× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
3 women sentenced to death in Iran for killing their husbands
hear-news
player
print-icon

স্বামী হত্যায় ইরানে ৩ নারীর মৃত্যুদণ্ড

স্বামী-হত্যায়-ইরানে-৩-নারীর-মৃত্যুদণ্ড-
২০২০ সালে ইরানের মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে লন্ডনে ক্যাম্পেইন। ছবি: সংগৃহীত
গত বছরের তুলনায় এই বছরই ইরানে দ্বিগুণ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এই বছরের প্রথম ৫ মাসেই ২৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ইরানি কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে অনেক অভিযুক্তের গণ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে থাকে।

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। তবে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কখনোই আমলে নেয় না ইরানের বিচার বিভাগ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, স্বামীকে হত্যার দায়ে ৩ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরান হিউম্যান রাইটস গ্রুপের মতে, গত সপ্তাহেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া ৩২ জনের মধ্যে সেই ৩ নারীও ছিলেন।

এর মধ্যে ১ জন ছিলেন সাবেক বাল্যবধূ সোহেলা আবাদি। যেই স্বামীকে হত্যার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, সেই স্বামীর সঙ্গে ১০ বছর আগে বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর।

বাকি যেই দুজন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেও স্বামী হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এই বছরই ইরানে দ্বিগুণ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এই বছরের প্রথম ৫ মাসেই ২৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এর বেশি শিকার হচ্ছেন দেশটির সংখ্যালঘুরাও। ইরানে সংখ্যালঘুরা দেশটির জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হলেও মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রতি ৪ জনের ১ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

অনেক ক্ষেত্রেই ইরানি কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে অনেক অভিযুক্তের গণ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে থাকে।

যদিও ইরানের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে খুব একটা প্রকাশ্য ঘোষণা দেয় না। তাই মৃত্যুদণ্ডের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া সম্ভব হয় না।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ইরান অনেক বেশি নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর মধ্যে বেশির ভাগই তাদের স্বামী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত।

অথচ পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে ইরানের আদালত খুব একটা আগ্রহ দেখায় না। নারীরা সেখানে ন্যায়বিচার পায় না।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ভুলের কঠোর জবাব: ইরান
ট্রাম্পের কারণেই ইরানে পরমাণু অস্ত্র: বাইডেন  
সামরিক ড্রোনের জন্য ‘ইরানের দ্বারস্থ রাশিয়া’
স্যাটেলাইট বহনে সক্ষম রকেটের উৎক্ষেপণ ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রতিরোধে’ ইরান-ভেনেজুয়েলার ২০ বছরের চুক্তি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Senora stood by the safe period of Kaikhali girls

কৈখালীর কিশোরীদের নিরাপদ পিরিয়ডে পাশে দাঁড়াল সেনোরা

কৈখালীর কিশোরীদের নিরাপদ পিরিয়ডে পাশে দাঁড়াল সেনোরা কৈখালীর কিশোরীদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্কয়ার টয়লেট্রিজের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্র্যান্ড সেনোরা। ছবি: সংগৃহীত
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। সেই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কৈখালীর কিশোরীদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্র্যান্ড সেনোরা।

সাতক্ষীরার কৈখালী ইউনিয়নে যেদিকে চোখ যায় শুধু লোনা পানি। পিরিয়ডের সময় এখানকার মেয়েরা এই লোনা-নোংরা পানিই ব্যবহার করতেন।

লোনা পানি ব্যবহার করলে জরায়ুর বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হন নারীরা। তাই ঝামেলা এড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখছিল স্থানীয় কিশোরীরা।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। আর সেই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কৈখালীর কিশোরীদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্র্যান্ড সেনোরা। ‘মেয়ে, তোমার স্বস্তির জন্য’ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে তারা।

কৈখালীতে বৃষ্টি হয় প্রচুর, তাই এই ক্যাম্পেইনে সেনোরা বৃষ্টির পানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিয়নের ছয়টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে ১২টি পানির ট্যাংক, যাতে মেয়েরা পিরিয়ডসহ অন্যান্য প্রয়োজনে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারেন।

