× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
Bride at grooms house to get married
hear-news
player
print-icon

বিয়ে করতে বরের বাড়িতে কনে

বিয়ে-করতে-বরের-বাড়িতে-কনে
কনে ইতি সেলিনা ও বর এমএ মালিক। ছবি: নিউজবাংলা
কনে ইতি সেলিনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ শাসিত সমাজের রীতি ভেঙে বরের বাড়িতে এসে বিয়ে করেছি। সমাজে নারীদের প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আমার এই বিয়ে ওই নির্যাতনের প্রতিবাদ।’

কনের বাড়িতে বিয়ে করতে যান বর, এমন রীতি চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। চিরাচরিত সেই রীতি ভেঙে এবার কনে বিয়ে করতে গেছেন বরের বাড়িতে। ব্যতিক্রম এ ঘটনা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের।

উপজেলা অফিসপাড়ার কনে ইতি সেলিনা তার পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের নিয়ে বুধবার হাজির হন মনোহরপুর গ্রামে বর এম এ মালিকের বাড়িতে। মালিক ঢাকায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদকর্মী।

বরের বাড়িতে এদিন দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সুসজ্জিত মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এসেছে কনেপক্ষ। প্রথানুযায়ী ফুল আর মিষ্টিমুখ করিয়ে কনেকে বরণ করে নেয় বরপক্ষ।


বিয়ে করতে বরের বাড়িতে কনে


এরপর কনেকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়া হয় বিয়েমঞ্চে। বরকে বসানো হয় সেখানে। ধর্মীয় বিধান মেনে বিয়ে হয় তাদের। পরে বরের বাড়িতে থেকে যান কনে।

কনে ইতি সেলিনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ শাসিত সমাজের রীতি ভেঙে বরের বাড়িতে এসে বিয়ে করেছি। সমাজে নারীদের প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আমার এই বিয়ে ওই নির্যাতনের প্রতিবাদ।’

বর এম এ মালিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নারী-পুরুষ সম-অধিকারে বিশ্বাসী। আমাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে কনে আমার বাড়িতে এসেছে। বিয়ে করেছি আমরা। আমি মনে করি, এতে কিছু হলেও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’

৫ লাখ টাকা দেনমোহরে চার হাত এক হয় ইতি-মালিকের। এই বিয়েতে কনেযাত্রী ছিলেন ৩০ জন।

আরও পড়ুন:
নিজেকে বিয়ে করে ৩ মাস পর তালাক
পাত্রকে কনের অন্তঃসত্ত্বার জাল সনদ পাঠিয়ে আটক ৩
বিয়ের দাবি নিয়ে সহপাঠীর বাড়িতে কলেজছাত্রী
সাবেক স্ত্রীর বিয়েতে বোমা হামলা, আটক ২
বউ ফেরাতে আদালতে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Bangamata Medal in the hands of 5 women

৫ নারীর হাতে বঙ্গমাতা পদক

৫ নারীর হাতে বঙ্গমাতা পদক বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বঙ্গমাতা পদক তুলে দেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সোমবার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক দেয়া হয়েছে পাঁচ নারীকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এ পদক তুলে দেন।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সোমবার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাজনীতিতে সৈয়দা জেবুন্নেসা হক (সিলেট), অর্থনীতিতে সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ (কুমিল্লা), শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি নাসরীন আহমাদ, সমাজসেবায় আছিয়া আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে গোপালগঞ্জ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য (মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার) এ পদক পান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু সেনা সদস্যের নির্মম হামলায় বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শহীদ হন তিনি। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
কলকাতায় বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন
নগদের মাধ্যমে ২ হাজার নারীকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেরণা বঙ্গমাতা: ঢাবি উপাচার্য
প্রাণভিক্ষা না চেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন বঙ্গমাতা
বঙ্গমাতা পদক পেলেন ৫ নারী

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Banga Matas 92nd birth anniversary today

বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ

বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাধিক লেখনীতে বাঙালির গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নেপথ্য ভূমিকা উঠে এসেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে নীরব সমর্থন, শক্ত হাতে সংসার মোকাবেলা এবং সন্তানদের মানুষ করার পাশাপাশি তিনি বঙ্গবন্ধুকে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা, বাঙালির স্বাধীনতার লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনে নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ, ৮ আগস্ট। ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়েছিলেন মহীয়সী এই নারী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাধিক লেখনীতে বাঙালির গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নেপথ্য ভূমিকা উঠে এসেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে নীরব সমর্থন, শক্ত হাতে সংসার মোকাবেলা এবং সন্তানদের মানুষ করার পাশাপাশি তিনি বঙ্গবন্ধুকে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

স্বামীর জেল-জুলুম এমনকি ফাঁসি হতে পারে জেনেও তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেননি। বরং ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার বার্তা দলের নেতাকর্মীদের পৌঁছে দিতেন তিনি। ক্ষেত্রবিশেষে নেতাকর্মীদের পরামর্শ এমনকি সিদ্ধান্তও দিয়েছেন অকুতোভয় এই নারী। বলা হয়ে থাকে, শেখ মুজিব দীর্ঘ আপোষহীন লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে শুধু বাঙালি জাতির পিতা নন, বিশ্ববরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন তারই প্রেরণায়।

বঙ্গবন্ধুর পুরো রাজনৈতিক জীবনে ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন বেগম মুজিব। বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয়-দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বারে বারে পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি, তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বঙ্গমাতার কাছে ছুটে আসতেন। তিনি তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা বুঝিয়ে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাতেন।

আগরতলা যড়যন্ত্র মামলায় প্যারোলে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি নিয়ে একটি কুচক্রী মহল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। তখন প্যারোলে মুক্তির বিপক্ষে বেগম মুজিবের দৃঢ়চেতা অবস্থান বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল। তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

এই মহীয়সী নারী পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সপরিবারে খুনি চক্রের নির্মম বুলেটের আঘাতে শহীদ হন।

কর্মসূচি

বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে সকাল ১১টায় জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মিলনায়তনে ‘বাঙালির গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তি সংগ্রামের নেপথ্যের সংগঠক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ।

এছাড়াও বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে আরও দুটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর একটির আয়োজনে রয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

অপর আলোচনা সভাটি হবে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু।

এদিকে মহিলা লীগের উদ্যোগে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিনে অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বিকালে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সব সংগ্রামে সাহস জুগিয়েছেন বঙ্গমাতা
বঙ্গমাতার স্মরণে ঢাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন
কলকাতায় বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন
নগদের মাধ্যমে ২ হাজার নারীকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেরণা বঙ্গমাতা: ঢাবি উপাচার্য

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
5 policemen were transferred for walking on the ramp

র‍্যাম্পে হাঁটায় বদলি ৫ পুলিশ সদস্য

র‍্যাম্পে হাঁটায় বদলি ৫ পুলিশ সদস্য গত রোববার মায়িলাদুথুরাই জেলার সেম্বানারকোভিল এলাকায় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সময় র‍্যাম্পে হাঁটেন পাঁচ পুলিশকর্মী। ছবি: সংগৃহীত
গত রোববার মায়িলাদুথুরাই জেলার সেম্বানারকোভিল এলাকায় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সময় র‍্যাম্পে হাঁটেন পাঁচ পুলিশ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা চলাকালে র‍্যাম্পে হাঁটায় বদলি করা হয়েছে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে।

স্থানীয় সময় রোববার তামিলনাড়ুতে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সময় পুলিশের পোশাক পরেই র‍্যাম্পে হাঁটেন তারা। এদের মধ্যে রয়েছেন দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী সদস্য।

শুক্রবার তাদের বদলির আদেশ পাঠান নাগাপত্তিনাম পুলিশ সুপার জাওয়াগার। আদেশে বলা হয়, ‘পুলিশের পোশাক পরে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বদলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

গত রোববার মায়িলাদুথুরাই জেলার সেম্বানারকোভিল এলাকায় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করে একটি বেসরকারি সংস্থা। অভিনেত্রী ইয়াশিকা আনন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

ওই অনুষ্ঠানে র‍্যাম্পে হাঁটেন পাঁচ পুলিশ সদস্য। এ খবরে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর পরই রেণুকা, অশ্বিনী, নিত্যশিলা, শিবানেসান ও স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্পেক্টর সুব্রহ্মণ্যনিয়ানকে বদলির নির্দেশ দিয়েছেন নাগাপত্তিনাম জেলা পুলিশ সুপার।

