ইউরোপে বাড়ছে সমকামীবিদ্বেষ

ইউরোপে বাড়ছে সমকামীবিদ্বেষ

চলতি সপ্তাহে সমকামীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে জর্জিয়া, স্পেন, ক্রোয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে। এমনকি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার দাবিতে এলজিবিটিকিউ (লেসবিয়ান, গে, বাইসেকচুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার, কুইয়ার) সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ প্রাইড মার্চেও হামলা হয়েছে।

সমকামীবিদ্বেষ তীব্র হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। সবশেষ বুধবার বিতর্কিত একটি সমকামীবিরোধী আইন পাস করেছে হাঙ্গেরি।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনটির ফলে হাঙ্গেরির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমকামীদের প্রতি সহাবস্থানমূলক ও জেন্ডার পরিবর্তন সমর্থনযোগ্য পাঠদান ও প্রচার নিষিদ্ধ হচ্ছে।

এখন থেকে দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য যৌন শিক্ষার পাঠ্যসূচিতে থাকবে না সমকামী বা জেন্ডার পরিবর্তনবিষয়ক কোনো বিষয়বস্তু।

সংবিধানে সমকামীবিরোধিতা ও বৈষম্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে আইনটির নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন দার লিয়েন।

এ ছাড়াও চলতি সপ্তাহে সমকামীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে জর্জিয়া, স্পেন, ক্রোয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে।

এমনকি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার দাবিতে এলজিবিটিকিউ (লেসবিয়ান, গে, বাইসেকচুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার, কুইয়ার) সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ প্রাইড মার্চে হামলাও হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মিছিলের আগেই সোমবার জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে সমকামী অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। এর জেরে পূর্বনির্ধারিত প্রাইড মার্চ বাতিল করেন এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীরা।

হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জর্জিয়ান প্রশাসন।

এমনকি এ দিন সমকামীবিদ্বেষীদের ক্ষোভ ও আক্রমণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ৪০ সংবাদকর্মী। ক্যামেরা-মাইক্রোফোন ও অন্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়; আহত হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও তাদের সহকারীরা।

সহিংস আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস (আইএফজে) ও ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস (ইএফজে)। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে জর্জিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিবৃতি দেয় ‘তিবিলিসি প্রাইড’। এতে বলা হয়, ‘প্রশাসন এলজিবিটি সম্প্রদায় আর আমাদের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি।

‘সহিংস মানুষে ভর্তি রাস্তায় যেতে পারি না আমরা। কারণ প্রশাসন আর পুরুষতন্ত্রের ঝাণ্ডাধারীরা তাদের মদদ দেয়, সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে। সুশীল সমাজ আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তারা।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্পেনের বড় বড় শহরে একই দিন বিক্ষোভ করে হাজারো মানুষ।

২৪ বছর বয়সী এক স্বাস্থ্যকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজধানী মাদ্রিদ আর বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন শহরে হয় এ বিক্ষোভ। শনিবারের ওই হত্যাকাণ্ড সমকামীদের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটিতে জেন্ডার পরিচয় সংক্রান্ত ২৭৮টি বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ ঘটেছে, যা আগের বছরের তুলনায় আট দশমিক ছয় শতাংশ বেশি।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর ফান্ডামেন্টাল রাইটস জানিয়েছে, বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ঘটনার প্রকৃত যে সংখ্যা, তার বেশিরভাগই পুলিশ জানতেই পারে না।

ভাইস নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আক্রমণে জর্জরিত হয়েছে ক্রোয়েশিয়ায় প্রাইড মার্চও, গত ১০ বছরে যা নজিরবিহীন।

শনিবারের ওই মিছিলে কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে ২০ বছরে প্রথমবার যোগ দিয়েছিলেন জাগ্রেব শহরের মেয়র।

জাগ্রেব প্রাইডের আয়োজকদের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০১১ সালের পর এ দেশে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। সমকামীবিদ্বেষী ফ্যাসিবাদীরা চড়াও হয়ে একের পর এক হামলা চালিয়েছে শহরের বিভিন্ন জায়গায়। (তারা) ভাঙচুর করেছে, আগুন লাগিয়েছে।’

সমকামীদের প্রতি রক্ষণশীল ক্রোয়েশিয়া খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২০১৯ সালের এক জরিপে জানা যায়, দেশটির ৬০ শতাংশ সমকামীই জেন্ডার পরিচয়ের কারণে শারীরিক বা মৌখিক আক্রমণের শিকার।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে এলজিবিটিকিউদের শোভাযাত্রায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১
যুক্তরাজ্যে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে প্রথম সম্মেলন

শেয়ার করুন

মন্তব্য