× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
Aparayan and ethnic fractions
hear-news
player
print-icon

‘অপরায়ন’ ও জাতিগত ভগ্নাংশ

অপরায়ন-ও-জাতিগত-ভগ্নাংশ
মনোভঙ্গী মূলত একটি দশা বা পর্যায় যা হুট করে বা এক মহূর্তে দৃশ্যমান হয় না বা প্রতিষ্ঠিত হয় না। নানাবিধ কর্তা (actor), প্রক্রিয়া এবং বিচরণশীলতার মধ্যে দিয়ে এর ক্রমাগত বিস্তার ঘটে। ফলে এটি নবায়নযোগ্য ও পুনরুৎপাদনশীল।  যেমন, আমরা হরদম ব্যবহার করি আনকালচারড, ক্ষ্যাত বা গেঁয়ো-ভূত। এ বিষয়গুলোর মাধ্যমে আমরা মূলত কী বোঝাতে চাই? মামুলি শব্দবন্ধ বা পদ হিসাবে কি এদের ছেড়ে দেয়া যায়?

লেখাটির শুরুতেই দুটি অভিজ্ঞতার উল্লেখ করতে চাই। প্রথমটি শৈশবের। তখন দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। মফস্বল শহর শেরপুরে দুরন্ত শৈশব উদযাপন করছি। আশির দশকের শেষাশেষি। পাড়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশন অফ বাংলাদেশের স্কুল স্থাপিত হলো। মান্দি নৃগোষ্ঠির লোকজন স্কুলটি পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে আমার প্রথম পরিচিতি ও সাক্ষাৎ ঘটে বাঙালি ভিন্ন অন্য কোনো নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে।

এ সময় পাড়ায় মান্দি জনগোষ্ঠীর আনাগোনা বেড়ে যায়। লক্ষ্য করতাম, সমবয়সী আমরাসহ চারপাশের সবার মধ্যেই নতুন পরিচয় ঘটা এই নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে ব্যাপক ফিসফিসানি, কৌতুহল, আলোচনা এবং সমালোচনা। আমরা যারা একসঙ্গে খেলতাম কোত্থেকে যেন কিছু ছড়াও আয়ত্ব করে ফেলি। দুটি ছড়া এই মহূর্তে মনে পড়ছে-

ছড়া: এক

গারো গান্নি এগারো

ধইরা ফালা পাগারো।

ছড়া: দুই

গারো আছে গান্নি নাই

শীতল আলু তুলে নাই।

ছড়া দুটিতে ‘গারো’ বলতে পুরুষ মান্দি এবং ‘গান্নি’ বলতে নারী মান্দি ব্যক্তিকে বোঝানো হচ্ছে, যা এখনও স্থানীয়ভাবে মান্দি নৃগোষ্ঠীর লিঙ্গীয় ভিন্নতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

এক্ষেত্রে প্রথম ছড়াটিতে ১১ জন মান্দি ব্যক্তিকে ‘পাগার’ (স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত শব্দ) বা মজাপুকুরে ময়লার মতো ফেলে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। একভাবে বলা যায়, এখানে মান্দি জনগোষ্ঠীকে ময়লার সঙ্গে তুলনীয় এবং উচ্ছিষ্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্বিতীয় ছড়াটি সম্পর্কে শৈশবে কেউ একজন বলেছিলেন, ‘গারোরা তো শুধু শীতল আলু (এক প্রকার স্থানীয় আলু) খায়, গান্নি বাড়িতে না থাকায় তা তোলা হয় নাই এবং তারা না খেয়ে আছে।’

এই ভাবনাটি মূলত মান্দি নৃগোষ্ঠীর মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে, যেখানে নারী গৃহস্থালির সর্বময় অধিকারী। নির্দিষ্ট একপ্রকার আলুই তাদের প্রাত্যহিক খাবার এবং এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যতালিকা যে খুব একটা সমৃদ্ধ নয়, সেদিকেও মনোযোগ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বেশির ভাগ সময়েই আমরা সমবয়সীরা রাস্তায় কোনো মান্দি ব্যক্তিকে দেখলেই জোরেজোরে ছড়াগুলো আওড়াতাম, তবে অসচেতনভাবে হলেও একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করতাম এই ভেবে যে, যদি ওরা মারতে আসে!

বিষয়টি আমাদের খেলার অংশে পরিণত হয়। একদিন একজন ষাটোর্ধ্ব মান্দি ব্যক্তি আমার ছড়া শুনে এমন ভাবে তেড়ে আসেন যে, আমি দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়ে পালাই।

পুরো এলাকা তাড়া করে বয়সের কারণেই হোক, তিনি আমাকে ধরতে ব্যর্থ হন। এরপর থেকে তাকে দূর থেকে দেখতে পেলেই সরে পড়তাম এবং ভুলেও আর কখনও ছড়াগুলো মুখে আনিনি।

শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে এ পর্যায়ে এসেও মাঝেমধ্যে ভাই-বোনেরা ঠাট্টাচ্ছলে ওই তাড়ার কথা আমাকে মনে করিয়ে দিয়ে হাসাহাসি করে। আমিও স্মৃতিকাতর হই।

দ্বিতীয় অভিজ্ঞতাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসার পরের। আমার একজন অন্তরঙ্গ সহপাঠী এবং রুমমেট উভয়েই ছিলেন চাকমা জনগোষ্ঠীর। দুজনের সঙ্গেই আমার সখ্য গড়ে ওঠে খুব অল্প সময়েই।

একদিন আমার রুমমেট দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে জানায়, ওর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর রুমমেট তার বন্ধুটির কাছে জানতে চেয়েছে, ‘চাকমা মেয়েটার সঙ্গে মেশো কীভাবে? গন্ধ পাও না?’

অন্য একদিন আমার সহপাঠী বন্ধুটি জানায়, তার পাশের রুমের এক মেয়ে জানতে চেয়েছে, ‘তোমরা কি গাছে থাকো? সাপ-ব্যাঙ খাও?’