সেনোরার উদ্যোগে কৈখালী ইউনিয়নে কিশোরীদের নিয়ে কয়েকটি উঠান বৈঠকও করা হয়েছে, দেয়া হয়েছে তিন মাসের ফ্রি স্যানিটারি ন্যাপকিন। এ ছাড়া যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যাবে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ০৮০০০৮৮৮০০ টোল ফ্রি নম্বরে।

উঠান বৈঠকে এলাকার নারীদের সচেতন করা হচ্ছে। স্যানিটারি প্যাড বিতরণের কার্যক্রম চালাতে দুজন নারী প্রতিনিধিও ঠিক করে দিয়েছে সেনোরা। স্থানীয়ভাবে তারা ‘নোরা আপা’ হিসেবে পরিচিত।

কৈখালীর কিশোরীদের নিরাপদ পিরিয়ডে পাশে দাঁড়াল সেনোরা

নোরা আপাদের একজন ফারজানা পারভীন স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়েদের জন্য এমন ব্যবস্থার কথা ভাবাই যায় না। ট্যাংকে জমা হওয়া বৃষ্টির পানি আমাদের খুবই উপকারে আসছে। স্যানিটারি প্যাড পেয়ে গত দুই মাসে পিরিয়ডকালে মেয়েদের কাপড় ব্যবহার করা কমেছে।

‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার মেয়েদের পিল খাওয়াও বন্ধ হয়েছে।’

আরেক ‘নোরা আপা’ গৃহবধূ খাদিজা খাতুন বলেন, ‘এক উঠান বৈঠকের পরে জুলাই মাসের প্যাড সেনোরার পক্ষ থেকে বিতরণ করা হয়। এক মাস না যেতেই আগস্ট মাসের প্যাড ওরা আমার কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এই মাসে আমি প্রায় ১০০টি প্যাড বিতরণ করেছি। এখানকার মেয়েরা প্যাড পেয়ে খুব খুশি। তবে অনেকেই চিন্তিত তিন মাস পর কী হবে সেটা নিয়ে।’

এ বিষয়ে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের হেড অফ মিডিয়া অ্যান্ড রিসার্চ এডওয়ার্ড প্রকাশ বালা বলেন, ‘আমরা এই উদ্যোগকে চালিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কীভাবে পুরো ব্যাপারটি টেকসই করা যায়, সেটি নিয়েই আলোচনা চলছে। চাইলে অন্যরাও আমাদের এই উদ্যোগের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন।’

মুখে একরাশ হাসি নিয়ে কৈখালীর দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, ‘পিল এখন আর খাচ্ছি না। মাসিকের সময় ভালো পানি পাচ্ছি, প্যাড পাচ্ছি।’

ট্যাংক থেকে পানি নিয়ে বাসায় ফেরার পথে এক কিশোরী বলে, ‘যারা আমাদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে তাদের ধন্যবাদ। আগে আমরা পুরোনো কাপড় ব্যবহার করতাম, এখন প্যাড পাচ্ছি। পিলও খাচ্ছি না।’

তৃপ্তি রানী নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানকার মেয়েদের জীবন ভীষণ কষ্টের। লোনা ও ভীষণ নোংরা পানিতে আমাদের দৈনন্দিন, বিশেষ করে মাসের বিশেষ দিনগুলোর কাজ সারতে হতো। সেই বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করেছে সেনোরা। এই পানির ট্যাংক পেয়ে আমাদের ভীষণ উপকার হলো।’

সেনোরার উদ্যোগ সম্পর্কে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ডিরেক্টর ও অপারেশন বিভাগের প্রধান মালিক মো. সাঈদ বলেন, ‘সেনোরার জন্মলগ্ন থেকেই আমরা মেয়েদের নিরাপদ পিরিয়ড নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় কৈখালীর মেয়েদের সমস্যাতেও পাশে দাঁড়িয়েছি।’

স্কয়ার টয়লেট্রিজের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ড. জেসমিন জামান বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগ শুধু এখানেই থেমে থাকবে না। আমরা কৈখালী গ্রামে কিছু মেয়েকে প্রশিক্ষিত করেছি, যারা স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন প্রয়োজনে কিশোরীদের পাশে থাকবেন।’

