ্ছেদ খুলনায়

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Workshop on Gender Equality at Padma Bank

পদ্মা ব্যাংকে ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ বিষয়ক কর্মশালা

পদ্মা ব্যাংকে ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ বিষয়ক কর্মশালা পদ্মা ব্যাংকের মিরপুর ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা
ফ্রি-ল্যান্স জেন্ডার অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট নিলুফার আহমেদ করিম কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন। উপস্থিত ছিলেন ইভিপি ও পদ্মা ব্যাংকের হেড অফ অপারেশন সৈয়দ তৌহিদ হোসেন।

কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতা ও অধিকার রক্ষায় পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোগে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের মিরপুর ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় বলে ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ফ্রি-ল্যান্স জেন্ডার অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট নিলুফার আহমেদ করিম কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন। উপস্থিত ছিলেন ইভিপি ও পদ্মা ব্যাংকের হেড অফ অপারেশন সৈয়দ তৌহিদ হোসেন।

কর্মশালায় ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের ৯৩ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। ঢাকার বাইরের শাখার কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে পদ্মা ব্যাংকের কর্মশালা
প্রয়াত কর্মীর পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিল পদ্মা ব্যাংক
পদ্মা ব্যাংকে মিলছে পুরোনো গাড়ি কেনার ঋণও
শোক দিবসে পদ্মা ব্যাংকের আলোচনা সভা ও দোয়া
নতুন গভর্নরের পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ কমবে: তারেক রিয়াজ খান

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
China may have committed crimes against humanity in Xinjiang UN

শিনজিয়াংয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকতে পারে চীন: জাতিসংঘ

শিনজিয়াংয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকতে পারে চীন: জাতিসংঘ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চীনবিরোধী বিক্ষোভে জাতিগত উইঘুর এক নারী। ছবি: রয়টার্স
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উইঘুর ও মুসলিমপ্রধান অন্য জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নির্বিচার ও বৈষম্যমূলক আটকের ব্যাপকতায়… আন্তর্জাতিক অপরাধ, আরও সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।’

স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিনজিয়াংয়ে উইঘুরসহ অন্য মুসলিমদের ‘নির্বিচার’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ আটকের মধ্য দিয়ে চীন মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকতে পারে বলে উঠে এসেছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের বিদায়ী মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট রচিত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের বিষয়ে অতি নরম অবস্থানের অভিযোগে কিছু কূটনীতিক ও মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনায় পড়া ব্যাচেলেটের চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হয় বুধবার। দায়িত্ব ছাড়ার আগ মুহূর্তে হাইকমিশনার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন, যিনি চলতি বছরের মে মাসে চীন সফর করেছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী ও উগ্রপন্থাবিরোধী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণে শিনজিয়াংয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ‘উইঘুর ও মুসলিমপ্রধান অন্য জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নির্বিচার ও বৈষম্যমূলক আটকের ব্যাপকতায়… আন্তর্জাতিক অপরাধ, আরও সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।’

প্রতিবেদনে শিনজিয়াংয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কারাগার কিংবা বন্দিশালায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চীন সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন জাতিসংঘের সদ্য সাবেক মানবাধিকারপ্রধান।

শিনজিয়াংয়ে জোর করে পরিবার পরিকল্পনায় বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, ‘(শিনজিয়াংয়ে) ২০১৭ সাল থেকে জবরদস্তিমূলকভাবে পরিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রজনন অধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য ইঙ্গিত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কায় নোঙরের অনুমতি পেল চীনের সেই জাহাজ
চীনের মহড়ায় গোয়েন্দাগিরির সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
প্রযুক্তিতে চীনকে মোকাবিলায় ২৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের
চীনের মহড়া হামলার প্রস্তুতি: তাইওয়ান
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্তের, প্রভাব পড়বে না: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Human chain in DU against freedom of dress

