মালুমকে গার্ড অফ অনার নারীর নেতৃত্বেই

মালুমকে গার্ড অফ অনার নারীর নেতৃত্বেই

সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গনে জেয়াদ আল মালুমকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয় ঢাকার রমনা রাজস্ব সার্কেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা সুলতানা খান হীরামনির নেতৃত্বে। ছবি: নিউজবাংলা

সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেয়ার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। গত ১৩ জুন সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে করা এই সুপারিশে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়। সরকার অবশ্য সেই সুপারিশ আমলে নেয়নি।

গার্ড অব অনার থেকে নারীদেরকে বাদ দেয়ার সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সে সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হলো একজন নারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে।

সেই কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তিনি ঢাকার রমনা রাজস্ব সার্কেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

রোববার সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে প্রসিকিউটর মুক্তিযোদ্ধা জেয়াদ আল মালুমের মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এর ব্যবস্থাপনায় ছিল ঢাকা জেলা প্রশাসন।

সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানে নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেয়ার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। গত ১৩ জুন সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে করা এই সুপারিশে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় নারীবান্ধব বলে যে বক্তব্য এতদিন এসেছে, সেখানে সংসদীয় কমিটির এই অবস্থান জানায় বিস্ময়। সুপারিশটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটও করা হয়। বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান নারী ইউএনওরাও।

তবে সরকার শেষ পর্যন্ত এই সুপারিশ গ্রহণ করেনি। গত ২৪ জুন মুক্তিযুদ্ধে বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি সেদিন বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে লিঙ্গ বৈষম্য করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের সংবিধানের সংরক্ষণের জন্য শপথ নিয়েছি। কাজেই আমার এর বাইরে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কোনো মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হলে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার বিধান চালু করে।

গার্ড অফ অনার দিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে মরদেহে ফুলের শ্রদ্ধাও জানান ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

এই আয়োজনে নারী কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে কখনও কোনো বিতর্ক হয়েছে বলে গণমাধ্যমে আসেনি।

তার পরেও কেন এমন সুপারিশ-এমন প্রশ্নে সংসদীয় কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী শাহাজান খান বলেছিলেন, ‘এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।’

‘গার্ড অফ অনার সাধারণত জানাজার সময় দেয়া হয়’ জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এ জন্য এই ইয়েটা (সুপারিশ) আসছে। যদি গার্ড অব অনার জানাজার আগে দেয় বা পরে দেয়, তখন জানাজা থাকে না। সেইটা একটা জিনিস। আমরা দেখেছি, সব জায়গায় জানাজার সময় গার্ড অফ অনার দেয়। ওই জায়গায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনা করে এটা সুপারিশ করা হয়েছে।’

তবে এই সুপারিশের পর জানাজা আর গার্ড অব অনার যে এক নয়, এই বিষয়টি সামনে নিয়ে এসে জোরাল বক্তব্য রাখেন নারী ইউএনওরা।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনার: সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি
গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ
‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট
গার্ড অব অনার থেকে নারী বাদ: হতভম্ব জাসদ
গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সৌদি নারীদের হাতের মুঠোয় আকাশ জয়ের স্বপ্ন

সৌদি নারীদের হাতের মুঠোয় আকাশ জয়ের স্বপ্ন

উড়োজাহাজের কাজে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন সৌদি নারীরা। ছবি: আরব নিউজ

সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিয়াজি বলেন, ‘ছেলেবেলায় উড়োজাহাজে ওঠার পর প্রতিবার পাইলটের কেবিনে উঁকি দেয়ার চেষ্টা করতাম। একবার এক জাদুঘরে পাইলটের কেবিনে ঢুকেছিলাম। সেদিনই বুঝতে পারি, পাইলট হওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।’

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন ক্যারিয়ার বাছাইয়ের চিন্তা করলে উড়োজাহাজে কাজ করা সবার তলানিতে রাখতেন সৌদি আরবের নারীরা।