এটা শুনে ও নাকি স্তব্ধ হয়ে নিজের কক্ষে চলে আসে।

ব্যক্তিগত এই অভিজ্ঞতাগুলো উল্লেখ করার কারণ মূলত কিছু প্রশ্ন উত্থাপনের জন্যে। এক. প্রথম অভিজ্ঞতায় বয়স্ক একজন মান্দি ব্যক্তি কেন অচেনা এক বাঙালি শিশুকে তাড়া করেছিলেন?

দুই. উচ্চশিক্ষার পরিসরে সমগোত্রীয় (অধ্যয়নরত হিসাবে) অথচ ভিন্ন নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে ধারণাকে নিছক ‘ধারণা’ হিসেবে বিবেচনা করা সম্ভব কিনা?

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে উপরে উল্লেখ করা দুটি অভিজ্ঞতারই অর্ন্তনিহিত সাযুজ্য বিদ্যমান; সমতলের বাঙালির বিষমতলের (পাহাড়ি) নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ। সেটি শিশুর ছড়ার মাধ্যমেই হোক, আর উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই হোক।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ‘মনোভঙ্গী’ এবং কে, কার প্রতি সেটি প্রকাশ করে? বিস্তর আলোচনার সুযোগ এখানে না থাকলেও মনোভঙ্গী এবং এর ক্রিয়াশীলতার সঙ্গে ‘অপরায়ন’ (otherness) এর সম্পর্ক নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

মনোভঙ্গী মূলত একটি দশা বা পর্যায় যা হুট করে বা এক মহূর্তে দৃশ্যমান হয় না বা প্রতিষ্ঠিত হয় না। নানাবিধ কর্তা (actor), প্রক্রিয়া এবং বিচরণশীলতার মধ্যে দিয়ে এর ক্রমাগত বিস্তার ঘটে। ফলে এটি নবায়নযোগ্য ও পুনরুৎপাদনশীল।

যেমন, আমরা হরদম ব্যবহার করি আনকালচারড, ক্ষ্যাত বা গেঁয়ো-ভূত। এ বিষয়গুলোর মাধ্যমে আমরা মূলত কী বোঝাতে চাই? মামুলি শব্দবন্ধ বা পদ হিসাবে কি এদের ছেড়ে দেয়া যায়?

শব্দবন্ধ বা পদের চাইতে এরা কয়েকগুণ বেশিই ক্ষমতাধর। কেননা আনকালচারড, ক্ষ্যাত বা গেঁয়ো-ভূত বলার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্বৈতবাদী ভাবনার শিকার হই। যেমন, কালচার-আনকালচার, শহুরে-গ্রামীণ অথবা স্মার্ট-আনস্মার্ট। সর্বোপরি একটি আদর্শ-মান (standard) বিরাজ করে আমাদের চেতনায়। আর এই আদর্শ-মান আমরা শুধু চেতনাতেই স্থান দেই না, নিজেদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে তার পুনরুৎপাদন ঘটাই।

‘অপরায়ন’ তেমনি একটি মনোভঙ্গী, বোধ বা দশা। যা ‘নিজ’ সাপেক্ষে ‘অপর’ প্রতিষ্ঠা করে বৈপরীত্যের মধ্যে দিয়ে। এক্ষেত্রে ‘অপর’ মূলত সেই সত্তা বা পরিচিতি যা ‘নিজ’ দ্বারা নির্মিত, পরিবেশিত এবং অবধারিতভাবেই ‘নিজ’ এর তুলনায় দুর্বল এবং ‘অপর’ দ্বারা পরিবেশিতকরণের আওতার ঊর্ধ্বে।

এই পরিবেশিতকরণ সবসময়ই ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেহেতু দুর্বল, মোটের উপর সবলের সঙ্গে পেরে ওঠে না, তার এই দৃশ্যমান ব্যর্থতা সবলকে শক্তি প্রদান করে দুর্বলের ক্ষয়িঞ্চু, ভঙ্গুর এবং বিকৃত প্রতিকৃতি নির্মাণের এবং ক্ষমতা কাঠামোর জন্যেই এই প্রতিকৃতি নির্মাণ বৈধতা পায়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘সবল’ কর্তৃক ‘দুর্বল’-এর পরিবেশন হয় মনগড়া, কাল্পনিক এবং আরোপিত। একটির সাপেক্ষে অপর সত্তাটিকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব প্রদান, উপেক্ষা করা অথবা বাদ দেয়ার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয় অপরায়ন।

সবলের স্বজাত্যবোধ দুর্বলের সম্পদ-অর্জন-ঐতিহ্য-পরম্পরাকে ভুলুণ্ঠিত করে একদিকে মেকি প্রতিমূর্তি তৈরি করে, অন্যদিকে সবলকে সর্বোচ্চ-সর্বোৎকৃষ্ট-সর্বোন্নত বলে প্রতিষ্ঠিত করে।

রাষ্ট্র এবং এর নানাবিধ মেকানিজম এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা দেয়। এই সম্মিলিত শক্তি পর্যায়ক্রমে সমাজ মানসে প্রবল মনোভঙ্গী তৈরিতেও প্রণোদনা জোগায়। আর এ কারণেই শৈশবে আমার মতো অনেকেই হয়তো ছড়া আওড়ায় কিংবা সর্বোচ্চ বিদ্যাপঠে এসেও বাঙালি ভিন্ন অন্য নৃগোষ্ঠীকে ‘জংলি’ ভেবে নিতে সংকোচে ভোগে না।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণের বিষয়টি উপেক্ষা করে মূলধারার লেখালেখি বা আলাপচারিতায় প্রায়শই বাঙালির কৃতিত্বকেই একমাত্র অর্জন ধরে নেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। প্রায়শই আরও বড় যে ভুলটি আমরা করে বসি তা হলো, বাংলাদেশকে শুধু বাঙালি জাতির দাবিকৃত বাসস্থান হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলি।

বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি জনগোষ্ঠীর বাস্তুসংস্থান প্রকল্পের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়। নির্বিচারে ‘পাহাড়ি’ জনগোষ্ঠীর ভূমি দখল, ভূমি হতে উচ্ছেদ চলছে রাষ্ট্রের সম্মতিতে। বাস্তবে তাই দেখা যায় রাষ্ট্রের ‘প্রবল’ জনগোষ্ঠীর বিপরীতে ‘ক্ষুদ্র’ জনগোষ্ঠীর মেরুকরণ ঘটে ‘উপজাতি’, ‘ট্রাইব’ প্রভৃতি ভগ্নাংশে। অভিন্ন রাষ্ট্রে প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকত্বের প্রতিষ্ঠা হয় সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচারে।

মেরুকরণকৃত নাগরিকত্ববোধ অধিবাসীদের মনোভঙ্গীরও মেরুকরণ ঘটায়। ফলে ‘প্রথম’ ও প্রবল শ্রেণির মনোভঙ্গী ও নাগরিকত্ববোধের সাপেক্ষে বাদবাকিরা ‘অপরায়নের’ শিকার হন।

এরই ধারাবাহিকতায় উচ্চতর বিদ্যাপীঠে বাঙালি কর্তৃক পার্বত্য জনগোষ্ঠীর ‘জংলি’ প্রতিকৃতি অংকনকে ভিন্ন দুটি জনগোষ্ঠীর সহজাত আলাপচারিতা কিংবা শৈশবে মান্দি ব্যক্তি কর্তৃক আমার তাড়া খাওয়ার ঘটনাকে নিছক স্মৃতি হিসেবে চালিয়ে দেয়া যায় না। ষাটোর্ধ্ব একজন মান্দি ব্যক্তি যখন একটি বাঙালি শিশুকে অকস্মাৎ তাড়া করেন তার পেছনে নিশ্চয়ই রয়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্রোধ, ক্ষোভ এবং যন্ত্রণা।

ঘটনাটি মনে পড়লে আজও আমি অপরাধবোধে তাড়িত হই। মানসপটে দেখতে পাই ময়লা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরা একজন বয়স্ক মান্দি ব্যক্তি পথ ধরে হাঁটছেন আর পাশেই কিছু বাঙালি শিশু আস্পর্ধা দেখাচ্ছে খেলাচ্ছলে তাকে অপমান করার। চারপাশের ফিসফিসানি, কৌতুহল, আলোচনা এবং সমালোচনা তাদেরকে প্রশিক্ষিত করেছে, সাহস জুগিয়েছে আচরণটি করার জন্য। অপদস্ত ব্যক্তিটির তৎক্ষণাৎ আর কী-ই বা করার থাকে তাড়া করা ছাড়া?

জাতিগত পরিচয়ের যে ভগ্নাংশ তিনি বহন করছিলেন বা করেন সেজন্য তিনি অপমানের বিচারের আর্জি জানাবেন কার কাছে? প্রশাসন? সরকার? রাষ্ট্র? কথায় বলে, সর্ষে ভূত তাড়ায়, কিন্তু সর্ষের ভূত তাড়াবে কে?

লেখক: নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক

আরও পড়ুন:
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
ভারতে কারান্তরীণ সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু
কানাডার আরও ১০ গির্জায় আগুন
কানাডায় আরও ১৮২ আদিবাসী শিশুর কবর শনাক্ত, আবার গির্জায় আগুন
পোপ ফ্রান্সিসকে কানাডায় এসে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ট্রুডোর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Saudi women in leadership of top organization of space researchers

মহাকাশ গবেষকদের শীর্ষ সংগঠনে নেতৃত্বের সারিতে সৌদি নারী

মহাকাশ গবেষকদের শীর্ষ সংগঠনে নেতৃত্বের সারিতে সৌদি নারী আইএএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সৌদি নারী মিশাল আশেমিমরি। ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ প্রকৌশলী আশেমিমরি প্রথম সৌদি নারী, যিনি আইএএফ-এর মতো প্রভাবশালী সংস্থায় মর্যাদাপূর্ণ এই দায়িত্ব পেলেন।

মহাকাশ গবেষকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যশনাল অ্যাস্ট্রোনটিকাল ফেডারেশনের (আইএএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সৌদি নারী মিশাল আশেমিমরি

মহাকাশ প্রকৌশলী আশেমিমরি প্রথম সৌদি নারী, যিনি আইএএফ-এর মতো প্রভাবশালী সংস্থায় মর্যাদাপূর্ণ এই দায়িত্ব পেলেন।

সৌদি স্পেস কমিশনের (এসএসসি) রোববার এ তথ্য জানায়

এসএসসির এক টুইটে বলা হয়, আশেমিমরি আইএএফে সৌদি আরবের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল, বিশ্বব্যাপী মহাকাশ গবেষণা খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা, আইএএফ-এর কৌশলগত দিকনির্দেশনা উন্নয়নে অবদান রাখা এবং ফেডারেশনে সৌদি আরবের অবস্থানকে সুসংহত করা।

আইএএফ- এর গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার পর আশেমিমরি এক টুইটে লেখেন, ‘আইএএফ-এর অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। মহাকাশ গবেষণা জোরদারের জন্য অন্য ভাইস প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আমি উন্মুখ।’

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, আইএএফএ মোট ১২ জন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছেন। তারা ফেডারেশনের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ তৈরি, সভা তদারকি এবং সংগঠনের সাধারণ অধিবেশনের জন্য এজেন্ডা নির্ধারণ করেন।

এই ফেডারেশনে সারা বিশ্বের চারশরও বেশি সদস্য আছেন, যাদের অনেকেই শীর্ষস্থানীয় স্পেস এজেন্সি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।