তবে ওই পুলিশ সদস্যরা প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করে অংশ নিয়েছেন নাকি শুধু র‍্যাম্পে হেঁটেছেন সেটি স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
A fan of Margaret Thatcher is potential Prime Minister Liz Truss

লিজ ট্রাসে থ্যাচারের ছায়া

লিজ ট্রাসে থ্যাচারের ছায়া মার্গারেট থ্যাচার (বাঁয়ে) এবং লিজ ট্রাস
ইউগোভ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩১ শতাংশ সুনাককে ভোট দেয়ার পক্ষে; যেখানে ৪৯ শতাংশ ট্রাসকে ভোট দেয়ার পরিকল্পনা করেছে৷

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে কনজারভেটিভ পার্টি ডানপন্থি রাজনীতিবিদ লিজ ট্রাস। ৪৭ বছর বয়সী ট্রাস পার্লামেন্টে আসেন ২০১০ সালে। চার বছর এমপি পদে থাকার পর মন্ত্রিসভায় স্থান করে নেন ট্রাস। দায়িত্ব পালন করেন ডেভিড ক্যামেরন সরকারের পরিবেশ, খাদ্য এবং গ্রামীণবিষয়ক সচিব হিসেবে।

পরে টেরিজা মে সরকারেও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন ট্রাস। ২০২১ সালে হন পররাষ্ট্র সচিব।

ট্রাস অবশ্য শুরু থেকেই রক্ষণশীল ছিলেন না। বামপন্থি মা-বাবার কাছে তার বেড়ে ওঠা। ছিলেন মধ্যপন্থি লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের কিশোরী সদস্য। মাত্র ১৯ বছর বয়সে রাজতন্ত্রের বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিটিশ রাজনীতির লেকচারার ডেভিড জেফরি বলেন, বর্তমানে ট্রাস যে পার্টি করছেন (কনজারভেটিভ) তা সহজাত স্বাধীন মুক্তবাণিজ্যকে সমর্থন করে না। এটা আসলে অসমতা কমানোর লক্ষ্যে জনসন কর্তৃক প্রচারিত একটি নীতিকে নির্দেশ করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ নিয়ে ২০১৬ সালের জুনে হওয়া গণভোটে বরিস জনসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। ট্রাস চাইছিলেন ব্লকে থেকে যেতে।

জেফরি বলেন, ‘তিনি (ট্রাস) গণভোটে “রয়ে যাওয়া” সমর্থন করেছিলেন। এ অবস্থানে তার দৃঢ়-ত্যাগী রাজনীতিবিদের তকমা জুটেছিল।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ট্রাসের কাজ অপ্রীতিকর ছিল বলে মনে করেন ডেভিড জেফরি।

তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে ট্রাসের কার্যকাল বেশ কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি একজন অত্যন্ত সক্রিয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচিব ছিলেন। তবে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে তাকে বিবর্ণ মনে হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেসের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছিলেন।’

প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষি সুনাকের তুলনায় ট্রাস মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের মধ্যে ছিলেন, যারা এ মাসের শুরুতে জনসনের প্রতি অনুগত ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সে সময় দলীয় বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

এতে এটা স্পষ্ট যে আনুগত্যের জন্য দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন ট্রাস। নতুন প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এই আনুগত্য বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্রাস ওয়ালেসসহ শীর্ষস্থানীয় রক্ষণশীল রাজনীতিবিদদের সমর্থন পাচ্ছেন। এমনকি তাকে সমর্থন দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলা টম টুগেনধাতও।

কিছু দিনের মধ্যেই জনসনের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা।

ইউগোভ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩১ শতাংশ সুনাককে ভোট দেয়ার পক্ষে; যেখানে ৪৯ শতাংশ ট্রাসকে ভোট দেয়ার পরিকল্পনা করেছে৷

এখানে একজনের জয় অনেকটা নিশ্চিত মনে হচ্ছে। তবে এখনই কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির সিনিয়র লেকচারার অ্যালান কনভারি।