এমন নয় যে উড়োজাহাজে ঘুরে দেশ-বিদেশ দেখতে ইচ্ছা করত না তাদের।

ইচ্ছা থাকলেও স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারতেন না সৌদি তরুণীরা, কারণ উড়োজাহাজের কাজে পুরুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও নারীর অংশগ্রহণে সমাজের প্রতিবন্ধকতা।

তবে দেশটির কার্যত নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গত কয়েক বছরে নারীর ক্ষমতায়নসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারকাজ করায় সৌদি নারীরা আকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

ফ্লাইট ক্রু থেকে শুরু করে বিমান চালানো- কোনো ক্ষেত্রেই আজ পিছিয়ে নেই সৌদি নারীরা। তারা এখন পাইলট হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে দক্ষতার সঙ্গে বিমান চালাচ্ছেন হানাদি জাকারিয়া আল-হিন্দি, রাউইয়া আল-রিফি, ইয়াসমিন আল-মাইমানির মতো সৌদি নারীরা।

এই নামগুলো সৌদি আরবের অনেক তরুণীর অনুপ্রেরণার উৎস। তাদেরই একজন ১৭ বছর বয়সী আরওয়া নিয়াজি।

সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিয়াজি আরব নিউজকে বলেন, ‘ছেলেবেলায় উড়োজাহাজে ওঠার পর প্রতিবার পাইলটের কেবিনে উঁকি দেয়ার চেষ্টা করতাম।

‘একবার এক জাদুঘরে পাইলটের কেবিনে ঢুকেছিলাম। সেদিনই বুঝতে পারি, পাইলট হওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।’

পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এখন ফ্লাইট ক্রু হিসেবেও কাজ করছেন সৌদি নারীরা। ওই কাজ তাদের আগে নিষেধ ছিল।

দুই বছর আগে সৌদিয়া এয়ারলাইনসে যোগ দেন ফ্লাইট ক্রু আনহার তাশকান্দি।

তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের স্বস্তি দেয়া ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ আমরা শেষ করেছি। এই চাকরি আমাকে বিভিন্ন দেশ দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক সংস্কৃতিরও স্বাদ পাচ্ছি আমরা।’

ফ্লাইট ক্রু হিসেবে গর্ববোধ করা আশওয়াক নাসির বলেন, ‘আমার ফ্লাইট ক্রু হওয়ার স্বপ্নে বাবা-মা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

‘পাশাপাশি এখানে কাজ করার সুযোগ দেয়ার জন্য সৌদিয়া এয়ারলাইনসের কাছেও কৃতজ্ঞ।’

নাসিরের সহকর্মী রেহাম বাহমিশান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে খুব অবাক হতাম উড়োজাহাজে কোনো নারী ফ্লাইট ক্রু না দেখে।

‘পরে যখন দেখলাম সৌদিয়া এয়ারলাইনস এ পদে নারীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র নিচ্ছে, তখন প্রচণ্ড খুশি হই। দেরি না করে আবেদন করে ফেলি।’

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনার: সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি
গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ
‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট
গার্ড অব অনার থেকে নারী বাদ: হতভম্ব জাসদ
গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

শেয়ার করুন

অক্সফোর্ডের টিকা উদ্ভাবকের বারবি

অক্সফোর্ডের টিকা উদ্ভাবকের বারবি

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকার নকশাকারী অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট। ছবি: সংগৃহীত

বারবি পুতুলে নারীত্বের অবাস্তব এক প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যাপক সমালোচিত খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল। কয়েক বছর ধরেই সমালোচনার জবাব দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বছর বারবির আদলে অস্ট্রেলিয়ার এক চিকিৎসক আর ব্রাজিলের এক বায়োমেডিক্যাল গবেষকের পুতুলও তৈরি করেছে ম্যাটেল।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকার ডিজাইনার সারাহ ক্যাথরিন গিলবার্টের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি বারবি পুতুল।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ৫৯ বছর বয়সী অধ্যাপকের আদলে পুতুলটি তৈরি করেছে বারবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল।