আরও পড়ুন:
সাফজয়ীদের চুরির ক্ষতিপূরণ দিল বাফুফে
সাফজয়ীদের সংবর্ধনা, কোটি টাকা দেবে সেনাবাহিনী
ট্রফি উঁচিয়ে নিজ শহরে সাবিনা
খেলোয়াড়দের বাড়ির ছাদ তৈরির আহ্বান শিরিনের
সাফজয়ী আঁখির বাড়িতে পুলিশ: এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Flowers and cake at grave for Mahsa Aminis 23rd birthday

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক মাহসা আমিনি গতবারও কেক কেটে নিজের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন (বাঁ থেকে তৃতীয়), পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর পর এবার তার কবরে ফুল আর কেক দিয়ে জন্মদিন পালন করেন শোকার্তরা (ডানে)। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বেঁচে থাকলে ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার ২৩ বছরে পা দিতেন মাহসা আমিনি। এ ঘটনা আরও আবেগতাড়িত করছে আন্দোলনকারীদের। ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজে ১৭ সেপ্টেম্বর মাহসাকে দাফন করা হয়। জন্মদিনে সেই কবর ফুলে ঢেকে দেন শোকার্ত বিক্ষোভকারীরা। কবরের ওপরেই কাটা হয় কেক।  

ইরানে ‘সঠিকভাবে’ হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া মাহসা আমিনি গোটা দেশে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

মাহসার মৃত্যুর ঘটনায় টানা বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
মাহসা আমিনি

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এর ঠিক পাঁচ দিন পরেই ছিল মাহসার জন্মদিন।

বেঁচে থাকলে ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার ২৩ বছরে পা দিতেন মাহসা আমিনি। এ ঘটনা আরও আবেগতাড়িত করছে আন্দোলনকারীদের। ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজে ১৭ সেপ্টেম্বর মাহসাকে দাফন করা হয়। জন্মদিনে সেই কবর ফুলে ঢেকে দেন শোকার্ত বিক্ষোভকারীরা। কবরের ওপরেই কাটা হয় কেক।

মাহসার বাবা ডয়চে ভেলে ফার্সিকে বলেন, ‘সে (মাহসা) বেঁচে থাকলে আজ ৩০ শাহরিভার নিজের জন্মদিন উদযাপন করত। সে ছিল ছোট্ট স্বপ্ন দেখা এক তরুণী। তার চলে যাওয়া বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।’

পার্সিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাহরিভার মাসের ৩০ তারিখ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ২১ সেপ্টেম্বর। এ বছর এই তারিখটি ছিল গত বুধবার।

জন্মদিনে মাহসার কবরের ওপর লাল কাপড় বিছিয়ে তার ছবিযুক্ত কেক কাটা হয়েছে। ছিল ডার্ক চকোলেট, মিষ্টি ও ফুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বার্থডে উইশ করেছেন সারা বিশ্বের অসংখ্য মানুষ।

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন মাহসা আমিনি

১৯৯৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া মাহসার পুরো নাম জিনা মাহসা আমিনি।

ইরান সরকারের অভিযোগ, মাহসা কুর্দি বিদ্রোহী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগকে সরকারের প্রোপাগান্ডা হিসেবে দাবি করেছে তার পরিবার।

মাহসা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না জানিয়ে তার চাচাতো ভাই এরফান মোর্তেজা বলেন, ‘আমার সোজাসাপ্টা উত্তর হলো মাহসা তার ২২ বছরের জীবনে কখনও ইরানের বাইরে পা রাখেনি। সে ছিল মিষ্টি একটি মেয়ে, যার জীবন বলতে ছিল সংগীত, ভ্রমণ, শিল্প সম্পর্কে চিন্তা; মাহসা কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত ছিল না। তার স্বপ্ন ছিল নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা।’

মাহসা ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান আরমিন আমিনি কিশোর বয়সেই মারা যায়। মাহসার কিয়ারশ আমিনি নামে এক ভাই রয়েছে, তার সামনেই তেহরানের মেট্রো স্টেশন থেকে মাহসাকে গ্রেপ্তার করে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ।

কিয়ারশ গত সপ্তাহে ইরানওয়্যারকে বলেন, ‘আমার এখন হারানোর আর কিছুই নেই। আমি ইরানের সবাইকে জানাব কী হয়েছিল।’

কিয়ারশ জানান, তাদের পরিবার রাজধানীতে ঘুরতে এসেছিল। শহীদ হাঘানি এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশপথে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নৈতিকতা পুলিশের টহল ভ্যান তাদের গতিরোধ করে।

পুলিশ মাহসাকে জোর করে ভ্যানে তুলে নেয়। তার ভাই এ সময় বাধা দিয়েও ব্যর্থ হন। নৈতিকতা পুলিশের দলটি যাওয়ার সময় জানায়, মাহসাকে তারা নিজেদের স্টেশনে নিয়ে যাচ্ছে এবং ১ ঘণ্টার ‘শিক্ষা সেশন’ শেষে ছেড়ে দেয়া হবে।

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
ইরানজুড়ে বিক্ষুব্ধদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন মাহসা আমিনি

পরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে কিয়ারশ বলেন, ‘আমি ওদের (নৈতিকতা পুলিশ) ভবনের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। আমার সঙ্গে আরও অনেকে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পাই।

‘আমরা সবাই দরজায় ধাক্কা দিতে থাকি। হঠাৎ পুলিশ সদস্যরা ভবন থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের লাঠিপেটা এবং টিয়ার শেল ছুড়তে শুরু করে। আঘাতে আমার সারা শরীর কালো আর নীল হয়ে গিয়েছিল। কাঁদানে গ্যাসের কারণে চোখ জ্বলছিল। এর ৫ মিনিট পর একটি অ্যাম্বুলেন্স ভবনটি থেকে বেরিয়ে যায়।’

কিয়ারশ বলেন, ‘এ সময় বন্দি অনেক নারী ছুটে বেরিয়ে আসেন। তারা বলছিলেন ভেতরে কেউ মারা গেছে। আমি তাদের মাহসার ছবি দেখালাম। একজন বললেন, ঘটনাটি ঘটার সময় মাহসা তার পাশে ছিল।