সেনোরার এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিল বিজ্ঞাপনী এজেন্সি সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠিানের কপি সুপারভাইজার রিয়াজুল আলম শাওন বলেন, ‘ট্যাংক বসানো, উঠান বৈঠক, ফ্রি স্যাম্পলিং, ভিডিওচিত্র নির্মাণ সব ক্ষেত্রেই আমাদের আন্তরিকতা আর ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। আমাদের কাজ এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতেও আমরা সব সময় কৈখালীর মেয়েদের পাশে থাকব।’

আরও পড়ুন:
চোয়ালের ব্যথাও হতে পারে মেনোপজের লক্ষণ
পিরিয়ড জটিলতায় মাসে তিন দিন ছুটি পাচ্ছেন স্পেনের নারীরা
লবণাক্ততা: পিল খেয়ে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখছে কিশোরীরা
মেনস্ট্রুয়াল কাপ নিয়ে ট্যাবু ভাঙতে আলোচনা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Turkey gets its first female general

তুরস্ক পেল প্রথম নারী জেনারেল

তুরস্ক পেল প্রথম নারী জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উজলেম ইলমাজ। ছবি: সংগৃহীত
পদোন্নতি পাওয়ার আগে ইলমাজ সিনিয়র কর্নেল হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৫৫ সাল থেকেই তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীতে নারীরা কাজ করলেও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সশস্ত্র বাহিনীতে জেনারেল হয়েছেন।

ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার উজলেম ইলমাজ সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি পেয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হয়েছেন।

এর আগে ৪৬ বছর বয়সী নারী ইলমাজ ২০১৪ সাল থেকেই সিনিয়র কর্নেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীতে ১৯৫৫ সাল থেকেই নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে এই প্রথমই কোনো নারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হলেন।

ইলমাজের আরও ১৩ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে, ১৬ জন মেজর জেনারেল হিসেবে ও ২ জন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
দেশে ভাসমান জনসংখ্যার অধিকাংশই পুরুষ
লিঙ্গ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা বাংলাদেশ
উবারের বিরুদ্ধে চালকদের ‘নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার’ নারীদের মামলা
ভারতবর্ষজুড়ে এত নাভিপ্রীতির কী কারণ?
নারী উদ্যোক্তাদের অনলাইন পণ্যমেলা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
What happens in Iran with virginity test of girls

কুমারীত্ব পরীক্ষা নিয়ে যা হয় ইরানে

কুমারীত্ব পরীক্ষা নিয়ে যা হয় ইরানে বিয়ের আগে কুমারিত্ব ধরে রাখলেও অনেক নারী দাম্পত্য জীবনে স্বামীর কাছে নিগৃহীত হন।
কুমারীত্ব ইস্যুটি ইরানের অনেক মেয়েরই জীবনকে অতিষ্ঠ করে দেয়। তেমন একজন মেয়ে মরিয়ম। আর দশটা ইরানি রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ের মতো তিনিও বিয়ের আগে কুমারীত্ব ধরে রাখেন। কিন্তু এতেও তার শেষ রক্ষা হয় না।  বিয়ের রাতে রক্তপাত না হওয়ায় তার স্বামী মরিয়মের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনেন।

ইরানে বিয়ের আগে কুমারীত্ব, অনেক মেয়ে ও তাদের পরিবারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা বিয়ের আগে মেয়েপক্ষের থেকে কুমারীত্বের সার্টিফিকেট দাবি করেন। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ধরনের প্র্যাকটিসকে মানবাধিকার-বিরুদ্ধ বলে মনে করে। এরই মধ্যে দেশটিতে এই প্রথা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।

অনেক ক্ষেত্রেই কুমারীত্ব ইস্যুটি ইরানের অনেক মেয়েরই জীবনকে অতিষ্ঠ করে দেয়। তেমন একজন মেয়ে মরিয়ম। আর দশটা ইরানি রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ের মতো তিনিও বিয়ের আগে কুমারীত্ব ধরে রাখেন। কিন্তু এতেও তার শেষ রক্ষা হয় না।

বিয়ের পর মরিয়ম যখন তার স্বামীর সঙ্গে প্রথমবার যৌন সম্পর্ক করেন, তখন তার রক্তপাত হয়নি। এতে স্বামীর সন্দেহ হয় এবং তিনি মরিয়মের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন।