বিশ্বজুড়ে শিশুদের বিনোদনের জন্য ম্যাটেলের তৈরি বারবি পুতুলে রাজকুমারী বা আধুনিক কেতাদুরস্ত, তথাকথিত দেখতে সুন্দর মুখ আর আকৃতির প্রাধান্য নিয়ে রয়েছে বেশ বিতর্ক।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল আর গণিতে কর্মরত পাঁচ নারীকে সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় ম্যাটেল। তাদেরই একজন ড. গিলবার্ট।

নিজের আদলে বারবি পুতুল দেখে চমকে যাওয়ার কথা জানিয়ে গিলবার্ট বলেন, ‘শুরুতে বিষয়টি অদ্ভূত মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে ভাবলাম আমার মতো পুতুল দেখে হয়তো পেশা নিয়ে সচেতন নয়, এমন শিশুরাও সচেতন হবে। টিকা গবেষক বা এমন অন্য পেশায় তারা আগ্রহী হবে।’

ভ্যাকসিনোলজিস্ট বা টিকা গবেষক সারাহ গিলবার্ট ব্রিটিশ রানির জন্মদিন উপলক্ষে দেয়া খেতাব ‘ডেমহুড’ পেয়েছেন।

চীনে করোনার অস্তিত্ব শনাক্তের পর ২০২০ সালের শুরুতেই ভাইরাসটির টিকা উদ্ভাবনের গবেষণায় যোগ দেন ড. গিলবার্ট। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তার উদ্ভাবিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। ১৭০টির বেশি দেশে কোটি মানুষ নিয়েছেন টিকাটি।

তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মেয়েদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল আর গণিতভিত্তিক পেশায় আগ্রহী দেখতে চাই। বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞাননির্ভর পেশা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা যদি আমার পুতুল নিয়ে খেলা করা শিশুরা উপলব্ধি করতে পারে, সেটাই যথেষ্ট।’

বারবি পুতুলে নারীত্বের অবাস্তব এক প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যাপক সমালোচিত খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল। গত কয়েক বছর ধরেই সমালোচনার জবাব দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বছর বারবির আদলে অস্ট্রেলিয়ার এক চিকিৎসক আর ব্রাজিলের এক বায়োমেডিক্যাল গবেষকের পুতুলও তৈরি করেছে ম্যাটেল।

এ ছাড়া সম্প্রতি ম্যাটেলের তৈরি করা পুতুলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, চিকিৎসক, নভোচারীসহ নানা পেশায় কর্মরত নারীদের তুলে ধরা হচ্ছে। ১৯৫৯ সালে প্রথম বাজারে আসার পর থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কেবল সোনালি চুলের শ্বেতাঙ্গ পুতুল তৈরি করলেও ইদানীং ভিন্ন রং-বর্ণের মানুষের পুতুলও তৈরি হচ্ছে।

মহামারিকালে ঘরবন্দি জীবনের কারণে শিশুদের খেলনায় ঝোঁক বাড়ায় গত বছর ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি দেখেছে বারবি।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনার: সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি
গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ
‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট
গার্ড অব অনার থেকে নারী বাদ: হতভম্ব জাসদ
গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

শেয়ার করুন

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী দীপিকার লড়াই

সমাজ বদলের সৈনিক দীপিকাকে সম্প্রতি পুরস্কৃত করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

দীপিকার স্কুলে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে এ আলোচনা দীপিকার মনে গেঁথে যায়। তারপর থেকে বাল্যবিবাহের সংবাদ শুনলেই তা রুখে দিতে ছুটে যায় এই কিশোরী।

সমাজ সংস্কারে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী। সচেতনতা বাড়াতে ছুটছে গ্রাম থেকে গ্রামে। অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে বন্ধ করছে বাল্যবিবাহ। অথচ সে নিজেই এক কিশোরী।