‘আমি হতবাক ও আতঙ্কিত হয়ে যাই। এক পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে। তিনি বললেন, তাদের একজন আহত হয়েছেন। তিনি আসলে মিথ্যা বলছিলেন। আমি তাকে বিশ্বাস করিনি। সেই অ্যাম্বুলেন্সে ছিল মাহসা। আমি ছুটতে ছুটতে হাসপাতালে গিয়েছি।’

সেদিন রাত সোয়া ৮টার দিকে চিকিৎসকরা মাহসার পরিবারকে জানান, তাকে বাঁচানো যাবে না। তিনি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। তার হৃৎপিণ্ড সচল থাকলেও মস্তিষ্ক কাজ করছে না। কোমায় চলে যাওয়া মাহসার মৃত্যু হয় ১৬ সেপ্টেম্বর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অল্প কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, ছোটবেলা থেকেই প্রাণোচ্ছ্বল ছিলেন মাহসা আমিনি।

চাচাতো ভাই এরফান মোর্তেজা বলেন, ‘মাহসা বা আমাদের প্রিয় জিনা (ডাকনাম) সব সময় হাসিখুশি, উচ্ছ্বসিত ও প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ ছিল। গান, ঘোরাঘুরি, কুর্দি পোশাক এবং শিল্প খুব পছন্দ করত। আমাদের কোনো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিতদের সঙ্গে ও কখনও দুর্ব্যবহার করেনি।’

‘বাধ্যতামূলক হিজাব আইন ও একদম পছন্দ করত না।’

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভের সময় হিজাব খুলে পুড়িয়ে দিচ্ছেন এক নারী

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অসংখ্য পুরুষও যোগ দিয়েছেন

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সে সময়েও পোস্ট দিয়েছিলেন অসংখ্য ইরানি পুরুষ।

ওই আন্দোলনের রেশ শেষ না হতেই মাহসার মৃত্যু কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

আরও পড়ুন:
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি
ইরানে বন্ধ ইনস্টাগ্রাম, ছবি যাচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপে
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
The day before the game the teacher protested the beating of the students by shaving their heads

বেণির কারণে কাবাডির ছাত্রীদের ‘মারধর’, মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ শিক্ষকের

বেণির কারণে কাবাডির ছাত্রীদের ‘মারধর’, মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ শিক্ষকের ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগে মাথা ন্যাড়া করার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদা পারভীন। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক স্ট্যাটাসে চট্টগ্রামের এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদা পারভীন লেখেন, ‘স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের ফেঞ্চ বেণি করে ছবি তোলা ও খেলতে যাওয়ার অপরাধে আমার স্কুলের হেডমাস্টার মেয়েদের চুল ধরে মারা ও বকার প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে?’ তার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবল দলকে নিয়ে সারা দেশ যখন উচ্ছ্বসিত, তখন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগের দিন ফ্রেঞ্চ বেণি করে ছবি তোলা চট্টগ্রামের একটি স্কুলের ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মাথা ন্যাড়া করার কথা জানিয়েছেন ওই স্কুলের শিক্ষক জাহিদা পারভীন।

এ শিক্ষকের অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম নগরীর এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর ছাত্রীদের মারধর ও বকা দেন প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী, তবে নিপা এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কী অভিযোগ জাহিদার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বৃহস্পতিবার রাতে ব্যক্তিগত আইডি থেকে নিজের মাথা ন্যাড়া করা ছবি পোস্ট করেন জাহিদা। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মাথা ন্যাড়া করেন।

ওই ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের ফেঞ্চ বেণি করে ছবি তোলা ও খেলতে যাওয়ার অপরাধে আমার স্কুলের হেডমাস্টার মেয়েদের চুল ধরে মারা ও বকার প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে?

‘পুনশ্চ: আমার মেয়েরা খেলার মাঠে খেলতে নামার অনুমতি পায়নি। স্কুলের সভাপতি আবার বর্তমানে চট্টগ্রামের সিডিএর চেয়ারম্যান এবং স্কুলটি উনার বড় আব্বার নামে।’

জাহিদা নিউজবাংলাকে জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানা জোনে ৪৯তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডি খেলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য টিম তৈরি তার দায়িত্ব। অংশগ্রহণের নিয়ম অনুযায়ী খেলার এক দিন আগে অংশগ্রহণকারী দলের ছবি তোলে কো-অর্ডিনেটরকে জমা দিতে হয়।

তার ভাষ্য, ওই দিন (৭ সেপ্টেম্বর) ছাত্রীদের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে ছবি তোলার জন্য তিনি তাদের জার্সি পরে তৈরি হতে বলেন। কাবাডি খেলায় চুলে কোনো অলংকার বা ক্লিপ থাকতে পারে না। তাই বেণি করতে হয়। সে কারণে সবাই বেণি করেছিল। ছবি তোলার জন্য মেয়েদের ডেকে তিনি টয়লেটে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে চিৎকার শোনেন যে, প্রধান শিক্ষক তাদের বকাবকি করছেন।

তিনি আরও জানান, ছাত্রীরা দ্বিতীয় তলায় ছিল। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক তাদের নিচে ডেকে নিয়ে চুল ধরে মারছিলেন। তিনি (জাহিদা) বের হয়ে ছাত্রীদের মারতে ও বকতে দেখে প্রধান শিক্ষিকাকে নিবৃত্ত করেন।

জাহিদা পারভীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বেণি কেন করছে সেটা বলে তিনি তাদের মারছিলেন, বকাবকিও করছিলেন। এর মধ্যে কাবাডি টিমের মীম নামের একজনকে বলছিলেন যে, সে-ই সব নষ্টের মূল, সে সব মেয়েদের নষ্ট করছে। আমি বের হয়ে উনাকে থামাই। বলি যে, আমিই তাদের বেণি করত বলেছি।

