উইঘুর ইস্যুতে ৪০ দেশের উদ্বেগ, ক্ষুব্ধ চীন

উইঘুর ইস্যুতে ৪০ দেশের উদ্বেগ, ক্ষুব্ধ চীন

চীনের শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের একটি বন্দিশিবির। ছবি: এএফপি

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা মিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াং দুয়ান একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি কানাডায় সম্প্রতি ২১৫ আদিবাসী শিশুর গণকবর শনাক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কানাডার নেতৃত্বে একযোগে নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে ৪০টির বেশি দেশ। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুধু শিনজিয়াংই নয়, চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং আর তিব্বতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে প্রায় ৫০টি দেশ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ইউএনএইচআরসিতে মঙ্গলবার চীনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তোলে কানাডা। এতে সমর্থন দেয় আরও অনেক দেশ।

জবাবে কানাডার ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় চীন।

মানবাধিকার, বাণিজ্য ইস্যু আর উসকানিমূলক কূটনীতির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত চীন-কানাডা সম্পর্ক।

কানাডার দূত লেসলি নর্টন বলেন, ‘উইঘুরদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন।’

নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে শিনজিয়াংয়ে প্রবেশাধিকার দিতে চীনের প্রতি আহ্বানও জানায় কানাডা। অঞ্চলটিতে ১০ লাখ মুসলিমকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে জাতিসংঘের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো হয় এ আহ্বান।

এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে সমর্থন দেয় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, উইঘুরদের সঙ্গে নির্মম, অমানবিক আচরণ করছে বেইজিং। সন্তান জন্মদান নিয়ন্ত্রণ, যৌন সহিংসতা, সন্তানদের কাছ থেকে মা-বাবাদের জোরপূর্বক আলাদা করে দেয়ার অভিযোগও করা হয়।

জবাবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা মিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াং দুয়ান একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি কানাডায় সম্প্রতি ২১৫ আদিবাসী শিশুর গণকবর শনাক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আগে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত করুক কানাডা। এর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুক।

চীনের এ বক্তব্যে সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া, বেলারুশ, ইরান, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

চীনকে সমর্থন দেয়া সবগুলো দেশের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান

আফগান মেয়েদের স্কুলে বারণ ইসলামবিরোধী: ইমরান

আফগানিস্তান ও তালেবান ইস্যু নিয়ে বিবিসির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

আফগানিস্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী শিক্ষার্থীরা দ্রুত ফিরবে বলে বিশ্বাস পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘নারীদের শিক্ষিত করার দরকার নেই, এই ধারণা ইসলামসম্মত নয়। এমন ধারণার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আফগানিস্তানে নারী শিক্ষার্থীদের স্কুলে না পাঠাতে তালেবান সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বলেছেন, শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ করতে না দেয়া ইসলামবিরোধী ধারণা।

বিবিসিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের নারী শিক্ষা বিরোধী মনোভাব নিয়ে এ মন্তব্য করেন ইমরান খান।

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের মাধ্যমিক স্কুলগুলো খুলে দেয়া হয়। তবে ক্লাসে রাখা হচ্ছে না কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী। কেবল ছেলে শিক্ষার্থী এবং পুরুষ শিক্ষকদের স্কুলে আসতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী শিক্ষার্থীরাও দ্রুত ফিরবে বলে বিশ্বাস ইমরান খানের।

বিবিসির সাংবাদিক জন সিম্পসনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা (তালেবান) ক্ষমতায় আসার পর যেসব বিবৃতি দিয়েছে তা খুবই উৎসাহ ব্যঞ্জক। আমি মনে করি, তারা নারী শিক্ষার্থীদেরও স্কুলে যেতে অনুমতি দেবে।’

‘নারীদের শিক্ষিত করার দরকার নেই, এই ধারণা ইসলামসম্মত নয়। এমন ধারণার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই’, যোগ করেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী।

ইমরান খান জানান, যেসব শর্ত রাখা হয়েছে তা পূরণ করতে পারলেই কেবল তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে ইসলামাবাদ।

সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে এবং মানবাধিকাররের প্রতি সম্মান দেখাতে তালেবান নেতৃত্বের প্রতি ফের আহ্বানও জানান ইমরান খান। তিনি এটাও বলেছেন যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন কোনো সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া উচিত হবে না।

একের পর এক প্রদেশ জয়ের পর গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে পুরো আফগানিস্তান দখলের ষোলকলা পূর্ণ করে তালেবান।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামী গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

সবার অংশগ্রহণের সরকার না হলে আফগানিস্তান গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘তারা যদি সব গোত্রকে সরকারে না টানে তাহলে আগে বা পরে তাদেরকে গৃহযুদ্ধে পড়তে হবে। যার অর্থ, অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খল আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য উত্তম জায়গায় পরিণত হবে। আর এটা দুশ্চিন্তার বিষয়।’

আরও পড়ুন:
উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন

শেয়ার করুন

গরুর দুধে সোনা তত্ত্বে মজলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি

গরুর দুধে সোনা তত্ত্বে মজলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি

বিজেপির সাবেক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সুকান্ত মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

দিলীপ ঘোষের তত্ত্ব অনুযায়ী গরুর যে কুঁজ থাকে, তার মধ্যে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লে তার থেকে সোনা তৈরি হয়। এ নিয়ে সে সময় তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে দিলীপ ঘোষ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষের বহুল বিতর্কিত ‘গরুর দুধে সোনা’ তত্ত্বে সমর্থন দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

সোমবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েছেন সুকান্ত। মঙ্গলবার কলকাতায় মুরলী ধর সেন লেনের বিজেপি অফিসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পূর্বসূরি দিলীপ ঘোষের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

দিলীপ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গরুর দুধে সোনা থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘এটা সমর্থন বা অসমর্থনের বিষয় নয়। বিষয়টিকে পেশ করা হয়েছে অন্যভাবে। ওই সময় একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে ভারতীয় গরুর দুধে সোনার অস্তিত্ব নিয়ে একটা পেপার বেরিয়েছিল। আমি ওই সময় এটা পড়েছিলাম। সেটাই দিলীপদা বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘খাবার খেলে শরীরে আয়রন তৈরি হয়, তার মানে এই নয় যে সেই লোহার টিএমটি বার দিয়ে গাড়ি বানাবেন।’

২০১৯ সালের নভেম্বরে বিজেপির সদ্য সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছিলেন, ‘ভারতীয় গরুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার দুধের মধ্যে সোনার ভাগ থাকে। এজন্য দুধের রং একটু হলদে হয়।’

দিলীপ ঘোষের তত্ত্ব অনুযায়ী গরুর যে কুঁজ থাকে, তার মধ্যে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লে তার থেকে সোনা তৈরি হয়। এ নিয়ে সে সময় তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে দিলীপ ঘোষ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির বক্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘ওদের পুরোটাই গরু বিজ্ঞানীদের দল। সেটা যারা বিশ্বাস করার, করবে।’

বিজেপিতে এত লোক থাকতে সুকান্ত মজুমদারের মতো কম পরিচিত একজন তরুণ শিক্ষক ও সাংসদকে রাজ্য সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ার কারণ কী?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলার মানুষ নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন। ওই অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে জেলায় বিজেপি তাদের সংগঠন বাড়াতে জেলার লোককে নেতৃত্বে এনেছে।

উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গ বিভাজনের স্লোগান দিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকেই বিজেপির উত্থান হয়েছে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করেছে এই অঞ্চলে।

রাজ্যজুড়ে বিজেপি ব্যর্থ হলেও সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে তারা বালুরঘাট সাংসদ এলাকার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের তিনটিতে জয়লাভ করেছে। তার রিপোর্ট কার্ডে তিনে তিন হয়ে যায়। এর ফলে সুকান্ত নজরে আসেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।

উত্তরবঙ্গকে ঘাঁটি করে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বাড়ানোর কাজে বালুরঘাটের সাংসদ, সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী রায়ের বোনের ছেলে, অল্প বয়স থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) করা সুকান্ত মজুমদারের ওপর নির্ভর করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন:
উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন

শেয়ার করুন

ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ

ফ্রান্সে নির্বাচনের আগে মুসলিমবিরোধী পদক্ষেপ

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাকি নেই আট মাসও। এখনই প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ প্রায় ৬০ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছেন বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন জনমত জরিপে। এ অবস্থায় কট্টর ডানপন্থিদের ভোট পেতে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করছে তার দল। মাখোঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থি মেরি ল্যু পেন আগে থেকেই নিজের ইসলামবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী অবস্থানের জন্য পরিচিত।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন মুসলিম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন দেশটির রাজনীতিবিদরা। ভোটারদের সমর্থন পেতে হাতিয়ার করেছেন ইসলামভীতিকে; আশ্বাস দিচ্ছেন মুসলিম সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডার্মানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, মুসলিমদের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইসলামের ইতিহাসে ধর্মবিশ্বাসের দোহাই দিয়ে লড়াই করা মুসলিম নেতাদের কথা বলা বই বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘নাবা এডিশন্স’। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব এবং তাদের অন্যতম দুই প্রধান লেখক আইসাম আইত ইয়াহইয়া ও আবু সোলাইমান আল কাবির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে প্যারিস।

মন্ত্রীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদকীয় নীতিমালা ‘সার্বজনীনতাবাদ-বিরোধী ও পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক’। জিহাদকে বৈধতা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু বই প্রকাশ করেছে বলেও অভিযোগ তার।

এসব প্রকাশনার একটি হলো সপ্তম শতকের মুসলিম সেনা অধিপতি খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদের জীবনী।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাসে বর্বরতার অভিযোগে বিতর্কিত বিভিন্ন চরিত্র ও ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব রয়েছে ফরাসি প্রশাসনের। কিন্তু দেশটিতে মুসলিমরা নিজেদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বই প্রকাশ করলে তা উগ্রবাদ হিসেবে গণ্য করে প্যারিস।

এক বিবৃতিতে নাবা এডিশন্স ফ্রান্সের এ ‘দ্বিমুখী আচরণের’ নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি রাষ্ট্রের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আচরণ।

গত বছর ফ্রান্সের সর্ববৃহৎ মুসলিম দাতব্য সংস্থা বারাকা সিটি বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপরে ইসলামভীতির বিরুদ্ধে কাজ করা পরামর্শক সংস্থা সিসিআইএফও ভেঙে দেয়া হয়। ফ্রান্সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা একমাত্র প্রতিষ্ঠান ছিল সেটি।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাকি নেই আট মাসও। এখনই প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ প্রায় ৬০ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছেন বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন জনমত জরিপে। এ অবস্থায় কট্টর ডানপন্থিদের ভোট পেতে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করছে তার দল।

মাখোঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থি মেরি ল্যু পেন আগে থেকেই নিজের ইসলামবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী অবস্থানের জন্য পরিচিত।

আরও পড়ুন:
উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন

শেয়ার করুন

মোদি-বাইডেন বৈঠকে গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাসবাদ

মোদি-বাইডেন বৈঠকে গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাসবাদ

জো বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদি এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। ফাইল ছবি

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘মোদি-বাইডেন বৈঠকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী এবং বহুমুখী সম্পর্কের পর্যালোচনা হবে। তারা ভারত-মার্কিন বৈশ্বিক অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।'

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ওয়াশিংটনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন ২৪ সেপ্টেম্বর। এ বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও আলোচনা হবে আন্তর্জাতিক মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার উপায় নিয়ে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মঙ্গলবার এ কথা জানান।

শ্রিংলা বলেন, ‘মোদি-বাইডেন বৈঠকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী এবং বহুমুখী সম্পর্কের পর্যালোচনা হবে। তারা ভারত-মার্কিন বৈশ্বিক অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন। আন্তর্জাতিক মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার উপায় নিয়েও আলোচনা হবে।

‘দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হবে।’

ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর হবে ২২ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর। এ সময় তিনি ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্ক যাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। সেদিন হোয়াইট হাউসে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে নিয়ে গঠিত কোয়াডের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকও হবে।

কোয়াড নেতাদের এটাই হবে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। সেখানে আফগানিস্তানে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলা ছাড়াও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে বলে সূত্রের দাবি।