তিনি বলেন, ‘তিনি (ট্রাস) শক্তিশালী অবস্থান থেকে শুরু করেছেন। কনজারভেটিভ সদস্যদের মতামত জরিপ দেখায়, তিনি এগিয়ে আছেন। যা-ই হোক, তাকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। সদস্যপদে আবেদন করার জন্য সুনাক তার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।’

পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে ট্রাস আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকাকে শক্তিশালী করার জন্য ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ প্রচার করেছিলেন।

২০২১ সালে ট্রাস চ্যাথাম হাউসে একটি বক্তৃতার সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে তার বোঝার রূপরেখা দিয়েছিলেন। রাশিয়া ও চীনের মতো স্বাধীনতা এবং স্বৈরাচারী শাসনের মধ্যে একটি আদর্শিক লড়াইকে চিহ্নিত করেছিলেন।

ট্রাস ১১টি প্রশান্ত মহাসাগরীয় রাজ্যের মধ্যে ব্যাপক ও প্রগতিশীল বাণিজ্য চুক্তিকে (সিপিটিপিএ) সামনে এনেছেন, যেটিকে তিনি চীনের বিরুদ্ধে একটি বাধা হিসেবে বিবেচনা করেন। জানিয়েছিলেন, লন্ডনের এতে যোগ দেওয়া উচিত।

ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে বলেছিল, ট্রাস আসলে থ্যাচারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছেন। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের প্রশংসা করতে কখনই ক্লান্ত হতে দেখা যায়নি ট্রাসকে।

কয়েক মাস ধরে ট্রাস ব্রিটিশদের পেশাদারভাবে স্টাইল করা ফটো দিয়ে বিনোদন দিচ্ছেন, যা প্রায় থ্যাচারের মুহূর্তগুলোর কার্বন কপি। যেমন যখন তিনি মস্কো গিয়েছিলেন, তখন একটি লম্বা কোট এবং পশমের টুপি পরেছিলেন, ঠিক ৩৫ বছর আগে থ্যাচার যেমনটা করেছিলেন।

ট্রাস ৩০ বিলিয়ন পাউন্ড (৩৭ বিলিয়ন ডলার) ট্যাক্স কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন অনেকটা থ্যাচারের মতো। থ্যাচার ১৯৮০-এর দশকে ব্যক্তিগত আয়কর কমিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় অবিলম্বে পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ট্রাসের মতে, এই পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতিকে লাগাম টেনে ধরতে পারবে।

‘ট্রুসোনোমিকস’ হলো ট্রাসের প্রস্তাবের জন্য ব্যবহৃত শব্দ। সরবরাহ-সদৃশ অর্থনীতির তার নিজস্ব সংস্করণ। এটা থ্যাচারের অর্থনৈতিক নীতির একটি মূল বৈশিষ্ট্য।

ট্রাসের পরিকল্পনার মধ্যে আছে করপোরেট আয়করের পরিকল্পিত বৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং সামাজিক নিরাপত্তা হারের সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকে ফিরিয়ে আনা। সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে ‘পরিচয়ের রাজনীতির’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ট্রাস।

জেফরি বলেন, ‘কোনো প্রশ্নই নেই যে ট্রাস মাঝেমধ্যে নিজেকে থ্যাচার মনে করেন। থ্যাচারের একটি পরিষ্কার ধারণা ছিল যে তিনি দেশটিকে কেমন দেখতে চান। তবে এটি স্পষ্ট নয় যে ট্রাসের দৃষ্টিভঙ্গি একই।’

থ্যাচার ছাড়াও বরিস জনসন-পরবর্তী ধারাবাহিকতাও মেনে চলতে চান ট্রাস। বিশেষ করে ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত ইস্যুগুলো।

তবে যখন তাকে ব্লকের সঙ্গে কঠিন আলোচক হিসেবে দেখা যায়, তখন মনে হয় এ ইস্যুতে সমস্যার সমাধানে তিনি আগ্রহী না।

২০১৭ সালে তার ইউ-টার্ন (প্রো-রেমেন থেকে প্রো-লিভ পর্যন্ত) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাস জানিয়েছিলেন, ‘বড় বড় অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়নি। সেই সুযোগগুলো খুঁজছি।’