‘তিনি তখন আমাকেও বলেন যে, এভাবে বেণি করতে পারবে না। তা ছাড়া খেলার দিন মাঠে যাওয়ার আগে নানা ছুতোয় আমাদের দেরি করছিলেন। যেমন: মেয়েদের খাবার-দাবারের হিসাব দিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন, এটা তো এসেও দেয়া যায়, কিন্তু উনি হিসাব দিয়ে তবেই যেতে বলেছেন।’

শিক্ষক জাহিদার অভিযোগ অস্বীকার করেন এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি ওই দিন শিক্ষার্থীদের মারধর বা বকাবকি কোনোটাই করিনি; বরং আমিও তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম।’

বেণির কারণে কাবাডির ছাত্রীদের ‘মারধর’, মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ শিক্ষকের
এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

এই বিষয়ে জাহিদা পারভীন বলেন, ‘উনি মারধর ও বকাবকির পর নিয়ম রক্ষার ছবি উঠিয়েছেন।’

খেলার দিন প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করায় ভেন্যুতে যেতে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ জাহিদার। তার ভাষ্য, দেরি হওয়ার কারণে আগে জানিয়ে রাখা সত্ত্বেও কো-অর্ডিনেটর শিক্ষার্থীদের মাঠে নামতে দেননি।

জাহিদা বলেন, ‘৩ তারিখ এই সম্পর্কিত একটা মিটিং হয়েছিল। আমি মিটিংয়ে সবার সামনে স্কুলে মডেল টেস্ট চলায় আমার একটু দেরি হবে বলে জানিয়েছিলাম। থানা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও জানিয়েছিলাম, কিন্তু খেলার দিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরিতে যাওয়ার অজুহাতে কো-অর্ডিনেটর খাস্তগীর স্কুলের কাজল স্যার আমার মেয়েদের মাঠে নামতে দেননি। আমি এটার প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও তারা কর্ণপাত করেনি।’

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা এবং নানা ছুতোয় দেরি করানোর অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা; বরং আমি বলেছি যে, মডেল টেস্ট পরীক্ষা না দিলে কিছু হবে না। তিনি বলেছেন, পরীক্ষা দিক, তিনি কো-অর্ডিনেটরকে বলে রেখেছেন। তা ছাড়া খেলার দিন সকালে আমি উনাকে (জাহিদা) বলেছিলাম যে, আপনার দেরি হয়ে যাচ্ছে। উনি সেটা গুরুত্ব দেননি।’

এই বিষয়ে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজল চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

কোতোয়ালি থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হুদা ছিদ্দিকী বলেন, ‘দেরি হবে বলে আমাকে খেলার আগে তো জানায়ইনি। খেলতে না দেয়ার বিষয়েও কিছু জানায়নি; বরং উনার সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা দেরিতে অন্যান্য স্কুলের টিচারদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এসেছে জাহিদা পারভীনের বিরুদ্ধে। তিনি নাকি কাজল স্যারসহ আরও কয়েকজনকে খুব বাজেভাবে গালাগাল করেছেন।

‘তা ছাড়া উনি দুই ঘণ্টা দেরিতে এসেছেন বলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা জানিয়েছেন। এতক্ষণ অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। কারণ ২০ মিনিটের ওই খেলা এক দিনেই শেষ করতে হয়েছে। ওই এক দিনে মোট ২০টা খেলা শেষ করতে হয়েছে।’

চাপ দিয়ে পদত্যাগপত্র নেয়ার অভিযোগ

ওই ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক চাপ দিয়ে পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য করে বৃহস্পতিবার থেকে আর স্কুলে ঢুকতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জাহিদা পারভীন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খেলার দিন বিকেলে বাসায় ফিরে আমি ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন থেকে তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তিন দিন পর আমি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছিলাম।

‘তিনি আমার অসুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বই দেননি; বরং আমার ভাইকে ফোন দিয়ে আমার ওপর চাপ তৈরি করেছেন। আমার নামে খুব বাজে কথা বলেছেন। এমনকি আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টি-শার্ট পরে ছবি তুলেছিলাম। সেটা নিয়ে বাজে কথা বলেছে। আমাকে পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৩ বা ১৪ তারিখ নিজের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ থেকে বাসার সামনের সেলুনে গিয়ে আমি আমার মাথা ন্যাড়া করেছি প্রতিবাদস্বরূপ। কারও প্রতি অভিযোগ থেকে না।’

চাপ দেয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিপা চৌধুরী বলেন, ‘এটা আসলে মিথ্যা কথা, আমি কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করিনি; বরং তিনি শিক্ষদানের যোগ্য নন উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমার স্কুলে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। তাকে ঢুকতে না দেয়ার বিষয়টাও মিথ্যা।’

স্কুলের শিক্ষককে চাপ দিয়ে পদত্যাগপত্র নেয়ার আইনি কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হুদা ছিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের এ রকম কোনো সুযোগ নেই। এটা তিনি কোনোভাবেই পারবেন না। বিদ্যালয়ের কমিটি হলে অন্য বিষয়।’

আরও পড়ুন:
ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই কর্মীর ওপর হামলা
ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিপেটা: আরও ৫ পুলিশ প্রত্যাহার
বরগুনায় কর্মীদের সংঘর্ষ তদন্তে ছাত্রলীগের কমিটি
এমপি শম্ভুর সঙ্গে তর্কাতর্কি: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম প্রত্যাহার
ছাত্রলীগ কর্মীদের বেধড়ক পিটুনির তদন্তে পুলিশের কমিটি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
In Iran brothers are dying to demand the freedom of their sisters clothes

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই ইরানে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির (ডানে) মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রাবার বুলেটবিদ্ধ এক তরুণ। ছবি: টুইটার
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বুধবার পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছেন অন্তত ৭ বিক্ষোভকারী, যাদের সবাই পুরুষ। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, লাঠিপেটায় গত ছয় দিনে আহত হয়েছেন সাড়ে চার শর বেশি মানুষ, গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজারেরও বেশি। আহত ও গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা বেশি।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ২২ বছরের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশটির বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ চলছে।

এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন হাজারো পুরুষ। রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে দেশটির অসংখ্য পুরুষ সোচ্চার।

টানা ছয় দিনের বিক্ষোভ দমন করতে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। বুধবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৭ বিক্ষোভকারী, যাদের প্রায় সবাই পুরুষ বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী।

নরওয়েভিত্তিক কুর্দি অধিকার গোষ্ঠী হেনগাও-এর তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ মঙ্গলবার ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের পিরানশাহর ও উর্মিয়া শহরে ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৬ বছরের কিশোর জাকারিয়া খিয়াল ও ২৩ বছর বয়সী ফারজাদ দারউশি মারা যান।

এ ছাড়া গত কয়েক দিনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিতে দেহগোলান, দিওয়ানদারা, সাকেজ, উর্মিয়া এবং পিরানশাহর শহরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচ কুর্দি বিক্ষোভকারী।

নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, লাঠিপেটায় গত ছয় দিনে আহত হয়েছেন সাড়ে চার শর বেশি মানুষ, গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজারেরও বেশি। আহত ও গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা বেশি।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া পুরুষরা বলছেন, তারা ইরানে নারীর জন্য ‘স্বাধীন’ একটি পরিবেশ তৈরি করতে চান। আমিরএমসিজি নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে রাবার বুলেটে ঝাঝরা হয়ে যাওয়া এক পুরুষ বিক্ষোভকারীর ছবি পোস্ট করে বলা হয়েছে, ‘দ্যাট’স হোয়াট উই ডু ফর আওয়ার সিস্টার্স (আমাদের বোনদের জন্য আমরা যা করছি)’।

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানে মঙ্গলবার বিক্ষোভে নিহত কিশোর জাকারিয়া খিয়াল (বাঁয়ে) ও ফারজাদ দারউশি

ইরানের নিউ ইয়র্কভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের নির্বাহী পরিচালক হাদি ঘাইমি বলেন, ‘মাহসা আমার মেয়ে, আমার বোন, আমার স্ত্রী হতে পারে। আমার বাড়ির মেয়েরা যতবার বাড়ি থেকে বের হয়, ততবার আশঙ্কায় থাকি, তারা হয়তো আর বাড়ি ফিরে নাও আসতে পারে।’

ইরানে ১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সে সময়েও পোস্ট দিয়েছিলেন অসংখ্য ইরানি পুরুষ।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

আরও পড়ুন:
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল
‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’
হিজাবে অনিচ্ছুক নারীদের হয়রানি বন্ধ করুন: জাতিসংঘ

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Iranian girl jailed for four and a half years for posting video without hijab

হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল

হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল হিজাব ছাড়া ভিডিও পোস্ট করে কারাদণ্ড পাওয়া ইরানি তরুণী মেলিকা কারাগোজলু। ছবি: সংগৃহীত
মেলিকা কারাগোজলু গত ১২ জুলাই দেশব্যাপী আইন-অমান্য কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পর গ্রেপ্তার হন, ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি বাধ্যতামূলক হিজাবের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলা মাথার ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন।

ইরানে নারীর বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের প্রতিবাদ করায় দেশটির এক অধিকার কর্মীকে তিন বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সাজা পাওয়া তরুণী মেলিকা কারাগোজলু মাথায় হিজাব ছাড়া কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন।

তার আইনজীবী মোহাম্মদ আলী কামফিরুজি ১৯ সেপ্টেম্বর এক টুইটে লেখেন, তেহরানের ইসলামিক রেভুলিউশনারি আদালত সম্প্রতি এই দণ্ড ঘোষণা করে।

‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ২২ বছরের মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। মাহসার মৃত্যুর পর চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ জন

এই উত্তাল পরিস্থতির মধ্যেই হিজাব না পরার কারণে মেলিকা কারাগোজলুকে কারাদণ্ড দেয়ার তথ্য জানা গেল

কারাগোজলু গত ১২ জুলাই দেশব্যাপী ‘আইন-অমান্য’ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পর গ্রেপ্তার হন। ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি বাধ্যতামূলক হিজাবের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলা মাথার ভিডিওটি পোস্ট করেন।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকার কর্মীরা গত ১২ জুলাই সরকার ঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরখা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

এর পরপরই ইরানি নিরাপত্তাবাহিনী প্রতিবাদে অংশ নেয়া নারীদের ধরপাকড় শুরু করে। এতে মেলিকা কারাগোজলুও গ্রেপ্তার হন।

টুইটে কারাগোজলুর আইনজীবী লিখেছেন, তার বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে, কারাগোজলুকে একজন বিশেষজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসক। তবে কারাদণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে বিচারক এগুলোর কোনোটিই বিবেচনায় নেননি।

এদিকে, ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না করায় গ্রেপ্তার কুর্দি নারী মাহসা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় প্রবল চাপে রয়েছে ইরানের সরকার। মাহসাকে ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। ইরানের বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষও চলছে।

আরও পড়ুন:
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’
হিজাবে অনিচ্ছুক নারীদের হয়রানি বন্ধ করুন: জাতিসংঘ

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Journalist Shireen was deliberately murdered Investigation report

সাংবাদিক শিরিনকে জেনেবুঝেই খুন করা হয়: তদন্ত

সাংবাদিক শিরিনকে জেনেবুঝেই খুন করা হয়: তদন্ত চলতি বছরের ১১ মে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে নিহত হন শিরিন আবু আকলেহ। ছবি: সংগৃহীত
যৌথ তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, স্নাইপার তিন দফায় গুলি চালায় শিরিনকে লক্ষ্য করে। প্রথমবার ৬টি, আট সেকেন্ড পর আরও ৭টি। এই ১৩টি গুলির একটি শিরিনের হেলমেটের ঠিক নিচে আঘাত হানে। দুই মিনিট পর, তাকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে আরও ৩টি গুলি ছোড়ে স্নাইপার।

