কানাডায় মুসলমানদের ওপর ট্রাকহামলা চালানো যুবক আদালতে

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে মুসলমানবিদ্বেষী হামলায় নিহতদের প্রতি মঙ্গলবারের শোক কর্মসূচিতে যোগ দেন সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: এএফপি

ইসলামবিদ্বেষ

কানাডায় মুসলমানদের ওপর ট্রাকহামলা চালানো যুবক আদালতে

গ্রেপ্তারের সময় ঘাতক ট্রাকচালক ভেল্টম্যান একটি সশস্ত্র ভেস্ট ও হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

কানাডায় ট্রাক তুলে দিয়ে মুসলমান পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় হামলাকারী যুবককে আদালতে তোলা হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ জুমের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শুনানিতে অংশ নেন ২০ বছর বয়সী ট্রাকচালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী সোমবার আবারও শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে তাকে।

হামলাটি পুরোপুরি বিদ্বেষপ্রসূত বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। জানিয়েছে, নিহতদের সঙ্গে কোনো পূর্ব পরিচয় না থাকলেও মুসলমান বুঝতে পেরে তাদের ওপর ইচ্ছে করে ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিলেন ভেল্টম্যান।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে লন্ডন পুলিশের প্রধান স্টিভ উইলিয়ামস জানিয়েছেন, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বেশির ভাগই এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কথা বা কাজে যেন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিতে তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা।’

ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় ওই হামলায় নিহত হন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের চার সদস্য। পরিবারটির বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য, ৯ বছরের একটি ছেলেশিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হন তারা।

এর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে একটি শপিং মলের পার্কিং লট থেকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক ট্রাকচালককে।

সে সময় ভেল্টম্যান একটি সশস্ত্র ভেস্ট ও হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কোনো ‘হেইট গ্রুপের’ সঙ্গে ভেল্টম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। তবে এখনও অনুসন্ধান চলছে।

তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ গঠন করা হতে পারে।

একে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় অভিবাসীবান্ধব কানাডার সমাজে ইসলামভীতি, মুসলমানবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ঘৃণার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন ট্রুডো।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফাইল ছবি

একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি ইমরান বলেন, ‘স্বল্পবাস নারীকে দেখে পুরুষের মন চঞ্চল হওয়াটাই স্বাভাবিক, যদি না সেই পুরুষ রোবট হয়। সাধারণ বুদ্ধি অন্তত তাই বলে।’ মঙ্গলবার টুইটারে ইমরান খানের একটি খালি গায়ের ছবি পোস্ট করে পাল্টা নিলেন আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।  

ধর্ষণের জন্য মেয়েদের স্বল্পবসনকে দায়ী করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে একহাত নিলেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন।

পাকিস্তান ক্রিকেটের অধিনায়ক থাকাকালীন, নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন ইমরান। সেই সময় তোলা ইমরানের একটি ছবি মঙ্গলবার টুইটারে তুলে ধরেছেন তসলিমা। ছবিতে ইমরানের উদোম ছবি পোস্ট করে নারীবাদী নির্বাসিত লেখক তসলিমা লেখেন, ‘পুরুষ যদি স্বল্প পোশাক পরে, তাতে মেয়েদেরও মন চঞ্চল হতে পারে। যদি না তারা রোবট হয়।’

তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরে তার লেখালেখির মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে তার ফাঁসির দাবিতে ইসলামপন্থিরা আন্দোলন শুরু করলে ১৯৯৪ সালে তিনি দেশত্যাগ করেন। প্রবাস জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে বসবাস করেন।

ইমরান খানকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের শুরু গত এপ্রিলে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এইচবিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী জানান, উস্কানিমূলক আচরণ বন্ধ হলে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বন্ধ হবে।

তিনি বলেন, ‘স্বল্পবাস নারীকে দেখে পুরুষের মন চঞ্চল হওয়াটাই স্বাভাবিক, যদি না সেই পুরুষ রোবট হয়। সাধারণ বুদ্ধি অন্তত তাই বলে।’

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল) মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব জানান, প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে তার অসুস্থ চিন্তা, নারীবিদ্বেষ ও তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

ইমরানের এই মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠলে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গান ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে পর্দার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম, তাও পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে।’

তিনি বলেন, তার দেশের সমাজ ও জীবন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই পাকিস্তান সরকারের বরাতে বলছে, পাকিস্তানে দিনে গড়ে ১১ জন ধর্ষণের শিকার হন। আর গত ছয় বছরে থানায় ২২ হাজার ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

শেয়ার করুন

জেন্ডার সমতার চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন শরণার্থী নারীরা