ট্রাস ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুনাকের চেয়ে জনসনের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছেন মিনিস্টার ফর ব্রেক্সিট অপরচুনিটি অ্যান্ড গভর্মেন্ট অ্যাফইসিএন্সি কনভারি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তিনি (ট্রাস) ডাউনিং স্ট্রিট অপারেশনে জনসন-যুগের আনফোর্সড ত্রুটিগুলো দূর করতে চাইবেন। ব্রাসেলসকেও সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করবেন। যা-ই হোক, যদি তিনি ট্যাক্স কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন, তবে অর্থনৈতিক মন্দাও কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে।’

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
First Hindu woman Deputy Superintendent of Police in Pakistan

পাকিস্তানে প্রথম হিন্দু নারী ডেপুটি পুলিশ সুপার

পাকিস্তানে প্রথম হিন্দু নারী ডেপুটি পুলিশ সুপার পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু নারী ডিএসপি মনীষা রোপেতা। ছবি: টুইটার
সিন্ধুর জ্যাকবাবাদের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মনীষা। তিনি ২০২১ সালের এপ্রিলে সিন্ধু পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদের জন্য মনোনীত হন।

পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু নারী হিসেবে ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিএসপি) পদে যোগ দিয়েছেন মনীষা রোপেতা।

দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিন্ধুর জ্যাকবাবাদের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মনীষা। তিনি ২০২১ সালের এপ্রিলে সিন্ধু পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদের জন্য মনোনীত হন।

তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ওই পরীক্ষায় বসার আগে সিন্ধুর খায়েরপুরে শাহ আবদুল লতিফ ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে এম এ করেন মনীষা। তিনি জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল সেন্টার থেকে ডক্টর অফ ফিজিক্যাল থেরাপি (ডিপিটি) ডিগ্রি নেন।

মনীষা কবে ডিএসপি পদে যোগ দিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে।

ডিএসপি হিসেবে যোগ দেয়ার বিষয়ে ওই নারী সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘অধিকাংশ মেয়ে নিজে থেকে অথবা পারিবারিক বাধ্যবাধকতার কারণে চিকিৎসক হতে চায়। এটা তাদের জন্য চরম বাস্তবতা। আমি নারীবান্ধব পেশার এই রীতি ভাঙতে চেয়েছিলাম।’

করাচির অন্যতম প্রাচীন এলাকা লিয়ারিতে প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় মনীষাকে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যারিয়ারের প্রাথমিক দিনগুলো পার করছি। সমাজে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে আমাকে।’

এ পর্যায়ে আসার জন্য সবচেয়ে বড় কৃতিত্বটা বাবাকে দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এ পুলিশ কর্মকর্তা। হাসিমুখে তিনি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করতে সব সময়ের অনুপ্রেরণা তিনি (বাবা)।’

পাকিস্তানে শিক্ষা নিতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় মেয়েদের। ক্যারিয়ারের ইচ্ছাপূরণে বড় ধরনের সুযোগ দেখে না হিন্দু মেয়েরা। এমন বাস্তবতায় পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে মনীষার নিয়োগ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন:
গল টেস্টে পিছিয়ে পাকিস্তান
জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি: ডনের নিবন্ধ
শ্রীলঙ্কার মতো পাকিস্তানও কি দেউলিয়ার পথে?
বিতর্কিত পতাকা সরাল পাকিস্তান দূতাবাস, অনিচ্ছাকৃত ভাবছেন মোমেন
শেষ টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন শাহীন আফ্রিদি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Letter written in blood asking for justice for mothers murder

মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে রক্তে লেখা চিঠি

মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে রক্তে লেখা চিঠি
ঘটনার ৬ বছর পর গত বুধবার উত্তর প্রদেশের এক আদালত মামলার রায় দেয়। দুই মেয়ের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় বিচারক তাদের বাবা মনোজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরে বাবা-মা আর ছোট বোনকে নিয়ে ভালোই কাটছিল লতিকা বানসালের। তবে ২০১৬ সালের ১৪ জুনের সকাল পাল্টে দেয় দুই বোনের জীবন। এদিন চোখের সামনে মা অনু বানসালকে আগুনে পুড়ে মরে যেতে দেখে তারা। নির্মম এ ঘটনা ঘটান তাদের বাবা মনোজ বানসাল।