তার মতে, বিয়ের আগে কুমারীত্ব হারানোর মতো বিষয় গোপন করে মরিয়ম তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সত্য জানলে কেউ মরিয়মকে বিয়ে করত না।

মরিয়ম তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে যদিও তার রক্তপাত হয়নি কিন্তু তিনি আগে কখনও সহবাস করেননি। কিন্তু তার স্বামী তাকে বিশ্বাস করেননি এবং তিনি কুমারীত্বের সার্টিফিকেট চেয়ে বসেন।

কুমারীত্ব পরীক্ষা নিয়ে যা হয় ইরানে
ইরানে বিয়ের আগে অনেক মেয়েই কুমারিত্ব পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়

বিষয়টি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ইরানে মোটেও এমনটা অস্বাভাবিক নয়। বাগদানের পর অনেক নারীই সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে যান। স্বামীকে দেখানোর মতো প্রমাণ জোগাড় করতে যে তারা আগে কখনই যৌনমিলন করেননি।

পরে মরিয়মের সার্টিফিকেটে লেখা হয় যে তার হাইমেনের (সতিপর্দা) ধরন ইলাস্টিক। এর মানে হলো প্রথমবার সহবাসের পর তার রক্তপাত নাও হতে পারে।

যদিও স্বামীর এই সন্দেহ মরিয়মের আত্মসম্মানে আঘাত দেয়। তার স্বামীর করা অপমান তিনি মেনে নিতে না পেরে কিছু ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

ঠিক সময়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় সে যাত্রায় তিনি বেঁচে যান।

তিনি বলেন, ‘আমি এই অন্ধকার দিনগুলো কখনই ভুলব না। সে সময় আমি প্রায় ২০ কেজি ওজন হারিয়েছিলাম।’

অনেক ইরানিই কুমারীত্ব পরীক্ষার প্রথাকে নিষ্ঠুর ভাবছেন

মরিয়মের গল্পই সত্যি বলতে ইরানের অনেক নারীর জীবনের বাস্তবতা। সমাজে প্রচলিত রক্ষণশীলতার কারণে বিয়ের আগে কুমারী থাকা ইরানি মেয়েদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও ইরানের বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কুমারীত্বের পরীক্ষার সঙ্গে একমত হতে পারছে না। সারা দেশে ইরানি নারীর পাশাপাশি পুরুষরাও এখন কুমারীত্ব পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।

গত নভেম্বরে এক অনলাইন পিটিশনে এক মাসের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কুমারীত্ব পরীক্ষার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর করেছেন। ইরানে এই প্রথম কুমারীত্ব পরীক্ষাকে এত বেশিসংখ্যক মানুষ চ্যালেঞ্জ করলেন।

কুমারীত্ব হারিয়ে নেদার জীবনে যা হলো

ইরানের এক ছাত্রী নেদা। যখন তেহরানে ছিলেন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। সে সময় তিনি তার প্রেমিকের কাছে কুমারীত্ব হারান। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার জানতে পারলে কী হবে, তা নিয়ে আমি খুবই আতঙ্কিত ছিলাম।’

পরে নেদা তার হাইমেন (সতিপর্দা) ঠিক করতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কুমারীত্ব পরীক্ষা নিয়ে যা হয় ইরানে
হাইমেন ঠিক করতে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয় ইরানে

প্রযুক্তিগতভাবে এটি অবৈধ নয়, তবে এর বিপজ্জনক সামাজিক প্রভাব রয়েছে তাই কোনো হাসপাতালও এটি করতে রাজি হচ্ছিল না।

নেদা একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের খোঁজ পেলেন, যা গোপনে তার হাইমেন ঠিক করে দেবে; কিন্তু এই জন্য তারা অনেক অর্থ দাবি করে।

নেদা বলেন, ‘আমি আমার সব সঞ্চয় খরচ করেছিলাম। আমি আমার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং আমার সোনার গয়না বিক্রি করেছিলাম। এমনকি কোনো ভুল হলে সম্পূর্ণ আমিই দায়ী থাকব এমন নথিতেও স্বাক্ষর করেছিলাম।’

একজন মিডওয়াইফ পুরো কাজটি করেন। যদিও তা করতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগলেও নেদার সুস্থ হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে।