পোশাকে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ঢাবিতে মানববন্ধন

পোশাকে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ঢাবিতে মানববন্ধন পোশাকে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ঢাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
মানববন্ধনে আরবি বিভাগের ফজলুল আলম বলেন, ‘পাবলিক প্লেসে পোশাক স্বাধীনতার আড়ালে অনেকের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গকে সিডিউস (যৌন সুড়সুড়ি) করার চেষ্টা দেখা যায়। পাবলিক প্লেসে কাউকে সেক্সুয়ালি সিডিউস করা মানসিক নির্যাতনের শামিল। একজনকে মানসিক নির্যাতনের অধিকার অবশ্যই অন্যজনকে দেয়া হয়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী তাদের ভাষায় ‘মূল্যবোধবিরোধী’ পোশাকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন।

নরসিংদীর রেলওয়ে স্টেশনে স্লিভলেস টপস পরার কারণে এক নারীকে হেনস্তার অভিযোগে আটক নারীর জামিন শুনানিতে হাইকোর্টে একজন বিচারক যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে মানববন্ধন করেন তারা। এতে ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

তারা পোশাকের নামে পশ্চিমা ‘অপসংস্কৃতি’ আমদানিকারকদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিও করেন।

মানববন্ধন থেকে ‘দেশীয় মূল্যবোধবিরোধী’ পোশাকের বিরুদ্ধে ‘সোচ্চার’ হওয়ায় উচ্চ আদালতকে অভিবাদন ও স্যালুট জানানো হয় এই কর্মসূচিতে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘দেশীয় মূল্যবোধবিরোধী সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়’, ‘পোশাকের স্বাধীনতার নামে পাবলিক নুইসেন্স বন্ধ হোক’, ‘ছোট পোশাক নারীকে বিজ্ঞানী বানায় না, পণ্য বানায়’ ইত্যাদি লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে অণুজীব বিজ্ঞানের রবিউল করিম বলেন, ‘পোশাকের স্বাধীনতার নামে বর্তমানে আমাদের সমাজে যা হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনকয়। এ পরিস্থিতিতে উচ্চ আদালতের এত সুন্দর ও গঠনমূলক পর্যবেক্ষণ আমাদের সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।’

অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহিউদ্দিন রাহাত বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার অর্থ যেমন অন্যকে গালি দেয়া নয়, ঠিক তেমনি পোশাকের স্বাধীনতার অর্থ অন্যকে বিরক্ত করা নয়। পোশাকের স্বাধীনতার নামে এমন পোশাক পরা কখনই ঠিক না, যা পাবলিক নুইসেন্স বা গণ-উৎপাত বা বিরক্তি তৈরি করে। পাবলিক নুইসেন্স এক ধরনের ক্রাইম।’

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রাইভেট আর পাবলিক প্লেসের ড্রেস কখনও এক না। অনেকে পোশাকের স্বাধীনতার নামে পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানি করে পাবলিক প্লেসে মানুষকে কষ্ট দেয়, এটা অবশ্যই অন্যায়। সে তার বাড়িতে সেই স্বাধীনতা পালন করুক, পাবলিক প্লেসে সবার মূল্যবোধ মেনেই তাকে চলতে হবে।’

আরবি বিভাগের ফজলুল আলম বলেন, ‘পাবলিক প্লেসে পোশাক স্বাধীনতার আড়ালে অনেকের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গকে সিডিউস (যৌন সুড়সুড়ি) করার চেষ্টা দেখা যায়। পাবলিক প্লেসে কাউকে সেক্সুয়ালি সিডিউস করা মানসিক নির্যাতনের শামিল। একজনকে মানসিক নির্যাতনের অধিকার অবশ্যই অন্যজনকে দেয়া হয়নি।’

দর্শন বিভাগের রেহানা রাহী বলেন, ‘সংস্কৃতি অবশ্যই পরিবর্তনশীল। কিন্তু আমরা যে সংস্কৃতি গ্রহণ করব, সেটা অবশ্যই আমাদের দেশীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আজকাল পোশাকের স্বাধীনতার নামে যে পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানি করা হচ্ছে, তা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে। এটা এক ধরনের কালচারাল টেররিজম।’

যে ঘটনায় এই মানববন্ধন

স্লিভলেস টপ পরা এক তরুণীকে নরসিংদী রেলস্টেশনে হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্জিয়া আক্তার শিলাকে জামিন দেয়ার সময় হাইকোর্টে এক বিচারকের মন্তব্য নিয়ে আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৬ আগস্ট মার্জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেয়।