পশ্চিমবঙ্গের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী দীপিকা সাহু। সাতটি বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে এখন সে আলোচনায়। সমাজ বদলের সৈনিক দীপিকাকে সম্প্রতি পুরস্কৃত করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানার শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা দীপিকা। শারীরিক ব্যাধি নয়, সামাজিক ব্যাধিও যে কতটা ভয়ংকর তা অল্প বয়সে বুঝে গিয়েছে দীপিকা। কিশোরী ও নারীদের বেঁচে থাকার লড়াই তাকে বিচলিত করেছে। আর তাই অষ্টম শ্রেণীতে উঠেই যোগ দেয় কন্যাশ্রী ক্লাবে।

দীপিকার স্কুলে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অবহিত করতে। সামাজিক এ ব্যাধি নিয়ে আলোচনা দীপিকার মনে গেঁথে যায়। তারপর থেকে বাল্যবিবাহের সংবাদ শুনলেই তা রুখে দিতে ছুটে যায় এই কিশোরী। তাকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

দীপিকা সাহু জানায়, ২৮ এপ্রিল একটি বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছিল। খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারে, তারই এক বান্ধবীকে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য নিয়ে দীপিকা আলাপ করে বান্ধবীর অভিভাবকদের সঙ্গে। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সুফল মেলে। স্কুল পড়ুয়া বান্ধবীর বিয়ে আটকাতে পেরে খুশি দীপিকা।

দীপিকার কথায়, ‘রাজ্য সরকার কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা দেয়, তা দিয়ে ১৮ বছর পর্যন্ত পড়াশোনা করা যায়। তাই মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ না করার জন্য বলছি অন্যদের। অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করেই বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হচ্ছে।’

মেয়ের কীর্তিতে গর্বিত মা শিবানী সাহু। তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ কতটা খারাপ, সেটা আমার মেয়ে বুঝতে পেরেছে। অন্যদেরও বোঝাচ্ছে সে, তাতে আমি গর্বিত।’

সমাজসচেতনতা বাড়াতে স্কুলছাত্রী দীপিকার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ভবন ও জেলা প্রশাসনের তরফে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনার: সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি
গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ
‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট
গার্ড অব অনার থেকে নারী বাদ: হতভম্ব জাসদ
গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

শেয়ার করুন

অন্তঃসত্ত্বা-স্তন্যদায়ী মায়েদের টিকার সুপারিশ

অন্তঃসত্ত্বা-স্তন্যদায়ী মায়েদের টিকার সুপারিশ

বে-নজির আহমেদ সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে জানান, নাইটেগের সুপারিশের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের মতো করে সময়-সুযোগ বুঝে অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী মায়েদের টিকাদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী মায়েদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়ার সুপারিশ করেছে দেশের টিকাবিষয়ক সর্বোচ্চ পরামর্শক কমিটি বা ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন অ্যাডভাইজারি গ্রুপ (নাইটেগ)।

এই কমিটির সদস্য ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদ সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নাইটেগের সুপারিশের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের মতো করে সময়-সুযোগ বুঝে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের দিক থেকে পর্যালোচনা করে দেখেছি, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের টিকা দিলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। আমরাও সেই সুপারিশ করেছি।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘কবে থেকে টিকা দেয়া শুরু হবে এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা হয়নি। কিছুক্ষণ আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভার্চুয়াল একটি সভায় জানিয়েছেন, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

‘টিকাবিষয়ক সর্বোচ্চ পরামর্শক কমিটি বা ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন অ্যাডভাইজারি গ্রুপের (নাইটেগ) কাছে সুপারিশে চাওয়া হয়েছে। এখান থেকে লিখিত কোনো সুপারিশ আমরা পাইনি। এ কারণে এখনও নির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

এর আগে দুপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার বিষয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুনির্দিষ্ট একটা সিদ্ধান্ত চায় হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনকে পদক্ষেপ নিতে বলে উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনার: সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি
গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ
‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট
গার্ড অব অনার থেকে নারী বাদ: হতভম্ব জাসদ
গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইহুদিবিদ্বেষের আখড়া: প্রতিবেদন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইহুদিবিদ্বেষের আখড়া: প্রতিবেদন