তিনি সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি অনেক ব্যথায় ছিলাম এবং পা নাড়াতে পারতাম না।’

পুরো বিষয়টিই তিনি তার মা-বাবার কাছে গোপন করেছিলেন।

নেদা সবকিছু সহ্য করে যাওয়ার পরও দেখা গেল প্রক্রিয়াটা আসলে কাজ করেনি।

এক বছর পর এমন একজনের সঙ্গে তার দেখা হয় যিনি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন তারা যৌনতায় মিলিত হলেন, দেখা গেল রক্তপাত হয়নি।

তার প্রেমিক তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন।

নেদা বলেন, ‘সে বলেছিল আমি মিথ্যাবাদী এবং সে আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল।’

ডব্লিউএইচও বলছে, কুমারীত্ব পরীক্ষার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এটি অনৈতিকও। এর পরও ইরান ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, ইরাক ও তুরস্কে কুমারীত্ব পরীক্ষার প্রচলন রয়েছে।

যদি কোনো মেয়ে বিয়ের আগেই তার কুমারীত্ব হারায়, তাহলে সে আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। সে তার স্বামীকে ছেড়ে অন্য পুরুষের কাছে চলে যেতে পারে।

ইরানের মেডিক্যাল অর্গানাইজেশন বলছে, ধর্ষণের অভিযোগ, কোর্টের নির্দেশ এই ধরনের বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে তারা কুমারীত্ব পরীক্ষা করে থাকে।

যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কুমারীত্ব পরীক্ষা করতে আসে বিয়ে হতে যাচ্ছে এমন দম্পতি। সাধারণত মেয়েরা মায়েদের সঙ্গে এই বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে যায়।

কুমারীত্বের সার্টিফিকেটগুলোতে গাইনোকোলজিস্ট বা মিডওয়াইফের স্বাক্ষর থাকে। এই সার্টিফিকেটে হাইমেনের অবস্থার বিবরণ থাকে এবং মন্তব্যে বলা হয়, ‘এই নারী সম্ভবত একজন কুমারী।’

যা বলেছেন গাইনোকোলজিস্ট ড. ফাবিয়া

গাইনোকোলজিস্ট ড. ফাবিয়া বেশ কয়েক বছর ধরেই কুমারীত্বের সার্টিফিকেট ইস্যু করে আসছেন। তিনি স্বীকার করেন যে এটি একটি অপমানজনক প্রথা।

কিন্তু তিনি দাবি করেন, তিনি মেয়েদের সাহায্য করছেন।

তিনি বলেন, তারা পরিবারের পক্ষ থেকে চাপে থাকে। আমি মাঝেমধ্যেই নতুন দম্পতির জন্য মৌখিকভাবে মিথ্যা কথা বলি। তারা যদি আগেই একসঙ্গে সময় কাটায় এবং বিয়ে করতে চায়। আমি তাদের পরিবারের সামনেই বলি, মেয়েটা কুমারী।

রক্ষণশীল পুরুষরা কুমারীত্ব পরীক্ষা নিয়ে যা ভাবছেন

যদিও ইরানের অনেক পুরুষই মনে করেন, কুমারী মেয়েই বিয়ে করা উচিত।

দেশটির সিরাজ শহরে ৩৪ বছর বয়সী ইলেকট্রিশিয়ান আলি বলেন, ‘যদি কোনো মেয়ে বিয়ের আগেই তার কুমারীত্ব হারায়, তাহলে সে আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। সে তার স্বামীকে ছেড়ে অন্য পুরুষের কাছে চলে যেতে পারে।’

যদিও আলি নিজেই ১০ জন নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছেন।

আলি ইরানি সমাজের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, প্রথা ভাঙার দরকার নেই।

‘সামাজিক রীতি নারীদের থেকে পুরুষের বেশি স্বাধীনতার বিষয়টি মেনে নেয়।’

আলির এই দৃষ্টিভঙ্গি ইরানের অনেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। বিশেষ করে ইরানের গ্রাম ও রক্ষণশীল অঞ্চলগুলোতে।