নরেন্দ্র মোদি ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৬তম অধিবেশনে অংশ নেবেন।

জো বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই হবে মোদির প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। যদিও গত মার্চে কোয়াড সম্মেলন, এপ্রিলে জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষ সম্মেলন ও জুনে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে তাদের কথা হয়েছে। তিনটি অনুষ্ঠানই ছিল ভার্চুয়াল।

আরও পড়ুন:
উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন

শেয়ার করুন

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে রোভার ভাইপার। ছবি: নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানিতে তৈরি বরফের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিশ্চিতে একটি রোবটিক রোভার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২৩ সালে চাঁদের নোবিলে ক্রেটারের পশ্চিম প্রান্তে অবতরণ করবে রোবটটি।

৭৩ কিলোমিটার চওড়া নোবিলে ক্রেটার খাদটি প্রায় স্থায়ীভাবে ছায়ায় ঢাকা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভোলাটাইলস ইনভেস্টিগেটিং পোলার এক্সপ্লোরেশন রোভার, সংক্ষেপে ভাইপার মিশন নামের ওই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ বরফের সন্ধান মিললে এবং খননযোগ্য হলে তা খাবার পানি ও মহাকাশযানের জ্বালানির চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

চাঁদে অবস্থানরত অবস্থায় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযান জ্বালানি নিতে পারলে মহাকাশভ্রমণের খরচ অনেক কমে আসবে।

২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে আভাস দেয়া হয়, চন্দ্রপৃষ্ঠে রকেটের জ্বালানির কেজিপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। আর পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথে সেই একই পরিমাণ জ্বালানি পাঠানোর খরচ হবে ২০ গুণ বেশি, প্রায় ১০ হাজার ডলার।

চলতি দশকেই চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারীদের পাঠাতে চায় নাসা। সংস্থাটির আর্টেমিজ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম নারী ও প্রথম মিশ্র বর্ণের কোনো ব্যক্তি চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটিতে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে এ কর্মসূচি।

ভাইপারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার এমিজ রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ জানান, ২০২৩ সালের অভিযানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে পানির বরফ খনন মানুষের জন্য কতটা কঠিন কিংবা সহজ হতে পারে।

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস জানান, চন্দ্রপৃষ্ঠের ঠিক কোথায় বরফ আছে, এর ঘনত্ব কেমন, গভীরতা কত- এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলতে ভাইপার অভিযানের মাধ্যমে।

এ অভিযানে পরিচালনায় সক্ষম রোভারের নকশা তৈরি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন ভাইপারের প্রধান প্রকল্প বিজ্ঞানী অ্যান্থনি কোলাপ্রিট। তিনি বলেন, ‘চাঁদের দক্ষিণ মেরু মানুষের জন্য একেবারেই অপরিচিত।

‘একে তো বিশাল বিশাল গর্ত আছে সেখানে, যার কাছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টও শিশু; তার ওপর ভয়ঙ্কর শীতল রাত আর তারপর দিনে উষ্ণ পরিবেশে কাজ করার উপযোগী রোভার তৈরি করতে হবে।’

রোভারটি পাঠানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোবটিকের তৈরি একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে। নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেসের অধীনে ভাইপার রোভারটি সরবরাহ করতে অ্যাস্ট্রোবটিক।

এ জন্য ২০২০ সালের জুনে প্রায় ২০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে চলতি মাসে ওরিয়ন ক্যাপসুলের কাঠামো তৈরি সম্পন্ন করেছে নাসা। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর অভিযানে অংশ নেয়া নভোচারীরা চড়বেন এই ক্যাপসুলে।

আরও পড়ুন:
উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন

শেয়ার করুন

অর্থসংকটে আফগান গণমাধ্যম, তথ্যে প্রবেশাধিকার খর্ব

অর্থসংকটে আফগান গণমাধ্যম, তথ্যে প্রবেশাধিকার খর্ব

তালেবানের তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের দাবি, আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম মুক্ত, কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।

অর্থসংকটে পড়েছে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমগুলো। একই সঙ্গে তালেবান শাসনে কঠোরভাবে সীমিত করে দেয়া হয়েছে তথ্যে প্রবেশাধিকারও।

