‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ৮ মার্চ রাজধানীর শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জালন করে আমরাই পারি জোট। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অচিরেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈষম্যমূলক এবং ন্যায়চেতনাবিরোধী সুপারিশকে প্রত্যাহার করে সুপারিশকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অফ অনারের সময় নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাদ দেয়ার সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন আমরাই পারি জোট। একই সঙ্গে সুপারিশ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অফ অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেয়ার সুপারিশের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অসম্মানিত করা হয়েছে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা প্রশাসন। ডিসি বা ইউএনও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে থাকেন। কফিনে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

অনেক স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে নারী কর্মকর্তারা রয়েছেন। আর সেখানেই আপত্তি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সংসদীয় কমিটির রোববারের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা ওঠার পর সরকারের কাছে সুপারিশ রাখা হয় গার্ড অফ অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওদের বিকল্প খোঁজার।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অফ অনার প্রদানের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় আয়োজন করা এবং মহিলা ইউএনওর বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।’

কোন যুক্তিতে এই সুপারিশ জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, নারী ইউএনও গার্ড অফ অনার দিতে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন।

‘মহিলারা তো জানাজায় থাকতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে মহিলা গার্ড অফ অনার দেন, এ রকম একটি ব্যাপার আরকি…।’

শাজাহান খান বলেন, ‘বৈঠকে একটি প্রস্তাব এসেছে। মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অব অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।’

এ বিষয়ে আমরাই পারি জোটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে অসম্মানিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই একবিংশ শতাব্দীতে নারীর অগ্রগতির যুগে এই ধরনের সুপারিশ অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণায় পুষ্ট। স্পষ্টত এই সুপারিশ সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অচিরেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈষম্যমূলক এবং ন্যায়চেতনাবিরোধী সুপারিশকে প্রত্যাহার করে সুপারিশকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং নারীসমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

আরও পড়ুন:
জানাজা আর গার্ড অফ অনার এক নয়
গার্ড অফ অনারে নারী চায় না সংসদীয় কমিটি

শেয়ার করুন

মন্তব্য