ইহুদিবিদ্বেষী পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যর্থ হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইহুদিবিদ্বেষ ও তাদের নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ৮৪ শতাংশ পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষমতা দেখাতে পারেনি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটক।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গুরুতর ও কাঠামোগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওই মাধ্যমগুলো ‘বর্ণবাদীদের নিরাপদ আখড়ায়’ পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ইহুদিবিদ্বেষ ও তাদের নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ৮৪ শতাংশ পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষমতা দেখাতে পারেনি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটক।

চলতি বছরের শুরুর দিকে দেড় মাস সময় নিয়ে কয়েক শ ইহুদিবিদ্বেষী পোস্ট চিহ্নিত করেন যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইটের (সিসিডিএইচ) গবেষকরা।

নাৎসি, নব্য নাৎসি, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদসহ অন্যান্য বিদ্বেষী বক্তব্য সংবলিত ওইসব পোস্টে ৭৩ লাখের মতো মন্তব্য পড়ে।

এসব পোস্টের মধ্যে ৭১৪টি পরিষ্কারভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নীতি ভঙ্গ করে।

তবে ছয়টির মধ্যে একটিরও কম পোস্ট পরে সরানো হয় বা মডারেটরকে জানানোর পর মুছে ফেলা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সামাজিক মাধ্যমগুলো বেশ দুর্বল।

ধনী ইহুদি পরিবার রথশিল্ড, ইহুদি ধনকুবের জর্জ সরসকে ঘিরে কটূক্তি থেকে শুরু করে করোনা মহামারিকালে ইহুদিদের নিয়ে ভুল তথ্য ওইসব পোস্টে ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, সেই ঘটনার অস্বীকৃতি জানানো পোস্টও বহাল রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে।

ওই বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬০ লাখ ইহুদি হত্যার ঘটনা চেপে যায় ৮০ শতাংশ পোস্ট। সে ক্ষেত্রেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গবেষণা করা পাঁচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে ফেসবুকের অবস্থা সবচেয়ে বাজে।

ইহুদিবিদ্বেষী পোস্টের মধ্যে কেবল ১০.৯ শতাংশের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছে।

যদিও গত বছর ইহুদিবিদ্বেষী কন্টেন্টের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রবর্তন করে ফেসবুক।

গত বছরের নভেম্বরে ইহুদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অস্বীকার বা বিকৃত করা কন্টেন্ট বন্ধ সংক্রান্ত নীতি হালনাগাদ করেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনার: সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি
গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ
‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট
গার্ড অব অনার থেকে নারী বাদ: হতভম্ব জাসদ
গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

শেয়ার করুন

‘আমরাও তো মানুষ, কী খেয়ে বাঁচব’

‘আমরাও তো মানুষ, কী খেয়ে বাঁচব’

করোনায় ময়মনসিংহের তনুর মতো দেশের অসংখ্য ট্রান্সজেন্ডার কোনো রকমে খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করছেন। তারা বলছেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহায়তা মেলেনি। বেসরকারি সংগঠন থেকে কিছু সাহায্য পেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম।

‘ভাইরে বিষ খেয়ে মরা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। তাই ভাবছি, একেকজন করে বিষ খাব, আর একেকজন করে মরব। কী করব বলেন, পেটের যন্ত্রণা এমন যন্ত্রণা, তা আপনি বুঝবেন না। পেটের যন্ত্রণার চেয়ে বিষ খেয়ে মরার যন্ত্রণা অনেক কম। মৃত্যু ছাড়া আমাদের আর কোনো গতি নাই, ভাই।’

হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে নিউজবাংলাকে এসব কথা বলছিলেন ময়মনসিংহ শহরের কাচারিঘাট এলাকার ‘হিজড়া সম্প্রদায়ের’ গুরুমা (গোষ্ঠীপ্রধান) আনিসুর রহমান তনু, যিনি সবার কাছে ‘তনু হিজড়া’ নামে পরিচিত।

তিনি জানান, করোনা মহামারির প্রকোপ প্রতিরোধে একের পর এক লকডাউনে ট্রান্সজেন্ডারদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তারা কেমন আছেন, তা মুখের ভাষায় বলে বোঝানো সম্ভব না।