জেন্ডার সমতার চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন শরণার্থী নারীরা

নারীদের প্রতি বৈষম্য ও যৌন সহিংসতা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন গ্রিসের শরণার্থী নারীরা। ছবি: এএফপি

প্যারিসে জেন্ডার সমতাবিষয়ক জাতিসংঘের একটি ফোরামের অনুষ্ঠান আগামী ৩০ জুন। সেখানে জেন্ডার সমতা নিশ্চিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইবেন এই শরণার্থী নারীরা। 

নারী ও পুরুষের সামাজিক বৈষম্যকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করছেন গ্রিসের শরণার্থী নারীরা।

দেশটির রাজধানী এথেন্সে কারিগরি প্রশিক্ষণ দানকারী দাতব্য সংস্থার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক নির্মাতার সহযোগিতায় হয়েছে এ কাজটি। তার তত্ত্বাবধানে নারীদের একটি দল তৈরি করছেন শর্ট ফিল্ম, পডকাস্টের মতো কন্টেন্টগুলো।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কঙ্গো, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরানের নারী শরণার্থীদের এ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে গ্লোবালগার্ল মিডিয়া নামের একটি সংগঠন।

সুবিধাবঞ্চিত তরুণীদের ডিজিটাল মাধ্যম ও সাংবাদিকতাবিষয়ক দক্ষতা অর্জনে সহযোগিতা করে প্রতিষ্ঠানটি।

এদের অনেকে উন্নত জীবনের আশায় অর্ধেক পৃথিবী পার হয়ে গ্রিস পর্যন্ত এলেও বৈষম্যমুক্ত জীবনের দেখা পাননি সেখানেও।

২৫ বছর বয়সী আফগান তরুণী ফাতেমা জাফরি বলেন, ‘গ্রিক নারীদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা আমার জানা ছিল না। সাক্ষাৎকার নিয়ে আমি জেনেছি তাদের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতার খুব একটা পার্থক্য নেই।

‘দেশ, জাতিভেদে আমাদের সবারই একে অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

কয়েক দশক নীরবতার পর গ্রিসে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নারী হত্যার ঘটনাগুলো বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

গত জানুয়ারিতে গ্রিক অলিম্পিকের সেইলিং চ্যাম্পিয়ন সোফিয়া বেকাতোরু তার ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় হ্যাশট্যাগ মি-টু আন্দোলন, যার মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে শুরু করে দেশটিতে ঘটে যাওয়া অসংখ্য যৌন হয়রানির ঘটনা।

গ্রিসে গ্লোবালগার্ল মিডিয়ার সমন্বয়ক ও পরিচালক অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে নারীদের আওয়াজ শোনাই যায় না। বিশেষ করে শরণার্থী তরুণীদের জীবন একেবারেই পর্দার আড়ালে।

‘তাদের সাংবাদিকতা পেশায় আসতে উৎসাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শুধু তাদের সংগ্রামই নয়, অন্য নারীদের সংগ্রাম তুলে ধরার মাধ্যমে নিজেদের পায়ের নিচের মাটিও শক্ত করতে সমর্থ্য হবেন তারা। নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিতে আনতে পারবেন বড় পরিবর্তন।’

প্যারিসে জেন্ডার সমতাবিষয়ক জাতিসংঘের একটি ফোরামের অনুষ্ঠান আগামী ৩০ জুন। সেখানে জেন্ডার সমতা নিশ্চিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইবেন এই শরণার্থী নারীরা।

আয়োজনটি সামনে রেখে গ্রিসের বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে তাদের প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

শেয়ার করুন

নারীকে বসের দেয়া উপহারের ঘড়িতে গোপন ক্যামেরা!

নারীকে বসের দেয়া উপহারের ঘড়িতে গোপন ক্যামেরা!

এ ধরনের স্পাই ক্যাম দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলছে নারীর গোপন ভিডিও ধারণ। ছবি: সংগৃহিত

অনলাইনে ঘড়িটি সম্পর্কে খোঁজখবর করতেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। ওই নারী বুঝতে পারেন, ঘড়িটি আসলে একটি গোপন ক্যামেরা। আর এটি এক মাসের বেশি সময় ধরে বসের মোবাইলে পাঠাচ্ছিল তার শোবার ঘরের ভিডিও।

অফিসের বস তার নারী সহকর্মীকে উপহার দিয়েছিলেন একটি টেবিল ঘড়ি। সেই ঘড়িটি জায়গা পায় ওই নারীর শোবার ঘরের এক কোণে। সব কিছুই চলছিল ঠিকঠাক। তবে একদিন ঘড়িটি কক্ষের আরেক কোনো সরিয়ে রাখার পরই দেখা দেয় বিপত্তি।

বস ওই নারীকে বলে বসেন, যদি উপহারের ঘড়িটি পছন্দ না হয়, তবে যেন ফিরিয়ে দেন। আর এতেই তৈরি হয় সন্দেহ। ঘড়ির জায়গা পরিবর্তনের বিষয়টি বস কী করে জানলেন?