আল জাজিরার সিনিয়র সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে ‘জেনেবুঝেই’ খুন করার তথ্য উঠে এসেছে যৌথ এক তদন্ত প্রতিবেদনে। লন্ডনভিত্তিক বহুবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ফরেনসিক আর্কিটেকচার এবং ফিলিস্তিনি অধিকার গোষ্ঠী আল হক অনুসন্ধানটি চালায়।

পশ্চিম তীরের শহর জেনিনে ১১ মে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহের সময় গুলিতে নিহত হন ৫১ বছরের শিরিন। প্রত্যক্ষদর্শী এবং তার সহকর্মীরা দাবি করে আসছেন, ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

তবে শুরু থেকেই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইসরায়েল। তেল আবিবের দাবি, শিরিনের গায়ে গুলি ভুলক্রমে লেগেছে।

শিরিন আবু আকলেহ ২৫ বছর ধরে আল জাজিরার হয়ে কাজ করছিলেন। ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে সরব ছিলেন তিনি। এ কারণে তিনি ‘ফিলিস্তিনের কণ্ঠস্বর’ নামেও পরিচিত ছিলেন

যৌথ তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, স্নাইপার তিন দফায় গুলি চালায় শিরিনকে লক্ষ্য করে। প্রথমবার ৬টি, আট সেকেন্ড পর আরও ৭টি। এই ১৩টি গুলির একটি শিরিনের হেলমেটের ঠিক নিচে আঘাত হানে। দুই মিনিট পর, তাকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে আরও ৩টি গুলি ছোড়ে স্নাইপার।

এ ছাড়া ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, ওই এলাকায় সাংবাদিক ছিলেন, এটা স্নাইপার জানতেন। এ সময় জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনী এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কাও নাকচ করে দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

আইসিসিতে অভিযোগ

শিরিনের পরিবার বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) একটি অভিযোগ জমা দেয়ার দিনই এই অনুসন্ধানগুলো আসে।

শিরিনের ভাই অ্যান্টন বলেন, ‘হত্যার জবাবদিহিতা নিশ্চিতে পরিবারের যা যা করা দরকার তা-ই করবে।

‘শিরিন ও তার সহকর্মীদের লক্ষ্য করে ১৬টি গুলি ছোড়া হয়। এমনকি আহত অবস্থায় যে ব্যক্তি তাকে নিরাপদে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে তাকেও তারা টার্গেট করেছিল।’

অভিযোগটি ফিলিস্তিনের প্রেস সিন্ডিকেট এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্ট (আইএফজে) দ্বারা সমর্থিত।

চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল জানায়, শিরিনকে হত্যা করা হয়েছে এমন দাবি উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে তারা অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করবে না।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের হামলায় ৬ ফিলিস্তিনি শিশুসহ নিহত ২৪
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক জিহাদ কমান্ডার নিহত
ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলার হুমকি হিজবুল্লাহর
‘ইরানে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল’
ইসরায়েলের বিমানের জন্য উন্মুক্ত সৌদির আকাশ

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
I will die if necessary but I will bring back the previous Iran

‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’

‘প্রয়োজনে মরব, তবু আগের ইরান ফিরিয়ে আনব’ পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের চলমান বিক্ষোভের খবর প্রচার করা টুইটার হ্যান্ডেল @1500tasvir -এ শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা যায়, তেহরানে পুলিশের একটি গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তারপর গাড়িটিকে উল্টে দেয়ার চেষ্টা করছে তারা। 

হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার তরুণীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ইরান। প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন স্থানে চলছে বিক্ষোভ। আর তা দমতে পুলিশ হয়ে ওঠছে সহিংস, ঘটছে প্রাণহানি।

টালমাটাল এমন অবস্থার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে কিছু ভিডিও; যার একটিতে দেখা যায়, পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালাচ্ছে বিক্ষুব্ধরা।

ইরানের চলমান বিক্ষোভের খবর প্রচার করা টুইটার হ্যান্ডেল @1500tasvir -এ শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা যায়, তেহরানে পুলিশের একটি গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তারপর গাড়িটিকে উল্টে দেয়ার চেষ্টা করছে তারা।

টুইটারে শেয়ার হওয়া আরেকটি ভিডিও-তে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করছে পুলিশ। পরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংগর্ষে জড়িয়ে পরে তারা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আমরা লড়ব, আমরা মরব, আমরা আগের ইরানকে ফিরিয়ে আনব- শ্লোগানে দিতে থাকে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশত এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদসহ বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।

যদিও দুবাইভিত্তিক সৌদি সংবাদ সংস্থা আল আরাবিয়া ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি

এর আগে সোমবার ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের দিভান্ডারেহে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। অসমর্থিত রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী দিভান্ডারেহে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

২২ বছর বয়সী কুর্দি ইরানি নারী মাহসা আমিনিকে শুক্রবার মৃত ঘোষণা করার পর পর বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানে হিজাবের কারণে ‘নৈতিকতা পুলিশ’ তাকে আটকের পর কোমায় চলে গিয়েছিলেন আমিনি।

তেহরান পুলিশ বলছে, বন্দী অবস্থায় আমিনির ‘হঠাৎ হৃদযন্ত্রের সমস্যা’ হয়েছিল। রাষ্ট্র-চালিত আউটলেটগুলি দাবি করছে, গ্রেপ্তারের আগে একাধিক স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন আমিনি।

তবে আমিনির বাবা-মা বলছেন, আটক হওয়ার আগে তাদের মেয়ের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আমিনিকে আটক করার সময় মারধর করা হয়েছিল, এতে তার মৃত্যু হয়।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

আরও পড়ুন:
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাবে অনিচ্ছুক নারীদের হয়রানি বন্ধ করুন: জাতিসংঘ
বিশ্ববিদ্যালয়ে বোরকাকে ফরমাল ড্রেস করার দাবি

মন্তব্য

p
উপরে