তনু বলেন, ‘এককথায় আমরা খুবই খারাপ আছি, ভাই। এই দেড়টা বছর আমরা যে কীভাবে বেঁচে আছি, তা মুখে বলে বোঝাতে পারব না। আমরা একটা বিয়ে হলে নাচগান করি, বাচ্চা নাচাই, বাজারে তরিতরকারি, টাকা-পয়সা তুলি। এখন করোনার কারণে সবকিছুই বন্ধ। তাই আমাদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’

করোনায় ময়মনসিংহের তনুর মতো দেশের অসংখ্য ট্রান্সজেন্ডার কোনো রকমে খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করছেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তেমন সহায়তা মেলেনি। বেসরকারি সংগঠন থেকে কিছু সাহায্য পেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হটলাইন নম্বরে ফোন করে সাধারণ মানুষের মতো ট্রান্সজেন্ডাররাও খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন।

গুরুমা তনুর অভিযোগ, এবার সরকারি-বেসরকারিভাবে তারা ওইভাবে সাহায্য-সহযোগিতাও পাননি।

তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা ডিসির কাছ থেকে ১০ কেজি চাল, ১০ কেজি আলু ও ১ কেজি তেল পাইছিলাম। এবার পাইছি শুধু ১০ কেজি চাল। আর বেসরকারিভাবে কিছু সাহায্য পেয়েছি। এখন আপনিই বলেন, এই দেড় বছরে এসব সাহায্যে কি পেট চলে?’

তনু জানান, তার সঙ্গে প্রায় আড়াই শ ট্রান্সজেন্ডার আছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। কিন্তু সেখানেও সমস্যা।

তিনি বলেন, ‘বাড়ির লোকজন বা আশপাশের মানুষ বলে হিজড়া কেন আসছে? ওদের কেন রাখছ? এ রকম নানা ধরনের কথা বলে। মানে বাড়িতে গিয়েও শান্তি নাই। তাই অনেকে বাড়ি গিয়েও চলে আসছে।’

তনু বলেন, ‘এখন হাটবাজারেও চাল-ডাল, আলু-তেল চাইতে গেলে দোকানদাররা আগের মতো দেয় না। বলে এখন আমাদেরই চলে না, আবার তোমাদের কী দেব?’

তিনি বলেন, ‘এখন এমন একটা পরিবেশ চলছে যে, আরেকজনের কাছে যাব, তার কাছ থেকে কিছু চাইব, সেই পরিবেশটাও নাই। এখন আমরা কীভাবে চলব, সেটা বুঝতেছি না। আর ছিনিয়ে নিয়ে যে কিছু কামাই করব, তাও তো পারছি না। কারণ লকডাউনে মানুষ তো রাস্তায় বের হচ্ছে না।’

তনু জানান, তার আড়াই শ শিষ্যের মধ্যে ২৫ জন বাসা ভাড়া দিয়ে বাজার করে চলতে না পেরে তার কাছে চলে এসেছেন, যাদের ডাল-ভাতের বেশি কিছু দিতে পারছেন না তিনি।

এই পরিস্থিতিকে মরণদশার সঙ্গে তুলনা করেছেন ময়মনসিংহ শহরের কাচারিঘাট এলাকার ট্রান্সজেন্ডারদের এই গুরুমা।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মরতে হবে। কারণ পরিবারে আমরা ঠাঁই পাই না; বাড়িতে গেলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। আর যেসব পরিবার আশ্রয় দেয়, তারাও বলে শাড়ি পরতে পারবা না। চুল কেটে ছেলেদের মতো করো, নখ কাটো, মেয়ের পোশাক পরা চলবে না, ছেলের পোশাক পরো; ঘর থেকে বের হবে না, বের হলেও বাইরের মানুষের সামনে যাবে না।

‘আমি তো একটা মানুষ ভাই। ঘরে বন্দি হয়ে কি সব সময় থাকতে পারি? আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা না বললে আমি কি বাঁচব, ভাইয়া?’