কেরোসিন ঢেলে স্ত্রীর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন মনোজ। যন্ত্রণায় ছটফট করা অনুর চিৎকার হয়তো পৌঁছায়নি কোথাও। চোখের সামনে মাকে পুড়তে দেখলেও কিছুই করতে পারেনি ১৫ বছরের লতিকা ও তার ১১ বছরের বোন। কারণ তাদের ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন বাবা মনোজ।

আদালতে লতিফা ও তার বোন বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৬টায় মায়ের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায়। আমরা তাকে সাহায্য করতে পারিনি। কারণ ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা মারা ছিল। আমরা তাকে পুড়ে মরতে দেখেছি।’

লতিকা বলেন, ‘স্থানীয় পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় ফোন করলেও তারা কেউ সাড়া দেয়নি। পরে আমার মামা ও নানীকে ডেকে আনি। তাদের সাহায্যে মাকে হাসপাতালে নিই।’

চিকিৎসক ভাষ্য ছিল, অনু বানসালের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ক’দিন পর হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় মামলা হলেও বিষয়টি আলোচনায় আসে লতিকার একটি উদ্যোগে। ন্যায়বিচার চেয়ে ১৫ বছরের লতিকা নিজের রক্ত দিয়ে চিঠি লেখেন উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে। সেখানে লতিকা লেখেন, পুলিশ হত্যা মামলাটিকে আত্মহত্যায় পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে।

সঠিক তদন্ত না করার জন্য স্থানীয় মামলার তদন্তকর্মকর্তাকে তখন বরখাস্ত করা হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মামলাটি তদারকি করার নির্দেশ দেন যাদব।

মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে রক্তে লেখা চিঠি
ছেলে সন্তান জন্ম না দিতে পারায় স্বামীর হাতে খুন হন অনু বানসাল। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার ৬ বছর পর গত বুধবার উত্তর প্রদেশের এক আদালত মামলার রায় দেয়। দুই মেয়ের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় বিচারক মনোজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মেয়েরা আদালতে জানায়, তাদের বাবা ‘ছেলে জন্ম না দেয়ার জন্য’ তাদের মাকে মারধর করতেন।

আদালতে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন মনোজ। দাবি করেছিলেন, গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করেন তার স্ত্রী।

দুই পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে বুলন্দশহরের আদালত মনোজকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে বলা হয়, ছেলে সন্তান জন্ম না দিতে পারায় স্ত্রীকে খুন করেছেন মনোজ। তার অপরাধ প্রমাণিত।

বংশরক্ষায় ছেলে সন্তান থাকতে হবে এমন গোঁড়ামি ভারতের অন্য প্রদেশগুলোর তুলনায় উত্তর প্রদেশে বেশি।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই বিশ্বাসের কারণে কন্যা সন্তানের প্রতি অবহেলা, দুর্ব্যবহার এবং লিঙ্গ বৈষ্যম প্রবল হয়ে ওঠে। গর্ভপাতের মাধ্যমে লাখ লাখ ভ্রূণ হত্যার পেছনে কাজ করে এই বিশ্বাস।

বিচার চলাকালীন বানসাল বোনেরা আদালতে বলেন, ‘কেবল কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় মাকে কটূক্তি ও লাঞ্চনার শিকার হতে হতো। আমরা এসব দেখেই বড় হয়েছি। কন্য সন্তান আসছে খবর পেলেই গর্ভপাত করানো হতো। ছয়’বার এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে মা।’

মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে রক্তে লেখা চিঠি
আইনজীবী সঞ্জয় শর্মার পাশে লতিকা। ছবি: সংগৃহীত

বোনদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী সঞ্জয় শর্মা বলেন, ‘অবশেষে বিচার পেতে আমাদের ছয় বছর, এক মাস এবং ১৩ দিন লেগেছে।

‘নিজের বাবার বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে অবশেষে ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি বিরল দৃষ্টান্ত এটি। গত ছয় বছরে মেয়েরা একশ বারের বেশি আদালতে হাজির হয়েছে। একটি তারিখও মিস করেনি তারা।’

