ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হেনগ্যাম দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষ সদস্যরাই মাছ ধরার কাজ করতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন কিংবা মাছের দোকানে বসতেন। তবে বদলে গেছে সেই দিন।

ইরানের ছোট্ট দ্বীপ হেনগ্যাম। ছোট ছোট নৌকায় কন্যা সন্তানদের নিয়ে জেলেদের মাছ ধরা সেখানকার প্রতিদিন ভোরের নিয়মিত দৃশ্য।

তীব্র স্রোতেও এই কিশোরী-তরুণী জেলেরা পিছু হটেন না। প্রতিদিনের মাছ ধরতে তাদের পারি দিতে হয় একের পর এক উঁচু ঢেউ। হাসিমুখেই সেসব ঢেউ পার করে মাছ নিয়ে ঘরে ফেরেন তারা।

কারণ তাদের মায়েরা একই শিক্ষা পেয়েছেন, একই শিক্ষা দিয়েছেন মেয়েদেরও।

ভাইস এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রক্ষণশীল ইরানে হেনগ্যাম একমাত্র দ্বীপ যেখানে পুরুষের সাহায্য ছাড়াই কাজের জন্য সাগরে ভাসেন নারীরা।

ইরানের দক্ষিণে পারস্য উপসাগরীয় এই দ্বীপে বসবাস প্রায় ৫০০ পরিবারের। তাদের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরা।

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষেরাই মাছ ধরতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন বা মাছের দোকানে বসতেন।

তবে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে কয়েক বছর আগে। বাড়তি আয় আর উন্নত জীবনের আশায় দ্বীপ ছেড়ে কাজের জন্য ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে জেলে পরিবারের তরুণেরা।

আর পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস মাছ শিকার ধরে রাখতে এতে যুক্ত হতে শুরু করেন নারীরা।

বাবা, স্বামী, ভাই বা সন্তান যখন অন্য শহরে জীবিকা উপার্জনের আরও ভালো মাধ্যম খুঁজছে, তখন তাদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিতে শুরু করেন নারীরা।

এভাবেই দ্বীপটির নারীদের জীবিকা উপার্জনের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে মাছ ধরা।

ইরানের দক্ষিণ প্রান্তের দ্বীপটির আছে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। শিল্প, সঙ্গীত আর খাবারের ঐতিহ্যের পাশাপাশি কয়েক শ বছর ধরে সেখানে চল ছিল উন্নতমানের রেশম উৎপাদন।

দাস ব্যবসার জন্য মানুষ পাচারের অন্যতম রুটও ছিল এটি।

পুরোনো সব পেছনে ফেলে দ্বীপটির নারীরা এখন সাগরকে জীবীকার প্রধান অবলম্বন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

তরুণী জেলে খাদিজা গোডসি বলেন. ‘আমরা মাছ ধরার সরকারি স্বীকৃতি পেলে জ্বালানি আর আমাদের নৌকার বিমায় ভর্তুকি পাব।’

একই কারণে দ্বীপের অন্য তরুণীরাও চান জেলে হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি। এতে নৌকার দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পর্যটকদের সাগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবেন তারা।

তবে এই সরকারি অনুমোদন পেতে পার হতে হবে বড় বাধা।

অনুমতিপত্রের জন্য নারীরা প্রথম আবেদন করার পর স্থানীয় মৎস্যবিভাগ জানায়, নিরাপত্তার কারণে দুইজন নারীকে একটি করে অনুমতিপত্র দেয়া হবে।

সে ক্ষেত্রে দুটি নৌকার মালিক দুইজন নারী আর তাদের অনুমতিপত্র একটি হলে সেটি কার কাছে থাকবে, মাছ ধরা ও আয়ের ভাগাভাগি কীভাবে হবে- ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নেই।

বিষয়টির মীমাংসায় গভর্নরের কাছে মাসের পর মাস দেনদরবারের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩০ জন নারীকে আলাদাভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার নিশ্চয়তা দেয় কর্তৃপক্ষ।

যদিও আবেদনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিবন্ধন পাননি কেউ।

অনুমতিপত্রের জন্য অপেক্ষা করার সময়ে সংসার তো থেমে নেই। এ অবস্থায় আপাতত হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বা সেবা দিয়ে আয় করার চেষ্টা করছেন তারা।

আরও পড়ুন:
জেন্ডার সমতার চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন শরণার্থী নারীরা
ট্রান্সজেন্ডারদের চাকরি দিচ্ছে ফুডপান্ডা
নিজ ঘরে উঠলেন ৪০ জন ট্রান্সজেন্ডার
ট্রান্সজেন্ডার ফরিদা শোনালেন স্বীকৃতি আদায়ের গল্প
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা

শেয়ার করুন

মন্তব্য