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ট্রান্সজেন্ডার রূপকথা বলেন, ‘করোনার শুরু থেকেই আয়-রোজগার বন্ধ। এখন মানুষের বাচ্চাকাচ্চা হলেও করোনার কারণে আমাদের বাসায় ঢুকতে দেয় না। পাড়া-মহল্লায় মানুষের কাছ থেকে যে সাহায্য পেতাম, এখন তাও পাই না।

‘সবারই অভাব। কে কাকে সাহায্য করবে? জমানো কিছু টাকা আর গুরুমার সাহায্যে এখনও দুই বেলা খেয়ে বেঁচে আছি। তবে বাসা ভাড়া দিতে পারতেছি না। এভাবে আর কত দিন চলতে পারব জানি না ভাই।’

রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন ট্রান্সজেন্ডার কোয়েল। করোনায় আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চার মাসের ভাড়া বকেয়া রেখেই বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি।

কোয়েল বলেন, ‘আমার মতো এই রকম অনেকে আছে, যারা এই করোনার সময় কাজকাম না পেয়ে অভাবে দেশের বাড়ি চলে গিয়েছিল। কিন্তু বেশির ভাগই আবার শহরে চলে আসছে। তাদের কেউ পরিবারে জায়গা পায়নি। আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি।

‘আমাদের তো কেউ কোনো কাজেও নেয় না যে আমরা কাজ করে খাব। এখন কী করব সেটাই বুঝতে পারছি না। কোনো উপায় না পেয়ে দুই মাস আগে গুরুমা অনু হিজড়ার বাসায় উঠছি।’

কোয়েল নিউজবাংলাকে জানান, তিনি একা নন; বাসা ভাড়া টানতে না পেরে লাভলী, মধু শাহনাজ, আলিশাসহ ১০ থেকে ১২ জন ট্রান্সজেন্ডার গুরুমা অনুর বাসায় থাকছেন।

তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কারও বাচ্চাকাচ্চা হলে আমাদের বাসাবাড়িতে ঢুকতে দেয় না। আবার বিয়েশাদির অনুষ্ঠান সবকিছুই বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানেও আমাদের যেতে দেয় না।

‘তাই কোনো রকম খেয়ে না-খেয়ে বেঁচে আছি। জীবনে যা রোজগার করছিলাম, করোনার এক বছর তা দিয়ে চলছি। আর চলতে পরতেছি না। বাড়িতেও যেতে পারি না। কোনো উপায় না পেয়ে গুরুমার কাছে উঠছি। এখানেই দুবেলা দুটো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি।’

পল্টন-ওয়ারী এলাকার ট্রান্সজেন্ডারদের গুরুমা অনু নিউজবাংলাকে জানান, তার শিষ্য আছে প্রায় ২০০। তাদের আয়-রোজগার বলতে গেলে একদমই নেই। দুই-একজন ছাড়া বেশির ভাগেরই অবস্থা ভালো নয়।

তিনি বলেন, ‘তারা কোনো রকম খেয়ে-পরে বেঁচে আছে। ১০-১৫ জন আর কোনোভাবেই বাসা ভাড়া দিয়ে ঢাকা শহরে চলতে পারতেছিল না। আমি তাদের আমার বাসায় নিয়ে আসছি। আমি যা খাই, তাদেরও তা খাওয়াই। কিন্তু আর কত দিন এভাবে চলব, বলেন?’

২০১৪ সালে বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডারদের স্বতন্ত্র লিঙ্গ হিসেবে সাংবিধানিক ও আইনি স্বীকৃতি দেয়া হয় ৷ ভোটাধিকারও পেয়েছেন তারা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসাবে বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

তবে অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর দ্বিগুণের বেশি। ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে তাদের সংখ্যা দেড় লাখ।

তবে গুরুমা অনুর দাবি, ‘ঢাকা শহরেই ট্রান্সজেন্ডারের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। খোঁজ নিয়ে দেখেন তারা সবাই খুবই খারাপ অবস্থায় আছে।’