মার্জিয়ার আইনজীবী মো. কামাল হোসেনের বরাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শুনানির সময় আদালত দেশের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে তরুণীর পোশাক সংগতিপূর্ণ কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে। ওই তরুণী যে পোশাক পরেছিলেন, সেটি দেশের সবচেয়ে ‘ফাস্ট এরিয়া’ গুলশান-বনানীতেও কোনো মেয়ে পরে রাস্তায় বের হন না।

গণমাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তুমুল সমালোচনা হয়। আর ১৭ আগস্ট মার্জিয়ার আইনজীবী কামাল হোসেন ফেসবুকে সমালোচনার বিষয়টি হাইকোর্টের একই বেঞ্চের নজরে এনে সমালোচনাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।

আদালত ফেসবুকে মন্তব্যকারীদের বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে স্ক্রিনশট জমা দিতে বলেছে।

পাশাপাশি হাইকোর্ট বেঞ্চটির জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ‘আমরা তো আদেশে পোশাক নিয়ে কিছুই লিখেনি, আমরা ভিডিও দেখে আইনজীবীদের কাছে শুধু জানতে চেয়েছি।

‘ভিডিও দেখে রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছি, এমন ড্রেস পরে এমন গ্রাম এলাকায় যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ কি না।’

কামাল হোসেন জানান, জামিন শুনানির সময় তরুণী যে পোশাক পরেছিলেন, সেটি কোনো সভ্য দেশের পোশাক হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন আদালত তুলেছে। তবে তার মতে, বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করার সুযোগ নেই।

আর এই বেঞ্চ জামিন দিলেও সেই আদেশ চেম্বার আদালত স্থগিত করে দেয়ায় মার্জিয়া মুক্তি পাননি।

আরও পড়ুন:
বোরকা পরা সাংবিধানিক অধিকার: হাইকোর্ট
উত্তেজক পোশাকের নারীর শত্রু কেন নারীরাই

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Chakma is the most minority ethnic group and least Vil population

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীতে চাকমা বেশি, সবচেয়ে কম ভিল জনগোষ্ঠী

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীতে চাকমা বেশি, সবচেয়ে কম ভিল জনগোষ্ঠী
বিবিএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে এখন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ। এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যা ভিল জনগোষ্ঠীর।

জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।

এর মধ্যে নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮, আর পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে এখন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ। এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যা ভিল জনগোষ্ঠীর।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস বেশি

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ বসবাস করছে চট্টগ্রাম বিভাগে, ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ জন। আর সবচেয়ে কম রয়েছে বরিশাল বিভাগে, ৪ হাজার ১৮১ জন।

এছাড়া ঢাকা বিভাগে ৮২ হাজার ৩১১, খুলনায় ৩৮ হাজার ৯৯২, ময়মনসিংহে ৬১ হাজার ৫৫৯, রাজশাহীতে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯২ ও রংপুরে ৯১ হাজার ৭০ জন বসবাস করছে।

জেলার বিবেচনায় রাঙ্গামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ জেলায় এই জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪। এরপরেই আছে আরেক পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। সেখানে সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮।

সবচেয়ে বেশি চাকমা, কম ভিল

জনশুমারিতে দেশে ৫০টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমাদের সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে শতকরা হিসাবে যা ২৯.২৯ শতাংশ।

সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা। মারমাদের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬২ বা ১৩.৫৯ শতাংশ, আর ত্রিপুরাদের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮ বা ৯.৪৯ শতাংশ।

সংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা সমতলের সাঁওতালদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন। শতাংশের হিসাবে, যা ৭.৮২

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর। এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে। এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০০ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে। আর হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৩ জন।

আরও পড়ুন:
ঢাকা শহরের জনসংখ্যা কোটির বেশি
দেশে পুরুষ কম, নারী বেশি
৫৬ শতাংশ শিশু-কিশোরের হাতে মোবাইল
সাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬%, এগিয়ে পুরুষ
দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি সাড়ে ৫১ লাখ

মন্তব্য

p
উপরে