এরপর অনলাইনে ঘড়িটি সম্পর্কে খোঁজখবর করতেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। ওই নারী বুঝতে পারেন, ঘড়িটি আসলে একটি গোপন ক্যামেরা। আর এটি এক মাসের বেশি সময় ধরে বসের মোবাইলে পাঠাচ্ছিল তার শোবার ঘরের ভিডিও।
এ বিষয়ে বসকে প্রশ্ন করতেই তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দেন, এই কারণেই কি সারারাত গুগল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন?

ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় এক নারীর সঙ্গে। চলতি সপ্তাহে এ রকম বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে ১০৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

মাই লাইফ ইজ নট ইওর পর্ন: ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম ইন সাউথ কোরিয়া’ শিরোনামে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে ৩৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে। তাদের কেউ ভুক্তভোগী, কেউ সরকারি কর্মকর্তা আবার কেউ মানবাধিকারকর্মী। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সাহায্য করেছেন অনলাইন জরিপে অংশ নেয়া ৫৫৪ জন উত্তরদাতা।

এতে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় সেক্স ক্রাইম সবচেয়ে বেশি হয়েছে ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ২০০৮ সালে যেখানে ৫৮৫টি মামলা হয়েছিল, ২০১৮ সালে তা ৬ হাজার ৬১৫-তে দাঁড়ায়। এ রকম অনেক ঘটনা অবশ্য অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

ঘড়িতে গোপন ক্যামেরার বিষয়টি যখন দক্ষিণ কোরিয়ান ওই নারী বুঝতে পারেন, তিনি আইনের আশ্রয় নেন। তবে তিনি হতাশা জানিয়েছেন বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। বিচারে অবশ্য অভিযুক্তের ১০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপরেও কয়েক বছর আগের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।

মানবাধিকার সংস্থা ইউম্যান রাইটস ওয়াচকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের ঘরে ঘটনাটি ঘটেছিল। এখনও আমি নিজের ঘরে কোনো কারণ ছাড়াই আতঙ্কিত হয়ে উঠি।’

২০১৮ সালে এমন এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় আরেক নারীর। অপরিচিত এক যুবক তার ঘরের জানালা দিয়ে গোপনে ভিডিও করছিল। বিষয়টি তিনি জানতে পারেন যখন পুলিশ তার দরজায় কড়া নাড়ে। তবে ততদিনে দুই সপ্তাহের বেশি পার হয়ে গেছে। এ সময় ধরে চলেছে গোপন ভিডিও ধারণ।

ওই নারী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, সেই ঘটনার পর তিনি আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। নতুন বাড়ি কিংবা জনসমাগমস্থল সবখানেই মনে হয় গোপনে তাকে কেউ দেখছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, তার এক পরিচিত যিনি গোপন ক্যামেরার ভুক্তভোগী, তিনি এখন নিজের ঘরে তাবু গেড়ে বসবাস করেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া অনেক নারী আত্মহত্যার কথা ভাবতে শুরু করেছেন, অনেকে তা করেও ফেলেছেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের ঠিক তিন মাস আগে আত্মহত্যা করেন এক হাসপাতালকর্মী। তিনি জানতে পেরেছিলেন এক সহকর্মী তার কাপড় বদলের সময় গোপনে ভিডিও করেছিলেন। সেই অভিযুক্তকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন বিচারক।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, দুর্বল আইনের কারণে এ ধরনের ঘটনার রাশ টানা যাচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে তারা দেখিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় আইন অনুযায়ী কেবল অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা ভিডিও যেগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তিকে যৌন হয়রানি করা যায়, সেগুলো অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর অর্থ হলো, কারও নগ্ন ছবি না তোলা হলে, সেগুলোকে সেক্স ক্রাইম হিসেবে ধরা হবে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, একবার তিনি এক যুগলের অন্তরঙ্গ ছবি খুঁজে পান ওই নারীর সাবেক প্রেমিকের কাছে, যেটি তোলা হয়েছিল তার অনুমতি ছাড়া। কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে পুলিশ, গোয়েন্দা আর আইনজীবীরা ওই নারীকে অভিযোগ তুলে নিতে পরামর্শ দেয়। তারা জানায়, এই ঘটনায় উল্টো বিপদে পড়বেন তিনি। কেননা তার সাবেক প্রেমিক ব্যক্তিগত ছবির জন্য তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন।