আফগানিস্তান ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস ও আফগানিস্তান ন্যাশনাল জার্নালিস্টস ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, গত এক মাসে কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে গেছে ১৫৩টি আফগান সংবাদমাধ্যমের। অর্থসংকট ও তথ্যে প্রবেশাধিকার না থাকায় এমন পরিস্থিতি।

টোলো নিউজের মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আফগান সংবাদমাধ্যম।

পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, আফগান গণমাধ্যমে অর্থসংকটের মূল কারণ দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক সংকট।

বোস্ট রেডিওর প্রধান আব্দুল সালাম জাহিদ বলেন, ‘আগে আমরা সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সাহায্য সংস্থার প্রকল্পে কাজ করতাম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন প্রচার বাবদ অর্থ পেতাম। কিন্তু এখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয় বলে সেসবই বন্ধ।’

সংবাদ প্রতিবেদক বিসমিল্লাহ ওয়াতানদোস্ত বলেন, ‘গণমাধ্যমের আয় বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন কোনো বিজ্ঞাপন নেই আমাদের হাতে। ফলে অর্থ উপার্জনের পথও বন্ধ।’

এ ছাড়া তালেবান দেশের শাসনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর অনেক অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ফলে সংবাদমাধ্যমে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদেরও ব্যাপক অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন অনেকে।

এ বিষয়ে তালেবানের তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের দাবি, আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম মুক্ত, কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা: তালেবান

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা: তালেবান

আফগানিস্তানে তালেবান শাসকগোষ্ঠীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপ-মন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ছবি: টোলো নিউজ

আফগানিস্তানের স্বতন্ত্র মানবাধিকার কমিশন এআইএইচআরসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৫ আগস্ট দেশটির বেসামরিক সরকার পতনের পর থেকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না সংস্থাটি। তালেবান এআইএইচআরসির কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং তাদের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

আফগানিস্তানের সরকার হিসেবে তালেবান বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পেলেই দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শাসকগোষ্ঠীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রিসভার উপপ্রধান জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ কথা বলেছেন।

আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেছেন মুজাহিদ।

টোলো নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যতদিন না আমরা স্বীকৃতি পাচ্ছি, ততদিন অধিকার খর্বের বিষয়ে আমাদের নিয়ে তাদের সমালোচনা একপাক্ষিক হিসেবে গণ্য করা হবে।

‘আমাদের প্রতি তাদের আচরণ দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন হওয়া উচিত এবং আমাদের বর্তমান সরকারকে দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন প্রশাসন হিসেবে স্বীকার করে নেয়া উচিত।

‘তারপরে তারা আইন অনুযায়ী তাদের সব উদ্বেগ আমাদের জানাক। আমরাও তাদের উদ্বেগ নিরসনে ব্যবস্থা নেব।’

এর আগে রোববার আফগানিস্তানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত আন্দ্রিয়াজ ভন ব্রান্ত জানান, আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অব্যাহত অভিযোগে ইইউ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তিনি লেখেন, ‘বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা ও জীবিকা উপার্জনের অধিকারে তালেবানের হস্তক্ষেপ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তালেবান সমর্থকগোষ্ঠী হিজব-ই-মুতাহিদ-ফিকর মারদুম আফগানিস্তানের প্রধান সেলিম পাইগার।

আফগানিস্তানের স্বতন্ত্র মানবাধিকার কমিশন এআইএইচআরসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৫ আগস্ট দেশটির বেসামরিক সরকার পতনের পর থেকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না সংস্থাটি।

তালেবান এআইএইচআরসির কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং তাদের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাধীন সংস্থা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ইউএনএইচআরসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এআইএইচআরসি।

আরও পড়ুন:
উইঘুর নিয়ে বলায় জি-সেভেন নেতাদের নিন্দা চীনের
উইঘুর মুসলমান নির্যাতন: পুলিৎজার পেলেন মেঘা
শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন
উইঘুর ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার ইস্যুতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
উইঘুরদের ওপর নজরদারি যন্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন

শেয়ার করুন