‘আমরাও তো মানুষ, কী খেয়ে বাঁচব’
পল্টন-ওয়ারী এলাকার ট্রান্সজেন্ডারদের গুরুমা অনু। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আর কার কাছে আমরা সাহায্য চাব বলেন। সবাই তো এখন অভাবী। সব মিলিয়েই খুব খারাপ আছি, ভাই। পোলাপাইনের মুখের দিকে তাকাতে পারি না।’

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কিছু সাহায্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুরান ঢাকার ট্রান্সজেন্ডার মিতু।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছরে ঢাকার জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশন, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, উত্তরণ ফাউন্ডেশন আর পুলিশের ডিআইজি হাবিব ভাই আমাদের সাহায্য করেছেন।’

বেসরকারি সংগঠন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ম্যানেজার (ট্রেইনিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) মেসবাহ ইউ আহমেদ বিরাজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হিসাবে সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ ট্রান্সজেন্ডার আছে। করোনাকালে আমরা সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করে যাচ্ছি। ৩৭টি সংগঠনের মাধ্যমে আমরা সারা দেশে সাত থেকে আটবার রিলিফ দিয়েছি। ইউএনডিপির ত্রাণও আমাদের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছেছে।’

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ ১৫ দিনে হয়তো ওদের অবস্থা একটু খারাপ হয়েছে। কারণ হয়তো ওরা ত্রাণের সদ্ব্যবহার করতে পারে নাই।’

ট্রান্সজেন্ডারদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) সাব্বির ইমাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের তালিকায় যারা আছেন, তাদের ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও ট্রেনিং চালিয়ে যাচ্ছি। ত্রাণের কাজটা আমরা করি না; এটা করে ত্রাণ মন্ত্রণালয়।’

এ বিষয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, ‘আসলে তাদের জন্য আলাদা করে আমাদের কোনো সাহায্য কর্মসূচি নেই। সাধারণ মানুষ যেমন আমাদের হটলাইন (৩৩৩) নম্বরে ফোন করে খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন, তেমন তারাও পাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনার: সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি
গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ
‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট
গার্ড অব অনার থেকে নারী বাদ: হতভম্ব জাসদ
গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

শেয়ার করুন

নারী এমডি পেল পিকেএসএফ

নারী এমডি পেল পিকেএসএফ

পিকেএসএফের নতুন এমডি নমিতা হালদার।

২০১৮ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়া নমিতা বর্তমানে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসরিয়াল ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। তিনি বাংলাদেশ মানাবাধিকার কমিশনের একজন সম্মানিত সদস্য।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সচিব নমিতা হালদার।

সরকারি প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে এই প্রথম কোনো নারী দায়িত্ব পেলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে একাদশ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন নমিতা হালদার।

তিনি সাবেক এমডি মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন। গত মার্চে মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেয়ার পর এই পদটি খালি ছিল।

বৃহস্পতিবার পিকেএসএফের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নমিতার এমডি হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়া নমিতা বর্তমানে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসরিয়াল ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। তিনি বাংলাদেশ মানাবাধিকার কমিশনের একজন সম্মানিত সদস্য।

নমিতা হালদার তার দীর্ঘ ৩০ বছরের সরকারি দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় প্রশাসন থেকে উচ্চতর স্তরে নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন- উভয় পর্যায়েই সুনাম অর্জন করেছেন।

তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিবের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

বাগেরহাটে জন্ম নেওয়া নমিতা হালদার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে উন্নয়ন প্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টর্চাচের ক্যান্টারবেরি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসইভাবে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিকেএসএফ গড়ে তোলে সরকার। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে দেশব্যাপী আর্থিকসহ নানা সেবা দিয়ে থাকে।

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ পিকেএসএফের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
গার্ড অফ অনার: সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি
গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ
‘গার্ড অব অনার’ বিষয়ে চূড়ান্ত হলে দেখবে হাইকোর্ট
গার্ড অব অনার থেকে নারী বাদ: হতভম্ব জাসদ
গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

শেয়ার করুন