পরে যা হয়েছে মরিয়মের জীবনে

চার বছর আগে আত্মহত্যার চেষ্টা করা মরিয়ম অবশেষে কোর্টের মাধ্যমে তার স্বামীর সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদ করতে পেরেছেন। কয়েক সপ্তাহ হয়েছে তিনি এখন সিঙ্গেল।

তিনি বলেন, আবারও একজন পুরুষকে বিশ্বাস করা কঠিন।

নিকট ভবিষ্যতে তিনি নিজেকে বিবাহিত দেখতে চান না।

হাজারও নারীর মতো কুমারীত্ব সার্টিফিকেটের বিরোধিতা করে মরিয়মও পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন।

যদিও তিনি মনে করেন না খুব শিগগির কোনো পরিবর্তন আসবে। হয়তো তার জীবদ্দশায় আসবে না। কিন্তু এর পরও তিনি আসা করেন, কোনো একদিন তার দেশে নারী আরও কিছুটা বেশি সমানাধিকার পাবে।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি কোনো একদিন এমনটা হবে। কোনো মেয়েই আমার মতো পরিস্থিতি দিয়ে যেতে হবে না।’

[বিবিসির প্রতিবেদনের আলোকে লেখা। পরিচয়ের সুরক্ষার জন্য এখানে সবকটি নামকেই পরিবর্তন করেছে বিবিসি।]

আরও পড়ুন:
শিরোপা খরা কাটল ইংল্যান্ডের
স্বামী হত্যায় ইরানে ৩ নারীর মৃত্যুদণ্ড
দেশে ভাসমান জনসংখ্যার অধিকাংশই পুরুষ
‘ইরানে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল’
ইসরায়েলের হামলা প্রতিরোধের দাবি ইরানের

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
A call to use transgender people for the development of the country
শোক দিবস

দেশের উন্নয়নে ট্রান্সজেন্ডারদের কাজে লাগানোর আহ্বান

দেশের উন্নয়নে ট্রান্সজেন্ডারদের কাজে লাগানোর আহ্বান জাতীয় শোক দিবসে রাজধানীর মিরপুরে পাথওয়ের প্রধান কার্যালয়ের কাছে র‍্যালির আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
রাজধানীর মিরপুরে পাথওয়ের প্রধান কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ১৫ আগস্টে তার পরিবারের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে আলোচনা সভা ও শিশুদের মাঝে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছেন দুই শতাধিক ট্রান্সজেন্ডার। এ সময় দেশের সব ধরনের উন্নয়ন কাজে টান্সজেন্ডারের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পাথওয়ের সহযোগিতায় নানা আনুষ্ঠানিকতায় দিবসটি পালন করেন তারা।

সোমবার রাজধানীর মিরপুরে পাথওয়ের প্রধান কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ১৫ আগস্টে তার পরিবারের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে আলোচনা সভা ও শিশুদের মাঝে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

এছাড়াও গণভোজ এবং ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ট্রান্সজেন্ডার কান্তা বলেন, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে সমাজে এতো অবহেলিত হয়ে থাকতে হতো না। সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে দেশের উন্নয়নে আমাদেরকেও কাজ করার সুযোগ করে দিতেন। তার ৪৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ ট্রান্সজেন্ডারদের কর্মস্থানে সরকার প্রধানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও এগিয়ে আসবে।’

আলোচনা সভায় পাথওয়ের নিবার্হী পরিচালক মো. শাহিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলস্রোতে সংযুক্ত করতে হবে।’

এ সময় তিনি অবহেলিত ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি পরিবার, সমাজ, ও নিকট আত্মীয় সকলকে সর্বদাই ভাল ব্যবহার, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিয়ে তাদের প্রতি সৌহাদ্যপূর্ণ আচরণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান এবং অন্যান্য যে সকল মৌলিক অধিকার রয়েছে সেদিকে নজর দেয়ার কথা বলেন।

তাদেরকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করে কর্মক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করে রাষ্ট্রের সকল উন্নয়নমূলক কাজে লাগানোর আহবান জানান তিনি।

দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ, সমাজসেবা অফিসার (অঞ্চল-৬) কে এম শহিদুজ্জামান, পাথওয়ের চেয়ারম্যান রইজুর রহমান, উপদেষ্টা সাদ্দাম হোসেন ফয়েজসহ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
অসাম্প্রদায়িক-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে বঙ্গবন্ধু চর্চা বাড়ানোর আহ্বান
শোক দিবসে ক্রিকেটারদের শ্রদ্ধা
‘এসডিজি-এমডিজির দেখা মেলে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা, শিল্প, রাষ্ট্রনীতিতে’
জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় জাদুঘরে শোক দিবসের আলোচনা সভা আজ

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Taliban beat women protestors

বিক্ষোভকারী নারীদের পেটাল তালেবান

বিক্ষোভকারী নারীদের পেটাল তালেবান আফগানিস্তানে কর্মের অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ করেন নারীরা। ছবি: এএফপি
কাবুলে বিক্ষোভকারী নারীদের কয়েকজন বিক্ষোভস্থলের আশপাশের দোকানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের ধরে এনে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়েছেন তালেবান যোদ্ধারা।

আফগানিস্তানে তালেবানের ফের ক্ষমতায় আসার বার্ষিকীর দুই দিন আগে কর্মের অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা।

স্থানীয় সময় শনিবার রাজধানী কাবুলে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়, যেটি লাঠিপেটা ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় তালেবান।

কাবুলে প্রবেশের মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানে ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পর থেকে শিক্ষা, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের ওপর বিধিনিষেধ দেয় সংগঠনটি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, তালেবান শাসনের প্রথম বর্ষপূতির প্রাক্কালে কাবুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে সমাবেশে অংশ নেন প্রায় ৪০ নারী, যাদের মুখে ছিল ‘রুটি, কাজ ও স্বাধীনতা’ স্লোগান।

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় এসে তালেবান নারীদের স্বাধীনতা রক্ষায় কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেগুলো রক্ষা না করে হাই স্কুলের মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারী নারীদের কয়েকজন বিক্ষোভস্থলের আশপাশের দোকানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের ধরে এনে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়েছেন তালেবান যোদ্ধারা।

বিক্ষোভকারীরা চাকরির অধিকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগও চেয়েছেন। তারা ‘১৫ আগস্ট কালো দিবস’ লেখা ব্যানারকে সামনে রেখেছিলেন।

ওই নারীদের অনেকে মুখ ঢাকা বোরকা পরেননি। তারা ‘ন্যায়বিচার, ন্যায়বিচার; আমরা অজ্ঞতা নিয়ে বিরক্ত’ স্লোগানও দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজকদের একজন জোলিয়া পার্সি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে গোয়েন্দা সংস্থার তালেবান সদস্যরা (বিক্ষোভস্থলে) এসে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।’

আরও পড়ুন:
ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তালেবান নিহত
মেয়েদের স্কুল খোলার আহ্বান আফগানদের
আফগানিস্তানে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠাল বাংলাদেশ
আফগানিস্তানে খাবার, ওষুধ, কম্বল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
প্রকাশ্যে তালেবানের নেতা আখুন্দজাদা

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
In the movies of the country the perno issue is the problem of womens polyurinary toilet

দেশের সিনেমায় পার্নো, বিষয় নারীর বহুমূত্র-শৌচাগার সমস্যা

দেশের সিনেমায় পার্নো, বিষয় নারীর বহুমূত্র-শৌচাগার সমস্যা ‘সুনেত্রা সুন্দরম’ সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত
গল্পের ধারণা দিয়ে সেখানে বলা হচ্ছে, গল্প আবর্তিত হয়েছে এক নারী স্কলারকে নিয়ে। তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। ফলে তার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয় ঘন ঘন। চেষ্টা করলেও চেপে রাখতে পারেন না।

সিনেমার নাম সুনেত্রা সুন্দরম। এর পরিচালক কলকাতার শিবরাম শর্মা, প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী কলকাতার পার্নো মিত্র। তবে সিনেমাটি বাংলাদেশের। বিডি বক্স প্রোডাকশনের ব্যানারে সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন মাহমুদুর রহমান।

প্রযোজক নিউজবাংলাকে জানান, সুনেত্রা সুন্দরম বাংলাদেশের সিনেমা। এর দৃশ্যধারণ এখনও শুরু হয়নি। প্রথমে বাংলাদেশে হবে সিনেমার শুটিং, এরপর কলকাতাতেও শুটিংয়ের পরিকল্পনা আছে।