এ মামলায় কোনো টাকা-পয়সা নেননি জানিয়ে আইনজীবী সঞ্জয় বলেন, ‘তারা আসলে টাকা দেয়ার মতো অবস্থায় ছিল না। আর আমি এমনিতেই এসব ইস্যুতে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

‘এটি কেবল একটি হত্যা না। এটি সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ। সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করা নারীর হাতে থাকে না। তাবে তাকে কেন নির্যাতন করা হবে, শাস্তি দেয়া হবে? এটা পাপ।’

আরও পড়ুন:
বিয়ের অনুষ্ঠানে কুয়ায় পড়ে ১৩ মৃত্যু
‘উত্তর প্রদেশের উন্নতি চান না যোগী’, পাল্টা জবাব বিজয়নের
উত্তর প্রদেশেও খেলা হবে: মমতা
বাসে ট্রাকের ধাক্কা, রাস্তায় ঘুমন্ত ১৮ শ্রমিক নিহত
হাথরাসকাণ্ড ভয়াবহ: ভারতের প্রধান বিচারপতি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Driver remanded in bus molestation case

বাসে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির মামলায় চালক রিমান্ডে

বাসে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির মামলায় চালক রিমান্ডে
মামলায় বলা হয়েছে, গত রোববার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ধানমন্ডি থেকে আজিমপুর যেতে বাসে ওঠেন এক ছাত্রী। বিকাশ পরিবহনের বাসটির সিটে বসে ছাত্রী কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। চলন্ত বাসে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা হয়।

রাজধানীতে বিকাশ পরিবহনের চলন্ত বাসে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় গ্রেপ্তার চালক মাহবুবুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হেলপার পলাতক।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোস্তফা রেজা নূর শুনানি শেষে আসামি মাহবুবকে জিজ্ঞাসাবাদে এক দিনের রিমান্ড দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাসচালক মাহবুবুর রহমানকে। পরে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আছিবুজ্জামান আসিফ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আসামির পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী নুরুল নবী। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড দিয়েছে।

মামলায় বলা হয়েছে, ২৪ জুলাই রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ধানমন্ডি থেকে আজিমপুর যেতে বাসে ওঠেন এক ছাত্রী। বিকাশ পরিবহনের বাসটির সিটে বসে ছাত্রী কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত সোয়া ৯টার দিকে ছাত্রী বুঝতে পারেন তার শরীরে কেউ হাত দিয়েছেন। তাকিয়ে দেখেন বাসে কোনো যাত্রী নেই, তার পাশের সিটে বসে আছেন বাসের হেলপার। বিপদ আঁচ করতে পেরে বাসের হেলপারকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ছাত্রী বাস থেকে নামার চেষ্টা করেন। তখন হেলপার পেছন থেকে তার মুখ চেপে ধরেন। ছাত্রী নিজেকে রক্ষার জন্য চিৎকার করেন এবং চালককে বাস থামাতে বলেন।

চালক বাস না থামিয়ে দ্রুতগতিতে ইডেন কলেজের সামনে দিয়ে আজিমপুরের দিকে যেতে থাকেন। আজিমপুর গার্লস স্কুলের কাছে বাস কিছুটা গতি কমালে ছাত্রী লাফ দেন। আত্মরক্ষার পর ছাত্রী ঘটনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

চলন্ত বাসে ছাত্রী লাঞ্ছনার এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া হলে লালবাগ থানা পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধানে নামে। পুলিশ ভিকটিমকে খুঁজে বের করার পাশাপাশি বিভিন্ন সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা করে।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ বিকাশ পরিবহনের বাস ও চালককে শনাক্ত করে। বুধবার আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চালক মাহবুবকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
‘ছাত্রীর শ্লীলতাহানি’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক গ্রেপ্তার
নারীর ‘শ্লীলতাহানি’, যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীর ‘শ্লীলতাহানি’ যুবলীগ নেতার
কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ‘শ্লীলতাহানির চেষ্টা’
শিক্ষার্থীকে ‘শ্লীলতাহানির চেষ্টা’, শিক্ষক গ্রেপ্তার

মন্তব্য

p
উপরে