তবে অভিযোগ প্রত্যাহার করেননি ওই নারী। বিচারে সাবেক প্রেমিকের ২ হাজার ৬৫০ ডলার জরিমানা হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিজিটাল সেক্স ক্রাইমের সাজার মাত্রা পুনর্বিবেচনা করতে কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া যৌনতায় সম্মতি নিয়ে আলোচনা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদও দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। এই লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম ভিকটিম সেন্টার চালু করেছে দেশটির সরকার। তবে এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

শেয়ার করুন

অলিম্পিকসে প্রথম ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাথলিট

অলিম্পিকসে প্রথম ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাথলিট

অলিম্পিকসের প্রথম ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাথলিট লরেল হুবার্ড। ছবি: এএফপি

২০১৩ সালে হুবার্ড নিজের রূপান্তর সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি ছেলেদের ইভেন্টে অংশ নিতেন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নিয়ম বদলানোর পর তিনি অলিম্পিকসে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান।

অলিম্পিকসের ইতিহাসে প্রথম ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাথলিট হতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের লরেল হুবার্ড। ৪৩ বছর বয়সী এই ভারোত্তলোক সুযোগ পেয়েছেন টোকিও অলিম্পিকসে অংশ নিতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের নারী দলে।

২০১৩ সালে হুবার্ড নিজের রূপান্তর সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি ছেলেদের ইভেন্টে অংশ নিতেন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নিয়ম বদলানোর পর তিনি অলিম্পিকসে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ভালোত্তলোনের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের বাছাইপর্বের নিয়মে কয়েকটি পরিবর্তন আনার পর হুবার্ড কোয়ালিফাই করেন। ছয়টি কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টের জায়গায় এবারে চারটি টুর্নামেন্ট খেলতে হয়েছে ভারোত্তলোকদের।

ভারোত্তলনের সুপার হেভিওয়েট শ্রেণিতে খেলেন হুবার্ড। ২০১৭ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য পদক জেতা এই অ্যাথলিটের বর্তমান র‍্যাঙ্কিং ১৭।

শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন ভারোত্তলোক এবারের অলিম্পিকসে থাকছেন না। কারণ প্রতি ওজন শ্রেণিতে একজন করেই ভারোত্তলোক খেলতে পারছেন টোকিও আসরে।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

শেয়ার করুন

সড়কে প্রাণ গেল আমিরাতের নারী অধিকারকর্মীর

সড়কে প্রাণ গেল আমিরাতের নারী অধিকারকর্মীর

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলোচিত নারী অধিকারকর্মী আলা আল-সিদ্দিক আর নেই। ছবি: এএলকিউএসটি

সৌদি আরবের অধিকারকর্মী আব্দুল্লাহ আল-আওদা বলেন, ‘আমিরাতের গবেষক ও অধ্যাপক আলা আল-সিদ্দিক আজ আমাদের ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। অন্যদিকে আলার বাবা মোহাম্মদ আল-সিদ্দিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের কুখ্যাত জেলে নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলোচিত নারী অধিকারকর্মী, সমালোচক ও ভিন্নমতাবলম্বী আলা আল-সিদ্দিক লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

স্থানীয় সময় শনিবার তার মৃত্যু হয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এএলকিউএসটির নির্বাহী পরিচালক ছিলেন আলা। আমিরাত ও বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে নাগরিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে সংস্থাটি।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে টুইটবার্তায় বলা হয়, ‘শনিবার আমাদের প্রাণপ্রিয় ও সম্মানিত নির্বাহী পরিচালক আলা আল-সিদ্দিকের হঠাৎ মৃত্যুতে এএলকিউএসটি গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।’

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আলার বাবা মোহাম্মদ আল-সিদ্দিকও আমিরাতের আলোচিত অধিকারকর্মী। আমিরাত সরকার ২০১৩ সাল থেকে তাকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে।

সৌদি আরবের অধিকারকর্মী আব্দুল্লাহ আল-আওদা টুইটবার্তায় বলেন, ‘আমিরাতের গবেষক ও অধ্যাপক আলা আল-সিদ্দিক আজ আমাদের ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন।

‘অন্যদিকে আলার বাবা মোহাম্মদ আল-সিদ্দিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের কুখ্যাত জেলে নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন।’

দোহা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে আলা ও তার স্বামী কাতারে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। স্বজনদের সঙ্গে তারা সে সময় সেখানে বসবাস করছিলেন।