সিনেমাটি বাংলাদেশের, কিন্তু নির্মাতা, প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পীরা কলকাতার কেন জানতে চাইলে প্রযোজক বলেন, ‘আমরা সিনেমাটিতে অভিনেত্রী মমকে কাস্ট করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার শিডিউল পাওয়া যায়নি।

‘আর নির্মাতা শিবরামকে নেয়ার কারণ হলো, তার সঙ্গে আমি আমার ভাবনা শেয়ার করেছিলাম। তিনি আমাকে যে গল্প ও চিত্রনাট্য করে দিয়েছেন, তাতে আমি খুশি। তার একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা আমি দেখেছিলাম। সেটিও আমার ভালো লেগেছে।’

দেশের সিনেমায় পার্নো, বিষয় নারীর বহুমূত্র-শৌচাগার সমস্যা
সোমরাজ মাইতি ও পার্নো মিত্র। ছবি: সংগৃহীত

সুনেত্রা সুন্দরম সিনেমার দৃশ্যধারণ এখনও শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং এফডিসিতে সিনেমাটির কাজের জন্য আবেদন করা আছে বলে জানান মাহমুদুর রহমান।

সিনেমাটি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২৩ মার্চে কলকাতায় শুরু হয়েছে সিনেমার শুটিং।

গল্পের ধারণা দিয়ে সেখানে বলা হচ্ছে, গল্প আবর্তিত হয়েছে এক নারী স্কলারকে নিয়ে। তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। ফলে তার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয় ঘন ঘন। চেষ্টা করলেও চেপে রাখতে পারেন না।

সমস্যা হয় তখন, যখন অনেক জায়গায় অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায় না। এমন একটি সামাজিক অবস্থা নিয়ে এগিয়ে যায় সিনেমা।

সিনেমায় সুনেত্রা চরিত্রে অভিনয় করছেন পার্নো মিত্র। তার বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেতা সোমরাজ মাইতিকে। আরও আছেন রূপাঞ্জনা মিত্রসহ বাংলাদেশের কয়েকজন শিল্পী।

প্রযোজকের এটিই প্রথম সিনেমা নয়। এর আগে কানামাছি নামের একটি সিনেমা তিনি প্রযোজনা করেছেন। তার পরিকল্পনা দুটি সিনেমা পরপর মুক্তি দেয়ার।

অন্যদিকে নির্মাতা শিবরাম শর্মা মূলত কোরিওগ্রাফার। দেশের সিনেমা ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণে তিনি কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন:
হাশিম দেখলেন ‘হাওয়া’, ঘুরলেন চারুকলা
‘হাওয়া’ এক নতুন সাহস, দ্বিতীয় সিনেমায় ব্যস্ত হবেন সুমন
‘প্রত্যাশিত সেল হলে পরাণের মুনাফায় ৫টি সিনেমা নির্মাণ সম্ভব’
বিদেশেও হাউসফুল হতে শুরু করেছে ‘হাওয়া’
সিনেমা হলে ফিরছে ব্ল্যাকে টিকিটের দিন!

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Bangamata Medal in the hands of 5 women

৫ নারীর হাতে বঙ্গমাতা পদক

৫ নারীর হাতে বঙ্গমাতা পদক বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বঙ্গমাতা পদক তুলে দেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সোমবার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক দেয়া হয়েছে পাঁচ নারীকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এ পদক তুলে দেন।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সোমবার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাজনীতিতে সৈয়দা জেবুন্নেসা হক (সিলেট), অর্থনীতিতে সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ (কুমিল্লা), শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি নাসরীন আহমাদ, সমাজসেবায় আছিয়া আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে গোপালগঞ্জ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য (মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার) এ পদক পান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু সেনা সদস্যের নির্মম হামলায় বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শহীদ হন তিনি। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন
নগদের মাধ্যমে ২ হাজার নারীকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেরণা বঙ্গমাতা: ঢাবি উপাচার্য
প্রাণভিক্ষা না চেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন বঙ্গমাতা
বঙ্গমাতা পদক পেলেন ৫ নারী

মন্তব্য

p
উপরে