ওই সময় ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধে আমিরাত সরকারের নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অধিকারকর্মীদের প্রতি কাতারের উদার অবস্থান প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরায়।

২০১৮ সালে কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি বলেছিলেন, এক রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীর স্ত্রীকে ঘিরে ২০১৫ সালে কাতার ও আমিরাত বিতর্কে জড়ায়।

ওই সময় নিজের দেশে ওই নারীকে হস্তান্তরের জন্য কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে দূত পাঠায় আমিরাত। তবে কাতার কর্তৃপক্ষ ওই অনুরোধ রাখেনি।

কাতারভিত্তিক পত্রিকা আল-আরবের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-আথবাহ পরে বলেন, ওই নারী ছিলেন আলা, যাকে আমিরাত নিজ দেশে ফেরাতে চেয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে এলজিবিটিকিউদের শোভাযাত্রায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রে এলজিবিটিকিউদের শোভাযাত্রায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১

ফ্লোরিডায় এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের শোভাযাত্রায় ট্রাকের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়। ছবি: এএফপি

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট লাউডারডেল শহরের মেয়র ডিন ট্রানট্রালিস বলেন, শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের ওপর ট্রাকচালক ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়েছে। চালকের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষদের শোভাযাত্রা চলাকালে পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে আরও একজন।

ফ্লোরিডার উইলটন ম্যানরস শহরে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওই ঘটনা ঘটে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট লাউডারডেল শহরের মেয়র ডিন ট্রানট্রালিস বলেন, শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর ট্রাকচালক ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়েছে। চালকের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।

মায়ামিভিত্তিক টেলিভিশন স্টেশন ডব্লিউএসভিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চালকের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।

উইলটন ম্যানরস শহরে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের উৎসব ‘স্টনওয়াল প্রাইড প্যারেডে’ অংশ নিয়েছেন এমন ভান করেন ওই চালক। শোভাযাত্রায় ভিড়ের ভেতর ঢুকে পড়লে একপর্যায়ে উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা সরতে বললে চালক হঠাৎ গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়।

ফোর্ট লাউডারডেল শহরের গোয়েন্দা পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা সব সম্ভাবনা বিবেচনা ও মূল্যায়ন করছি।’

ট্রাকের ধাকায় আহত দুই ব্যক্তিকে দ্রুতই স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ফ্লোরিডার উইলটন ম্যানরস শহরের পুলিশ বিভাগ টুইটবার্তায় বলে, ‘দুঃখজনক ঘটনার কারণে স্টনওয়াল প্রাইড প্যারেড বাতিল করা হয়েছে। তবে উৎসব ঘিরে অন্যান্য অনুষ্ঠান চলবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ডেবি ওয়াসারম্যান শুলজ ওই শোভাযাত্রায় ছিলেন।

নিজে অক্ষত রয়েছেন বলে টুইটবার্তায় জানান শুলজ। তবে ওই ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও আরেকজন গুরুতর আহত হওয়ায় মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

শেয়ার করুন

বাবাদের ভালোবাসা জানানোর বিশেষ দিন আজ

বাবাদের ভালোবাসা জানানোর বিশেষ দিন আজ

একসময় বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো। আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাত, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাত না; বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়।

সন্তানের কাছে বটবৃক্ষ সমতুল্য বাবা। তার ছায়ায় স্বস্তির ঘুম দিতে পারে সন্তান। বাবার বিশালতা বোঝাতে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে। কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।’

বাবা শাশ্বত, চির আপন, চিরন্তন। বাবার তুলনা তিনি নিজেই।

উল্লিখিত দিকটিকে স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছর জুনের তৃতীয় রোববার বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে পালিত হয় বাবা দিবস।

বাবা দিবসের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এটা পালন করা শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল, এটা বোঝাতেই দিবসটি পালন করা হতে থাকে।

ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়।

আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক নারীর মাথায়ও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না।

ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে। সেই পুরোহিত মাকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন।

তখন তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার।

ডড তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থাৎ ১৯ জুন, ১৯১০ সাল থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

বাবাদের ভালোবাসা জানানোর বিশেষ দিন আজ

একসময় বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো।

আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাত, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাত না; বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল।

ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসে ছুটির জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়।

১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন।

অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসে ছুটির ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন:
ট্রাকহামলায় নিহতদের প্রতি কানাডার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
‘কানাডায় মুসলমানবিদ্বেষ অস্বীকারের সুযোগ নেই’
কানাডার মুসলমানদের পাশে ট্রুডো
কানাডায় মুসলমান পরিবারের ওপর ট্রাকহামলা, নিহত ৪

শেয়ার করুন